আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ

আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ এবং কিডনি, লিভার, পাইলস, পুরুষদের যৌন সংক্রান্ত ও স্ত্রীরোগসমূহের হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় বিশেষ পারদর্শী। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, সফল এবং আধুনিক হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা গ্রহণ করুন, যা আপনার সকল জটিল শারীরিক সমস্যা সমূহকে মূল থেকে নির্মূল করে আপনাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে ইনশাল্লাহ।

বি. দ্র.:- অবশ্যই পূর্বেকার করা সকল Medical Test এর রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে। প্রয়োজনে আসার আগে ফোন দিয়ে ( 01727-382671, 01922-437435 ) বিস্তারিত জেনে নিবেন।

যোগাযোগ করুন

ডাক্তার আবুল হাসান
(ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
একিউট এবং ক্রনিক রোগের হোমিও চিকিত্সক
আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি সংক্রমণ/প্রদাহ/ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত, প্রসাব না হওয়া

লিভার সমস্যা

  • জন্ডিস
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যান্সার
  • যকৃত ফোড়া
  • HBsAg (+ve)

পাইলস/অর্শ্বরোগ/ভগন্দর

  • পায়ূপথে ব্যথা/যন্ত্রণা
  • পায়ূপথে রক্তস্রাব/ফাটল
  • তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পায়ূপথে মাংস বের হওয়া
  • পায়ূপথ ফুলে যাওয়া

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সকল প্রকার সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার/জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • যোনিতে প্রদাহ/অনিয়মিত মাসিক/বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া/ অতিরিক্ত স্রাব

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা/দ্রুত বীর্যপাত
  • স্পারম্যাটোরিয়া এবং অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস ও এ সংক্রান্ত জটিলতা
  • পুরুষত্বহীনতা বা ধ্বজভঙ্গ
  • সিফিলিস এবং গনোরিয়া
  • প্রসাবে সংক্রমন/জ্বালাপোড়া

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর (তিন মাসের চিকিত্সা
  • লিউকোমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • ক্রনিক আমাশয়
  • মাইগ্রেন
  • সাধারণ অসুস্থতা

সাম্প্রতিক প্রকাশিত

জেনে রাখা ভালো

অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে ৷ আগে তো অ্যালোপ্যাথিকের বিখ্যাত ডাক্তারও হোমিওপ্যাথিকে সম্বল করে নানা সময় চিকিৎসার কাজ করেছেন ৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত ৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে ৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷
জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি ৷ এর কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে ৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগীরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷

Saturday, December 16, 2017

হার্ট অ্যাটাক হৃদরোগ কি? কারন, লক্ষন, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

মূল কথা হার্ট অ্যাটাক হল হার্ট  ঠিক মত কাজ না করা । করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনী।এরাই হৃৎপিন্ডে পুষ্টির যোগান দেয়। কোন কারনে এই করোনারি আর্টারিতে যদি ব্লক সৃষ্টি হয় তাহলে যে এলাকা ঐ আর্টারি বা ধমনীর রক্তের পুষ্টি নিয়ে চলে সে জায়গার হৃৎপেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এর কেতাবি নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

হার্ট অ্যাটাক  বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। এই ব্যাথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী হাসপাতালে পৌছার আগেই মৃত্যুবরন করে। তাই এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। আপনার আত্মীয়ের হার্ট এট্যাক হয়েছে - তখন কি চিকিৎসা নিবেন। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে।  ভিডিও নিচে যুক্ত করা হয়েছে।
হার্ট অ্যাটাক হৃদরোগ কি? কারন, লক্ষন, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

হার্ট অ্যাটাক এর কারন কি?

হৃদরোগের অনেক কারন আছে। প্রাথমিক জ্ঞানের জন্য আমরা এখানে প্রধান কারনগুলো উল্লেখ করবো-
  • তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
  • মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
  • রক্তে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্ট্রলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমে যাওয়া।
  • খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব।
  • উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস এবং মদ খাওয়া।
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্দি।
  • তামাক (বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা) খাওয়া।
  • এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপের ফলে অনেক সময়ইঃ
  • রক্তের চাপ বেড়ে যায়।
  • হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেরে যায়।
  • রক্তের তেল(ফ্যাট) জমা হওয়ার কাজ দ্রুততর হয়।
  • রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • করোনারী এবং অন্যান্য ধমনীগুলো অধিক ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
  • রক্তে “ক্লট” তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ধমনীগিলোর ভিতরের দিকে(গায়ে) কোলেস্ট্রল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমা হতে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক কাদের হতে পারে

কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ন্ত্রন করা যায় না আবার কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ন্ত্রন করা যায় না। সাধারনত যেসকল কারনে হার্ট অ্যাটাক হতে পারেঃ

হার্ট এটাক সব বয়সে একরকমভাবে হয় না। সাধারনত মধ্যবয়সে কিংবা বৃদ্ধ বয়সে এ রোগটি বেশি হতে পারে।
  • সাধারনত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অনেক বেশি হয়।
  • বংশে কারও হার্ট এটাক হয়ে থাকলে হার্ট এটাকের ঝুকি অনেক বেশি থাকে।
  • ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদি কারনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি অনেক বেড়ে যায়।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপার লিপিডেমিয়া ইত্যাদি রোগের কারনে হার্ট এটাক হতে পারে।
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে মুটিয়ে যাওয়া বা স্থূলতা হার্ট এটাকের একটি কারন।
  • অধিক হারে চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহন করলে এবং শাক সবজি ও আঁশ জাতীয় খাবার কম খেলে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অশান্তির ফলে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রক পিল বা অন্য কোন হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ সেবনের ফলে।

বুক ব্যথা, হৃদরোগ ও কিছু ভ্রান্ত ধারণা

আমাদের সকলেরই ধারণা যে হার্টের ব্যথা বুকের বাঁ দিকে হয়। কিন্তু আসলে হার্টের ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে হয়। আর সবাই বুকের বাঁ দিকে ব্যথা হলেই ভয় পেয়ে যান হার্টের ব্যথা ভেবে। আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, বুকে হার্ট ছাড়াও আরো অনেক প্রত্যঙ্গ (অর্গান) থাকে, যেমন – ফুসফুস; খাদ্যনালী; প্রধান ধমনী (এওর্টা); হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ঝিল্লি; বুকের দেওয়ালের মাংস, হাড় ও উপরের চামড়া; ইত্যাদি সব কিছু থেকে ব্যথা হতে পারে যা কিনা বুকেই অনুভূত হয়। তা’ ছাড়াও পিত্তথলী(গল ব্লাডার), যকৃৎ (লিভার) ও পাকস্থলীর ব্যথাও বুকের নিম্নাংশে অনুভূত হতে পারে।

একজন রুগী সেদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “হার্ট এ্যাটাক নাকি গ্যাস থেকে হয়?” আমি বললাম, “সেটা কি রকম? আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন।” তিনি তখন বললেন, “পেটে অধিক গ্যাস তৈরী হয়ে তা উপরে বুকে অত্যধিক চাপের সৃষ্টি করে হার্ট এ্যাটাক ঘটায়।” আমি তখন উনাকে বুঝিয়ে বললাম, “না, এটা ঠিক নয়। হার্ট এ্যাটাকের সাথে গ্যাসের কোনো সম্পর্ক নেই। হার্ট এ্যাটাক হয় হার্টের মাংসপেশীতে রক্ত বয়ে নিয়ে যাওয়া ধমনীতে হঠাৎ রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হবার কারণে। এখানে গ্যাসের কোনো ভূমিকা নেই।”

এরকম গ্যাসের কথা ভেবে অনেকেই হার্ট এটাকের পরে বুকের ব্যাথাকে উপেক্ষা করে তথাকথিত গ্যাসের বড়ি (রেনিটিডিন বা ওমেপ্রাজল) বা এ্যান্টাসিড খান। ওদিকে হার্টের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয়ে যায়। আমার কাছে নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন যুবক বয়সের রুগী আসেন শ্বাস কষ্ট নিয়ে। উনি দু’বার বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা হিসেবে উপেক্ষা করেন। এরপর উনি যখন শ্বাস কষ্ট নিয়ে ওখানকার একটি ক্লিনিকে যান, তখন উনাকে হাপানী রুগি হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করে। ওখানে দু’দিন রাখার পরেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় উনার আত্মীয়স্বজন আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা তখন তাঁকে সিসিইউতে ভর্তি করে উনার ডায়াগনোসিস করি ‘হার্ট ফেইলিউর’ এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা করার পরে উন্নতি হয়। এই কাহিনীটি বলার উদ্দেশ্য হলো, গ্যাসের ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করাতে উনার ব্যপারটা বেশ জটিল হয়ে যায়। এতে প্রথমিক চিকিৎসক রোগটি ধরতে না পেরে এজমা রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন। এধরনের রুগী আমরা প্রায়ই পেয়ে থাকি।

হৃদরোগ বা হার্ট এ্যাটাকের কারন কি এবং কারা এতে বেশি ভোগেন?

এখন স্বভাবতই সবার মনে প্রশ্ন আসবে, হার্ট এ্যাটাক হয় কি ভাবে। সত্যি কথা বলতে কি বিজ্ঞান এখনো এর সঠিক কারণ আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে রুগিদের পর্যবেক্ষণ করে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় যে, কতগুলো বিষয় হৃদরোগিদের মাঝ বেশি থাকে। এই বিষয়গুলোকে হৃদরোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যা কিনা এখনো একদম সঠিক ভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই এদেরকে বলাহয় Causative or Risk Factors. সেগুলো হলো – বয়স, লিঙ্গ, পারিবারে আক্রান্ত সদস্য (জেনেটিক প্রিডিসপজিশন), ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চরক্তচাপ, রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি, স্থুলকায় বা মোটা শারীরিক গড়ন, কম শারীরিক পরিশ্রম, ইত্যাদি। এর তিনটি ব্যাপার আমরা পরিবর্তন করতে পারি না। এগুলো হলো – বয়স, লিঙ্গ ও জেনেটিক প্রিডিসপজিশন। এদেরকে বলা হয় অপরিবর্তনীয় (Unmodifiable) Risk factors. আর বাঁকি সবগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই এদেরকে বলা হয় পরিবর্তনীয় (Modifiable) Risk Factors.
হৃদরোগ বা হার্ট এ্যাটাকের কারন কি এবং কারা এতে বেশি ভোগেন?
পরিবর্তনীয় Risk Factors গুলো এক একটা আলাদা আলাদাভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি একই ব্যক্তির মাঝে এদের আধিক্য বেশি থাকে, তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারো কারো মাঝে দুই বা ততোধিক Risk Factors থাকে। একে বিজ্ঞানীরা Clustering of Risk Factor বলেন। এই Clustering কে একটি বিশেষ গ্রুপে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর নাম হলো Metabolic Syndrome. এতে অন্তর্ভুক্ত Risk Factors গুলো হলো – ডিয়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি, স্থুলকায় শরীর বিশেষ করে উদর মোটা হওয়া ও উচ্চরক্তচাপ। এগুলোর মধ্যে দুইয়ের অধিক Factors কোনো ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান থাকলে তাঁকে Metabolic Syndrome এর রোগি হিসেবে ধরা হয়। আর এধরনের রোগি দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাসকারীদের মাঝে বেশি পাওয়া যায়।এই ধরণের ব্যক্তির হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।

আর যেসব রোগি অল্প বয়সে অর্থাৎ ৪০ বৎসরের পূর্বে হার্ট এ্যাটাক নিয়ে আসেন তাঁদের বেশিরভাগেরই ধূমপায়ী হয়ে থাকেন। এঁদের মাঝে কদাচিৎ ব্যক্তি থাকেন যাঁদের পারিবারিকভাবে রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের মাঝেও অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ইতিহাস থাকে।

হার্ট এ্যাটাকের সময় ধমনীতে কি ঘটে?

হার্টের নিজস্ব মাংসপিণ্ডের জন্য বয়ে নিয়ে যাওয়া ধমনী প্রধানত দু’টি। বাম ও ডান করনারী আর্টারী বা ধমনী। বাম করনারী আর্টারী এওর্টা থেকে উৎপত্তি হবার একটু পরেই দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তাই বাম দিকে দু’টি করনারী আর্টারী ধরা হয়। এই তিনটি ধমনীর যে কোনো একটিতে যদি হঠাৎ করে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন ঐ ধমনী হৃদপিণ্ডের যে অংশে রক্ত বয়ে নিয়ে যায় সেই অংশের মাংসপেশী মরে যায়। আর মরে যাবার সময় বুকে ব্যথা অনুভূত হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, “হঠাৎ করে রক্ত চলাচল বন্ধ হয় কেনো?” প্যাথলজিস্টরা অটোপসির দ্বারা এই প্রশ্নের উত্তর বের করেছেন। হার্ট এ্যাটাকে মৃত ব্যক্তিদের করনারী আর্টারী পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, আর্টারী বা ধমনীর দেয়ালে যে চর্বি জমে তাতে হঠাৎ চির ধরে অথবা তা ফেটে যেয়ে প্রবাহিত রক্তের সংস্পর্শে এলে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লক্ষনীয় বিষয় হলো, যাদের ধমনীতে চর্বি জমেছে (Cholesterol Plaque) কিন্তু রক্ত চলাচলের পথ তেমন সরু হয়নি যা কিনা রক্ত সঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত করবে, এই ধরনের প্লাক থেকেই হার্ট এ্যাটাক বেশি হয়ে থাকে। তাই যাঁদের হার্ট এ্যাটাক হয় তাঁদের সিংভাগেরই হৃদরোগের কোনো পূর্বলক্ষণ থাকে না এবং তা আচমকাই ঘটে।

যাঁদের পরিশ্রমজনিত কারণে বুকে ব্যথা হয় তাঁদের করনারী আর্টারীতে আস্তে আস্তে চর্বি জমে এবং এই প্লাক খুব ধীরে ধীরে রক্ত নালীকে সরু করে। যখন রক্ত চলাচলের রাস্তা ৭৫% বা তার বেশি সরু হয়ে যায় তখন চলতেফিরতে, সিঁড়ি বা পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে গেলে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়। এঁদের হার্ট এ্যাটাক খুব কম হয়।

হৃদরোগ কি করে নির্ণয় করা যায়?

এতক্ষণ হৃদরোগের নানা দিক নিয়ে কথ হলো। এবার নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে হবে এই রোগ কি করে নির্ণয় বা ডায়াগনোসিস করা যায়? হৃদরোগ নির্ণয়ের মূল চাবিকাঠি হলো এর উপসর্গ যা আমরা উপরে বিশদভাবে আলোচনা করেছি। এর তেমন লক্ষণ নেই বললেই চলে। অর্থাৎ শরীর পরীক্ষা করে ক্লিনিক্যালী তেমন কিছু পাওয়া যায় না। রোগের ক্লাসিক্যাল উপসর্গ ও কয়েকটি ল্যাব টেস্ট করে হৃদরোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

হার্ট এ্যাটাকের ক্ষেত্রে ক্লাসিক্যাল উপসর্গ, ইসিজি ও রক্তের মার্কার, এই তিনটি বিষয় দিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী এর যে কোনো দুটি কোনো রুগিতে পাওয়া গেলে হার্ট এ্যাটাক ডায়াগনোসিস করা হয়। এছাড়া ইকোকার্ডিওগ্রাফী রোগ ও রোগের মাত্রা নির্ণয়ে সহায়তা করে। কোনো কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক সিটি অথবা এমআরআই স্ক্যান করা হয়ে থাকে। আর যখন রোগ নির্ণয় হয়ে যায় তখন সরাসরি করোনারী এঞ্জিওগ্রাম ও করা হয়ে থাকে এই উদ্দেশ্যে যে সম্ভব হলে হার্ট এ্যাটাকের জন্য দায়ি বন্ধ রক্তনালীটি ঐ সময়েই এঞ্জিওপ্লাস্টির মাধ্যমে খুলে দিয়ে যতদ্রুত সম্ভব রক্তসঞ্চালন সচল করা। এ ব্যাপারে পরে বিশদ আলোচনা হবে।

আর যাদের হার্ট এ্যাটাক হয়নি কিন্তু এঞ্জায়না পেক্টরিসে (প্ররিশ্রমজনিত বুকে ব্যথা) ভুগছেন তাঁদের সাধারণত ধাপে ধাপে বুকের এক্সরে, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী ও স্ট্রেস টেস্ট – যেমন ইটিটি, স্ট্রেস ইকো, এক্সারসাইজ ইকো, মাইয়োকার্ডিয়াল পারফিউশন স্ক্যান, ইত্যাদি করা হয়। এগুলোতে যাদের সমস্যা ধরা পড়ে বা কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না তাঁদের কার্ডিয়াক সিটি এঞ্জিওগ্রাম এবং করোনারী এঞ্জিওগ্রাম করে দৃঢ়ভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। প্রসঙ্গতই বলা প্রয়োজন যে সাধারণ মানুষ মনে করেন কার্ডিয়াক সিটি এঞ্জিওগ্রাম করোনারী এঞ্জিওগ্রামের বিকল্প। প্রকৃতপক্ষে এটা একটি ননইনভেসিভ টেস্ট যা দিয়ে স্ক্রিনিং করা হয় কারো করোনারী আর্টারীতে ব্লক আছে কি না। এতে যদি কারো সমস্যা ধরা পড়ে তাইলে করোনারী এঞ্জিওগ্রাম করতে হবে।

উপরোল্লিখিত পরীক্ষাগুলো ছাড়াও কিছু আনুসাঙ্গিক পরীক্ষা করা খুব জরুরী। সেগুলো করা হয় হৃদরোগের পাশাপাশা অন্য কোনো রোগেও একজন ভুগছেন কি না। কেননা কিছু রোগ আছে যেগুলিতে ভোগা লোকেদের মধ্যে হৃদরোগের প্রকোপ বেশি এবং ঐ রোগগুলোর মাত্রা একটা পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো উপসর্গের সৃষ্টি করে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষতি করতে থাকে। সেই রোগগুলো ধরার জন্য সাধারণত রক্তের শর্করা, ক্রিয়াটিনিন (কিডনীর কার্যক্ষমতা নির্ণায়ক), রক্তের চর্বির বিভিন্ন ধরন (লিপিড প্রফাইল), ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে আরো জানতে ভিডিওটি একবার দেখুন 

একা থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক থেকে কিভাবে বাঁচবেন ?

হার্ট এটাক হবার ফলে অধিকাংশ সময় মানুষ মারা যান, কারণ তারা একা থাকেন। অন্য কারো সাহায্য ছাড়া তাদের বুকের ওপর পাম্প করে হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন সম্ভব হয় না, এবং ব্যথা শুরু হবার পরে অজ্ঞান হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত সাধারণত তাদের হাতে ১০ সেকেণ্ড সময় থাকে ।

এমতাবস্থায় বুকে ব্যথার শিকার ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারেন বারংবার জোরে জোরে উচ্চস্বরে কাশি দিয়ে।
  • লম্বা করে শ্বাস নিন। এবার কাশুন। লম্বা সময় নিয়ে দীর্ঘ কাশি দিন। এর ফলে আপনার ফুসফুসে স্পাটাম/মিউকাস উৎপন্ন হবে।
  • ‘শ্বাস – কাশি, শ্বাস – কাশি...’ এই প্রক্রিয়া প্রতি দুই সেকেণ্ডে একবার করে করতে থাকুন, যতক্ষণ না কেউ আপনার সাহায্যে এগিয়ে না আসে
  • অথবা যতক্ষণ আপনার হৃদযন্ত্র একা একাই স্বাভাবিকভাবে স্পন্দিত হতে থাকে।
  • লম্বা করে শ্বাস নেবার ফলে আপনি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবেন। আর কাশির ফলে আপনার হৃদযন্ত্র সংকোচন-প্রসারণ
  • হবে যার ফলে আপনার হৃদপিণ্ডের ভিতর দিয়ে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
  • এবং কয়েকবার কাশির ফলে উৎপন্ন সংকোচন-প্রসারণে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক, স্বয়ংক্রিয় স্পন্দনে ফিরে আসার কথা।
 এরপরে অপর কোনো ব্যক্তির সাহায্যে আপনি হাসপাতালে পৌঁছতে পারবেন।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করনীয়

  • মানসিক অবসাদ বা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
  • নিয়মিত ব্লাড প্রেসার পরিমাপের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • নিয়মিতভাবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
  • ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • মোটা হওয়া বা স্থূলতা নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
  • চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে এবং রক্তে কোলেস্টোরলের মাত্রা কমাতে হবে।
  • শাকসবজি, ফল বেশি করে খেতে হবে।
  • প্রতিদিন নিয়মিতভাবে হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা কোন শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে, নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রন, প্রতিদিন ব্যায়াম, ধূমপান কিংবা মদ্যপানের মত বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ, বাড়তি লবণ না খাওয়া, তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া, মিষ্টি কম খাওয়া, শাক সবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া এবং মানসিক দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হার্ট এটাকের ঝুঁকি থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকা যাবে। আধুনিক বিশ্বে অপরিণত বয়সে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান একটি কারণ হার্ট এটাক। হার্ট এটাকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না, তাই জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে প্রতিরোধের মাধ্যমে সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে হবে। সতর্ক জীবনযাপনের পরেও হার্ট এটাক হলে, তার মাত্রা ও তীব্রতা অনেক কম হয়।
বিস্তারিত