আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ

আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ এবং কিডনি, গ্যাস্ট্রো লিভার, পুরুষদের যৌন সংক্রান্ত ও স্ত্রীরোগসমূহের হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় বিশেষ পারদর্শী। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, সফল এবং আধুনিক হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা গ্রহণ করুন, যা আপনার সকল জটিল শারীরিক সমস্যা সমূহকে মূল থেকে নির্মূল করে আপনাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে ইনশাল্লাহ।

বি. দ্র.:- অবশ্যই পূর্বেকার করা সকল Medical Test এর রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে। প্রয়োজনে আসার আগে ফোন দিয়ে ( 01727-382671, 01922-437435 ) বিস্তারিত জেনে নিবেন।

যোগাযোগ করুন

ডাক্তার আবুল হাসান
(ডিএইচএমএস, পিডিটি - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
একিউট এবং ক্রনিক রোগের হোমিও চিকিত্সক
আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি সংক্রমণ/প্রদাহ/ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত, প্রসাব না হওয়া

লিভার সমস্যা

  • জন্ডিস
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যান্সার
  • যকৃত ফোড়া
  • HBsAg (+ve)

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • গ্যাস্ট্রিক আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)
  • ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)
  • এনাল ফিসার, পাইলস, ফিস্টুলা

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সকল প্রকার সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার/জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • যোনিতে প্রদাহ/অনিয়মিত মাসিক/বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া/ অতিরিক্ত স্রাব

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা/দ্রুত বীর্যপাত
  • স্পারম্যাটোরিয়া এবং অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস ও এ সংক্রান্ত জটিলতা
  • পুরুষত্বহীনতা বা ধ্বজভঙ্গ
  • সিফিলিস এবং গনোরিয়া
  • প্রসাবে সংক্রমন/জ্বালাপোড়া

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

সাম্প্রতিক প্রকাশিত

জেনে রাখা ভালো

অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে ৷ আগে তো অ্যালোপ্যাথিকের বিখ্যাত ডাক্তারও হোমিওপ্যাথিকে সম্বল করে নানা সময় চিকিৎসার কাজ করেছেন ৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত ৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে ৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷
জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি ৷ এর কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে ৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগীরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷

Tuesday, September 4, 2018

হোমিওপ্যাথি প্রতি বৈরীতার ইতিবৃত্ত - জানতে হবে সকলকে !

স্যামুয়েল কৃশ্চিয়ান ফ্রেডারিক হ্যানিম্যান ছিলেন জার্মানের অধিবাসী। তিনি ছিলেল একাধারে দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, বহু ভাষাবিদ, রসায়নবিদ সুলেখক আরো অনেক বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিত । তিনি ছাত্রজীবন হইতেই নিজের পান্ডিত্য দর্শাইয়া পড়াশুনা সমাপ্ত করিয়াছিলেন। ইহার পর এলোপ্যাথি ডাক্তারি বিদ্যায় M D পদ লাভ করিয়া চিকিৎসাকার্যে মনোনিবেশ করিয়া বিরাট খ্যাতি অর্জন করিয়াছিলেন । এই সময় তাহার পান্ডিত্য জার্মান দেশের বাহিরেও ছড়াইয়া পড়িয়াছিল । তাহার অতি দারিদ্র অবস্থা মুহূর্তে ঘুচিয়া গিয়াছিল । বিখ্যাত এক ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিক তাহার কন্যার সহিত হ্যানিম্যানের বিবাহ দিতে পারিয়া পরম সুখ অনুভব করিয়াছিলেন অন্তরে।

বিপত্তি ঘটিয়াছিল ইহার পরেই, যখন তিনি এলোপ্যাথি চিকিৎসার কুফল প্রত্যক্ষ করিয়া এই প্রকার চিকিৎসা আর করিবেন না বলিয়া ঘোষনা করিলেন। তিনি এলোপ্যাথি চিকিৎসার কুফল ফলাও করিয়া প্রচার করিতে প্রবৃত্ত হইলে এলোপ্যাথি ডাক্তারগণ এবং ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির রোষানলে পড়িলেন । তাহার শ্বশুরমশাইও তাহার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদন করিলেন । আবার অবর্ননীয় অভাব নামিয়া আসিল জীবনে । তথাপি তিনি সিদ্ধান্তে অটল রহিলেন। ইহার পর বেশ কয়েকবছর গবেষনা করিয়া তিনি এক নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্ভাবন করিলেন যাহার নাম হোমিওপ্যাথি।
হোমিওপ্যাথি প্রতি বৈরীতার ইতিবৃত্ত - জানতে হবে সকলকে !
এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ঔষধ সাদৃশ্য মতে ব্যবহার করিতে হয়, অর্থাৎ যে রোগী যে সকল কষ্টে ভুগিতেছেন তাহাকে তেমনি ঔষধ বিশেষ উপায়ে প্রয়োগ করিতে হয় যে ঔষধের ঐ একই রোগ সুস্থ দেহে সৃষ্টি করিবার ক্ষমতা আছে!

হোমিওপ্যাথি ঔষধ আবিষ্কার করিতে কোন পদার্থকে সূক্ষ এবং শক্তিকৃত করিয়া একইসঙ্গে বহু সুস্থ মানুষের দেহে অভারডোজে প্রয়োগ করিবার পর তাহারা ঔষধ সৃষ্ট যেইসকল কষ্টে ভুগে সেইগুলোই হইল সেই শক্তিকৃত পদার্থের ঔষধি লক্ষন এবং কর্মক্ষেত্র । ইহার পর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা হইতে আরো কিছু লক্ষন সেই ঔষধের নামের পাশে লিপিবদ্ধ হইয়া থাকে। 

তাহাহইলে দেখা যাইতেছে যে হোমিওপ্যাথি ঔষধ হিসাবে প্রস্তুত করা শক্তিকৃত কোন পদার্থ সুস্থ দেহে লক্ষন সৃষ্টি করিতে না পারিলে, তাহা ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠিতে পারে না ।
মহাত্মা হ্যানিম্যান দেখিয়াছিলেন, রোগশক্তি ভীষন রকমের শক্তিশালী এবং সূক্ষ। যাহা দেহের এতটাই গভীরে অবস্থান করিয়া থাকে যে, তথায় স্থূল চেহারার ঔষধ প্রেবেশ করিতে না পারিয়া তাহার ছায়ার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ করিয়া বিশেষ লাভবান হইতে পারিতেছে না । তাই তিনি সূক্ষ রোগশক্তির শিবিরে পৌঁছাইবার জন্য ঔষধের চেহারাও তদোপযোগী অবিশ্বাস্য রকমের সূক্ষ করিয়া ফেলিলেন।

একইসঙ্গে লোহাকে ঘষিলে যেমন শক্তিশালী চুম্বক হয় কিংবা খৈনিখোর-রা যেইরূপ চুনের সঙ্গে তামাক ঘষিয়া শক্তিশালী করিয়া লয় তদনুরুপ এক বিশেষ প্রকৃয়ায় ঘর্ষণ আর আলোড়ন প্রথায় তাহাকে মহা-শক্তিশালীও করিয়া লইলেন । তিনি ঔষধি পদার্থকে এতটা-ই সূক্ষ এবং শক্তিশালী করিয়াছিলেন, যাহাতে পদার্থের কোন অণুই পদার্থ বিজ্ঞানীরা খুঁজিয়া পায় নাই । অথচ এই সূক্ষাতিসূক্ষ শক্তিকৃত পদার্থই আবার সুস্থ মানব দেহে প্রয়োগ করিয়া বহুবিধ কষ্টকর লক্ষন সৃষ্টি করিয়া ঔষধ হিসেবে আবিস্কার হইতেছে । যাহা আজ সম লক্ষণে বিধিমতো প্রয়োগ হইয়া সমগ্র পৃথিবী জুড়িয়া বহু কঠিন কঠিন রোগী প্রতিনিয়ত ভালো করিয়া চলিয়াছে । 

ইহা দেখিয়া একদল যথার্থ জ্ঞানী, পাগল বিজ্ঞানী আশ্চর্য হইয়া আজ পর্যন্ত পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কতখানি ক্ষুদ্র হইতে পারে - তাহা আবিষ্কার করিবার নেশায় রাতদিন এক করিয়া ফেলিতেছেন । অনেকেই আহার নিদ্রা ভুলিয়া গবেষনা করিয়া মরিতেছেন । আবার স্বার্থ হানি ঘটিবার কারনে কিছু দামী-দামী ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থা, যাহারা রোগীর গোষ্ঠীর পিন্ডি চটকাইয়া অর্থ উপার্জন করিবার চেষ্টার কসুর করেন না - তাহাদিগের উস্কানিতে আরেকদল আধা-পাগল আবার আপনার কার্য ভুলিয়া হোমিওপ্যাথির পিছনে লাগিয়া রহিয়াছেন । তাহারা হোমিওপ্যাথিকে ভাউতাবাজী প্রমান করিতে ঔষধের মধ্যে মূল পদার্থের অস্তিত্ব থাকিতে পারেনা - বলিয়া চিৎকার করিতে করিতে গলা ও বিভিন্ন দ্বার ফাটাইয়া ফেলিতেছেন । তাহাদের এই চিৎকার উপেক্ষা করিয়া যতই রোগীরা হোমিওপ্যাথি ক্লিনিকে ভিড় জমাইতেছেন ততই তাহারা চিৎকারের তীব্রতা বাড়াইয়া হেমারেজ ঘটাইয়া ফেলিতেছেন । ইহার পর তাহারা মরিয়া হইয়া নাম-গোত্রহীন চারি আঙুলের একটা বাংলা পেপার কাট শো করিয়া বাংলায় বসিয়া জার্মানে হোমিওপ্যাথি নিষিদ্ধ হইয়াছে বলিয়া উল্লাসে ফাটাইয়া পড়িতেছেন । অথচ গুগল সার্চ করিলে দেখা যাইতেছে যে হোমিওপ্যাথি নিষিদ্ধ তো দূর অস্ত পরন্তু হ্যানিম্যানের সম্মানার্থে তাহার নামে মুদ্রা বাহির করিয়াছেন জার্মান সরকার। 

আরো বেশি সম্মান দিতে তাহার নামে একটা ট্রেন চালাইয়তেছেন । এখানেও ব্যার্থ হইয়া বিরোধীরা হোমিওপ্যাথির বটিকা ( দানা ) -কে হোমো পাখির ডিম বলিয়া বিদ্রুপ করিতেছেন । কেহ বলিতেছেন, "হোমিওপ্যাথি ঔষধ না খাইয়া যে জ্বর সাত দিনে ভালো হইয়া যায়, তাহাতে হোমিওপ্যাথি ঔষধ খাইলে একসপ্তাহে জ্বর ভালো হইয়া যায় ! ইহা শুনিয়া যথার্থ হোমিওপ্যাথরা নীরবে হাসিতেছেন - তাহাদের করুণা হইতেছে ইহা জানিইয়া যে, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু সহ যেকোন জ্বর এবং তরুন রোগের রোগী উপযুক্ত হোমিওপ্যাথি হইলে উৎপত্তিতেই নিষ্পত্তি হইয়া যায় । কোন আধপাগলী হয়তো বলিয়া থাকিবেন, --ডায়রিয়া হইলে হোমিওপ্যাথি করিও দেখিব রোগী কি করিয়া বাঁচে ? 

"carbo vegetabilis" "camfora" "podophyllum peltatum" "alo.s" ইত্যাদি ঔষধ সম্পর্কে উত্তমরূপে না জানিলে ইহারা কি করিয়া বুঝিবেন যে, কেবলমাত্র ডায়রিয়াই নহে, এলোপ্যাথির আশা ছাড়িয়া দেওয়া ডায়রিয়া রোগীদেরও মুহূর্তে হোমিওপ্যাথি মুত্যুর রাস্তা হইতে ফিরাইয়া আনিতে পারে ? কেহ আবার হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের খোঁচা মারিয়া বলিতেছেন, --যাহার নাহি কোন গতি, সেই করিয়া থাকে হোমিওপ্যাথি !

তাহাদের এই প্রকার কথা একদিক হইতে নিতান্তই ফেলিয়া দিবার নহে । অনেক হোমিওপ্যাথি ডাক্তার এলোপ্যাথিতে সুযোগ না পাইয়া হোমিওপ্যাথিতে আসিয়া সখের হোমিওপ্যাথি করিয়া থাকেন এদেশে । তাহারা হোমিওপ্যাথি না বুঝিয়া ডিগ্রিলাভ করিয়া হোমিওপ্যাথি ঔষধ দিয়া এলোপ্যাথি করিয়া থাকেন - বলিয়া একদল যথার্থ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার অভিমত পোষন করিয়া থাকেন । তবে একজন যথার্থ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হইতে হইলে তাহাকে যে আজীবন প্রাণপাত পরিশ্রম করিতে হয় এবং বহু বিচক্ষন হইতে হয় - তাহা মহাত্মা হ্যানিম্যান, মহামতি কেন্ট প্রভৃতি দিকপাল ডাক্তারদিগের গ্রন্থ পাঠ করিলে সহজেই বুঝিতে পারা যায় । সুতরাং বিষয়টি একটু ঘুরাইয়া বলিলেই উত্তম যে, যেই রোগীর নাহি কোন গতি, তাহার জন্য রহিয়াছে হোমিওপ্যাথি । 

বিজ্ঞান মানুষকে যুক্তিবাদী হইতে শিখাইয়াছে । তাহা হইলে হোমিওপ্যাথির শক্তিকৃত ঔষধের মধ্যে যদি মূল পদার্থের অস্তিত্বই না থাকে, তবে তাহা প্রয়োগ করিলে মানবদেহে বিভিন্ন কষ্টকর রোগলক্ষন ফুটিয়া উঠিবে কেন ? ইহার যুক্তি কি ? হাজার হাজার রোগীরা হোমিওপ্যাথি খাইয়া ভালো হইতেছে বলিয়া দাবি করিতেছেন - তাহার যুক্তি কি ? এখানেও বিরোধীরা বলিয়া থাকেন এটা প্লাসিবো এফেক্ট ! অর্থাৎ রোগীরা ঔষধ মনে করিয়া জল বা গ্লোবিউলস খাইয়া মনস্তাত্বিক ভাবে উদ্বুদ্ধ হইয়া ভালো হইতেছেন ! তাহা হইলে বিরোধীরা এমন উপায়ে রোগ ভালো না করিয়া মারাত্নক পার্শপ্রতিক্রিয়া যুক্ত ঔষধ দিয়া রোগ চাপিয়া ধরিতেছেন কেন ? কেন কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠিত এলোপ্যাথি ডাক্তার এলোপ্যাথি ছাড়িয়া হোমিওপ্যাথিতে আসিতেছেন ? 

বিজ্ঞান যেমন বহুকিছু আবিষ্কার করিয়াছে তেমন বিজ্ঞানের অনেক সীমাবদ্ধতাও রহিয়াছে । একটা ফুলের সৌরভ দূর থেকে হাজার মানুষ অনুভব করিতে পারেন, এতে কি ফুলের কোন ভরের পরিবর্তন হয় ? না হইলে সেই ফুল হইতে আমাদিগের ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এমন কি আসিতেছে - এটা বিজ্ঞান প্রমাণ করিতে পারিবে ? 

একজন সুস্থ মানুষের দেহ হইতে কি বাহির হইয়া গেলে তাহাকে মৃত বলিয়া ধরা হইয়া থাকে ? আত্মার সন্ধান বিজ্ঞান দিতে পারিবে ? একজন মানুষের মুখ দেখিয়া আমরা বলিয়া দিতে পারি সে দুশ্চিন্তায় রহিয়াছে না মহানন্দে । বিজ্ঞান পারিবে ইহা পরীক্ষা করিয়া বলিতে ? একজন স্ত্রীর সঙ্গে তাহার স্বামীর সম্পর্ক নির্নয় করিতে পারিবে ? বিজ্ঞান অনেককিছু আবিস্কার করিয়াছে কিন্তু বিজ্ঞান কতটুকু আবিস্কার করিয়াছে? বিজ্ঞানের কি সব আবিস্কার শেষ হইয়া গিয়াছে ? বিজ্ঞান কি পরিবর্তনশীল নহে? 

পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা লইয়াইতো কত বিজ্ঞানীরা কত মতপার্থক্য হইয়াছেন বিভিন্ন সময় । ভারতীয় দার্শনিক কনাদ প্রথম বলিলেন পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা অনু । ইহার পর অ্যারিস্টটল তাহা খন্ডন করিলেন । পুনরায় আবার বিখ্যাত বৃটিশ পরমাণু বিজ্ঞানী ডাল্টন আসিয়া অণুকে ভাঙ্গিয়া পরমাণু বাহির করিলেন । ইহাতেও সন্তুষ্ট না থাকিয়া ক্রমে অ্যাভোগাড্র, রাদার্ফোর্ড, চ্যাডইউক, আইনস্টাইন এবং লেগম্যান আরো কিছু প্রশ্ন তুলিয়া নতুন কিছু তথ্য যোগ করিলেন । আধুনিক বিজ্ঞানীরা আবার পদার্থের আরো অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্রতম কণা যথা "ঈশ্বরকণা" বা "হিগস-বোসন" আবিষ্কার করিয়াছেন । তাহাদের অনেকে আবার স্ট্রিংতত্বে পদার্থের পরম কণা বলিয়া কিছুই হয়না বলিয়া অভিমত পোষন করিতেছেন ।

তাহা হইলে হোমিওপ্যাথি বিরোধীদের এতো আস্ফালন আসে কোথা হইতে ! তাহাদের এত গাত্র জ্বালা কেন? ইহাদের এলোপ্যাথি বলিলে নাকি আবার অপমান অনুভব করিয়া থাকেন ! নিজেদের তাহারা মডার্ন মেডিসিন প্রাকটিশনার বলিয়া দাবি করিতেছেন । তা মডার্ন মেডিসিন প্রাকটিশনার বাবুরা কি এটাও জানেন না যে, মডার্ন মেডিশিনের যিনি জনক তিনি হ্যানিম্যান সম্পর্কে কি মন্তব্য করিয়াছেন ? তিনি কেন বলিয়াছেন, চিকিৎসা শাস্ত্রেকে এককভাবে হ্যানিম্যান তুল্য সমৃদ্ধ কেহ করিতে পারে নাই ? কেন জ্ঞানীগুণী বহু এলোপ্যাথি ডাক্তারগন কখনো সখনো তাহাদের কিছুসংখ্যক অসাধ্য রোগীকে হোমিওপ্যাথি সেবন করিবার পরামর্শ দিয়া থাকেন? গুগল সার্চ করিলে কেন গোটা বিশ্বজুড়িয়া বড়-বড় হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল দেখা যাইতেছে ?

সুতরাং একথা বলা যাইতে পারে একজন যথার্থ জ্ঞানী মানুষ কদাপি কোন বিষয় উত্তমরূপে অবগত না হইয়া আধা-পাগলের মতো চিৎকার করিয়া নিজেকে উলঙ্গ করিতে চাহে না। বহু এলোপ্যাথি ডাক্তার হোমিওপ্যাথিকে ভীষন শ্রদ্ধা করিয়া থাকেন; একে অপরের সঙ্গে হাত মিলাইয়া চলিতেছেন। যাহারা ইহার বিরোধিতা করিয়া থাকেন তাহারা সংকীর্ন এবং পরশ্রীকাতর ঈর্ষা পরায়ন মানুষ। এই শ্রেনীর মানুষরা যেকোন প্রাকার উন্নয়নের অন্তরায় হইয়া থাকেন। ইহারাই গ্যালিলিও কোপার্নিকাস কিংবা হ্যানিম্যানের পিছনে লাগিয়াছিলেন। 

আজ লজ্জাবোধ হয় না আপন সন্তানকে শিক্ষা দিতে যে, সূর্যকে কেন্দ্র করিয়া পৃথিবী ঘুরে। লজ্জাবোধ করেনা নিজের ওয়ালে দূরবীন ঝুলাইয়া রাখিতে। আজ বিপদে পড়িয়া কোন শিশুকে তাহার পিতা হোমিওপ্যাথি না করায়? বলিতেছ হোমিওপ্যাথি ঔষধের মধ্যে মূল পদার্থের অস্তিত্ব নাহি, ইহা ভাউতাবাজী!  তাহা হইলে হোমিওপ্যাথি ঔষধ আবিস্কার হইতেছে কি উপায়ে? কি উপায়ে শক্তিকৃত হোমিওপ্যাথি ঔষধ সুস্থ মানবদেহে কষ্টকর লক্ষন তৈরি করিয়া থাকে? কিভাবে হাজার হাজার মানুষ হোমিওপ্যাথি সেবন করিয়া সুস্থ হইতেছে? কেন কিছু কিছু প্রতিষ্ঠিত এলোপ্যাথি ডাক্তার এলোপ্যাথি ছাড়িয়া দিয়া হোমিওপ্যাথিতে চলিয়া আসিতেছেন? একজনও হোমিওপ্যাথি ডাক্তার তো কোনদিন হোমিওপ্যাথি ছাড়িয়া এলোপ্যাথিতে চলিয়া গিয়াছে বলিয়া শুনিতে পাওয়া যায় না। 

মাটি কেন জলে ভাসিল - এই প্রশ্নের উত্তর ঐ নৌ-বিজ্ঞানী দিতে বাধ্য নহে। সে মাটি জলে ভাসাই দেখাইয়াছে -ইহাই সত্য । মানুষ তাহাতে চড়িয়া নদী পারাপার হইতে পারিতেছে -ইহাই সত্য। তদনুরুপ হোমিওপ্যাথি ঔষধের মধ্যে মূল পদার্থের অস্তিত্ব কোথায় - এই প্রশ্নর উত্তর দেওয়া হোমিওপ্যাথি ডাক্তার কিংবা হোমিওপ্যাথি আবিস্কারকের কোন মাথাব্যথা, ইচ্ছে, সময় কিংবা দায়বদ্ধতা নাহি। হোমিওপ্যাথি ঔষধ মানব শরীরে রোগ-লক্ষন উৎপন্ন করিয়া আবিষ্কৃত হইতেছে -ইহাই সত্য । কুকুরে কামড়ানো, সাপে কাটা এবং বিষ খাওয়া সহ কিছু বড় রকমের সার্জিক্যাল ক্ষেত্র ব্যাতিরেক ইন্টারনাল ভাবে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কোন বিকল্প নাহি - ইহাই সত্য। 

বিজ্ঞান তো যুক্তিবাদী হইতে শিখায় মানুষকে, তাহা হইলে বিজ্ঞান পড়িয়া আপন কর্ম জলাঞ্জলি দিয়া হোমিওপ্যাথির পশ্চাতে লাগিয়া রহিয়াছে - বে-যৌক্তিক ভাবে উপরিউক্ত মন্তব্যগুলি করিতেছে, উহারা কাহারা ? পাগল, আধ-পাগল নাকি আধা-মানুষ ? চিৎকার করিতেছ যে, মাটি কেন জলে ভাসিল ? আরে মূর্খ ,মাটি কেন জলে ভাসিল - না বলিয়া চাহিয়া দেখ মাটি-ই জলে ভাসিল ।
বিস্তারিত