Thursday, July 17, 2014

পাথর রোগ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ হল পাথরের রোগের সমস্যা। পাথরের কারনে অসহ্য যন্ত্রণা, প্রস্রাবের সংক্রামণ এবং কিডনির ক্ষতি হাতে পারে। এই কারনে পাথরের ব্যাপারে এবং তা প্রতিরোধের ব্যাপারে জানা দরকার।
পাথর রোগ কী ?
  • প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা অন্যান্য ক্ষার কণার একে অন্যের সাথে মিশে কিছু সময়ের মধ্যেই ধীরে ধীরে মূত্রমর্গে কঠিন পদার্থের সৃষ্টি হতে থাকে, যাকে পাথর নামে জানা যায়।
  • পাথর কত বড় হয়? দেকতে কেমন হয়? মূত্রমর্গের কোনও অংশে দেখা যায়?
  • মূত্রমর্গে হওয়া পাথর বিভিন্ন আকারের এবং লম্বায় বিভিন্ন ধরনের হয়। ইহা বালির দানার মতো ছোট বা গমের দানার মতো বড়ও হতে পারে। কিছু পাথর গোলা বা ডিমের আকারের এবং বাইরের অংশ চকচকে হয়। এই ধরনের পাথরের ক্ষেত্রে যন্ত্রণা কম হয় এবং ইহা স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিকরূপে প্রস্রাবের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।
  • কিছু পাথর মসৃণ হয় না। এক্ষেত্রে যন্ত্রণা একটু বেশি হয় এবং ইহা সহজে প্রস্রাবের সাথে সাথে বাইরে বেরোয় না।
  • পাথর মুখ্যত কিডনি, মূত্রবাহিনী এবং মূত্রাশয়ে দেখা যায়।
  • পাথর কেন কেবলমাত্র বিশেষ কিছু ব্যক্তির শরীরেই দেকতে পাওয়া যায়? পাথর হওয়ার মুখ্য কারণ কী?
  • বেশির ভাগ মানুষের শরীরে প্রস্রাবের উপস্থিতি কিছু বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের ক্ষার পদার্থের কণাকে একে অন্যের সাথে মিলতে দেয় না, যার ফলে পাথর হয় না।
কিন্তু কিছু মানুষের মধ্যে নিম্নলিখিত কারনে পাথর হবার সম্ভাবনা থাকে-
  • জল কম পান করার অভ্যাস।
  • দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকা।
  • ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে।
  • বংশানুক্রমিক পাথর হবার পূর্ব ইতিহাস।
  • বার বার মূত্রমর্গের সংক্রামণ।
  • মূত্রমর্গের অবরোধ।
  • ভিটামিন সি বা ক্যালসিয়াম জাতীয় ওষুধ অধিক সেবন।
  • সিসটিনোসিস।
পাথরের লক্ষণ :-
  • সাধারণত পাথরের সমস্যা ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ গুন বেশি দেখা যায়।
  • অনেক সময় পাথরের নির্ণয় সহজেই হয়ে যায়। এই সব রোগীদের মধ্যে রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। একে সাইলেন্ট স্টোন বলে।
  • পিঠ এবং পেটের অসহ্য যন্ত্রণা।
  • বমি বমি ভাব।
  • প্রস্রাবের সময়ে জ্বলন।
  • প্রস্রাবে রক্ত আসা।
  • প্রস্রাবে বার বার সংক্রামণ হওয়া।
  • হঠাৎ করে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
পাথরের যন্ত্রণার বিশিষ্ট কারণ :-
  • পাথরের যন্ত্রণা, পাথরের স্থান, আকার, প্রকার এবং দৈর্ঘ্য প্রস্থের উপর নির্ভর করে।
  • পাথরের যন্ত্রণা হঠাৎ করে শুরু হয়। এই যন্ত্রণা খুবই অসহ্য হয়।
  • কিডনির স্টোনের যন্ত্রণা কোমর থেকে শুরু হয়ে তলপেট পর্যন্ত যায়।
  • মূত্রাশয়ের পাথরের যন্ত্রণা তলপেট এবং প্রস্রাবের জায়গাতে হয়।
  • এই যন্ত্রণা চলাফেরা করলে বা খারাপ রাস্তাতে গাড়ি চড়ালে আরও বাড়তে থাকে।
পাথরের প্রতিরোধ :-
একবার পাথর প্রাকৃতিকরূপে বা চিকিৎসার মাধ্যমে বের করে দেবার পরে কি পুরোপুরি এই পাথরের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?
না, একবার যে ব্যক্তির পাথর হয়, তার পুনরায় হবার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ থাকে। এই কারনে প্রত্যেক রোগীর সজাগ থাকা প্রয়োজন।

পুনরায় যাতে পাথর না হয় তার জন্য কী কী সাবধানতা অবলম্ভন করা দরকার?
পাথরের রোগে খাদ্যের উপর নিয়ন্ত্রণের একটি বিশেষ গুরুত্ব আছে। পুনরায় যাতে পাথর না হর তার জন্য নিম্নলিখিত সাবধানতাগুলি অবলম্ভন করা দরকার-

১. অধিক জলপান করা :-
  • ৩ লিটার বা ১২ থেকে ১৪ গ্লাস এর বেশি জল বা তরল পদার্থ গ্রহণ করা দরকার। এটি পাথর তৈরি না হবার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
  • পাথরকে প্রতিরোধ করার জন্য দৈনিক জলপানের পুরো মাত্রা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • পাথরকে প্রতিরোধ করার জন্য কতটা জলপান করা হয়েছে তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কতটা প্রস্রাব করা হয়েছে। প্রতিদিন ২ লিটারের বেশি যাতে প্রস্রাব হয় সেই পরিমাণে জলপান করা দরকার।
  • পুরো দিনে কোনও না কোনও একটি সময়ে প্রস্রাব কম এবং গাঢ় হলুদ রং হয়ে থাকে। এই সময়ে প্রস্রাবের মাত্রা বেশি থাকার কারনে পাথর সৃষ্টি হবার প্রক্রিয়া খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যায়, যা প্রতিরোধ করা খুব দরকার। পাথরকে সৃষ্টি হবার থেকে প্রতিরোধ করার জন্য বিনা ভুলে-
  • খাবার পরে তিন ঘণ্টার মধ্যে
  • শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করার পরে
  • রাতে শোবার পূর্বে এবং মধ্য রাতে একবার উঠে দুই গ্লাস বা তার বেশি জল পান করা দরকার
এই ভাবে দিনের যে সময়ে পাথর সৃষ্টি হবার আশঙ্কা সব থেকে বেশি হয়ে থাকে, সেই সময়ে অধিক মাত্রায় জল এবং অন্যান্য পানীয় গ্রহণ করলে প্রস্রাব পরিষ্কার এবং অধিক মাত্রায় হয়, যার ফলে পাথর সৃষ্টিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

২. আহার নিয়ন্ত্রণ :-
পাথরের প্রকারের উপর নির্ভর করে, খাদ্য পানীয়র উপর পুরোপুরি সতর্কতা এবং নিয়ন্ত্রণ রাখলে পাথরকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • খাবারে লবণ কম মাত্রায় গ্রহন করা দরকার এবং নোনতা মুখরোচক খাবার, পাঁপড়, আচার ইত্যাদি অধিক লবণযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। পাথর প্রতিরোধ করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ রোগী এই সূচনার ব্যাপারে অবহিত থাকে না।
  • লেবুর রস, ডাবের জল, মুসাম্বির রস, আনারসের রস, গাজর, করলা, বীজহীন টমেটো ইত্যাদি সেবন পাথর প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন সি অধিক মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত নয়।
  • শাক-সবজির মধ্যেঃ টমেটো, বেগুণ, শসা ইত্যাদি।
  • ফলের মধ্যেঃ সবেদা, আমলা, আঙুর, কাজু ইত্যাদি।
  • পানীয়র মধ্যেঃ অত্যধিক গরম চা, আঙুরের রস ইত্যাদি।
৩. ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা :-
  • যেসব রোগীর ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, সেসব রোগীকে থায়াজাইডস এবং সাইট্রেটযুক্ত ওষুধ দেওয়া হয়।
  • ইউরিক অ্যাসিডের পাথরের রোগীদের অ্যালোপুরিনল এবং প্রস্রবের ক্ষারযুক্ত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

৪. নিয়মিত পরীক্ষা :-
বেরিয়ে যাবার বা বের করে দেবার পরে পুনরায় পাথর সৃষ্টির আশঙ্কা অধিকাংশ রোগীরই থাকে বা কিছু রোগীর পাথর থাকা অবস্থাতেও পাথরের কোনও লক্ষণ থাকে না। এই কারনে কোনও অসুবিধা না হলেও প্রত্যেক বছরে ডাক্তারের পরামর্শমত সোনোগ্রাফি করানো দরকার। সোনোগ্রাফি পরীক্ষাতে পাথর না হবার প্রমান অথবা প্রাথমিক অবস্থাতে নির্ণয় সম্ভব।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
লক্ষণ দেখে অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা পাথর রোগ চিকিৎসায় যন্ত্রনাদায়ক সব উপসর্গ গুলি নির্মূলে সবার আগে সচেষ্ঠ হন কারণ এ ধরনের রোগে রোগী প্রচন্ড যন্ত্রণার ভুগে থাকে। কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করে যে কোন আকৃতির পাথরকে গুড়ো করে প্রস্রাবের সাথে বের করতে হোমিওপ্যাথিই অধিক সাফল্য দেখিয়েছে এখন পর্যন্ত। যেখানে কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার লেশ মাত্র নেই।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

পাথর রোগ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ হল পাথরের রোগের সমস্যা। পাথরের কারনে অসহ্য যন্ত্রণা, প্রস্রাবের সংক্রামণ এবং কিড...

ডাঃ হাসান (ডিএইচএমএস, পিডিটি - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

যৌন ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, পাইলস, IBS, পুরাতন আমাশয়সহ সকল ক্রনিক রোগে হোমিও চিকিৎসা নিন।

১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন সর্বাধুনিক ও সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা
  • প্রসাব না হওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া

লিভার সমস্যা

  • ফ্যাটি লিভার
  • লিভার অ্যাবসেস (ফোঁড়া)
  • জন্ডিস
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • ক্রনিক হেপাটাইটিস
  • HBsAg (+ve)
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যানসার

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা,দ্রুত বীর্যপাত
  • শুক্রতারল্য,ধাতু দৌর্বল্য
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস
  • হস্তমৈথনের কুফল
  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • পুরুষত্বহীনতা, ধ্বজভঙ্গ
  • পুরুষাঙ্গ নিস্তেজ
  • সিফিলিস, গনোরিয়া

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার
  • জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • অনিয়মিত মাসিক
  • যোনিতে প্রদাহ,বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া, স্রাব

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • পেটে গ্যাসের সমস্যা
  • ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক আলসার
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • আইবিএস (IBS)
  • আইবিডি (IBD)
  • তীব্রতর কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পাইলস, ফিস্টুলা
  • এনাল ফিসার

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর
  • লিউকেমিয়া, থ্যালাসেমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • এলাৰ্জি
  • মাইগ্রেন
  • অনিদ্রা
  • সোরিয়াসিস (Psoriasis)
  • সাধারণ অসুস্থতা