Thursday, July 17, 2014

জরায়ুতে টিউমার ফাইব্রয়েড এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা।

বাংলাদেশের মহিলাদের মধ্যে জরায়ুর টিউমার ফাইব্রয়েড একটি অতি পরিচিত টিউমার। মহিলাদের প্রজননক্ষম বয়সে জরায়ুতে সবচেয়ে বেশি যে টিউমারটি হতে দেখা যায় তা হলো ফাইব্রয়েড বা মায়োমা। জরায়ুর পেশির অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এই টিউমারের সৃষ্টি হয়। ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নারীদের মধ্যে ২০ শতাংশই এই সমস্যায় আক্রান্ত। ফাইব্রয়েড এক ধরনের নিরীহ টিউমার, এটি ক্যানসার বা বিপজ্জনক কিছু নয়।
উপসর্গ সমূহ :-
  • সাধারনত ৭৫% ক্ষেত্রেই কোন উপসর্গ থাকে না।
  • মাসিকের সময় তলপেটে অতিরিক্ত ব্যাথা হওয়া।
  • তলপেটে চাকা বা ভারি অনুভব করা।
  • ৩০% মহিলাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব হয়ে থাকে। প্রতিবার মাসিকেই রক্তস্রাবের পরিমান বাড়তে থাকে।
  • কোন কোন ক্ষেত্রে দুই মাসিকের মাঝামাঝি সময় রক্ত যেতে পারে।
  • ৩০% ক্ষেত্রে বাচ্চা না হওয়ার মত সমস্যাও হতে পারে।
  •  জরায়ুতে এই টিউমার থাকা অবস্থায় যারা গর্ভধারণ করে তাদের গর্ভপাত, সময়ের অনেক আগে প্রসব বেদনা হওয়া এবং বাচ্চা ওজনে কম হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে বারবার গর্ভপাত হওয়ার জন্যেও ফাইব্রয়েড দায়ী।
  •  তলপেটে ভীষণ ব্যাথা হওয়া।
রোগ নির্ণয় :-
* আলট্রাসনোগ্রাফীর মাধ্যমেই সাধারণত এই টিউমার নির্ণয় করা যায়।
* কখনো কখনো জরায়ুর ভিতরে টিউমার হিস্টারোস্কোপি এবং জরায়ুর বাইরের টিউমার ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমেও নির্ণয় করা যায়।

অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সা :-
মূলত অস্ত্রোপচারই ফাইব্রয়েড টিউমারের প্রধানতম চিকিৎসা। অ্যালোপ্যাথি ওষুধের মাধ্যমে এর স্থায়ী চিকিৎসা হয় না। অস্ত্রোপচার প্রধানত দুই ধরনের।
১. বয়স ৪৫-এর বেশি ও Family Complete অর্থাৎ আর বাচ্চা নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে জরায়ু ফেলে দেওয়া। 
২. প্রজননক্ষম বয়স এবং যাদের বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে মায়োমেটমি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফাইব্রয়েডকে জরায়ুর দেয়াল থেকে তুলে এনে আবার তা সেলাই করে দেওয়া হয়। এতে জরায়ু কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে এই অস্ত্রোপচার পেট কেটে বা ছিদ্র করে উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়।

যা জেনে রাখা জরুরি :-
  • এই অপারেশন / অস্ত্রোপচারে বেশ রক্তপাত হতে পারে। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সময় জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
  • অপারেশন/অস্ত্রোপচারের পর আবার ফাইব্রয়েড হওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ ভাগ। 
  • অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৬০ ভাগ। এটি নির্ভর করে ফাইব্রয়েড টিউমারের সংখ্যা, আকার এবং অস্ত্রোপচারের সফলতার ওপর ফাইব্রয়েড অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণ করলে অবশ্যই ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা :-
কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার বা অপারেশন ছাড়াই সম্পূর্ণ ঔষধের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথরা সফলতার সাথেই মহিলাদের জরায়ুর এই ধরনের টিউমার নির্মূল করে থাকেন। তাই এ সমস্যায় নিশ্চিত আরোগ্যের জন্য অভিজ্ঞ কোনো হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। খুব তাড়াতাড়িই সুস্থ হয়ে উঠবেন। 
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

জরায়ুতে টিউমার ফাইব্রয়েড এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা। ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
বাংলাদেশের মহিলাদের মধ্যে জরায়ুর টিউমার ফাইব্রয়েড একটি অতি পরিচিত টিউমার। মহিলাদের প্রজননক্ষম বয়সে জরায়ুতে সবচেয়ে বেশি যে টিউমারটি হতে দ...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।