Thursday, July 17, 2014

মূত্রমর্গের সংক্রামণ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কিডনি, মূত্রবাহিনী, মূত্রাশয় এবং মূত্রনালিকার দ্বারা মূত্রমর্গের সংগঠন হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামণকে মূত্রমর্গের সংক্রামণ বলে।
মূত্রমর্গের সংক্রামণের লক্ষণ কী ?
মূত্রমর্গের বিভিন্ন অংশের সংক্রামণের প্রভাবের লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই লক্ষণ সংক্রামণের মাত্রা অনুসারে কম বা বেশি দেখা যায়। অধিকাংশ রোগীদের মধ্যে দেকতে পাওয়া যায় লক্ষণগুলিঃ
  • প্রস্রাবের সময় জ্বলন বা যন্ত্রণা হওয়া।
  • বার বার প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা হওয়া।
  • জ্বর আসা।
মূত্রাশয়ে সংক্রামণের লক্ষণ :-
  • তলপেটের যন্ত্রণা।
  • লাল রং-এর প্রস্রাব হয়া।
কিডনিতে সংক্রামণের লক্ষণ :-
  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।
  • কোমরে যন্ত্রণা হওয়া বা দুর্বল অনুভূত হওয়া।
  • যদি সঠিক চিকিৎসা না হয় তাহলে এই রোগ মৃত্যুর কারন পর্যন্ত হতে পারে।
বার বার মূত্রমর্গে সংক্রামণ হওয়া বা সঠিক চিকিৎসার পরেও সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে না আসার কারনগুলি হলঃ
  • মহিলাদের মূত্রপলিকা ছোট হবার কারনে মূত্রাশয়ের কারনে সংক্রামণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • ডায়াবেটিসের কারনে রক্তে এবং সংক্রামণের মাত্রা বেশি থাকায়।
“জ্বলন-এর সঙ্গে বারবার প্রস্রাব হওয়া মূত্রমর্গের সংক্রামণের লক্ষণ”
মূত্রমর্গে সংক্রামণ বারবার হবার কারনের নির্ণয় কীভাবে করা হয়?

প্রস্রাবে বারবার পুঁজের উপস্থিতি এবং সংক্রামণের চিকিৎসা ফলপ্রসূ না হবার কারনে নির্ণয় নিম্নলিখিত পরীক্ষা মাধ্যমে করা হয়ঃ
  • পেটের এক্স-রে এবং সোনোগ্রাফি।
  • ইন্ট্রাভেনাস পাইরোগ্রাফি।
  • মিকটিউরেটিং সস্টোইরেথ্রোগ্রাম।
  • প্রস্রাবে টি.বির জীবাণুর পরীক্ষা।
  • ইউরোলোজিস্ট দ্বারা বিশেষ প্রকার দূরবীনের সাহায্যে মূত্রনালিকা এবং মূত্রাশয়ের ভিতরের ভাগের পরীক্ষা।
  • স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা বা নির্ণয়।
মূত্রমর্গের সংক্রামণের অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা :-
১. অধিক জলপানঃ প্রস্রাবের সংক্রামণের রোগীদের অধিক মাত্রায় জলপান করার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়। কিডনিতে সংক্রামণের কারনে কিছু রোগীর অত্যধিক বমি হয়, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে গ্লুকোজের বোতল চোরানোর প্রয়োজনও পড়তে পারে।

২. ওষুধ দ্বারা চিকিৎসাঃ মূত্রাশয়ের সংক্রামণের রোগীদের সাধারণত ক্লোটাইমেক্সোজোল, সেফালোস্পরিন ওষুধ করা চিকিৎসা করা হয়। এইসব সাধারণত সাত দিনের জন্য দেওয়া হয়। যেসব রোগীদের কিডনির সংক্রামণ খুবই গুরুতর হয়, তাদের শুরুতেই ইনজেকশন দ্বারা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

“মূত্রমর্গের সংক্রামনে অধিক জল পান করা খুবই দরকার”

প্রস্রাবের কালচারের রিপোর্টের সাহায্যে অধিক প্রভাবশালী ঔষধ বা ইনজেকশন নির্বাচন করা হয়। শারীরিক অবস্থা উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও এই চিকিৎসা ১৪ দিন পর্যন্ত চালু রাখা হয়। চিকিৎসার পরে পরীক্ষার মাধ্যমে, চিকিৎসাতে কি উন্নতি হয়েছে তা জানা যায়। ওষুধ পুরো হবার পরে, প্রস্রাবে পুঁজের অনুপুস্থিতি, সংক্রামণের উপর নিয়ন্ত্রণের নিদর্শন।

মূত্রমর্গে যক্ষ্মা :-
যক্ষ্মার প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পরে, তার মধ্যে ৪ থেকে ৮ শতাংশ কিডনির রোগীদের উপরেও প্রভাব পরে। মূত্রমর্গে বার বার সংক্রামণ হবার একটি কারন হল যক্ষ্মা।

মূত্রমর্গে যক্ষ্মার লক্ষণ :-
  • এই রোগ সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
  • ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগীদের মধ্যে এই রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে অন্য রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সময় নির্ণয় হয়।
  • প্রস্রাব লাল হওয়া।
  • মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি যক্ষ্মার নিদর্শন দেখা যায়।
“মূত্রমর্গের সংক্রামণের সফল চিকিৎসার জন্য, বার বার সংক্রামণের কারন জানা দরকার”

মূত্রমর্গে যক্ষ্মার নির্ণয় :-
১. প্রস্রাবের পরীক্ষাঃ
  • এটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা প্রস্রাবে পুঁজ এবং রক্ত দেখা দেওয়া বা প্রস্রাব অ্যাসেডিক হওয়া।
  • বিশেষ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মার জীবাণু দেখা যায়।
  • প্রস্রাবের কালচার পরীক্ষাতে কোনো জীবাণু দেকতে না পাওয়া।
২. সোনোগ্রাপিঃ প্রাথমিক অবস্থা এই ধরনের পরীক্ষাতে কিছু ধরা পরড়ে না। অনেক সময় যক্ষ্মার ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে কিডনি ফুলেতে বা সংকুচিত হতে দেখা যায়।

৩. আই.ভি.পিঃ বিশেষ এই পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মার কারনে মূত্রবাহিনীর সংকোচন, কিডনির আকার পরিবর্তন বা মূত্রাশয়ের সংকোচন ইত্যাদি নির্ণয় হয়।

মূত্রমর্গের যক্ষ্মার চিকিৎসা :-
১. ওষুধ :- মূত্রমর্গের যক্ষ্মাতে ফুসফুসের যক্ষ্মাতে ব্যবহৃত ওষুধই ব্যাবহার করা হয়। সাধারণত প্রথম দুমাসে চার প্রকারের ওষুধ এবং তার পরে তিন প্রকারের ওষুধ ব্যাবহার করা হয়।

২. অন্য চিকিৎসা :- মূত্রমর্গে যক্ষ্মার কারনে যদি মূত্রমর্গে অবরোধ হয়, তাহলে তার চিকিৎসা দূরবীন বা অপারেশন দ্বারা করা হয়। কোনও রোগীর যদি কিডনি বিকল হয়ে যায়, তাহলে তা অপারেশন দ্বারা বের করে দেওয়া হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
মূত্রমর্গের সংক্রামণসহ যেকোন প্রকার কিডনি রোগ নিমূলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের রয়েছে অসাধারণ সাফল্য। যেখানে সংক্রামণ খুব তীব্র আকার ধারণ করে রোগীর জীবন প্রায় দুর্বিসহ করে তুলে সেখানে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ এই রকম সংক্রামণ সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূলে কার্যকর ভুমিকা পালন করে। তার জন্য দরকার একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ এবং অরিজিনাল হোমিও মেডিসিন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

মূত্রমর্গের সংক্রামণ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
কিডনি, মূত্রবাহিনী, মূত্রাশয় এবং মূত্রনালিকার দ্বারা মূত্রমর্গের সংগঠন হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামণকে মূত্রমর্গের সংক্রামণ বলে। ...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।