Friday, July 18, 2014

অনিদ্রা (Insomnia) সম্পর্কে কিছু বাস্তব পরামর্শ

অনিদ্রা হচ্ছে বিভিন্ন লোকের একটি সাধারণ সমস্যা । সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে জানা গেছে, সারা পৃথিবীতে ১০ শতাংশ লোক অনিদ্রার সমস্যায় ভূগে থাকেন । বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিদ্রা স্নায়ুবিদ্যার এক প্রধান রোগে পরিণত হয়েছে । অনিদ্রা রোগীরা প্রধানত কম্পিউটার, প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের কাজ করেন । তাঁদের উসৃঙ্খল জীবন কাটানো এবং বিরাট চাপের সম্মুখীন হওয়ার কারণে সহজে অনিদ্রা রোগে আক্রান্ত হন ।
চিকিৎসকরা বলছেন, খাওয়া দাওয়ার অভ্যেসে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেটাই কাটিয়ে ফেলা যাবে এই সমস্যা। ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন পাঁচটি খাবারের কথা দেয়া হলো এখানে-

আমন্ড :-
ঘুম আনতে অসাধারণ কাজ করে আমন্ড নামে এক জাতীয় বাদাম। প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম ও খনিজের উপস্থিতি ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে।

কলা :-
রাতে শোয়ার আগে একটা কলা আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে খুব তাড়াতাড়ি। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম রাতে পেশি সচল রাখতে সাহায্য করে।

মধু :-
মধুর মধ্যে থাকে গ্লুকোজ। এই গ্লুকোজ শরীরে ঘুমে ব্যাঘাতকারী ওরেক্সিনের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে রাতে ভালো ঘুম হয়।

ওটস :-
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও সিলিকনে পরিপূর্ণ ওটস। রাতে শোওয়ার আগে ওটমিল খেলে ঘুম আসবে তাড়াতাড়ি।

হালকা গরম দুধ :-
শোয়ার আগে দুধ খাওয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো। দুধ মাংসপেশিকে শিথিল করে। ফলে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি।

আসুন তবে দেখে নেই অনিদ্রা দূর করার কার্যকরী কিছু উপায়।
কোন কিছু শেখার এবং মনে রাখার চেষ্টা করতে থাকুন :-
বিছানায় শুয়ে কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে, বিশেষ করে জীবনের কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে ঘুম আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর পরিবর্তে কোনো কিছু শেখার অথবা মনে রাখার চেষ্টা করতে থাকুন। দেখবেন মস্তিষ্কে আলস্য ভর করা শুরু করেছে এবং ঘুমের উদ্রেক হচ্ছে। এই কারণে পড়তে বসলে ঘুম পায় আমাদের। সুতরাং অনিদ্রা দূর করার জন্য এই পদ্ধতিটি পালন করতে পারেন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমুতে যান :-
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমুতে যাওয়ার অভ্যাস করুন। কোনো ভাবেই এই সময়ের পরে ঘুমুতে যাবেন না। সকল ধরণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে করে ফেলার চেষ্টা করুন এবং একই সময়ে প্রতিদিন ঘুমুতে যান। ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট হলে প্রতিদিনের অনিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হবে।

ঘুম না আসলে বিছানা থেকে উঠে পড়ুন :-
ঘুম না আসলে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করে সময় পার করতে যাবেন না। এতে ঘুম আসবে না। ঘুম না আসতে চাইলে বিছানা থেকে উঠে কোনো কাজ করার চেষ্টা করুন। এমন কোনো কাজ করুন যাতে করে অবসাদগ্রস্থ হয় শরীর। অথবা মেডিটেশন করুন। তখন আপনাআপনিই ঘুম চলে আসবে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন :-
রাতে যেমন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিৎ তেমনি সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিৎ অনিদ্রা দূর করার জন্য। অনিদ্রার কারণে রাতে যদি দেরি করে ঘুমানো হয় তারপরও সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উঠুন যত কষ্টই হোক। এতে করে রাতে আপনার মস্তিষ্ক বিশ্রামের জন্য তৈরি হবে এবং অনিদ্রা দূর হবে।

ক্যাফেইন জাতীয় সকল খাবার থেকে দূরে থাকুন :-
চা/কফি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। তবে দিনে ৩ কাপের বেশি নয়। এবং যারা অনিদ্রায় ভোগেন তাদের জন্য চা/কফি থেকে দূরে থাকাই ভালো। বিশেষ করে ঘুমের আগে চা/কফি একেবারেই খাবেন না। ঘুমুতে যাবার অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে চা/কফি খাবেন। এর চাইতে বরং গরম এক গ্লাস দুধ খান ঘুমানোর আগে। গরম দুধ ঘুমের উদ্রেক করে।

এখন আমরা ঘুমানোর সময়ে কয়েকটি ভুল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।
১. বেডে চিন্তা-ভাবনা করা
শয়নকক্ষ শুধু ঘুমানোর জন্যে এ কক্ষে অন্যান্য কাজ করা ভালো নয় । ঘুমানোর ১৫ মিনিট আগে আপনারা কাগজে আপনাদের উদ্বেগের কথা ও সমাধানের উপায় লিখুন , যাতে ক্লান্তির পর ভালভাবে ঘুমানো যায় ।

২. সংখ্যা হিসাব করা
অনেক লোক মনে করেন ঘুমানোর সময় সংখ্যা হিসাব করা ঘুমের জন্য সহায়ক, কিন্তু তা একটি ভুল উপায় । সংখ্যা হিসাব করার সময় মানুষের মাথা উত্তেজিত হয়ে থাকে, ফলে স্বাভাবিক ঘুম হয় না ।

৩. ঘুমতে না পারলেও বেডে শুয়ে থাকা
বিছানায় শুয়ে থাকার সঙ্গে ঘুমানোর সম্পর্ক রয়েছে । যদি আপনার ঘুমানোর সময় খুব কম হয় , তাহলে দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকবেন না । ঘুম ভাঙ্গার পর বিছানা ছেড়ে দিন । যদি ক্লান্ত লাগে তাহলে আবার বিছানায় ফিরে গিয়ে ঘুমাবেন ।

৪.সবসময় ঘুমের বড়ি খাওয়া
একটি নতুন পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, অনিদ্রা রোগীদের মধ্যে শুধু ৬ শতাংশ তাঁদের অনিদ্রার জন্য হাসপাতালে চিকিত্সা নেয়। ৭০ শতাংশ লোক অনিদ্রাকে এক ধরনের রোগ মনে করলেও কখনো চিকিত্সা করে না । অনেকে নিজে নিজেই ঘুমের ঔষধ কিনে খান। কিন্তু সবসময় ঘুমের ঔষধ খাওয়া শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর । ঘুমের সময় যাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা থাকে এমন কারোরই ঘুমের বড়ি খাওয়া ঠিক নয় । ওষুধ খেলে কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না । তা ছাড়া, বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের ঔষধ অনিদ্রা চিকিত্সা করার পাশাপাশি যদি দীর্ঘকাল ধরে খেতে থাকে তাহলে লোকেরা সহজভাবে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। অনিদ্রা রোগীদের ডাক্তরের নির্দেশ অনুযায়ী ঘুমের ঔষধ খাওয়া উচিত। নিজস্বভাবে ঔষধের দোকানে গিয়ে ঘুমের ঔষধ কিনে খেলে বা বেশি পরিমাণের ঘুমের ঔষধ খেলে, সহজভাবে মাথাধরা ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে। এ জন্য দীর্ঘকাল ধরে ঘুমের ঔষধ না খাওয়াই ভালো ।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

অনিদ্রা (Insomnia) সম্পর্কে কিছু বাস্তব পরামর্শ ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
অনিদ্রা হচ্ছে বিভিন্ন লোকের একটি সাধারণ সমস্যা । সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে জানা গেছে, সারা পৃথিবীতে ১০ শতাংশ লোক অনিদ্রার সমস্যায় ভূগে থাকেন ...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।