Tuesday, August 26, 2014

নারীর পিরিয়ড বা ঋতুকাল, ওভুলেশন বা ডিম্ব নিঃস্বরন এবং গর্ভধারণ

জীবনের প্রতিটি দিনই পুরুষেরা শুক্রানু উৎপন্ন করতে পারেন। কিন্তু নারীরা প্রায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ্য ডিম্বানু নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন এবং তার অল্প কিছু মাত্র জীবনকালে অবমুক্ত করেন। আবহাওয়ার পার্থক্যভেদে নারীর ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সে প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়ে থাকে। পিরিয়ড শুরু হবার সময়কালে মাত্র ৩ লক্ষ ডিম্ব সক্রিয় থাকে, তার পুর্বেই বেশিরভাগ ডিম্বানু নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতি মাসিক ঋতুকালে মাত্র একটি ডিম্ব পরিপক্ক হয়ে ডিম্ব থলি থেকে নিঃস্বরীত হয়।
নিঃস্বরীত ডিম্বানু ফেলোপাইন টিউব (প্রজনন তন্ত্রের একটি অংশ) এর শেষ প্রান্তে এসে অবস্থান নেয়। পরবতীতে তা ক্রমশঃ গর্ভাশয়ের এর দিকে অগ্রসর হয়। তার এই যাত্রাপথে যদি কোন শুক্রানু দ্বারা ডিম্বটি নিষিক্ত হয় তবে তা গর্ভাশয়ে গিয়ে বসে যাবে। যাকে আমরা নারীর গর্ভধারন বলি। গর্ভাশয়ে পরবর্তীতে শিশুর জীবনকাল আরাম্ভ হয়।

আর যদি ডিম্বানুটি কোন পুরুষের শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত না হয়, তবে তা বিচূর্ন হয়ে কিছু রক্তকনিকা সহ মাসিক ঋতুচক্রের সময় নির্গত হয়ে যাবে।

ডিম্ব নিঃস্বরন কিভাবে সনাক্ত করবেন ?
গড়পড়তা প্রতি ঋতুচক্র ২৮ থেকে ২৯ দিন ব্যাপ্ত থাকে। যা পুর্ববতী ঋতুচক্রের প্রথম দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ঋতুচক্র শুরুর আগের দিন পর্যন্ত গনানা করা হয়। বেশিরভাগ নারীর মাসিক ঋতুচক্রের ১১তম থেকে ২১তম দিবসের মাঝের সময়ে ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ক ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়। ডাক্তারী ভাষায় এই সময়কে নিষেক-কাল বলা হয়। কারন এই সময়ের মধ্যে যৌন মিলনের ফলে নারীর গর্ভধারনের সম্ভাবনা থাকে।

যারা কোন প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি বা ইনজেকশান ব্যবহার না করতে চান তারা এই সময়কালে মিলনে বিরতি দিয়ে গর্ভধারন থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। একই ভাবে যেসকল যুগল সন্তান নিতে চান তারা এই সময়কালে বেশি বেশি মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা প্রকট থাকে। তবে মনে রাখবেন প্রতি মাসে একই সময়কালে ডিম্ব নিঃস্বরন নাও হতে পারে। কারণ এক মেডিকেল রিচার্স এ দেখা গেছে মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ নারীর ঋতুচক্রের ১০ থেকে ১৭ তম দিবসের মাঝে ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়েছে। তাই যারা এ সময় মিলনে বিরতি দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রন করতে চান তারা বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। 

ডিম্বানুর নিষেক সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
  • ডিম্বাশয় থেকে নিঃস্বরনের পর প্রতিটি ডিম্বানু ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা জীবিত থাকে।
  • প্রতিবার সাধরনত একটি ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়।
  • ডিম্বানুর নিঃস্বরন মানসিক চিন্তা, অসুস্থতা অথবা ঋতুচক্রের দৈর্ঘ্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • অনেক নারীর ডিম্ব নিঃস্বরেনের সময় যৎসামান্য রক্ত নির্গত হতে পারে।
  • নিঃস্বরনের পর নিষিক্ত ডিম্বানু ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে গর্ভশয়ে স্থান নেয়।
  • ঋতুচক্রের রক্তক্ষরন ডিম্বানু নিঃস্বরন ব্যতিরিকেও হতে পারে।
  • ঋতুচক্রের রক্তক্ষরন ব্যতিরিকেও ডিম্বানু নিঃস্বরীত হতে পারে।
মাসিক ঋতুচক্রের বিভিন্ন দিক :-
ঋতুচক্র হচ্ছে নারীর একটি ডিম্বানু নিষেক অথবা ক্ষরনের শারীরবিত্তিয় পরিবর্তনের চক্র। গড়পড়তা প্রতি ঋতুচক্র ২৮ থেকে ২৯ দিন ব্যাপ্ত থাকে। যা পুর্ববতী ঋতুচক্রের প্রথম দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ঋতুচক্র শুরুর আগের দিন পর্যন্ত গনানা করা হয়। তবে অনেক নারীর ঋতুচক্র মাত্র ২২ দিন (সর্বনিন্ম) এবং অনেকের ৩৬ দিন (সর্বচ্চ) পযন্ত ঋতুচক্র স্থায়ী হতে পারে। এমনকি একই নারীর ভিন্ন ভিন্ন মাসে ভিন্ন সময় ব্যাপ্তির ঋতুচক্র হতে পারে।

ঋতুচক্রের ভিতর সাদা স্রাব (ভাজাইনাল ডিসচার্য) একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই ক্ষরনের মাত্রা ইস্ট্রোজেন এবং প্রো-ইস্ট্রোজেন হরমনের লেভেল উঠা-নামার সাথে কম বেশি হতে পারে।

নারীর বয়স যত বাড়তে থাকে তত ঋতুচক্রের দৈর্ঘ্য (সময় ব্যাবধান) কমতে থাকে। আমাদের দেশে নারীদের সাধারনত ৫৫ থেকে ৫৬ বছর বয়সে ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অনেক নারী বসতে অথবা উঠতে মুত্র ধরে রাখতে পারেন না এবং ক্ষানিক মুত্র বিসর্জন করে ফেলেন। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। অনেকে এটি না জানার কারনে চিন্তিত হয়ে চিকিত্সকের সরনাপন্ন হয়ে থাকেন – যার আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই।

নারীর পিরিয়ড বা ঋতুকাল, ওভুলেশন বা ডিম্ব নিঃস্বরন এবং গর্ভধারণ ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
জীবনের প্রতিটি দিনই পুরুষেরা শুক্রানু উৎপন্ন করতে পারেন। কিন্তু নারীরা প্রায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ্য ডিম্বানু নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন এবং তার অল্প...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।