Thursday, November 6, 2014

যকৃত প্রদাহের (Hepatitis) জটিল অবস্থায় সর্বাধিক কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

আজকাল যকৃত প্রদাহ (Hepatitis) রোগটি সচরাচর দেখা যাচ্ছে এবং ইহার অশুভ শক্তি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে । এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু রোগী অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। কোন কারণে যকৃতের তরুণ প্রদাহ এবং সেজন্য ক্রিয়ার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে যকৃত প্রদাহ বলা হয়। এই প্রদাহ যদি কোন ভাইরাস আক্রমন ঘটে তবে তাকে সংক্রামক যকৃত প্রদাহ বলে। এই রোগে আক্রান্ত হলে যকৃত তার নিজের ক্রিয়াশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নানাবিধ রোগ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। 
যকৃত প্রদাহের কারণ :- বিভিন্ন কারণে যকৃতের যান্ত্রিক গোলযোগের সৃষ্টি হতে পারে। অবশ্য সবগুলো কারণ সঠিক ভাবে নির্ণয় করা সহজ নয়। তবে প্রধান কারণ ভাইরাস ঘটিত বলা যেতে পারে। এ ছাড়া ক্রোধ, শোক, মানসিক উত্তেজনা, অবসন্নতা, আঘাত লাগা, উগ্ররেচক বা বমন কারক ঔষধাদি সেবন অথবা অনিয়মিত আহার ইত্যাদি কারনেও এই রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রধানত যে সকল কারণে যকৃত প্রদাহ হয়ে থাকে তা নিম্নে উল্লেখ করা হল। 
  • টাইফয়েট, নিমোনিয়া, কালা জ্বর, ইনফ্লুযেন্জা, প্লেগ, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ।
  • বি কোলাই, যকৃতের এমবায়সিস প্রভৃতি রোগ। 
  • সাধারণ পিত্তনালীতে অবরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি। পিত্তপাথরি, জীবানু সংক্রমণ, পিত্তনালীর সংকোচন, পিত্তনালী, যকৃত, পাকস্থলী, কিডনি ইত্যাদিতে অর্বুদের উত্পত্তি প্রভৃতি নানা কারণে এই অবরোধ সৃষ্টি হতে হতে পারে। ইহাকে অবরোধ জনিত যকৃত প্রদাহ বলে। 
  • সূরাসার, ক্লোরোফর্ম, কার্বনটেট্রা KLOORIDE, আর্সেনিক, SANTONINE প্রভৃতির বিষক্রিয়া এবং কতিপয় ঔষধের প্রতিক্রিয়া ইহা সৃষ্টি হতে পারে। 
  • লিভারের সিরোসিস। এ ছাড়া ভাইরাস সংক্রান্ত যকৃত প্রদাহ সাধারণত তিনটি কারণে হতে পারে যথা:-(ক)Virus A (খ) Virus B (গ) Virus A এবং B বহির্ভূত। 
Virus A :- এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর মলে পাওয়া যায়। ইহারা প্রধানত খাদ্য ও পানীয় ইত্যাদির মাধ্যমে অম্লনালীর সাহায্য সংক্রামিত হয়। এই রোগ সাধারনত অপরিষ্কার অপরিছন্ন পরিবেশে বিস্তার লাভ করার সুযোগ পায়। এই জন্যই ঘন ঘিঞ্জি এবং নোংরা বস্তি এলাকায় এই রোগের প্রকোপ বেশী। মাছি এই রোগ বেশী ছড়াতে পারে।

Virus B :- এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর রক্তে পাওয়া যায় এবং ইহারা অন্টিজেনের সংশ্লিষ্ট । কোন রক্ত দাতার রক্তে এই ভাইরাস থাকলে সেই রক্ত অন্য রোগীতে প্রদান করলে অথবা এই রোগে আক্রান্ত কোন রোগীতে ইনজেকশন দেবার পর সেই সিরিঞ্জটি ফুটন্ত জলে ভালো করে জীবানুমুক্ত না করে অন্য রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে সেই রোগের সংক্রমণ হতে পারে। ইহা মারাত্মক প্রকৃতির ভাইরাস, এই ভাইরাস মানুষের রক্তে দীর্ঘকাল সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে

Virus A এবং B বহির্ভূত :- এই জাতীয় ভাইরাস সাধারণত জলের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কোনো বিশেষ অঞ্চলে এই জাতীয় ভাইরাস রোগ বিস্তার করে। 

যকৃতে প্রদাহের লক্ষণসমূহ :- যকৃত প্রদাহের লক্ষণগুলো সম্যক উপলব্দি করতে হলে যকৃতের কার্যাবলী সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে নতুবা লক্ষণ দৃষ্টি রোগ নির্ণয় করতে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়। যকৃত গ্রন্থিটি হচ্ছে মানব দেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। একজন পূর্ণ বয়স্ক বেক্তি যকৃতের প্রায় ১৫ কেজি। বক্ষ গহ্বরে নীচে ডান দিকে দক্ষিন ফুসফুসের নিচে এবং দক্ষিন নিম্ন পঞ্জরাস্থির পশ্চাদভাগে ইহা অবস্থিথ। ইহার রং অনেকটা চকলেট রঙের মত দেখতে। যকৃত প্যরেন কায়মাল (Parenchymal tissue) দ্বারা ঘটিত এবং ছোট বড় চারটি লোবে বিভক্ত। এতে রক্তবহানালী,লসিকাগ্রন্থি, স্নায়ু এবং পিত্ত নালী রয়েছে। একজন সুস্থ প্রাপ্ত বয়সের যকৃতে প্রতি মিনিটে প্রায় ১.৫লিটার রক্ত প্রবাহিত হয়। যকৃতের প্রধান কাজগুলোকে ৫ভাগে ভাগ করা যায় - 
  • যকৃত পিত্ত নিঃসরণ কাজ সম্পাদন করে, এই পিত্ত পরিপাক কাজে সহায়তা করে এবং স্নেহ জাতীয় খাদ্য ও ফেটে দ্রব ভিটামিন আত্তীকরণে বিশেষ সাহায্য করে। 
  • বহু সংখ্যক প্রোটিন উত্পাদনে যকৃতে সাহায্য করে। এই জাতীয় প্রোটিনের মধ্য এলবুমিন গ্লোবুলিন ইত্যাদি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। 
  • যকৃতে গ্লোকজের বিপাক ঘটে এবং গ্লাইকোজেনের সঞ্চয় হয়। 
  • যকৃত রক্ত পরিস্কারকের বিশেষ যন্ত্র হিসাবে কাজ করে। 
  • যকৃত লৌহ, ভিটামিন বি, ১/২ ফলিক অ্যাসিড ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে যকৃত মানব দেহের বিশেষ কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে থাকে। যকৃতের প্রদাহ সৃষ্টি হলে বিশেষ কতগুলো হচ্ছে -
০১. যকৃতে যদি বি-কোলাই, স্ট্রেপটোকক্কাই প্রভৃতি জীবানুর সংক্রামন ঘটে তবে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। শরীরের উত্তাপ ১০২ ডিগ্রী - ১০৪ ডিগ্রী (ফা.) পর্যন্ত হতে পারে এবং এই জ্বরের প্রকৃতি অনেকটা অনিয়মিত ও সবিরাম। এ ছাড়া যকৃতে বেদনার সৃষ্টি হতে পারে। যকৃত অঞ্চলে সামান্য টিপ দিলে রোগী প্রচন্ড বেদনা বোধ করে। 

০২. মেলেরিয়া, নিমোনিয়া প্রভৃতি রোগ হেতু যকৃত প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। ইহাতে অনেক সময় যকৃতের আকার বৃদ্ধি লাভ করে। আবার দেখা গেছে যে, মূল রোগ সেরে গেলে এই বৃদ্ধি কমে যায় এবং যকৃত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আকার লাভ করে। আবার যদি রোগের ভোগকাল খুব দীর্ঘ হয় তখন হয়ত যকৃতের এই বিবৃদ্ধি কমেনা এবং লিভার বৃদ্ধির ভাবটি স্থায়ী রূপ লাভ করে থাকে।

০৩. অনেক সময় লিভার অত্যান্ত শক্ত ও কঠিন হয় এবং যথার্থ ক্রিয়া শক্তির হ্রাস হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্লীহার বিবৃদ্ধি ঘটে এবং প্লীহার কাজ ও বিঘ্নিত হয়। প্লীহার অন্যতম কাজ হলো রক্ত থেকে রোগ জীবানু এবং বিষাক্ত জিনিস গুলো ছেকে বের করে দেওয়া এবং সেগুলোকে যকৃতে পাঠানো। সেগুলো যকৃতে গিয়ে নস্ট হয়ে যায়। তাই এই ক্ষেত্রে যদি যকৃতের কোনো ক্রিয়া জনিত বিকৃত ঘটে তবে প্লীহার কাজও বিঘ্নিত হতে পারে। 

০৪. যদি যকৃত প্রদাহ রোগটি পুরাতন হয় তবে অন্যান্য জটিল প্রকৃতির উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে, গায়ের বর্ণ মলিন ও পান্ডুবর্ণ হয়, ক্ষুধাহীনতা দেখা দেয়। ডিওডেনামের কাজ যথারিথী সম্পন্ন হয়না, কখনো উদরাময়, কখনো কুষ্ঠকাঠিন্য ভাব দেখা দেয়। মাথা ঘোরে, মাথায় যন্ত্রণা হয়, মুত্র ঘন ও কড়া হয়। যকৃত অঞ্চল স্ফীত ও ভারী বোধ হয়। প্লীহার বিবৃদ্ধি ঘটে। অনেক সময় জন্ডিস রোগ দেখা দেয় এবং রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। 

০৫. আবার অনেক সময় লিভারে ফোড়া হয় এবং ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে। পোর্টাল শিরায় থ্রম্বোসিস হতে পারে,অবশ্য এই সকল জটিল উপসর্গ লিভার প্রদাহ থেকে হতে পারে। 

০৬. রাসায়নিক পদার্থের বিষক্রিয়া হেতু লিভার প্রদাহ হতে পারে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যকৃত এবং যকৃতের ক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে। উদাহরণ স্বরূপ  বলা যায় যে - জন্ম নিরোধক, অবসাদ নাশক হিসাবে যে সকল অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহৃত হয় তাদের অনেক গুলোতে লিভারের কাজে বিঘ্ন ঘটায়। অনেক সময় অতি মাত্রায় অ্যালোপ্যাথিক  ঔষধ সেবনের ফলে যকৃত প্রদাহের সৃষ্টি হয় কারণ এগুলোর যকৃত কোষের ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা আছে। ইহাতে জন্ডিস, ফুসফুসের নানাবিধ রোগ, হাপানি, আন্ত্রিক আলসার, কিডনির রোগ হতে পারে। 

০৭. লিভার প্রদাহের ফলে লিভারের শিরার মধ্য দিয়ে যে রক্ত চলাচল করে তার বিঘ্ন ঘটতে পারে। যকৃতের বিবৃদ্ধি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চয় হয়। যকৃতের নানাবিধ পরিবর্তন ঘটে।

০৮. ভাইরাস সংক্রামিত যকৃত প্রদাহের রোগ লক্ষণ প্রায় একই প্রকার। ঘুমের পর হঠাত করে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে। ক্ষুধাহীনতা, বমি ভাব, মাথয় যন্ত্রণা, উদর বেদনা এবং অস্বস্থিবোধ, এমনকি চর্ম উদ্ভেদ পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।জ্বরের লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে। ৩/৪ দিনের মধ্য জন্ডিস রোগ দেখা দেয়। ভাইরাস সংক্রমণ যদি তীব্র হয় তবে রোগীর অবস্থা ভয়ংকর রূপ লাভ করতে পারে। এ ছাড়া যকৃত প্রদাহ, লিভার সিরোসিস এবং রক্তহীনতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

যকৃত প্রদাহের ফলে সৃষ্ট তীব্রতর এবং জীবনহানীকর জটিলতাসমূহ নির্মূলে অ্যালোপ্যাথি ট্রিটমেন্ট ততটা কার্যকর নয়। দেখা গেছে অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারগণ রোগীদের যকৃত প্রদাহের জটিল অবস্থায় চিকিত্সা দিতে ব্যর্থ হয়ে "রোগী ১৪ দিন বা ৩ মাস মাত্র বাচবে" ঘোষণা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আর সেইসব রোগীদের কেউ কেউ সৌভাগ্য ক্রমে কোন এক অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের চিকিত্সাধীনে এসে নতুন জীবন লাভ করে। এটা সিনেমার কোনো গাল-গল্প নয়। আমাদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কথাই আপনাদের বলছি। যকৃতের প্রদাহের (Hepatitis) সবচেয়ে সাফল্যমন্ডিত চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই অভিজ্ঞ কোনো হোমিও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিলে যকৃত প্রদাহের (Hepatitis) জটিলসব উপসর্গ নির্মূল হয়ে রোগী খুব দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। 

যকৃত প্রদাহের (Hepatitis) জটিল অবস্থায় সর্বাধিক কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
আজকাল যকৃত প্রদাহ (Hepatitis) রোগটি সচরাচর দেখা যাচ্ছে এবং ইহার অশুভ শক্তি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে । এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু রোগী অকালে প্রাণ...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
যৌন ও স্ত্রীরোগ, লিভার, কিডনি ও পাইলসরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।