Saturday, December 23, 2017

জেনে নিন আপনার কখন কি ভিটামিন খাওয়া উচিত ?

ভিটামিন হলো খাদ্যের একটি অত্যাবশ্যকীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান, যা শরীরের ভেতরে তৈরি হয় না এবং অবশ্যই খাবার থেকে গ্রহণ করতে হয়। মাঝবয়সী ও বেশি বয়সী নারীদের অনেকেই ভিটামিন বড়ি নিয়মিত সেবন করেন। দুনিয়াজুড়ে ওষুধের দোকানের ভিটামিনের কৌটার মূল ক্রেতা হলেন নারীরা। কিন্তু আদৌ কি তাঁরা সবাই ভিটামিনের অভাবে ভুগছেন? আর নারীর একটু বয়স বাড়লেই কি ভিটামিন বড়ি সেবন করা উচিত?

স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে নারীদের কিছু ভিটামিন খাওয়া জরুরি। জেনে নিন কি কি ভিটামিন খাবেন প্রতিদিন-
জেনে নিন আপনার কখন কি ভিটামিন খাওয়া উচিত ?
ক্যালসিয়াম:- নারীদের খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম প্রথম স্থানে রয়েছে। এর অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগ হতে পারে। এই রোগে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ভোগে। কাজেই হাড় মজবুত রাখতে নারীদের এটি খাওয়া অবশ্যই জরুরী। দুধের তৈরি খাদ্য ও ডিমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি:- খাবারের মাধ্যমে আমরা যে ক্যালসিয়াম দেহে নিয়ে থাকি তা ভিটামিন ডি এর মাধ্যমে হাড় দ্বারা শোষিত হয়। মাছ, মাছের তেল, দুধ, সয়া দুধ, ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন ডি। সকালে সূর্যের আলোর মাধ্যমেও দেহে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ সম্ভব।

ভিটামিন এ:- ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানাসহ ঘা, অস্থি-ঝিল্লির প্রদাহ ও ক্যারাটোম্যালেশিয়া রোগ হতে পারে। ভিটামিনটি মাসিক ঋতুচক্র, পিণ্ডময় স্তন, যোনি সংক্রমণের সময় অনেক উপকারী। শুধু তাই নয়, স্তন ক্যান্সারেও ভালো কাজ করে ভিটামিন এ। টাটকা সবুজ সবজি ও লাল পাম তেল ভিটামিন এ এর ভালো উৎস।

ভিটামিন বি১:- এই ভিটামিনের অপর নাম হলো থায়ামিন। অপরিহার্য এই ভিটামিনটি দেহের চিনিকে শক্তিতে রুপান্তরিত করে। যেহেতু নারীদের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়; তাই এটি তাদের খাওয়া ভালো। চর্বিহীন মাংস, বাদাম ও শস্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১ রয়েছে।

ভিটামিন বি২:- এর অপর নাম হলো রিবোফ্লাভিন। এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ব্যস্থাকে সচল রাখে। একইসাথে ত্বক, নখ ও চুলের যত্নেও কাজ করে ভিটামিন বি২। দুধ ও সবুজ শাকসবজিতে প্রয়োজনীয় রিবোফ্লাভিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি৬:- এই ভিটামিনটি পাইরিডক্সিন নামে পরিচিত। মাসিক ঋতুচক্র থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থার আগের সময়ে এই সবজিটি খাওয়া ভালো। এতে শুধু নবজাতক পর্যাপ্ত দুধই পাবে না; একইসঙ্গে গর্ভাবস্থায় আপনার হতাশাও কমিয়ে দিবে এই ভিটামিন। অ্যাভোকাডো, কলা ও বাদাম ভিটামিন বি৬ এর ভালো উৎস।

ফলিক অ্যাসিড:- গর্ভাবস্থায় প্রতিটি নারীর ফলিক এসিড গ্রহণ করা জরুরী। আবার যারা মা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন কিংবা সন্তান জন্মদানের সময় বিভিন্ন সমস্যা এড়াতে চান তাদেরও এই ভিটামিন খাওয়া দরকার। সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি:- সুস্বাস্থ্যের জন্য নারী-পুরুষ উভয়েরই ভিটামিন সি খাওয়া উচিত। ভিটামিনটি শুধু আপনার বয়স কমাতে সাহায্য করবে না; বরং ত্বক, চুল এবং নখেরও যত্ন নিবে। সাইট্রাস ফল ও কমলালেবু ভিটামিন সি এর সবচেয়ে ভাল উত্স।

ভিটামিন ই:- ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সৌন্দয্য পণ্যকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ত্বককে ভালো রাখায় ভিটামিনটি নারীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। পাশাপাশি দেরিতে গর্ভাবস্থা এবং মাসিক ঋতুচক্র সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধেও সহায়তা করে ভিটামিনটি। এর ভালো উৎস হলো- মাংস, মুরগির মাংস, ডিম ইত্যাদি।

কোলিন:- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গ্রুপের একটি ভিটামিন হলো কোলিন। গর্ভবতী মহিলাদের নিউরাল টিউব অপূর্ণতা প্রতিরোধ করতে এই ভিটামিন অপরিহার্য। এটি লিভারে উত্পাদিত হয়। ডিম এর চমৎকার খাদ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও কিছু পরামর্শ

  • গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালীন নারীদের আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট প্রায় সবাইকেই খেতে বলা হয়। এতে কোনো সমস্যা নেই।
  • মেনোপজের পর নারীদের হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ সময় তাঁদের দৈনিক ১ হাজার ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৮০০ ইউনিট ভিটামিন ডি খাওয়া উচিত। তবে সেটা সাধারণ খাবারের মাধ্যমেও খাওয়া যেতে পারে। যদি এমন হয় যে খাবারে ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সেবন করা যেতে পারে।
  • এমনিতে প্রতিদিন তাজা শাকসবজি, ফলমূল ও দুধ খেলে একজন সুস্থ নারীর আর আলাদা করে ভিটামিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু উপসর্গ মাঝে মাঝে সাময়িক ভিটামিনের ঘাটতি নির্দেশ করে। যেমন ঠোঁটে-জিবে ঘা, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিব লালচে ও চকচকে দেখানো, অনেক চুল পড়া ও ত্বক খসখসে হয়ে পড়া, মাংসপেশিতে কামড়ানো, হাত–পায়ের তালু জ্বালাপোড়া করা ইত্যাদি ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • মাসিকের সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, পাইলসের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক-আলসারের কারণে নারীদের রক্তশূন্যতা হতে পারে। হজমের নিয়মিত গোলমালেও অন্ত্রে ভিটামিন শোষণ বাধা পায় ও ভিটামিনের ঘাটতি হয়। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা হালকা বোধ হওয়ার কারণ লৌহের বা অন্যান্য ভিটামিনের অভাব কি না পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট বা পরিপূরক খাবারও নেওয়া যায়।

কিছু সতর্কতা

উন্নত বিশ্বে প্রায় ৮২ শতাংশ বয়স্ক নারী-পুরুষ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন সম্পূরক বা বড়ি খেয়ে থাকেন। কিন্তু ভিটামিন বেশি খেলে কি কোনো ক্ষতির ঝুঁকি থাকে?

দীর্ঘদিন ধরে অকারণে উচ্চমাত্রার ভিটামিন খাওয়া থেকেও বিপদ হতে পারে।

ক্যালসিয়াম: অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম খেলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনিতে পাথরসহ আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি একসঙ্গে উচ্চমাত্রায় সেবন করলে অনেক সময় এ সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন এ: উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ সেবন গর্ভবতী নারীদের জন্য বিপজ্জনক। কেননা টক্সিক মাত্রায় ভিটামিন এ অনাগত শিশুর নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ যকৃৎ, হাড় ও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দুর্ঘটনাবশত হঠাৎ বেশি ভিটামিন এ খেয়ে ফেললে বমি, মাথাব্যথা, ত্বকের সমস্যা হতে পারে।

ভিটামিন সি: এক গ্রামের বেশি ভিটামিন সি একসঙ্গে খেয়ে ফেললে ডায়রিয়া হতে পারে। শিশুরা চুষে খাবার ভিটামিন সি লজেন্স বেশি খেয়ে বিপদ ঘটাতে পারে।

লৌহ: আয়রন বা লৌহজাতীয় বড়ি গ্যাস্ট্রিকের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, কোষ্ঠকাঠিন্য করতে পারে। থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হিমোগ্লোবিন ত্রুটি আছে, এমন রোগী আয়রন খেলে যকৃৎ, মস্তিষ্ক ও বিভিন্ন গ্রন্থিতে অতিরিক্ত আয়রন জমে অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে। এদের আয়রন বড়ি খাওয়া নিষেধ। তা ছাড়া বেশি মাত্রায় আয়রন যেকোনো মানুষের পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা করতে পারে। শিশুরা বেশি আয়রন খেয়ে ফেললে বিষক্রিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

জিংক: মাল্টি ভিটামিন বড়িতে জিংক উপাদান থাকে। জিংক একটি প্রয়োজনীয় ও উপকারী উপাদান। কিন্তু অতিরিক্ত জিংক দেহে স্বাভাবিক লৌহ ও কপারের শোষণ কমিয়ে দিয়ে রক্তশূন্যতার সৃষ্টি করতে পারে।

ভিটামিন বি: ভিটামিন বি কমপ্লেক্স স্নায়ু ভালো রাখে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ নিজেই স্নায়ুর ক্ষতি করতে সক্ষম।

ভিটামিন ডি: মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি, বিশেষ করে কোলেক্যালসিফেরল রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ফ্লোরাইড: অনেক সময় পানিতে বা টুথপেস্টে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড যোগ করা হয়। ফ্লুরাইড দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত ফ্লুরাইড দাঁতের এনামেলের ক্ষয় করে ও দাঁতকে হলুদ করে।

জেনে নিন আপনার কখন কি ভিটামিন খাওয়া উচিত ? ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
ভিটামিন হলো খাদ্যের একটি অত্যাবশ্যকীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান, যা শরীরের ভেতরে তৈরি হয় না এবং অবশ্যই খাবার থেকে গ্রহণ করতে হয়। মাঝবয়সী ও বে...

ডাঃ হাসান (ডিএইচএমএস, পিডিটি - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

যৌন ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, পাইলস, IBS, পুরাতন আমাশয়সহ সকল ক্রনিক রোগে হোমিও চিকিৎসা নিন।

১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন সর্বাধুনিক ও সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা
  • প্রসাব না হওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া

লিভার সমস্যা

  • ফ্যাটি লিভার
  • লিভার অ্যাবসেস (ফোঁড়া)
  • জন্ডিস
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • ক্রনিক হেপাটাইটিস
  • HBsAg (+ve)
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যানসার

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা,দ্রুত বীর্যপাত
  • শুক্রতারল্য,ধাতু দৌর্বল্য
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস
  • হস্তমৈথনের কুফল
  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • পুরুষত্বহীনতা, ধ্বজভঙ্গ
  • পুরুষাঙ্গ নিস্তেজ
  • সিফিলিস, গনোরিয়া

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার
  • জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • অনিয়মিত মাসিক
  • যোনিতে প্রদাহ,বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া, স্রাব

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • পেটে গ্যাসের সমস্যা
  • ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক আলসার
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • আইবিএস (IBS)
  • আইবিডি (IBD)
  • তীব্রতর কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পাইলস, ফিস্টুলা
  • এনাল ফিসার

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর
  • লিউকেমিয়া, থ্যালাসেমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • এলাৰ্জি
  • মাইগ্রেন
  • অনিদ্রা
  • সোরিয়াসিস (Psoriasis)
  • সাধারণ অসুস্থতা