Friday, December 22, 2017

প্রোটিন গ্রহণ ভালো কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরের জন্য যে কারনে বিপদজনক

 প্রোটিন (আমিষ) জৈব বৃহত-অণুর প্রকারবিশেষ। প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন ছাড়া কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই প্রোটিনকে সকল প্রাণের প্রধান উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়।

আমাদের দেহের অস্থি, পেশি, বিভিন্ন দেহযন্ত্র, রক্ত কণিকা থেকে শুরু করে দাঁত, চুল, নখ পর্যন্ত প্রোটিন দিয়ে গঠিত। প্রোটিন শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি সাধন ও দেহ গঠন করে। আমাদের দেহের কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানে নতুন কোষগুলো গঠন করে ক্ষয়পূরণ করতে ও কোনো ক্ষতস্থান সারাতে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে। যখন দেহে ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের অভাব দেখা যায় তখন প্রোটিন তাপশক্তি উৎপাদনের কাজ করে। রোগ সৃষ্টিকারী রোগজীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের দেহে তাদের প্রতিরোধী পদার্থ বা অ্যান্টিবডি তৈরী করা প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মানসিক বিকাশ বা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।
প্রোটিন গ্রহণ ভালো কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরের জন্য যে কারনে বিপদজনক
দেহে প্রোটিনের অভাব হলে বর্ধনরত বয়সের শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মেধা ও বুদ্ধি কমে যায়। তাই প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আমেরিকার একটি রিসার্চ ফার্ম রকভিল ম্যারিল্যান্ড তাদের জরিপে জানায়, ৬২ শতাংশ মানুষ দৈনিক খাদ্যতালিকায় প্রোটিনকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাবার বলে মনে করে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রোটিন গ্রহণ ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া মোটেও ভালো নয়।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটিকস-এর মুখপাত্র হিদার ম্যাঙ্গেরি জানান, পরিমাণমতো প্রোটিন সুস্বাস্থ্যের শর্ত। পেশির গঠন এবং ভালো পারফরম্যান্সের জন্যে প্রোটিন প্রয়োজন। তবে গুণগতমানসম্পন্ন প্রোটিন আসতে পারে মাংস ও পশুজাত খাদ্যপণ্য থেকে। কিন্তু বহু মানুষ প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মাধ্যমে প্রোটিন গ্রহণ করছেন। এতে প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণহীন হচ্ছে। কোনো পণ্যে যদি প্রোটিনের কথা লেখা থাকে তবে মানুষ ধরে নেন এটাই ভালো খাবার। কিন্তু এসব খাবার যখন প্রোটিনের উৎস, তখন অতিরিক্ত প্রোটিন হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

এখন আপনার কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন তা নির্ভর করে দেহ, জীবনযাপন, পরিশ্রম ইত্যাদির ওপর। দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্যে ৮ গ্রাম প্রোটিন দরকার। তবে যারা নিরামিষভোজী তাদের প্রোটিনের অভাব ঘটতে পারে। এ কারণে তাদের বিন, বাদাম ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেশি বেশি খেতে হবে।

গর্ভবতী এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের প্রতিদিন বাড়তি ২৫ গ্রাম প্রোটিন দরকার। যাদের ক্যান্সার আছে এবং যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চান, তাদেরও সম পরিমাণ প্রোটিন দরকার।

কিছুটা বেশি খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ডিহাইড্রেশন ঘটতে পারে। ক্যালসিয়াম ক্ষয়ের কারণ হতে পারে। দিনে প্রতিবারই খাবারের সঙ্গে প্রোটিন খাওয়া ভালো। কিন্তু একবেলা যদি বেশি প্রোটিন খেয়ে ফেলেন, তবে পরের বেলা বেশি খাবেন না। প্রতিদিনের প্রোটিন ভারসামস্যপূর্ণভাবে খেতে হবে।

দৈনিক গড়ে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের তার শরীরের ওজনের প্রতি গ্রামের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন, অর্থাৎ একদিনে একজন পুরুষের ৫৬ গ্রাম এবং একজন নারীর ৪৬ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন এর মতে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ, শুধু খারাপই নয় বিপজ্জনকও বটে। অনেক বেশি প্রোটিন গ্রহণ করা বিপজ্জনক যে কারণে সেগুলোর বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

নিশ্বাসের দুর্গন্ধ:- যখন আপনি কম কার্বোহাইড্রেট ও অধিক প্রোটিনের ডায়েট অনুসরণ করবেন তখন আপনার শরীরে কিটোসিস অবস্থা বিরাজ করবে। এই অবস্থায় সাধারণ কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে জ্বালানীর জন্য ফ্যাট পুড়তে শুরু করবে। এটি হয়তো ওজন কমানোর জন্য ভালো কিন্তু আপনার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভালো নয় বলে জানান রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান জেসিকা করডিং। এর কারণ যখন আপনার শরীর চর্বি পোড়ায় তখন কিটোনেজ নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হয় যা আপনার মুখে এমন গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে যা থেকে মনে হতে পারে যে আপনি নেইল পলিশ রিমুভার পান করেছেন। যেহেতু এই গন্ধ আপনার শরীরের ভেতর থেকে আসে তাই ব্রাশ করা, ফ্লস ব্যবহার করা বা কুলি করার মাধ্যমে এই গন্ধ দূর হয় না।

মেজাজের পরিবর্তন:- মেজাজ নিয়ন্ত্রণের হরমোন সেরেটোনিন এর উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে কার্বোহাইড্রেট। অতিরিক্ত ওজনের পূর্ণবয়স্কদের নিয়ে করা এক অস্ট্রেলিয়ান গবেষণায় জানা গেছে যে, যারা প্রায় ১ বছর নিম্ন কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট অনুসরণ করেন তাদের মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে যায় উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও নিম্ন ফ্যাট এর ডায়েট যারা গ্রহণ করেন তাদের তুলনায়।

কিডনির সমস্যা:- যখন আমাদের শরীর প্রোটিন হজম করে তখন এর বর্জ্যকে ছাঁকার কাজ করে কিডনি। অনেক বেশি প্রোটিন গ্রহণ করা হলে তা কিডনির উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করে বলে তার কাজে সমস্যা হয়। ২০০৩ সালের গবেষণায় জানা গেছে যে, এই ক্ষতি কেবল কিডনি রোগের প্রাথমিক অবস্থায় দেখা যায়। ওয়েব এমডি এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে বুঝতেই পারেন না যে তাদের কিডনি আক্রান্ত হয়েছে।

গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা:- মুরগীর বুকের মাংস ও কটেজ চিজ পেশী তৈরির জন্য চমৎকার কাজ করে। কিন্তু এদের মধ্যে কোন ফাইবার থাকে না যা পরিপাক নালীর জন্য প্রয়োজনীয়। যারা আস্ত শস্য, মটরশুঁটি, শাকসবজি ও ফল কম খান এবং প্রাণীজ প্রোটিন বেশি গ্রহণ করেন তাদের দৈনিক ফাইবারের চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপার মত আন্ত্রিক সমস্যা হতে দেখা যায়। করডিং বলেন, এটি সম্ভবত আমার ক্লায়েন্টদের থেকে পাওয়া প্রধান অভিযোগ যারা নিম্ন কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট অনুসরণ করেন।

ওজন বৃদ্ধি পায়:- উচ্চমাত্রার প্রোটিন ডায়েট হয়তো অল্প সময়ে আপনার ওজন কমতে সাহায্য করবে। কিন্তু যদি আপনি ওজন বৃদ্ধিকারী অন্য জিনিস না কমিয়ে ডিমের সাদা অংশ এবং হয়ে প্রোটিন গ্রহণ করতে থাকেন তাহলে আপনার ওজন কমবে না বরং বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় যেখানে ৭০০০ পূর্ণ বয়স্ক মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিলেন তাতে দেখা যায় যে, যারা অনেকবেশি প্রোটিন গ্রহণ করেন তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই ওজন বৃদ্ধি পায় যারা কম প্রোটিন গ্রহণ করেন তাদের তুলনায়।

ডিহাইড্রেটেড করে:- কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়ার সময় বর্জ্য হিসাবে ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয়। ওয়েব এমডি এর মতে, কিডনির কাজ পরিমাপের জন্য গবেষক ও শরীরতত্ত্ববিদেরা ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেনের মাত্রা নির্ণয় করেন এবং এর মাধ্যমে একজন মানুষ কতোটা হাইড্রেটেড আছে তাও পরিমাপ করা হয়। ২০০২ এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে হাইড্রেশন কমে যায়। কারণ অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বের করে দেয়ার জন্য শরীরের অনেক বেশি পরিমাণ পানি ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়।

প্রোটিন গ্রহণ ভালো কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরের জন্য যে কারনে বিপদজনক ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
 প্রোটিন (আমিষ) জৈব বৃহত-অণুর প্রকারবিশেষ। প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। খাদ্যের ছয়...

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

যৌন ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, পাইলস, IBS, পুরাতন আমাশয়সহ সকল ক্রনিক রোগে হোমিও চিকিৎসা নিন।

১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন সর্বাধুনিক ও সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা
  • প্রসাব না হওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া

লিভার সমস্যা

  • ফ্যাটি লিভার
  • লিভার অ্যাবসেস (ফোঁড়া)
  • জন্ডিস
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • ক্রনিক হেপাটাইটিস
  • HBsAg (+ve)
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যানসার

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা,দ্রুত বীর্যপাত
  • শুক্রতারল্য,ধাতু দৌর্বল্য
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস
  • হস্তমৈথনের কুফল
  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • পুরুষত্বহীনতা, ধ্বজভঙ্গ
  • পুরুষাঙ্গ নিস্তেজ
  • সিফিলিস, গনোরিয়া

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার
  • জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • অনিয়মিত মাসিক
  • যোনিতে প্রদাহ,বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া, স্রাব

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • পেটে গ্যাসের সমস্যা
  • ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক আলসার
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • আইবিএস (IBS)
  • আইবিডি (IBD)
  • তীব্রতর কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পাইলস, ফিস্টুলা
  • এনাল ফিসার

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর
  • লিউকেমিয়া, থ্যালাসেমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • এলাৰ্জি
  • মাইগ্রেন
  • অনিদ্রা
  • সোরিয়াসিস (Psoriasis)
  • সাধারণ অসুস্থতা