Wednesday, May 2, 2018

একজিমা বা বিখাউজ দূর করার উপায়, একজিমার হোমিও চিকিৎসা

একজিমা (ইংরেজী: Eczema) এক প্রকাম চর্ম রোগ যা বাংলাদেশে পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা ইত্যাদি স্থানীয় নামে পরিচিত। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে সচরাচর এটপিক ডার্মাটাইটিস (ইং: atopic dermatitis) হিসাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার অন্যতম উৎস বংশগত বলে ধারণা করা হয়। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত স্থান লালাভ দেখায়, এখানে পুঁজবটী জন্মে, চুলকায়, রস ক্ষরণ হতে পারে এবং মামড়ি পড়ে। এটি কোন সংক্রামক রোগ নয়। তবে এ রোগ থেকে হাঁপানি এবং হে ফিভার হয়ে থাকে। এটি দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা যাতে অতি শুষ্ক ত্বক ফেটে যায়, পুরু হয়ে ওঠে, চুলকানির সৃষ্টি হয় এবং ফুস্কুড়ি হতে পারে।

ঠিক কী কারণে একজিমা হয়ে থাকে তা এখনো জানা যায় নি। বলা হয়েছে অন্তর্ভূত কারণের (যেমনঃ এলার্জি) বহি:প্রকাশ একজিমা। শরীরের যে কোন স্থানেই একজিমা হতে পারে, তবে হাত, পা, বাহু, হাঁটুর বিপরীত পৃষ্ঠা, গোড়ালী, হাতের কব্জি, ঘাড় ও ঊর্ধ বক্ষস্থল ইত্যাদি অংশ বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এলোপ্যাথিতে একজিমার ঔষধ অদ্যবধি আবিষ্কৃত হয় নি, তবে এমোলিয়েণ্টস (Emollients) এবং স্টেরেয়ড মলম (steroid ointments) একজিমার প্রকোপ নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়। তবে এই রোগের একমাত্র নির্মূলকারী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। যদি একজিমা বা বিখাউজ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চান তাহলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
একজিমা বা বিখাউজ দূর করার উপায়, একজিমার হোমিও ঔষধ
ত্বকের যেকোনো অংশেই একজিমা রোগ হতে পারে। তবে হাত, পা, বাহু, হাঁটুর বিপরীতে, গোড়ালী, হাতের কব্জি, ঘাড় কিংবা ঊর্ধ বক্ষস্থল ইত্যাদি অংশে বেশি হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার প্রধান উৎস বংশগত বলে চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বলেও উল্লেখ করা হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

এটি যেকোন বয়সেই হতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। আবার গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থা একজিমা হওয়ার কোন শর্ত নয়। সাধারনভাবে একজিমা অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমগোত্রীয় একটি রোগ যা বংশগত কারণে হতে পারে।

একজিমা কি কি প্রকারের হতে পারে ?

এটি কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন- এটোপিক একজিমা (শরীরের যেসব স্থানে ভাঁজ পড়ে যেমন- হাঁটুর পিছনে, কুনইয়ের সামনে, বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে এটোপিক একজিমা হতে পারে), এলার্জিক কনট্যাক্ট একজিমা (কোন পদার্থ বা বস্তু থেকে এ ধরনের একজিমা হয়ে থাকে। শরীরের যে অংশে এলার্জি হয় সেখানে লালচে দানা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে এটা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে), ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট একজিমা (এটি এলার্জিক একজিমার মতই এবং এটি অধিক হারে ডিটারজেন্ট জাতীয় দ্রবের ব্যবহারের কারনে হতে পারে), সেবোরিক একজিমা (ম্যালাসেজিয়া ইষ্ট দ্বারা সংক্রমণের ফলে সেবোরিক একজিমা হয়ে থাকে এবং এতে মাথার ত্বকে হালকা খুশকির মতো তৈলাক্ত ফুসকুড়ি দেখা যায়। সাধারণত এক বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগটি বেশি দেখা যায়), ভেরিকোস একজিমা (রক্ত সরবরাহে সমস্যা ও উচ্চরক্তচাপের কারণে বয়স্ক লোকদের পায়ের নিচের অংশে এটি হতে পারে), ডিসকয়েড একজিমা (সাধারণত বয়স্ক লোকদেরই এটি বেশি হতে পারে। শুষ্ক ত্বক সংক্রমণের মাধ্যমে বিশেষ করে পায়ের নিচের অংশে এটি হয়ে থাকে) ইত্যাদি।

একজিমার কারণ কি কি ?

একজিমার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ত্বকের আর্দ্রতা ত্বককে ব্যাকটেরিয়া এবং যে সকল পদার্থ অ্যালার্জির সৃষ্টি করে তা থেকে রক্ষা করে। সাধারনত নিম্নলিখিত কারন সমুহকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়ঃ
  • সাধারনত শুষ্ক বা রুক্ষ ত্বক একজিমার জন্য দায়ী কারন- এ ধরনের ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে না।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান বা শ্যাম্পু থেকে এ রোগের সংক্রমণ হতে পারে।
  • এলার্জি হয় এমন বস্তু যেমন- পরাগ রেণু, ধুলা, পশম, উল ইত্যাদি থেকে এটির সংক্রমন হতে পারে।
  • জিনঘটিত যেকোনো পরিবর্তনের ফলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এটির সংক্রমন হতে পারে।
  • দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগের কারনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেলে বিখাউজ হতে পারে।
  • বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারনে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এটির সৃষ্টি হতে পারে।
  • পরিবেশগত কারণেও একজিমা হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কিংবা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়া ইত্যাদি।
আবার হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় এটি হতে পারে।

একজিমার লক্ষণসমূহ

ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হওয়া, ত্বক লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক বা ত্বকে চুলকানি ইত্যাদি একজিমার লক্ষণ। হাত ও পায়ের ত্বকে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি হতে পারে। আবার ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হতে পারে এবং পুঁজ বের হতে পারে। ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হয়ে যেতে পারে।

একজিমার ঝুঁকিতে আছেন যারা 

  • অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়ার ফলে, অর্থাৎ পরিবেশগত কারণেও একজিমা হতে পারে।
  • পরিবারের কোনো সদস্যের একজিমা বা বিখাউজ থাকলে অন্যান্য সদস্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ত্বক শুষ্ক বা রুক্ষ হলে এ রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশি কারন- এ ধরনের ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে না।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পুর ব্যবহারের ফলেও এ রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • এলার্জি হতে পারে এমন বস্তু যেমন- পরাগ রেণু, ধুলা, পশম, উল ইত্যাদির সংস্পর্শে একজিমার সংক্রমন হতে পারে।
  • জিনঘটিত কোনো পরিবর্তনের ফলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে একজিমার সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • চর্মরোগে আক্রান্ত কোন রোগীর সেবাকাজে নিয়োজিত ব্যক্তির এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।
  • বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এটি হতে পারে।
  • শহরাঞ্চালে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে বিশেষ করে ডে-কেয়ার বা চাইল্ড কেয়ারে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
  • হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় একজিমা হতে পারে।
  • দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগের কারনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে একজিমার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

একজিমা প্রতিরোধে করনীয়

  • যেসব বস্তু বিখাউজ বা একজিমার সমস্যা বাড়িয়ে তোলে বা যেসব খাবার খেলে এটি বাড়ে তা পরিহার করতে হবে।
  • সবসময় নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরতে হবে। সিনথেটিক বা উলের পোশাকে অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তা পরা যাবে না।
  • কাপড় পরিষ্কারের জন্য কৃত্রিম রঙ ও সুগন্ধিবিহীন সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হবে।
  • ধূলাবালি, ফুলের রেণু এবং সিগারেটের ধোঁয়া অর্থাৎ যেগুলো থেকে অ্যালার্জি হতে পারে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • আক্রান্ত স্থান চুলকানো যাবে না।
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
  • ত্বক শুষ্ক না রেখে, প্রয়োজনে কৃত্রিম রঙ ও সুগন্ধিবিহীন লোশন বা ক্রিম ব্যাবহার করতে হবে।

একজিমা, বিখাউজ দূর করার  চিকিৎসা 

এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিকার আবিষ্কৃত হয় নি। একজিমার সাথে অ্যাজমা এবং হে ফিভার দেখা দিতে পারে। এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা রোগ হলে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি করলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।একজিমার এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় রয়েছে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন বা হরমোন জাতীয় ওষুধ সেবন এবং স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ফল দেয় না। তবে হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে এই রোগ মূল থেকে চিরতরে নির্মূল করার অনেক উন্নত ঔষধ এবং চিকিৎসা। তাই একজিমা, বিখাউজ দূর করার জন্য রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ট্রিটমেন্ট নিন। 

একজিমা বা বিখাউজ দূর করার উপায়, একজিমার হোমিও চিকিৎসা ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
একজিমা (ইংরেজী: Eczema) এক প্রকাম চর্ম রোগ যা বাংলাদেশে পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা ইত্যাদি স্থানীয় নামে পরিচিত। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে সচরাচর এ...

ডাঃ হাসান (ডিএইচএমএস, পিডিটি - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

যৌন ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, পাইলস, IBS, পুরাতন আমাশয়সহ সকল ক্রনিক রোগে হোমিও চিকিৎসা নিন।

১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন সর্বাধুনিক ও সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা
  • প্রসাব না হওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া

লিভার সমস্যা

  • ফ্যাটি লিভার
  • লিভার অ্যাবসেস (ফোঁড়া)
  • জন্ডিস
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • ক্রনিক হেপাটাইটিস
  • HBsAg (+ve)
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যানসার

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা,দ্রুত বীর্যপাত
  • শুক্রতারল্য,ধাতু দৌর্বল্য
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস
  • হস্তমৈথনের কুফল
  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • পুরুষত্বহীনতা, ধ্বজভঙ্গ
  • পুরুষাঙ্গ নিস্তেজ
  • সিফিলিস, গনোরিয়া

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার
  • জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • অনিয়মিত মাসিক
  • যোনিতে প্রদাহ,বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া, স্রাব

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • পেটে গ্যাসের সমস্যা
  • ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক আলসার
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • আইবিএস (IBS)
  • আইবিডি (IBD)
  • তীব্রতর কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পাইলস, ফিস্টুলা
  • এনাল ফিসার

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর
  • লিউকেমিয়া, থ্যালাসেমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • এলাৰ্জি
  • মাইগ্রেন
  • অনিদ্রা
  • সোরিয়াসিস (Psoriasis)
  • সাধারণ অসুস্থতা