Wednesday, June 27, 2018

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি (Potency) সম্পর্কে যা মনে রাখতে হবে

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় শুধুমাত্র ওষুধ নির্বাচন সঠিক হলেই হবে না, ওষুধের শক্তি নির্বাচনও সঠিক হওয়া চাই নয়তো আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। চিকিৎসক বিভ্রান্ত হয়ে ঔষধ পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু হয়তো ঔষুধ নির্বাচন সঠিক ছিল।

অভিজ্ঞ চিকিৎসক মাত্রেই জানেন যে ঔষধের শক্তি সমন্ধে কোনো নিদির্ষ্ট নিয়ম নাই। কোন চিকিৎসক গর্বের সঙ্গে প্রথম থেকেই উচ্চ শক্তি ব্যবহার করেন, কোনো চিকিৎসক নিম্নশক্তি থেকে শুরু করেন, কোনো চিকিৎসক আবার বাঁধাগতে ২০০ শক্তি ব্যবহার করেন। এই সকল পদ্ধতিই ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাত দুষ্ট। পক্ষপাতিত্ব হোমিও চিকিৎসার অন্তরায় একথা ওষুধের ক্ষেত্রে যেমন সত্য,ওষুধের শক্তি সমন্ধেও সমানভাবে সত্য।  তাহলে ওষুধের শক্তি নির্বাচন করবেন কিভাবে আসুন দেখে নেওয়া যাক-
হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি সম্পর্কে যা মনে রাখতে হবে

রোগভোগকাল

এই বিষয়টিকে গভীর ভাবে বিবেচনা করতে হবে। রোগ যত পুরাতন হবে ওষুধের শক্তিও ততই উচ্চ হবে। যেমন ধরুন আপনি একটি রুগী পেলেন যে বাতের ব্যাথায় তিনমাস ভুগছে,আবার আরেকটি রুগী পেলেন যে দুবৎসর যাবৎ বাতের ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে, আপনি যখন লক্ষনসমষ্টি সংগ্রহ করলেন দেখা গেলো উভয়ের ওষুধ ব্রায়োনিয়া। এখন কি আপনি উভয়কেই একই শক্তির ওষুধ দেবেন? তাতে কি আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে? বিবেচনা করে দেখুন।

আবার রোগের ভোগকাল সম্বন্ধেও যথেষ্ট বিবেচনা থাকা দরকার। কারন এসমন্ধে ধারণা করা নিতান্ত কঠিন কাজ এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ধরুন আপনি কোনো শিশুর চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখলেন শিশুর বয়স মাত্র ৬ মাস, এবং সে জন্মের কিছুদিন পর থেকেই ভুগছে, এখন আপনি কি বিবেচনা করবেন? রোগ ভোগকাল ৬ মাস? খোঁজ নিলে দেখা যাবে ওই রোগটি তার শরীরে বাবা অথবা দাদার কাছ থেকে বংশানুক্রমে প্রবহমান। এক্ষেত্রে উচ্চশক্তি ছাড়া ফল পাওয়া দুস্কর।

রোগের প্রকোপ

এটা হলো শক্তি নির্বাচনের দ্বিতীয় কথা, রোগ শুধু কতদিনের পুরানো এটা দেখলেই চলবে না, রোগের প্রকোপ রোগীর শরীরে কেমন সেটাও বিবেচনা করতে হবে। যেমন ধরেন কোনো রোগী আপনার কাছে চিকিৎসার জন্য আসলো আপনি জানতে পারলেন রোগী ৫ বৎসর বাতের ব্যাথায় ভুগছে চিকিৎসাও চলছে হঠাৎ রোগ খুব বেড়ে যাওয়ায় আপনার কাছে এসেছে। আপনি এখন কি করবেন রোগ পুরাতন এই জন্য উচ্চশক্তি দেবেন? না লক্ষণ সংগ্রহ করে যে ওষুধ নির্বাচিত হবে তার নিম্নশক্তি অথবা মধ্যম শক্তি প্রয়োগ করে রোগীর যন্ত্রনা কমাতে হবে, তারপর উচ্চশক্তি দিয়ে রোগ নির্মূল করে ফেলতে হবে। 

এইরকম ক্ষেত্রে অনেকসময় তরুণ ওষুধ (Aconite, Belledona) নির্বাচিত হয়ে থাকে, এরকম ক্ষেত্রে যে ওষুধ নির্বাচিত হবে তাই প্রয়োগ করতে হবে তাতেই রোগযন্ত্রণা কমবে। তারপর পুনরায় রোগলক্ষন সংগ্রহ করে পুরাতন দোষের ওষুধ নির্বাচন করতে হবে। 

রোগীর স্বাস্থ্য

হোমিও চিকিৎসায় ওষুধের শক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রোগীর জীবনীশক্তির অবস্থ্যা কেমন সেটা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার কারণ যেখানে রোগীর রোগের সাথে যুঝবার শক্তি নেই, সেখানে ভুল শক্তির একটি মাত্রাই বিপদজনক হয়ে ওঠে।  রোগ ভীষণাকার ধারণ করে রোগীকে ভীষণ কষ্ট দিতে পারে। যদি দেখেন কোনো রোগির জীবনীশক্তি এতো অল্প যে রোগের সাথে যুদ্ধ করবার শক্তি তার নেই। তখন লক্ষণ সংগ্রহ করে রোগীর কষ্ট যাতে কম হয় সেইমতো নিম্নশক্তির ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত। হোমিওপ্যাথির ভাষায় একে বলে উপশমভিত্তিক চিকিৎসা।

মনে রাখবেন রোগীর স্বাস্থ্য যেখানে দুর্বল সেখানে ৩০শ শক্তিও যথেষ্ট উচ্চশক্তি এবং আবার রোগী যখন জীবনীশক্তিতে ভরপুর তখন 1M শক্তিও নিতান্ত নিম্নশক্তি বলে প্রতিপন্ন হয়। সুতরাং এ বিষয়ে বিশেষ সাবধান!

এবিষয়ে আরেকটি কথা বলা দরকার সেটি হল অপারেশন রোগি। এলোপ্যাথি চিকিৎসকগণ ছুরি চালানোয় সিদ্ধহস্ত। তারা ওষুধ দ্বারা কোনো রোগ কমাতে না পারলেই রোগীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে অপারেশন করে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গটিকে নির্দ্বিধায় বাদ দিয়ে দেন। তাতে লাভ কি হয় ? রোগীর আরোগ্যের আশা চিরকালের মতো বিলুপ্ত হয়ে যায়। আপনি যদি এমন কোনো রোগিপান যার কোন অঙ্গ প্রতঙ্গ অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং তার দেহে নির্বাচিত ওষুধের কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দেখা যায় তাহলে সময় নষ্ট না করে তাকে উপশম ভিত্তিক চিকিৎসা দেন এবং রোগীকে জানিয়ে দেন তার স্থায়ী আরোগ্য সম্ভব নয় উপশম ভিত্তিক চিকিৎসাতেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। 

এ বিষয় কয়েকটি মাথায় রাখলেই ওযুধের শক্তি নির্বাচন করা সহজ হবে, এছাড়া আপনি যত অভিজ্ঞ হবেন ততই এ বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করবেন, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে - ওষুধের শক্তি সমন্ধে আরেকটি শেষ কথা প্রফেসর জর্জ ভিথুলকাসের মতে -

কোন রোগীর সাথে কোন ওষুধের চিত্র যদি সম্পূর্ণ মিলে যায় তাহলে ওই রোগীর ক্ষেত্রে ঐ ওষুধের নিম্নক্রম ব্যবহার রোগীর পক্ষে বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সুতরাং সাবধান।
তবে আপনি যদি ষষ্ঠ সংস্করণের ঔষধ ব্যবহার করেন তাহলে এগ্রাভেশন এড়ানোর জন্য নিম্নক্রম থেকে শুরু করে একসময় পাওয়ার জাম্প করতে পারেন।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি (Potency) সম্পর্কে যা মনে রাখতে হবে ডাক্তার আবুল হাসান 5 of 5
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় শুধুমাত্র ওষুধ নির্বাচন সঠিক হলেই হবে না, ওষুধের শক্তি নির্বাচনও সঠিক হওয়া চাই নয়তো আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। চিকিৎসক...

ডাঃ হাসান (ডিএইচএমএস, পিডিটি - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

যৌন ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, পাইলস, IBS, পুরাতন আমাশয়সহ সকল ক্রনিক রোগে হোমিও চিকিৎসা নিন।

১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ
ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
ইমেইল:adhunikhomeopathy@gmail.com
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য যেকোন সময় নির্দিধায় এবং নিঃসংকোচে যোগাযোগ করুন।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন সর্বাধুনিক ও সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা
  • প্রসাব না হওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া

লিভার সমস্যা

  • ফ্যাটি লিভার
  • লিভার অ্যাবসেস (ফোঁড়া)
  • জন্ডিস
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • ক্রনিক হেপাটাইটিস
  • HBsAg (+ve)
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যানসার

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা,দ্রুত বীর্যপাত
  • শুক্রতারল্য,ধাতু দৌর্বল্য
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস
  • হস্তমৈথনের কুফল
  • অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • পুরুষত্বহীনতা, ধ্বজভঙ্গ
  • পুরুষাঙ্গ নিস্তেজ
  • সিফিলিস, গনোরিয়া

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার
  • জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • অনিয়মিত মাসিক
  • যোনিতে প্রদাহ,বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া, স্রাব

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • পেটে গ্যাসের সমস্যা
  • ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক আলসার
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • আইবিএস (IBS)
  • আইবিডি (IBD)
  • তীব্রতর কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পাইলস, ফিস্টুলা
  • এনাল ফিসার

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর
  • লিউকেমিয়া, থ্যালাসেমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • এলাৰ্জি
  • মাইগ্রেন
  • অনিদ্রা
  • সোরিয়াসিস (Psoriasis)
  • সাধারণ অসুস্থতা