Showing posts with label অন্যান্য রোগ ব্যাধি. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য রোগ ব্যাধি. Show all posts

Monday, January 1, 2018

কাশি এবং ঠান্ডায় করণীয় যা কিছু!

কাশি এবং ঠান্ডা এই আবহাওয়ায় একটি প্রচলিত সমস্যা । প্রায় প্রত্যেকেই ঠান্ডা দিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এটা খুবই যন্ত্রনাদায়ক হয় যদি তা ৩-৪ দিনেরবেশী স্থায়ী হয়।

ঠান্ডা ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে। প্রায় ২০০ রকমের ভাইরাস আছে তাই তাদের কে উপেক্ষা করা কঠিন। যদি আপনি এক প্রকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকরে থাকেন, তখন আপনি খুব সহজেই অন্য রকমের ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।আরো ভয়াবহ রকমের কিছু ভ্যাক্সিন আছে ।

ভাইরাস বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে ছড়িয়ে পরে যা সংক্রামিত লোকের মুখ, নাক, দিয়ে বের হয় যখন তারা কাশি অথবা হাঁচি দেয়। এই ফোটা যে কাউকে খুবসহজেই আক্রান্ত করতে পারে কারন তারা আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথেই আছেন, যেহেতু তারা একই বাতাস নিচ্ছেন, অথবা এটা একই কাপ, চামচ, অথবা হাতলথেকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
কাশি এবং ঠান্ডায় করণীয় যা কিছু!
ঠান্ডার উপসর্গ হল কাশি, হাচি, একটি বন্ধ নাক, একটি ভাঙ্গা গলা, মাথা ব্যথা, এবং হালকা জ্বর। যদি আপনার শুধুমাত্র এই উপসর্গ গুলো থেকে থাকেআপনার চিকিৎসক দেখানোর প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র ঔষধই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

যখন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবেন

  • যদি আপনি অথবা আপনার বাচ্চার খুব গুরুওত অন্তর্নিহিত কোন অবস্থা আছে যেমন অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, অথবা হৃদরোগ।
  • যদি আপনার ৪ সপ্তাহ অথবা এর থেকে বেশী সময় ধরে কাশি স্থায়ী হয় ।
  • যদি আপনার অনেক বেশী তাপ থাকে শরীরে এবং সাথে মাথা ব্যথা ও পেট মোচরানোর সমস্যা থাকে।
  • যদি আপনার বাচ্চার কাশি গুরুতর হয় যা বমির উদ্রেক ঘটাতে পারে।
  • যদি আপনার বাচ্চা পান করা বন্ধ করে দেয় এবং দূর্বল হয়ে পড়ে।
  • যদি জ্বর প্যারাসিটামলে ভাল না হয়।

চিকিৎসা

নতুন পুরাতন ঠান্ডার সমস্যা এবং কাশিতে  অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 
বিস্তারিত

Thursday, October 23, 2014

বিভিন্ন প্রকার আমাশয়ের (Dysentery) - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর হোমিও চিকিত্সা

যদি প্রশ্ন করা হয় আমাশয় রোগটি কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায় যে - উদরাময় ও তার সঙ্গে পেটের বেদনাসহ অল্প অল্প মল, রক্ত, আম বা আম রক্ত ও পুঁজ বার বার বের হতে থাকলেই তাকে আমাশা বলা হয়। আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে আমাশয় একটি রোগ নয়, ইহা দুটি বিশেষ রোগ এবং সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের । দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের রোগ জীবানু দ্বারা এই ২ প্রকার আমাশয়ের সৃষ্টি হয় । তবে এর কারণ এবং জীবানু ভিন্ন হলেও এই দুটির লক্ষণগত সাদৃশ্য আছে বলে আমরা ইহাকে আমাশয় বলে এক নামেই অভিহিত করে থাকি। ইহা সত্বেও এই দু'জাতীয় রোগের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে এবং চিকিত্সা পদ্ধতিও আলাদা ধরনের। এই ২ ধরনের আমাশয় হচ্ছে -
  • এমিবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery)
  • বাসিলারী (Bacillary Dysentery)
এমিবা নামক এক জাতীয় জীবানু থেকে এমিবিক আমাশয় হয়ে থাকে। এই দুটি যখন পৃথক রোগ, তাই পৃথক পৃথক ভাবে এদের আলোচনা করাই ভাল ।

এমেবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery) 

Entamoeba histolytica নামক এক প্রকার এককোষ বিশিষ্ট protozoa group-এর জীবাণু দ্বারা এই রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে । এই রোগের প্রকাশ হঠাৎ অথবা ধীরে ধীরে হতে পারে । এই সকল Amoebia খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে শরীরের ভিতরে প্রবেশ লাভ করে এবং বৃহত অন্ত্র (Colitis) মল দ্বারের কিছু ওপর পর্যন্ত এবং ক্ষুদ্র অন্ত্রের প্রদাহ সৃষ্টি করে । এই প্রদাহের ফলে বার বার মল ত্যাগ করতে হয় । পায়খানার পূর্বে পেটে ব্যথা অনোভব করে । মল ত্যাগের পর আবার মল ত্যাগের ইছা হয়। মলে আম ও রক্ত মিশ্রিত থাকে । অনেক সময় এই রোগের উপসর্গ সরূপ যকৃতে স্ফোটক দেখা দেয় । 
বিভিন্ন প্রকার আমাশয়ের (Dysentery) - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর হোমিও চিকিত্সা
এই রোগের সৃষ্টিকারী এককোষ জাতীয় জীবানু একবার পেটে প্রবেশ লাভ করলে অতি তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি লাভ করে এবং বৃহৎ অন্ত্র ও ক্ষুদ্র অন্ত্র ইহাদের আশ্রয় স্থল হয় । ইহার ফলে সেখানে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। ইহার ফলে বৃহত অন্ত্রে প্রদাহ, ঘা ক্ষত প্রভৃতির সৃষ্টি হয় যাকে আমরা Intestinal ulcer নামে অভিহিত করি। যদি বৃহৎ অন্ত্রে এই রূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে Colitis বলে। আবার যদি দুটি অন্ত্রে এইরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে entero colitis বলে। এই প্রদাহের ফলে বার বার কুন্থন ভাব এবং মল ত্যাগের ইছা জাগে। লিভার প্রদাহের (Hepatitis) এবং লিভারের ফোড়া (Liver abcess) নামক দুটি উপসর্গ ইহার ফলেই সৃষ্টি হয়ে থাকে। Amoebia জীবানুর যে কোষ থাকে তা পেটে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে । এই কোষ গুলো অতি দ্রুত অনেক Amoeba এর জন্ম দেয় এবং বংশ বৃদ্ধি করে। Entamoeba histolitica নামক জীবানু যে কোষ থাকে তা পেটে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে । 

Entamoeba hystolitica নামক জীবানু এই রোগের মূল কারণ বলে প্রমানিত হয়েছে । অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুষিত পানীয়ের সঙ্গে ইহা শরীরে প্রবেশ লাভ করে। জীবানুর ডিম গুলো অনেক দিন বেচে থাকতে পারে । শুষ্ক আবহাওয়ায় ডিম গুলোর পক্ষে আদৌ ভালনা। জলের মধ্য ডিম গুলো প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে । এমোবিয়া রেনু খাদ্যবস্তুর সঙ্গে উদরে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বৃহৎ অন্ত্রে আস , সেখানে এই জীবানু গুলো ধীরে ধীরে Mucus membrane-এ ঢুকে যায়। আর সেখান থেকে Lymphatic channels এর সাহায্য Mucus membrane এর মাংস পেশী ভেদ করে Sub-Mucosa- তে বাসস্থান তৈরে করে । অনেক সময় এই জীবানুগুলো Portal vein এর শাখা প্রশাখা এবং Mesenteric artery-র শাখা প্রশাখায় প্রবেশ লাভ করে এবং এই গুলো রক্ত প্রবাহের সঙ্গে বহিত হয়ে যকৃতের স্ফটকের কারণ হয়ে দাড়ায় ।

আমাশয়ের লক্ষণ :-লক্ষণনের তারতম্য দেখে এই লক্ষণ গুলোকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় -
  • উগ্র ধরনের (Acute type) 
  • দীর্ঘস্থায়ী ধরনের (Chronic type) 
  • অব্যক্ত ধরনের (latent type) 
  • মিশ্রিত ধরনের (mixtured type) 
আমাশয়ের Acute type:- ইহা হঠাৎ আরম্ভ হয় । কয়েক দিন আগে থেকে মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব দেখা দেয় এবং পরে হঠাৎ উদরাময় শুরু হয় । পেটের তলদেশে বেদনার অনুভূত হয়, নাভির চারদিকে ব্যথা ভাব এবং এই ব্যথা ভীষণ কষ্টদায়ক । পায়খানার সময় কুন্থন ও ব্যথা হয় । পায়খানার পর এই বেদনার ভাব সামান্য কমে , আবার পায়খানা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা হয়, অবস্থা এই ভাবে চলতে থাকে । পায়খানা দিনে ১০/১৫ বার পর্যন্ত হতে পারে, মলে দুর্গন্ধ এবং কখনো কখনো টক গন্ধ থাকে । জিহ্বা ভিজা এবং মাঝে মাঝে ময়লা লেপাবৃত, কখনো কখনো বমি এবং বমি ভাব। জ্বর হতে পারে তা সামান্য। মাঝে মাঝে পেটে ভীষণ মোচড়ানো ব্যথা দেখা দেয় । কখনো কখনো Mucous-এর সঙ্গে সামান্য রক্ত দেখা দেয়। মলে পুজ বা পুজসেল থাকেনা।

আমাশয়ের Chronic type :- উগ্র আক্রমনের যথার্থ চিকিত্সা না হলে পরে ইহাই ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে, ইহাতে অন্য কোন লক্ষণ থাকেনা , কেবল পায়খানার সাথে কুন্থন এবং আম পড়ে, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তহীনতা দেখা দেয় । মাঝে মাঝে হঠাৎ রোগ উদরাময় হয় এবং তত্সহ আম পড়ে বেশি কিছু খেয়ে হজম করতে পারেনা, অজীর্ণ দেখা দেয় । তখন এই জাতীয় রোগী রোগের বাহন (Carrier) হয় এবং তাদের মধ্য রোগ ছড়ায়। ইহাতে বৃহৎঅন্ত্রে এবং ক্ষুদ্র অন্ত্রে ক্ষত হয় এবং নানা উপসর্গ দেখা দেয় ।

আমাশয়ের Latent type :- এরূপ অবস্থা হতে হঠাৎ Liver abscess দেখা দেয় । এই অবস্থায় কোনো বাহিরের লক্ষণ থাকেনা এমন কি বুঝা যায় না যে রোগীর আমাশা আছে ।ইহারা সর্বদাই রোগের বহন হয়ে দাড়ায় ।

আমাশয়ের Mixtured type :- এই জাতীয় রোগীর মধ্যে Amoebic এর সঙ্গে Bacillary dysentry-র উপসর্গ মিশ্রিত থাকে অথবা Bacillary -র সঙ্গে Amoebic -এর লক্ষণ মিশ্রিত থাকে।

আমাশয়ের জটিল উপসর্গ :- আমাশয় যদি দীর্ঘ সময় অথবা অব্যক্ত ধরনের হয় তবে নানাবিধ জটিল উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে । উভয় অন্ত্রেই ক্ষত বা ঘায়ের সৃষ্টি হতে পারে । বুকে বা পিঠে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রে ক্ষত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে Intestinal ক্যান্সার হতে পারে । লিভার আক্রান্ত হয়ে হেপাটাইটিস হতে পারে । Liver Abcess হতে পারে । Pandhor, সন্নাস বা জন্ডিস হতে পারে ।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

উদরাময়, আমাশয়, কলেরা প্রথমে তিনটির মধ্য যে পার্থক্য আছে তা ভালো করেউপলব্ধি করতে হবে। আবার আমাশয়ের মধ্য কোনটি ? Amoebic না Bacillary তাও আবার বুঝতে হবে। সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারলে হোমিও চিকিৎসায় যেকোন জটিল আমাশয়কেই নির্মূল করা যায় । তবে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে রোগের লক্ষণ, উপসর্গ ইত্যাদি দেখে রোগ নির্ণয় প্রায় অচল হয়ে আসছে, কারণ এখন আর অনেক হোমিও চিকিত্সকই ইহার উপর নির্ভর করতে চাননা । যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোগীর মলমূত্র, রক্ত থুথু ইত্যাদি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের আশ্রয় নেন অনেক হোমিও ডাক্তার এবং বলতে গেলে এটাই এখনকার প্রচলিত পদ্ধতি । 

আমাশয় আক্রান্ত রোগীর মল অনুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করলে যে জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় তার আকৃতি প্রকৃতি এবং কার্য পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ভাবে বলা যায় যে রোগী কি জাতীয় আমাশয় রোগে ভোগছে, যেহেতু মল পরীক্ষায় ধরা পড়বে যে মলে Amoebia জীবানু না Bacilli জীবানু আছে । তারপর সে অনুযায়ী যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে আমাশয় তার মূল থেকেই নির্মূল হয়ে যায়। কিন্তু তার জন্য অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হওয়া অতি জরুরি।
বিস্তারিত

Sunday, September 28, 2014

ব্রণ(Acne) দূর করার কার্যকর পদ্ধতি এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা

যৌবনের একটি অবাঞ্ছিত সমস্যার নাম হচ্ছে ব্রণ। অ্যাকনি ভালগারিস (কিংবা ব্রণ) মানব ত্বকের সাধারণ রোগবিশেষ, যেখানে লালচে ত্বক, প্যাপ্যুল, নডিউল, পিম্পল দেখা যায়। ভীতি উদ্রেকের পাশাপাশি, এটির প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আত্ম-বিশ্বাস কমে যাওয়া। অতিরিক্ত পর্যায়ে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার মত অবস্থার উদ্ভব হতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রণের রোগীদের আত্মহত্যার পরিমাণ ৭.১%. (সূত্র-উইকিপিডিয়া )

ব্রণের বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন মানুষ কমই আছেন। বিশেষ করে তরুণ- তরুণীরা ব্রণের উৎপাতে বেশি ভোগেন। এই ব্রণ মূলত টিনএজারদের সমস্যা। এ বয়সে যখন মুখের সৌন্দর্যের প্রতি সবাই আকর্ষণবোধ ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ঠিক সে বয়সেই মুখে এই বিশ্রী গোটাগুলো দেখা দেয়, যা তাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্রণ(Acne) দূর করার কার্যকর পদ্ধতি এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা

কোন বয়সে বেশি হয় 

১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সে এটি বেশি হয়। তবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি হতে দেখা যায়। টিনএজারদের মধ্যে শতকরা নব্বই ভাগের ক্ষেত্রেই কম অথবা বেশি পরিমাণে এটি হয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সের পর থেকে এটি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

ব্রণের প্রকারভেদ 

ব্রণের প্রকারভেদ অনেক। তবে সাধারণভাবে যে-প্রকারের ব্রণ হয়ে থাকে তারই বর্ণনা এখানে দেয়া হচ্ছে । এটি লোমের গোড়ায় হয়ে থাকে । ব্রণের মূলে যে জিনিস তার নাম কেমডো ( চাপ দিলে ভাতের দানার মতো বের হয় ), তবে কখনও কখনও শুধু শুধু দানা আকারে, পুঁজ সহকারে গহ্ববরযুক্ত দানা বা বড় গোটার আকারে দেখা দিতে পারে। আবার এক প্রকারের ব্রণ দেখা যায় যাতে চাপ দিলে শক্ত সাদা সুতার মত বেরোয় যাকে অনেকে শালও বলে থাকেন। 

বিভিন্ন অবস্থায় ব্রণ

  • ট্রপিক্যাল একনি :– অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে, উরুতে ব্রণ হয়ে থাকে।
  • প্রিমিন্সট্রুয়াল একনি :– কোনো কোনো মহিলার মাসিকের সাপ্তাহ খানেক আগে ৫-১০টির মতো ব্রণ মুখে দেখা দেয়।
  • একনি কসমেটিকা :– কোনো কোনো প্রসাধনী লাগাতার ব্যবহারে মুখে অল্প পরিমাণে ব্রণ হয়ে থাকে।
  • একনি ডিটারজিনেকস :– মুখ অতিরিক্ত ভাবে সাবান দিয়ে ধুলেও ( দৈনিক ১/২ বারের বেশি ) ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়।
  • স্টেরয়েড একনি :– স্টেরয়েড ঔষধ সেবনে হঠাৎ করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখে স্টেরয়েড, যেমন– বটানোবেট ডার্মোভেট জাতীয় । ঔষুধ একাধারে অনেকদিন ব্যবহারে ব্রণের পরিমান বেড়ে যায়।

শরীরের কোথায় হয়

সাধারণত মুখে যেমন গাল, নাক, থুতনি ও কপালে হতে দেখা যায়। তবে শরীরের উপরের অংশে ও হাতের ওপরের অংশেও হরহামেশাই হতে দেখা যায়।

ব্রণ হওয়ার কারণ 

বংশগত প্রভাব একটি অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ কারণ। স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়ায় একটি ব্যাকটেরিয়া থাকে, যার নাম প্রোপাওনি ব্যাকটেরিয়াম একনি। বয়ঃসন্ধিকালে এড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাসিয়াস গ্রন্হি থেকে সেবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই সেবাম থেকে ফ্রি ফ্যাটি এসিড তৈরি করে লোমের গোড়ার উপস্হিত ব্যাকটেরিয়া। ফলে লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয় এই ফ্যাটি এসিডের প্রভাবে। এর পাশাপাশি জমা হয় লোমের গোড়ায় কেরাটিন নামক পদার্থ। ফলে সেবাসিয়াস গ্রন্হিপথ বন্ধ হতে থাকে এই কেরাটিন, লিপিড আর মেলানিন পদার্থ দিয়ে, যা ব্লাক হেড বা ‘হোয়াইট হেড’ হিসেবে দেখা দিয়ে থাকে।

ব্রণের সঙ্গে খাওয়ার সম্পর্ক :- অনেকের ধারণা তৈলাক্ত খাবার খেলে বুঝি ব্রণ হয়। সত্যিকার অর্থে কথাটি সত্য নয়। কোন প্রকার খাদ্য দ্রব্যের সঙ্গে ব্রণের কোনো সম্পর্ক আছে বলে জানা যায় না।

ব্রণ ও ক্রিম :- যেসব ক্রিমে তৈলাক্ত উপাদান থাকে যাদের মুখে বেশি ব্রণ হয় তাদের সেসব ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে ক্রিম যদি তৈলাক্ত হয় তবে তা ব্রণ রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
রোগ নির্ণয় :- ব্রণের মাত্রা নিরূপণের কিছু পন্থা আছে,যা নিম্নোক্ত:
  • লিডস গ্রীডিং : সংক্রামতা এবং অসংক্রামতা নির্ধারণ করে(বিস্তার ০–১০)।
  • কুকস গ্রেডিং স্কেল: ছবি ব্যবহার করে মাত্রা নির্ধারণ করে(সবচেয়ে কম ০,সবচেয়ে বেশি ৮)।
  • পিলসবারি স্কেল: মাত্রা নির্ধারণ করে ১ (সবচেয়ে কম) - ৪ (সবচেয়ে বেশি)।

ব্রণ দূর করতে চারটি দারুণ ফেসপ্যাক

কমলার খোসা কমাবে ব্রণ :- কমলা লেবুর খোসা শুকিয়ে মিহি গুঁড়ো করে নিন। চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে, ব্রণের উপদ্রব কমবে, ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।

নিম ঠেকায় ব্রণ :- চার/পাঁচটা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মুলতানি মাটি, অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটা যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলে এর মধ্যে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটা মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। মুখে ব্রণ থাকলে দ্রুত সেরে যাবে। ব্রণ অথাও কমাবে।লবঙ্গ দারুণ 

ফলদায়ক :- লবঙ্গ মূলত মসলা হিসেবে পরিচিত হলেও ব্রণ সারাতে তা খুবই কার্যকর। লবঙ্গের তেল দিয়ে ত্বক মাসাজ করা খুবই উপকারী। ত্বকে ব্রণের সংক্রমণ বেড়ে গেলে লবঙ্গ গুঁড়ো করে তাতে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণের জায়গাগুলোতে মিশ্রণের মোটা প্রলেপ দিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

আলোভেরা মানিয়ে যায় সব ধরণের ত্বকে :- আলোভেরা রস নিন নিন এক কাপ। এর সাথে মেশাণ এক টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চালের গুঁড়ো। মিশ্রণটি মুখসহ পুরো শরীরে লাগান। ২০-২৫ মিনিট মাসাজ করে গোসল করে ফেলুন।

আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা 

রোগীর ব্রণ আক্রান্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। উপরে বর্ণিত ফেসপ্যাক অনেকের কাছেই সময় অপচয় বা বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তাছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে এগুলি ভালো ফলদায়ক নাও হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় নিশ্চিত আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা গ্রহণ করা। ব্রণ সমস্যায় ভুগলে ভালো একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে চিকিত্সা নিন। 
বিস্তারিত

Monday, September 22, 2014

গনোরিয়া (Gonorrhea) - পুরুষ এবং মহিলাদের কষ্টদায়ক যৌন ব্যাধি

গনোরিয়া একটি সাধারণ এবং পরিচিত যৌন সংক্রামক রোগ। আমাদের গ্রাম গঞ্জে এটি আবার প্রমেহ নামেও পরিচিত। প্রকৃত পক্ষে এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। তবে চুম্বন, হাত ধরা  ইত্যাদি থেকে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে।

এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলারা যারা গনোরিয়া আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে।
আমাদের সমাজে দেখা যায়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই  এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং তাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। গনোরিয়ার জীবাণু "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সাথে যৌন সংসর্গের দ্বারা।

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যৌন মিলনের ২ থেকে ১০ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
  • রুষদের মূত্রনালীর সম্মুখভাগে সাধারণত সংক্রমণ ঘটে।
  • বারবার প্রস্রাবের ইচ্ছা করে। মূত্রনালীতে প্রদাহের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা করে।
  • লিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়।যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।
  • মূত্রনালীপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • অণ্ডকোষ ফুলে একটা আপেলের মতো বড় হতে পারে।
  • এপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়।
  • সমকামীরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালীতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়।
  • মুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলাব্যথা হয়।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
নারীর ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর, সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়।
  • যৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়।
  • প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা থাকতে পারে। প্রস্রাবে যন্ত্রণা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালীতে প্রদাহ হয়।
  • বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়।
  • তলপেটে ব্যথা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালী, ডিম্বাশ্বয় কিংবা তলপেটের মধ্যে ফোঁড়া হতে পারে।
  • মাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়।
  • পায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালী পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • মুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থা :-
গনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়াতে আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রোগ নির্ণয় :-
এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। সে এরই মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কি-না প্রশ্ন করে ভালো করে উত্তর পেতে হবে। সম্পর্ক থাকলে তা কতদিন আগে এবং কত জনের সঙ্গে। এসব জেনে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্রস্রাবও পরীক্ষা করা যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু নিঃসরিত বস্তু পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রতিকার কিভাবে করা যেতে পারে :-
  • জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 
  • সঠিক বয়সে উপযুক্ত যৌন শিক্ষা প্রচলন। 
  • বহুনারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ মহিলারই এ রোগে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই যে কোনো সময়ে এদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
  • রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা করানো উচিত। 
  • আক্রান্ত অবস্থায় স্ত্রী মিলনের বা স্বামী সহবাসে বিরত থাকা উচিত, তা না হলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। 
  • সর্বোপরি বিবাহিত যৌন জীবন সবার জন্য বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পথ। 
কিছু সতর্কতা জরুরি :-
অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও আবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে অল্প সংক্রমণ থেকে যায় কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে। তবে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ লাভ করতে পারে না।

কার্যকর চিকিৎসা :-
পুরুষ বা মহিলারা যে কেউ আক্রান্ত হন না কেন আর গনোরিয়ার উপসর্গ যত জটিল পর্যায়েই থাকুক না কেন এর যথাযথ এবং সর্বাধিক সফল ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই কেউ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে কোনো প্রকার সংকোচ না করে আপনার হোমিওপ্যাথকে বিস্তারিত খুলে বলুন এবং অযথা দেরি না করে যথাযথ চিকিত্সা নিন। প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যা থেকে নিশ্চিত মুক্তি পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
******** আধুনিক হোমিওপ্যাথি *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Saturday, September 13, 2014

কোমর ব্যথার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং কার্যকর চিকিত্সা

এমন মানুষ হয়ত পৃথিবীতে পাবেন না যিনি তার জীবনে একবারও কোমরে ব্যথা অনুভব করেননি। মেরুদণ্ডের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলে এ ব্যথার সুত্রপাত হয়। তরুণাস্থির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সংবেদনশীলতার পরিবর্তন হয়। সাধারণত এ পরিবর্তন ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগের উপসর্গও বাড়তে থাকে। 

কোমর ব্যথার কারণ 

সাধারণত দেখা যায় মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা হয়ে থাকে। চলাফেরা, খুব বেশি ভার বা ওজন তোলা, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাড়িয়ে কোন কাজ করা, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া, সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে এ ব্যথা দেখা যায়।
কোমর ব্যথার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং কার্যকর
অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্র্যাটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরেসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলাইটিস, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসে সমস্যা,বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

কোমর ব্যথার লক্ষণ

কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদণ্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার সঙ্গে পায়ে শিন-শিন বা ঝিন-ঝিন জাতীয় ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যেকোন এক পায়ে নামতে পারে। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

আধুনিক এই যুগেও কোমর ব্যথা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা। এ সমস্যার সমাধানে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

কোমর ব্যথার প্রতিকার 

ফার্মাকোথেরাপি:- চিকিৎসকরা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সাধারণত ব্যথানাশক এনএসএআইডিএস গ্রুপের ওষুধ, মাসল রিলাক্সজেন ও সেডেটিভজ জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে সেজন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়া উচিত।

ফিজিওথরাপি:- কোমর ব্যথাজনিত সমস্যার অত্যাধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। এই চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসক রোগীকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, লাম্বার ট্রাকশন শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, অতিলোহিত রশ্মি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি, ইনফারেড রেডিয়েশন, ট্রান্স কিউটেনিয়াস ইলেকট্রিক নার্ভ ইস্টিমুলেটর, ইলেকট্রিক নার্ভ ও মাসেল ইস্টিমুলেটর, অটো মেনুয়াল ট্রাকশন, হাইড্রোথেরাপি, লেজার থেরাপি ও বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া চিকিৎসা চলা অবস্থায় কোমরে নির্দিষ্ট অর্থোসিস বা ব্রেস প্রয়োগ করে থাকেন।

সার্জারি:- যদি দীর্ঘদিন ফার্মাকোথেরাপি ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালানোর পরও রোগীর অবস্থার পরিবর্তন না হয় রোগীকে অবস্থা অনুযায়ী কোমর-মেরুদন্ডের অপারেশন বা সার্জারির করনোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্সকরা।সার্জারির পরবর্তীতে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশ মতো নির্দিষ্ট ব্যায়াম দীর্ঘ দিন চালিয়ে যেতে হয়।

দৈনন্দিন কাজে সতর্কতা :-
নিচ থেকে কিছু তোলার সময়-
  • কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না। হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।
কোনো কিছু বহন করার সময় :-
  • ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না। 
  • ভারি জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন।
  • পিঠের ওপর ভারি কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।
শোয়ার সময় :-
  • উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙ্গা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না।
  • সমান তোশক ব্যবহার করুন।
  • বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বিছানা বলতে সমান কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।
দাঁড়িয়ে থাকার সময় :-
  • ১০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
  • হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না।
  • দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়াতে হলে উঁচু হিল পরবেন না।
  • অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুট রেস্ট ব্যবহার করুন।
বসে থাকার সময় :-
  • আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূরে নেবেন না।
  • সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না।
  • কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন।
  • এমনভাবে বসুন যাতে ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে।
  • নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না।
যানবাহনে চড়ার সময় :-
  • গাড়ি চলানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূরে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন।
  • ভ্রমণে ব্যথার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।
কোমর ব্যথা বেশি হলে বিছানা থেকে শোয়া ও ওঠার নিয়ম :-
  • চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ভাঁজ করুন।
  • এবার অন্য হাঁটুটি ভাঁজ করুন। হাত দুটি বিছানায় রাখুন।
  • এবার ধীরে ধীরে এক পাশ কাত হোন।
  • পা দু’টি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন, এবার কাত হওয়া দিকের হাতের কনুই এবং অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসুন।
  • দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে বসুন এবং মেঝেতে পা রাখুন।
  • এবার দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়ান।
মেয়েরা যেসব নিয়মকানুন মেনে চলবেন :-
  • অল্প হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পরুন, বিভিন্ন জুতোর হিলের উচ্চতা বিভিন্ন না হওয়াই উচিত।
  • তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদ- সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন।
  • কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না। ঝাড়ু দেয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেন।
  • মার্কেটিং বা শপিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানো বা হাঁটার পরে বিশ্রামের জন্য একটু বসবেন।
  • বিছানা গোছানোর সময় কোমর ভাঁজ না করে বরং হাঁটু ভেঙে বসা উচিত।
ওজন কমান, খাদ্যাভাস পরিবর্তন করুন :-
গরু, খাসির মাংস, ডালজাতীয় খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার, তৈলাক্ত খাবার খাদ্য তালিকা থেকে কমিয়ে শাকসবজি, তরিতরকারি, ফলমূল খাদ্য তালিকায় বেশি করে রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং যাদের দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস আছে, তা বন্ধ করে রাতে শিগগিরই শুয়ে পড়ুন।

হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :-
প্রয়োজনবোধে কিছু মেডিকেল টেস্ট করে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিলে কোমর ব্যথা সেরে যায় সারা জীবনের জন্য। কারণ এর পেছনে অবশ্যই কোনো না কোন কারণ থাকে, হোমিও ঔষধ ঐ কারণটাকেই একেবারে রুট লেভেল থেকে নির্মূল করে দেয় আর তখন কোমর ব্যথা থাকার প্রশ্নই আসে না।
বিস্তারিত

Thursday, August 28, 2014

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন প্রাকৃতিক উপায়ে

গবেষণা বলছে, খাবারের তালিকায় কিছু খাবার যোগ এবং বিয়োগ করলে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, রক্তচাপ এবং রক্ত শর্করার সমস্য থাকলে যা খুশি খেলে কখনই চলবে না। তবে আগে থেকে সাবধান হলে, ওযুধ খাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এক নজরে দেখে নিন, খাদ্য তালিকায় কি কি খাবার রাখলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

স্কিমড দুধ :- এই দুধের বৈশিষ্ট হল, দুধ থেকে ক্রিম এবং ফ্যাট বার করে নেওয়া হয়। ফলে শরীরের জন্য এটা খুবই ভাল। দুধ ক্যালসিয়াম প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। তাছাড়া দুধে প্রচুর পটাসিয়াম ও ভিটামিন-ডি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন প্রাকৃতিক উপায়ে
পালং শাক :- পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ কমানোর জন্য সব থেকে জরুরি। ফলে প্লেটে পালং শাকের পরিমাণ বাড়লে আপনার প্রেসার কমবে।

ডার্ক চকোলেট :- খাবারের নামটা শুনেই হামলে পড়বেন না। তাহলে লাভের চাইতে ক্ষতি বেশি। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ডার্ক চকোলেটে ফল্যাভানল রয়েছে। দিনে ২৫-৩০ ক্যালোরি ডার্ক চকোলেট আপনার প্রেসারের খেয়াল রাখবে।

সয়াবিন :- এতে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ বাড়তে দেয় না।

টমেটো :- অসাধারণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস। নানা কাজে লাগে। রক্তের উচ্চচাপও কমায়। সঙ্গে আপনার ত্বকেরও খেয়াল রাখে।
বিস্তারিত

মহিলারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন হৃদরোগে - জেনে নিন কি করবেন ?

মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সব থেকে বেশি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে সারা পৃথিবীতে প্রতি ৩৪ সেকেন্ডে একজন করে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। তবে জানেন কী পুরুষদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ দেখা যায়, মহিলাদের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই আলাদা। জেনে নিন মহিলাদের মধ্যে কোন কোন লক্ষণ দেখলে তত্‍‌ক্ষণাত্‍‌ সচেতন হওয়া প্রয়োজন --- 
চূড়ান্ত ক্লান্তি :-
হয়তো তেমন কোনও কাজই করেননি, তবুও হঠত্‍‌ করেই খুব বেশি ঘামতে থাকলেন। তার সঙ্গে বেড়ে গেল হার্টবিট। অবহেলা না করে তত্‍‌ক্ষণাত্‍‌ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

নিঃশ্বাসে কষ্ট :-
স্বাভাবিক ভাবে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ধরুন দশ তলা বাড়ি। আর আপনি একতলা থেকে এক নিঃশ্বাসে দৌড়ে দশ তলায় ওঠার চেষ্টা করছেন। তখন যেমন দম বন্ধ করা অনুভূতি হবে, এ ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়।

পেটে ব্যথা :-
কোনও কারণ ছাড়াই অসহ্য পেটে যন্ত্রণাও কিন্তু মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। ক্রমশ বাড়তে থাকে পেটের উপর চাপভাব। ধরুন একটি আস্ত হাতিকে যদি আপনার পেটের উপর বসিয়ে দেওয়া হয়, তখন যেমন ব্যথা হবে, এক্ষেত্রে ঠিক তেমনই অনুভূতি হয়।

বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি :-
এক্ষেত্রেও পুরুষদের থেকে কিছুটা ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয় মহিলাদের মধ্যে। শুধু যে বুকের বাঁ দিকেই ব্যথা হবে তা নয়, বুকের যে কোনও অংশেই ব্যথা শুরু হতে পারে। তার সঙ্গে বুকে ভার ভাব দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

শরীরের উপরের ভাগে যন্ত্রণা :-
হাতের উপরের অংশে, কোমরে, ঘাড়ে বা চোয়ালে অসহ্য ব্যথাকে নজর আন্দাজ করবেন না। এই ব্যথা ক্রমশ বাড়তে পারে অথবা হঠাত্‍‌ করেই শুরু হতে পারে। এমন কিছু হলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

কি করবেন?
হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাত্ক্ষণিক ভাবে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। কারণ এই অবস্থায় তার তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাটা অতি প্রয়োজন যা তার জীবন বাচাবে। তারপর রোগের কারণটাকে তার মূল থেকে দূর করতে অ্যালোপ্যাথি ঔষধের পাশাপাশি ভালো একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে একই সাথে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সাও চালিয়ে যান। হয়ত শোনলে অবাক হবে, এক্ষেত্রে এই কম্বাইন চিকিত্সাটাই তার অতি দরকার যেটা তাকে পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে নিয়ে যাবে। একটা তাকে তাত্ক্ষণিক সাপোর্ট দিবে আরেকটা ভিতর থেকে রোগের মূল কারণটাকে নির্মূল করে ফেলবে। আমরা নিজেরাই হার্ট ব্লকের রোগীদের রিপোর্ট নরমাল করেছি এইরূপ কম্বাইন চিকিত্সার মাধ্যমে। জেনে রাখবেন, অ্যালোপ্যাথি ঔষধ হার্ট ব্লকের রোগীদের রিপোর্ট নরমাল করতে পারে না এটা জাস্ট সাপোর্ট দিয়ে রাখে। শুনতে অবাক লাগছে তাই না ! এটাই সত্য আর এটাই বাস্তব। 
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Thursday, August 21, 2014

কর্মক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় - জানেন কি ?

অতি সম্প্রতি জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল হেল্থের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চাকরি এবং কর্মক্ষেত্রে যারা বেশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। তাই এ বিষয়ে আমাদের সকলেরই সতর্ক থাকা উচিত।

যারা কর্মক্ষেত্রে চাপে থাকেন এবং চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি বলে জানা গেছে।
কর্মক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল হেল্থের অধ্যাপক কারেল হেঞ্জ লাডোউইগ বলেন, "গুরুতর মানসিক চাপের কারণে শরীরের উপর প্রভাব পড়ে। আর এ থেকে ডায়াবেটিসের মতো নানান ধরনের রোগ হতে পারে। এগুলো থেকে রক্ষার উপায় জানতেই এই জরিপ চালানো হয়।"

উপাত্ত থেকে জানা যায়, পাঁচ জনের মধ্যে একজন চাকরিজীবী গুরুতর মানসিক চাপে ভুগে থাকেন। এই গবেষণা চালাতে ২৯ থেকে ৬৬ বয়ষ্ক প্রায় ৫ হাজার ৩শ’ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার শুরুতে এদের ডায়াবেটিস ছিল না। প্রায় ১৩ বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায় এদের মধ্যে তিন’শ জন টাইপ টু ডায়বেটিসে ভুগছেন। কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপের কারণে ডায়বেটিসসহ স্থুলতা এবং এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
বিস্তারিত

বুদ্ধির প্রখরতা বাড়াতে হলে

আমরা হর হামেশাই বলে থাকি এই ছেলেটির বুদ্ধি কম অথবা ঐ মেয়েটির বুদ্ধি বেশি। ছেলে - মেয়েদের বুদ্ধির হেরফের বেশ কিছু অভ্যাসের উপরও অনেক সময় নির্ভর করে থাকে। কিছু টিপস মেনে চললে অনেকেরই বুদ্ধির প্রখরতা কিছুটা হলেও বেড়ে থাকে। আসুন জেনে নেই সেই বিষয় গুলো কি কি ? বুদ্ধির প্রখরতা বাড়াতে পাঁচটি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারেন।
পাজল খেলা বা দেখা :- পাজল, ক্রসওয়ার্ড, দাবা, সুডোকু ইত্যাদি খেলুন অথবা দেখুন। এ ধরনের খেলা মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধিতে ভালো ভূমিকা রাখে।

ব্যায়াম :- ব্যায়াম মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো সক্রিয় রাখে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল নিশ্চিত করে এবং শরীর প্রাণবন্ত রাখে।

ভালো ঘুম :- রাতে নিয়ম করে আগে আগেই ঘুমোতে যান এবং সকালে ঘুম থেকে উঠুন। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভালো ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

বই পড়া :- বই পড়ায় বিনোদনের পাশাপাশি শেখার বিষয় আছে। ব্রেনকে স্থির রাখতে বই পড়ার বিকল্প নেই।

টেলিভিশন কম দেখা :- টিভি দেখুন, তবে টিভিতে আসক্ত হয়ে পড়লে চলবে না। টিভি মস্তিষ্ক ও মনকে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় ধরে রাখে না। অথচ বুদ্ধি বাড়াতে হলে মনকে স্থির রাখতে হয়। এর জন্য নিয়মিত ঘুমানো ও মেডিটেশন করা দরকার। তবে কোনো কোনো রোগের কারণে বা অন্য কোন সাস্থ্যগত কারণে স্মৃতি শক্তির লোপ পেয়ে থাকলে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

অতিরিক্ত টিভি দেখলেই ডিমেনশিয়া - কি করবেন?

"ডিমেনশিয়া" শব্দটির সাথে হয়ত আমাদের অনেকেরই পরিচয় নেই। এর সাধারণ মানে হলো 'ভুলে যাওয়া'। রোজ সকাল-সন্ধে গুছিয়ে যাঁরা টিভি দেখেন তাঁরা আসলে 'ভুলে যাওয়া' রোগকেই নাকি আরো বেশি বেশি করে জীবনে ডেকে আনেন! এই কথা জানিয়েছেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস-এর কুলপীত পার্থসারথি সতীশচন্দ্র।

প্রফেসর পার্থসারথির মতে, এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে বরিষ্ঠ নাগরিকদের মধ্যে। এমনিতেই বয়স্কদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার আক্রমণ তুলনায় বেশি। তার কারণ, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কাজ করার প্রবণতা এবং ক্ষমতা কমে যাওয়া। আর চুপ করে শুয়ে-বসে থাকা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখা, একা সময় কাটানো। এই ধরনের অবসর জীবন কাটানোর ফলে মস্তিষ্কের কাজ কমে যায়।
অতিরিক্ত টিভি দেখলেই ডিমেনশিয়া - কি করবেন?
তাই আমাদের দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ ইদানীং এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। একইসঙ্গে বয়স যত বাড়ছে ততই রোগের প্রকোপও বাড়ছে। এর চেয়েও ভয়ানক ঘটনা হল, ৮০ পেরলেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়ছে বই কমছে না!

এই মুহুর্তে দেশে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১.৮ মিলিয়ন। প্রফেসর পার্থসারথি মনে করছেন, যে পরিমাণে রোগের প্রকোপ বাড়ছে তাতে ২০২০-তে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩.৭ মিলিয়নে। এই সম্বন্ধে প্রফেসর পার্থসারথি আরও জানান, বেশি বয়সে ভুলে যাওয়া রোগকেই ডাক্তারি ভাষায় ডিমেনশিয়া বলে।

এই ভুল কোনও ছোটোখাটো ভুলে যাওয়া নয়। ডিমেনশিয়া হলে কাছের মানুষকেও চিনতে পারা যায় না। বয়স ছাড়াও এই রোগের অন্য কারণ হল, ডায়াবেটিস, হেড ট্রমা ইনজুরি, অবসাদ, হাইপার টেনশন, ভাসকুলার ডিজিজ ও ফ্যামিলি হিস্ট্রি। তবে যারা ডিমেনশিয়া সমস্যায় আক্রান্ত তাদের জন্য যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট রয়েছে। অভিজ্ঞ কোনো হোমিওপ্যাথের সাথে যোগযোগ করে চিকিত্সা নিন, সেরে উঠবেন আশা করি।
বিস্তারিত

Wednesday, July 30, 2014

মুখে ঘা হলে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন

মুখের ভেতরের ঝিল্লি আবরণ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মুখে ছোট ছোট দানার মতো ঘা দেখা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মুখে ঘা হলে এটি  এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু বারবার মুখে ঘা হলে এবং তা না সারলে অবশ্যই আপনার হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হবেন।

প্রাইমারি চিকিৎসার পরও যদি মুখের ঘা দু-তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তখন এর সঠিক কারণ বের করার জন্য পরীক্ষা করাতে পারেন। সাধারণত অজান্তে মুখ বা জিবে কামড় পড়লে, শক্ত টুথব্রাশ বা সুচালো বাঁকা দাঁতের আঘাতে, দাঁত ক্ষয়রোগ এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলেই ঘন ঘন মুখে ঘা হয়ে থাকে। এ ছাড়া নানা ধরনের ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ, ভিটামিনের অভাব, বিভিন্ন ওষুধের প্রতিক্রিয়ায়ও ঘা হতে পারে।

যাঁদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হূদেরাগ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাঁদের মুখে জীবাণু বিস্তার করে এমন ঘা হতে পারে। লিউকোমিয়া, লাইকেন প্লানাস ইত্যাদি কারণেও মুখে ঘা হতে পারে।

তবে সাধারণত সবচেয়ে বেশি যে কারণে মুখে ঘা হয়, তাকে বলে অ্যাপথাস আলসার। জিব, মাড়ি ও মুখের ভেতর দিকে অনেকটা ব্রণের মতো দেখতে সাদা ফুসকুড়ি বের হয়। এটি বারবার হয়। বিশেষ কোনো ভিটামিনের স্বল্পতা, কোনো দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। তবে রক্ত পরীক্ষার পর জেনে নিতে হবে কী কারণে এ ধরনের ঘা হচ্ছে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে সেরে যাবে।

কী করতে হবে :-
  • প্রচুর পানি পান করুন।
  • লবণ-পানি দিয়ে বারবার কুলি করুন।
  • মেডিকেটেড মাউথওয়াশ বা অ্যান্টিসেপটিক জেল ব্যবহার করতে পারেন।
  • মাড়িতে প্লাক জমলে তা অবশ্যই স্কেলিং করিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঠিক চিকিৎসা বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ভিটামিন ‘বি’-র স্বল্পতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, মুখ অপরিষ্কার, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা।
  • ধূমপান, জর্দা দিয়ে পান ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন।
মুখ ও জিবের পরিচ্ছন্নতা :-
  • প্রতিদিন দুবার অন্তত দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করবেন
  • দুই থেকে তিন মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করবেন
  • চিনি, চিনির তৈরি খাবার—যেমন মিষ্টি, চকলেট, জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদি বেশি খাওয়া ঠিক নয়। আঠালো চকলেট আরও ক্ষতিকর।
  • প্রতিদিন লবণ-পানি দিয়ে কুলি করার অভ্যাস ভালো।
  • ধূমপান বন্ধ করুন। গুল-জর্দা বা তামাক ব্যবহার করবেন না।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Friday, July 25, 2014

হৃৎপিণ্ডের রোগ, এনজিওগ্রাম এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

হৃৎপিণ্ডের একটা রোগ আছে সেই রোগটির নাম করনারি আর্টারি ডিজিস বা ইসকেমিক হার্টডিজিস। এই রোগের লক্ষণ হিসেবে রোগীর বুকে ব্যথা এবং এই ব্যথাটা হাঁটলে বাড়ে। অথবা সিঁড়ি বেয়ে দোতলা বা তিন তলায় উঠলে ব্যথা হয়। এই রোগীদের করনারি আর্টারি ডিজিস থাকার সম্ভাবনা বেশি। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি করনারি আর্টারির মাধ্যমে অক্সিজেন ও নিউট্রিশন পেয়ে থাকে। কোনো কারণে যদি করনারি আর্টারির ভিতর চর্বি জমে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির অক্সিজেন ও নিউট্রিশন সরবরাহে ব্যাহত করে, তখন বুকে ব্যথা হতে পারে।

এই রোগীদের অবশ্যই করনারি এনজিওগ্রাম করা উচিত যদি করনারি আর্টারিতে চর্বি জমে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় তবে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হবে। সঙ্গে সঙ্গে বমি হতে পারে। ঘাম হতে পারে ও বুক ধড়ফড় করতে পায়ে, এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এই রোগকে তখন Acute Myocardial Infarctionবলে থাকে পাঠকদের বুঝার সুবিধার জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি। ধানী জমিতে যদি পালি ও সার না দেয়া হয় তখন ধানী জমি শুকিয়ে যায় এবং ফসল হয় না। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি যদি করনারি আর্টারিতে চর্বি জমার জন্য অক্সিজেন ও নিউট্রিশন না পায় তখন হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি শুকিয়ে যায় এবং হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি তখন Pump করতে পারে না। ফলে তখন শ্বাসকষ্ট হয়।
হৃৎপিণ্ডের রোগ, এনজিওগ্রাম এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা
রোগের কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। সুতরাং Acute Myocardial infarction হওয়ার আগে এনজিওগ্রাম করাটা বাঞ্ছনীয়। হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক অনেক পরীক্ষা আছে। এর মধ্যে ECG, Echo Cardiogram, ETT, 24 Hours Holter Monitor, Stress Echo-Cardiography, Thallium Scan তবে আধুনিকতম পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতি হলো Coronary Angiogram (CAG) AGbK mgq ECG, Echo-Cardiography, ETT, Stress Echo-Cardiogram করে করনারি আর্টারি ডিজিস নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।

সেই ক্ষেত্রে করনারি এনজিওগ্রাম বা CAG করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। Echo Cardiogram করে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির রোগ এবং হৃৎপিণ্ডের কপাটিকা এর রোগ নির্ণয় করা যায়। হৃৎপিণ্ডের সব রোগের জন্যই এনজিওগ্রাম করা দরকার নেই। শুধু করনারি আর্টারি ডিজিস বা Ischaemic Heart Disease এর জন্য এই পরীক্ষা করা যেতে পারে ও চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা: এনজিওগ্রামটা এক ধরনের মাইনর অপারেশন বিধায় অনেকই করাতে চান না। আমরা নিজেরাই এধরনের বেশ কয়েকজন রোগীকে চিকিত্সা দিয়েছি। আল্লাহর শুকর যে হোমিওপ্যাথি একটি প্রকৃত চিকিৎসা বিজ্ঞান যেখানে রোগীর যাবতীয় লক্ষণ দেখেই ট্রিটমেন্ট করা যায়, যার কারণে হয়ত যারা এ সকল ক্ষেত্রে এনজিওগ্রাম করাতে চান না তারাও হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিতে পারছেন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।
বিস্তারিত

Sunday, July 20, 2014

অকাল চুলপাকা রোধে কি কি করতে পারেন ?

আজকাল দেখা যায় অনেকেরই অল্প বয়সে চুল সাদা হয়ে যায়। আর এই সাদা চুল নিয়ে বিপাকে পড়ে যান কেউ কেউ। কারণ চুল সাদা হলে বয়সের ছাপটা যেন একটু বেশি বোঝা যায়। সেইসঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব খানিকটা ম্লান হয়ে পড়ে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল সাদা হয়। কিন্তু অল্প বয়সে কালো চুল সাদা হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। 
অকাল চুলপাকা রোধে কি কি করতে পারেন ?
কিন্তু আমাদের দেশে এখন অনেক কম বয়সী নারী-পুরুষেরই চুল পাকার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অল্প বয়সে চুল পাকার জন্য কিছু জিনিসতো অবশ্যই দায়ী। এসবের মধ্যে ঘুম কম হওয়া, নিম্ন মানের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, অত্যাধিক পরিমাণে চুলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, চুলের নিয়মিত যত্ন না নেয়া, তেলে ভাজাপোড়াসহ ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত চা কিংবা কফি খাওয়া, পুষ্টিকর খাবারের অভাব, বংশগত বা হরমোনের কারণে, অতিরিক্ত চিন্তা, চুল অতিরিক্ত ড্রাই করা, পানি দূষিত হওয়া, চুলে খুব বেশি রোদর তাপ লাগা প্রধান কারণ। তবে হতাশ না হয়ে একটু সচেতন হলে অল্প বয়সে কাচা চুল সাদা হওয়া থেকে প্রতিরোধ করা যায়। চুল সাদা হওয়া প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।

চুল পাকা থেকে মুক্তির পাওয়ার কিছু উপায়

  • হরতকি ও মেহেদী পাতার সঙ্গে নারিকেল তেল দিয়ে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে চুলে লাগিয়ে ২ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • আমলকির রস, বাদামের তেল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন চুলে লাগালে চুল পাকা কমে যায়।
  • নারিকেল তেল গরম করে মাথার তালুতে ভালো করে ম্যাসেজ করলে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে চুল সাদা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
  • চুল সাদা হওয়ার শুরুতে হেনা, ডিমের কুসুম ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগালে চুল সাদা হওয়া কমে যাবে। হেনা ব্যবহারে শুধু চুল সাদা হওয়া থেকে রক্ষা করবে না সেই সঙ্গে সাদা চুলে কালো রঙে ফিরে আসবে।
  • চুলে যেন সরাসরি রোদ না লাগে সেজন্য বাইরে বের হলে ছাতা, ক্যাপ অথবা ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে রাখা জরুরি।
  • চুলের ধরণ অনুযায়ী নিয়মিত ভালো ব্রান্ডের শ্যাশ্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুলের ক্রিম, জেল, কালার, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
  • চুলের নিজস্ব রঙ ধরে রাখতে মাঝে মাঝে চায়ের ঘন লিকার ব্যবহার করতে পারেন।
  • চুলে খুশুকি হলে শুরুতেই সাবধান হতে হবে। অতিরিক্ত খুশকির কারণে চুল সাদা হয়ে যায়।
  • ধুমপান পরিহার করে নিয়মিত পানি, ফলমূল, রঙিন শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেলে চুল সাদা হবে না বরং চুল হবে সুন্দর ও ঝরঝরে।
বিস্তারিত

Friday, July 18, 2014

অনিদ্রা রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা।

অনিদ্রা রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের প্রয়োগ সংকেত নিয়ে আজকের নিবন্ধ। লিখেছেন ডা. প্রধীর রঞ্জন নাথ। শুনে আশ্চর্য হবেন, আমাদের দেশের মোট প্রাপ্ত বয়স্কের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ঘুম বিভ্রাটের শিকার। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি। এরা ঠিকমত কোনো কাজে মনঃসংযোগ করতে পারছেন না, ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, নানা অসুখে-বিসুখে ভূগছেন। ঘুম বিভ্রাটের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় অনিদ্রা বা নিদ্রাহীনতার কথা। অনিদ্রা মানে না ঘুমিয়ে থাকা। 

কিন্তু পুরোপুরি না ঘুমিয়ে তো বাঁচা সম্ভব নয়। আসলে ঘুম ঠিকমত না হলে বা কম হলে তাকেই আমরা বলি অনিদ্রা রোগ। অথচ অনেককেই বলতে শুনবেন, কাল দু’চোখের পাতা এক করতেই পারিনি। এরা কিন্তু ঠিক কথা বলেন না। ঘুম কম হওয়া যেমন একটা অসুখ, তেমনি বেশি ঘুমনোও কিন্তু অসুখ যাকে বলা হয় নার্কোলেপসি। আবার প্লি অ্যাপনিয়া নামে আরেক ধরনের ঘুম বিভ্রাটও দেখা যায় অনেকের মধ্যে। এবার এদের নিয়ে আলোচনা করি। ইনসমনিয়া: ল্যাটিন শব্দ ‘সমনাস’-এর অর্থ ‘প্লি ’ বা ‘ঘুম’, আর ‘ইন’-এর অর্থ ‘নট’ বা ‘না’। দুয়ে মিলে ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা। 
নানা ধরনের শ্রেণী বিভাগ রয়েছে ইনসমনিয়ার। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্রেণী বিভাগ করেছেন। যেমন, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ইনসমনিয়া। প্রাইমারি হয় বংশগত কারণে আর সেকেন্ডারি হয় নানা মানসিক ও শারীরিক কারণে। আবার এক্সোজেনাস ও এন্ডোজেনাস, এই দু’ভাবেও ইনসমনিয়াকে ভাগ করা হয়ে থাকে। অনেকে অ্যাকিউট এবং ক্রনিক, এভাবেও বলেন। তবে ঘুম বিভ্রাটের ধরন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে একে। 

১) ইনিশিয়াল ইনসমনিয়া: ঘুম আসি আসি করেও আসতে চায় না। কেই বারে বারে উঠে জল খান, ছোট বাথরুমে যান, কোল বালিশ নিয়ে এপাশ-ওপাশ করেন, বিছানার চাদর-বালিশ ঠিকটাক করেন। এমন করতে করতেই হঠাৎ করেই তারা ঘুমিয়ে পড়েন। 

২) মিডল বা ইন্টারমিটেন্ট: বারে বারে ঘুম ভাঙ্গে। ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুম হয়। স্নায়ুবিক উত্তেজনাই এর কারণ। 

৩) টার্মিনাল ইনসমনিয়া: শেষ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। একবার ভেঙ্গে গেলে আর আসতে চায় না। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরই এই সমস্যা বেশি। এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ মহিলা এবং ৩০ শতাংশ পুরুষ। নার্কোলেল্পি: কম ঘুমানোর মত বেশি ঘুমানো এবং যেখানে সেখানে যখন তখন ঘুমিয়ে পড়াটা এক ভয়ংকর অসুখ। 

৫৮ বছর বয়সী আমেরিকান আইনজীবী বব ক্লাউড কোর্টে সওয়াল করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়তেন। এই রোগীদের ক্যাটাপ্লেক্সি নামে একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত আবেগ, উত্তেজনা, পরিশ্রমে এরা সাময়িক পক্ষাঘাতগ্রস্থ হন, জ্ঞান হারান না কিন্তু আচ্ছন্নভাব নিয়ে পড়ে থাকেন। নার্কোলেল্পি জিনের ত্রুটিজনিত রোগ। তবে লাইফস্টাইল পাল্টে এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগে এ ধরনের রোগীকে ভাল রাখা যায়। 

প্যারাসমনিয়া :- ঘুমের দুটো পর্বের কথা আগেই বলেছি। এই ধরনের রোগীদের বেলায় এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে যাওয়ার যে সহজ গতিছন্দ তাতে ব্যাঘাত ঘটে। ঘুম থেকে ওঠার পরে তারা মোটেও চনমনে, স্বাভাবিক থাকেন না। ঘুমের মধ্যে হাঁটা, কথা বলা, দাঁত কিড়মিড় করা, কেঁদে ওঠা, দুঃস্বপ্ন দেখা, মূত্রত্যাগ করা, নাক ডাকা, শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা যায় এই ধরনের রোগীদের মধ্যে। 

প্লি অ্যাপনিয়া :- ঘুমের মধ্যে রোগীর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, মনে হয় কেউ যেন গলা টিপে ধরেছে, হঠাৎ করে রোগী ঘুম ভেঙ্গে জেগে ওঠে। এই রোগীরা প্রচন্ড নাক ডাকে। বারে বারে প্লি অ্যাপনিয়া হলে রোগীর ব্রেন ও হার্ট কম অক্সিজেন পায়, এর ফলে মৃত্যুও হতে পারে। এই ধরনের রোগীরা যেহেতু রাতে এক টানা ঘুমোতে পারে না, সে জন্য সারাদিন এরা ঝিমোয়, হাই তোলে, ক্লান্তি অবসাদে ডুবে থাকে, মাথাব্যথায় ভোগে। পরবর্তীকালে এদের হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এই সব উপসর্গকে একসঙ্গে বলে অবস্ট্রাকটিভ প্লি অ্যাপনিয়া সিন্ড্রোম বা ওএসএএস। ৬ ঘন্টার ঘুমে বার তিরিশেক অ্যাপনিয়া হলে এবং অ্যাপনিয়াগুলো ১০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হলে আমরা বলি অমুক প্লি অ্যাপনিয়ার রোগী। 

এই অসুখের দুটো পর্যায় আছে। প্রথমটি হল অবস্ট্রাক্টিভ প্লি অ্যাপনিয়া এবং দ্বিতীয় সেন্ট্রাল প্লি অ্যাপনিয়া। প্রথমটির বেলায় শ্বাসপথের কোথায় অবস্ট্রাকশন বা অবরোধ আছে, সেটি নির্ণয় করে সেই মত চিকিৎসা করাতে হয়। সেন্ট্রাল প্লি অ্যাপনিয়ার ত্রুটি থাকে মস্তিস্কে, চিকিৎসা না করালে রোগী মারা যেতে পারে। অ্যাপনিক রোগীদের ওজন কমাতে হবে, মদ্যপানসহ সব ধরনের নেশা ছেড়ে দিতে হবে। রেস্টলেস লেগ সিন্ডোম: এও এক ধরনের ঘুম বিভ্রাট। ঘুমের মধ্যে রোগীর পায়ে পিন ফোঁটানোর মত যন্ত্রণা হওয়ার জন্য রোগী পা ছেড়ে, এপাশ-ওপাশ করে। 

হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান :-
অনিদ্রা রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের প্রয়োগ সংকেত অত্যন্ত কার্যকর। নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধ সেবনে এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব কারণ হোমিওপ্যাথিতে একই রোগে লক্ষণভেদে ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এখানে রোগের নামের চেয়েও লক্ষণের গুরুত্ব বেশি।
বিস্তারিত

অনিদ্রা (Insomnia) সম্পর্কে কিছু বাস্তব পরামর্শ

অনিদ্রা হচ্ছে বিভিন্ন লোকের একটি সাধারণ সমস্যা । সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে জানা গেছে, সারা পৃথিবীতে ১০ শতাংশ লোক অনিদ্রার সমস্যায় ভূগে থাকেন । বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিদ্রা স্নায়ুবিদ্যার এক প্রধান রোগে পরিণত হয়েছে । অনিদ্রা রোগীরা প্রধানত কম্পিউটার, প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের কাজ করেন । তাঁদের উসৃঙ্খল জীবন কাটানো এবং বিরাট চাপের সম্মুখীন হওয়ার কারণে সহজে অনিদ্রা রোগে আক্রান্ত হন ।
চিকিৎসকরা বলছেন, খাওয়া দাওয়ার অভ্যেসে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেটাই কাটিয়ে ফেলা যাবে এই সমস্যা। ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন পাঁচটি খাবারের কথা দেয়া হলো এখানে-

আমন্ড :-
ঘুম আনতে অসাধারণ কাজ করে আমন্ড নামে এক জাতীয় বাদাম। প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম ও খনিজের উপস্থিতি ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে।

কলা :-
রাতে শোয়ার আগে একটা কলা আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে খুব তাড়াতাড়ি। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম রাতে পেশি সচল রাখতে সাহায্য করে।

মধু :-
মধুর মধ্যে থাকে গ্লুকোজ। এই গ্লুকোজ শরীরে ঘুমে ব্যাঘাতকারী ওরেক্সিনের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে রাতে ভালো ঘুম হয়।

ওটস :-
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও সিলিকনে পরিপূর্ণ ওটস। রাতে শোওয়ার আগে ওটমিল খেলে ঘুম আসবে তাড়াতাড়ি।

হালকা গরম দুধ :-
শোয়ার আগে দুধ খাওয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো। দুধ মাংসপেশিকে শিথিল করে। ফলে ঘুম আসে তাড়াতাড়ি।

আসুন তবে দেখে নেই অনিদ্রা দূর করার কার্যকরী কিছু উপায়।
কোন কিছু শেখার এবং মনে রাখার চেষ্টা করতে থাকুন :-
বিছানায় শুয়ে কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে, বিশেষ করে জীবনের কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে ঘুম আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর পরিবর্তে কোনো কিছু শেখার অথবা মনে রাখার চেষ্টা করতে থাকুন। দেখবেন মস্তিষ্কে আলস্য ভর করা শুরু করেছে এবং ঘুমের উদ্রেক হচ্ছে। এই কারণে পড়তে বসলে ঘুম পায় আমাদের। সুতরাং অনিদ্রা দূর করার জন্য এই পদ্ধতিটি পালন করতে পারেন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমুতে যান :-
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমুতে যাওয়ার অভ্যাস করুন। কোনো ভাবেই এই সময়ের পরে ঘুমুতে যাবেন না। সকল ধরণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে করে ফেলার চেষ্টা করুন এবং একই সময়ে প্রতিদিন ঘুমুতে যান। ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট হলে প্রতিদিনের অনিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হবে।

ঘুম না আসলে বিছানা থেকে উঠে পড়ুন :-
ঘুম না আসলে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করে সময় পার করতে যাবেন না। এতে ঘুম আসবে না। ঘুম না আসতে চাইলে বিছানা থেকে উঠে কোনো কাজ করার চেষ্টা করুন। এমন কোনো কাজ করুন যাতে করে অবসাদগ্রস্থ হয় শরীর। অথবা মেডিটেশন করুন। তখন আপনাআপনিই ঘুম চলে আসবে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন :-
রাতে যেমন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিৎ তেমনি সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিৎ অনিদ্রা দূর করার জন্য। অনিদ্রার কারণে রাতে যদি দেরি করে ঘুমানো হয় তারপরও সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উঠুন যত কষ্টই হোক। এতে করে রাতে আপনার মস্তিষ্ক বিশ্রামের জন্য তৈরি হবে এবং অনিদ্রা দূর হবে।

ক্যাফেইন জাতীয় সকল খাবার থেকে দূরে থাকুন :-
চা/কফি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। তবে দিনে ৩ কাপের বেশি নয়। এবং যারা অনিদ্রায় ভোগেন তাদের জন্য চা/কফি থেকে দূরে থাকাই ভালো। বিশেষ করে ঘুমের আগে চা/কফি একেবারেই খাবেন না। ঘুমুতে যাবার অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে চা/কফি খাবেন। এর চাইতে বরং গরম এক গ্লাস দুধ খান ঘুমানোর আগে। গরম দুধ ঘুমের উদ্রেক করে।

এখন আমরা ঘুমানোর সময়ে কয়েকটি ভুল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।
১. বেডে চিন্তা-ভাবনা করা
শয়নকক্ষ শুধু ঘুমানোর জন্যে এ কক্ষে অন্যান্য কাজ করা ভালো নয় । ঘুমানোর ১৫ মিনিট আগে আপনারা কাগজে আপনাদের উদ্বেগের কথা ও সমাধানের উপায় লিখুন , যাতে ক্লান্তির পর ভালভাবে ঘুমানো যায় ।

২. সংখ্যা হিসাব করা
অনেক লোক মনে করেন ঘুমানোর সময় সংখ্যা হিসাব করা ঘুমের জন্য সহায়ক, কিন্তু তা একটি ভুল উপায় । সংখ্যা হিসাব করার সময় মানুষের মাথা উত্তেজিত হয়ে থাকে, ফলে স্বাভাবিক ঘুম হয় না ।

৩. ঘুমতে না পারলেও বেডে শুয়ে থাকা
বিছানায় শুয়ে থাকার সঙ্গে ঘুমানোর সম্পর্ক রয়েছে । যদি আপনার ঘুমানোর সময় খুব কম হয় , তাহলে দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকবেন না । ঘুম ভাঙ্গার পর বিছানা ছেড়ে দিন । যদি ক্লান্ত লাগে তাহলে আবার বিছানায় ফিরে গিয়ে ঘুমাবেন ।

৪.সবসময় ঘুমের বড়ি খাওয়া
একটি নতুন পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, অনিদ্রা রোগীদের মধ্যে শুধু ৬ শতাংশ তাঁদের অনিদ্রার জন্য হাসপাতালে চিকিত্সা নেয়। ৭০ শতাংশ লোক অনিদ্রাকে এক ধরনের রোগ মনে করলেও কখনো চিকিত্সা করে না । অনেকে নিজে নিজেই ঘুমের ঔষধ কিনে খান। কিন্তু সবসময় ঘুমের ঔষধ খাওয়া শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর । ঘুমের সময় যাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা থাকে এমন কারোরই ঘুমের বড়ি খাওয়া ঠিক নয় । ওষুধ খেলে কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না । তা ছাড়া, বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের ঔষধ অনিদ্রা চিকিত্সা করার পাশাপাশি যদি দীর্ঘকাল ধরে খেতে থাকে তাহলে লোকেরা সহজভাবে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। অনিদ্রা রোগীদের ডাক্তরের নির্দেশ অনুযায়ী ঘুমের ঔষধ খাওয়া উচিত। নিজস্বভাবে ঔষধের দোকানে গিয়ে ঘুমের ঔষধ কিনে খেলে বা বেশি পরিমাণের ঘুমের ঔষধ খেলে, সহজভাবে মাথাধরা ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে। এ জন্য দীর্ঘকাল ধরে ঘুমের ঔষধ না খাওয়াই ভালো ।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Thursday, July 17, 2014

অ্যালার্জি নির্মূলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আমরা সাধারণভাবে যে সব রোগের নাম শুনি তার অন্যতম হলো অ্যালার্জি । তবে অ্যালার্জি সবার হয় না। কোনো কোনো মানুষ এ রোগে তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগেন। আর কেউ কেউ এ রোগে মোটেও ভোগেন না। কিছু কিছু পেশার সঙ্গে এ রোগ হওয়ার সম্পর্ক আছে -সে কথাও বোধহয় অনেকেই জানেন না। 

অ্যালার্জি, সাধারণত শরীরের overreacts থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়।অ্যালার্জি উদাহরণ hayfever, হাঁপানি, কাউর, আমবাত এবং খাদ্য অ্যালার্জি অন্তর্ভুক্ত।
অ্যালার্জি নির্মূলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
অ্যালার্জি খুবই সাধারণ একটি রোগ।অনুমান করা হচ্ছে অ্যালার্জি একজন থেকে তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায়। সবসময় মনে করা হচ্ছে অ্যালার্জির সংক্রামণের আবির্ভাব দিন দিন বেড়েই চলছে।

যখন একজন নিরীহ ব্যক্তির মধ্যে অ্যালার্জি দেখা দেয় তখন রোগের প্রতিরোধক ব্যবস্থা অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ক্ষীণভাবে থাকে।আর এই পদার্থ সবার কাছে অ্যালার্জি হিসেবেই পরিচিত এবং ঘর ধুলো মাইট, পোষ্য, পরাগ, কীটপতঙ্গ, molds, খাবার, (MSG মত) খাদ্য additives এবং যেমন পেনিসিলিন হিসেবে কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। একটি ইমিউন প্রতিক্রিয়া এলার্জি প্রদাহ (লালভাব এবং ফুলে) বাড়ে।

এর কারনে যা ঘটতে পারে

  • রোস / চোখ – খড় জ্বর (এলার্জি rhinitis / নেত্রবর্ত্মকলাপ্রদাহ)
  • স্কিন – কাউর, ফুসকুড়ি, আমবাত
  • ফুসফুস – শ্বাসনালী এর এজমা, সংকোচ
এক ব্যক্তির জন্য অ্যালার্জির একই পদার্থ নাও হতে পারে-সবাইকে ভিন্নভাবে বিক্রিয়া করতে পারে।এছাড়াও প্রতিক্রিয়া তীব্রতা ব্যাপকভাবে বিভিন্ন রকমের হতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে কার্যকর অনেক ঔষধ যেগুলো নুতন এবং পুরাতন সব রকম অ্যালার্জি নির্মূলে সিদ্ধহস্ত। তাই আপনারা যারা দীর্ঘ দিন নানা প্রকার অ্যালার্জি জনিত সমস্যায় ভুগছেন অন্তত একবার হলেও ভাল কোন হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
বিস্তারিত

Wednesday, July 16, 2014

রিউমাটিক ফিভার (বাতজ্বর) ভালো হয় মাত্র ৩/৪ মাসেই - জানেন কি?

আমরা কম বেশি সবাই বাতজ্বর (Rheumatic fever) শব্দটার সাথে পরিচিত। সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছরের শিশুদেরই বাতজ্বর বা রিউম্যাটিক ফিভার বেশি হয়। বাতজ্বর থেকে পরে হৃদরোগসহ হার্টের প্রকোষ্ঠে সমস্যা হতে পারে। তাই এ রোগ হলে বাবা-মা কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েন। অনেক সময় শিশুদের শরীরের গিঁটে ব্যথা হলে তা বাতজ্বর বলে ভাবা হয়। সেই সঙ্গে এ ধরনের উপসর্গে শিশুর রক্তে ইএসআর, এএসও টাইটার ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। এএসও টাইটার একটু বেশি পেলেই অনেকেই বাতজ্বরের চিকিৎসা শুরু করে দেন। কিন্তু এ রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি
  • শুধু এএসও টাইটার বাড়লেই বাতজ্বর হয়েছে তা বলা যাবে না। 
  • স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টনসিল বা গলার প্রদাহ হলে রক্তে এএসও টাইটার বাড়বে। তাই এটি বাতজ্বরের কোনো নিশ্চিত ও একমাত্র প্রমাণ নয়। 
  • বাতজ্বরে গলা, পিঠ, হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্ট আক্রান্ত হয় না। 
  • ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে হৃৎপিন্ডের প্রদাহ হয় না। 
মুখ্য উপসর্গ :-
  • অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত ব্যথা ও ফুলে যাওয়া, যা একটি সন্ধি ভালো হয়ে গেলে অন্যটিকে আক্রমণ করে 
  • হৃৎপিন্ডের প্রদাহ বা কার্ডাইটিস 
  • ত্বকের নিচে গোটা, ত্বকের লালচে দাগ 
  • স্নায়ু জটিলতায় পেশির অস্বাভাবিক চলন 
গৌণ উপসর্গ :- জ্বর, সন্ধিতে ব্যথা, ইসিজিতে বিশেষ পরিবর্তন, রক্তে ইএসআর বা সিআরপি বৃদ্ধি ইত্যাদি। দুটি মুখ্য অথবা একটি মুখ্য উপসর্গের সঙ্গে দুটি গৌণ উপসর্গ মিলে গেলে এবং এর সঙ্গে স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রমাণিত হলেই শুধু বাতজ্বর হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণ প্রমাণ করতে এএসও টাইটার করা হয়। তার মানে, এএসও টাইটার বাতজ্বরের প্রধানতম নির্দেশক নয়, একটি সহায়ক মাত্র।
রিউমাটিক ফিভার (বাতজ্বর) ভালো হয় মাত্র ৩/৪ মাসেই
সম্ভাব্য জটিলতা :- যদি ঠিকমত রোগ নির্ণয় না হয় তাহলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হার্টের ভালভ নষ্ট হয়ে গিয়ে নানা উপসর্গ যেমন বুকে ব্যথা, এমনকি হার্ট ফেলও হতে পারে। অনেক সময় কিডনি আক্রান্ত হয়ে কিডনি ফেলও হয়। পরবর্তীকালে চলাচলজনিত সমস্যাও হতে পারে। হাত-পা এবং শরীর কাঁপতে থাকে। এই সমস্যাকে সিডেনহ্যাম কোরিয়া বলা হয়।

কার্যকর চিকিৎসা :- বাতজ্বরের আধুনিক এবং দ্রুত আরোগ্যকারী হোমিও ট্রিটমেন্ট রয়েছে। হোমিও চিকিৎসায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বাতজ্বর সম্পূর্ণ নিরাময় হয়। আপনি শুনলে হয়ত অবাকই হবেন যেখানে অ্যালোপ্যাথরা দীর্ঘ ৫ বছর মেয়াদী খাবার ঔষধ অথবা তীব্র বেদনাদায়ক পেলিসিলিন ইনজেকশন নেয়ার ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথরা মাত্র ৩/৪ ( তিন/চার) মাসের মধ্যেই বাতজ্বরকে পুরোপুরি নির্মূল করতে সক্ষম হন এবং তা আর দ্বিতীয় বার দেখা দেয় না। তাই বাতজ্বরের এত আধুনিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা থাকতে দীর্ঘ ৫ বছরের চিকিৎসা নেয়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।
বিস্তারিত