Showing posts with label অন্যান্য রোগ ব্যাধি. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য রোগ ব্যাধি. Show all posts

Sunday, October 14, 2018

শরীরে পানি আসার কারণ এবং তা দূরীকরণের কার্যকর উপায় জেনে নিন।

মানবদেহে ত্বকের নিচে অথবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাঝে অস্বাভাবিক পানি জমা হলে তাকে (Oedema) বলে। সাধারণত শরীরে তরলের পরিমাণ, অর্থাৎ কতটুকু তরল তৈরি হলো বা এই তরলের কতটুকু বের হয়ে গেল- এর সমতার ওপর নির্ভর করে (Oedema) তৈরি হয়। হার্টে প্রতি মিনিটে ৫ লিটার রক্ত পাম্প করে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয় এবং প্রতিবার পাম্প করে ৭০ মিলি রক্ত হার্ট থেকে বের হয়ে শরীরে ছড়িয়ে যায়। যখন হার্ট ফেইলিউর দেখা দেয় তখন হার্ট এভাবে স্বাভাবিক কাজ করতে না পারায় রক্ত পরিসঞ্চালন ঠিক থাকে না। ফলে রক্তের তরল অংশ পায়ে জমে Oedema এবং ফুসফুসে জমা হয়ে Pulmonary Oedema করে।

হার্ট প্রতি মিনিটে যে ৭০ মিলি রক্ত বের করে তার মধ্যে ২৫ শতাংশ প্রতি মিনিটে কিডনিতে পৌঁছে এবং মিনিটে ৩০-৭০ মিলি স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব তৈরি হয়। হার্ট দুর্বল হলে কিডনিতে রক্ত কম পৌঁছে, তখন কিডনি তরল ও লবণ বেশি ধরে রাখে। ফলে শরীরে তরল জমার পরিমাণ বেড়ে যায়।
শরীরে পানি আসার কারণ এবং তা দূরীকরণের কার্যকর উপায় জেনে নিন।
মানবদেহের সম্পূর্ণ ওজনের ৬০ শতাংশ পানি। কিন্তু নবজাতক ও পুরুষদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরো বেশি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে কম (কারণ, চর্বি বেশি থাকায় মহিলাদের পানি কম থাকে)। এই পানির ২৩ অংশ শরীরের কোষের ভেতর থাকে এবং ১৩ অংশ কোষের বাইরে থাকে।

শরীরে পানি জমার স্থান

সবচেয়ে বেশি পানি জমে পায়ের পাতা বা পায়ে, যাকে বাইরের (peripheral) Oedema বলে। শরীরের বেশির ভাগ তরল কোষের বাইরে দুই স্থানে জমা থাকে- রক্তনালীতে এবং কোষ ও রক্তনালীর বাইরে (Interstitial space)। বিভিন্ন অসুখে এই দুই স্থানের একটি বা উভয় স্থানে তরল জমা হয়। ফুসফুসের (Alveoli) মধ্যে তরল জমা হওয়াকে Pulmonary Oedema বলে। পেটের মধ্যে Peritoneum-এর ভেতরে বেশি তরল জমা হওয়াকে Ascites বলে।

ফুসফুসের আবরণীর ভেতর তরল জমা হওয়াকে Pleural Effusion বলে।
শরীরের বিভিন্ন অংশে অধিক পরিমাণে তরল জমা হলে তাকে Anasarca বলে।

পানি জমা কত প্রকার?

১)Pitting Edema : আঙুলে চাপ দিলে ফোলা জায়গায় ত্বকে টোপ পড়লে বা গর্ত হলে তাকে Pitting Oedemaবলে। অর্থাৎ
আঙুলের ছাপ ছেড়ে দেয়ার পরও যদি কিছুক্ষণ এই টোপ পড়া থেকে যায় তখনই এ ধরনের Oedemaহয়।

এই পানি জমা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অসুখ বা হাত-পায়ের অসুখে হয়ে থাকে। যেমন- হৃৎপিণ্ড, লিভার ও কিডনির অসুখ শরীরে লবণ জমে পানি ধরে রাখে এবং এই পানি বিভিন্ন স্থানে শরীরের ত্বকের নিচে ও বিভিন্ন অঙ্গে জমে Oedemaহয়ে থাকে।
শরীরে ছোট কোনো অংশে Oedema-এর কারণ-

সবচেয়ে বেশি হচ্ছে Varicose Vein এবং Thrombophlebitis (শিরায় প্রদাহ)। যার ফলে অপর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করার জন্য পানি কোষের বাইরে কলার মধ্যে জমা হয়ে Oedemaহয় এবং সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকে।

২) Non-Pitting Edema : সাধারণত পা ও বাহুতে হয়ে যাকে, যখন ত্বকে আঙুলের চাপ দিলেও টোপ বা গর্ত হয় না। কারণ, Lymphedema- লসিকাগ্রন্থির চলাচলে যেমন Mastectomy-এর পরে, লসিকাগ্রন্থির সার্জারি বা জন্মগতভাবে এই Oedemaহতে পারে। Pretibial Myxedema-তে ত্বকের ওপর ফুলে যায়, যা Hypothyroidism-এ (Thyroid hormone-thyroxine স্বল্পতা) হয়ে থাকে।

অন্যান্য কারণ

রক্তে অ্যালবুমিন কমে যাওয়া- অ্যালবুমিন ও অন্যান্য আমিষ রক্তে কমে গেলে শরীরে পানি জমে যায়, কেননা এই আমিষই শরীরে রক্তনালীতে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। যেমন- কিডনির অসুখ Nephrotic syndrome-এ প্রস্রাবে আমিষ বের হয়ে যায় এবং লিভার অকার্যকর হলে আমিষ তৈরি হতে না পারায় রক্তে আমিষের মাত্রা কমে যায়।

অ্যালার্জি : বেশির ভাগ অ্যালার্জিতে রক্তনালী থেকে তরল বের হয়ে আশপাশে জমা হয়ে থাকে।

রক্তপ্রবাহে বাধা : শরীরের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহে বাধা পেলে পানি পেছনে ফিরে আসে। পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমা হলে পায়ে পানি জমা হয়। কোনো টিউমার লসিকা বা রক্তপ্রবাহে বাধা দিলে ওই স্থানে পানি জমে যায়।

মারাত্মক অসুস্থতা : পোড়া, মারাত্মক জীবাণু সংক্রমণ বা অন্য কোনো ভয়ানক অসুস্থতা সমস্ত শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে শরীরের প্রায় সব অংশে পানি জমে।

হার্ট ফেইলিউর : হার্ট দুর্বল হলে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা পুরো কার্যকর থাকে না। ক্রমান্বয়ে তরল জমা হয়ে পানি জমে পা ফুলে যায়। কিন্তু এই পানি জমা যদি দ্রুতগতিতে হয়, তবে ফুসফুসে পানি জমে, যাকে Pulmonary Edema বলে।

গর্ভাবস্থায় : রক্তে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পায়ে পানি দেখা দেয়। তা ছাড়া গর্ভকালে মারাত্মক দু’টি প্রতিক্রিয়া, যেমন- Deep Vein Thrombosis এবং Pre-Eclampsia হলেও পানি জমা হতে পারে।

মস্তিষ্কে পানি জমা : মাথায় আঘাত পেলে, রক্তে সোডিয়াম কমে গেলে, উচ্চ স্থানে যেমন- পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে, মস্তিষ্কে টিউমার হলে বা তরল নিষ্কাশনে বাধা পেলে (Hydrocephalous) মস্তিষ্কে পানি জমা হতে পারে। ফলে মাথাব্যথা, প্রলাপ বকা ও জ্ঞান লোপ পেতে পারে।

এলোপ্যাথিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

কিছু কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় শরীরে পানি জমতে পারে। যেমন- NSAID (Ibuprofen, Naproxen ইত্যাদি ব্যথানাশক), Calcium Channel Blocker, steroid (prednisolone, Methyl prednisolone), Pioglitazone (Anti diabetic),

লবণ গ্রহণ কিভাবে Edema তৈরি করে?

মানবদেহে লবণে ভারসাম্য- সাধারণত লবণ গ্রহণ কম-বেশি হলেও সুস্থ শরীর সহজেই তা নিয়ন্ত্রণ করে পানি জমা হতে দেয় না। খাদ্যের মাধ্যমে শরীর লবণ গ্রহণ করে এবং কিডনির সাহায্যে তা সহজে বের করে দেয় প্রস্রাবের সাথে, যা সঙ্কেত প্রদান করে- শরীরে লবণ রাখতে হবে না বের করে দিতে হবে। হার্ট ফেইলিউর হলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, ফলে কিডনি শরীরে লবণ ধরে রাখে। কেননা কিডনি চায় শরীরে বেশি পানি ধরে রাখতে যেহেতু হার্ট কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। কিডনির অসুখে কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে প্রস্রাবে লবণ নিঃসরণ কমে যায়। উভয় ক্ষেত্রে শরীরে লবণ বৃদ্ধি পায়, যা পানি ধরে রাখে এবং Oedema তৈরি করে।

হার্টের অসুখে শরীরে পানি জমে কেন?

হার্ট ফেইলিউরে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়, ফলে হার্ট পাম্প করে রক্ত যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করতে পারে না। হার্ট ফেইলিউর হওয়ার কারণগুলো হচ্ছে হার্টের মাংসপেশির দুর্বলতা বা হার্টের ভাল্বের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া। তাই কম রক্ত হার্ট থেকে বের হওয়ার অর্থ হচ্ছে, কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া। ফলে কিডনি ধরে নেয় যে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমেছে- তখন কিডনি লবণ ও পানি ধরে রাখে। হার্ট ফেইলিউরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে তরল জমে। যেমন- Pulmonary edema, pleural effusion, ascites এবং পায়ে পানি জমা।

শরীরে পানি বৃদ্ধির ফলে ফুসফুসে পানি জমে এবং তাতে শ্বাসকষ্ট হয়। ফুসফুসের ছোট ছোট বাতাসভর্তি থলিতে (Alveoli) পানি জমে গেলে তাকে পালমোনারি Oedema বলে এবং সাথে সাথে পায়েও পানি জমে।

বাম হার্ট ফেইলিউরের প্রধান কারণ হচ্ছে, দুর্বল বাম Ventricle, যার কারণ করোনারি হার্ট ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ বা হার্ট ভাল্বের অসুখ। এ ক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসকষ্ট হয় পরিশ্রম করলে বা রাতে যখন শুয়ে থাকে। কারণ একটাই, রক্ত জমা হয় ফুসফুসের রক্তনালীতে। ডান হার্ট ফেইলিউরের প্রধান কারণ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের অসুখ যেমন- এমফাইসিমা , যা প্রথমে লবণ ও পানি জমাতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এভাবে যদি লবণ জমা চলতে থাকে, তবে রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে ফুসফুসে পানি জমে শ্বাসকষ্টের কারণ হয়।

কিন্তু হার্টের মাংসপেশির দুর্বলতার কারণে বাম ও ডান উভয় দিকের হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে রোগী প্রথমেই ফুসফুসে ও পায়ে একত্রে পানি জমা নিয়ে আসে।

লিভারের অসুখে পানি জমে কেন?

দীর্ঘস্থায়ী লিভারের অসুখে (হেপাটাইটিস বি, সি) লিভারে ফাইব্রোসিস দেখা দেয়, যা বেশি হলে তাকে সিরোসিস লিভার বলে। ফলে পেটের ভেতর অত্যধিক পানি জমে এবং পেট ফুলে যায়, যাকে Ascites বলে। দু’টি কারণে এই পানি জমে
  • Portal hypertension- পাকস্থলী, অন্ত্রনালী, প্লীহা থেকে যে শিরাগুলো রক্ত প্রবাহিত করে নেয়, সেই শিরায় চাপ বৃদ্ধি পায়। প্লীহা বড় হয়, খাদ্যনালীর শিরা স্ফীত হয়। ফলে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে।
  •  Hypoalbuminaemia- রক্তে আমিষ অ্যালবুমিনের পরিমাণ কমে যায়, কেননা অসুস্থ লিভার যথেষ্ট পরিমাণ অ্যালবুমিন তৈরি করতে পারে না। অথচ এই অ্যালবুমিনই রক্তের পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে পেটের পানি বের করে পরীক্ষা করে অন্যান্য কারণে পানি জমেছে কি না তা নির্ণয় করা সম্ভব। যেমন- ক্যান্সার, যক্ষ্মা, হার্ট ফেইলিউর ও কিডনিজনিত কারণে। এ ক্ষেত্রে Ascites-এর পানি Diuretics দিয়ে না কমলে বেশি পরিমাণ জমা তরল Paracentesis করে বের করে পরীক্ষা করা হয়।

কিডনির অসুখে পানি জমে কেন?

দু’টি কারণে কিডনির অসুখে পানি জমে।
  • প্রথমত, প্রস্রাবে অত্যধিক পরিমাণে আমিষ অ্যালবুমিন নির্গত হয়। যেমন- Nephrotic syndrome.
  • দ্বিতীয়ত, কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে। যেমন- স্বল্পস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ফেইলিউর।
প্রথম কারণে কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক বা প্রায় স্বাভাবিক থাকে। দিনে তিন গ্রামের বেশি আমিষ প্রস্রাবে নির্গত হলে পানি জমে, এ অবস্থাকে নেফ্রোটিক সিনড্রোম বলে। ফলে রক্তে অ্যালবুমিন কমে যায়। এই অ্যালবুমিনই রক্তনালীতে রক্তের পানির পরিমাণ ঠিক রাখে, সেজন্য রক্তনালীতে তরলের পরিমাণ কমে যায়। কিডনি এ সময় ধরে নেয়, রক্তের পরিমাণ কমেছে বিধায় লবণ ধরে রাখে। ফলে পানি রক্তনালীর বাইরে জমা হয়ে Pitting Oedema তৈরি করে।

দ্বিতীয় কারণ যাদের কিডনির অসুখ থাকে, যার ফলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়, তখন কিডনির প্রস্রাবের সাথে সোডিয়াম বের করার ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে লবণ বেশি হওয়ার জন্য শরীরে পানি জমা বেশি হয়ে থাকে। কিডনির কার্যক্ষমতা যখন স্বাভাবিকের থেকে ৫-১০ শতাংশে নেমে আসে অকার্যকর হয়ে যায়, তখন ডায়ালাইসিস (হেমো বা পেরিটনিয়াল) দিয়ে এই লবণের ভারসাম্য রক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকে না। তবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করেও একইভাবে শরীরে লবণের পরিমাণ ঠিক রেখে শরীরে পানি জমা ঠেকানো সম্ভব। এ দুই প্রকার ব্যবস্থায় এখন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে অকার্যকর কিডনির চিকিৎসা করা যায়।

Oedema-এর চিকিৎসা সাধারণত লবণ খাওয়া কমানো ও Diuretic দিয়ে প্রস্রাব বাড়িয়ে (পানি কমানো ওষুধ) করা হয়।

শরীরে পানি কমানোর ওষুধ (Diuretic) দীর্ঘ দিন খেলে কী কী অসুবিধা হতে পারে?
  • শরীরে পটাশিয়াম কমতে পারে।
  • রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণ কমতে পারে।
  • কিডনির কার্যকারিতা কমতে পারে বা বিকল হতে পারে।
  • অন্যান্য- রক্তে সুগার বৃদ্ধি, ইউরিক এসিড বৃদ্ধি, মাংসে ব্যথা এবং স্তন বড় হতে পারে (Gynecomastia) ও অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হতে পারে।

কারণ নির্ণয়ে কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়?

সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা
  • CBC
  • BLOOD UREA,
  • .CREATININE
  • LFT
  • URINE R/M/E I
  • CHEST X-RAY Whole Abdomen Ultrasonogram
  • BLOOD CULTURE Sensitivity
বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা
১. হার্টের কারণে পানি জমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা :
  • বুকের এক্স-রে 
  • ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
  • ইকোকার্ডিওগ্রাম 
  • ট্রপোনিন আই
  • বিএনপি ইত্যাদি
২. কিডনির কারণে পানি জমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা :
  • রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন 
  • প্রস্রাব পরীক্ষা- অ্যালবুমিন নির্গত হচ্ছে কি না 
  • রক্তের অ্যালবুমিন মাত্রা
  • কিডনি বায়োপসি 
  • কিডনির আলট্রাসনোগ্রাম
৩. লিভারের অসুখে পানি জমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা :
  • লিভার ফাংশন টেস্ট
  • রক্তে আমিষ ও অ্যালবুমিনের মাত্রা
  • আল্ট্রাসনোগ্রাম (লিভারের অবস্থা ও পেটে পানি আছে কি না)
  • হেপাটাইটিস বি ও সি, যা লিভারে সিরোসিস ও ক্যান্সার করতে পারে। 
  • এন্ডোস্কোপি (Esophageal Varices. পেলে লিভার সিরোসিস হতে পারে )
  • পেটের পানি (Ascites) বের করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। পেটের যক্ষ্মা, ক্যান্সার, সিরোসিস পার্থক্য করা যায়। 
  • ফাইব্রোস্ক্যান লিভার (সিরোসিস নির্ণয় করা যায়)
৪. পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে প্রবাহে বাধা সৃষ্টি (DVT) হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা :
  • কালার ডপলার (রক্তপ্রবাহে বাধা নির্ণয় করা যায়)
৫. ফুসফুসের কারণে ফুসফুসের আবরণী পর্দার ভেতরে পানি জমা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা :
  • ফুসফুসের যক্ষ্মা, ক্যান্সার (বুকের এক্স-রে)
  • কফে যক্ষ্মার জীবাণু পরীক্ষা
  • ফুসফুসের পানি বের করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ও Pleural বায়োপসি করা।
৬. থাইরয়েড সমস্যায় পানি জমার কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা :
  • T3, T4,TSH (Hypothyroidism নির্ণয় করা সম্ভব )
৭. মহিলাদের গর্ভধারণে পরীক্ষা :
  • প্রেগন্যান্সি টেস্ট
৮. মাথার ভেতরে পানি জমার পরীক্ষা :
  •  সিটি স্ক্যান (মস্তিষ্কে টিউমার ও Hydrocephalus)
৯. উপরি উক্ত যেসব ওষুধ খেলে পানি জমে সেগুলো খেলে পানি জমতে পারে। তাই ওষুধের ইতিহাসও জানতে হবে।

কার্যকর চিকিৎসা

পানি যে কারণেই আসুক এর কারণ নির্ণয় করে এবং লক্ষণ অনুসারে প্রপার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এ সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়ে যায় তবে এর জন্য আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। 
বিস্তারিত

Monday, January 1, 2018

কাশি এবং ঠান্ডায় করণীয় যা কিছু!

কাশি এবং ঠান্ডা এই আবহাওয়ায় একটি প্রচলিত সমস্যা । প্রায় প্রত্যেকেই ঠান্ডা দিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এটা খুবই যন্ত্রনাদায়ক হয় যদি তা ৩-৪ দিনেরবেশী স্থায়ী হয়।

ঠান্ডা ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে। প্রায় ২০০ রকমের ভাইরাস আছে তাই তাদের কে উপেক্ষা করা কঠিন। যদি আপনি এক প্রকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকরে থাকেন, তখন আপনি খুব সহজেই অন্য রকমের ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।আরো ভয়াবহ রকমের কিছু ভ্যাক্সিন আছে ।

ভাইরাস বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে ছড়িয়ে পরে যা সংক্রামিত লোকের মুখ, নাক, দিয়ে বের হয় যখন তারা কাশি অথবা হাঁচি দেয়। এই ফোটা যে কাউকে খুবসহজেই আক্রান্ত করতে পারে কারন তারা আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথেই আছেন, যেহেতু তারা একই বাতাস নিচ্ছেন, অথবা এটা একই কাপ, চামচ, অথবা হাতলথেকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
কাশি এবং ঠান্ডায় করণীয় যা কিছু!
ঠান্ডার উপসর্গ হল কাশি, হাচি, একটি বন্ধ নাক, একটি ভাঙ্গা গলা, মাথা ব্যথা, এবং হালকা জ্বর। যদি আপনার শুধুমাত্র এই উপসর্গ গুলো থেকে থাকেআপনার চিকিৎসক দেখানোর প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র ঔষধই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

যখন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবেন

  • যদি আপনি অথবা আপনার বাচ্চার খুব গুরুওত অন্তর্নিহিত কোন অবস্থা আছে যেমন অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, অথবা হৃদরোগ।
  • যদি আপনার ৪ সপ্তাহ অথবা এর থেকে বেশী সময় ধরে কাশি স্থায়ী হয় ।
  • যদি আপনার অনেক বেশী তাপ থাকে শরীরে এবং সাথে মাথা ব্যথা ও পেট মোচরানোর সমস্যা থাকে।
  • যদি আপনার বাচ্চার কাশি গুরুতর হয় যা বমির উদ্রেক ঘটাতে পারে।
  • যদি আপনার বাচ্চা পান করা বন্ধ করে দেয় এবং দূর্বল হয়ে পড়ে।
  • যদি জ্বর প্যারাসিটামলে ভাল না হয়।

চিকিৎসা

নতুন পুরাতন ঠান্ডার সমস্যা এবং কাশিতে  অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 
বিস্তারিত

Thursday, October 23, 2014

বিভিন্ন প্রকার আমাশয়ের (Dysentery) - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর হোমিও চিকিত্সা

যদি প্রশ্ন করা হয় আমাশয় রোগটি কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষেপে বলা যায় যে - উদরাময় ও তার সঙ্গে পেটের বেদনাসহ অল্প অল্প মল, রক্ত, আম বা আম রক্ত ও পুঁজ বার বার বের হতে থাকলেই তাকে আমাশা বলা হয়। আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে আমাশয় একটি রোগ নয়, ইহা দুটি বিশেষ রোগ এবং সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের । দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের রোগ জীবানু দ্বারা এই ২ প্রকার আমাশয়ের সৃষ্টি হয় । তবে এর কারণ এবং জীবানু ভিন্ন হলেও এই দুটির লক্ষণগত সাদৃশ্য আছে বলে আমরা ইহাকে আমাশয় বলে এক নামেই অভিহিত করে থাকি। ইহা সত্বেও এই দু'জাতীয় রোগের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে এবং চিকিত্সা পদ্ধতিও আলাদা ধরনের। এই ২ ধরনের আমাশয় হচ্ছে -
  • এমিবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery)
  • বাসিলারী (Bacillary Dysentery)
এমিবা নামক এক জাতীয় জীবানু থেকে এমিবিক আমাশয় হয়ে থাকে। এই দুটি যখন পৃথক রোগ, তাই পৃথক পৃথক ভাবে এদের আলোচনা করাই ভাল ।

এমেবিক আমাশয় (Amoebic Dysentery) 

Entamoeba histolytica নামক এক প্রকার এককোষ বিশিষ্ট protozoa group-এর জীবাণু দ্বারা এই রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে । এই রোগের প্রকাশ হঠাৎ অথবা ধীরে ধীরে হতে পারে । এই সকল Amoebia খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে শরীরের ভিতরে প্রবেশ লাভ করে এবং বৃহত অন্ত্র (Colitis) মল দ্বারের কিছু ওপর পর্যন্ত এবং ক্ষুদ্র অন্ত্রের প্রদাহ সৃষ্টি করে । এই প্রদাহের ফলে বার বার মল ত্যাগ করতে হয় । পায়খানার পূর্বে পেটে ব্যথা অনোভব করে । মল ত্যাগের পর আবার মল ত্যাগের ইছা হয়। মলে আম ও রক্ত মিশ্রিত থাকে । অনেক সময় এই রোগের উপসর্গ সরূপ যকৃতে স্ফোটক দেখা দেয় । 
বিভিন্ন প্রকার আমাশয়ের (Dysentery) - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর হোমিও চিকিত্সা
এই রোগের সৃষ্টিকারী এককোষ জাতীয় জীবানু একবার পেটে প্রবেশ লাভ করলে অতি তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি লাভ করে এবং বৃহৎ অন্ত্র ও ক্ষুদ্র অন্ত্র ইহাদের আশ্রয় স্থল হয় । ইহার ফলে সেখানে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। ইহার ফলে বৃহত অন্ত্রে প্রদাহ, ঘা ক্ষত প্রভৃতির সৃষ্টি হয় যাকে আমরা Intestinal ulcer নামে অভিহিত করি। যদি বৃহৎ অন্ত্রে এই রূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে Colitis বলে। আবার যদি দুটি অন্ত্রে এইরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে entero colitis বলে। এই প্রদাহের ফলে বার বার কুন্থন ভাব এবং মল ত্যাগের ইছা জাগে। লিভার প্রদাহের (Hepatitis) এবং লিভারের ফোড়া (Liver abcess) নামক দুটি উপসর্গ ইহার ফলেই সৃষ্টি হয়ে থাকে। Amoebia জীবানুর যে কোষ থাকে তা পেটে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে । এই কোষ গুলো অতি দ্রুত অনেক Amoeba এর জন্ম দেয় এবং বংশ বৃদ্ধি করে। Entamoeba histolitica নামক জীবানু যে কোষ থাকে তা পেটে গিয়ে রোগ সৃষ্টি করে । 

Entamoeba hystolitica নামক জীবানু এই রোগের মূল কারণ বলে প্রমানিত হয়েছে । অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুষিত পানীয়ের সঙ্গে ইহা শরীরে প্রবেশ লাভ করে। জীবানুর ডিম গুলো অনেক দিন বেচে থাকতে পারে । শুষ্ক আবহাওয়ায় ডিম গুলোর পক্ষে আদৌ ভালনা। জলের মধ্য ডিম গুলো প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে । এমোবিয়া রেনু খাদ্যবস্তুর সঙ্গে উদরে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বৃহৎ অন্ত্রে আস , সেখানে এই জীবানু গুলো ধীরে ধীরে Mucus membrane-এ ঢুকে যায়। আর সেখান থেকে Lymphatic channels এর সাহায্য Mucus membrane এর মাংস পেশী ভেদ করে Sub-Mucosa- তে বাসস্থান তৈরে করে । অনেক সময় এই জীবানুগুলো Portal vein এর শাখা প্রশাখা এবং Mesenteric artery-র শাখা প্রশাখায় প্রবেশ লাভ করে এবং এই গুলো রক্ত প্রবাহের সঙ্গে বহিত হয়ে যকৃতের স্ফটকের কারণ হয়ে দাড়ায় ।

আমাশয়ের লক্ষণ :-লক্ষণনের তারতম্য দেখে এই লক্ষণ গুলোকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় -
  • উগ্র ধরনের (Acute type) 
  • দীর্ঘস্থায়ী ধরনের (Chronic type) 
  • অব্যক্ত ধরনের (latent type) 
  • মিশ্রিত ধরনের (mixtured type) 
আমাশয়ের Acute type:- ইহা হঠাৎ আরম্ভ হয় । কয়েক দিন আগে থেকে মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব দেখা দেয় এবং পরে হঠাৎ উদরাময় শুরু হয় । পেটের তলদেশে বেদনার অনুভূত হয়, নাভির চারদিকে ব্যথা ভাব এবং এই ব্যথা ভীষণ কষ্টদায়ক । পায়খানার সময় কুন্থন ও ব্যথা হয় । পায়খানার পর এই বেদনার ভাব সামান্য কমে , আবার পায়খানা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা হয়, অবস্থা এই ভাবে চলতে থাকে । পায়খানা দিনে ১০/১৫ বার পর্যন্ত হতে পারে, মলে দুর্গন্ধ এবং কখনো কখনো টক গন্ধ থাকে । জিহ্বা ভিজা এবং মাঝে মাঝে ময়লা লেপাবৃত, কখনো কখনো বমি এবং বমি ভাব। জ্বর হতে পারে তা সামান্য। মাঝে মাঝে পেটে ভীষণ মোচড়ানো ব্যথা দেখা দেয় । কখনো কখনো Mucous-এর সঙ্গে সামান্য রক্ত দেখা দেয়। মলে পুজ বা পুজসেল থাকেনা।

আমাশয়ের Chronic type :- উগ্র আক্রমনের যথার্থ চিকিত্সা না হলে পরে ইহাই ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে, ইহাতে অন্য কোন লক্ষণ থাকেনা , কেবল পায়খানার সাথে কুন্থন এবং আম পড়ে, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তহীনতা দেখা দেয় । মাঝে মাঝে হঠাৎ রোগ উদরাময় হয় এবং তত্সহ আম পড়ে বেশি কিছু খেয়ে হজম করতে পারেনা, অজীর্ণ দেখা দেয় । তখন এই জাতীয় রোগী রোগের বাহন (Carrier) হয় এবং তাদের মধ্য রোগ ছড়ায়। ইহাতে বৃহৎঅন্ত্রে এবং ক্ষুদ্র অন্ত্রে ক্ষত হয় এবং নানা উপসর্গ দেখা দেয় ।

আমাশয়ের Latent type :- এরূপ অবস্থা হতে হঠাৎ Liver abscess দেখা দেয় । এই অবস্থায় কোনো বাহিরের লক্ষণ থাকেনা এমন কি বুঝা যায় না যে রোগীর আমাশা আছে ।ইহারা সর্বদাই রোগের বহন হয়ে দাড়ায় ।

আমাশয়ের Mixtured type :- এই জাতীয় রোগীর মধ্যে Amoebic এর সঙ্গে Bacillary dysentry-র উপসর্গ মিশ্রিত থাকে অথবা Bacillary -র সঙ্গে Amoebic -এর লক্ষণ মিশ্রিত থাকে।

আমাশয়ের জটিল উপসর্গ :- আমাশয় যদি দীর্ঘ সময় অথবা অব্যক্ত ধরনের হয় তবে নানাবিধ জটিল উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে । উভয় অন্ত্রেই ক্ষত বা ঘায়ের সৃষ্টি হতে পারে । বুকে বা পিঠে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রে ক্ষত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে Intestinal ক্যান্সার হতে পারে । লিভার আক্রান্ত হয়ে হেপাটাইটিস হতে পারে । Liver Abcess হতে পারে । Pandhor, সন্নাস বা জন্ডিস হতে পারে ।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

উদরাময়, আমাশয়, কলেরা প্রথমে তিনটির মধ্য যে পার্থক্য আছে তা ভালো করেউপলব্ধি করতে হবে। আবার আমাশয়ের মধ্য কোনটি ? Amoebic না Bacillary তাও আবার বুঝতে হবে। সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারলে হোমিও চিকিৎসায় যেকোন জটিল আমাশয়কেই নির্মূল করা যায় । তবে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে রোগের লক্ষণ, উপসর্গ ইত্যাদি দেখে রোগ নির্ণয় প্রায় অচল হয়ে আসছে, কারণ এখন আর অনেক হোমিও চিকিত্সকই ইহার উপর নির্ভর করতে চাননা । যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোগীর মলমূত্র, রক্ত থুথু ইত্যাদি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের আশ্রয় নেন অনেক হোমিও ডাক্তার এবং বলতে গেলে এটাই এখনকার প্রচলিত পদ্ধতি । 

আমাশয় আক্রান্ত রোগীর মল অনুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করলে যে জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় তার আকৃতি প্রকৃতি এবং কার্য পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ভাবে বলা যায় যে রোগী কি জাতীয় আমাশয় রোগে ভোগছে, যেহেতু মল পরীক্ষায় ধরা পড়বে যে মলে Amoebia জীবানু না Bacilli জীবানু আছে । তারপর সে অনুযায়ী যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে আমাশয় তার মূল থেকেই নির্মূল হয়ে যায়। কিন্তু তার জন্য অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হওয়া অতি জরুরি।
বিস্তারিত

Sunday, September 28, 2014

ব্রণ(Acne) দূর করার কার্যকর পদ্ধতি এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা

যৌবনের একটি অবাঞ্ছিত সমস্যার নাম হচ্ছে ব্রণ। অ্যাকনি ভালগারিস (কিংবা ব্রণ) মানব ত্বকের সাধারণ রোগবিশেষ, যেখানে লালচে ত্বক, প্যাপ্যুল, নডিউল, পিম্পল দেখা যায়। ভীতি উদ্রেকের পাশাপাশি, এটির প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আত্ম-বিশ্বাস কমে যাওয়া। অতিরিক্ত পর্যায়ে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার মত অবস্থার উদ্ভব হতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রণের রোগীদের আত্মহত্যার পরিমাণ ৭.১%. (সূত্র-উইকিপিডিয়া )

ব্রণের বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন মানুষ কমই আছেন। বিশেষ করে তরুণ- তরুণীরা ব্রণের উৎপাতে বেশি ভোগেন। এই ব্রণ মূলত টিনএজারদের সমস্যা। এ বয়সে যখন মুখের সৌন্দর্যের প্রতি সবাই আকর্ষণবোধ ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ঠিক সে বয়সেই মুখে এই বিশ্রী গোটাগুলো দেখা দেয়, যা তাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্রণ(Acne) দূর করার কার্যকর পদ্ধতি এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা

কোন বয়সে বেশি হয় 

১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সে এটি বেশি হয়। তবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি হতে দেখা যায়। টিনএজারদের মধ্যে শতকরা নব্বই ভাগের ক্ষেত্রেই কম অথবা বেশি পরিমাণে এটি হয়ে থাকে। ২০ বছর বয়সের পর থেকে এটি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

ব্রণের প্রকারভেদ 

ব্রণের প্রকারভেদ অনেক। তবে সাধারণভাবে যে-প্রকারের ব্রণ হয়ে থাকে তারই বর্ণনা এখানে দেয়া হচ্ছে । এটি লোমের গোড়ায় হয়ে থাকে । ব্রণের মূলে যে জিনিস তার নাম কেমডো ( চাপ দিলে ভাতের দানার মতো বের হয় ), তবে কখনও কখনও শুধু শুধু দানা আকারে, পুঁজ সহকারে গহ্ববরযুক্ত দানা বা বড় গোটার আকারে দেখা দিতে পারে। আবার এক প্রকারের ব্রণ দেখা যায় যাতে চাপ দিলে শক্ত সাদা সুতার মত বেরোয় যাকে অনেকে শালও বলে থাকেন। 

বিভিন্ন অবস্থায় ব্রণ

  • ট্রপিক্যাল একনি :– অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে, উরুতে ব্রণ হয়ে থাকে।
  • প্রিমিন্সট্রুয়াল একনি :– কোনো কোনো মহিলার মাসিকের সাপ্তাহ খানেক আগে ৫-১০টির মতো ব্রণ মুখে দেখা দেয়।
  • একনি কসমেটিকা :– কোনো কোনো প্রসাধনী লাগাতার ব্যবহারে মুখে অল্প পরিমাণে ব্রণ হয়ে থাকে।
  • একনি ডিটারজিনেকস :– মুখ অতিরিক্ত ভাবে সাবান দিয়ে ধুলেও ( দৈনিক ১/২ বারের বেশি ) ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়।
  • স্টেরয়েড একনি :– স্টেরয়েড ঔষধ সেবনে হঠাৎ করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখে স্টেরয়েড, যেমন– বটানোবেট ডার্মোভেট জাতীয় । ঔষুধ একাধারে অনেকদিন ব্যবহারে ব্রণের পরিমান বেড়ে যায়।

শরীরের কোথায় হয়

সাধারণত মুখে যেমন গাল, নাক, থুতনি ও কপালে হতে দেখা যায়। তবে শরীরের উপরের অংশে ও হাতের ওপরের অংশেও হরহামেশাই হতে দেখা যায়।

ব্রণ হওয়ার কারণ 

বংশগত প্রভাব একটি অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ কারণ। স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়ায় একটি ব্যাকটেরিয়া থাকে, যার নাম প্রোপাওনি ব্যাকটেরিয়াম একনি। বয়ঃসন্ধিকালে এড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাসিয়াস গ্রন্হি থেকে সেবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই সেবাম থেকে ফ্রি ফ্যাটি এসিড তৈরি করে লোমের গোড়ার উপস্হিত ব্যাকটেরিয়া। ফলে লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয় এই ফ্যাটি এসিডের প্রভাবে। এর পাশাপাশি জমা হয় লোমের গোড়ায় কেরাটিন নামক পদার্থ। ফলে সেবাসিয়াস গ্রন্হিপথ বন্ধ হতে থাকে এই কেরাটিন, লিপিড আর মেলানিন পদার্থ দিয়ে, যা ব্লাক হেড বা ‘হোয়াইট হেড’ হিসেবে দেখা দিয়ে থাকে।

ব্রণের সঙ্গে খাওয়ার সম্পর্ক :- অনেকের ধারণা তৈলাক্ত খাবার খেলে বুঝি ব্রণ হয়। সত্যিকার অর্থে কথাটি সত্য নয়। কোন প্রকার খাদ্য দ্রব্যের সঙ্গে ব্রণের কোনো সম্পর্ক আছে বলে জানা যায় না।

ব্রণ ও ক্রিম :- যেসব ক্রিমে তৈলাক্ত উপাদান থাকে যাদের মুখে বেশি ব্রণ হয় তাদের সেসব ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে ক্রিম যদি তৈলাক্ত হয় তবে তা ব্রণ রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
রোগ নির্ণয় :- ব্রণের মাত্রা নিরূপণের কিছু পন্থা আছে,যা নিম্নোক্ত:
  • লিডস গ্রীডিং : সংক্রামতা এবং অসংক্রামতা নির্ধারণ করে(বিস্তার ০–১০)।
  • কুকস গ্রেডিং স্কেল: ছবি ব্যবহার করে মাত্রা নির্ধারণ করে(সবচেয়ে কম ০,সবচেয়ে বেশি ৮)।
  • পিলসবারি স্কেল: মাত্রা নির্ধারণ করে ১ (সবচেয়ে কম) - ৪ (সবচেয়ে বেশি)।

ব্রণ দূর করতে চারটি দারুণ ফেসপ্যাক

কমলার খোসা কমাবে ব্রণ :- কমলা লেবুর খোসা শুকিয়ে মিহি গুঁড়ো করে নিন। চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে, ব্রণের উপদ্রব কমবে, ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।

নিম ঠেকায় ব্রণ :- চার/পাঁচটা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মুলতানি মাটি, অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটা যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলে এর মধ্যে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটা মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। মুখে ব্রণ থাকলে দ্রুত সেরে যাবে। ব্রণ অথাও কমাবে।লবঙ্গ দারুণ 

ফলদায়ক :- লবঙ্গ মূলত মসলা হিসেবে পরিচিত হলেও ব্রণ সারাতে তা খুবই কার্যকর। লবঙ্গের তেল দিয়ে ত্বক মাসাজ করা খুবই উপকারী। ত্বকে ব্রণের সংক্রমণ বেড়ে গেলে লবঙ্গ গুঁড়ো করে তাতে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণের জায়গাগুলোতে মিশ্রণের মোটা প্রলেপ দিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

আলোভেরা মানিয়ে যায় সব ধরণের ত্বকে :- আলোভেরা রস নিন নিন এক কাপ। এর সাথে মেশাণ এক টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চালের গুঁড়ো। মিশ্রণটি মুখসহ পুরো শরীরে লাগান। ২০-২৫ মিনিট মাসাজ করে গোসল করে ফেলুন।

আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা 

রোগীর ব্রণ আক্রান্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়। উপরে বর্ণিত ফেসপ্যাক অনেকের কাছেই সময় অপচয় বা বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তাছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে এগুলি ভালো ফলদায়ক নাও হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় নিশ্চিত আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা গ্রহণ করা। ব্রণ সমস্যায় ভুগলে ভালো একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে চিকিত্সা নিন। 
বিস্তারিত

Monday, September 22, 2014

গনোরিয়া (Gonorrhea) - পুরুষ এবং মহিলাদের কষ্টদায়ক যৌন ব্যাধি

গনোরিয়া একটি সাধারণ এবং পরিচিত যৌন সংক্রামক রোগ। আমাদের গ্রাম গঞ্জে এটি আবার প্রমেহ নামেও পরিচিত। প্রকৃত পক্ষে এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। তবে চুম্বন, হাত ধরা  ইত্যাদি থেকে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে।

এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলারা যারা গনোরিয়া আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে।
আমাদের সমাজে দেখা যায়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই  এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং তাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। গনোরিয়ার জীবাণু "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সাথে যৌন সংসর্গের দ্বারা।

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যৌন মিলনের ২ থেকে ১০ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
  • রুষদের মূত্রনালীর সম্মুখভাগে সাধারণত সংক্রমণ ঘটে।
  • বারবার প্রস্রাবের ইচ্ছা করে। মূত্রনালীতে প্রদাহের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা করে।
  • লিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়।যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।
  • মূত্রনালীপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • অণ্ডকোষ ফুলে একটা আপেলের মতো বড় হতে পারে।
  • এপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়।
  • সমকামীরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালীতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়।
  • মুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলাব্যথা হয়।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
নারীর ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর, সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়।
  • যৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়।
  • প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা থাকতে পারে। প্রস্রাবে যন্ত্রণা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালীতে প্রদাহ হয়।
  • বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়।
  • তলপেটে ব্যথা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালী, ডিম্বাশ্বয় কিংবা তলপেটের মধ্যে ফোঁড়া হতে পারে।
  • মাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়।
  • পায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালী পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • মুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থা :-
গনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়াতে আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রোগ নির্ণয় :-
এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। সে এরই মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কি-না প্রশ্ন করে ভালো করে উত্তর পেতে হবে। সম্পর্ক থাকলে তা কতদিন আগে এবং কত জনের সঙ্গে। এসব জেনে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্রস্রাবও পরীক্ষা করা যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু নিঃসরিত বস্তু পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রতিকার কিভাবে করা যেতে পারে :-
  • জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 
  • সঠিক বয়সে উপযুক্ত যৌন শিক্ষা প্রচলন। 
  • বহুনারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ মহিলারই এ রোগে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই যে কোনো সময়ে এদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
  • রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা করানো উচিত। 
  • আক্রান্ত অবস্থায় স্ত্রী মিলনের বা স্বামী সহবাসে বিরত থাকা উচিত, তা না হলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। 
  • সর্বোপরি বিবাহিত যৌন জীবন সবার জন্য বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পথ। 
কিছু সতর্কতা জরুরি :-
অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও আবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে অল্প সংক্রমণ থেকে যায় কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে। তবে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ লাভ করতে পারে না।

কার্যকর চিকিৎসা :-
পুরুষ বা মহিলারা যে কেউ আক্রান্ত হন না কেন আর গনোরিয়ার উপসর্গ যত জটিল পর্যায়েই থাকুক না কেন এর যথাযথ এবং সর্বাধিক সফল ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই কেউ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে কোনো প্রকার সংকোচ না করে আপনার হোমিওপ্যাথকে বিস্তারিত খুলে বলুন এবং অযথা দেরি না করে যথাযথ চিকিত্সা নিন। প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যা থেকে নিশ্চিত মুক্তি পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
******** আধুনিক হোমিওপ্যাথি *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Saturday, September 13, 2014

কোমর ব্যথার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং কার্যকর চিকিত্সা

এমন মানুষ হয়ত পৃথিবীতে পাবেন না যিনি তার জীবনে একবারও কোমরে ব্যথা অনুভব করেননি। মেরুদণ্ডের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলে এ ব্যথার সুত্রপাত হয়। তরুণাস্থির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সংবেদনশীলতার পরিবর্তন হয়। সাধারণত এ পরিবর্তন ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগের উপসর্গও বাড়তে থাকে। 

কোমর ব্যথার কারণ 

সাধারণত দেখা যায় মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা হয়ে থাকে। চলাফেরা, খুব বেশি ভার বা ওজন তোলা, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাড়িয়ে কোন কাজ করা, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া, সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে এ ব্যথা দেখা যায়।
কোমর ব্যথার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং কার্যকর
অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্র্যাটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরেসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলাইটিস, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসে সমস্যা,বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

কোমর ব্যথার লক্ষণ

কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদণ্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার সঙ্গে পায়ে শিন-শিন বা ঝিন-ঝিন জাতীয় ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যেকোন এক পায়ে নামতে পারে। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশীর ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

আধুনিক এই যুগেও কোমর ব্যথা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা। এ সমস্যার সমাধানে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

কোমর ব্যথার প্রতিকার 

ফার্মাকোথেরাপি:- চিকিৎসকরা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সাধারণত ব্যথানাশক এনএসএআইডিএস গ্রুপের ওষুধ, মাসল রিলাক্সজেন ও সেডেটিভজ জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে সেজন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়া উচিত।

ফিজিওথরাপি:- কোমর ব্যথাজনিত সমস্যার অত্যাধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। এই চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসক রোগীকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, লাম্বার ট্রাকশন শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, অতিলোহিত রশ্মি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি, ইনফারেড রেডিয়েশন, ট্রান্স কিউটেনিয়াস ইলেকট্রিক নার্ভ ইস্টিমুলেটর, ইলেকট্রিক নার্ভ ও মাসেল ইস্টিমুলেটর, অটো মেনুয়াল ট্রাকশন, হাইড্রোথেরাপি, লেজার থেরাপি ও বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া চিকিৎসা চলা অবস্থায় কোমরে নির্দিষ্ট অর্থোসিস বা ব্রেস প্রয়োগ করে থাকেন।

সার্জারি:- যদি দীর্ঘদিন ফার্মাকোথেরাপি ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালানোর পরও রোগীর অবস্থার পরিবর্তন না হয় রোগীকে অবস্থা অনুযায়ী কোমর-মেরুদন্ডের অপারেশন বা সার্জারির করনোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্সকরা।সার্জারির পরবর্তীতে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশ মতো নির্দিষ্ট ব্যায়াম দীর্ঘ দিন চালিয়ে যেতে হয়।

দৈনন্দিন কাজে সতর্কতা :-
নিচ থেকে কিছু তোলার সময়-
  • কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না। হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।
কোনো কিছু বহন করার সময় :-
  • ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না। 
  • ভারি জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন।
  • পিঠের ওপর ভারি কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।
শোয়ার সময় :-
  • উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙ্গা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না।
  • সমান তোশক ব্যবহার করুন।
  • বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বিছানা বলতে সমান কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।
দাঁড়িয়ে থাকার সময় :-
  • ১০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
  • হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না।
  • দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়াতে হলে উঁচু হিল পরবেন না।
  • অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুট রেস্ট ব্যবহার করুন।
বসে থাকার সময় :-
  • আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূরে নেবেন না।
  • সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না।
  • কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন।
  • এমনভাবে বসুন যাতে ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে।
  • নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না।
যানবাহনে চড়ার সময় :-
  • গাড়ি চলানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূরে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন।
  • ভ্রমণে ব্যথার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।
কোমর ব্যথা বেশি হলে বিছানা থেকে শোয়া ও ওঠার নিয়ম :-
  • চিৎ হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ভাঁজ করুন।
  • এবার অন্য হাঁটুটি ভাঁজ করুন। হাত দুটি বিছানায় রাখুন।
  • এবার ধীরে ধীরে এক পাশ কাত হোন।
  • পা দু’টি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন, এবার কাত হওয়া দিকের হাতের কনুই এবং অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসুন।
  • দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে বসুন এবং মেঝেতে পা রাখুন।
  • এবার দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়ান।
মেয়েরা যেসব নিয়মকানুন মেনে চলবেন :-
  • অল্প হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পরুন, বিভিন্ন জুতোর হিলের উচ্চতা বিভিন্ন না হওয়াই উচিত।
  • তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদ- সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন।
  • কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না। ঝাড়ু দেয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেন।
  • মার্কেটিং বা শপিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানো বা হাঁটার পরে বিশ্রামের জন্য একটু বসবেন।
  • বিছানা গোছানোর সময় কোমর ভাঁজ না করে বরং হাঁটু ভেঙে বসা উচিত।
ওজন কমান, খাদ্যাভাস পরিবর্তন করুন :-
গরু, খাসির মাংস, ডালজাতীয় খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার, তৈলাক্ত খাবার খাদ্য তালিকা থেকে কমিয়ে শাকসবজি, তরিতরকারি, ফলমূল খাদ্য তালিকায় বেশি করে রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং যাদের দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস আছে, তা বন্ধ করে রাতে শিগগিরই শুয়ে পড়ুন।

হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :-
প্রয়োজনবোধে কিছু মেডিকেল টেস্ট করে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিলে কোমর ব্যথা সেরে যায় সারা জীবনের জন্য। কারণ এর পেছনে অবশ্যই কোনো না কোন কারণ থাকে, হোমিও ঔষধ ঐ কারণটাকেই একেবারে রুট লেভেল থেকে নির্মূল করে দেয় আর তখন কোমর ব্যথা থাকার প্রশ্নই আসে না।
বিস্তারিত

Thursday, August 28, 2014

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন প্রাকৃতিক উপায়ে

গবেষণা বলছে, খাবারের তালিকায় কিছু খাবার যোগ এবং বিয়োগ করলে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, রক্তচাপ এবং রক্ত শর্করার সমস্য থাকলে যা খুশি খেলে কখনই চলবে না। তবে আগে থেকে সাবধান হলে, ওযুধ খাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এক নজরে দেখে নিন, খাদ্য তালিকায় কি কি খাবার রাখলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

স্কিমড দুধ :- এই দুধের বৈশিষ্ট হল, দুধ থেকে ক্রিম এবং ফ্যাট বার করে নেওয়া হয়। ফলে শরীরের জন্য এটা খুবই ভাল। দুধ ক্যালসিয়াম প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। তাছাড়া দুধে প্রচুর পটাসিয়াম ও ভিটামিন-ডি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন প্রাকৃতিক উপায়ে
পালং শাক :- পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ কমানোর জন্য সব থেকে জরুরি। ফলে প্লেটে পালং শাকের পরিমাণ বাড়লে আপনার প্রেসার কমবে।

ডার্ক চকোলেট :- খাবারের নামটা শুনেই হামলে পড়বেন না। তাহলে লাভের চাইতে ক্ষতি বেশি। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ডার্ক চকোলেটে ফল্যাভানল রয়েছে। দিনে ২৫-৩০ ক্যালোরি ডার্ক চকোলেট আপনার প্রেসারের খেয়াল রাখবে।

সয়াবিন :- এতে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ বাড়তে দেয় না।

টমেটো :- অসাধারণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস। নানা কাজে লাগে। রক্তের উচ্চচাপও কমায়। সঙ্গে আপনার ত্বকেরও খেয়াল রাখে।
বিস্তারিত