Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts

Monday, January 22, 2018

নকল ডিম চেনার সহজ এবং সর্বোত্তম উপায় (ভিডিও সংযুক্ত)

নকল ডিম চেনার সহজ উপায় >> চারপাশে এই ভেজালের দুনিয়াতে ডিমেও এখন ভেজাল। প্রথম প্রথম কৃত্রিম ডিমের বিষয়কে গুজব মনে হলেও এখন সেটা বাস্তব। বাংলাদেশ সহ আশেপাশের অনেক দেশেই নকল ডিমের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাসায়নিক প্লাস্টিকের ডিম নিয়ে ভারতের চলছে শোরগোল। চীনের রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তের চোরাপথে চীন থেকে কৃত্রিম ডিম পাচার হয়ে আসছে। আর এসব ডিম চলে আসছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। যা দেখতে অবিকল হাঁস মুরগির ডিমের মতো। মানুষ ভুল করে কৃত্রিম ডিমকে আসল ডিম ভাবছে। এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত।

বিজ্ঞান সাময়িকী “দ্যা ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি”তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডিমে কোনো খাদ্যগুণ ও প্রোটিন থাকে না। বিষাক্ত এই কৃত্রিম বা নকল ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এই নকল ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। নকল ডিমের ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।
নকল ডিম চেনার সহজ এবং সর্বোত্তম উপায়
নিজের ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে নকল ডিম চিনে রাখা জরুরী।

কিভাবে চিনবেন নকল ডিম? জেনে নিন

  • কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়।
  • সাধারণ ডিমের চেয়ে এই ডিম বেশি ঝকঝকে।
  • ডিম ঝাঁকালে পানি গড়ানোর মতো শব্দ হয়।
  • ডিম ভাঙার পর সাদা অংশ ও কুসুম এক হয়ে যায়।
  • ভাঙার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
  • নকল ডিমের আকৃতি অন্য ডিমের তুলনায় তুলনামূলক লম্বাটে ধরণের হয়ে থাকে
  • এই ডিম সিদ্ধ করলে কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়।
  • এর খোলস বেশি শক্ত। খোলের ভেতর রাবারের মতো লাইন থাকে।
  • এর খোলস খুব মসৃণ হয়। খোসায় প্রায়ই বিন্দু বিন্দু ফুটকি দাগ দেখা যায়।
  • রান্না করার পর এই ডিমে অনেক সম্যেই বাজে গন্ধ হয়। কিংবা গন্ধ ছাড়া থাকে। আসল কুসুমের গন্ধ পাওয়া যায় না।
  • নকল ডিমকে কোন তীব্র গন্ধ যুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। রান্নার পরেও ডিম থেকে সেই গন্ধই পেতে থাকবেন।
  • আসল ডিম ভাঙলে মুড়মুড়ে শব্দ হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমে তেমন শব্দ হয় না।
  • নকল ডিমের কুসুমের চারপাশে রাসায়নিকের পর্দা থাকে।
  • নকল ডিম ভেঙে রেখে দিলে পিঁপড়া বা পোকামাকড় আসে না।

দেখুন কোন ডিমগুলি নকল

দেখুন কোন ডিমগুলি আসল

কেন প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাবেন?

ডিম কম বেশী সবাই পছন্দ করলেও না না অজুহাতে খাদ্য তালিকা থেকে ডিমকে বাদ দিতে চান। কেউ কেউ ডিমকে এড়িয়ে যান রক্তে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গে চর্বি বৃদ্ধির ভয়ে। কিন্তু ডাক্তারেরা বলছেন ভিন্ন কথা, প্রতিদিন সকালে অন্তত একটি ডিম খেলে অনায়াসে ৩ পাউন্ড ওজন কমানো যায়। ডিমের এমনই কিছু গুনাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আজ জানবো।

১) ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। ডিমের ভিটামিন বি ১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।

২) ডিমের মধ্যে আছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও জিয়েক্সেনথিন বয়সকালের চোখের অসুখ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। একই উপাদান চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।

৩) কেবলমাত্র ডিমেই রয়েছে ভিটামিন ডি, যা পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৪) ডিমের ভিটামিন ই কোষ এবং ত্বকে উত্‍পন্ন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নষ্ট করে দেয় এবং স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

৫) ডিমের সবচেয়ে বড়ো গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম হবে, খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালোরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫% বডি ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম!

৬) ডিমে আছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস। মেনস্ট্রুয়েশনের জন্য অনেক সময় অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। শরীর তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন এই ঘাটতি মেটাতে পারে সহজেই। জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
বিস্তারিত

Sunday, January 21, 2018

লাউ ওজন কমাতে সাহায্য করে, অকালে চুল পাকা, জন্ডিস ও কিডনি সমস্যা রোধ করে

লাউ এমন একটি সবজি যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কিশোর-তরুণরা এই সবজিটি তেমন পছন্দ করেনা। লাউ এর উপকারিতাকে উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। কারণ লাউয়ে প্রচুর পানি থাকার পাশাপাশি এতে ফাইবার, ভিটামিন ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে। সাধারণ লাউ এর অসাধারণ কিছু উপকারিতার কথাই জানবো আজ।

ক্যালরি কমঃ কম ক্যালরির খাবার হিসেবে লাউ আদর্শ খাবার। লাউয়ে ৯৬% পানি থাকে। উচ্চমাত্রার ডায়াটারি ফাইবার থাকে লাউয়ে। ১০০ গ্রাম লাউয়ে ১৫ ক্যালরি ও ০.১ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে ভিটামিন সি ও সামান্য বি ভিটামিন, আয়রন, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ও থাকে। জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানে লাউ  লাউ ওজন কমতে সাহায্য করে, অকালে চুল পাকা রোধ করে

পরিপাকে সাহায্য করেঃ লাউয়ে ভালো পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার এবং পানি থাকে। তাই লাউ পরিপাকে এবং পরিপাক সম্পর্কিত সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও এসিডিটির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তাদের জন্য লাউ খাওয়া উপকারী।
লাউ ওজন কমাতে সাহায্য করে, অকালে চুল পাকা, জন্ডিস ও কিডনি সমস্যা রোধ করে
শিতলিকারকঃ লাউয়ে ভালো পরিমাণে পানি থাকে বলে শরীর ঠান্ডা ও শান্ত করার ক্ষমতা আছে। তাই গরমের সময় লাউ খাওয়া উপকারী বিশেষ করে যারা প্রখর সূর্যতাপে কাজ করেন তাদের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে লাউ। লাউ বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়।

ইউরিনারি সমস্যা সমাধানেঃ লাউ মূত্র বর্ধক হিসেবে কাজ করে। শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে লাউ। ১ গ্লাস লাউয়ের জুসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস মিসিয়ে পান করুন।ক্ষারীয় এই মিশ্রণটি এসিডিক মিশ্রণকে তরল হতে সাহায্য করে এবং মূত্রনালীর জ্বালাপোড়া কমতে সাহায্য করে। অন্যারা যা পড়ছেন …

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ লাউয়ে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে বলে লাউ ওজন কমতে সাহায্য করে। রক্তের কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে লাউ।

অকালে চুল পাকা রোধ করেঃ আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে যে, সকালে নিয়মিত তাজা লাউয়ের জুস পান করলে অকালে চুল পাকা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সাহায্য করে।

ত্বকের জন্য উপকারীঃ ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে লাউ। এটি মুখের ত্বকের তেলের নিঃসরণের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। বিভিন্ন প্রকার ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে লাউ।

ভালো ঘুম হতে সাহায্য করেঃ তিলের তেলের সাথে লাউয়ের জুসের মিশ্রণ ইনসমনিয়ার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। লাউ পাতা রান্না করে খেলে মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

পুনরুজ্জীবিত করেঃ ডায়রিয়া, উচ্চমাত্রার জ্বর এবং অন্য কোন স্বাস্থ্যসমস্যার কারণে যদি শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায় তাহলে ১ গ্লাস লাউয়ের জুস পান করুন। এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া পানির প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের অত্যধিক তৃষ্ণা কমাতেও সাহায্য করে।

এছাড়াও জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানেও উপকারী ভূমিকা রাখে লাউ। অসাধারণ উপকারিতা সম্বলিত এই সবজিটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞেরা সকালে খালি পেটে লাউয়ের জুস পান করার পরামর্শ দেন। আবার অনেকের মতে লাউ দিনের যেকোন সময় যেকোন উপায়ে রান্না করে খাওয়া উপকারী।
বিস্তারিত

Saturday, January 20, 2018

গাজর কাঁচা খাওয়ার উপকারিতাগুলি জানেন কি ?

গাজরের ইংরেজি নাম ‘ক্যারট’। গ্রিক শব্দ ক্যারট-অন থেকে এই ক্যারট শব্দের উৎপত্তি। আমরা যত রকমের সবজি খাই, তার মধ্যে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সবজি গাজর। এর ১০০টি প্রজাতি রয়েছে। গাজর সাধারণত পাঁচটি বর্ণের হয়ে থাকে—সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদ ও লাল। গাজর বিটা ক্যারোটিনের প্রধান উৎস।

গাজর কাঁচা খাওয়া ভালো। তবে রান্না করে খাওয়া আরো ভালো। যদি গাজর রান্না করা বা কাটা হয়, তখন এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে আরো বেশি কাজ করে।

রান্না করা গাজরের মধ্যে ক্যারোটিনোয়েডস থাকে। ক্যারোটিনোয়েড যেহেতু চর্বিতে দ্রবণীয় উপাদান, তাই এটি তেল-চর্বি দিয়ে রান্না করে খেলে দেহের রক্তে ক্যারোটিনোয়েডের শোষণ এক হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। গাজরে উচ্চ পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এটি লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
গাজর কাঁচা খাওয়ার উপকারিতাগুলি জানেন কি
গাজর ক্যানসার প্রতিরোধক। গবেষণায় দেখা গেছে, গাজর ফুসফুস ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের (কোলন) ক্যানসার রোধ করে।

গাজরের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে কোষ নষ্ট হয়। এটি কোষের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-এ ব্রণ হওয়া এবং চামড়া ঝুলে পড়া রোধ করে।

গাজর হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, ও লিউটিন দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে সলিউবল ফাইবার থাকে। দুটি একসঙ্গে মিলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

বডির টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। দেহে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা মিনারেলগুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর কাজে বাধা দেয়।
বিস্তারিত

Friday, January 19, 2018

কিশমিশের যে উপকারীতাগুলি আপনার না জানলেই নয়

খাদ্য-পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে কিশমিশকে ‘প্রাকৃতি ক্যান্ডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানানো হয়, শুধু মুখের স্বাদের জন্যই নয় সারাদিনের কর্মশক্তির অন্যতম উৎস হতে পারে এই শুকনা ফল।

আঙুর ফলের শুকনা রূপই হচ্ছে কিশমিশ। যা তৈরি করা হয় সূর্যের তাপ অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে। তাপের কারণে আঙুরের ফ্রুক্টোজগুলো জমাট বেঁধে পরিণত হয় কিশমিশে এটি রক্তে শর্করার মাত্রায় ঝামেলা তৈরি করে না। আর শতকরা ৭০ ভাগ খাঁটি এই ফ্রুক্টোজ সহজেই হজমযোগ্য।

ভিন্ন পুষ্টিগুণ যেমন ফসফরাস, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, জিংক, লৌহ, ফ্লোরাইড, পোটাসিয়াম, ফোলাট, নিয়াসিন, কোলিন, ভিটামিন বি সিক্স, সি, কে এবং রিবোফ্লাবিন কিশমিশেও পাওয়া যায়।

তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে জন্য খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখতে পারেন। প্রতিদিন এই পিচ্চি শুকনা ফলের ১২টি খেলেই যাদুমন্ত্রের মতো কাজ করবে।
কিশমিশের যে উপকারীতাগুলি আপনার না জানলেই নয়
ভালো রাখে মুখের স্বাস্থ্যঃ ক্যান্ডির মতো দাঁতে লেগে থাকেনা কিশমিশ, ফলে থাকে না ক্যাভিটি তৈরির আশঙ্কা। বরং কিশমিশের পাইথোনিউট্রিয়েন্ট, অলিয়ানলিক এসিড নামে পরিচিতি যা ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি দাঁতের ক্যাভিটি ধ্বংস করে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

রক্তশূন্যতা রোধ করেঃ রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে অবশাদ, দুর্বলতা, হতাশায় ভুগতে পারেন, ব্যহত হতে পারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে লৌহ আছে যা রক্তশূণ্যতায় ভোগা রোগির খুবই উপকারি।

এছাড়া রক্ত ও লোহিত কণিকা তৈরি জন্য দরকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও কপার, যা কিশমিশে থাকে। এককাপ কিশমিশ ৬মি.গ্রা. লৌহের যোগান দেয়, যা প্রতিদিনের লৌহের চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করত পারে।

হাড় সুস্থ রাখেঃ আজকাল অস্টিওপোরোসিস রোগে অনেকেই ভুগে থাকেন। হাড়ের এই রোগ প্রতিরোধ করতে বোরন নামের খনিজ পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর কিশমিশ বোরনের অন্যতম উৎস। বোরনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম— যা হাড় গঠনের পাশাপাশি শরীরে টেসটোসটেরন এবং ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

অ্যাসিডিটি স্বাভাবিক করেঃ অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা রক্ত দুষিত হওয়াকে বলে অ্যাসিডোসিস, যা থেকে আরথ্রাইটিস, চামড়া রোগ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে। অ্যান্টাসিডস হিসেবে পরিচিতি দুটি উপাদান ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের ক্ষরীয়ভাব স্বাভাবিক করে অ্যাসিডোসিসের হাত থেকে বাঁচায়। আর এই উপাদানগুলো কিশমিশে রয়েছ

আঁশে পূর্ণঃ কোলোরেক্টাল ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকার জন্য যারা খ্যাদ্যাভ্যাসে আঁশযুক্ত খাদ্য রাখতে চান তাদের জন্য কিশমিশ হতে পারে আদর্শ খাবার। কারণ এক টেবিল-চামচ কিশমিশ আপনাকে দিতে পারে এক গ্রাম হজম সহায়ক আঁশ।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ নিয়মিত কিশমিশ খেলে বৃদ্ধ বয়সে দৃষ্টিহীন হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। পাশাপাশি কিশমিশে থাকা পলিফেনল উপাদান ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেলস ধ্বংস করে চোখকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

অ্যান্টি কোলেস্টের উপাদানঃ কিশমিশে কোলেস্টেরলের পরিমাণ শূন্য। শুধু তাই নয়, এতে আছে অ্যান্টি কোলেস্টেরল উপাদান যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। এছাড়া কিশমিশে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার যকৃত থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে। এককাপ কিশমিশ থেকে ৪ গ্রাম দ্রবণীয় ফাইবার পাওয়া যায়। তাছাড়া কিশমিশে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পলিফেনল কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে এনজাইম শোষণ করা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের খাদ্যঃ কিশমিশে থাকা বোরন মস্তিষ্কের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া বোরন মনোযোগ বৃদ্ধি, চোখের সঙ্গে হাতের সামঞ্জস্য বাড়ানো স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে। একশ গ্রাম কিশমিশ থেকে ২.২ মি.গ্রা. বোরন পাওয়া যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ বিষাক্ত পদার্থ দূর করে রক্ত শুধু পরিষ্কারই করে না, পাশাপাশি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে কিশমিশ। মূলত কিশমিশে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম শরীরে রক্তচাপ বাড়ায়। কিশমিশ শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
বিস্তারিত

Wednesday, January 17, 2018

হার্ট ও ক্যান্সারের অসুখ থেকে বাঁচায় যে চেনা সবজিটি

কুমড়োর অন্দরে উপস্থিত রয়েছে নানাবিধ উপকারি উপাদান, যেমন-ভিটামিন ই, থিয়ামিন, নিয়ালিন, ভিটামিন বি৬, ফলেট, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস। সেই সঙ্গে রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার, ভিটামিন এ, সি,রাইবোফ্লবিন, পটাশিয়াম, কপার এবং মেঙ্গানিজ। এই উপাদানগুলি শরীরের গঠনে তো কাজে আসেই। সেই সঙ্গে নানাবিধ রোগকে দূরে রাখার পাশপাশি আরও নানা উপকারে লাগে। যেমন...

ওজন কমাতে সাহায্য করে: কুমড়োর অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার, যা শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন নানাবিধ পেটের রোগের প্রকোপ কমায়, তেমনি অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে ক্ষিদে কমে যাওয়ার কারণে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কমে আসে। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে ক্যালরির প্রবেশ কমতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও কমে যায়। প্রসঙ্গত, ডায়াটারি ফাইবার মেটাবলিজম রেট বাড়ানোর মধ্যে দিয়েও ওজন হ্রাসে সাহায্য করে থাকে।
হার্ট ও ক্যান্সারের অসুখ থেকে বাঁচায় যে চেনা সবজিটি
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে যত ভিটামিন এ-এর মাত্রা বাড়তে থাকে, তত দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে থাকে। বিশেষত ছানি এবং গ্লকোমার মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতে এই ভিটামিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে কুমড়োয় প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ভিটামিন এ, তাই তো রোজের ডায়েটে এই সবজিটিকে রাখা শুরু করলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, যারা সারাক্ষণ কম্পিউটার বা টিভির সামনে বসে থাকেন, তাদের তো এই কারণেই বেশি করে কুমড়ো খাওয়া শুরু করা উচিত। কারণ এমনটা করলে ডিজিটাল স্ক্রিনের খারাপ প্রভাব চোখের উপর পরলেও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে না।

রক্তচাপ কমায়: পরিবারে ব্লাড প্রেসারের মতো রোগের ইতিহাস আছে নাকি? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে বন্ধু, কুমড়ো বীজের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে ফাইটোইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অনিদ্রার সমস্যা দূর করে: শরীর এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখতে ঘুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো দিনের পর দিন ঠিক মতো ঘুম না হলে শরীর তো ভাঙতে শুরু করেই, সেই সঙ্গে নানাবিধ জটিল রোগও এসে বাসা বাঁধে শরীরে। তাই আপনিও যদি ইনসমনিয়াক হয়ে থাকে, তাহলে পেঁপে বীজ খাওয়া শুরু করতে একেবারে দেরি করবেন না। কারণ এর মধ্যে রয়েছে ট্রাইপটোফেন নামক একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা শরীরে প্রবেশ করার পর সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে একেবারেই সময় লাগে না।

ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখে: আমাদের দেশে প্রতি বছর যে হারে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তাতে কুমড়ো খাওয়ার প্রয়োজনও যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ এই সবজিটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দেহের অন্দরে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে: হাওয়ার্ড ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে শরীরে ডায়াটারি ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে কোনও ধরনের করনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। সেই সঙ্গে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। তাই তো এই উপাদানটির মাত্রা যাতে শরীরে কোনও কম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর সেই কারণেই তো নিয়মিত কুমড়ো খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই সবজিতে যে পরিমাণে ফাইবাররয়েছে, তা হার্টের খেয়াল রাখার জন্য যথেষ্ট।

 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: নিয়মিত কুমড়ো খেলে শরীরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই দুটি উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধী সিস্টেমকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না। শুধু তাই নয়, কোনও ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
বিস্তারিত

পায়ের পেশীতে ব্যাথা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ

৩৮ বছর বয়সী সমীর সিনহা তার পায়ের পেছনের মাংসপেশীতে প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করার সময় ব্যাথা অনুভব করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একটু জোরে হাঁটলে ব্যাথা আরো বেশি অনুভুত হয়। তবে বসে পড়লে আর ব্যাথা থাকে না।

অবশেষে একদিন তিনি ডাক্তার দেখাতে গেলেন। ডাক্তার তাকে বেশ কিছু টেস্ট করাতে দেন। টেস্টে ধরা পড়ে সমীর পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ (পিএডি)-তে আক্রান্ত। পিএডি এমন একটি লক্ষণ যা নির্দেশ করে যে আপনার ধমনী আপনার পায়ে যে রক্ত সরবরাহ করছে তা প্রদাহযুক্ত, দূর্বল বা অবরুদ্ধ। সময় মতো ডাক্তার দেখানোয় বেঁচে যান সমীর।

আমাদের বেশিরভাগেরই হার্টঅ্যাটাকের তীব্রতা সম্পর্কে বুঝ থাকলেও লেগ অ্যাটাক সম্পর্কে আমরা একদমই সচেতন নই। পুনের রুবি হল ক্লিনিকের ভাসকুলার অ্যান্ড এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ড. ডি আর কামারকার বলেন, “সধারণত একজন রোগী তখনই পায়ের নিচের অংশের পেছনের মাংসপেশীতে এবং উরুতে ব্যথা অনুভব করেন যখন পায়ে রক্ত চলাচলের শিরা-উপশিরাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে আসে বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি লেগ অ্যাটাক হিসেবেও পরিচিত। পিএডির প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ঘটে। ব্লক যদি খুব তীব্র হয় তাহলে রোগীরা অবিরত জ্বালাপোড়ামূলক ব্যাথা অনুভব করেন। পায়ের আঙ্গুলগুলোর রঙ চটে যায় বা এমনকি গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। যার ফলে আবার পায়ের আঙ্গুলগুলো কালোও হয়ে যেতে পারে।”
পায়ের পেশীতে ব্যাথা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ধূমপায়ীদের মধ্যে এ ধরনের পায়ের ব্যাথা দেখা দিলে সঙ্গেই সঙ্গেই সতর্ক হতে হবে।

৫০০ মিটারের কম দূরত্ব হাঁটলে যদি আপনার পায়ে বা পশ্চাদ্দেশের মাংসপেশীতে ব্যাথা অনুভুত হয় তাহলে আজই আপনিও পিএডির ডাক্তারি টেস্ট করান। এর আরো কিছু লক্ষণ হলো, পায়ের নিম্নাংশের ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং লোম পড়ে যাওয়া।

জীবন-যাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পিএডির ঝুঁকি কমে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে, ডায়েট কন্ট্রোল, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হাঁটাহাঁটির মতো সাধারণ ব্যায়াম। এছাড়া সাইকেল চালানোর মাধ্যমেও পিএডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

মানসিক চাপও দেহের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং তাও এড়িয়ে চলতে হবে।
বিস্তারিত

লাল আটার রুটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে - জানেন কি ?

লাল আটার রুটির চেয়ে আমরা ইদানিং রিফাইন করা ময়দার রুটি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে যে রিফাইন করা ময়দা বিভিন্ন ধাপে আমাদের খাওয়ার উপযুক্ত হয় বলে এর স্বাস্থ্যকর গুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। অপরপক্ষে লাল আটার রুটিতে ভিটামিন এবং মিনারেলের মাত্রা সঠিক পরিমাণে থাকে বলে তা আমাদের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর।

খাদ্য উপাদানঃ সাধারণত পুষ্টিকর খাবারে ৫ ধরনের উপাদান থাকে। শক্তি উৎপাদক শর্করা, প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ফ্যাট, ভিটামিন এবং মিনারেল। যেকোনো ধরনের শস্যদানাতে এই উপাদানগুলো থাকে যেগুলো আমাদের দেহে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ শক্তি জুগিয়ে থাকে এবং কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

বিভিন্ন ফলমূল এবং শাকসবজিতেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মিনারেল থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারি। সব ধরনের গমের আটা এবং সাদা ময়দাতেও, সাদা ভাত বা বাদামি ভাতেও প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ থাকে।
লাল আটার রুটি কতটুকু স্বাস্থ্যকর
গমের আটা স্বাস্থ্যসম্মত ও খুবই পুষ্টিকর। কেননা গমের বাইরের লাল বা বাদামি আবরণে অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। এই আবরণ ম্যাগনেশিয়াম নামক খাদ্য উপাদানে ভরপুর

কিন্তু খেতে সুস্বাদু হলেও রিফাইন বা পরিশোধিত সাদা আটার পুষ্টিগুণ অনেক কম। অত্যধিক পরিশোধনের ফলে দেহের জন্য উপকারী কিছু ভিটামিন ও মিনারেল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ময়দায় আঁশের পরিমাণ কম, এর গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি।

লাল আটার রুটির উপকারিতাঃ গবেষণায় দেখা গেছে, লাল আটার অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ রক্তের কলেস্টোরেল কমাতে সাহায্য করে। এই আটায় লিগনান নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। লাল আটার অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ ডায়াবেটিস রোগের জন্য উপকারী।

কারণ এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী। প্রচুর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লাল আটা ওজন কমাতে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।

পুষ্টিগত পার্থক্যঃ সাদা আটার রুটি ও বাদামি আটার রুটির মধ্যে পুষ্টিগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন ৩৮গ্রাম সাদা আটার রুটিতে ৮৭ ক্যালোরি, ফ্যাট ৭, কার্বোহাইড্রেট ১৬.০ গ্রাম, খাদ্য আশঁ ১.৫ গ্রাম এবং প্রোটিন ৩.৪ গ্রাম পক্ষান্তরে ৪৬ গ্রাম বাদামি আটার রুটিতে ১২৮ ক্যালোরি, ফ্যাট ২.৫গ্রাম ,কার্বোহাইড্রেট ৯০.১ গ্রাম,খাদ্য আশঁ ২.৮ গ্রাম এবং প্রোটিন ১৫.৫গ্রাম।

সুতরাং দেখা যায় সাদা আটার রুটি থেকে বাদামি আটার রুটির মধ্যে পুষ্টিগুন অনেক বেশি।

বাদামি অন্যান্য খাবারঃ বাদামি যেকোনো খাবারই অন্যান্য সাদা খাবারের তুলনায় অনেক বেশি উপকারি। যেমন ধরুন সাদা চিনির চেয়ে বাদামি চিনি, সাদা ডিমের চেয়ে বাদামি ডিম। এক গ্রাম সাদা চিনিতে যতটুকু না ক্যালরি পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায় বাদামি চিনিতে।

এছাড়া সাদা চিনির তুলনায় বাদামি চিনিতে একটু বেশি পরিমাণে মিনারেলও পাওয়া যায়। তবে সাদা বা বাদামি রঙের ডিমের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এর পুষ্টিগুণ নির্ভর করে মুরগির ডিম পাড়ার উপরে। স্বাভাবিকভাবেই রিফাইন করা যেকোনো খাদ্যের পুষ্টিগুণ রিফাইনমুক্ত খাবারের চেয়ে কম।
বিস্তারিত

Monday, January 15, 2018

সকালে খালি পেটে এই ৭টি খাবার খাওয়া একদমই উচিত নয়

সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে আপনি কোন খাবারটি খান? চা, পানি নাকি নাস্তা? অনেকেই সকালের নাস্তায় এমন কিছু খাবার খেয়ে থাকেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। তবে এই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য রয়েছে সঠিক সময়। এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, কিছু খাবার আছে যা খালি পেটে খাওয়া একদম উচিত নয়। এই খাবারগুলো পেটে এসিড সৃষ্টি করে, যা থেকে পরবর্তীতে অন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যদি এই খাবারগুলো আপনাকে খালি পেটে খেতেই হয় তবে তার আগে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করে নেবেন।

কফি:- অনেকেই দিনের শুরুটা এক কাপ কফি পান করে শুরু করে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন খালি পেটে কফি পান স্বাস্থ্যের জন্য কতটুক ক্ষতিকর? এটি পেটের ভিতর গ্যাস বৃদ্ধি করে অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করে। যা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ তৈরি করে।

সোডা:- সোডাতে আছে উচ্চ পরিমাণে কাবোর্নেটেড এসিড। এটি খালি পেটে খেলে এই এসিড পেটের গ্যাসের সাথে মিলে অ্যাসিডিটি সমস্যা তৈরি করে থাকে। যা থেকে বমিবমি ভাবও সৃষ্টি হতে পারে।
সকালে খালি পেটে এই ৭টি খাবার খাওয়া একদমই উচিত নয়
ওষুধ:- সকালে একদম খালি পেটে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে ওষুধ খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি হয় যা বুক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে থাকে।

টমেটো:- টমেটোর মত স্বাস্থ্যকর খাবারও খালি পেটে খেলে শরীরের অনেক ক্ষতি হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যমান এসিড গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এসিডের সাথে মিশে পাকস্থলীতে বিক্রিয়া করে এক ধরনের অদ্রবণীয় জেল তৈরি করে, যা থেকে পাকস্থলীতে পাথর হতে পারে।

ঝাল জাতীয় খাবার:- অনেকেই সকালের নাস্তায় ঝাল খাবার খেয়ে থাকেন। ঝাল খাবার থেকে অ্যাসিড বিক্রিয়া করে পেটে জ্বালাভাব তৈরি করে। নিয়মিত ঝাল খাবার খাওয়ার কারণে আলসারের মত মারাত্নক রোগও সৃষ্টি হতে পারে।

দই:- দই স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী একটি খাবার। কিন্তু খালি পেটে খাওয়া অনেক বেশি ক্ষতিকর। দইয়ের মধ্যে বিদ্যমান ভালো ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর আবরণের রসের সাথে মিশে পেটের ক্ষতি করে থাকে।

মিষ্টি আলু:- মিষ্টি আলুতে রয়েছে পেকটিক এবং ট্যানিন রয়েছে যা পেটে গ্যাস সৃষ্টি করে যা বুক জ্বালাপোড়ার কারণ হয়।
বিস্তারিত

Sunday, January 14, 2018

সবুজ কফি বীজের বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা

সিদ্ধ করা হয়নি এমন কফি বীজকে গ্রিন কফি বিন বলে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী পুষ্টি উপাদানে ভরপুর থাকে যা আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। সবুজ কফি বীজের নির্যাস স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত উপকারিতাও আছে এর। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক গ্রিন কফি বিনের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়ে।

ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধঃ যদিও কফি বীজ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার নয়, তবুও এতে কিছু ভিটামিন এবং মিনারেল ও থাকে। এক কাপ তরল কফি বীজে ৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১১৬ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ০.৫ মিলিগ্রাম জিংক থাকে। এতে ভিটামিন বি ৬, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নায়াসিন এবং ফোলেট থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়ঃ সবুজ কফি বীজে ক্লোরোজেনিক এসিড থাকে যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় জানা যায় যে, ১৪০ মিলিগ্রাম সবুজ কফি বীজের নির্যাস প্রতিদিন গ্রহণ করলে রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ কমে। এর ফলে কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি।
সবুজ কফি বীজের বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা
ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ সবুজ কফি বীজের ক্লোরোজেনিক এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি কার্যকরী প্রতিনিধি। ক্লোরোজেনিক এসিড পাকস্থলীর কার্সিনোজেনিক যৌগকে নিরপেক্ষ করার ক্ষমতা রাখে। সবুজ কফি বীজের নির্যাস গ্রহন করলে শরীরে এই এসিড প্রবেশ করে এবং ক্যান্সার হওয়াকে প্রতিরোধ করে।

মেজাজের উন্নতি ঘটায় এবং জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ সবুজ কফি বীজে যে ক্যাফেইন থাকে তা মেজাজের উপর এবং মস্তিষ্কের উপর ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ক্যাফেইন স্মৃতি, সতর্কতা, ফোকাস, ক্লান্তি সহ্য করার ক্ষমতা এবং জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

কার্ডিওভাস্কুলার সুরক্ষা দেয়ঃ নিয়মিত সবুজ কফি বিনের নির্যাস পান করলে হাইপারটেনশন হওয়ার ঝুঁকি কমে। এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ক্লোরোজেনিক এসিড। এর ফলে ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধে না এবং হাইপারটেনশন এমনকি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ও ঝুঁকি কমে।

ওজন কমতে সাহায্য করেঃ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সবুজ কফি বীজ এক্সারসাইজ, ডায়েটিং বা নিজস্ব রুটিনের কোন পরিবর্তন করা ছাড়াও ওজন কমতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধঃ সবুজ কফি বীজ এবং এদের থেকে উৎপন্ন পণ্যে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোষ ধ্বংসকারী ফ্রি র্যােডিকেলের প্রভাব কমতে সাহায্য করে।
বিস্তারিত

Friday, January 12, 2018

কোলেস্টেরল কমানোর ৭টি বিস্ময়কর উপায়

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, চর্বি ও চিনি বেশি খাওয়া শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে কোলেস্টেরল কমানোর সাত উপায়ের কথা।

১. এড়িয়ে চলুন ট্রান্স ফ্যাটঃ কোলেস্টেরল কমানোর একটি প্রাকৃতিক উপায় হলো ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারগুলো এড়িয়ে চলা, যেমন—বার্গার, পিৎজা, চিপস ইত্যাদি। ট্রান্স ফ্যাট বাজে কোলেস্টেরল বাড়ার প্রধান কারণ।

২. মুরগির মাংস খানঃ লাল মাংস, যেমন—গরু, খাসি ইত্যাদি বাদ দিয়ে খাদ্যতালিকায় মুরগির মাংস বা লিন মিট রাখুন।
কোলেস্টেরল কমানোর ৭টি বিস্ময়কর উপায়
৩. ওটস খানঃ কোলেস্টেরল কমানোর আরেকটি উপায় হলো প্রতিদিন সকালে ওটস খাওয়া। ওটসের মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটি কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করে।

৪. ব্যায়াম করুনঃ প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। পুস আপ, লেগ লিফটস, হিপ রোটেশন ইত্যাদি করতে পারেন।

৫. ফল খানঃ কোলেস্টেরল কমাতে ফল খান। অধিকাংশ ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ। এগুলো শরীর থেকে বাজে কোলেস্টেরল কমায়।

৬. দারুচিনির কফিঃ গবেষণায় বলা হয়, কফিতে দারুচিনি যোগ করলে কোলেস্টেরল কমে। তাই এটিও খেয়ে দেখতে পারেন।

৭. মাছ খানঃ কোলেস্টেরলের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য মাছ খুব উপকারী। তাই খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন।
বিস্তারিত

Wednesday, January 10, 2018

চিরতা সারাবে ডায়াবেটিস-অ্যাজমা ! দেখুন ব্যবহার এবং কার্যকারিতা

আয়ুর্বেদিক উপাদান হিসেবে চিরতা পরিচিত একটি নাম। ওষুধি গুণাগুণের জন্য অতি প্রাচীনকাল থেকেই এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিতা স্বাদের চিরতার পাতা, ডাল ও কাণ্ড সবই ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক- উভয় অংশের রোগ নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

চিরতার ব্যবহার

সাধারণত চিরতা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সে পানি পান করা হয়। প্রাচীন ভারতে এটি ম্যালেরিয়ার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নিয়মিত সকালে খালি পেটে চিরতার পানি পান করলে পেট পরিষ্কার থাকে।

চিরতার কার্যকারিতা

চিরতা শরীরের বিভিন্ন অংশের জ্বালাপোড়া দূর করে। জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্যানসার, পাইলস, চর্মরোগ ও অন্ত্রের কৃমি দূর করে। একইসঙ্গে চিরতা লিভার ও পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়, ক্ষুধা উদ্দীপক এবং হজমে সহায়তা করে।
চিরতা সারাবে ডায়াবেটিস-অ্যাজমা ! দেখুন ব্যবহার এবং কার্যকারিতা
ত্বকের যে কোনো সমস্যা যেমন- ব্রণ, ইনফেকশন, জ্বালাপোড়া, দাগ, চুলকানি, লালচে ভাব, পোড়াদাগ দূর করতে চিরতার পানি সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। যাদের ত্বকে ফুসকুড়ি রয়েছে তারা গোসলের পানিতে চিরতার রস ব্যবহার করতে পারেন। চিরতা রক্ত থেকে টক্সিন দূর করে ও রক্ত পরিষ্কার করে। ডায়রিয়া ও জন্ডিস নিরাময়ক এ ভেষজ উপাদানটি চোখ, হার্ট এবং অ্যাজমা রোগীদের জন্যও সমান উপকারী।

চিরতার পানি ডায়াবেটিস রোগীদের শারিরীক দুর্বলতা কাটিয়ে তোলে ও ব্লাড সুগার স্বাভাবিক রাখে। চিরতার তিক্ততা মুখের লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসরণ ও পাচক রস উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে অতিরিক্ত তেষ্টাবোধ ও মাংসপেশির স্ফীতি রোধ হয়। তবে মনে রাখা দরকার, দিনে একগ্লাসের বেশি চিরতার পানি খাওয়া ঠিক না।
বিস্তারিত

Sunday, January 7, 2018

যেসব খাবার ফুসফুস পরিষ্কার রাখবে

আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে ফুসফুস অন্যতম। এটি সাধারণত আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই চালিত হয়। কাজেই ফুসফুস চারপাশের বায়ু থেকে নানা ক্ষতিকর উপাদান গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের নানা সমস্যা বিশেষ করে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, সাইটিক ফিব্রোসিস প্রভৃতি হতে পারে।

কাজেই এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ব্যায়াম, বায়ু দূষণ এড়ানো এবং ধূমপান না করা প্রভৃতি অনেক জরুরি। তবে এগুলোই যথেষ্ট নয়। সুস্থ থাকতে একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখতেই পারেন যা আপনার ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

প্রাকৃতিকভাবে ফুসফুস পরিষ্কার রাখবে যেসব খাবার

রসুন:- রসুনে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার অ্যালিসিন রয়েছে। এগুলো প্রদাহের নানা সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যাজমা সমস্যা সমাধানেও রসুন অনেক বেশি কার্যকরী। সেইসঙ্গে এটি ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়।

আদা:- অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকায় আদাও ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এজন্য নিয়মিত আদা-চা খেতে পারেন। চাইলে এর সঙ্গে লেবুও যোগ করতে পারেন। এগুলো শ্বাসনালীর বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দিতে ভূমিকা রাখে।
যেসব খাবার ফুসফুস পরিষ্কার রাখবে
হলুদ:- রসুন এবং আদার মতো হলুদেও অ্যান্টি-আনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট রয়েছে, যা ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আপেল:- আপেলে ফ্লাভোনয়েড নামে এমন এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যেটি শ্বাসনালীর সিস্টেমকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এই খাবারটি ফুসফুসের নানা সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

আঙ্গুর:- আঙ্গুরে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল এবং ভিটামিন রয়েছে, যা ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে এই খাবারটি প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা উচিত। এটি ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বেদানা:- ফুসফুসের নানা ক্ষতি এড়াতে এই খাবারটির জুড়ি মেলা ভার। কাজেই ফুসফুস ভালো রাখতে নিয়মিত এই খাবারটি খান।

বাদাম এবং মটরশুঁটি:- প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় অ্যাজমা রোগীদের এসব খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের দক্ষতা উন্নত করতেও সাহায্য করে।

পেস্তা বাদাম:- ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পেস্তা বাদামের তুলনা নেই। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাবারটি ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখে পেস্তা বাদাম।

গোলমরিচ:- শ্বাসনালীর যে কোন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে গোলমরিচ। কাজেই ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত এই খাবারটি খান।

পেঁয়াজ:- পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড বিশেষ করে ভিটামিন বি৬ এবং সি রয়েছে। এই ভিটামিনগুলো শরীরের জন্য অনেক উপকারী। শুধু তাই নয়, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এটি।

উপরোক্ত খাবারগুলো ছাড়াও এমন কিছু খাবার যেমন ব্রোকলি, ফুলকপি, গাজর, টমেটো, কুমড়া ইত্যাদি রয়েছে, যা ফুসফুসকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফুসফুস পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাও সমান জরুরি। কাজেই ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে একটি সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলে ফুসফুসের নানা জটিলতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
বিস্তারিত

Saturday, January 6, 2018

কলার ১২টি অসাধারণ স্বাস্থ্য গুণ - যা আপনার হয়তো অজানা

কলা বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় একটি ফল। মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি বেশ সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি খাবার। কলা শরীরে শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় আছে ১১৬ ক্যালোরি, ক্যালসিয়াম ৮৫মি.গ্রা., আয়রন ০.৬মি.গ্রা. , অল্প ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ৮মি.গ্রা., ফসফরাস ৫০মি.গ্রা.,পানি ৭০.১%, প্রোটিন ১.২%, ফ্যাট/চর্বি ০.৩%, খনিজ লবণ ০.৮%, আঁশ ০.৪%,শর্করা ৭.২%।

কলার স্বাস্থ্য গুণ সমূহ

১. কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী আছে। তাই মাত্র একটি কলা খেলেই অনেক সময় পর্যন্ত সেটা শরীরে শক্তি যোগায়।

২. যারা রক্ত শূন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য কলা খুবই উপকারী একটি ফল। কারণ কলায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে।
কলার ১২টি অসাধারণ স্বাস্থ্য গুণ - যা আপনার হয়তো অজানা
৩. কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। তাই নিয়মিত কলা খেলে হাড় ভালো থাকে।

৪. যারা নিয়মিত বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভুগেন তারা প্রতিদিন একটি করে কলা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন সহজেই।

৫. কলায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।

৬. কলায় ট্রিপ্টফ্যান আছে যা সেরোটনিনে রূপান্তরিত হয়ে মন ভালো করে দিতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত কলা খেলে বিষণ্ণতা দূর হয়।

৭. সবচেয়ে বড় কথা হলো স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী।

৮. প্রায় দুই মিনিট ধরে কলার খোসা দাঁতের উপর ঘষলে এটি দাঁতের উপরে থাকা ময়লা ও দাগ দূর করে দাঁতকে সাদা করে তুলবে। মিনারেলে ভরপুর কলার খোসা দাঁতকে সাদা ঝকঝকে করে তুলতে পারে।

৯. ডায়রিয়া হলে শরীরে পানি শূন্যতা হয়ে যায় এবং শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। এসময়ে কলা খেলে শরীরের পটাশিয়ামের অভাব দূর হবে এবং হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

১০. কলায় ফ্যাটি এসিডের চেইন আছে যা ত্বকের কোষের জন্য ভালো এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই ফ্যাটি এসিড চেইন পুষ্টি গ্রহণ করতেও সাহায্য করে।

১১. কলা মন ভালো করে দেয়। কলায় ট্রাইপটোফ্যান আছে যা সেরোটনিনে রূপান্তরিত হয়ে মন ভালো করে দিতে সাহায্য করে।

১২. কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো। স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী।
বিস্তারিত

Friday, January 5, 2018

ভেষজ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এক মজার ফল ডেউফল বা ডেউয়া!

কিছুকিছু ফল আছে যেগুলোর খুব একটা পরিচিতি না থাকলেও তাদের রয়েছে অসাধারণ ভেষজ  পুষ্টিগুণ। ডেউফল বা ডেউয়া হলো তাদের মধ্যে অন্যতম। অঞ্চলভেদে এই ফল মানুষের কাছে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ঢেউয়া, ডেলোমাদার, ডেউফল, ঢেউফল ইত্যাদিও বলা হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল হলেও শহরাঞ্চলে এটি একটি অপ্রচলিত ফল। আগে  গ্রামে এ ফলের চাষ হয় করা হত। তবে বর্তমানেএই ফলের চাষ  খুব একটা দেখা যায় না।

বিশাল আকৃতির ডেউয়া গাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। পাতাগুলো বড় এবং খসখসে, অনেকটা ডুমুরের পাতার মতো। এক একটি গাছ ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। এর কাঠ বেশ উন্নত মানের, বড় বড় জিনিসের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাছে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ফুল আসে এবং জুন মাসের দিকে ফল পাকতে শুরু করে।

ডেউয়া কাঁঠালের মতো গুচ্ছফল। বাইরের অংশটি থাকে অসমান। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ হয়। ফলের কাঁঠালের মতো ছোট ছোট কোষ থাকে। পাকা ফলের কোষের রং হয় লালচে হলুদ বা লালচে কালো। এই ফল পুরোপুরি গোলাকার হয় না। ফলটির গায়ে উঁচু-নিচু হয়। কাঁচা টক টক স্বাদ। কিন্তু পাকলে সেটা তখন অন্য স্বাদ। সেটা টকও নয়, আবার মিষ্টিও নয়। এই ফলটি অনেক উপকারী। যা অনেকেরই অজানা।
ভেষজ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এক মজার ফল ডেউফল বা ডেউয়া!
বর্তমানে  মেদভুঁড়ি বৃদ্ধি একটা সাধারণ সমস্যা। যার কারনে আমরা অন্যান্য অসুখ বাঁধিয়ে ফেলছি প্রতিনিয়ত।  এ জন্য যারা এ সমস্যায় ভুগছেন তারা ডেউয়া ফলের রস এক থেকে দেড় চামচ ঠাণ্ডা পানিতে মিশিয়ে রোজ একবার করে এক মাস খেলে উপকার পাবেন। তবে ১২ মাস তো এ ফল পাওয়া যায় না, এ জন্য যখন পাওয়া যাবে তখন কেটে রোদে শুকিয়ে রাখতে হয়।

এছাড়া পেটে বায়ু জমলে পাকা ডেউয়ার রস দেড় চামচ আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে অল্প চিনি নিয়ে প্রতিদিন একবার এক সপ্তাহ খেলে উপকার হবে। অনেকের অসুস্থতার কারণে মুখে রুচি থাকে না, তারা উপকার পাবেন। দু-তিন চামচ ডেউয়ার রস ও সাথে একটু লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে দুপুরবেলা ভাত খাওয়ার আগে খেতে হবে। এক সপ্তাহ খেলেই মুখে রুচি আসবে।

আবার অনেকের বিভিন্ন প্রকার খাবার খেলেও পেট পরিষ্কার হয় না। অস্বস্তিতে ভোগে। তারা কাঁচা ডেউয়া কেটে ৮-১০ গ্রামের মতো বেটে গরম পানিতে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ওই পানি খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। যা সকালে বাসি পেটে খেতে হবে।

ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয় ডেউয়া ফলকে। এগুলো ছাড়াও ডেউয়া ফলে রয়েছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডেউয়া ফলের খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে –

খনিজ- ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি- ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ- ০.৭ গ্রাম, শর্করা- ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ- ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি- ১৩৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম- ৩৪৮.৩৩ মিলিগ্রাম।

দেখতে অদ্ভুত এবং ভিন্ন স্বাদের ডেউয়া ফল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি এর রয়েছে বেশ কিছু ভেষজ গুণও। নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হল-
  • যকৃতের নানা অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে ডেউয়া।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের কারণে পেটব্যথা কমাতে সহায়তা করে ফলটি।
  • পেট পরিষ্কার করতে কাঁচা ডেউয়া ৮-১০ গ্রাম বেটে নিয়ে গরম পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।
  • গাছের ছালের গুঁড়ো ত্বকের রুক্ষতা দূর করে এবং ব্রণের দুষিত পুঁজ বের করে দেয়।
  • ডেউয়ার ভিটামিন সি ত্বক, চুল, নখ, দাঁত ও মাঢ়ির নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করে।
  • ডেউয়াতে বিদ্যমান পটাশিয়াম রক্ত চলাচলে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

এমন আরো অপরিচিত ও অচেনা ভেষজ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল গুলো হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। যার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব প্রয়োজন।
বিস্তারিত

Thursday, January 4, 2018

বিরক্তিকর নাক ডাকা বন্ধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় কী ?

কেউ নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে ভাবলেই মনে হবে আহ্ লোকটা কী শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু নাকডাকা মোটেই কোনো শান্তির লক্ষণ নয়। নাকডাকার পেছনে বেশ কিছু অসুখ দায়ী। এর মধ্যে আছে প্রাণঘাতী অসুখও। আর যদি বিছানা কারো সঙ্গে শেয়ার করতে হয়, তাহলে নাকডাকার কারণে ওই সঙ্গীর ঘুমের বারোটা বেজে যেতে পারে। পাশ্চাত্যে অনেক বিয়ে ভেঙে যায় শুধু নাকডাকার কারণে।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন অনেকেই। যিনি নাক ডাকেন, তাঁর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে আর অবধারিতভাবেই পাশের মানুষটির জন্য হয়ে ওঠে চরম বিরক্তিকর। সাধারনত, মধ্যবয়স্ক ৪০ ভাগ পুরুষ ও ২০ ভাগ নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন।অথচ সাধারণ কতগুলো নিয়ম মেনে চললে নাক ডাকার এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।
বিরক্তিকর নাক ডাকা বন্ধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় কী ?
ভুক্তভোগীর কথা- আমার কলেজ জীবনের সহপাঠি ঘনিষ্ট বন্ধু শোভন আমার রুমমেট। তার নাকডাকার পরিমান এত বেশী যে আমার ঘুম আসতে খুবই কষ্ট হয়। গভীর সম্পর্কের কারনে কিছু বলতে ও পারি না। অনেকটা সহ্য করেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে কমপিউটার নিয়ে বসে থাকি।কয়েক দিন আগে তাকে নিয়ে ডাক্তারের  কাছে গিয়েছিলাম ডাক্তার কোন ঔষধ না দিয়ে কিছু পরামর্শ দেয়।

কিন্ত পরামর্শে কোন কাজ হচ্ছে না। বরং আমার বন্ধু আমার জন্য কানের তুলি নিয়ে আসে যাতে ওর নাক ডাকার আওয়াজ আমার কানে না আসে।তারপরও কাজ হচ্ছে না। তার নাক ডাকার আওয়াজ এত বেশী যে তুলি ব্যবহারের পর হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনলেও আওয়াজ আমার কানে আসে। তবে এই পদ্ধতিতে আমার বন্ধুর কোন উপকার না হলেও আমার কিছু উপকার হয়েছে অন্য কোন আওয়াজ না আসায় আমার সকাল বেলার ঘুম ভাল হয়।

সবার আগে জেনে নিই মানুষ কেন নাক ডাকে?

ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথে কোনো বাঁধা পেলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কাঁপুনির সৃষ্টি করে। এরই ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়।
  • ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গলার চারপাশের চর্বি জমা হয়।
  • গলার পেশির নমনীয়তা কমে গেলে।
  • জন্মগত কারণে শ্বাসযন্ত্র সরু হলে বা চোয়ালে কোনো সমস্যা থাকলে।
  • ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধ এই সমস্যা বাড়ায়।
  • থাইরয়েডের সমস্যা ও গ্রোথ হরমোনের আধিক্যজনিত রোগে।
যখন কারও নাক ডাকে, তখন তাকে লক্ষ্য করলে দুটো জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। যার নাক ডাকছে সে চিত হয়ে শুয়ে আছে আর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। গভীর ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস খুব গভীর হয়। একে বলে গভীর শ্বাস। চিত হয়ে থাকার সময় আমাদের জিভ গলবিলের ভিতর ঠেলে যায়। ফলে বাতাসের পথ সংকীর্ণ হয়ে আসে। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস ওই সংকীর্ণ পথে ঢুকতে গিয়ে বাধা পায়। ফলে বাতাসের বেগ আরও বেড়ে যায়। তালুর পিছনে যে নরম তালু রয়েছে, বাতাসের চাপে তাতে কাঁপন হয়। এর ফলে যে শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকেই আমরা নাসিকা গর্জন বা নাকডাকা বলে থাকি।

যে অসুখে নাক ডাকে

সাধারণত মুটিয়ে গেলে, নাকের সাইনাসে সমস্যা থাকলে, নাকে পলিপ থাকলে কিংবা অ্যালার্জির কারণে মানুষ যখন ঘুমিয়ে যায় তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বিশেষ শব্দ হয়। এ শব্দই নাকডাকা। তাছাড়া স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে নিঃশ্বাস সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া নামের একটি অসুখের কারণে বহু মানুষ নাকডাকে। এ অসুখের কারণে শ্বাস বন্ধ হয়ে ঘুমের মধ্যে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জীবনের কোন একটা পর্যায়ে কমবেশি সবাই নাক ডাকায় অভ্যস্ত থাকে৷ বিশেষ করে শরীরের ওজন যাদের মাত্রাতিরিক্ত তাদের বেলায় এই প্রবণতা একটু বেশি৷

গবেষকদের মতে, পুরুষদের মধ্যে ৪০ এবং মহিলাদের মধ্যে ২৪ ভাগই নাক ডাকায় অভ্যস্ত৷ ঘুমের ঘোরে নাক ডাকলেও এদের কেউই তা টের পান না কিংবা টের পেলেও দোষের কিছু মনে করেন না তারা৷ কিন্তু আশেপাশে অবস্থানকারীদের এটি মহাবিরক্তির কারণ৷ স্বামীর নাকডাকা অভ্যাস সহ্য করতে না পেরে আলাদা বসবাস এমনকি বিয়ে বিচ্ছেদের মতো ঘটনার নজিরও চোখে পড়ে৷ চোখে পড়ে এর উল্টোটিও৷ এসবের কথা বাদ দিয়েই বিজ্ঞানীরা শুনিয়েছেন এ সংক্রান্ত এক ভয়ংকর তথ্য৷ তাদের মতে, উচ্চগ্রামে নাকডাকা অভ্যাসের সঙ্গে রয়েছে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের নিবিড় যোগসূত্র৷

হাঙ্গেরির একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি ১২ হাজার নারী-পুরুষের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন৷ এ সময় তাদের কাছে নাকডাকা অভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য৷ প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তের উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা একটি নিবন্ধ রচনা করেন৷ ঐ নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, শরীরের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হলে নাকডাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে৷ আর এ কারণেই ঘুমের ঘোরে যারা নাকডাকায় অভ্যস্ত অন্যদের তুলনায় তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে ৩৪ ভাগ বেশি৷ পক্ষান্তরে, সাধারণ লোকের চেয়ে তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে ৬৭ ভাগ৷ গবেষকদের ভাষায়, উচ্চগ্রামে নাকডাকা ও শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেলার প্রবণতা থেকে সহজেই হৃদরোগ সনাক্ত করা হয়৷ তাদের মতে, একেবারে নীরবে যারা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ-বর্জন করেন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একেবারেই কম৷

সমাধান কি ?

বিজ্ঞান বলছে, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা মানেই অসুস্থতা, তা কিন্তু নয়৷ বার্লিনের শারিটে ইউনিভার্সিটির স্লিপ মেডিসিন বিভাগের প্রধান গবেষক আলেকজান্ডার ব্লাউ বেশ দীর্ঘ গবেষণার পর জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই নাকডাকা কোন একটা অসুস্থতার লক্ষণ, কিন্তু সব ক্ষেত্রে সেটা বাস্ততবসম্মত নয়।

কিন্তু ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ সম্পর্কে জার্মান গবেষণাকেন্দ্র ডিজিএসএম- এর ইয়ান লোয়লার বলছেন, নাকের হাড়ের গঠনে বিচ্যুতি থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মদ্যপান, নাক ডাকার কারণ একটি নয় অনেকগুলো। সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, যে সমস্ত ব্যক্তির নাক ডাকে বিস্তর পরিমাণে, তাঁদের কিন্তু সতর্ক হওয়া দরকার, কারণ নাক ডাকা বড়মাপের অসুস্থতা ডেকে আনতে পারে।

ডিজিএসএম এর গবেষণা বলছে, যে সব মানুষ ঘুমের মধ্যে বিস্তর পরিমাণে নাক ডাকায় ভোগেন, তাঁদের চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয়, ম্যালিগন্যান্ট স্নোরিং। বিশদভাবে বললে, অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ আপনিয়া (Obstructive Sleep Apnea) বা সংক্ষেপে ওএসএ। যারা এই ওএসএ-র শিকার তাঁদের অনেকেই ভোগেন হার্টের সমস্যায়। এদের মধ্যে কারও যদি থাকে উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের মত রোগ, তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকতে ডাকতে অনেক সময় ত্রিশ সেকেন্ড পর্যন্ত কোন অক্সিজেন শরীরে পৌঁছায় না সেই ব্যক্তির। রক্তে কার্বনের পরিমাণ বাড়তে থাকে৷ সেটা তো মস্ত এক জটিলতা।

ডিজিএসএম তাদের গবেষণায় বলেছেন, যারা এই ওএসএ তে ভুগছেন, সচরাচর সারারাত নাক ডেকে ঘুমিয়েও পরের দিনটা তাঁরা অবসন্ন বোধ করেন, ঝিমুনি আসে, কাজে ছন্দ পান না। তার কারণটাও ওই রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা তাঁদের জন্য জরুরি।দ্রুত এই সমস্যা দূর করার উপায়ও বলেছে ডিজিএসএম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়াটা জরুরি। ঘুমের আগে কোন অবস্থাতেই অ্যালকোহল পান না করা দরকার এবং সেইসঙ্গে চিকিৎসা তো অবশ্যই।

নিজস্ব কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন প্রাথমিকভাবে
  • চিৎ বা উপুড় হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমান।
  • মুটিয়ে গিয়ে থাকলে ওজন কমান।
  • নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিশ্চিত হোন নাকে কোনো অসুখ আছে কি না।
স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার রোগ আছে কি না, তা দেখান। দেশের বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে এখন এ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হচ্ছে। অনেক সময় চিত হয়ে ঘুমালে জিব পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়।

নাক ডাকা কমাতে কিছু কার্যকরি পদ্ধতির ব্যবহার হয়তো অনেকেই  জানেননা । বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী  এবার  দেখুন এই পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করে আপনি নিজে অথবা প্রিয়জনকে  নাক ডাকা থেকে মুক্তি দিতে পারেন কি না ? আর যদি কোন পদ্ধতিতেই কাজ না করে তাহলে একজন রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে কিছু দিন প্রপার ট্রিটমেন্ট নিয়ে দেখতে পারেন। হয়তো আশানুরূপ ফল পেতে পারেন। 
বিস্তারিত

Wednesday, January 3, 2018

ঔষধি গুণে ভরপুর দূর্বাঘাস - কখন কিভাবে ব্যবহার করবেন ফর্মূলা দেখুন

আমাদের চারপাশেই নানা প্রজাতির ঔষধি গাছপালা, লতাপাতা, ঘাস ইত্যাদি রয়েছে। যেগুলো হাতের নাগালেই পাওয়া যায়। এগুলো হতে পারে পুষ্টিকর খাবার কিংবা ঔষধি গুণে ভরপুর। তেমনি গুণ সম্পন্ন একটি উদ্ভিদ হচ্ছে দূর্বাঘাস।

দূর্বাঘাস শুধুমাত্র প্রাণিদেরই খাদ্য নয়। এটি মানুষেরও পুষ্টিকর আহার! ঔষধি গুণে ভরপুর হওয়ায় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে একে মহাঔষধ বলে। আজ জানব এই দূর্বাঘাসের বিভিন্ন গুণাগুণ।

দূর্বাঘাসের গুণাগুণ: চিকিৎসায় দূর্বাঘাস ব্যবহারের উপায়-
  • দূর্বাঘাসের রস: ১০-২০ মি.লি.
  • দূর্বা মূল চূর্ণ: ৩-৬ গ্রাম
  • পাতার চূর্ণ: ১-৩ গ্রাম
  • পানি: ৪০-৮০ মি.লি।
সবগুলো একত্রে মিশিয়ে জুস তৈরি করে পান করবেন।
ঔষধি গুণে ভরপুর দূর্বাঘাস - কখন কিভাবে ব্যবহার করবেন ফর্মূলা দেখুন
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: দূর্বা ঘাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে বিদ্যমান ভাইরাস ও ব্যকটেরিয়ারোধী ক্ষমতা শরীরকে যেকোন ধরনের রোগের বিরুদ্ধেই লড়ার শক্তি প্রদান করে।

পুষ্টিতে ভরপুর থাকায় দূর্বাঘাস শরীরকে সক্রিয় ও শক্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক। এটি অনিদ্রা, ক্লান্তি, স্ট্রেস ইত্যাদি রোগের জন্য লাভজনক।

ত্বকের সমস্যা: দূর্বাঘাসে বিদ্যমান প্রদাহরোধী ও জীবাণুরোধী গুণের কারণে তা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন চুলকানি, লাল লাল ফুসকুড়ি, একজিমা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে। এজন্য দূর্বাঘাস ও  হলুদ পিসে ত্বকে লাগাবেন। দূর্বার রস পান করলে ঘনঘন পিপাসা লাগা থেকে মুক্তি মেলে।

মহিলাদের জন্য: দূর্বাঘাস মূত্রনালীর সংক্রমণের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী। এটি প্রোল্যাকটিন হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য খুবই উপকারী।

মেয়েদের লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব, পাইলস ইত্যাদি থেকে মুক্তি মেলে। সাধারণত এক্ষেত্রে, দধির সাথে দূর্বাঘাস মিশিয়ে সেবন করতে হয়।

রক্তশূণ্যতা: দূর্বার রসকে সবুজ রক্ত বলা হয়। কারণ রস পান করলে রক্তশূণ্যতার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। এই রস রক্ত পরিষ্কারক এবং লোহিত রক্তকণিকা বাড়াতে সাহায্য করে। এগুলো ছাড়াও চোখের জ্যোতি বাড়াতেও সহায়তা করে। এজন্য নগ্ন পায়ে ঘাসের উপর হাঁটতে হয়। শীতের সকালে নরম-কোমল দূর্বাঘাসের উপর হাঁটতে পারেন।

মানসিক রোগে: দূর্বার রস মৃগী, হিস্টিরিয়া ইত্যাদি মানসিক রোগের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী। মাথায় দূর্বাঘাস পিসে লেপ দিলে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়!

হজম শক্তি বৃদ্ধি: দূর্বাঘাস নিয়মিত সেবন করলে পেটের অসুখ থেকে মুক্তি মেলে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। এর রস পানে পিত্তজনিত কারণে সৃষ্ট বমি ঠিক হয়ে যায়।

অন্যান্য ব্যবহার:- উপর্যুক্ত উপকারীতা ছাড়াও দূর্বাঘাস নিম্নোক্ত উপকারও করে।
  • দূর্বাঘাসেপ্রচুরফ্লেভিনয়েডসথাকে।যাআলসারপ্রতিরোধেকার্যকর।
  • এটিগ্লুকোজেরপরিমাণকমকরতেসহায়ক।যাডায়াবেটিসনিয়ন্ত্রণকরতেসক্ষম।
  • রক্তেকোলেস্টেরলেরমাত্রাকমকরেহৃদপিণ্ডকেসুস্থরাখে।
  • সর্দি-কাশিরসমস্যাদূরকরে।
  • কেটেগেলেদূর্বাপিসেলাগিয়েদিলেরক্তপাতবন্ধহবে।
বিস্তারিত

Tuesday, January 2, 2018

রক্তে কোলেস্টেরল সমস্যা ? নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন খাবার রুটিনে চাই সচেতনতা

আপনি কি কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়েছেন? পরীক্ষার পর কি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি ধরা পড়েছে? যদি সেটা বেশি হয়ে থাকে, তাহলে আপনি জেনে খুশি হবেন যে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো সত্যিই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বেশ কাজে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে শরীরে কোলেস্টেরলের আধিক্য দেখা দিতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ধমনিসংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।

তাই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বশে রাখে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। তবে এটি ব্যক্তির কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রোগের ইতিহাসের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা খাবেন-
রক্তে কোলেস্টেরল সমস্যা ? নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন খাবার রুটিনে চাই সচেতনতা
জলপাইয়ের তেল এবং জলপাইয়ের তৈরি খাদ্য:- অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেলে রয়েছে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই। গবেষণায় দেখা গেছে, মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড দেহের খারাপ কলেস্টেরল এলডিএলকে কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলকে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যদি কেউ দেহের ভালো কোলেস্টেরলকে বাড়িয়ে খারাপ কোলেস্টেরলকে কমাতে চায়, তার জলপাইয়ের তেল বা জলপাইয়ের তৈরি খাবার অবশ্যই খেতে হবে।

প্রতিদিন খাবারে এক অথবা দুই চামচ জলপাইয়ের তেল সালাদ বা রান্নায় ব্যবহার করলে শরীরে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণ হবে।

সবজি:- সবজি দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ জাতীয় খাবার যেমন: শুষ্ক সোয়া প্রোডাক্ট, মটরশুটি, টফু ইত্যাদি।

ননি ছাড়া দই এবং দুগ্ধজাত খাদ্য:- যদি আপনি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণকে কমাতে চান, তাহলে ননিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিতে হবে। এর মানে এই নয় যে আপনি দুধের তৈরি খাবার খাবেন না। যদি দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়া হয় তবে ক্যালসিয়াম, মিনারেল এ ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান থেকে শরীর বঞ্চিত হবে। এগুলো মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে। দুধের তৈরি খাবার অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় প্রতিরোধেও দারুণ সাহায্য করে।

তাই দুধের তৈরি খাবার খেতে হবে। তবে সেটি হবে ননি ছাড়া। ননিবিহীন দই বিশেষত প্রোটিনের জন্য খুব ভালো উৎস্য। এ ছাড়া এ থেকে আপনি পেতে পারেন ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোব্যাসিলাস মাইক্রো-অর্গানিজম; যেগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-সম্বৃদ্ধ ফল ও সবজি:- সব ধরনের সবজি ও ফল আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত যেসব সবজিতে ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে সেগুলো বেশি খেতে হবে।

ভিটামিন সি :- ভিটামিন সি রয়েছে সব ধরনের সাইট্রাস ফলে। যেমন : কমলা, গ্রেপফল, লেবু ইত্যাদি। সব ধরনের বেরি জাতীয় ফল। যেমন : ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি ইত্যাদি। পেয়ারা ও আমের মধ্যেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ক্যাবেজ বা পাতাকপি পরিবারের খাবারেও আছে ভিটামিন সি। যেমন : সবুজ বা চায়নিজ পাতাকপি, ব্রকোলি ইত্যাদি। ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস হচ্ছে মরিচ।

বিটা ক্যারোটিন :- গাঢ় হলুদ ফলে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। যেমন : আম, হলুদ পিচফল, কাঁঠাল ইত্যাদি। সবজির মধ্যে যেমন : কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঠবাদাম, গাজর ইত্যাদির মধ্যেও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ ছাড়া গাঢ় সবুজ সবজি যেমন : ব্রকোলি, পাতাকপি ইত্যাদি খেতে হবে শরীরে বিটা ক্যারোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য।

যদি আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় তবে অবশ্যই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখতে হবে।

রসুন এবং অন্যান্য পেঁয়াজ পরিবারের সদস্য:- সুস্বাস্থ্যের জন্য রসুন খাওয়ার ইতিহাস বহু পুরোনো। গবেষকরা বলছেন, রসুন, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজজাতীয় খাবার শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে। তরকারি ও সালাদে আমরা এটি ব্যবহার করতে পারি। এগুলো বেশ হৃৎপিণ্ডবান্ধব খাদ্য।

অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবার:- সব ধরনের অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবারে ভিটামিন বি ও মিনারেলস রয়েছে। এগুলো চর্বি ও কোলেস্টেরল কমায়। এ ধরনের খাদ্য যেমন : রুটি, গম, ভুট্টা, ওটমিলস ইত্যাদি। ওটস-এর মধ্যে রয়েছে হাই সলিউবল ফাইবার যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর।

মাছ:- গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে তিনদিন অথবা এর বেশি সময় মাছ খায়, তাদের শরীরে খারাপ কলেস্টেরল কম থাকে। যারা উচ্চ রক্তচাপ এবং বিভিন্ন হৃদরোগে ভুগছেন তাদের জন্য মাছ খুব উপকারী। এর মধ্যে হাই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড-জাতীয় খাদ্য:- আগেই বলা হয়েছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে এই খাবার খাই না। এখন বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্যবহার করা হয়। শিমজাতীয় খাদ্য, ওয়ালনাট, জলপাই ইত্যাদির মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।

অলিভ অয়েল:- অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে অলিভ অয়েলে। যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট হেলদি রাখে।

বাদাম:- আমন্ড, কাঠবাদাম একদিকে যেমন সুস্বাদু, তেমনই হেলদিও বটে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তবে বাদাম যেন নুন বা চিনি মাখানো না হয়।

অ্যাভাকাডো:- প্রচুর পরিমাণে বিটা-সিস্টোসেরল থাকে, যা রক্তে HDL বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ধারণ করে।

ওটমিল:- দ্রবণীয় ফাইবার আছে ওটমিলে, যা রক্তে LDL বা ব্যাড কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। এবং রক্তে কোলেস্টেরলের অ্যাবসরপশন বা শোষণ কমায়। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে যে ধরনের খাবার খেতে হবে

এই খাবারগুলো নিয়মিত আপনার খাদ্য তালিকায় রেখে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
বিস্তারিত

Monday, January 1, 2018

ভালো ঘুম চান ?? দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খান

রান্নায় মেশালে স্বাদ বাড়ে। ত্বকে ব্যবহার করলে সৌন্দর্য বেড়ে যায়। বলছি হলুদের কথা। কাঁচা হলুদই হোক আর গুঁড়া হলুদ—দুটোরই আছে গুণ। দুধের সঙ্গে অল্প হলুদের রস মিশিয়ে পান করা শরীর ও ত্বক উভয়ের জন্যই ভালো। এক গ্লাস দুধে হলুদ মিশিয়ে খেলে, তা আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী জানেন? দুধ এবং হলুদ, এই দুয়ের মিশ্রণ আমাদের শরীরের অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। যা আমাদের শরীরেকে বিভিন্ন ইনফেকশন এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। জেনে নিন এই হলুদ দুধের আরও পাঁচ উপকার-

যে কোন ব্যথা দূর করে:- প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকার কারণে হলুদ দুধ যেকোনো ব্যথা, যন্ত্রণার হাত থেকে আমাদের মুক্তি দেয়

কফ এবং ঠান্ডা দূর করে:- হলুদ-দুধ কফ এবং গলার প্রদাহ দূর করার জন্য একটি উপকারী ঘরোয়া দাওয়াই। হলুদের অ্যান্টিসেপটিক এবং এসট্রিজেন্ট উপাদান দুধের সঙ্গে মিলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এবং শুষ্ক কফ দূর করে।
ভালো ঘুম চান ?? দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খান
মাথাব্যথা:- হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান দুধের পুষ্টির সঙ্গে মিশে প্রাকৃতিক অ্যাসপেরিনের কাজ করে, যা মাথাব্যথা রোধে বেশ কার্যকরী। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা রোধেও এই দুধ উপকারী।

হেপাটাইটিস ভাইরাস প্রতিরোধ করে:- হলুদে কারকুমিনের উপস্থিতির জন্য হলুদ-দুধে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান থাকে। এটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে এবং এর বৃদ্ধিও প্রতিরোধ করে। হলুদ-দুধ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

ভালো ঘুমের জন্য:- আপনার কি দিনে-রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমাতে কষ্ট হয়? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এক গ্লাস হলুদ-দুধ পান করুন। দুধে রয়েছে সেরোটোনিন (মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ) এবং মেলাটোনিন, যেটা হলুদের বিভিন্ন পুষ্টিগুণের সঙ্গে মিশে চাপ দূর করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

আরথ্রাইটিস প্রতিরোধে:- হলুদ-দুধে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি উপাদান, যা গাঁট বা গেরোর শক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া ব্যথা দূর করে আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর পেশির নমনীয়তা বাড়ায়।

রক্ত পরিশোধন করে:- হলুদ-দুধ রক্ত পরিশোধিত এবং পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এর পুষ্টি রক্তে সঞ্চালন ভালো করে। হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের লিমপ্যাথিক পদ্ধতি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে:- ঋতুস্রাবের সময় অনেক ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাতে বাধা তৈরি হয়। এটি একটি প্রচলিত সমস্যা। নিয়মিত হলুদ-দুধ খেলে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিসপ্যাসমোডিক উপাদান রয়েছে, যা ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে। রক্তপাতের বাধাকে দূর করে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।

আর্থারাইটিস নির্মূল করতে:- আর্থারাইটিস নির্মূল করতেও খুবই উপকার করে হলুদ দুধ। গাঁটে ব্যথা কমিয়ে গাঁট এবং পেশিকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

হজমে সাহায্য করে:- হজমের জন্য খুবই উপকারী হলুদ দুধ। এটি আলসার, ডায়রিয়া, হজমের গোলমালের সমস্যা দূর করে। শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।

জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন হলুদমিশ্রিত দুধ

যা যা লাগবে:-
  • কাঁচা হলুদ- এক ইঞ্চি (টুকরা করা)
  • দুধ- ২২০ মিলি
  • চিনি অথবা মধু- স্বাদ মতো
  • গোলমরিচ গুঁড়া- এক চিমটি

যেভাবে প্রস্তুত করবেন

একটি পাত্রে হলুদ কুচি ও দুধ একসঙ্গে ফুটান। চুলা থেকে নামিয়ে ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। গরম থাকতে থাকতেই ছেঁকে মধু অথবা চিনি মিশিয়ে নিন। গোলমরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে পরিবেশন করুন হলুদ-দুধ। চাইলে কাঁচা হলুদের বদলে হলুদ গুঁড়া মিশিয়েও বানাতে পারেন হলুদ-দুধ।

এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং চিনি মেশান। এরপর অল্প আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটান। ফুটানোর সময় সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো দিন। একে ঠান্ডা হতে দিন এবং কুসুম কুসুম গরম হলে পান করুন। উপকারগুলো পেতে প্রতিদিন হলুদ-দুধ পান করতে পারেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • লিভারে যাঁদের সমস্যা আছে বা লিভারের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে, তাঁরা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী হলুদ খাবেন। বেশি হলুদ খাওয়া তাঁদের জন্য ক্ষতিকর।
  • খাবারে কার কতটুকু হলুদ গ্রহণ করা উচিত, তা অবশ্যই চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
  • ল্যাক্টোস ইন্টলারেন্ট হলে দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে দুধ বাদ দিয়ে মধু বা শুধু হলুদ অল্প পরিমাণে খেতে হবে। অথবা সয়া দুধও নেওয়া যেতে পারে।
  • দুরারোগ্য কোনো লিভারের অসুখ হলে হলুদ যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলতে হবে। কী পরিমাণে গ্রহণ করা যাবে, তা জেনে নিতে হবে চিকিৎসকের কাছ থেকে।
  • ত্বকে সহ্য না হলে হলুদের ব্যবহার বাদ দিন।
  • দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা হলুদ না খেয়ে মাঝেমধ্যে বিরতি দিতে হবে।
  • অতিরিক্ত হলুদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। খেতে হবে
  • পরিমাণ মতো।
বিস্তারিত

Saturday, December 30, 2017

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জানতে হবে রক্তের যে বৈশিষ্ট্যগুলো

একটি গাড়ির মোবিলের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলে যেমন তার ইঞ্জিনের ভেতরকার অবস্থা বোঝা যায়, ঠিক তেমনি মানুষের শরীরের রক্তের বৈশিষ্ট্য দিয়ে তার ভেতরের অনেক খবরাখবর মেলে। যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রক্তে ঠিকমতো আছে কিনা তা অবশ্যই আমাদের জানতে হবে।

সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট):- পেনিসেলভেনিয়ার ডাক্তার ডেভিট পারকিংস এর মতে, ‘আপনার বয়স যদি ৩০ বছর হয় তবে আমি আপনাকে নির্দেশ দেব অবশ্যই আপনার সিবিসি করাবেন।’সিবিসি টেস্টের মাধ্যমে বুঝতে পারা সম্ভব লোহিত ও শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ সম্পর্কে। সেই সাথে জানা যায় কি পরিমাণে অক্সিজেন রক্ত বহন করছে। পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক অ্যানিমিয়া বা রক্ত শূন্যতার লক্ষণ।

রক্তে চিনির পরিমাণ জানাঃ- বর্তমানে একটি সাধারণ রোগ হিসেবে ধরা হয় ডায়াবেটিসকে। ডায়াবেটিস নির্ণয়ের রাডার হিসেবে কাজ করে চিনির পরিমাণ পরীক্ষা করা। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব একে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জানতে হবে রক্তের যে বৈশিষ্ট্যগুলো
চর্বির পরিমাণ জানাঃ- একজন সাধারণ মানুষের এইচডিএল কোলেস্টোরেলের মাত্রা ৪৫-৫০ mg/dl, এলডিএল কোলেস্টোরেলের মাত্রা ১৩০ mg/dl এবং ট্রাইগ্লিসারাইড ১৫০ এর কম থাকা উচিৎ। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত এর পরীক্ষা করা জরুরী।

সি-রেক্টিভ প্রোটিনঃ- এটা এমন একটা প্রোটিন যা লিভার থেকে উৎপন্ন হয়ে রক্তে মিশে যায়। এর মাত্রা বেড়ে যায় নিজ থেকেই যখন শরীরে কোথাও প্রদাহ দেখা দেয়। এটা শারীরিক একটি প্রক্রিয়া। তবে ধূমপানমুক্ত থাকলে সাধারণ মাত্রার চেয়ে খুব একটা তারতম্য ঘটে না।

থাইরয়েড চেকআপঃ- থাইরয়েড পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই সমস্যা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যারা খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং ঘুম কম। কার্যক্ষম থাইরয়েড অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে গলগণ্ডের দেখা দেয়। এছাড়া হাইপারথাইরয়েডিসম নামের রোগও হয়। যা হলে হার্ট-রেট বেড়ে যায়, চিন্তা বাড়া, ঘুমে সমস্যা এবং ওজন কম, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
বিস্তারিত

যেভাবে বাড়বে পুরুষের কর্মক্ষমতা !

বর্তমানে খাবারে ভেজাল, বায়ুতে দূষণ এবং পানিতে জীবাণু রয়েছে! এ রকম অভিযোগ কম-বেশি আমরা সবাই করে থাকি।এসবের সঙ্গে লড়াই করে রোজ বেঁচে থাকতে হয় আমাদের। রোজ ভেজাল জীবনযাপনের কারণে আমাদের শরীরে দেখা দেয় পুষ্টির ঘাটতি।এতে অল্পতেই আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, দুর্বলতার কারণে আপনার পারিবারিক জীবনেও দেখা দিয়েছে হতাশা।

এখন উপায়? পুরুষের কর্মক্ষমতা বাড়বে যেভাবে!

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের সমাধান পাওয়া কঠিন। তবে একেবারে অসম্ভব নয়। তারা প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি একটি ওষুধের কথা বলেছেন, এতে রয়েছে এমন শক্তি যা শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শরীরকে সব দিক থেকে সুস্থ রাখতে সক্ষম।

এ ওষুধ প্রতিদিন খেলে আমাদের শরীরে নানাবিধ ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি ছোট-বড় প্রায় কোনো রোগই ছুঁতে পারে না।
যেভাবে বাড়বে পুরুষের কর্মক্ষমতা !
আসুন এ ব্যাপারে একটি ঘরোয়া ওষুধ তৈরির উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী জেনে নিই;

ওষুধটি তৈরিতে প্রয়োজন পড়বে ২ চা চামুচ পেঁপের বীজ ও ১ চা চামুচ মধু। পেঁপের বীজ বেটে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এই ওষুধটি প্রতিদিন খেলে এনজাইম স্পার্ম কাউন্টের উন্নতি ঘটবে। যাতে আপনার দুর্বলতা অনেকটাই কেটে যাবে।

এ ওষুধটি দুর্বলতা কাটিয়ে উর্বরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আর কি কি উপকার করবে তা নিম্নে আলোচনা করা হল-
  • এই ওষুধে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান, যা শরীর থেকে সব রকমের ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষ বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে এতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও কমে যায়।
  • এ ওষুধটি স্টমার ক্ষতিকর পোকাদের মেরে ফেলে। কারণ স্টমায় এসব ক্ষতিকারক উপাদানের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত হজমের সমস্যা বাড়বে। আর এ ধরনের রোগের হাত থাকে বাঁচাতে এই ঘরোয়া ওষুধটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।
  • এই ওষুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা পেশি গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো যদি পেশীবহুল শরীর পেতে চান, তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন এই ঘরোয়া ওষুধটি।
  • যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের তো এই ওষুধটি খাওয়া খুব জরুরি। কারণ পেঁপে এবং মধুতে রয়েছে বেশ কিছু লিপিডস এবং পটাশিয়াম, যা মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • আপনি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়লে পেঁপে এবং মধু মিশ্রিত এই ওষুধটি খাওয়া শুরু করে দিন। কারণ এতে রয়েছে গ্লকোসিনোলেট নামে একটি উপাদান, যা সেলের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ক্লান্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।
  •  ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে ওই ওষুধটি। এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
বিস্তারিত