Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts

Friday, July 13, 2018

আয়ুর্বেদ - ইউনানী ঔষধের আড়ালে কি ঘটছে !

অনেকে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন আয়ুর্বেদ - ইউনানী ঔষধ কোম্পানির ঔষধ ৩০-৩৫ টাকা পাওয়া যায়, গায়ের মূল্য ৩০০ - ৪০০ টাকা, তাই লাভ বেশী, চলেও বেশী। ভাই আয়ুর্বেদ -ইউনানী শাস্ত্র নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই, সারা পৃথিবী ভেষজ ঔষধের দিকে ঝুকঁছে। যদি আসল ভেষজ ঔষধ হত তাহলে এত সস্তায় পাওয়া যেত না। এইগুলির দাম কয়েক হাজারে গিয়ে দাঁড়াতো।

ঔষধে নানা প্রকার ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর কারণে অনেকেই লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নানা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যা তাদের জীবনকে এক সময় দুর্বিসহ করে তুলছে।
আয়ুর্বেদ - ইউনানী ঔষধের আড়ালে কি ঘটছে !
  • রুচি বর্ধকের নামে মিটফোর্ডের বিভিন্ন নিম্নমানের ক্ষতিকর স্টেরয়েড যেমন ডেক্সামিথাসন ব্যবহার হয়
  • যৌন উত্তেজক ঔষধ এ সিলডানাফিল, টাটারানাফিল নামক উত্তেজক বিষ ব্যবহার হয়
  • যত রকম ঔষধ আছে হাঁপানি, গ্যাস্টিক সব কিছুতেই ভেষজের পরিবর্তে ক্যামিকেল
সবাই যেন লোক ঠকিয়ে টাকা কামানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ডাক্তার - কবিরাজ-হাকীম সাহেবেরা সব জেনে বুঝে ও রোগীকে এসব ঔষধ দিচ্ছে শুধু টাকার লোভে। বিবেক যেন মৃত্যু হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নাকে তেল আর চোখে পট্টি বেধেঁ ঘুমিয়ে আছে, দিনশেষে যে পকেট ভর্তি। কেউ একবারও ভাবছি না এসব বিষ আমার অতি আপনজনও কেউ সেবন করতে পারে, লিভার-কিডনি জটিলতা সহ বিভিন্ন সমস্যায় পরতে পারে। 
বিস্তারিত

Sunday, June 17, 2018

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্রমধারা - যে সত্য আপনার আজও অজানা

হার্বাল (ইউনানী, আয়ুর্বেদ), এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি এই তিনটি বিষয়ে যার গভীর পড়াশোনা আছে তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করবেন যে, হার্বাল (ইউনানী, আয়ুর্বেদ) হলো প্রাইমারী মেডিক্যাল সাইন্স, এলোপ্যাথি হলো স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সাইন্স এবং হোমিওপ্যাথি হলো এডভান্সড মেডিক্যাল সাইন্স । হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো এলোপ্যাথির চাইতে একধাপ উপরে এবং মেডিসিনের সর্বোচ্চ শাখা। মানুষ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক মনে করলেও নিরপেক্ষ গবেষকদের মতে, এলোপ্যাথিতে দশ ভাগ আছে বিজ্ঞান আছে আর বাকী নব্বই ভাগই বিজ্ঞানের নামে গোজামিল। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অনুসরণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আন্দাজ, অনুমান, কুসংস্কার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, হোমিওপ্যাথির আংশিক অনুসরণ ইত্যাদি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসাকার্য পরিচালনা করে থাকে।

ইহারা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার নামে যদিও খুবই উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকুক না কেন ; আসলে সেগুলো হলো মানুষকে বোকা বানানোর এবং পকেট ভর্তি করার এক ধরণের অত্যাধুনিক ফন্দি মাত্র। তাদের নানা রকমের চটকদার রঙের এবং ডিজাইনের দামী দামী ঔষধগুলো কোন জটিল রোগই সারাতে পারে না বরং চিকিৎসার নামে উপকারের চাইতে বরং ক্ষতিই করে বেশী। হোমিওপ্যাথির রয়েছে প্রতিষ্টিত বৈজ্ঞানিক নীতিমালা যা দুইশ বছরেও কোন পরিবর্তন হয়নি। হোমিওপ্যাথিতে একই ঔষধ দু’শ বছর পূর্বে যেমন কার্যকর ছিল, আজও তা সমান কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে বলেই সর্বত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। পক্ষান্তরে কোন এলোপ্যাথিক ঔষধই দশ-বিশ বছরের বেশী কার্যকর থাকে না। একদিন যেই এলোপ্যাথিক ঔষধকে বলা হয় মহাউপকারী-জীবনরক্ষাকারী, কয়েক বছর পরই তাকে বলা হয় অকার্যকর-ক্ষতিকর-বর্জনীয়। আজ যেই ঔষধের নাম মানুষের মুখে মুখে ফিরে, কাল সেটি হারিয়ে যায় ইতিহাসের পাতা থেকে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্রমধারা - যে সত্য আপনার আজও অজানা
এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা হরহামেশা আপনাকে বলবেন যে, এই রোগের টিকা (vaccine) নেন, ঐ রোগের টিকা নেন। কিন্তু কখনও বলবে না যে, টিকা নেওয়ার কারণে আপনার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে, টিউমার হতে পারে, ক্যান্সার হতে পারে, ইমিউন সিস্টেমের বারোটা বেজে যেতে পারে, ব্রেন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে, হাঁপানি হতে পারে, ডায়াবেটিস হতে পারে, এনসেফালোপ্যাথি হতে পারে, গুলেন-বেরি সিনড্রোম হতে পারে, প্যারালাইসিস হতে পারে, মৃগীরোগ হতে পারে, অন্ধ হয়ে যেতে পারেন ইত্যাদি ইত্যাদি। পোলিও টিকাতে একবার ব্রেন টিউমার সৃষ্টিকারী এসভি-৪০ ভাইরাস পাওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল; কেননা উক্ত ব্যাচের পোলিও টিকা আগের বছর যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ কোটি শিশুকে খাওয়ানো হয়েছিল।

ইতালীয় বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন যে, এসভি-৪০ ভাইরাস যার শরীরে ঢুকে কেবল তার শরীরেই নয়, এমনকি তার ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-পুতিদের শরীরেও ক্যান্সার সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে। এখন বলুন, মাত্র পঞ্চাশ পয়সার হোমিও ঔষধে যে পোলিওমায়েলাইটিস রোগ সারানো যায়, তার হাত থেকে বাঁচার জন্য পোলিও টিকা নিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে? অর্থ পিচাশ রক্ত পিপাসু নরঘাতক বড় বড় ঔষধ কোম্পানীগুলি টাকার লোভে এমন কোন রোগ নেই, যার টিকা বের করেনি। কিন্তু ক্ষতির দিক দিয়ে প্রায় সমস্ত টিকাই এক ঝাঁকের কৈ। আমরা ছোট-বড় অনেক রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য টিকা নেই, অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে ঐসব রোগে আক্রান্ত হওয়া বরং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি সেরা বর্বরতা হলো ইনজেকশান। ব্যথা তো আছেই তাছাড়া অনেক সময় ইনজেকশানের সাথে যদি সামান্য ময়লাও শরীরে ঢুকে যায়, সেক্ষেত্রে ইনজেকশানের জায়গাটি পেকে ফোলে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় অপারেশন করে পূঁজ বের করতে হয়, ঘা শুকাতেও অনেক দিন লেগে যায়। তাছাড়া যেই পেশীতে ইনজেকশান দেওয়া হয়েছে, সেই পেশীটি সারা জীবনের জন্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ফলে এমনও হতে পারে যে, আপনার ইনজেকশান নেওয়া হাতের কর্মশক্তি কমে যেতে পারে। অনেকে ভীষণ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইনজেকশান নেন এবং নিজের বাচ্চাদেরকেও জোর করে ইনজেকশান নিতে বাধ্য করেন। কারণ তারা ভাবেন ইহার কোন বিকল্প ব্যবস্থা নাই। প্রকৃতপক্ষে ইহা একটি ভুল ধারণা। যে-কোন ইমারজেন্সী রোগের জন্যই ইনজেকশানের বদলে আপনি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পাবেন। হউক তা এটিএস ইনজেকশান, কুকুরে কামড়ানোর ইনজেকশান, শিশুদের বা বড়দের যে-কোন টিকা, হাই পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশান কিংবা জীবনরক্ষাকারী কোরামিন/ওরাডেক্সন ইনজেকশান।

আর এসব হোমিও ঔষধ কাজও করবে ইনজেকশনের চাইতে অন্তত দশগুণ দ্রুত এবং এদের সাইড ইফেক্ট একেবারে নাই বললেই চলে। তবে এজন্য হোমিও ঔষধের গুণাগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে আপনার ভালো পড়াশুনা থাকতে হবে অথবা কোন হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। অনেকে আবার একটু দুর্বল লাগলেই স্যালাইন ইনজেকশান (Intra Venus saline) নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মনে করে মুখে খাওয়ার স্যালাইনের চাইতে আই.ভি. স্যালাইন বেশী উপকারী। অথচ বাস্তবতা হলো তার ঠিক উল্টো ; কেননা আই.ভি. স্যালাইনে থাকে দুইটি ঔষধ, পক্ষান্তরে খাবার স্যালাইনে থাকে চারটি ঔষধ। যে-কোন ঔষধ মুখে খাওয়া আর সরাসরি রক্তনালীতে ইনজেকশান করে ঢুকিয়ে দেওয়ার মধ্যে আসলে তেমন কোন পার্থক্য নাই। কেননা আমরা ঔষধ, খাবার-দাবার যা কিছুই খাই না কেন, দশ-পনের মিনিটের মধ্যেই সেটি শোষিত হয়ে রক্তে চলে যায়। আই.ভি. স্যালাইন হলো তাদের জন্য যারা কোন সঙ্গত কারণে মুখে খেতে পারেন না অথবা মুখে খেতে পারলেও বমির জন্য তা পেটে রাখতে পারেন না। আরেকটি কথা মনে রাখবেন, যে রোগ ছয়মাস এলোপ্যাথিক ঔষধ খেয়েও সারেনি; তা ষাট বছর এলোপ্যাথিক ঔষধ খেলেও সারবে না। এই ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতির চিকিৎসা অবলম্বন করা উচিত।

বাজারে আসা যে-কোন নতুন ঔষধ ব্যবহার থেকে সযত্নে দূরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা অতীতে যে-সব ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অথবা বিষক্রিয়ায় হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মরেছে ; সে-সব ঔষধও প্রথম বাজারে ছাড়ার সময় ঔষধ কোম্পানীগুলো “খুবই নিরাপদ, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, খুবই কার্যকর, যাদুকরী ক্ষমতাসম্পন্ন” ইত্যাদি ইত্যাদি নানান অভিধায় অভিহিত করেছিল। সেজন্য পুরনো ঔষধগুলো ব্যবহার করাই নিরাপদ ; কেননা তাদের কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে, তা ইতিমধ্যে সবার জানা হয়ে গেছে। ১৯৬৪ সালে যখন এলোপ্যাথিক ঔষধ থেলিডোমাইড (thalidomide) মার্কেটে আসে, তখন দাবী করা হয়েছিল যে, এটি টেনশানের বা মাথা ঠান্ডা রাখার কিংবা নিদ্রাহীনতার জন্য এ যাবত কালের সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ ঔষধ। কিন্তু দুই বছরের মাথায় ১৯৬৬ সালে জানা যায় যে, যে-সমস্ত গর্ভবতী মহিলা থেলিডোমাইড খেয়েছেন, তারা হাত এবং পা বিহীন পঙ্গু, বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। পশ্চিম জার্মানীর স্বাস্থ্য বিভাগ একাই থেলিডোমাইড খাওয়ার ফলে দশ হাজার বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মের ঘটনা রেকর্ড করেছে। সত্যিকার অর্থে এটি ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য এবং নির্মম ঘটনা।

ভালো রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ছাড়াই মার্কেটে ঔষধ ছেড়ে দেওয়া হলো এলোপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানীগুলোর কয়েক শতাব্দীর পুরনো অভ্যাস। প্রথম যখন জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি মার্কেটে আসে, তখন তাতে ঔষধের (মানে হরমোনের) পরিমাণ ছিল এখনকার তুলনায় অনেক বেশী। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই যখন প্রমাণ পাওয়া গেলো যে, জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি খাওয়া লক্ষ লক্ষ মহিলা স্তন ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মরেছে ; তখন তাতে হরমোণের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু এখনও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে, অধিকাংশ স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সারের জন্য এসব জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি দায়ী। অন্যদিকে যে-সব মহিলা জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি খায়, তাদের সন্তানদের ওপর কি কি গযব পড়ে, তা আজও জানা যায় নাই। এসব নিয়ে গবেষণা করার কোন লোক পাওয়া যাবে না। কেননা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মানসিকতা কয়জনের আছে ? আর ঔষধ কোম্পানীগুলো এমন কোন গবেষণা করবে না, যা তাদের ব্যবসার ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের বাহিনীর হাতে যত লোক না মরেছে, তার চাইতে অনেক বেশী লোকের মৃত্যু হয়েছে বড় বড় ঔষধ কোম্পানীগুলোর সীমাহীন লালসার কারণে। হিটলারের বাহিনীর বিচার হয় কিন্তু এসব নরঘাতক ঔষধ কোম্পানীর মানুষ হত্যার কোন বিচার হয় না। টাকার জোরে এরা আইন-আদালত, কোন কোন দেশের সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এমনকি জাতিসংঘকে পযর্ন্ত কিনে ফেলে। কারণ এগুলো তো মানুষরাই চালায় আর মানুষ মাত্রই টাকার কাছে দুর্বল।

অপারেশন হলো চিকিৎসার নামে আরেকটি ক্ষতিকর ধ্বংসাত্মক কাজ। এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা অধিকাংশ রোগের চিকিৎসাতেই অপারেশনের সাহায্য নিয়ে থাকেন। ইহার কারণ অধিকাংশ জটিল রোগই এলোপ্যাথিক ঔষধে নিরাময় হয় না। ফলে তারা কাটাকুটি করে রোগ সারানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন। তাছাড়া অপারেশন করতে পারলে ডাক্তারদের আয়-রোজগারও বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ ডাক্তারদের জন্য অস্ত্র চিকিৎসার বিষয়টি বেশ লাভজনক। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো অপারেশনে শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে রোগ সারে না বরং তা আরো মারাত্মক রূপ ধারণ করে কিছুদিন পর একই জায়গায় অথবা শরীরের অন্যত্র কিংবা মানসিক রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কারণ অপারেশনের মাধ্যমে কেবল রোগের ফলটা দূর করা যায় কিন্তু রোগের কারণটা দূর করা যায় না। রোগের কারণটা কিন্তু বহাল তবিয়তে থেকেই যায়। ফলে ছুরির ঘা খেয়ে সেটি আরও মারাত্মক রোগের আকৃতিতে প্রকাশ পায়। পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ইত্যাদি অগণিত নামে আমরা যত রোগ দেখি ; এগুলো প্রকৃতপক্ষে রোগ নয় বরং রোগের ফলাফল। রোগের ফলটা বস্তু স্তরে (physical level) প্রকাশ পায়, তাই এটি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু রোগের কারণটা থাকে শক্তি স্তরে (energy level), তাই সেটি আমাদের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়। সে যাক, অপারেশনের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগটি কম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ (যেমন-হাত, পা, চামড়া ইত্যাদি) থেকে চলে গিয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে (যেমন- হার্ট, লিভার, কিডনী, ব্রেন ইত্যাদিকে) আক্রমণ করে থাকে। মনে করুন আপনার ঘরের একটি গর্তে একটি সাপ ঢুকেছে এবং সাপের লেজটি দেখা যাচ্ছে। ইহার মানে হলো সাপটি আপনাকে কামড় দিতে পারে আবার কামড় না দিয়েও ভদ্রভাবে চলে যেতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি লেজটি দেখা যাচ্ছে ভেবে ছুরি দিয়ে সাপের লেজটি কেটে দেন, তবে এটি নিশ্চিত বলা যায় যে সাপটি ভীষণ ক্ষেপে যাবে এবং জীবন দিয়ে হলেও আপনাকে অন্তত একটি কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেশন হলো সাপের লেজ কেটে দেওয়ার মতোই বিপদজ্নক । আবার অনেক অপারেশন আছে যার ভাল-মন্দ, উপকার-ক্ষতি ইত্যাদি ভালোমতো পরীক্ষা না করেই কোটি কোটি লোকের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন পুরুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের অপারেশন ভ্যাসেকটমী (Vasectomies)। প্রায় অর্ধশতাব্দি যাবত এটি একটি জনপ্রিয় অপারেশন এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি প্রাপ্ত বয়ষ্ক পুরুষ ইতিমধ্যে এই অপারেশন করেছেন। এতে অণ্ডকোষের একটি নালীকে কেটে দেওয়া হয় অথবা বেধে দেওয়া হয় যাতে শুক্রাণু বের হতে না পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভ্যাসেকটমী অপারেশনের সাথে অণ্ডকোষের ক্যান্সার, প্রোস্টেট গ্ল্যাণ্ডের ক্যান্সার, হৃদরোগ, ইমিউনিটির গণ্ডগোল, যৌনকর্মে আকর্ষণ কমে যাওয়া, অকাল বার্ধক্য ইত্যাদি রোগের সম্পর্ক আছে। স্কটল্যাণ্ডের ভ্যাসেকটমী করা ৩০০০ পুরুষের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে যে, অপারেশনের চার বছরের মধ্যে ৮ জন অণ্ডকোষের ক্যান্সারে (testicular cancer) আক্রান্ত হয়েছেন।

আবার কিছু অপারেশন আছে যা ফ্যাশান হিসেবে চালু করা হয়েছে। যেমন ছোট স্তনকে বড় করার অপারেশন। মিডিয়াতে যখন বড় স্তনকে আকর্ষণীয়-লোভনীয় হিসেবে দেখানো শুরু হলো তখন সার্জনরা চিন্তা করলেন যে, অপারেশন করে স্তন বড় করার একটি কালচার চালু করতে পারলে ভালো আয়-রোজগার হবে। তখন তারা প্রচার করতে লাগলো যে, এই অপারেশনে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না। ফলে বিগত তিন দশকে কেবল আমেরিকাতেই বিশ লক্ষ মহিলা এই অপারেশন করে তাদের স্তন বড় করে ফেললো। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ কর্তৃপক্ষ (FDA) ডাক্তারদের এই অপারেশন বন্ধ করার অনুরোধ জানায় ; কেননা সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে ইহার ফলে দুর্বলতা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি (immune system) ধ্বংস হওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, স্নায়বিক ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।

এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা যে-সব রোগ সারানোর জন্য ছুরি চালায়, তাদের শতকরা ৯৫ ভাগ রোগ হোমিওপ্যাথিতে বিনা অপারেশনে কেবল ঔষধেই সারানো যায়। অনেকে আশ্চর্য হতে পারেন যে, হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়া, হার্টে পেস-মেকার লাগানো, হার্টের বাইপাস সার্জারী ইত্যাদির মতো বড় বড় অপারেশনের কেসও হোমিওপ্যাথিতে স্রেফ ঔষধেই নিরাময় করা যায়। কিন্তু তারপরও অধিকাংশ রোগী ঔষধ খেয়ে রোগ সারানোর চাইতে অপারেশন করে রোগ সারানোকে ভালো মনে করেন। তাদের মতে অনেক দিন ঔষধ খাওয়া ঝামেলার ব্যাপার; তার চাইতে সাতদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অনেক সহজ। অপারেশন প্রীতির মূল কারণ হলো সাধারণ মানুষ জানে না যে, অপারেশনে রোগ ভাল না হয়ে বরং আরো খারাপ জায়গায় চলে যায় এবং বেশী বেশী অপারেশন করলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কোন কোন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ মনে করেন টনসিলকে যত তাড়াতাড়ি অপারেশন করে ফেলে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল আবার কোন কোন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ মনে করেন টনসিল কেটে ফেলে দেওয়াতে কোন উপকার নেই বরং এটি সাংঘাতিক ক্ষতিকর কাজ। কোন কোন ডাক্তার মনে করেন আলসারের রোগীদের দুধ এবং দুধের তৈরী খাবার বেশী বেশী খাওয়া উচিত আবার অন্যদিকে অনেক ডাক্তার মনে করেন এগুলো প্রাগৌতিহাসিক আমলের চিন্তা-ভাবনা (এবং অবশ্যই বর্জনীয়)। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এতো ফ্যাসাদের পরও অধিকাংশ এলোপ্যাথিক ডাক্তারই বিশ্বাস করেন যে, তাদের সকল কর্মকাণ্ড একেবারে (শতভাগ বিজ্ঞানসম্মত এবং কোন প্রকার সন্দেহ আর) প্রশ্নের উর্ধে।

অনেকে প্রত্যাশা করতে পারেন যে, চিকিৎসা কার্যে গোজামিল থাকলেও প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি (pathology) নিশ্চয় একশ ভাগ বিজ্ঞানসম্মত। কেননা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে খুবই উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিয়তির পরিহাস যে, বাস্তব পরিসংখ্যান এমনটা প্রমাণ করে না। সমপ্রতি দুইজন রোগ নির্ণয় বিজ্ঞানী (pathologist) ৪০০ রোগীর মৃতদেহ ময়না তদন্ত (autopsy- postmortem) করে দেখতে পেয়েছেন যে, অর্ধেকেরও বেশী রোগীর ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ভুল ছিল। সহজ কথায় বলতে গেলে বলতে হয় যে, এদেরকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং আরো সহজ কথায় বলতে গেলে বলা যায় যে, ভুল চিকিৎসার কারণেই এদের মর্মান্তিক অকালমৃত্যু হয়েছে। হায় ডাক্তার ! হায় রোগ নির্ণয় !! হায় ঔষধ!!! এই দুইজন প্যাথলজিষ্ট তাদের গবেষণায় আরো দেখিয়েছেন যে, অত্যাধুনিক সব প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করার পরও ১৩৪ টি নিউমোনিয়ার কেইসে ৬৫ টির বেলায় ডাক্তাররা রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ৫১ টি হার্ট এটাকের ক্ষেত্রে ১৮ টিতে। এজন্য বলা হয় যে, অজ্ঞতা এখনও এলোপ্যাথি চিকিৎসায় মাশায়াল্লাহ তার দাপট বজায় রেখেছে। হ্যাঁ, প্যাথলজিক্যাল টেস্ট হলো আরেকটি বড় ধরণের প্রতারণা।

প্রথম কথা হলো ডাক্তাররা ডিগ্রি অর্জনের জন্য যত ব্যাপক পড়াশোনা করেন, তাতে ৯০ ভাগ রোগ তারা কোন প্রকার টেস্ট না করেই নির্ণয় করতে পারেন। রোগীকে পাঁচ-দশটি প্রশ্ন করলেই তিনি রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডাক্তাররা এক বস্তা টেস্ট দেন, তাদের দ্বায়িত্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য এবং ডায়াগনস্টিক কোম্পানির কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা কমিশন খাওয়ার জন্য। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, ডাক্তার সাহেব টেস্ট দেওয়া প্রয়োজন মনে করেন না অথচ রোগীরাই জোর করে টেস্ট লিখিয়ে নিচ্ছেন। ভাবখানা এমন যে, এসব টেস্ট করা খুবই জরুরি কিংবা শরীরের জন্য সাংঘাতিক উপকারী। হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অধিকাংশ প্যাথলজিক্যাল টেস্টকে একশ বছর আগেও ফ্যাশন মনে করতেন এখনও তাই মনে করেন। কেননা এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাই-টেক প্রতারণা। যেমন ডাক্তাররা বলবে যে, রক্তের অমুক উপাদানের মাত্রা বেড়ে গিয়ে আপনার অমুক রোগ হয়েছে। তারপর এক বস্তা ক্ষতিকর ঔষধ খাওয়ানোর পর দেখা গেলো যে, আপনার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। ডাক্তার বলবে, এখন আপনি সুস্থ অথচ বাস্তবে আপনার অবস্থা আগে চাইতেও খারাপ হয়ে গেছে।

আবার অনেক সময় ব্লাড টেস্ট, পায়খানা, প্রস্রাব, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এমআরআই, সিটিস্ক্যান ইত্যাদি ইত্যাদি অসংখ্য টেস্ট করে রিপোর্ট দেখে বলবে, আপনার কোন রোগই নাই । অথচ ব্যথার চোটে আপনার দম বেরিয়ে যাচ্ছে, ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, এসব প্যাথলজিক্যাল টেস্টে কেবল টাকা নস্ট হয় কিন্তু শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটি বিরাট ভুল ধারণা। রক্ত পরীক্ষার জন্য সুই দিয়ে ছিদ্র করে যখন রক্ত বের করা হয়, তাতে আপনার শরীরের অনেকগুলো স্মায়ু কোষ (nerve cell) ছিড়ে যায়। ফলে স্নায়ুতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আপনি যত বেশী ইনজেকশান নিবেন অথবা শরীরের উপর ছুরি-চাকু ব্যবহার করবেন, স্নায়ুতন'তে তত বেশী উত্তেজনার সৃষ্টি হবে।

এভাবে বেশী বেশী উত্তেজনার ফলে আপনার কোষতন'তে বিদ্রোহ দেখা দিবে। আর ডাক্তারী ভাষায় কোষতন'র বিদ্রোহকে বলা হয় ক্যান্সার। হ্যাঁ, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, বিভিন্নভাবে আঘাতের মাধ্যমে স্নায়ুতন'কে উত্যক্ত করাই ক্যান্সারের মূল কারণ। তারপর আসে এক্স-রে। বেশী বেশী এক্স-রে করলে ক্যান্সার হয়, এটি বহু পুরনো কথা। আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয় খুবই সূক্ষ্মমাত্রার শব্দ তরঙ্গ (micro wave) ব্যবহার করে, যারা এমনকি জীবাণুকে পর্যন- ধ্বংস করতে পারে। কাজেই এটিও আপনার শরীরের ক্ষতি করে থাকে এবং শরীরের মধ্যে থাকা উপকারী জীবাণুকেও হত্যা করতে পারে। এমআরআই, সিটিস্ক্যান হলো এক ধরণের এক্স-রে। কাজেই এগুলো শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।

ইদানীং আবার এলোপ্যাথিতে শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞদের (specialist) হুজুগ। মানুষ এখন আর সাধারণ এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের উপর ভরসা করতে চায় না। পান থেকে চুন খসলেই দৌড়ে যায় স্পেশালিষ্টের কাছে। অথচ চিকিৎসক সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, একজন ভালো ডাক্তার দশজন বিশেষজ্ঞের সমান। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ হওয়া সহজ কিন্তু একজন যথার্থ ডাক্তার হওয়া খুবই কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞরা যেহেতু খুবই ক্ষুদ্র এবং সংকীর্ণ একটি বিষয় নিয়ে তাদের জীবন কাটিয়ে দেয়, সেহেতু তাদের জ্ঞানের পরিধি এবং দৃষ্টিভঙ্গিও সংকীর্ণ হয়ে যায়। আমাদের শরীর-মনকে যদি সমুদ্রের সাথে তুলনা করা যায়, তবে বিশেষজ্ঞদের তুলনা করা যাবে খাল-বিলের দক্ষ মাঝি-মাল্লা হিসেবে। এখন ভেবে দেখুন, খালের মাঝিরা যদি কখনো সমুদ্রের ঝড়ের কবলে পড়ে, তবে চোখে-মুখে সর্ষে ফুল দেখবে কিনা ? হোমিও ডাক্তাররা এবং আরো অনেকেই এই বিশেষজ্ঞ প্রথাকে অযৌক্তিক এবং হাস্যকর মনে করতেন। ব্রিটিশ হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ বার্নেট বলতেন যে, রোগ চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির নীতিতে অটল একজন ছোট হোমিও ডাক্তারও যে যাদু দেখাতে পারবেন, তা দেখে দৈতাকৃতির এলোপ্যাথিক বিশেষজ্ঞও মহাবিস্মিত না হয়ে পারবেন না।

মেডিক্যাল গবেষক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানী নামে আমরা যাদের জানি, তাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ আছে। তাদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করে বহুজাতিক এলোপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানিগুলো দালাল হিসেবে। তারা আবিষ্কারের নামে এমন সব উল্টাপাল্টা তথ্য প্রচার করে যাতে সংশ্লিষ্ট ঔষধ কোম্পানির ব্যবসা আঙুল ফোলে কলা গাছ হতে পারে। অন্যদিকে খুবই অল্পসংখ্যক চিকিৎসা বিজ্ঞানী আছেন, যারা মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিবেকের তাড়ণায় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করে সত্য উদঘাটন করেন। কিন্তু তাদের আবিষ্কারকে মেডিক্যাল জার্নাল বা অন্যকোন মিডিয়া প্রচার করতে চায় না। কেননা ঔষধ কোম্পানিগুলো টাকা দিয়ে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিপন্থী এসব আবিষ্কারকে প্রচার না করতে বাধ্য করে।

এবার কোলেস্টেরলের (cholesterol) কাহিনী একটু বলা দরকার। ঔষধ কোম্পানীগুলি ঔষধের ভাল-মন্দ না জেনে পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই কিভাবে ক্ষতিকর, ধ্বংসাত্মক ঔষধ বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষকে পাইকারী হারে খাওয়াতে থাকে, এটি তার আরেকটি দৃষ্টান্ত। পাশ্চাত্যের ধনী দেশগুলোর অধিকাংশ লোকই মোটা-সোটা, নাদুস-নুদুস। কেননা তারা মাংস, তেল, চর্বি জাতীয় খাবার বেশী খায়। ফলে তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের চাইতে বেশী থাকে।

বড় বড় ঔষধ কোম্পানিগুলো ভাবলো, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে যদি একটি রোগ হিসেবে ঘোষণা করা যায় এবং এজন্য কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর একটি ঔষধ বাজারে ছাড়া যায়, তবে আমাদের লাভের অংক মিলিয়ন ডলারের কোটা ছেড়ে বিলিয়ন ডলারের কোটায় পৌঁছে যাবে। ফলে তারা টাকা-পয়সা খরচা করে কিছু দালাল চিকিৎসা বিজ্ঞানীকে গবেষণা করার জন্য নিয়োগ দিলো। এই ভাড়াটে বিজ্ঞানীরা অল্প দিনের মধ্যেই ঘোষণা করলো যে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট এটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর যায় কৈ ? রাতারাতি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর ঔষধ মার্কেটে এসে গেলো এবং হার্ট এটাকের ভয়ে কোটি কোটি মানুষ সেগুলো পাইকারী হারে খাওয়া শুরু করলো। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ৯০-এর দশকে ঔষধ কোম্পানীগুলি সবচেয়ে বেশী লাভ করেছে কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ বিক্রি করে। ঔষধ কোম্পানিগুলি পছন্দ করে দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক মার্কেট আর ভোগবাদী মানুষ পছন্দ করে মজার মজার খাবার খাওয়া বন্ধ না করে বরং ট্যাবলেট খেয়ে ঝামেলা মুক্তি।

অথচ পরবর্তীতে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেননা তাতে ছোট-খাটো দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু ঘটার সম্ভাবণা আছে এবং আরেকটি বিপদ হলো রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণ কমে গেলে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা বেড়ে যায় আবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করেন যে, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশী কমে গেলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বিপদজ্জনকভাবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা, ঔষধ কোম্পানীগুলোর প্ররোচনায় ডাক্তাররা এখনও হরদম এসব ঔষধ মানুষকে গিলিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা পেশার প্রায় সব শাখায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের অভাব এতই বেশী যে, এটি এখন গাঁ সওয়া হয়ে গেছে। নিতান্ত অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ইহাতে নিশ্চিত বলে কোন ব্যাপার নেই। রোগী ডাক্তারের কাছ থেকে কি পাবে তা নির্ভর করে বিজ্ঞানের ওপর নয় বরং ভাগ্যের ওপর এবং ডাক্তারের মানসিক অবস্থার ওপর। ডাক্তারদের উভয় সঙ্কট (The doctor's dilemma) নামক নাটকের ভূমিকায় জর্জ বার্নার্ড শ দেখিয়ে ছিলেন যে, একবার ইংল্যাণ্ডের এক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর সময় একজন সাংবাদিক রোগীর অভিনয় করে তখনকার দিনের সেরা চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরদিন নামকরা সকল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পত্রিকায় ছাপিয়ে ছিলেন যাতে দেখা যায় যে, তিনি সকল চিকিৎসককে একই সমস্যার কথা বললেও প্রত্যেক ডাক্তারের পরামর্শ ছিল ভিন্ন ভিন্ন (দুইজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের মধ্যেও মিল পাওয়া যায় নাই)। এই ঘটনার পর প্রায় একশ বছর কেটে গেলেও এলোপ্যাথিক চিকিৎসার অবস্থার তেমন হেরফের হয়নি (যদিও এখন চিকিৎসার কাজে উচ্চ প্রযুক্তির চরম ব্যবহার হচ্ছে)।

বিশ্বাস না করলে এখনও আপনি একই রোগের জন্য দশজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দেখতে পারেন। এমনকি একই রোগের জন্য আপনাকে কতদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হবে, তাও একেক ডাক্তারের ক্ষেত্রে একেক রকম হবে। কাউকে কাউকে আবার দেখা যায়, ডাক্তারদের কাছ থেকে জোর করে ঔষধ লিখিয়ে নেন। হয়ত সামান্য একটু কেটে গেছে, ডাক্তার সাহেব বললেন এরকম ছোটখাটো ব্যাপারে ধনুষ্টংকারের টিকা (এটিএস) নেওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু রোগী বলবে, “না ডাক্তার সাহেব, ভয় করতেছে, একটি এটিএস ইনজেকশান দিয়ে দেন”। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীকে খুশি করার জন্য তিনি এটিএস লিখে দেন। ডাক্তার সাহেব জানেন যে, এটিএস ইনজেকশান যে-কারো ওপর রিয়েকশান করতে পারে এবং তাতে না হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ কিন্তু রোগীদের তো আর এতো কিছু জানা থাকে না।

আপনাকে বুঝতে হবে যে, আপনার প্রিয় অথবা অতি প্রিয় ডাক্তার সাহেব আসলে সব জানেন না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে সবই জানেন, কিন্তু ইচ্ছে করলেই তিনি সবকিছু করতে পারেন না। কেননা তিনিও একটি সিস্টেমের হাতে বন্দী হয়ে আছেন। যে-কোন প্রতিষ্টিত দুষ্ট চক্রের বাহুজাল ছিন্ন করে মুক্ত-স্বাধীন হতে গেলে যে অপরিসীম ত্যাগ ও সাহস দরকার, তা কেবল মহাপুরুষদের মধ্যেই থাকে। আর বাস্তবতা হলো সব ডাক্তারই মহাপুরুষ নন। হোমিওপ্যাথির আবিস্কারক জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী মহাত্মা ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন এমনই একজন মহাপুরুষ। আজ থেকে দুশ বছর পূর্বে হ্যানিম্যানের সময় এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল চরম বর্বরতার সমতুল্য। তখনকার দিনের এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা উচ্চ রক্তচাপসহ অধিকাংশ রোগের চিকিৎসার জন্যই রোগীর শরীরে অনেকগুলো জোঁক লাগিয়ে দিতো অথবা রগ কেটে রক্ত বের করত, মানসিক রোগীকে ভুতে ধরেছে মনে করে পিটিয়ে লাশ বানিয়ে ফেলত, একটি রোগের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে পনের থেকে বিশটি ঔষধ রোগী খাওয়ানো হতো ইত্যাদি ইত্যাদি। হ্যানিম্যান কিন্তু অন্যান্য ডাক্তারদের মতো ডাক্তারী পাশ করে মাল কামানোর পেছনে লেগে যান নাই; বরং চিকিৎসার নামে এসব বর্বরতা থেকে মানবজাতিকে কিভাবে মুক্ত করা যায় তা নিয়ে যুগের পর যুগ গবেষণা করেছেন। এজন্য তাকে অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট, অপমান-লাঞ্ছনা, হুমকি-ধামকি, দেশ থেকে বহিষ্কার প্রভৃতি অনেক অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে কিন্তু তারপরও তিনি পিছপা হননি। ফলে রোগের উৎপত্তি, রোগের চিকিৎসা, ঔষধ আবিষ্কার, ঔষধ প্রস্তুত প্রণালী, ঔষধের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে তিনি অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক সূত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।

 ডাক্তারদের মধ্যে পেশাগত অহমিকা, লোভ, হিংসা ইত্যাদি যে কত বেশী মাত্রায় আছে, তার প্রমাণ হলো হোমিওপ্যাথির আবিষ্কার। রোগীকে কষ্ট না দিয়ে, কম খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে রোগ নিরাময়ের স্বার্থে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অমূল্য আবিষ্কারকে যেখানে সকল চিকিৎসকের সাদরে গ্রহন করা উচিত ছিল, সেখানে দেখা গেছে নব্বইভাগ ডাক্তারই হ্যানিম্যানের এই অমূল্য আবিষ্কারকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞান এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, আজ থেকে একশ বছর পূবে ইউরোপে এবং আমেরিকায় এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা প্রথম যখন সমিতি গঠন করেছিল, তখন তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বুক থেকে (একটি মানবতাবাদী চিকিৎসা বিজ্ঞান) হোমিওপ্যাথিকে নিশ্চিহ্ন করা। বাণিজ্যের কাছে সেবাধর্ম কিভাবে পরাজিত হয়, এসব ইতিহাস সবারই জানা থাকা উচিত। (১২-০৬-২০০৮)
লিখেছেন
ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
গবেষক এবং হোমিও কনসালটেন্ট
ফোন : ০১৯১৬০৩৮৫২৭
E-mail : Bashirmahmudellias@hotmail.com
বিস্তারিত

Sunday, June 3, 2018

ইয়াবার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - বাঁচতে হলে জানতে হবে।

মুক্তির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান কনসালটেন্ট ড. আলী আসকার কোরেশী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "ইয়াবা গ্রহণ করলে সেটি শুরুতেই মানুষকে চাঙ্গা করে তোলে। আর সব মানুষই নিজেকে চাঙ্গা দেখতে ভালোবাসে। একারণে তারা ইয়াবার দিকে ঝুঁকে পড়ে।"

অনেকে ইয়াবা গ্রহণ করে যৌন উদ্দীপক হিসেবে। প্রথম দিকে সেটা কাজ করে যেহেতু এটা খেলে শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তার যৌন ক্ষমতা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়। শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যায়। মেয়েদের মাসিকেও সমস্যা হয়।
ইয়াবার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - বাঁচতে হলে জানতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার, কিডনি থেকে শুরু করে শরীরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রয়েছে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ইয়াবা খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয়। লিভার সিরোসিস থেকে সেটা লিভার ক্যান্সারেও পরিণত হতে পারে
  • যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়
  • ফুসফুসে পানি জমে
  • কিডনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়
  • লিভার সিরোসিস থেকে ক্যন্সারও হতে পারে
  • মেজাজ চড়ে যায়, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, নিষ্ঠুর হয়ে যায়
  • রক্তচাপ বেড়ে যায়
  • সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়
  • মানসিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়
মোহিত কামাল বলেন, "ইয়াবা খেলে মস্তিষ্কের সরু রক্তনালী ছিঁড়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তপাতও হওয়ার ঘটনাও আমরা পেয়েছি। ব্রেইন ম্যাটার সঙ্কুচিত হয়ে যায়। সেটা যদি ১৫০০ গ্রাম থাকে সেটা শুকিয়ে এক হাজার গ্রামের নিচে নেমে যেতে পারে। জেনেটিক মলিকিউলকেও নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মও স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে থাকে।"

চিকিৎসকরা বলছেন, ইয়াবা খেলে শরীরে একটা তাপ তৈরি হয় যা কিডনিরও ক্ষতি করতে পারে। যেহেতু এটিকে ধোঁয়া হিসেবে নেওয়া হচ্ছে তাই ফুসফুসে পানিও জমে যেতে পারে।

"রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নিষ্ঠুর নির্মম হয়ে যায়। আমাদের ব্রেনের ফ্রন্টাল একটি লোপে যেখানে বিচার বিবেচনার বোধ তৈরি হয়, যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেই, পরিকল্পনা করি সে জায়গাটা কাজ করতে পারে না। ফলে মানুষ পাষণ্ড হয়ে যায়, হিংস্র হয়ে যায়। মায়ের গলায় ছুরি ধরে টাকার জন্যে। মা বাবার বুকে বসে ছুরি চালাতে তার বুকও কাঁপে না," বলেন ড. কামাল।
  • স্বাস্থ্যের অবনতি হয়
  • ভিটামিনের অভাব দেখা দেয় শরীরে
  • যৌন ক্ষমতা হারিয়ে যায়
  • ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ
চিকিৎসকরা বলছেন, ইয়াবার কারণে পুরোপুরি বদলে যায় মানুষের জীবন ধারা। এই পরিবর্তনটা হয় খুব দ্রুত গতিতে। "দিনে সে ঘুমাচ্ছে, রাতে জেগে থাকছে। পরপর কয়েকদিন সে ঘুমাচ্ছে না কিন্তু আবার একটানা ঘুমাচ্ছে। ফলে মেজাজ অত্যন্ত চরমে উঠে যাচ্ছে," বলেন মি. কোরেশী।

তিনি বলছেন, কয়েকদিন পর দেখা যায় পরিবারের সবার সাথে তার ঝগড়াবিবাদ গণ্ডগোল লেগে যায়। আশেপাশের আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সাথেও তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। তার মনে হয় সবাই খারাপ। তিনি একাই শুধু ভালো।

"কিছুদিন পর দেখা যায় যে প্যারানয়েড হয়ে গেছে। সে ভাবতে থাকে যে সবাই তার শত্রু বা সবাই তার পেছনে লেগেছে। সে সন্দেহ করতে শুরু করে যে তাকে কেউ মেরে ফেলবে, বিষ খাওয়াবে। তারপর ধীরে ধীরে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।"
বিস্তারিত

Sunday, May 20, 2018

রোযায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে যা যা খেতে হবে ?

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ এক সমস্যা হলেও এই সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের কাছে অত্যন্ত আতঙ্কের। কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ হল শরীরে ঠিক মতো হাইড্রেশন না হওয়া। আর তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা তরল প্রয়োজন। আর রোযায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে পেটপুড়ে খেলে হজমের সময় নানা সমস্যা করে। ফলের মধ্যে প্রচুর পানি বা রস থাকার পাশাপাশি থাকে ফাইবারও। যা হজমে সাহায্য করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খেতে পারেন এসব জুস-

মুসাম্বির রস: পৌষ্টিকনালী থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে মুসাম্বির রস। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই রস কাজে দেয়।
রোযায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে যা যা খেতে হবে ?
আনারসের রস: আনারসের মধ্যে থাকা উত্সেচক ব্রোমেলিন হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

তরমুজের রস: গরম কালে শরীরে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। আবার গরম কালে প্রচুর তরমুজ ওঠে। তরমুজের রস এই সময় পেট ঠান্ডা রাখতে, হজমে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

লেবুর রস: লেবুতে থাকা ভিটামিন সি হজমে ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আপেলের রস: আপেলের মধ্যে সরবিটল যা শরীরে লাক্সেটিভের কাজ করে। আপেলে থাকা আয়রনও হজমে সাহায্য করে।

কমলার রস: ভিটামিন সি ও ফাইবারে পরিপূর্ণ কমলা লেবু। যা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

শশার রস:
শশার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। যা শরীরে ন্যাচারাল লাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে।
বিস্তারিত

Friday, May 11, 2018

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে প্রতিদিন পান করুন লবঙ্গ চা

প্রাকৃতিক শক্তিতে ভরপুর এই বিশেষ চা-টি শুধু আপনার রসনা তৃপ্তি করবে না, সেই সঙ্গে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতেও নানাদিক থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য় করে যাবে। তাই তো বলি আর অপেক্ষা নয়, আজই বাজার থেকে লবঙ্গ কিনে এনে বানিয়ে ফেলুন এই হার্বাল চাটি। আর চেখে দেখুন কেমন লাগে! আসলে লবঙ্গের শরীরে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন...

সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়:  একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গ চা খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে দেহের প্রতিটি কোনায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে শরীরের সচলতাও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।
শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে প্রতিদিন পান করুন লবঙ্গ চা
রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে:  গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগের প্রকোপ যে হারে বেড়েছে তাতে সবারই প্রতিদিন লবঙ্গ চা খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে থাকা নাইজেরিসিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমে:  লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এই ধরনের হাড়ের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক কাপ লবঙ্গ চা বানিয়ে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই ঠান্ডা চা ব্যথা জায়গায় কম করে ২০ মিনিট লাগালে দেখবেন যন্ত্রণা একেবারে কমে গেছে। প্রসঙ্গত, জয়েন্ট পেন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দাঁতের ব্যাথা কমায়:  লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। তাই তো এবার থেকে দাঁতে অস্বস্তি বা মাড়ি ফোলার মতো ঘটনা ঘটলে এক কাপ গরম গরম লবঙ্গ চা খেয়ে নেবেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:  একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত এক কাপ করে লবঙ্গ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরে অন্দরে অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রপাটিজের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, শরীরের কোনও জায়গায় টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সাইনাসের প্রকোপ কমায়:  মাঝে মধ্য়েই কি সাইনাসের আক্রমণ সহ্য করতে হয়? তাহলে তো বলতে হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ লবঙ্গ যে এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাজে আসতে পারে, সে বিষয়ে কি জানা ছিল? আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে উপস্থিত ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আজও এই ধরনের অসুখের চিকিৎসায় লবঙ্গের উপরই ভরসা করে থাকেন।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:  লাঞ্চ বা ডিনারের আগে লবঙ্গ দিয়ে বানানো এক কাপ গরম গরম চা খেলে হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে পেটের দিকে রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটে। ফলে খাবার হজম হতে সময় লাগে না। তাই যাদের কম ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেলেও বদ-হজম হয়, তারা লবঙ্গ চা পান করে একবার দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসে:  এবার থেকে কোনও ধরনের ত্বকের সংক্রমণ হলেই চোখ বুজে ক্ষতস্থানে লবঙ্গ চা লাগাতে ভুলবেন না। এমনটা করলে দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারে সময়ই লাগবে না। আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণজনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না।

নিমেষে জ্বরের প্রকোপ কমায়:  লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাসেরা সব মারা পরে। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
বিস্তারিত

Saturday, April 14, 2018

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান, মৃত্যু ১৪৪ জনের! এতো জটিলতা কেন ?

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান। গত ১৩ বছরে বিশ্বব্যাপী রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মারা গেছে ১৪৪ জন এবং আহত হয়েছে এক হাজার ৩৯১। রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন ১০ হাজার অভিযোগ থেকে এ পরিসংখ্যানটি পাওয়া গেছে। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে গবেষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ফলাফল তুলে ধরেছে।

সম্প্রতি ঢাকার একজন বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজির চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: মজিবুর রহমান ভূঁইয়া সিঙ্গাপুরে রোবোটিক সার্জারি করাতে গিয়ে মারা গেছেন। তিনি ইউরোলজি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকার অনেক ইউরোলজিস্ট দৈনিক এ ধরনের অস্ত্রোপচার করে থাকেন সফলতার সাথে। মরহুম অধ্যাপক মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক মজিব অধিকতর সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের জন্য গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে রোবোটিক অস্ত্রোপচার করতে। কিন্তু রোবটের ভুল প্রগ্রামিংয়ের কারণে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মুজিবুর রহমানের একটি প্রধান আর্টারি কেটে ফেলে। ফলে তার পেট মুহূর্তেই রক্তে ভরে যায় এবং তিনি রক্ত স্বল্পতায় দ্রুত মারা যান। অথচ এই রোগের অসাধারণ কার্য্যকর ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথিক সিকিৎসা শাস্ত্রে।
রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান, মৃত্যু ১৪৪ জনের!
চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে ঢাকার একজন বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন যেন অস্ত্রোপচারটি ওই অধ্যাপকের কাছেই সম্পন্ন করেন কিন্তু তিনি আগে থেকেই মনস্থির করেছিলেন যে, তিনি ইউরোলজিস্টের হাতে করবেন, সিঙ্গাপুরে গিয়ে রোবোটিক অস্ত্রোপচারই করবেন। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরসিসি রেনাল সেল কার্সিনোমা’ রোগে ভুগছিলেন। এটা এক ধরনের ক্যান্সার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশে রোবোটিক সার্জারি করতে গিয়ে সমস্যায় আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং সমস্যা আক্রান্ত স্থানটি ওপেন করে দ্রুততার সাথে সার্জারি করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়।

রোবোটিক সার্জারি বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা: মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈপুণ্য ও উৎকর্ষতা না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় হয়তো রোগী জীবনের জন্য বেঁচে গেলেও শারীরিক অথবা মানসিকভাবে পঙ্গুতের শিকার হতে পারেন। অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেশিন বলুন অথবা রোবটই বলুন এর চালকের অতি উচ্চ মাত্রার প্রশিক্ষণ ও মেশিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হবে এবং একই সাথে জবাবদিহিতা না থাকলে এসব থেকে কল্যাণের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

এফডিএ তাদের গবেষণায় বলেছে, রোবোটিক সার্জারিতে মৃত্যুসংক্রান্ত রিপোর্ট এলেও এ সম্বন্ধে তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। ফলে ‘চিকিৎসকের ভুলের কারণে রোগী মারা গেছে, না মেশিনের ভুল ছিল অথবা সার্জারির পর অন্য কোনো কারণে মারা গেছে’ এ সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না।

এফডিএ’র গবেষণায় বলা হয়েছে ১০ হাজার রোবোটিক সার্জারির তথ্য থেকে জানা গেছে, আট হাজার ৬১টি অস্ত্রোপচারের সময় রোবটের ভুলের কারণে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি সমস্যা আক্রান্ত হয়েছে। এফডিএ বলেছে, গাইনি ও ইউরোলজির অস্ত্রোপচারে অপেক্ষাকৃত কম সমস্যা হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অথবা অন্যান্য সমস্যার অভিযোগ এসেছে কার্ডিওথোরাসিক, মাথা ও ঘাড়ের অস্ত্রোপচারে।

তবে যুক্তরাজ্যের রয়াল কলেজ অব সার্জনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবোটিক সার্জারি ইনফেকশনের ঝুঁকি কমায় এবং রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি তার উল্টোটি ঘটছে। 

মানুষ একটি সহজ বিষয়কে নিজেরাই জটিল করে তুলে এবং নিজেরাই সেই জটিলতায় ভুগে এর জন্য তারা কখনো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ প্রতিটি সমস্যারই সহজ সমাধান রয়েছে। ইউরোলজি সংক্রান্ত নতুন এবং ক্রনিক সকল সমস্যারই সুচিকিৎসা রয়েছে হোমিওতে এবং হাজার হাজার মানুষ সুস্থ হচ্ছে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে। আপনার সমস্যায় অযথাই সার্জারিতে না গিয়ে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন - আশা করি আপনাকে বিফল হতে হবে না। 
বিস্তারিত

Wednesday, February 21, 2018

গাজর ক্যানসার প্রতিরোধক - জানেন কি

গাজরের ইংরেজি নাম ‘ক্যারট’। গ্রিক শব্দ ক্যারট-অন থেকে এই ক্যারট শব্দের উৎপত্তি। আমরা যত রকমের সবজি খাই, তার মধ্যে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সবজি গাজর। এর ১০০টি প্রজাতি রয়েছে। গাজর সাধারণত পাঁচটি বর্ণের হয়ে থাকে—সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদ ও লাল। গাজর বিটা ক্যারোটিনের প্রধান উৎস।

গাজর কাঁচা খাওয়া ভালো। তবে রান্না করে খাওয়া আরো ভালো। যদি গাজর রান্না করা বা কাটা হয়, তখন এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে আরো বেশি কাজ করে।
গাজর কাঁচা খাওয়ার উপকারিতাগুলি জেনে নিন
রান্না করা গাজরের মধ্যে ক্যারোটিনোয়েডস থাকে। ক্যারোটিনোয়েড যেহেতু চর্বিতে দ্রবণীয় উপাদান, তাই এটি তেল-চর্বি দিয়ে রান্না করে খেলে দেহের রক্তে ক্যারোটিনোয়েডের শোষণ এক হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। গাজরে উচ্চ পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এটি লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

গাজর ক্যানসার প্রতিরোধক। গবেষণায় দেখা গেছে, গাজর ফুসফুস ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের (কোলন) ক্যানসার রোধ করে।

গাজরের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে কোষ নষ্ট হয়। এটি কোষের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-এ ব্রণ হওয়া এবং চামড়া ঝুলে পড়া রোধ করে।

গাজর হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, ও লিউটিন দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে সলিউবল ফাইবার থাকে। দুটি একসঙ্গে মিলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

বডির টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। দেহে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা মিনারেলগুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর কাজে বাধা দেয়।
বিস্তারিত

Tuesday, February 20, 2018

গরমে যখন তখন ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি… কিছু বিষয়ে সতর্ক হোন

ফ্রিজের ঠাণ্ডা করা পানি পান করলে মেদ ঝরে। অনেকেই এই যুক্তিকে পূঁজি করে তীব্র গরমের সময় যখন তখন ফ্রিজের পানি খেয়ে তৃপ্ত হন। কাঠফাটা রোদের মধ্যে স্বস্তি পাওয়ার এটাই যেন একমাত্র উপায়। ঠাণ্ডা পানির উপকারিতার পক্ষে ব্যাখ্যা হল, ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রা আর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার মধ্যে রয়েছে অনেকটা পার্থক্য।

আপনার পানকৃত ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক করতে শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে, এতে মেদ ঝরতে পারে। তবে এই মেদ হ্রাসের পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই এতে খুশি হওয়ার কারণ নেই। বরং ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করার ক্ষতিকর দিকটি উপকারের চেয়ে অনেক প্রকট।
গরমে যখন তখন ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি… কিছু বিষয়ে সতর্ক হোন
খাবার খাওয়ার মাঝে কিংবা শেষে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করলে তা খাবারের চর্বি অংশটুকু কঠিন অবস্থায় পরিণত করে। ফলে শরীরে মেদ কমার চেয়ে বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি। একই সঙ্গে ঠাণ্ডা পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে শরীর ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর এ কারণে খাবার পরিপাকের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঠাণ্ডা পানির সহায়তায় খাবারের সেই কঠিন হওয়া অতিরিক্ত চর্বিকে পরিপাক করাটা শরীরের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এসব অতিরিক্ত চর্বি কখনো কখনো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়। ধমনিতেও ধীরে ধীরে চর্বি জমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সুস্থ থাকার জন্য শরীরের তাপমাত্রা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের তাপমাত্রার মধ্যে যোগসূত্র থাকাটা খুব জরুরি। অথচ আমরা বাইরে থেকে ঘরে এসে তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে খেয়ে ফেলি। এটা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি তাহলে কখন পান করবেন? পিপাসা হচ্ছে সেই অনুভূতি, যা খুব সহজেই জানিয়ে দেয়, শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে। তাই তৃষ্ণা মেটাতে তাড়াতাড়ি পানি পান করতে হবে। সুতরাং একমাত্র পরিতৃপ্তির জন্য মাঝেমাঝে স্বাভাবিক পানির সঙ্গে ফ্রিজের পানি মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই সেই পানির শীতলতা থাকবে পরিবেশ ও শরীরের তাপমাত্রার সহ-অবস্থানে।

যাদের অ্যাজমা, টনসিলাইটিস কিংবা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি একেবারেই নিষিদ্ধ। আবহাওয়া যতই গরম থাকুক না কেন ঠাণ্ডা পানিতে আপনার শরীরের ক্ষতি করে বসতে পারে। তাই সাবধান থাকা জরুরি।
বিস্তারিত

Monday, February 19, 2018

কিভাবে বুঝবেন আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে ?

প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হলো পেটব্যথা। এটা শুরু হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা নেয়া জরুরি। প্রয়োজনে যত শিগগিরই সম্ভব আপারেশন করাতে হতে পারে।

অনেকে এই ব্যথা হলে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে পরবর্তীতে রোগীর শরীরে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়।

মানুষের বৃহদন্ত্রের সঙ্গে লাগানো কনিষ্ঠ আঙুলের মতো একটি সরু। তলপেটের ডান দিকে লম্বায় এটি ২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মূলত বেঁচে থাকার জন্য এটির প্রয়েজনীয়তা এখনো জানা যায়নি। কিন্তু এই ছোট্ট থলেতে আকস্মিক প্রদাহ হলে দেখা দেয় অসহনীয় ব্যথা। এর নাম অ্যাপেন্ডিসাইটিস।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা সাধারণত নাভির চারপাশে বা নাভির একটু ওপর থেকে শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা পর তলপেটের ডান দিকের অংশে ব্যথাটা স্থায়ী হয়। থেমে থেমে ব্যথা ওঠে। ব্যথা তীব্র ও হালকা দুই রকমেরই হতে পারে। এ ছাড়া বমি বমি ভাব বা ১/২ বার বমিও হতে পারে।
কিভাবে বুঝবেন আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে ?
সঙ্গে হালকা জ্বরও থাকতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। ব্যথা তীব্র হলে রোগী হাসপাতালে আসতে বাধ্য হয়। তবে হালকা ব্যথা হলেও সতর্ক হতে হবে। কেননা, পরবর্তীতে রোগীর অ্যাপেন্ডিক্সের চারদিকে বিভিন্ন উপাদান জমা হয়ে পেটে একটি পিণ্ডের মতো তৈরি হতে পারে।

সময়মতো চিকিৎসা না করালে অ্যাপেন্ডিক্স ছিদ্র হয়ে খাদ্যনালীর ভেতরের বিভিন্ন উপাদান, পরিপাক হয়ে যাওয়া খাবারের অংশ ও মল বেরিয়ে পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে পেটের ভেতরে, এমনকি রক্তেও ছড়িয়ে পড়তে পারে গুরুতর সংক্রমণ। এ ধরনের ঘটনায় রোগীর জীবনের আশঙ্কাও দেখা দেয়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা হলো আক্রান্ত অংশ বা অ্যাপেন্ডিক্স যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলে দেয়া। অস্ত্রোপচারের ভয়ে অনেকে হাসপাতালে যেতে চান না। অনেক সময় শিশু বা বেশি বয়স্করা ব্যথার সঠিক বর্ণনাও দিতে পারে না।

কিন্তু জটিলতা এড়াতে পেটব্যথা তীব্র ও স্থায়ী অথবা থেকে থেকে হলে রোগীকে শক্ত খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন বা মুখে খাবার দেয়া বন্ধ রাখুন এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিস্তারিত

Saturday, February 3, 2018

কোন রক্তের গ্রুপে কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত

ডায়েট চার্ট মেনে অনেকেই খাওয়া দাওয়া করে থাকেন। তাতে শরীর সুস্থ যেমন থাকে, তেমন মুডও থাকে ভাল। তবে লো-ক্যালরি, হাই এনার্জি ডায়েটেও অনেকে যেন ঠিক মনের মতো ফল পাচ্ছেন না। মানে, ওজন ঝরিয়ে ফেলে ঠিক যেমনটা স্লিম হতে চান তেমনটা কিছুতেই যেন হয়ে ওঠছে না। এর কারণ জানেন? গবেষকরা জানাচ্ছেন, আমরা আমাদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী ডায়েট মেনে চলি না বলেই এমনটা হয়ে থাকে।

নিউরোপ্যাথ ড. পিটার ডি’অ্যাডামো জানান, রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী খাবার খেলে শুধু যে ওজম কমে তা নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়, সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে। জেনে নিন কোন গ্রুপের রক্ত হলে ডায়েটে কোন ধরনের খাবার রাখা উচিত।
কোন রক্তের গ্রুপে কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত
রক্তের গ্রুপ ‘ও’:- এ ধরনের রক্ত যাদের রয়েছে তারা উচ্চমাত্রায় প্রোটিন খেলে যথেষ্ট উপকৃত হবে। এক্ষেত্রে বেশি করে সাদা মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, মাছ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সবজি এবং নানা ধরনের দানাযুক্ত খাবার যথেষ্ট উপকার করবে। সীম ও বীজধরনের খাবার এবং ডেইরি পণ্য খাওয়া উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘এ’:- এ রক্তের গ্রুপের মানুষদের জন্য মাংসবিহীন খাবারই সবচেয়ে উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সবজি ও ফলমূল হতে পারে সবচেয়ে আদর্শ খাবার। এছাড়া নানা ধরনের ডাল, দানাদার খাবার, লাল আটার রুটি, সীমের বিচি ও বিভিন্ন ধরনের বীজ খাওয়া উচিত বেশি করে।

রক্তের গ্রুপ ‘বি’:- ‘বি’ গ্রুপের রক্ত যাদের রয়েছে তাদের প্রধানত সবুজ সবজি, ডিম, কিছু ধরনের মাংস ও কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। তাদের ভুট্টা, গম, ডাল, টমেটো ও চিনাবাদাম এড়িয়ে চলা উচিত।

রক্তের গ্রুপ ‘এবি’:- রক্তের গ্রুপ যাদের ‘এবি’ তাদের খাবারে থাকা উচিত সয়াবিন, সামুদ্রিক খাবার, দুগ্ধজাত সামগ্রী ও সবুজ সবজি। এছাড়া ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, ধূমপান ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বর্জন করা উচিত।
বিস্তারিত

Friday, February 2, 2018

হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি জেনে রাখুন

আপনি হয়তো মুরগীর স্যুপ বা হাড় দিয়ে তৈরি অন্য কোন খাবার যেমন- নেহারি খেয়েছেন। কিন্তু এই হাড়ের জুস বা স্যুপের যে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে তা কি জানেন? আসলে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হাড়ের জুস।

হাড়ের এই স্যুপ তৈরি হয় গরু বা মুরগীর অস্থি ও তরুণাস্থি দিয়ে। হাড়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের মিনারেল থাকে এবং এর পাশাপাশি জেলাটিন ও কোলাজেন থাকে। এ কারণেই হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রচুর।
হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি জেনে রাখুন
হাড়ের স্যুপে মিনারেলের পাশাপাশি ভিটামিন ও থাকে। এতে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এছাড়াও আয়রন, সেলেনিয়াম, কপার, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬ এর ভালো উৎস হাড়ের স্যুপ। হাড়ের স্যুপে কন্ডিশনাল অ্যামাইনো এসিড থাকে। এই ধরণের অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয় না, তাই খাদ্য থেকে এদের গ্রহণ করতে হয়। হাড়ের স্যুপে যে ৪টি অ্যামাইনো এসিড থাকে সেগুলো হল- আরজিনিন, গ্লিসাইন, গ্লুটামিন ও প্রোলিন। এই অ্যামাইনো এসিড গুলো ইমিউন ফাংশন, অন্ত্রের কাজ, জ্ঞানীয় ক্ষমতা এবং বডি ডিটক্সের জন্য প্রয়োজনীয়।

হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতা সমূহ

১. অন্ত্রের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করেঃ- যাদের অন্ত্রের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা যেমন- লিকি গাট বা হজমের সমস্যা থাকে তারা প্রতিদিন ১ কাপ হাড়ের স্যুপ খেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। অন্ত্রের ছিদ্রগুলোকে মেরামত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে হাড়ের স্যুপের জেলাটিন।ডায়রিয়া, খাদ্যের অসহনীয়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যাগুলো হয় অন্ত্রের ছিদ্রের অসামঞ্জস্যতার জন্য।—-

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ-
হাড়ের স্যুপ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে অনেক ধরণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ এবং এই কাজটি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে। হাড়ের স্যুপের প্রচুর খনিজ উপাদানের উপস্থিতি, অ্যামাইনো এসিড ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের জন্যই এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে পারে।

৩. ভাইরাস ও ঠান্ডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেঃ- গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গগুলো কমতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ। হাড়ের স্যুপ সাইনাস ও শ্বাসনালীর পথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি হজম সহায়ক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। তাই অসুস্থ হলে মুরগীর স্যুপ খাওয়ার কথা বলা হয়।

৪. জয়েন্টের ব্যথা দূর করেঃ- বছরের পর বছর ধরে মানুষ জয়েন্টের ব্যথায় আরাম পাওয়ার জন্য গ্লুকোসামাইন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করছেন। হাড়ের স্যুপে গ্লুকোসামিন থাকে, তার অর্থ হাড়ের স্যুপ অস্থি সন্ধির ব্যথা কমাতে কার্যকরী হতে পারে। এছাড়াও হাড়ের স্যুপ হাড়কে শক্তিশালী করে এবং অষ্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে।

৫. ঘুমের উন্নতি ঘটায়ঃ- হাড়ের স্যুপে গ্লিসাইন থাকে যার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। আসলে গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, গ্লিসাইন ঘুমের মান উন্নত করতে পারে এর পাশাপাশি স্মৃতিরও উন্নতি ঘটায়।

তাছাড়া হাড়ের রসে কোলাজেন থাকে বলে এই স্যুপ খেলে ত্বককে দৃঢ়, উজ্জ্বল ও তরুণ রাখে, অন্ত্রের যে ব্যাকটেরিয়া স্থূলতার জন্য দায়ী তাদের দূর করে ওজন কমতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ, মিনারেল ও ইলেক্ট্রোলাইটের উপস্থিতির জন্য শরীর হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ।
বিস্তারিত

Wednesday, January 24, 2018

দাঁত রোগমুক্ত রাখতে করণীয় এবং দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক ঔষধগুলি কি কি জেনে নিন।

বাংলায় একটা কথা আছে, যা প্রতিটি মানুষই তার জীবনকালে একবার না একবার শুনেই থাকেন, তা হল দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে হয়, না হলে পরে আফসোস করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। আপনাকে যাতে এমন কথা শুনতে না হয় সেজন্যই আজ এই লেখায় দাঁত বাঁচাতে এমন সহজ কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে আপনার দাঁতের কোনও ক্ষয় তো হবেই না, সেই সঙ্গে বুড়ো বয়সে দাঁত পড়ে যাওয়ার চিন্তাও দূর হবে।

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝুন। একটা মধুর হাসি তখনই সম্পূর্ণ হবে, যখন তার সঙ্গে থাকবে হিরের মতো ঝকঝকে দাঁত। মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। শরীরের সঙ্গে দাঁতেরও যত্ন নেওয়া দরকার। দাঁত ভালো রাখতে আমাদের নিয়মিত চিকিত্সকের পরামর্শসহ আরও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ
দাঁত রোগমুক্ত রাখতে করণীয় এবং দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক ঔষধগুলি কি কি জেনে নিন

দাঁতের কালো দাগ: সমস্যা এবং সমাধান

দাঁত থাকুক সুন্দর, ঝকঝকে, রোগমুক্ত; কে না চায় এমন। কিন্তু হয়ে উঠে কি? কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্জাদা বুঝে না। এটাই হয় মূলত। সাধারণত দেখা যায় দাঁতের চিকিৎসা সময় মত না করানোর ফলেই দাঁতের যত সমস্যার শুরু হয়। সময় মত চিকিৎসা করালে যে সমস্যা কোন সমস্যাই না, অসময়ে চিকিৎসা করাতে গেলে ঐ সমস্যাই বড় সমস্যা হয়ে দাড়ায়।

অনেকেরই দেখা যায় দাঁতের মাড়ির ওপর কালো দাগ পড়েছে। আর সেখানে প্রচন্ড ব্যাথা, গর্ত হওয়া বা ফাঁকা হওয়া, রক্ত পড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই দাতে লবন এবং সরিষার তেল দিয়ে দাঁত মাজি। কিন্তু ডাক্তারদের মতে এটা করা ঠিক নয়। বরং দাঁতে কালো দাগ দেখা দেবার সাথে সাথে আমাদের যা করা উচিৎ তা হলো একজন দাঁতের ডাক্তার দেখানো।

মূলত দাঁতে কালো দাগ দেখা মানে হচ্ছে এটি দাঁত ক্ষয়ের প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যা। প্রথম অবস্থাতেই এটির চিকিৎসা করালে এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা ফিলিং করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের ব্যয়বহুল রুট ক্যানেল করানোর মত ঝামেলা এড়ানো যায় সহজেই।

আর আপনি যদি সময় মত দাঁতের এই কালো দাগ দূর করে ফিলিং করান, তাহলে দাঁতে অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। আর না করালে এবং অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস হলে রুট ক্যানেল করে ফিলিং করালে যদিও দাঁত রক্ষা করা যায়, কিন্তু তা খুবই ব্যয়বহুল।

কিছু নিয়ম মানুনঃ- দাঁতের নিয়মিত সুরক্ষার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। এগুলি মেনে চললে অনেকাংশেই আমরা আমাদের দাঁতকে রাখতে পারবো ঝকঝকে সাদা, রোগমুক্ত।

প্রতিদিন সকালের নাস্তার পর, এবং রাত্রে ঘুমাবার আগে দাঁত ব্রাশ করুন।
(রমজানে,সেহেরী খাওয়ার পর)
  • দিনে মাত্র একবার দাঁতব্রাশ করলে তা অবশ্যই রাত্রে ঘুমাবার আগে দেড় থেকে দুমিনিট দাঁত ব্রাশ করা শ্রেয়, এর বেশী বা কম নয়
  • ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁকার মধ্যে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করতে পারেন
  • যে কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, চুইংগাম, কেক, ফাস্টফুড খাবার পর অবশ্যই পানি দিয়ে ভালো ভাবে কুলকুচি করবেন
  • মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন, তবে টানা ব্যবহার করবেন না, ৪/৫ দিন ব্যবহারের পর আবার ৪/৫ দিন ব্যবহার বাদ দিন
  • অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ব্যবহার করে এমন টুথপেষ্ট লম্বা সময় ব্যবহার করবেন না, এতে আপনার দাঁতে সাদা দাগ পড়া সহ ভেঙ্গে যেতে পারে
  • সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করবার নিয়মটি আপনার দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো ভাবে শিখে নিন
  • দাঁতে সমস্যা থাকুক চাই না থাকুত, বছরে অন্তত ২/১ বার দন্ত চিকিৎসককে দেখানো উচিত

দাঁতের যত্নে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদানগুলো

দাঁতের ক্ষয় হওয়ার পেছনে মূলত আমাদের খাদ্যাভ্যাস অনেকাংশে দায়ী থাকে। এই যেমন সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে যে যে খাবারগুলি বিশেষ করে দাঁতের ক্ষয় করে থাকে, মিষ্টিজাতীয় খাবার তার মধ্যে অন্যতম। শুধু কী আর খাবার, সেই সঙ্গে খাবার খেয়ে ঠিক মতো মুখ না ধোওয়া, দাঁতের যত্ন না করার মতো বিষয়ও দাঁতের ক্ষয়ের পিছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এই বদঅভ্যাসগুলি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি নিয়ম করে এই লেখায় আলোচিত ঘরোয়া দাওয়াইগুলো মেনে চলা যায়, তাহলে দাঁত নিয়ে আর কখনও চিন্তাই করতে হবে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী।

১. তেল মালিশ:- শরীরকে চাঙ্গা রাখতে তেল মালিশের উপকারিকাতর কথা শুনেছি। কিন্তু দাঁতে তেল মালিশ! এই ব্যাপারটা তো ঠিক বুঝলাম না ভাই? আসলে দাঁতের তেল মালিশ বলতে সহজ কথায় বিশেষ কিছু তেল দিয়ে কুলকুচি করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১ চামচ নারকেল তেল নিয়ে কুলকুচি করার পর যদি গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার ভয় অনেকটাই কমে আসে। প্রসঙ্গত, নারকেল তেল দিয়ে কম করে ২০ মিনিট কুলি করতে হবে, তবেই মিলবে সুফল!

২. হলুদ:- এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ দাঁতে পোকা লাগতে দেয় না। সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের হাত থেকে দাঁতকে রক্ষা করতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এক্ষেত্রে প্রথমে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়োতে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটা ব্রাশে লাগিয়ে দিনে কম করে দুবার দাঁত মাজতে হবে। এমনটা যদি কয়েকমাস করা যায়, তাহলে দাঁত নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

৩. পেয়ারা পাতা:- দাঁতের সুরক্ষায় এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দাঁতের স্বাস্থ্যকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল দাঁতের সুরক্ষায় কীভাবে ব্যবহার করতে হবে পেয়ারা পাতাকে? এক্ষেত্রে ১-২টা পেয়ারা পাতা নিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে ফেলে দিতে হবে। এমনটা করলে পেয়ারা পাতার রস দাঁতের ভেতরে প্রবেশ করে নিজের খেল দেখানোর সুযোগ পেয়ে যাবে। আর এমনটা হওয়া মাত্র দাঁতের শক্তি বাড়তে শুরু করবে।

৪. গ্রিন টি:- শরীরকে সুস্থ রাখতে গ্রিন টি-এর যেমন কোনও বিকল্প হয় না, তেমনি দাঁতের সুরক্ষাতেও এই পানীয়টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লেগে থাকে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি খেলে দাঁতের বেশ উপকার হয়, সেই সঙ্গে শরীররে প্রতিটি অঙ্গ এতটাই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি ঘটে।

৫. তুলসি পাতা:- মুখের ভেতরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলার মধ্যে দিয়ে তুলসি পাতা একদিকে যেমন মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, তেমনি ক্যাভিটি এবং প্লাকের মতো সমস্যাকেও ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা নিয়ে রোদে শুকিয়ে একটা পাউডার বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পাউডার দিয়ে প্রতিদিন দাঁত মাজলেই দেখবেন উপকার পেতে শুরু করেছেন।

৬. পিপারমেন্ট পাতা:-  ২০১৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই পাতাটি নিয়মিত খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে পোকা লাগার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। কারণ পিপারমেন্ট পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো পিপারমেন্ট পাতা ফেলে পানিটা ফুটিয়ে নিন। যখন দেখবেন পানিটা ভাল রকম ফুটতে শুরু করেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে, পানিটা ছেঁকে নিয়ে ভাল করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৭. আমলকি:- এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে প্রবেশ করার পর শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় না, সেই সঙ্গে দাঁতের বাইরের স্তরকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে ক্যাভিটি হোক কী ব্যাকটেরিয়া, কোনও কিছুই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই তো দাঁতের পাশাপাশি শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন ১-২টা আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
বিস্তারিত

নিয়মিত এক কাপ চা পান করার যে উপকারিতাগুলি আপনি জানেন না !!

শরীরের ঝিমভাব কাটাতে অনেকেই চা পান করে থাকেন। কারও পছন্দ চিনি ছাড়া লাল চা, কারও আবার বেশি দুধ ও চিনি সহযোগে কড়া চা। চায়ের কতই না রূপভেদ। কিন্তু ধর্ম-বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ একটা ব্যাপারে একমত হবেনই, চা ছাড়া দিন যে কাটে না।

সম্প্রতি চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে একটি নতুন সমীক্ষা হয়েছে। বের হয়েছে তার ফলাফলও। যেখানে বলা হচ্ছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের বুদ্ধি, একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা যারা চা পান করেন না, তাদের চেয়ে বেশি।
নিয়মিত এক কাপ চা- পান করার যে উপকারিতা
গবেষকরা বলছেন, চায়ের মধ্যে ক্যাফিন ও থিয়ানিন রয়েছে। এই উপাদানগুলো মানুষকে সদা সতর্ক থাকতে সাহায্য করে। একাগ্রতা বাড়ায়। মস্তিষ্কে ‘ক্রিয়েটিভ জুসে’র প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এক কাপ চা।

এই তত্ত্ব হাতেকলমে প্রমাণ করতে ২৩ বছর বয়সী ৫০ জন যুবককে দুটি দলে ভাগ করা হয়। তাদের মধ্যে একদলকে শুধু পানি দেয়া হয়, ওপর দলটিকে দেয়া হয় পানি ছাড়াও নিয়মিত লিকার চা পান করতে। দুটি দলকেই নানা কাজের ভার দেয়া হয়। তাদের কিছু অঙ্ক কষতে দেয়া হয়, ইতিহাসের কয়েকটি প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়।

এবার ফল যা বলছে, তাতে দেখা যায়, যারা নিয়মিত চা পান করেছেন, তাদের স্কোর ৬.৫৪। আর যারা চা পান করেননি, তাদের গড় স্কোর ৬.০৩।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, বারবার চা চাওয়ার অভ্যাসে গিন্নি বিরক্ত হলেও এই প্রবণতা কিন্তু মোটেও ক্ষতিকারক নয়। তবে ঘনঘন পান করার অভ্যাস থাকলে দুধ-চিনি ছাড়া লিকার চা বা গ্রিন টি পান করুন। এতে সুস্থও থাকবেন বেশিদিন, আর বাড়বে বুদ্ধি-একাগ্রতাও।
বিস্তারিত

Monday, January 22, 2018

নীরব ঘাতক হাড়ের ক্যান্সারের মারাত্মক লক্ষণগুলো সবারই জেনে রাখা দরকার

আজকাল বোন ক্যান্সার বা হাড়ের রোগের কথা বেশ শুনতে পাওয়া যায়। আর এই ক্যান্সারে মৃত্যুর হারটাও অনেক চড়া। তবে ভয়ের বিষয়টা হচ্ছে এই ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

তাই সত্যি বলতে কি, নিশ্চিতভাবে কারো ক্ষেত্রেই বলা সম্ভব না যে তার এই হাড়ের ক্যান্সার হবে কি হবে না। তাহলে উপায়? উপায় হচ্ছে কারণ ও লক্ষণ গুলো সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে রাখা ও সতর্ক হওয়া।

ম্যালিগন্যান্ট বোন টিউমার থেকেই মূলত হাড়ের ক্যানসার হয়। হাড়ের কোষে টিউমার, অস্টিওজেনেটিক দেহকলার মারাত্মক টিউমার, কন্ড্রোমা সারকোমাটোসাম ইত্যাদির কারণেও এটি হয়ে থাকে। তবে হাড় ক্যানসারের লক্ষণ ক্ষেত্রে অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

বোন ক্যানসারের কারণ

হাড়ের ক্যানসারের কারণ এখনও সঠিক ভাবে জানা যায়নি। হাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ও সংক্রমণের ফলেই ক্যানসার হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
নীরব ঘাতক হাড়ের ক্যান্সারের মারাত্মক লক্ষণগুলো
এছাড়াও হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জেনেটিক ফ্যাক্টর, ভাইরাস সংক্রমণ, রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণেও হাড়ের ক্যানসার হতে পারে।

এবার জানুন নীরব ঘাতক হাড়ের ক্যান্সারের মারাত্মক লক্ষণগুলো সম্পর্কে….

১) হাড়ে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া:- হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ার অর্থ যে আপনি কোনো ভাবে ব্যথা পেয়েছেন তা নাও হতে পারে। হাড়ের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে হাড়ে ব্যথা হওয়া। এই ব্যথা একটানা হবে না। হুট করেই ব্যথা শুরু হওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাতের বেলা ব্যথা শুরু হওয়া, ভারী কোনো জিনিস তোলার পর ব্যথা হওয়া বা হাঁটার ফলে হাড়ে ব্যথা হওয়া হতে পারে হাড়ের ক্যান্সারের লক্ষণ। সুতরাং হাড়ের ব্যথা অবহেলা করবেন না।

২) ব্যথার স্থান ফুলে যাওয়া:- কোনো কারণে ব্যথা পাওয়া ছাড়া হাড় ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি যদি ব্যথা হওয়ার স্থান অনেক ফুলে যায়, বিশেষ করে জয়েন্টের স্থান ফুলে যায় তাহলে এটি সাধারণ ব্যাপার নাও হতে পারে। এছাড়াও ফুলে যাওয়া স্থানে গোটার মতো অনুভব হওয়া মাত্র সতর্ক হোন। ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৩) হাড় ভাঙা বা হাড়ে ফ্র্যাকচার হওয়া:- হাড় অনেক মজবুত, ষ্টীলের চাইতেও মজবুত হয়ে থাকে মানুষের হাড় যা খুব সহজে ভাঙে না। কিন্তু হাড়ের ক্যান্সার হওয়ার ফলে হাড়ের ভেতরে ক্ষয় হতে থাকে এবং হাড়ের ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পায়। যার কারণে সাধারণ কাজ যেমন উঠাবসার করা, হাঁটু গেঁড়ে বসা বা বিছানায় গড়াগড়ি খাওয়ার সময়েও হাড় ভাঙা বা হাড় ফ্র্যাকচার হওয়ার ঘটনা মোটেই স্বাভাবিক নয়। এটি হাড়ের ক্যান্সারের লক্ষণ।

৪) অন্যান্য লক্ষণ সমূহ:- এই সকল লক্ষণের পাশাপাশি আরও সাধারণ কিছু লক্ষণ নজরে পড়ে থাকে, যেমন-
  • কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকা
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করা
  • রক্তশূন্যতায় ভোগা
  • ঘন ঘন এবং অতিরিক্ত জ্বর হওয়া ইত্যাদি।
মনে রাখুন,উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো চোখে পড়লে নিশ্চিত হয়ে যাবেন না যে আপনি হাড়ের ক্যান্সারেই আক্রান্ত। আর্থ্রাইটিস, মাংসপেশি বা লিগামেন্ট ইনজুরিতে যারা ভোগেন তাদের মধ্যেও এইধরনের কিছু লক্ষণ নজরে পড়ে। সুতরাং ঘাবড়ে বা ভয় পেয়ে যাবেন না। লক্ষণ দেখা মাত্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বিস্তারিত

নকল ডিম চেনার সহজ এবং সর্বোত্তম উপায় (ভিডিও সংযুক্ত)

নকল ডিম চেনার সহজ উপায় >> চারপাশে এই ভেজালের দুনিয়াতে ডিমেও এখন ভেজাল। প্রথম প্রথম কৃত্রিম ডিমের বিষয়কে গুজব মনে হলেও এখন সেটা বাস্তব। বাংলাদেশ সহ আশেপাশের অনেক দেশেই নকল ডিমের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাসায়নিক প্লাস্টিকের ডিম নিয়ে ভারতের চলছে শোরগোল। চীনের রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তের চোরাপথে চীন থেকে কৃত্রিম ডিম পাচার হয়ে আসছে। আর এসব ডিম চলে আসছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। যা দেখতে অবিকল হাঁস মুরগির ডিমের মতো। মানুষ ভুল করে কৃত্রিম ডিমকে আসল ডিম ভাবছে। এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত।

বিজ্ঞান সাময়িকী “দ্যা ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি”তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ডিমে কোনো খাদ্যগুণ ও প্রোটিন থাকে না। বিষাক্ত এই কৃত্রিম বা নকল ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এই নকল ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। নকল ডিমের ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।
নকল ডিম চেনার সহজ এবং সর্বোত্তম উপায়
নিজের ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে নকল ডিম চিনে রাখা জরুরী।

কিভাবে চিনবেন নকল ডিম? জেনে নিন

  • কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়।
  • সাধারণ ডিমের চেয়ে এই ডিম বেশি ঝকঝকে।
  • ডিম ঝাঁকালে পানি গড়ানোর মতো শব্দ হয়।
  • ডিম ভাঙার পর সাদা অংশ ও কুসুম এক হয়ে যায়।
  • ভাঙার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
  • নকল ডিমের আকৃতি অন্য ডিমের তুলনায় তুলনামূলক লম্বাটে ধরণের হয়ে থাকে
  • এই ডিম সিদ্ধ করলে কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়।
  • এর খোলস বেশি শক্ত। খোলের ভেতর রাবারের মতো লাইন থাকে।
  • এর খোলস খুব মসৃণ হয়। খোসায় প্রায়ই বিন্দু বিন্দু ফুটকি দাগ দেখা যায়।
  • রান্না করার পর এই ডিমে অনেক সম্যেই বাজে গন্ধ হয়। কিংবা গন্ধ ছাড়া থাকে। আসল কুসুমের গন্ধ পাওয়া যায় না।
  • নকল ডিমকে কোন তীব্র গন্ধ যুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। রান্নার পরেও ডিম থেকে সেই গন্ধই পেতে থাকবেন।
  • আসল ডিম ভাঙলে মুড়মুড়ে শব্দ হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমে তেমন শব্দ হয় না।
  • নকল ডিমের কুসুমের চারপাশে রাসায়নিকের পর্দা থাকে।
  • নকল ডিম ভেঙে রেখে দিলে পিঁপড়া বা পোকামাকড় আসে না।

দেখুন কোন ডিমগুলি নকল

দেখুন কোন ডিমগুলি আসল

কেন প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাবেন?

ডিম কম বেশী সবাই পছন্দ করলেও না না অজুহাতে খাদ্য তালিকা থেকে ডিমকে বাদ দিতে চান। কেউ কেউ ডিমকে এড়িয়ে যান রক্তে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গে চর্বি বৃদ্ধির ভয়ে। কিন্তু ডাক্তারেরা বলছেন ভিন্ন কথা, প্রতিদিন সকালে অন্তত একটি ডিম খেলে অনায়াসে ৩ পাউন্ড ওজন কমানো যায়। ডিমের এমনই কিছু গুনাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আজ জানবো।

১) ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। ডিমের ভিটামিন বি ১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।

২) ডিমের মধ্যে আছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও জিয়েক্সেনথিন বয়সকালের চোখের অসুখ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। একই উপাদান চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।

৩) কেবলমাত্র ডিমেই রয়েছে ভিটামিন ডি, যা পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৪) ডিমের ভিটামিন ই কোষ এবং ত্বকে উত্‍পন্ন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নষ্ট করে দেয় এবং স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

৫) ডিমের সবচেয়ে বড়ো গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম হবে, খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালোরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫% বডি ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম!

৬) ডিমে আছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস। মেনস্ট্রুয়েশনের জন্য অনেক সময় অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। শরীর তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন এই ঘাটতি মেটাতে পারে সহজেই। জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
বিস্তারিত

Sunday, January 21, 2018

লাউ ওজন কমাতে সাহায্য করে, অকালে চুল পাকা, জন্ডিস ও কিডনি সমস্যা রোধ করে

লাউ এমন একটি সবজি যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কিশোর-তরুণরা এই সবজিটি তেমন পছন্দ করেনা। লাউ এর উপকারিতাকে উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। কারণ লাউয়ে প্রচুর পানি থাকার পাশাপাশি এতে ফাইবার, ভিটামিন ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে। সাধারণ লাউ এর অসাধারণ কিছু উপকারিতার কথাই জানবো আজ।

ক্যালরি কমঃ কম ক্যালরির খাবার হিসেবে লাউ আদর্শ খাবার। লাউয়ে ৯৬% পানি থাকে। উচ্চমাত্রার ডায়াটারি ফাইবার থাকে লাউয়ে। ১০০ গ্রাম লাউয়ে ১৫ ক্যালরি ও ০.১ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে ভিটামিন সি ও সামান্য বি ভিটামিন, আয়রন, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ও থাকে। জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানে লাউ  লাউ ওজন কমতে সাহায্য করে, অকালে চুল পাকা রোধ করে

পরিপাকে সাহায্য করেঃ লাউয়ে ভালো পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার এবং পানি থাকে। তাই লাউ পরিপাকে এবং পরিপাক সম্পর্কিত সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও এসিডিটির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তাদের জন্য লাউ খাওয়া উপকারী।
লাউ ওজন কমাতে সাহায্য করে, অকালে চুল পাকা, জন্ডিস ও কিডনি সমস্যা রোধ করে
শিতলিকারকঃ লাউয়ে ভালো পরিমাণে পানি থাকে বলে শরীর ঠান্ডা ও শান্ত করার ক্ষমতা আছে। তাই গরমের সময় লাউ খাওয়া উপকারী বিশেষ করে যারা প্রখর সূর্যতাপে কাজ করেন তাদের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে লাউ। লাউ বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়।

ইউরিনারি সমস্যা সমাধানেঃ লাউ মূত্র বর্ধক হিসেবে কাজ করে। শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে লাউ। ১ গ্লাস লাউয়ের জুসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস মিসিয়ে পান করুন।ক্ষারীয় এই মিশ্রণটি এসিডিক মিশ্রণকে তরল হতে সাহায্য করে এবং মূত্রনালীর জ্বালাপোড়া কমতে সাহায্য করে। অন্যারা যা পড়ছেন …

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ লাউয়ে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে বলে লাউ ওজন কমতে সাহায্য করে। রক্তের কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে লাউ।

অকালে চুল পাকা রোধ করেঃ আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে যে, সকালে নিয়মিত তাজা লাউয়ের জুস পান করলে অকালে চুল পাকা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সাহায্য করে।

ত্বকের জন্য উপকারীঃ ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে লাউ। এটি মুখের ত্বকের তেলের নিঃসরণের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। বিভিন্ন প্রকার ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে লাউ।

ভালো ঘুম হতে সাহায্য করেঃ তিলের তেলের সাথে লাউয়ের জুসের মিশ্রণ ইনসমনিয়ার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। লাউ পাতা রান্না করে খেলে মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

পুনরুজ্জীবিত করেঃ ডায়রিয়া, উচ্চমাত্রার জ্বর এবং অন্য কোন স্বাস্থ্যসমস্যার কারণে যদি শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায় তাহলে ১ গ্লাস লাউয়ের জুস পান করুন। এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া পানির প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের অত্যধিক তৃষ্ণা কমাতেও সাহায্য করে।

এছাড়াও জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানেও উপকারী ভূমিকা রাখে লাউ। অসাধারণ উপকারিতা সম্বলিত এই সবজিটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞেরা সকালে খালি পেটে লাউয়ের জুস পান করার পরামর্শ দেন। আবার অনেকের মতে লাউ দিনের যেকোন সময় যেকোন উপায়ে রান্না করে খাওয়া উপকারী।
বিস্তারিত

Saturday, January 20, 2018

গাজর কাঁচা খাওয়ার উপকারিতাগুলি জানেন কি ?

গাজরের ইংরেজি নাম ‘ক্যারট’। গ্রিক শব্দ ক্যারট-অন থেকে এই ক্যারট শব্দের উৎপত্তি। আমরা যত রকমের সবজি খাই, তার মধ্যে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সবজি গাজর। এর ১০০টি প্রজাতি রয়েছে। গাজর সাধারণত পাঁচটি বর্ণের হয়ে থাকে—সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদ ও লাল। গাজর বিটা ক্যারোটিনের প্রধান উৎস।

গাজর কাঁচা খাওয়া ভালো। তবে রান্না করে খাওয়া আরো ভালো। যদি গাজর রান্না করা বা কাটা হয়, তখন এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে আরো বেশি কাজ করে।

রান্না করা গাজরের মধ্যে ক্যারোটিনোয়েডস থাকে। ক্যারোটিনোয়েড যেহেতু চর্বিতে দ্রবণীয় উপাদান, তাই এটি তেল-চর্বি দিয়ে রান্না করে খেলে দেহের রক্তে ক্যারোটিনোয়েডের শোষণ এক হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। গাজরে উচ্চ পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এটি লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
গাজর কাঁচা খাওয়ার উপকারিতাগুলি জানেন কি
গাজর ক্যানসার প্রতিরোধক। গবেষণায় দেখা গেছে, গাজর ফুসফুস ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের (কোলন) ক্যানসার রোধ করে।

গাজরের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে কোষ নষ্ট হয়। এটি কোষের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-এ ব্রণ হওয়া এবং চামড়া ঝুলে পড়া রোধ করে।

গাজর হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, ও লিউটিন দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে সলিউবল ফাইবার থাকে। দুটি একসঙ্গে মিলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

বডির টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। দেহে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা মিনারেলগুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর কাজে বাধা দেয়।
বিস্তারিত

Friday, January 19, 2018

কিশমিশের যে উপকারীতাগুলি আপনার না জানলেই নয়

খাদ্য-পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে কিশমিশকে ‘প্রাকৃতি ক্যান্ডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানানো হয়, শুধু মুখের স্বাদের জন্যই নয় সারাদিনের কর্মশক্তির অন্যতম উৎস হতে পারে এই শুকনা ফল।

আঙুর ফলের শুকনা রূপই হচ্ছে কিশমিশ। যা তৈরি করা হয় সূর্যের তাপ অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে। তাপের কারণে আঙুরের ফ্রুক্টোজগুলো জমাট বেঁধে পরিণত হয় কিশমিশে এটি রক্তে শর্করার মাত্রায় ঝামেলা তৈরি করে না। আর শতকরা ৭০ ভাগ খাঁটি এই ফ্রুক্টোজ সহজেই হজমযোগ্য।

ভিন্ন পুষ্টিগুণ যেমন ফসফরাস, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, জিংক, লৌহ, ফ্লোরাইড, পোটাসিয়াম, ফোলাট, নিয়াসিন, কোলিন, ভিটামিন বি সিক্স, সি, কে এবং রিবোফ্লাবিন কিশমিশেও পাওয়া যায়।

তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে জন্য খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখতে পারেন। প্রতিদিন এই পিচ্চি শুকনা ফলের ১২টি খেলেই যাদুমন্ত্রের মতো কাজ করবে।
কিশমিশের যে উপকারীতাগুলি আপনার না জানলেই নয়
ভালো রাখে মুখের স্বাস্থ্যঃ ক্যান্ডির মতো দাঁতে লেগে থাকেনা কিশমিশ, ফলে থাকে না ক্যাভিটি তৈরির আশঙ্কা। বরং কিশমিশের পাইথোনিউট্রিয়েন্ট, অলিয়ানলিক এসিড নামে পরিচিতি যা ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি দাঁতের ক্যাভিটি ধ্বংস করে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

রক্তশূন্যতা রোধ করেঃ রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে অবশাদ, দুর্বলতা, হতাশায় ভুগতে পারেন, ব্যহত হতে পারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে লৌহ আছে যা রক্তশূণ্যতায় ভোগা রোগির খুবই উপকারি।

এছাড়া রক্ত ও লোহিত কণিকা তৈরি জন্য দরকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও কপার, যা কিশমিশে থাকে। এককাপ কিশমিশ ৬মি.গ্রা. লৌহের যোগান দেয়, যা প্রতিদিনের লৌহের চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করত পারে।

হাড় সুস্থ রাখেঃ আজকাল অস্টিওপোরোসিস রোগে অনেকেই ভুগে থাকেন। হাড়ের এই রোগ প্রতিরোধ করতে বোরন নামের খনিজ পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর কিশমিশ বোরনের অন্যতম উৎস। বোরনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম— যা হাড় গঠনের পাশাপাশি শরীরে টেসটোসটেরন এবং ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

অ্যাসিডিটি স্বাভাবিক করেঃ অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা রক্ত দুষিত হওয়াকে বলে অ্যাসিডোসিস, যা থেকে আরথ্রাইটিস, চামড়া রোগ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে। অ্যান্টাসিডস হিসেবে পরিচিতি দুটি উপাদান ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের ক্ষরীয়ভাব স্বাভাবিক করে অ্যাসিডোসিসের হাত থেকে বাঁচায়। আর এই উপাদানগুলো কিশমিশে রয়েছ

আঁশে পূর্ণঃ কোলোরেক্টাল ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকার জন্য যারা খ্যাদ্যাভ্যাসে আঁশযুক্ত খাদ্য রাখতে চান তাদের জন্য কিশমিশ হতে পারে আদর্শ খাবার। কারণ এক টেবিল-চামচ কিশমিশ আপনাকে দিতে পারে এক গ্রাম হজম সহায়ক আঁশ।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ নিয়মিত কিশমিশ খেলে বৃদ্ধ বয়সে দৃষ্টিহীন হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। পাশাপাশি কিশমিশে থাকা পলিফেনল উপাদান ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেলস ধ্বংস করে চোখকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

অ্যান্টি কোলেস্টের উপাদানঃ কিশমিশে কোলেস্টেরলের পরিমাণ শূন্য। শুধু তাই নয়, এতে আছে অ্যান্টি কোলেস্টেরল উপাদান যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। এছাড়া কিশমিশে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার যকৃত থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে। এককাপ কিশমিশ থেকে ৪ গ্রাম দ্রবণীয় ফাইবার পাওয়া যায়। তাছাড়া কিশমিশে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পলিফেনল কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে এনজাইম শোষণ করা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের খাদ্যঃ কিশমিশে থাকা বোরন মস্তিষ্কের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া বোরন মনোযোগ বৃদ্ধি, চোখের সঙ্গে হাতের সামঞ্জস্য বাড়ানো স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে। একশ গ্রাম কিশমিশ থেকে ২.২ মি.গ্রা. বোরন পাওয়া যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ বিষাক্ত পদার্থ দূর করে রক্ত শুধু পরিষ্কারই করে না, পাশাপাশি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে কিশমিশ। মূলত কিশমিশে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম শরীরে রক্তচাপ বাড়ায়। কিশমিশ শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
বিস্তারিত

Wednesday, January 17, 2018

হার্ট ও ক্যান্সারের অসুখ থেকে বাঁচায় যে চেনা সবজিটি

কুমড়োর অন্দরে উপস্থিত রয়েছে নানাবিধ উপকারি উপাদান, যেমন-ভিটামিন ই, থিয়ামিন, নিয়ালিন, ভিটামিন বি৬, ফলেট, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস। সেই সঙ্গে রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার, ভিটামিন এ, সি,রাইবোফ্লবিন, পটাশিয়াম, কপার এবং মেঙ্গানিজ। এই উপাদানগুলি শরীরের গঠনে তো কাজে আসেই। সেই সঙ্গে নানাবিধ রোগকে দূরে রাখার পাশপাশি আরও নানা উপকারে লাগে। যেমন...

ওজন কমাতে সাহায্য করে: কুমড়োর অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার, যা শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন নানাবিধ পেটের রোগের প্রকোপ কমায়, তেমনি অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে ক্ষিদে কমে যাওয়ার কারণে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কমে আসে। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে ক্যালরির প্রবেশ কমতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও কমে যায়। প্রসঙ্গত, ডায়াটারি ফাইবার মেটাবলিজম রেট বাড়ানোর মধ্যে দিয়েও ওজন হ্রাসে সাহায্য করে থাকে।
হার্ট ও ক্যান্সারের অসুখ থেকে বাঁচায় যে চেনা সবজিটি
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে যত ভিটামিন এ-এর মাত্রা বাড়তে থাকে, তত দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে থাকে। বিশেষত ছানি এবং গ্লকোমার মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতে এই ভিটামিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে কুমড়োয় প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ভিটামিন এ, তাই তো রোজের ডায়েটে এই সবজিটিকে রাখা শুরু করলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, যারা সারাক্ষণ কম্পিউটার বা টিভির সামনে বসে থাকেন, তাদের তো এই কারণেই বেশি করে কুমড়ো খাওয়া শুরু করা উচিত। কারণ এমনটা করলে ডিজিটাল স্ক্রিনের খারাপ প্রভাব চোখের উপর পরলেও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে না।

রক্তচাপ কমায়: পরিবারে ব্লাড প্রেসারের মতো রোগের ইতিহাস আছে নাকি? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে বন্ধু, কুমড়ো বীজের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে ফাইটোইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অনিদ্রার সমস্যা দূর করে: শরীর এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখতে ঘুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো দিনের পর দিন ঠিক মতো ঘুম না হলে শরীর তো ভাঙতে শুরু করেই, সেই সঙ্গে নানাবিধ জটিল রোগও এসে বাসা বাঁধে শরীরে। তাই আপনিও যদি ইনসমনিয়াক হয়ে থাকে, তাহলে পেঁপে বীজ খাওয়া শুরু করতে একেবারে দেরি করবেন না। কারণ এর মধ্যে রয়েছে ট্রাইপটোফেন নামক একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা শরীরে প্রবেশ করার পর সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে একেবারেই সময় লাগে না।

ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখে: আমাদের দেশে প্রতি বছর যে হারে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তাতে কুমড়ো খাওয়ার প্রয়োজনও যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ এই সবজিটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দেহের অন্দরে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে: হাওয়ার্ড ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে শরীরে ডায়াটারি ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে কোনও ধরনের করনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। সেই সঙ্গে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। তাই তো এই উপাদানটির মাত্রা যাতে শরীরে কোনও কম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর সেই কারণেই তো নিয়মিত কুমড়ো খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই সবজিতে যে পরিমাণে ফাইবাররয়েছে, তা হার্টের খেয়াল রাখার জন্য যথেষ্ট।

 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: নিয়মিত কুমড়ো খেলে শরীরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই দুটি উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধী সিস্টেমকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না। শুধু তাই নয়, কোনও ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
বিস্তারিত

পায়ের পেশীতে ব্যাথা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ

৩৮ বছর বয়সী সমীর সিনহা তার পায়ের পেছনের মাংসপেশীতে প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করার সময় ব্যাথা অনুভব করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একটু জোরে হাঁটলে ব্যাথা আরো বেশি অনুভুত হয়। তবে বসে পড়লে আর ব্যাথা থাকে না।

অবশেষে একদিন তিনি ডাক্তার দেখাতে গেলেন। ডাক্তার তাকে বেশ কিছু টেস্ট করাতে দেন। টেস্টে ধরা পড়ে সমীর পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ (পিএডি)-তে আক্রান্ত। পিএডি এমন একটি লক্ষণ যা নির্দেশ করে যে আপনার ধমনী আপনার পায়ে যে রক্ত সরবরাহ করছে তা প্রদাহযুক্ত, দূর্বল বা অবরুদ্ধ। সময় মতো ডাক্তার দেখানোয় বেঁচে যান সমীর।

আমাদের বেশিরভাগেরই হার্টঅ্যাটাকের তীব্রতা সম্পর্কে বুঝ থাকলেও লেগ অ্যাটাক সম্পর্কে আমরা একদমই সচেতন নই। পুনের রুবি হল ক্লিনিকের ভাসকুলার অ্যান্ড এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ড. ডি আর কামারকার বলেন, “সধারণত একজন রোগী তখনই পায়ের নিচের অংশের পেছনের মাংসপেশীতে এবং উরুতে ব্যথা অনুভব করেন যখন পায়ে রক্ত চলাচলের শিরা-উপশিরাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে আসে বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি লেগ অ্যাটাক হিসেবেও পরিচিত। পিএডির প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ঘটে। ব্লক যদি খুব তীব্র হয় তাহলে রোগীরা অবিরত জ্বালাপোড়ামূলক ব্যাথা অনুভব করেন। পায়ের আঙ্গুলগুলোর রঙ চটে যায় বা এমনকি গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। যার ফলে আবার পায়ের আঙ্গুলগুলো কালোও হয়ে যেতে পারে।”
পায়ের পেশীতে ব্যাথা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ধূমপায়ীদের মধ্যে এ ধরনের পায়ের ব্যাথা দেখা দিলে সঙ্গেই সঙ্গেই সতর্ক হতে হবে।

৫০০ মিটারের কম দূরত্ব হাঁটলে যদি আপনার পায়ে বা পশ্চাদ্দেশের মাংসপেশীতে ব্যাথা অনুভুত হয় তাহলে আজই আপনিও পিএডির ডাক্তারি টেস্ট করান। এর আরো কিছু লক্ষণ হলো, পায়ের নিম্নাংশের ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং লোম পড়ে যাওয়া।

জীবন-যাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পিএডির ঝুঁকি কমে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে, ডায়েট কন্ট্রোল, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হাঁটাহাঁটির মতো সাধারণ ব্যায়াম। এছাড়া সাইকেল চালানোর মাধ্যমেও পিএডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

মানসিক চাপও দেহের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং তাও এড়িয়ে চলতে হবে।
বিস্তারিত