Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts

Friday, July 13, 2018

আয়ুর্বেদ - ইউনানী ঔষধের আড়ালে কি ঘটছে !

অনেকে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন আয়ুর্বেদ - ইউনানী ঔষধ কোম্পানির ঔষধ ৩০-৩৫ টাকা পাওয়া যায়, গায়ের মূল্য ৩০০ - ৪০০ টাকা, তাই লাভ বেশী, চলেও বেশী। ভাই আয়ুর্বেদ -ইউনানী শাস্ত্র নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই, সারা পৃথিবী ভেষজ ঔষধের দিকে ঝুকঁছে। যদি আসল ভেষজ ঔষধ হত তাহলে এত সস্তায় পাওয়া যেত না। এইগুলির দাম কয়েক হাজারে গিয়ে দাঁড়াতো।

ঔষধে নানা প্রকার ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর কারণে অনেকেই লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নানা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যা তাদের জীবনকে এক সময় দুর্বিসহ করে তুলছে।
আয়ুর্বেদ - ইউনানী ঔষধের আড়ালে কি ঘটছে !
  • রুচি বর্ধকের নামে মিটফোর্ডের বিভিন্ন নিম্নমানের ক্ষতিকর স্টেরয়েড যেমন ডেক্সামিথাসন ব্যবহার হয়
  • যৌন উত্তেজক ঔষধ এ সিলডানাফিল, টাটারানাফিল নামক উত্তেজক বিষ ব্যবহার হয়
  • যত রকম ঔষধ আছে হাঁপানি, গ্যাস্টিক সব কিছুতেই ভেষজের পরিবর্তে ক্যামিকেল
সবাই যেন লোক ঠকিয়ে টাকা কামানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ডাক্তার - কবিরাজ-হাকীম সাহেবেরা সব জেনে বুঝে ও রোগীকে এসব ঔষধ দিচ্ছে শুধু টাকার লোভে। বিবেক যেন মৃত্যু হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নাকে তেল আর চোখে পট্টি বেধেঁ ঘুমিয়ে আছে, দিনশেষে যে পকেট ভর্তি। কেউ একবারও ভাবছি না এসব বিষ আমার অতি আপনজনও কেউ সেবন করতে পারে, লিভার-কিডনি জটিলতা সহ বিভিন্ন সমস্যায় পরতে পারে। 
বিস্তারিত

Sunday, June 17, 2018

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্রমধারা - যে সত্য আপনার আজও অজানা

হার্বাল (ইউনানী, আয়ুর্বেদ), এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি এই তিনটি বিষয়ে যার গভীর পড়াশোনা আছে তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করবেন যে, হার্বাল (ইউনানী, আয়ুর্বেদ) হলো প্রাইমারী মেডিক্যাল সাইন্স, এলোপ্যাথি হলো স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সাইন্স এবং হোমিওপ্যাথি হলো এডভান্সড মেডিক্যাল সাইন্স । হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো এলোপ্যাথির চাইতে একধাপ উপরে এবং মেডিসিনের সর্বোচ্চ শাখা। মানুষ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক মনে করলেও নিরপেক্ষ গবেষকদের মতে, এলোপ্যাথিতে দশ ভাগ আছে বিজ্ঞান আছে আর বাকী নব্বই ভাগই বিজ্ঞানের নামে গোজামিল। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অনুসরণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আন্দাজ, অনুমান, কুসংস্কার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, হোমিওপ্যাথির আংশিক অনুসরণ ইত্যাদি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসাকার্য পরিচালনা করে থাকে।

ইহারা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার নামে যদিও খুবই উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকুক না কেন ; আসলে সেগুলো হলো মানুষকে বোকা বানানোর এবং পকেট ভর্তি করার এক ধরণের অত্যাধুনিক ফন্দি মাত্র। তাদের নানা রকমের চটকদার রঙের এবং ডিজাইনের দামী দামী ঔষধগুলো কোন জটিল রোগই সারাতে পারে না বরং চিকিৎসার নামে উপকারের চাইতে বরং ক্ষতিই করে বেশী। হোমিওপ্যাথির রয়েছে প্রতিষ্টিত বৈজ্ঞানিক নীতিমালা যা দুইশ বছরেও কোন পরিবর্তন হয়নি। হোমিওপ্যাথিতে একই ঔষধ দু’শ বছর পূর্বে যেমন কার্যকর ছিল, আজও তা সমান কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে বলেই সর্বত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। পক্ষান্তরে কোন এলোপ্যাথিক ঔষধই দশ-বিশ বছরের বেশী কার্যকর থাকে না। একদিন যেই এলোপ্যাথিক ঔষধকে বলা হয় মহাউপকারী-জীবনরক্ষাকারী, কয়েক বছর পরই তাকে বলা হয় অকার্যকর-ক্ষতিকর-বর্জনীয়। আজ যেই ঔষধের নাম মানুষের মুখে মুখে ফিরে, কাল সেটি হারিয়ে যায় ইতিহাসের পাতা থেকে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্রমধারা - যে সত্য আপনার আজও অজানা
এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা হরহামেশা আপনাকে বলবেন যে, এই রোগের টিকা (vaccine) নেন, ঐ রোগের টিকা নেন। কিন্তু কখনও বলবে না যে, টিকা নেওয়ার কারণে আপনার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে, টিউমার হতে পারে, ক্যান্সার হতে পারে, ইমিউন সিস্টেমের বারোটা বেজে যেতে পারে, ব্রেন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে, হাঁপানি হতে পারে, ডায়াবেটিস হতে পারে, এনসেফালোপ্যাথি হতে পারে, গুলেন-বেরি সিনড্রোম হতে পারে, প্যারালাইসিস হতে পারে, মৃগীরোগ হতে পারে, অন্ধ হয়ে যেতে পারেন ইত্যাদি ইত্যাদি। পোলিও টিকাতে একবার ব্রেন টিউমার সৃষ্টিকারী এসভি-৪০ ভাইরাস পাওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল; কেননা উক্ত ব্যাচের পোলিও টিকা আগের বছর যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ কোটি শিশুকে খাওয়ানো হয়েছিল।

ইতালীয় বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন যে, এসভি-৪০ ভাইরাস যার শরীরে ঢুকে কেবল তার শরীরেই নয়, এমনকি তার ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-পুতিদের শরীরেও ক্যান্সার সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে। এখন বলুন, মাত্র পঞ্চাশ পয়সার হোমিও ঔষধে যে পোলিওমায়েলাইটিস রোগ সারানো যায়, তার হাত থেকে বাঁচার জন্য পোলিও টিকা নিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে? অর্থ পিচাশ রক্ত পিপাসু নরঘাতক বড় বড় ঔষধ কোম্পানীগুলি টাকার লোভে এমন কোন রোগ নেই, যার টিকা বের করেনি। কিন্তু ক্ষতির দিক দিয়ে প্রায় সমস্ত টিকাই এক ঝাঁকের কৈ। আমরা ছোট-বড় অনেক রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য টিকা নেই, অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে ঐসব রোগে আক্রান্ত হওয়া বরং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি সেরা বর্বরতা হলো ইনজেকশান। ব্যথা তো আছেই তাছাড়া অনেক সময় ইনজেকশানের সাথে যদি সামান্য ময়লাও শরীরে ঢুকে যায়, সেক্ষেত্রে ইনজেকশানের জায়গাটি পেকে ফোলে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় অপারেশন করে পূঁজ বের করতে হয়, ঘা শুকাতেও অনেক দিন লেগে যায়। তাছাড়া যেই পেশীতে ইনজেকশান দেওয়া হয়েছে, সেই পেশীটি সারা জীবনের জন্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ফলে এমনও হতে পারে যে, আপনার ইনজেকশান নেওয়া হাতের কর্মশক্তি কমে যেতে পারে। অনেকে ভীষণ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইনজেকশান নেন এবং নিজের বাচ্চাদেরকেও জোর করে ইনজেকশান নিতে বাধ্য করেন। কারণ তারা ভাবেন ইহার কোন বিকল্প ব্যবস্থা নাই। প্রকৃতপক্ষে ইহা একটি ভুল ধারণা। যে-কোন ইমারজেন্সী রোগের জন্যই ইনজেকশানের বদলে আপনি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পাবেন। হউক তা এটিএস ইনজেকশান, কুকুরে কামড়ানোর ইনজেকশান, শিশুদের বা বড়দের যে-কোন টিকা, হাই পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশান কিংবা জীবনরক্ষাকারী কোরামিন/ওরাডেক্সন ইনজেকশান।

আর এসব হোমিও ঔষধ কাজও করবে ইনজেকশনের চাইতে অন্তত দশগুণ দ্রুত এবং এদের সাইড ইফেক্ট একেবারে নাই বললেই চলে। তবে এজন্য হোমিও ঔষধের গুণাগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে আপনার ভালো পড়াশুনা থাকতে হবে অথবা কোন হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। অনেকে আবার একটু দুর্বল লাগলেই স্যালাইন ইনজেকশান (Intra Venus saline) নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মনে করে মুখে খাওয়ার স্যালাইনের চাইতে আই.ভি. স্যালাইন বেশী উপকারী। অথচ বাস্তবতা হলো তার ঠিক উল্টো ; কেননা আই.ভি. স্যালাইনে থাকে দুইটি ঔষধ, পক্ষান্তরে খাবার স্যালাইনে থাকে চারটি ঔষধ। যে-কোন ঔষধ মুখে খাওয়া আর সরাসরি রক্তনালীতে ইনজেকশান করে ঢুকিয়ে দেওয়ার মধ্যে আসলে তেমন কোন পার্থক্য নাই। কেননা আমরা ঔষধ, খাবার-দাবার যা কিছুই খাই না কেন, দশ-পনের মিনিটের মধ্যেই সেটি শোষিত হয়ে রক্তে চলে যায়। আই.ভি. স্যালাইন হলো তাদের জন্য যারা কোন সঙ্গত কারণে মুখে খেতে পারেন না অথবা মুখে খেতে পারলেও বমির জন্য তা পেটে রাখতে পারেন না। আরেকটি কথা মনে রাখবেন, যে রোগ ছয়মাস এলোপ্যাথিক ঔষধ খেয়েও সারেনি; তা ষাট বছর এলোপ্যাথিক ঔষধ খেলেও সারবে না। এই ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতির চিকিৎসা অবলম্বন করা উচিত।

বাজারে আসা যে-কোন নতুন ঔষধ ব্যবহার থেকে সযত্নে দূরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা অতীতে যে-সব ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অথবা বিষক্রিয়ায় হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মরেছে ; সে-সব ঔষধও প্রথম বাজারে ছাড়ার সময় ঔষধ কোম্পানীগুলো “খুবই নিরাপদ, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, খুবই কার্যকর, যাদুকরী ক্ষমতাসম্পন্ন” ইত্যাদি ইত্যাদি নানান অভিধায় অভিহিত করেছিল। সেজন্য পুরনো ঔষধগুলো ব্যবহার করাই নিরাপদ ; কেননা তাদের কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে, তা ইতিমধ্যে সবার জানা হয়ে গেছে। ১৯৬৪ সালে যখন এলোপ্যাথিক ঔষধ থেলিডোমাইড (thalidomide) মার্কেটে আসে, তখন দাবী করা হয়েছিল যে, এটি টেনশানের বা মাথা ঠান্ডা রাখার কিংবা নিদ্রাহীনতার জন্য এ যাবত কালের সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ ঔষধ। কিন্তু দুই বছরের মাথায় ১৯৬৬ সালে জানা যায় যে, যে-সমস্ত গর্ভবতী মহিলা থেলিডোমাইড খেয়েছেন, তারা হাত এবং পা বিহীন পঙ্গু, বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। পশ্চিম জার্মানীর স্বাস্থ্য বিভাগ একাই থেলিডোমাইড খাওয়ার ফলে দশ হাজার বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মের ঘটনা রেকর্ড করেছে। সত্যিকার অর্থে এটি ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য এবং নির্মম ঘটনা।

ভালো রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ছাড়াই মার্কেটে ঔষধ ছেড়ে দেওয়া হলো এলোপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানীগুলোর কয়েক শতাব্দীর পুরনো অভ্যাস। প্রথম যখন জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি মার্কেটে আসে, তখন তাতে ঔষধের (মানে হরমোনের) পরিমাণ ছিল এখনকার তুলনায় অনেক বেশী। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই যখন প্রমাণ পাওয়া গেলো যে, জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি খাওয়া লক্ষ লক্ষ মহিলা স্তন ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মরেছে ; তখন তাতে হরমোণের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু এখনও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে, অধিকাংশ স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সারের জন্য এসব জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি দায়ী। অন্যদিকে যে-সব মহিলা জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি খায়, তাদের সন্তানদের ওপর কি কি গযব পড়ে, তা আজও জানা যায় নাই। এসব নিয়ে গবেষণা করার কোন লোক পাওয়া যাবে না। কেননা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মানসিকতা কয়জনের আছে ? আর ঔষধ কোম্পানীগুলো এমন কোন গবেষণা করবে না, যা তাদের ব্যবসার ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের বাহিনীর হাতে যত লোক না মরেছে, তার চাইতে অনেক বেশী লোকের মৃত্যু হয়েছে বড় বড় ঔষধ কোম্পানীগুলোর সীমাহীন লালসার কারণে। হিটলারের বাহিনীর বিচার হয় কিন্তু এসব নরঘাতক ঔষধ কোম্পানীর মানুষ হত্যার কোন বিচার হয় না। টাকার জোরে এরা আইন-আদালত, কোন কোন দেশের সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এমনকি জাতিসংঘকে পযর্ন্ত কিনে ফেলে। কারণ এগুলো তো মানুষরাই চালায় আর মানুষ মাত্রই টাকার কাছে দুর্বল।

অপারেশন হলো চিকিৎসার নামে আরেকটি ক্ষতিকর ধ্বংসাত্মক কাজ। এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা অধিকাংশ রোগের চিকিৎসাতেই অপারেশনের সাহায্য নিয়ে থাকেন। ইহার কারণ অধিকাংশ জটিল রোগই এলোপ্যাথিক ঔষধে নিরাময় হয় না। ফলে তারা কাটাকুটি করে রোগ সারানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন। তাছাড়া অপারেশন করতে পারলে ডাক্তারদের আয়-রোজগারও বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ ডাক্তারদের জন্য অস্ত্র চিকিৎসার বিষয়টি বেশ লাভজনক। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো অপারেশনে শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে রোগ সারে না বরং তা আরো মারাত্মক রূপ ধারণ করে কিছুদিন পর একই জায়গায় অথবা শরীরের অন্যত্র কিংবা মানসিক রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কারণ অপারেশনের মাধ্যমে কেবল রোগের ফলটা দূর করা যায় কিন্তু রোগের কারণটা দূর করা যায় না। রোগের কারণটা কিন্তু বহাল তবিয়তে থেকেই যায়। ফলে ছুরির ঘা খেয়ে সেটি আরও মারাত্মক রোগের আকৃতিতে প্রকাশ পায়। পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ইত্যাদি অগণিত নামে আমরা যত রোগ দেখি ; এগুলো প্রকৃতপক্ষে রোগ নয় বরং রোগের ফলাফল। রোগের ফলটা বস্তু স্তরে (physical level) প্রকাশ পায়, তাই এটি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু রোগের কারণটা থাকে শক্তি স্তরে (energy level), তাই সেটি আমাদের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়। সে যাক, অপারেশনের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগটি কম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ (যেমন-হাত, পা, চামড়া ইত্যাদি) থেকে চলে গিয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে (যেমন- হার্ট, লিভার, কিডনী, ব্রেন ইত্যাদিকে) আক্রমণ করে থাকে। মনে করুন আপনার ঘরের একটি গর্তে একটি সাপ ঢুকেছে এবং সাপের লেজটি দেখা যাচ্ছে। ইহার মানে হলো সাপটি আপনাকে কামড় দিতে পারে আবার কামড় না দিয়েও ভদ্রভাবে চলে যেতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি লেজটি দেখা যাচ্ছে ভেবে ছুরি দিয়ে সাপের লেজটি কেটে দেন, তবে এটি নিশ্চিত বলা যায় যে সাপটি ভীষণ ক্ষেপে যাবে এবং জীবন দিয়ে হলেও আপনাকে অন্তত একটি কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেশন হলো সাপের লেজ কেটে দেওয়ার মতোই বিপদজ্নক । আবার অনেক অপারেশন আছে যার ভাল-মন্দ, উপকার-ক্ষতি ইত্যাদি ভালোমতো পরীক্ষা না করেই কোটি কোটি লোকের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন পুরুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের অপারেশন ভ্যাসেকটমী (Vasectomies)। প্রায় অর্ধশতাব্দি যাবত এটি একটি জনপ্রিয় অপারেশন এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি প্রাপ্ত বয়ষ্ক পুরুষ ইতিমধ্যে এই অপারেশন করেছেন। এতে অণ্ডকোষের একটি নালীকে কেটে দেওয়া হয় অথবা বেধে দেওয়া হয় যাতে শুক্রাণু বের হতে না পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভ্যাসেকটমী অপারেশনের সাথে অণ্ডকোষের ক্যান্সার, প্রোস্টেট গ্ল্যাণ্ডের ক্যান্সার, হৃদরোগ, ইমিউনিটির গণ্ডগোল, যৌনকর্মে আকর্ষণ কমে যাওয়া, অকাল বার্ধক্য ইত্যাদি রোগের সম্পর্ক আছে। স্কটল্যাণ্ডের ভ্যাসেকটমী করা ৩০০০ পুরুষের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে যে, অপারেশনের চার বছরের মধ্যে ৮ জন অণ্ডকোষের ক্যান্সারে (testicular cancer) আক্রান্ত হয়েছেন।

আবার কিছু অপারেশন আছে যা ফ্যাশান হিসেবে চালু করা হয়েছে। যেমন ছোট স্তনকে বড় করার অপারেশন। মিডিয়াতে যখন বড় স্তনকে আকর্ষণীয়-লোভনীয় হিসেবে দেখানো শুরু হলো তখন সার্জনরা চিন্তা করলেন যে, অপারেশন করে স্তন বড় করার একটি কালচার চালু করতে পারলে ভালো আয়-রোজগার হবে। তখন তারা প্রচার করতে লাগলো যে, এই অপারেশনে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না। ফলে বিগত তিন দশকে কেবল আমেরিকাতেই বিশ লক্ষ মহিলা এই অপারেশন করে তাদের স্তন বড় করে ফেললো। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ কর্তৃপক্ষ (FDA) ডাক্তারদের এই অপারেশন বন্ধ করার অনুরোধ জানায় ; কেননা সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে ইহার ফলে দুর্বলতা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি (immune system) ধ্বংস হওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, স্নায়বিক ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।

এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা যে-সব রোগ সারানোর জন্য ছুরি চালায়, তাদের শতকরা ৯৫ ভাগ রোগ হোমিওপ্যাথিতে বিনা অপারেশনে কেবল ঔষধেই সারানো যায়। অনেকে আশ্চর্য হতে পারেন যে, হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়া, হার্টে পেস-মেকার লাগানো, হার্টের বাইপাস সার্জারী ইত্যাদির মতো বড় বড় অপারেশনের কেসও হোমিওপ্যাথিতে স্রেফ ঔষধেই নিরাময় করা যায়। কিন্তু তারপরও অধিকাংশ রোগী ঔষধ খেয়ে রোগ সারানোর চাইতে অপারেশন করে রোগ সারানোকে ভালো মনে করেন। তাদের মতে অনেক দিন ঔষধ খাওয়া ঝামেলার ব্যাপার; তার চাইতে সাতদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অনেক সহজ। অপারেশন প্রীতির মূল কারণ হলো সাধারণ মানুষ জানে না যে, অপারেশনে রোগ ভাল না হয়ে বরং আরো খারাপ জায়গায় চলে যায় এবং বেশী বেশী অপারেশন করলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কোন কোন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ মনে করেন টনসিলকে যত তাড়াতাড়ি অপারেশন করে ফেলে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল আবার কোন কোন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ মনে করেন টনসিল কেটে ফেলে দেওয়াতে কোন উপকার নেই বরং এটি সাংঘাতিক ক্ষতিকর কাজ। কোন কোন ডাক্তার মনে করেন আলসারের রোগীদের দুধ এবং দুধের তৈরী খাবার বেশী বেশী খাওয়া উচিত আবার অন্যদিকে অনেক ডাক্তার মনে করেন এগুলো প্রাগৌতিহাসিক আমলের চিন্তা-ভাবনা (এবং অবশ্যই বর্জনীয়)। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এতো ফ্যাসাদের পরও অধিকাংশ এলোপ্যাথিক ডাক্তারই বিশ্বাস করেন যে, তাদের সকল কর্মকাণ্ড একেবারে (শতভাগ বিজ্ঞানসম্মত এবং কোন প্রকার সন্দেহ আর) প্রশ্নের উর্ধে।

অনেকে প্রত্যাশা করতে পারেন যে, চিকিৎসা কার্যে গোজামিল থাকলেও প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি (pathology) নিশ্চয় একশ ভাগ বিজ্ঞানসম্মত। কেননা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে খুবই উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিয়তির পরিহাস যে, বাস্তব পরিসংখ্যান এমনটা প্রমাণ করে না। সমপ্রতি দুইজন রোগ নির্ণয় বিজ্ঞানী (pathologist) ৪০০ রোগীর মৃতদেহ ময়না তদন্ত (autopsy- postmortem) করে দেখতে পেয়েছেন যে, অর্ধেকেরও বেশী রোগীর ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ভুল ছিল। সহজ কথায় বলতে গেলে বলতে হয় যে, এদেরকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং আরো সহজ কথায় বলতে গেলে বলা যায় যে, ভুল চিকিৎসার কারণেই এদের মর্মান্তিক অকালমৃত্যু হয়েছে। হায় ডাক্তার ! হায় রোগ নির্ণয় !! হায় ঔষধ!!! এই দুইজন প্যাথলজিষ্ট তাদের গবেষণায় আরো দেখিয়েছেন যে, অত্যাধুনিক সব প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করার পরও ১৩৪ টি নিউমোনিয়ার কেইসে ৬৫ টির বেলায় ডাক্তাররা রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ৫১ টি হার্ট এটাকের ক্ষেত্রে ১৮ টিতে। এজন্য বলা হয় যে, অজ্ঞতা এখনও এলোপ্যাথি চিকিৎসায় মাশায়াল্লাহ তার দাপট বজায় রেখেছে। হ্যাঁ, প্যাথলজিক্যাল টেস্ট হলো আরেকটি বড় ধরণের প্রতারণা।

প্রথম কথা হলো ডাক্তাররা ডিগ্রি অর্জনের জন্য যত ব্যাপক পড়াশোনা করেন, তাতে ৯০ ভাগ রোগ তারা কোন প্রকার টেস্ট না করেই নির্ণয় করতে পারেন। রোগীকে পাঁচ-দশটি প্রশ্ন করলেই তিনি রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডাক্তাররা এক বস্তা টেস্ট দেন, তাদের দ্বায়িত্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য এবং ডায়াগনস্টিক কোম্পানির কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা কমিশন খাওয়ার জন্য। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, ডাক্তার সাহেব টেস্ট দেওয়া প্রয়োজন মনে করেন না অথচ রোগীরাই জোর করে টেস্ট লিখিয়ে নিচ্ছেন। ভাবখানা এমন যে, এসব টেস্ট করা খুবই জরুরি কিংবা শরীরের জন্য সাংঘাতিক উপকারী। হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অধিকাংশ প্যাথলজিক্যাল টেস্টকে একশ বছর আগেও ফ্যাশন মনে করতেন এখনও তাই মনে করেন। কেননা এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাই-টেক প্রতারণা। যেমন ডাক্তাররা বলবে যে, রক্তের অমুক উপাদানের মাত্রা বেড়ে গিয়ে আপনার অমুক রোগ হয়েছে। তারপর এক বস্তা ক্ষতিকর ঔষধ খাওয়ানোর পর দেখা গেলো যে, আপনার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। ডাক্তার বলবে, এখন আপনি সুস্থ অথচ বাস্তবে আপনার অবস্থা আগে চাইতেও খারাপ হয়ে গেছে।

আবার অনেক সময় ব্লাড টেস্ট, পায়খানা, প্রস্রাব, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এমআরআই, সিটিস্ক্যান ইত্যাদি ইত্যাদি অসংখ্য টেস্ট করে রিপোর্ট দেখে বলবে, আপনার কোন রোগই নাই । অথচ ব্যথার চোটে আপনার দম বেরিয়ে যাচ্ছে, ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, এসব প্যাথলজিক্যাল টেস্টে কেবল টাকা নস্ট হয় কিন্তু শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটি বিরাট ভুল ধারণা। রক্ত পরীক্ষার জন্য সুই দিয়ে ছিদ্র করে যখন রক্ত বের করা হয়, তাতে আপনার শরীরের অনেকগুলো স্মায়ু কোষ (nerve cell) ছিড়ে যায়। ফলে স্নায়ুতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আপনি যত বেশী ইনজেকশান নিবেন অথবা শরীরের উপর ছুরি-চাকু ব্যবহার করবেন, স্নায়ুতন'তে তত বেশী উত্তেজনার সৃষ্টি হবে।

এভাবে বেশী বেশী উত্তেজনার ফলে আপনার কোষতন'তে বিদ্রোহ দেখা দিবে। আর ডাক্তারী ভাষায় কোষতন'র বিদ্রোহকে বলা হয় ক্যান্সার। হ্যাঁ, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, বিভিন্নভাবে আঘাতের মাধ্যমে স্নায়ুতন'কে উত্যক্ত করাই ক্যান্সারের মূল কারণ। তারপর আসে এক্স-রে। বেশী বেশী এক্স-রে করলে ক্যান্সার হয়, এটি বহু পুরনো কথা। আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয় খুবই সূক্ষ্মমাত্রার শব্দ তরঙ্গ (micro wave) ব্যবহার করে, যারা এমনকি জীবাণুকে পর্যন- ধ্বংস করতে পারে। কাজেই এটিও আপনার শরীরের ক্ষতি করে থাকে এবং শরীরের মধ্যে থাকা উপকারী জীবাণুকেও হত্যা করতে পারে। এমআরআই, সিটিস্ক্যান হলো এক ধরণের এক্স-রে। কাজেই এগুলো শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।

ইদানীং আবার এলোপ্যাথিতে শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞদের (specialist) হুজুগ। মানুষ এখন আর সাধারণ এলোপ্যাথিক ডাক্তারদের উপর ভরসা করতে চায় না। পান থেকে চুন খসলেই দৌড়ে যায় স্পেশালিষ্টের কাছে। অথচ চিকিৎসক সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, একজন ভালো ডাক্তার দশজন বিশেষজ্ঞের সমান। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ হওয়া সহজ কিন্তু একজন যথার্থ ডাক্তার হওয়া খুবই কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞরা যেহেতু খুবই ক্ষুদ্র এবং সংকীর্ণ একটি বিষয় নিয়ে তাদের জীবন কাটিয়ে দেয়, সেহেতু তাদের জ্ঞানের পরিধি এবং দৃষ্টিভঙ্গিও সংকীর্ণ হয়ে যায়। আমাদের শরীর-মনকে যদি সমুদ্রের সাথে তুলনা করা যায়, তবে বিশেষজ্ঞদের তুলনা করা যাবে খাল-বিলের দক্ষ মাঝি-মাল্লা হিসেবে। এখন ভেবে দেখুন, খালের মাঝিরা যদি কখনো সমুদ্রের ঝড়ের কবলে পড়ে, তবে চোখে-মুখে সর্ষে ফুল দেখবে কিনা ? হোমিও ডাক্তাররা এবং আরো অনেকেই এই বিশেষজ্ঞ প্রথাকে অযৌক্তিক এবং হাস্যকর মনে করতেন। ব্রিটিশ হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ বার্নেট বলতেন যে, রোগ চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির নীতিতে অটল একজন ছোট হোমিও ডাক্তারও যে যাদু দেখাতে পারবেন, তা দেখে দৈতাকৃতির এলোপ্যাথিক বিশেষজ্ঞও মহাবিস্মিত না হয়ে পারবেন না।

মেডিক্যাল গবেষক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানী নামে আমরা যাদের জানি, তাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ আছে। তাদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করে বহুজাতিক এলোপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানিগুলো দালাল হিসেবে। তারা আবিষ্কারের নামে এমন সব উল্টাপাল্টা তথ্য প্রচার করে যাতে সংশ্লিষ্ট ঔষধ কোম্পানির ব্যবসা আঙুল ফোলে কলা গাছ হতে পারে। অন্যদিকে খুবই অল্পসংখ্যক চিকিৎসা বিজ্ঞানী আছেন, যারা মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিবেকের তাড়ণায় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করে সত্য উদঘাটন করেন। কিন্তু তাদের আবিষ্কারকে মেডিক্যাল জার্নাল বা অন্যকোন মিডিয়া প্রচার করতে চায় না। কেননা ঔষধ কোম্পানিগুলো টাকা দিয়ে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিপন্থী এসব আবিষ্কারকে প্রচার না করতে বাধ্য করে।

এবার কোলেস্টেরলের (cholesterol) কাহিনী একটু বলা দরকার। ঔষধ কোম্পানীগুলি ঔষধের ভাল-মন্দ না জেনে পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই কিভাবে ক্ষতিকর, ধ্বংসাত্মক ঔষধ বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষকে পাইকারী হারে খাওয়াতে থাকে, এটি তার আরেকটি দৃষ্টান্ত। পাশ্চাত্যের ধনী দেশগুলোর অধিকাংশ লোকই মোটা-সোটা, নাদুস-নুদুস। কেননা তারা মাংস, তেল, চর্বি জাতীয় খাবার বেশী খায়। ফলে তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের চাইতে বেশী থাকে।

বড় বড় ঔষধ কোম্পানিগুলো ভাবলো, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে যদি একটি রোগ হিসেবে ঘোষণা করা যায় এবং এজন্য কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর একটি ঔষধ বাজারে ছাড়া যায়, তবে আমাদের লাভের অংক মিলিয়ন ডলারের কোটা ছেড়ে বিলিয়ন ডলারের কোটায় পৌঁছে যাবে। ফলে তারা টাকা-পয়সা খরচা করে কিছু দালাল চিকিৎসা বিজ্ঞানীকে গবেষণা করার জন্য নিয়োগ দিলো। এই ভাড়াটে বিজ্ঞানীরা অল্প দিনের মধ্যেই ঘোষণা করলো যে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট এটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর যায় কৈ ? রাতারাতি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর ঔষধ মার্কেটে এসে গেলো এবং হার্ট এটাকের ভয়ে কোটি কোটি মানুষ সেগুলো পাইকারী হারে খাওয়া শুরু করলো। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ৯০-এর দশকে ঔষধ কোম্পানীগুলি সবচেয়ে বেশী লাভ করেছে কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ বিক্রি করে। ঔষধ কোম্পানিগুলি পছন্দ করে দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক মার্কেট আর ভোগবাদী মানুষ পছন্দ করে মজার মজার খাবার খাওয়া বন্ধ না করে বরং ট্যাবলেট খেয়ে ঝামেলা মুক্তি।

অথচ পরবর্তীতে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেননা তাতে ছোট-খাটো দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু ঘটার সম্ভাবণা আছে এবং আরেকটি বিপদ হলো রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণ কমে গেলে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা বেড়ে যায় আবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করেন যে, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশী কমে গেলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বিপদজ্জনকভাবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা, ঔষধ কোম্পানীগুলোর প্ররোচনায় ডাক্তাররা এখনও হরদম এসব ঔষধ মানুষকে গিলিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা পেশার প্রায় সব শাখায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের অভাব এতই বেশী যে, এটি এখন গাঁ সওয়া হয়ে গেছে। নিতান্ত অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ইহাতে নিশ্চিত বলে কোন ব্যাপার নেই। রোগী ডাক্তারের কাছ থেকে কি পাবে তা নির্ভর করে বিজ্ঞানের ওপর নয় বরং ভাগ্যের ওপর এবং ডাক্তারের মানসিক অবস্থার ওপর। ডাক্তারদের উভয় সঙ্কট (The doctor's dilemma) নামক নাটকের ভূমিকায় জর্জ বার্নার্ড শ দেখিয়ে ছিলেন যে, একবার ইংল্যাণ্ডের এক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর সময় একজন সাংবাদিক রোগীর অভিনয় করে তখনকার দিনের সেরা চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরদিন নামকরা সকল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পত্রিকায় ছাপিয়ে ছিলেন যাতে দেখা যায় যে, তিনি সকল চিকিৎসককে একই সমস্যার কথা বললেও প্রত্যেক ডাক্তারের পরামর্শ ছিল ভিন্ন ভিন্ন (দুইজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের মধ্যেও মিল পাওয়া যায় নাই)। এই ঘটনার পর প্রায় একশ বছর কেটে গেলেও এলোপ্যাথিক চিকিৎসার অবস্থার তেমন হেরফের হয়নি (যদিও এখন চিকিৎসার কাজে উচ্চ প্রযুক্তির চরম ব্যবহার হচ্ছে)।

বিশ্বাস না করলে এখনও আপনি একই রোগের জন্য দশজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দেখতে পারেন। এমনকি একই রোগের জন্য আপনাকে কতদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হবে, তাও একেক ডাক্তারের ক্ষেত্রে একেক রকম হবে। কাউকে কাউকে আবার দেখা যায়, ডাক্তারদের কাছ থেকে জোর করে ঔষধ লিখিয়ে নেন। হয়ত সামান্য একটু কেটে গেছে, ডাক্তার সাহেব বললেন এরকম ছোটখাটো ব্যাপারে ধনুষ্টংকারের টিকা (এটিএস) নেওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু রোগী বলবে, “না ডাক্তার সাহেব, ভয় করতেছে, একটি এটিএস ইনজেকশান দিয়ে দেন”। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীকে খুশি করার জন্য তিনি এটিএস লিখে দেন। ডাক্তার সাহেব জানেন যে, এটিএস ইনজেকশান যে-কারো ওপর রিয়েকশান করতে পারে এবং তাতে না হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ কিন্তু রোগীদের তো আর এতো কিছু জানা থাকে না।

আপনাকে বুঝতে হবে যে, আপনার প্রিয় অথবা অতি প্রিয় ডাক্তার সাহেব আসলে সব জানেন না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে সবই জানেন, কিন্তু ইচ্ছে করলেই তিনি সবকিছু করতে পারেন না। কেননা তিনিও একটি সিস্টেমের হাতে বন্দী হয়ে আছেন। যে-কোন প্রতিষ্টিত দুষ্ট চক্রের বাহুজাল ছিন্ন করে মুক্ত-স্বাধীন হতে গেলে যে অপরিসীম ত্যাগ ও সাহস দরকার, তা কেবল মহাপুরুষদের মধ্যেই থাকে। আর বাস্তবতা হলো সব ডাক্তারই মহাপুরুষ নন। হোমিওপ্যাথির আবিস্কারক জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী মহাত্মা ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন এমনই একজন মহাপুরুষ। আজ থেকে দুশ বছর পূর্বে হ্যানিম্যানের সময় এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল চরম বর্বরতার সমতুল্য। তখনকার দিনের এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা উচ্চ রক্তচাপসহ অধিকাংশ রোগের চিকিৎসার জন্যই রোগীর শরীরে অনেকগুলো জোঁক লাগিয়ে দিতো অথবা রগ কেটে রক্ত বের করত, মানসিক রোগীকে ভুতে ধরেছে মনে করে পিটিয়ে লাশ বানিয়ে ফেলত, একটি রোগের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে পনের থেকে বিশটি ঔষধ রোগী খাওয়ানো হতো ইত্যাদি ইত্যাদি। হ্যানিম্যান কিন্তু অন্যান্য ডাক্তারদের মতো ডাক্তারী পাশ করে মাল কামানোর পেছনে লেগে যান নাই; বরং চিকিৎসার নামে এসব বর্বরতা থেকে মানবজাতিকে কিভাবে মুক্ত করা যায় তা নিয়ে যুগের পর যুগ গবেষণা করেছেন। এজন্য তাকে অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট, অপমান-লাঞ্ছনা, হুমকি-ধামকি, দেশ থেকে বহিষ্কার প্রভৃতি অনেক অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে কিন্তু তারপরও তিনি পিছপা হননি। ফলে রোগের উৎপত্তি, রোগের চিকিৎসা, ঔষধ আবিষ্কার, ঔষধ প্রস্তুত প্রণালী, ঔষধের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে তিনি অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক সূত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।

 ডাক্তারদের মধ্যে পেশাগত অহমিকা, লোভ, হিংসা ইত্যাদি যে কত বেশী মাত্রায় আছে, তার প্রমাণ হলো হোমিওপ্যাথির আবিষ্কার। রোগীকে কষ্ট না দিয়ে, কম খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে রোগ নিরাময়ের স্বার্থে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অমূল্য আবিষ্কারকে যেখানে সকল চিকিৎসকের সাদরে গ্রহন করা উচিত ছিল, সেখানে দেখা গেছে নব্বইভাগ ডাক্তারই হ্যানিম্যানের এই অমূল্য আবিষ্কারকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞান এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, আজ থেকে একশ বছর পূবে ইউরোপে এবং আমেরিকায় এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা প্রথম যখন সমিতি গঠন করেছিল, তখন তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বুক থেকে (একটি মানবতাবাদী চিকিৎসা বিজ্ঞান) হোমিওপ্যাথিকে নিশ্চিহ্ন করা। বাণিজ্যের কাছে সেবাধর্ম কিভাবে পরাজিত হয়, এসব ইতিহাস সবারই জানা থাকা উচিত। (১২-০৬-২০০৮)
লিখেছেন
ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
গবেষক এবং হোমিও কনসালটেন্ট
ফোন : ০১৯১৬০৩৮৫২৭
E-mail : Bashirmahmudellias@hotmail.com
বিস্তারিত

Sunday, June 3, 2018

ইয়াবার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - বাঁচতে হলে জানতে হবে।

মুক্তির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান কনসালটেন্ট ড. আলী আসকার কোরেশী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "ইয়াবা গ্রহণ করলে সেটি শুরুতেই মানুষকে চাঙ্গা করে তোলে। আর সব মানুষই নিজেকে চাঙ্গা দেখতে ভালোবাসে। একারণে তারা ইয়াবার দিকে ঝুঁকে পড়ে।"

অনেকে ইয়াবা গ্রহণ করে যৌন উদ্দীপক হিসেবে। প্রথম দিকে সেটা কাজ করে যেহেতু এটা খেলে শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তার যৌন ক্ষমতা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায়। শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যায়। মেয়েদের মাসিকেও সমস্যা হয়।
ইয়াবার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - বাঁচতে হলে জানতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার, কিডনি থেকে শুরু করে শরীরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রয়েছে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ইয়াবা খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয়। লিভার সিরোসিস থেকে সেটা লিভার ক্যান্সারেও পরিণত হতে পারে
  • যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়
  • ফুসফুসে পানি জমে
  • কিডনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়
  • লিভার সিরোসিস থেকে ক্যন্সারও হতে পারে
  • মেজাজ চড়ে যায়, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, নিষ্ঠুর হয়ে যায়
  • রক্তচাপ বেড়ে যায়
  • সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়
  • মানসিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়
মোহিত কামাল বলেন, "ইয়াবা খেলে মস্তিষ্কের সরু রক্তনালী ছিঁড়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তপাতও হওয়ার ঘটনাও আমরা পেয়েছি। ব্রেইন ম্যাটার সঙ্কুচিত হয়ে যায়। সেটা যদি ১৫০০ গ্রাম থাকে সেটা শুকিয়ে এক হাজার গ্রামের নিচে নেমে যেতে পারে। জেনেটিক মলিকিউলকেও নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মও স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে থাকে।"

চিকিৎসকরা বলছেন, ইয়াবা খেলে শরীরে একটা তাপ তৈরি হয় যা কিডনিরও ক্ষতি করতে পারে। যেহেতু এটিকে ধোঁয়া হিসেবে নেওয়া হচ্ছে তাই ফুসফুসে পানিও জমে যেতে পারে।

"রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নিষ্ঠুর নির্মম হয়ে যায়। আমাদের ব্রেনের ফ্রন্টাল একটি লোপে যেখানে বিচার বিবেচনার বোধ তৈরি হয়, যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেই, পরিকল্পনা করি সে জায়গাটা কাজ করতে পারে না। ফলে মানুষ পাষণ্ড হয়ে যায়, হিংস্র হয়ে যায়। মায়ের গলায় ছুরি ধরে টাকার জন্যে। মা বাবার বুকে বসে ছুরি চালাতে তার বুকও কাঁপে না," বলেন ড. কামাল।
  • স্বাস্থ্যের অবনতি হয়
  • ভিটামিনের অভাব দেখা দেয় শরীরে
  • যৌন ক্ষমতা হারিয়ে যায়
  • ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ
চিকিৎসকরা বলছেন, ইয়াবার কারণে পুরোপুরি বদলে যায় মানুষের জীবন ধারা। এই পরিবর্তনটা হয় খুব দ্রুত গতিতে। "দিনে সে ঘুমাচ্ছে, রাতে জেগে থাকছে। পরপর কয়েকদিন সে ঘুমাচ্ছে না কিন্তু আবার একটানা ঘুমাচ্ছে। ফলে মেজাজ অত্যন্ত চরমে উঠে যাচ্ছে," বলেন মি. কোরেশী।

তিনি বলছেন, কয়েকদিন পর দেখা যায় পরিবারের সবার সাথে তার ঝগড়াবিবাদ গণ্ডগোল লেগে যায়। আশেপাশের আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সাথেও তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। তার মনে হয় সবাই খারাপ। তিনি একাই শুধু ভালো।

"কিছুদিন পর দেখা যায় যে প্যারানয়েড হয়ে গেছে। সে ভাবতে থাকে যে সবাই তার শত্রু বা সবাই তার পেছনে লেগেছে। সে সন্দেহ করতে শুরু করে যে তাকে কেউ মেরে ফেলবে, বিষ খাওয়াবে। তারপর ধীরে ধীরে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।"
বিস্তারিত

Sunday, May 20, 2018

রোযায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে যা যা খেতে হবে ?

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ এক সমস্যা হলেও এই সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের কাছে অত্যন্ত আতঙ্কের। কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ হল শরীরে ঠিক মতো হাইড্রেশন না হওয়া। আর তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা তরল প্রয়োজন। আর রোযায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে পেটপুড়ে খেলে হজমের সময় নানা সমস্যা করে। ফলের মধ্যে প্রচুর পানি বা রস থাকার পাশাপাশি থাকে ফাইবারও। যা হজমে সাহায্য করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খেতে পারেন এসব জুস-

মুসাম্বির রস: পৌষ্টিকনালী থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে মুসাম্বির রস। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই রস কাজে দেয়।
রোযায় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনাকে যা যা খেতে হবে ?
আনারসের রস: আনারসের মধ্যে থাকা উত্সেচক ব্রোমেলিন হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

তরমুজের রস: গরম কালে শরীরে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। আবার গরম কালে প্রচুর তরমুজ ওঠে। তরমুজের রস এই সময় পেট ঠান্ডা রাখতে, হজমে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

লেবুর রস: লেবুতে থাকা ভিটামিন সি হজমে ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আপেলের রস: আপেলের মধ্যে সরবিটল যা শরীরে লাক্সেটিভের কাজ করে। আপেলে থাকা আয়রনও হজমে সাহায্য করে।

কমলার রস: ভিটামিন সি ও ফাইবারে পরিপূর্ণ কমলা লেবু। যা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

শশার রস:
শশার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। যা শরীরে ন্যাচারাল লাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে।
বিস্তারিত

Friday, May 11, 2018

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে প্রতিদিন পান করুন লবঙ্গ চা

প্রাকৃতিক শক্তিতে ভরপুর এই বিশেষ চা-টি শুধু আপনার রসনা তৃপ্তি করবে না, সেই সঙ্গে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতেও নানাদিক থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য় করে যাবে। তাই তো বলি আর অপেক্ষা নয়, আজই বাজার থেকে লবঙ্গ কিনে এনে বানিয়ে ফেলুন এই হার্বাল চাটি। আর চেখে দেখুন কেমন লাগে! আসলে লবঙ্গের শরীরে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন...

সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়:  একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গ চা খাওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে দেহের প্রতিটি কোনায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে শরীরের সচলতাও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।
শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে প্রতিদিন পান করুন লবঙ্গ চা
রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে:  গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগের প্রকোপ যে হারে বেড়েছে তাতে সবারই প্রতিদিন লবঙ্গ চা খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে থাকা নাইজেরিসিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমে:  লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এই ধরনের হাড়ের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক কাপ লবঙ্গ চা বানিয়ে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই ঠান্ডা চা ব্যথা জায়গায় কম করে ২০ মিনিট লাগালে দেখবেন যন্ত্রণা একেবারে কমে গেছে। প্রসঙ্গত, জয়েন্ট পেন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দাঁতের ব্যাথা কমায়:  লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। তাই তো এবার থেকে দাঁতে অস্বস্তি বা মাড়ি ফোলার মতো ঘটনা ঘটলে এক কাপ গরম গরম লবঙ্গ চা খেয়ে নেবেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:  একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত এক কাপ করে লবঙ্গ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরে অন্দরে অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রপাটিজের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, শরীরের কোনও জায়গায় টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সাইনাসের প্রকোপ কমায়:  মাঝে মধ্য়েই কি সাইনাসের আক্রমণ সহ্য করতে হয়? তাহলে তো বলতে হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ লবঙ্গ যে এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাজে আসতে পারে, সে বিষয়ে কি জানা ছিল? আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে উপস্থিত ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আজও এই ধরনের অসুখের চিকিৎসায় লবঙ্গের উপরই ভরসা করে থাকেন।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:  লাঞ্চ বা ডিনারের আগে লবঙ্গ দিয়ে বানানো এক কাপ গরম গরম চা খেলে হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে পেটের দিকে রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটে। ফলে খাবার হজম হতে সময় লাগে না। তাই যাদের কম ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেলেও বদ-হজম হয়, তারা লবঙ্গ চা পান করে একবার দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসে:  এবার থেকে কোনও ধরনের ত্বকের সংক্রমণ হলেই চোখ বুজে ক্ষতস্থানে লবঙ্গ চা লাগাতে ভুলবেন না। এমনটা করলে দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারে সময়ই লাগবে না। আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণজনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না।

নিমেষে জ্বরের প্রকোপ কমায়:  লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাসেরা সব মারা পরে। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
বিস্তারিত

Saturday, April 14, 2018

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান, মৃত্যু ১৪৪ জনের! এতো জটিলতা কেন ?

রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান। গত ১৩ বছরে বিশ্বব্যাপী রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মারা গেছে ১৪৪ জন এবং আহত হয়েছে এক হাজার ৩৯১। রোবটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন ১০ হাজার অভিযোগ থেকে এ পরিসংখ্যানটি পাওয়া গেছে। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে গবেষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ফলাফল তুলে ধরেছে।

সম্প্রতি ঢাকার একজন বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজির চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: মজিবুর রহমান ভূঁইয়া সিঙ্গাপুরে রোবোটিক সার্জারি করাতে গিয়ে মারা গেছেন। তিনি ইউরোলজি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকার অনেক ইউরোলজিস্ট দৈনিক এ ধরনের অস্ত্রোপচার করে থাকেন সফলতার সাথে। মরহুম অধ্যাপক মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক মজিব অধিকতর সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের জন্য গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে রোবোটিক অস্ত্রোপচার করতে। কিন্তু রোবটের ভুল প্রগ্রামিংয়ের কারণে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মুজিবুর রহমানের একটি প্রধান আর্টারি কেটে ফেলে। ফলে তার পেট মুহূর্তেই রক্তে ভরে যায় এবং তিনি রক্ত স্বল্পতায় দ্রুত মারা যান। অথচ এই রোগের অসাধারণ কার্য্যকর ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথিক সিকিৎসা শাস্ত্রে।
রোবোটিক সার্জারি থেকে সাবধান, মৃত্যু ১৪৪ জনের!
চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে ঢাকার একজন বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন যেন অস্ত্রোপচারটি ওই অধ্যাপকের কাছেই সম্পন্ন করেন কিন্তু তিনি আগে থেকেই মনস্থির করেছিলেন যে, তিনি ইউরোলজিস্টের হাতে করবেন, সিঙ্গাপুরে গিয়ে রোবোটিক অস্ত্রোপচারই করবেন। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরসিসি রেনাল সেল কার্সিনোমা’ রোগে ভুগছিলেন। এটা এক ধরনের ক্যান্সার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশে রোবোটিক সার্জারি করতে গিয়ে সমস্যায় আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং সমস্যা আক্রান্ত স্থানটি ওপেন করে দ্রুততার সাথে সার্জারি করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়।

রোবোটিক সার্জারি বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা: মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈপুণ্য ও উৎকর্ষতা না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় হয়তো রোগী জীবনের জন্য বেঁচে গেলেও শারীরিক অথবা মানসিকভাবে পঙ্গুতের শিকার হতে পারেন। অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেশিন বলুন অথবা রোবটই বলুন এর চালকের অতি উচ্চ মাত্রার প্রশিক্ষণ ও মেশিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হবে এবং একই সাথে জবাবদিহিতা না থাকলে এসব থেকে কল্যাণের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

এফডিএ তাদের গবেষণায় বলেছে, রোবোটিক সার্জারিতে মৃত্যুসংক্রান্ত রিপোর্ট এলেও এ সম্বন্ধে তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। ফলে ‘চিকিৎসকের ভুলের কারণে রোগী মারা গেছে, না মেশিনের ভুল ছিল অথবা সার্জারির পর অন্য কোনো কারণে মারা গেছে’ এ সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না।

এফডিএ’র গবেষণায় বলা হয়েছে ১০ হাজার রোবোটিক সার্জারির তথ্য থেকে জানা গেছে, আট হাজার ৬১টি অস্ত্রোপচারের সময় রোবটের ভুলের কারণে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি সমস্যা আক্রান্ত হয়েছে। এফডিএ বলেছে, গাইনি ও ইউরোলজির অস্ত্রোপচারে অপেক্ষাকৃত কম সমস্যা হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অথবা অন্যান্য সমস্যার অভিযোগ এসেছে কার্ডিওথোরাসিক, মাথা ও ঘাড়ের অস্ত্রোপচারে।

তবে যুক্তরাজ্যের রয়াল কলেজ অব সার্জনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবোটিক সার্জারি ইনফেকশনের ঝুঁকি কমায় এবং রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি তার উল্টোটি ঘটছে। 

মানুষ একটি সহজ বিষয়কে নিজেরাই জটিল করে তুলে এবং নিজেরাই সেই জটিলতায় ভুগে এর জন্য তারা কখনো সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে দোষারোপ করতে পারবে না। কারণ প্রতিটি সমস্যারই সহজ সমাধান রয়েছে। ইউরোলজি সংক্রান্ত নতুন এবং ক্রনিক সকল সমস্যারই সুচিকিৎসা রয়েছে হোমিওতে এবং হাজার হাজার মানুষ সুস্থ হচ্ছে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে। আপনার সমস্যায় অযথাই সার্জারিতে না গিয়ে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন - আশা করি আপনাকে বিফল হতে হবে না। 
বিস্তারিত

Wednesday, February 21, 2018

গাজর ক্যানসার প্রতিরোধক - জানেন কি

গাজরের ইংরেজি নাম ‘ক্যারট’। গ্রিক শব্দ ক্যারট-অন থেকে এই ক্যারট শব্দের উৎপত্তি। আমরা যত রকমের সবজি খাই, তার মধ্যে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সবজি গাজর। এর ১০০টি প্রজাতি রয়েছে। গাজর সাধারণত পাঁচটি বর্ণের হয়ে থাকে—সাদা, কমলা, বেগুনি, হলুদ ও লাল। গাজর বিটা ক্যারোটিনের প্রধান উৎস।

গাজর কাঁচা খাওয়া ভালো। তবে রান্না করে খাওয়া আরো ভালো। যদি গাজর রান্না করা বা কাটা হয়, তখন এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে আরো বেশি কাজ করে।
গাজর কাঁচা খাওয়ার উপকারিতাগুলি জেনে নিন
রান্না করা গাজরের মধ্যে ক্যারোটিনোয়েডস থাকে। ক্যারোটিনোয়েড যেহেতু চর্বিতে দ্রবণীয় উপাদান, তাই এটি তেল-চর্বি দিয়ে রান্না করে খেলে দেহের রক্তে ক্যারোটিনোয়েডের শোষণ এক হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। গাজরে উচ্চ পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এটি লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

গাজর ক্যানসার প্রতিরোধক। গবেষণায় দেখা গেছে, গাজর ফুসফুস ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের (কোলন) ক্যানসার রোধ করে।

গাজরের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে কোষ নষ্ট হয়। এটি কোষের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-এ ব্রণ হওয়া এবং চামড়া ঝুলে পড়া রোধ করে।

গাজর হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, ও লিউটিন দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে সলিউবল ফাইবার থাকে। দুটি একসঙ্গে মিলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

বডির টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। দেহে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকা মিনারেলগুলো দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর কাজে বাধা দেয়।
বিস্তারিত