Showing posts with label কিডনী ও মূত্রসংবহনতন্ত্র. Show all posts
Showing posts with label কিডনী ও মূত্রসংবহনতন্ত্র. Show all posts

Sunday, December 31, 2017

অল্প খরচে কিডনির পাথর গলে বেরিয়ে যাবে এই চিকিৎসায়

সার্জারি ছাড়া ছাড়াই অতি সহজে কিডনির পাথর পরিপূর্ণভাবে দূর করার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। এর আগে আসুন জেনে কি কিডনি পাথর সম্পর্কে বিস্তারিত - কিডনির যেসব রোগ বের করা গেছে তার মধ্যে পাথর একটি পুরনো রোগ। পাথরগুলো কেবল কিডনিতে নয়, এর বিভিন্ন অংশে হতে পারে। কিডনিতে হতে পারে। কিডনির ভেতর থেকে বের হওয়া বৃক্ক নালীতে হতে পারে, প্রস্রাবের থলেতে হতে পারে এবং থলের থেকে বের হয়ে অনেক সময় পাথর মূত্রনালিতে আটকা পড়ে।
পাথর কেন হয় এর উত্তর দেওয়া মুশকিল। কেননা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন অনেক ক্ষেত্রে কারণ জানাই যায় না। তবে এটা জানা গেছে যে প্রত্যেকের দেহে পাথর যাতে না হয় এমন কিছু নিরোধক পদার্থ রয়েছে। সেই উপাদানগুলো যদি কম থাকে সেসব ব্যক্তির পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি।
কিডনি মানুষের শরীরের পিছন দিকে মেরুদন্ডের কাছে সীমের বিচির আকৃতির দু’টি অঙ্গ। কিডনির সাথে মূত্রথলির সংযোগকারী নালী রয়েছে যাকে ইউরেটার বা কিডনিনালী বলে। এই কিডনিনালী ২৫ সেঃমিঃ-এর মত লম্বা। এর তিনটি জায়গায় একটু চাপা রয়েছে। প্রথমটি হল কিডনির পেলভিসের সাথে ইউরেটারের সংযোগ স্থল, দ্বিতীয়টি যখন পেলভিক ব্রীজ ক্রস করে এবং তৃতীয়টি যখন মূত্রনালী প্রস্রাবের থলিতে প্রবেশ করে। কিডনি থেকে যখন পাথর কিডনি নালীতে নেমে আসে তখন এই জায়গাগুলোতে পাথর আটকানোর সম্ভবনা থাকে।
অল্প খরচে কিডনির পাথর গলে বেরিয়ে যাবে এই চিকিৎসায়
এখানে উল্লেক্ষ্য যে, মূত্রনালীর পাথর মূত্রনালীতে উত্পন্ন হয় না এটি কিডনিতে উত্পন্ন হয়ে কিডনি নালীর দিকে নেমে আসে। কিডনি নালীতে নেমে আসার সময় এটি কিডনি নালীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে কিডনির ভিতর প্রস্রাব জমে কিডনি আকারে বড় হতে পারে যাকে বলা হয় হাইড্রোনেফ্রোসিস।
দীর্ঘদিন এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে। কিডনির পাথর ইউরেটারে নেমে আসলে দেহের পিছনে বক্ষ খাঁচার নীচে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা ক্রমশ নীচের দিকে যেমন তলপেট বা উরুর দিকে অনুভূত হতে পারে। ব্যথা ক্রমশ তীব্র হতে থাকে এবং আবার কমে আসে, এই ভাবে পুনঃ পৌণিক ভাবে ব্যথা চলতে থাকে। প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাব রক্তবর্ণ, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। কখনও কখনও কিছুক্ষণ পর পর প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। যদি সংক্রমণ থাকে তবে বমি বমি ভাব, কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসতে পারে। ইউরেটারে পাথরের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যথার তীব্রতা ও অবস্থান পরিবর্তন হয়।
কিডনি পাথরের ঝুকির মধ্যে রয়েছে পারিবারিক ইতিহাস। পরিবারের একজনের পাথুরে রোগ হলে অন্যদের হবার সম্ভাবনা বেশী। বয়স্ক অর্থাত্ যাদের বয়স ৪০ বত্সরের বেশী তাদের মধ্যে এই রোগ বেশী দেখা যায়। তবে অল্প বয়স্কদের মধ্যেও এই রোগ দেখা যায়। মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা এই রোগে আক্রান্ত বেশী হয়ে থাকেন। যারা গরম আবহাওয়াতে বসবাস করেন এবং পানি কম খান তাদের পানিশূণ্যতা দেখা দেয়। এই পানি শূণ্যতা কিডনিতে পাথর রোগের প্রকোপ বাড়ায়। কিছু কিছু খাদ্য দ্রব্য যেমন অতিরিক্ত প্রোটিন, চিনি ও লবণ কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। মোটা মানুষের ক্ষেত্রে এই পাথুরে রোগের প্রকোপ বেশী দেখা দেয়। কিছু কিছু রোগ যেমন গ্যাষ্ট্রিক, বাইপাস সার্জারী, ইনফ্লামেটরি বাউল ডিজিস, ক্রণিক ডায়রিয়া, হাইপার প্যারাথাইরয়েড, মূত্রনালীর সংক্রমণ ইত্যাদি কিডনি পাথর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

সার্জারি বিহীন কার্যকর চিকিৎসা নিন

চিকিত্সার ক্ষেত্রে মূত্রনালীতে পাথরের অবস্থান, আকার ও কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা বিবেচ্য। আর এর একমাত্র নিরাপদ চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। হয়তো অনেকেরই বিশ্বাস করতে কিছুটা কষ্ট হবে।
আপনার জানা দরকার - কিডনির পাথরকে গুঁড়ো করে প্রস্রাবের সাথে বের করার একমাত্র নিরাপদ চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি আর এটা এতটাই নিরাপদ যে কোনো প্রকার ব্যথা-বেদনা তো দূরে থাক রোগী টেরই পায় না কিভাবে সে ভালো হয়ে গেলো। আর চিকিৎসা খরচ এলোপ্যাথি থেকে বহু গুন্ কম।  
তাই এইসমস্যায় দুশচিন্তাগ্রস্থ না হলে আজই রেজিস্টার্ড একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রপার চিকিৎসা নিন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন- শুভ কামনা আপনার জন্য।
বিস্তারিত

Saturday, December 30, 2017

জেনে নিন, কি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে ?

একজন মানুষের পানি কতটুকু খেতে হবে, তা নির্ভর করে তার কাজের ধরন, দেহের আকার, পরিবেশ, আবহাওয়া ইত্যাদির ওপর। পানির চাহিদা বোঝার জন্য মস্তিষ্কে আছে পিপাসাকেন্দ্র, যা ঠিক করে দেয় কখন কতটুকু পানি পান করতে হবে। তাই মস্তিষ্ক যতক্ষণ কাজ করছে, ততক্ষণ পানির অভাবে জটিলতা সৃষ্টির অবকাশ নেই।

পানি বেশি খেলেই যে কিডনি ভালো রাখা সম্ভব, তাও পুরোপুরি ঠিক নয়; যদিও পর্যাপ্ত পানি পান মূত্রের ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখে এবং সংক্রমণ রোধ করে। কিন্তু কিডনি খারাপ হওয়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিছু ইমিউন রোগ, যা পানি খেয়ে রোধ করা সম্ভব নয়।

প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।
জেনে নিন, কি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে ?
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত।

ভীতিকর কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা এবং এর সমাধান করতে পারা কিডনির জন্য খুবই উপকারী। কারণ, এই ধরনের কাজ মানসিক চাপকে দূর করে এক ধরনের প্রশান্তি দেয়, যা কিডনিকে শক্তিশালী করতে ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কিডনির সঙ্গে শরীরের নিচের অংশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ফলে দেহের পশ্চাৎদেশ ও পায়ের মাংসপেশী সমৃদ্ধ হয়। আর এই সমৃদ্ধ মাংসপেশী কিডনিকে আরও বেশি শক্তিশালী করে।

কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়

মানুষের শরীরে দুটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর অনেক মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসাও বেশ ব্যয়বহুল। তাই আগে থেকেই কিডনির যত্ন নেয়া উচিত। জেনে নিন কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন:- প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

লবণ কম খান:- খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।

অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন:- গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দুর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রাণিজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন:- রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন:- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান:- কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খেলে আপনার অজান্তেই কিডনির বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন।

প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি খাবেন না:- মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

কোমল পানীয় ত্যাগ করুন:- অনেকেই পানির বদলে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকেন। এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং যখনই তৃষ্ণা পায় পানি খেয়ে নিন।

ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন:- ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি একপর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।

কিডনির পরীক্ষা করান:- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত
বিস্তারিত

Sunday, December 7, 2014

কোল্ডড্রিঙ্ক বাড়িয়ে দেয় কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা

আপনি যদি অতিরিক্ত কোল্ডড্রিঙ্ক প্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে আজই সাবধান হোন।  গরমের হাত থেকে বাঁচতে অথবা নেহাতই শখে কোল্ডড্রিংক আপনার রোজকার ডায়েটের অবিচ্ছেদ্দ্য অঙ্গ কোল্ডড্রিংক? তাহলে এবার একটু সাবধান হন। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ্যে এসেছে কোল্ডড্রিংক (যে কোনও সফট ড্রিঙ্ক) আপনার কিডনির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনিও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।
জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন দিনে দু`বোতল কোল্ডড্রিঙ্ক প্রোটিনিউরিয়ার (মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রোটিনের নির্গমন) কারণ হয়। প্রোটিনিউরিয়া কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার নির্দেশক।

ওহেই ইয়ামোতোর নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল তিন ধাপে স্বাভাবিক কিডনি ক্ষমতাযুক্ত ৩৫৭৯জনকে, ৩০৫৫ জনকে ও ১৩৪২ জনকে পর্যায়ক্রমে দিনে শূন্য, এক, একাধিকবার কোল্ডড্রিঙ্ক খাইয়ে দেখেছেন প্রথম ক্ষেত্রে ৮.৪%, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৮.৯% ও তৃতীয় ক্ষেত্রে ১০.৭% প্রোটিনিউরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় তিন বছর ব্যাপী এই পরীক্ষাটি চলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কোল্ডড্রিংকে মিষ্টি স্বাদ তৈরি করার জন্য যে পরিমাণ ফ্রুকটোস সিরাপ ব্যবহার করা হয় তা কিডনি বিকল করতে যথেষ্ট। কিডনির কোষ গুলি অতিরিক্ত নুন পুনঃশোষণ করে। এছাড়া এর ফলে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, হাইপার টেনশনও ব্যপক হারে বৃদ্ধি পায়।
বিস্তারিত

Monday, November 10, 2014

মূত্রনাশ বিকার বা ইউরিমিয়ায় (Uraemia) হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা কার্যকর

মূত্রগ্রন্থি দ্বারা যে সকল দূষিত পদার্থ সুস্থাবস্থায় শরীর হতে বের হয়ে থাকে তা যদি মূত্রের সঙ্গে নির্গত না হয়ে রক্তের মধ্যে সঞ্চালিত হয় তবে ইহাকে মূত্রনাশ বিকার বা ইউরিমিয়া বলা হয়। ইহাতে প্রস্রাব বা মূত্র রোধ এবং রক্ত দুষ্টির কতগুলো উপসর্গ ঘটে। এই উপসর্গগুলি ধীরে ধীরে অথবা হঠাৎ আবির্ভূত হতে পারে এবং রোগীকে সংকটজনক অবস্থায় ফেলতে পারে। তাই রোগের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের শ্মরনাপন্ন হওয়া উচিত।
এই জাতীয় রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কতগুলো বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন - মূত্ররোধ, মূত্র সল্পতা, শোথ, বমন, বমন ইচ্ছা, ভয়ংকর মাথার যন্ত্রণা, মাথা ঘোরা, প্রবল আক্ষেপ আবার কখনো বা প্রলাপসহ আচ্ছন্নভাব অচেতন নিদ্রা অর্থাৎ কমা দেখা দেয়। তাই সকল লক্ষণের সাথে শ্বাস কস্ট, নিঃশ্বাসের সঙ্গে হিস হিস শব্দ, শ্বাসে এমোনিয়ার মত গন্ধ প্রভৃতি লক্ষণও বর্তমান থাকে।

কোন কোন ক্ষেত্রে এই রোগের সঙ্গে পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ থাকতে পারে। বলতে গেলে এটি অতি ভয়ঙ্কর প্রকৃতির রোগ বিশেষ। রোগীর মুখমন্ডল মলিন এবং কমল দেখায়। নাড়ী দ্রুত চলতে থাকে। শরীরের উষ্ণতা প্রথমে বর্ধিত হয় পরে ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়েও কমে যায়। অনেক সময় এটি বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাই যথাসময়ে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নেয়া জরুরি। 
বিস্তারিত

Tuesday, October 21, 2014

মূত্রনালীর শোথ ঘা কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিত্সা

মূত্রনালীর শোথ ঘা (Urinary Fistula) :- সিফিলিস বা গনোরিয়া রোগের কারণে অনেক সময় মূত্রনালীর প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে স্ফোটকের সৃষ্টি হয় এবং ইহাতে পুঁজ উত্পন্ন হয়। এক সময় ইহা ফেটে যায় এবং সেখানে ঘায়ের সৃষ্টি করে। এই জাতীয় ঘা বা ক্ষতকে ইউনারি ফিস্টুলা বলা হয়। এর ফলে মূত্রনালীর ভেতরে জ্বালাপোড়া এবং বেদনা প্রকাশ পায়। এই সকল ঘা বা ক্ষত সাধারণত সহজে শুকাতে চায় না এবং এ জাতীয় ক্ষত হতে ক্রমান্নয়ে পুঁজরক্ত পড়তে থাকে এবং রোগী অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে। ধীরে ধীরে এই সকল ক্ষত ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে। আবার দেখা যায়, প্রস্রাব না হওয়ার জন্য হার্ড কাথিটার প্রবেশ করানোর জন্যও এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
 
মূত্রনালীর শোথ ঘায়ের লক্ষণ :-
কখনো কখনো এই জাতীয় ফিস্টুলা মূত্রনালীর অভ্যন্তর ভাগে একাধিক হতে পারে। এই নালীক্ষতের মুখ মূত্রনালীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় এবং এর সঙ্গে প্রস্রাব স্বাভাবিক মূত্রছিদ্র দিয়ে অল্প পরিমানে বের হয় কিন্তু নালীক্ষতের মুখ দিয়ে অধিক পরিমান প্রস্রাব বের হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় এই জাতীয় নালীক্ষত তেমন জ্বালা-যন্ত্রণা এবং বেদনার উদ্রেক করে না। আবার কোন কোন সময় ভয়ানক যন্ত্রণা করে, কেটে ফেলার মত বেদনা থাকে। মূত্রনালী প্রদাহান্নিত হয়ে ফুলে উঠে এবং অসহ্য যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে এই যন্ত্রণা এত বেশি হয় যে রোগী তা সহ্য করতে পারে না। কখনো কখনো প্রস্রাব অবরুদ্ধ হয় আবার প্রস্রাব কালে ভয়ানক জ্বালাপোড়া করে।

এই ক্ষত যেহেতু অভ্যন্তর ভাগে সৃষ্টি হয় এবং প্রস্রাবের সাথে নানা প্রকার দূষিত ও উত্তেজক পদার্থের স্পর্শ লাগে সেই জন্য সহজে শুকাতে চায় না। এই জাতীয় রোগী প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় চিত্কার করে উঠে। বস্তুত ইহা একটি ভয়ানক বেদনার রোগ বিশেষ।

মূত্রনালীর শোথ ঘা বা ইউনারি ফিস্টুলা (Urinary Fistula) নির্মূলে সফল এবং আরোগ্যকারী চিকিত্সা দিয়ে থাকেন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা। রোগীর সবগুলি লক্ষণ বিবেচনায় এনে যথাযথ ট্রিটমেন্ট দিলে কিছু দিনের মধ্যেই যাবতীয় জ্বালা-যন্ত্রণাকর উপসর্গসমূহ দূর হয়ে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোয় এবং একসময় কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই পরিপূর্ণ আরোগ্য লাভ করে থাকে।
বিস্তারিত

মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা

মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis) কি :- মূত্রনালীর প্রদাহকে ইংরেজিতে ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালীতে গনোকক্কাস নামক রোগের জীবানু প্রবেশ করে এই জাতীয় রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারাও ঘটতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো প্রকার সংক্রমণ ছাড়াও ঘটতে পারে যেমন - মূত্রনালীতে আঘাত পেলে বা কোনো প্রকার অপারেশন হলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।
গনোরিয়া এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ যা মূত্রনালীর প্রদাহ ঘটাতে পারে। গনোরিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে মূত্রনালীর প্রদাহ হলে তাকে নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস বলে। এটার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্লামাইডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া। এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ। কোনো কোনো পুরুষের একই সময়ে গনোরিয়ার জীবাণু এবং অন্য জীবাণু দ্বারা মূত্রনালীর প্রদাহ হতে পারে। যদি কারো মূত্রনালী পথে রস নিঃসরণ হয়, তাহলে হয়ত যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ রয়েছে মনে করতে হবে যা অন্যের মধ্যেও ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত, এমনকি উপসর্গ চলে গেলেও।

মূত্রনালীর প্রদাহের (Urethritis) লক্ষণ :- এর ফলে মূত্রনালীতে ক্ষত ও বেদনাবোধ হয়। মূত্র ত্যাগের সময় ভয়ানক জ্বালা পোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। প্রস্রাবের সাথে পুজরক্ত নির্গত হয়। এই রোগের প্রথমে মূত্রনালীর মুখে ইরিটেসন হয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয় কিন্তু অল্প অল্প প্রস্রাব হয়। পরে প্রস্রাবের দ্বার বেদনা, জ্বালা এবং প্রস্রাবের সময় ভয়ানক কষ্ট হয়। প্রদাহ ভাব যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই মূত্রনালীর মেমব্রেনগুলো স্ফীত হয়। এর ফলে প্রস্রাব ত্যাগে আরো কস্ট হয়। প্রস্রাব কখনো পানির মত হয় না, ৪/৫ ধারায় প্রস্রাব পড়তে দেখা যায়, প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়ে। প্রস্রাবে তলানি পড়ে শ্লেষ্মার মত পদার্থ ও পুঁজ দেখাতে পাওয়া যায়। অনেক সময় পুরুষ লিঙ্গ শক্ত এবং বেঁকে যায়। এর সাথে অণ্ডকোষ মূত্রস্থলী প্রভৃতির প্রদাহ হয়। বেদনা জ্বালা পোড়া ও পুঁজরক্ত নিঃসরণ।

মহিলাদের বেলায় যে সব উপসর্গ থাকতে পারে :- মহিলাদের ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে তা হলো :অস্বাভাবিক যোনি স্রাব–জ্বর এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটের ব্যথা বেদনাদায়ক মূত্রত্যাগ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা মূত্রত্যাগ এবং তখন প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব । তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব করেন সেই সাথে কার কার কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা বা খিল ধরার মত কিছু মনে হয় । মাঝে মাঝে বমি হতে পারে । নববিবাহিত মেয়েদের মধুচন্দ্রিমা যাপনকালে প্রস্রাবের প্রদাহ হতে পারে ।

সহবাসের পর জীবাণু মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে বেশির ভাগ মহিলাদের – তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জনিত কারনে হলে অবশ্যই মুত্র নালীর মুখ বা ভেজিনাতে চুলকানির লক্ষণ থাকবেই প্রেগন্যান্ট মায়েরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে ( ১২/১৬ সপ্তাহ পর ) বেক্টোরিয়া আক্রমণে মুত্র নালীর যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু মহিলাদের হরমোন জনিত ঔষধ সেবন করার কারনে বেক্টোরিয়া ডেবলাপ্ট হয়ে হতে পারে তবে তা মাত্র ২ ভাগ অথবা মেনোপজ এর সময় একটু বেশি হওয়ার সম্বাভনা আছেই । এলারজি জনিত কারনে হলে অবশ্যই যোনি মুখের আশ পাশ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও উষ্ণ চুল্কানির লক্ষণ থাকবেইযারা অপরিষ্কার ভাবে স্পার্মিসাইড বা কৃত্রিম ডায়াফ্রাম ব্যবহার করেন বা সজোরে যৌনমিলন করলে তাদের বেলায় একটু ঝুঁকি বেশি আছেই।

    ইউরেথ্রাইটিসের প্রতিরোধ ও প্রতিকার :- ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে জাগার পর প্রস্রাব করতে হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। পানির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উচিত যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব তৈরি হয় যা দিনে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু পিছন থেকে সামনের দিকে না এনে সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা, যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্র পথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে অথবা পরিষ্কার কাপড় ব্যাবহার করলে প্রতি বার তা সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যদি দেখা যায় আপনার প্রস্রাবের রাস্তার জ্বালা যন্ত্রণা জীবাণু জনিত বলে সন্দেহ থাকে তাহলে আপনার চিকিত্সা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা আপনার উপসর্গ না যাওয়া পর্যন্ত কার ও সাথে যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মহিলাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ঘন ঘন বদলাতে হবে এবং সহবাসের আগে ও পরে-যাতে মূত্র নালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয় সে দিকে লক্ষ রাখবেন। খতনা বা মুসলমানি করানো হলে ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেস্টা করবেন প্রতিদিন। আন্ডার পেন্ট বা ঐ জাতীয় কিছু যেন অন্য কার ও সংস্পর্শে না যায় সে দিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis), প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা হোমিও চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যায়। তাই নিঃসন্দেহে এর জন্য কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিন। আর বিবাহিত অবস্থায় অবশ্যই স্বামী স্ত্রী দুজনেই ডাক্তারের কাছে যাবেন।
    বিস্তারিত

    Monday, September 22, 2014

    শিশুর কিডনির সমস্যা - লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং প্রতিকার

    আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য কিডনির ভূমিকা অনস্বীকার্য। শরীরের নানা আবর্জনা এবং ক্ষতিকর তরল পদার্থ শরীর থেকে বের করে থাকে এই কিডনি। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে বিষাক্ত জিনিস শরীরে জমে জমে অসুস্থ হয় হূদযন্ত্র ও ফুসফুস। শরীরে পানি জমে, হয় শ্বাসকষ্ট। আমাদের শরীরে রয়েছে দুটো কিডনি। প্রতিটি কিডনি অনেকগুলো খুবই ছোট, অথচ জটিল একক নিয়ে গঠিত, এই এককের নাম হলো "নেফ্রোন"। প্রতিটি নেফ্রোনের কাজ হলো প্রস্রাব তৈরি করা আর এভাবে রক্ত থাকে বিষমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন। 
    পরিণত বয়সের কিডনি রোগীদের মতো, শিশু-কিশোরদের কিডনি রোগের উপসর্গ বা লক্ষনগুলো সাধারণত দৃশ্যমান হয় না বিধায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের কিডনি জনিত রোগগুলো অনেক দেরিতে সনাক্ত হয়।শিশুদের সাধারণত দুই ধরনের কিডনির রোগ বেশি হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে নেফ্রোটিক সিনড্রোম ও অ্যাকিউট নেফ্রাইটিস।
    নেফ্রোটিক সিনড্রোম
    নেফ্রোটিক সিনড্রোম লক্ষণ :- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর হয়ে থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। প্রথম দিকে দুই চোখের পাতা ফুলে যায় ও মুখে ফোলা ভাব দেখা যায়। পরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পেটে, হাতে ও পায়ে পানি জমে এবং সারা শরীর ফুলে যায়। শিশুর অণ্ডকোষে পানি জমতে পারে। এর সঙ্গে কখনো বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, রং সাধারণত স্বাভাবিক থাকে। শিশুর রক্তচাপ সচরাচর স্বাভাবিক থাকে। প্রস্রাব জ্বাল দিলে প্রোটিনের পুরু স্তর পাওয়া যায়।

    রোগ নির্ণয় :-
    • প্রস্রাবে খুব বেশি পরিমাণে প্রোটিন বেরিয়ে যায় (৪০ মিলিগ্রাম)। প্রতি স্কয়ার মিটার সারফেস এরিয়া বা প্রতি ঘণ্টায় প্রস্রাবের বেশি।
    • সিরাম লিপিডে উচ্চ মাত্রা, ২২০ গ্রামের বেশি।
    • রক্তে অ্যালবুমিনের সর্বনিম্ন, ২ গ্রামের কম।
    • শিশুর সারা শরীর ফুলে যায়।
    অ্যাকিউট নেফ্রাইটিস
    অ্যাকিউট নেফ্রাইটিসের লক্ষণ :- প্রধানত স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগ হয়ে থাকে। শিশুর শরীরে খোসপাঁচড়া বা গলা ব্যথা অসুখের ১০ থেকে ২১ দিন পরে সাধারণভাবে এ রোগ প্রকাশ পায়। স্টেপটোকক্কাই নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এ জন্য দায়ী।

    অ্যাকিউট নেফ্রাইটিসের উপসর্গ :-
    • হঠাৎ করে চোখ-মুখ, সারা শরীর ফুলে যেতে পারে।
    • প্রস্রাব হয় বন্ধ কিংবা পরিমাণে খুব অল্প হতে পারে। বেশির ভাগ সময় প্রস্রাবের রং লাল থাকে।
    • কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২১ দিন আগে গলা ব্যথা হয়ে থাকে। কখনো ত্বকে খোসপাঁচড়াজাতীয় চিহ্ন থাকে।
    • শিশুর রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে।
    পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি কি :-
    • প্রস্রাব পরীক্ষায় কিছুটা প্রোটিনের সঙ্গে আরবিসি কাস্ট পাওয়া যায়।
    • কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝার জন্য ব্লাড ইউরিয়া, সিরাম ক্রিয়েটিনিন মাত্রা দেখা যায়। সিরাম পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রা ইসিজির সাহায্যেও বোঝা যেতে পারে।
    বাচ্চার খোসপাঁচড়া বা গলাব্যথা অসুখে সময়মতো চিকিৎসা করাতে হবে। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ অ্যাকিউট নেফ্রাইটিসের শিশু সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তবে সময় নষ্ট না করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিন। শিশুদের কিডনি বা মূত্রতন্ত্রের সমস্যা প্রথম পর্যায়েই সনাক্ত করা গেলে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমেই সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। তাই মা-বাবাকে শিশুর এই ধরনের সমস্যার ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।

    কিডনি সংক্রান্ত এ সকল সমস্যায় শিশুদের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা দ্রুত ফলদায়ক এবং অধিকতর কার্যকরী। তাই নির্দিধায় আপনার শিশুর কিডনি সংক্রান্ত যে কোনো রোগে হোমিও ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। এতে নেই কোনো প্রকার জটিলতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার চিন্তা।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Sunday, September 21, 2014

    হাইড্রোনেফ্রোসিসের (Hydronephrosis) কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও প্রতিকার

    কিডনি স্ফীতি বা প্রস্রাবের স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যর্থ হলে যে অবস্থাটা লক্ষ্য করা যায় সেটাই হলো হাইড্রোনেপ্রোসিস। সাধারণত এই স্ফীতি শুধুমাত্র একটি কিডনিকে প্রভাবিত করে, কিন্তু উভয়টিই আক্রান্ত হতে পারে। হাইড্রোনেফ্রোসিসকে (Hydronephrosis) সরাসরি রোগ না বলে একটা Structural Condition বলা যেতে পারে। এটা প্রস্রাবের নালীর মধ্যে একটি প্রতিবন্ধকতার ফলাফল।

    কিডনির সাথে মূত্রথলির সংযোগকারী নালী রয়েছে যাকে ইউরেটার বা মূত্রনালী বলে। অনেকে আবার এটাকে সরাসরি কিডনি নালীও বলে থাকেন। এই নালী ২৫ সেমি-এর মতো লম্বা। এর তিনটি জায়গায় একটু চাপা রয়েছে। প্রথমটি হলো কিডনির পেলভিসের সাথে ইউরেটারের সংযোগ স্থল, দ্বিতীয়টি যখন পেলভিক ব্রীজ ক্রস করে এবং তৃতীয়টি যখন মূত্রনালী প্রস্রাবের থলিতে প্রবেশ করে। কোনো কারণে যদি কিডনি নালী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় তখন এর ফলে কিডনির ভিতরে প্রস্রাব জমা হয়ে কিডনি আকারে বড়/স্ফীত হয়ে যায় যাকে বলা হয় হাইড্রোনেফ্রোসিস।
    হাইড্রোনেফ্রোসিসের কারণ :-
    বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন -
    • PUJ Obstruction
    • কিডনিতে পাথর হলে 
    • কিডনিতে সিস্ট বা টিউমার হলে 
    • যদি নেফ্রনে ময়লা জমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় 
    • জন্মগত ভাবে বা আঘাত জনিত কারণে মূত্রনালী এর সংকীর্ণতা 

    হাইড্রোনেফ্রোসিসের লক্ষণ :-
    উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলি হলো :-
    • বমি বমি ভাব এবং বমি 
    • পেট বা পার্শ্ব ব্যথা 
    • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা / জ্বালাপোড়া
    • ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ 
    • বেগ পাওয়ার সাথে সাথেই প্রস্রাব করতে হয় 
    • জ্বর জ্বর ভাব 

    চিকিত্সা :-
    অনেক সময়ই দেখা যায় টিভিতে বা ফেইসবুকের পাতায় হাইড্রোনেফ্রোসিসের ট্রিটমেন্ট এর জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়ে থাকেন অনেকে। বাংলাদেশের অনেক পরিবারই তাদের পরিবারের কেউ এতে আক্রান্ত হলে অ্যালোপ্যাথি পদ্ধতিতে কিডনির ব্যয়বহুল এই চিকিত্সা করাতে অপারগ। তাদের উদেশ্যে আমরা বলতে চাই। আপনাদের মানুষিকতার পরিবর্তন করুন। যেখানে এর নিশ্চিত ফলপ্রদ কোনো চিকিত্সাই নেই তার পেছনে সময় এবং অর্থ নষ্ট করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

    হাইড্রোনেফ্রোসিসের সর্বাধুনিক, সফল এবং আরোগ্যকারী চিকিত্সা দিয়ে আসছেন আমাদের দেশের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা। আর তাদের মূল্যবান চিকিত্সা দক্ষতার কারণে আজ লক্ষ লক্ষ কিডনি রোগী নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছেন। তাই এ সংক্রান্ত সমস্যায় আপনার যাবতীয় জাক্তারি রিপোর্টগুলি নিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে চিকিত্সা নিন। হোমিওপ্যাথ হিসেবে আমরা দৃঢ় আশা রাখি যে, প্রপার হোমিওপ্যাথি ট্রিটমেন্ট নিলে হাইড্রোনেফ্রোসিসের সমস্যা অচিরেই দূর হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Sunday, September 14, 2014

    প্রসাবের সংক্রমন বা ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

    জীবন ধারনের জন্য আমাদের অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ হলো কিডনী। মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র যেমন মানুষের জন্য জরুরি ঠিক তেমনি জরুরি আমাদের দুটি কিডনি। আমাদের শরীরের যাবতীয় ক্ষতিকর অপ্রয়োজনীয় ও বর্জ্য পদার্থগুলো এ দুটো কিডনির মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। দুটো কিডনির মধ্যে রয়েছে আবার দুটো ছোট ছোট স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দু লিটার মূত্র তৈরি হয় এই ল্যাবরেটরিগুলোতে। এই মূত্রে থাকে নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যেগুলো শরীরে জমা হয়ে থাকলে আমাদের শরীর হয়ে উঠত বিষাক্ত, রক্ত হয়ে পড়ত দূষিত। 
    রক্তে এসিড-বেইসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শরীরে মোট পানির পরিমাণের ভারসাম্য রক্ষা করাও কিডনির কাজ। আর এই মুত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয় তাহলে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বলা হয়। কিডনি, মূত্রনালি বা মূত্রথলি অথবা একাধিক অংশে একসঙ্গে এই ধরণের ইনফেকশন হতে পারে। এই ইনফেকশনকেই সংক্ষেপে ইউরিন ইনফেকশন বলা হয়। সাধারণত এই সমস্যাটি নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যে হলেও নারীদের মধ্যে ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। 

    ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণসমূহ :-
    • প্রস্রাবে বাজে গন্ধ
    • বমি ভাব বা বমি হওয়া
    • প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া
    • তলপেটে বা পিঠে তীব্র ব্যথা
    • একটু পর পর প্রস্রাব লাগা কিন্তু ঠিক মতো না হওয়া
    • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা পোড়া বা ব্যথা করা
    • সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব অথবা কাঁপুনি দিয়ে ঘন ঘন জ্বর হওয়া
    যদিও নারীরাই বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবুও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে গরমের দিনে খুব সহজেই মূত্রাশয়ের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ইউরিনারি ইনফেকশনের অন্যতম লক্ষণ হলো প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, কিডনিতে ব্যথা করা, কোমরে ব্যথা করা, তলপেটে ব্যথা করা ইত্যাদি। তবে কিছু নিয়ম যথাযথ ভাবে মেনে চললে ইউরিনারি ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

    ইউরিনারি ইনফেকশন প্রতিরোধের উপায়গুলো:-
    প্রস্রাব আটকে রাখা মানা :-
    বাড়ির বাইরে অনেকেই মূত্রত্যাগ করতে চান না। এই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখা হতে পারে ইউরিনারি ইনফেকশনের কারণ। প্রস্রাব যদি মূত্রাশয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়, তাহলে তাতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রতি ২০ মিনিটে মূত্রস্থিত ই.কলি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর বেশি সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া মানে বেশি ব্যথা। তাই নিঃসন্দেহে সেরা উপায় হলো প্রচুর পানি পান করা এবং মূত্রত্যাগের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয়া।

    প্রচুর পানি পান :-
    যেকোনো রোগের প্রতিরোধক হলো প্রচুর পানি পান। ইউরিনারি ইনফেকশনের জন্য এটাই একক এবং সেরা উপায়। অনেকেই ভাবেন সারাক্ষণ তো জ্বালাপোড়া হচ্ছে না, শুধু টয়লেটে গেলেই যা সমস্যা! ফলে টয়লেটে যাওয়া কমিয়ে দেন। এর ফল হয় ভয়াবহ। গবেষণায় জানা গেছে, প্রচুর পানি পান শুধু মূত্রত্যাগের সময় জ্বালাপোড়াই কমায় না, ইউরিনারি ইনফেকশনও দূর করে।

    যৌন মিলনের আগে ও পরে :-
    অনেকেরই দেখা যায় যৌনমিলনের পরে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। মিলনের আগে ও পরে মূত্রত্যাগ করা ইউরিনারি ইনফেকশন রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পুরুষের চেয়ে নারী ক্ষেত্রে এটা বেশি কার্যকর।

    ভিটামিন সি :-
    নিয়মিত পরিমিত ভিটামিন সি গ্রহণ কমিয়ে দিতে পারে ইউরিনারি ইনফেকশনের সম্ভাবনা। দিনে ১০০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণে শরীরে যে অম্ল উত্‍পন্ন হয়, তাতে মূত্রে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস পায়।

    গরম পানিতে গোসল :-
    ইউরিনারি ইনফেকশনের ফলে সৃষ্ট ব্যথা উপশমে কুসুম গরম পানিতে গোসল অনেকের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

    স্বাস্থ্যবিধি পালন :-
    সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যবিধি পালনের কোনো বিকল্প নেই। ঢিলেঢালা পোশাক পরা, সুতি কাপড়ের অন্তর্বাস ব্যবহার, নিয়মিত গোসল করা, সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি খুবই জরুরি।

    সবশেষে বলব ইউরিন ইনফেকশনের বা প্রসাবে সংক্রমনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা নয়। সরাসরি আপনার হোমিওপ্যাথের নিকট চলে যান এবং চিকিত্সা নিন। খুব অল্প দিনের চিকিত্সাতেই আপনার প্রসাব সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
    বিস্তারিত

    Wednesday, August 27, 2014

    অতিরিক্ত গরমও কিডনিতে পাথর হওয়ার জন্য দায়ী !!

    সম্প্রতি হাফিংটন পোস্টে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞ দলের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের 'কিডনিতে পাথর' রোগের পরিমানও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু কিভাবে ? খুব গরমে আপনি বারবিকিউ চিবোচ্ছেন, আইসক্রিম খাচ্ছেন, দারুণ মজা করছেন পরিবার-পরিজন অথবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সমুদ্র সৈকতে। আর এরই মধ্যে হয়তো আপনার কিডনিতে জমা হচ্ছে পাথর। আর এটা এমন এক যন্ত্রণা, যে ভুগেছে সেই শুধু জানে এর ব্যথা। 
    ফ্লোরিডার জ্যাকসনভাইলের মেয়ো ক্লিনিক কিডনি স্টোন ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইলিয়াম হ্যালি বলেন, 'কিডনিতে পাথর হওয়ার সবচেয়ে উর্বর সময় হচ্ছে আগস্ট। আগস্ট হচ্ছে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়।'  এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পার্সপেক্টিভ নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এ বিষয়ে একটি নতুন গবেষণাপত্র। তাতে বলা হয়েছে, পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন, যা ক্রমে উষ্ণ থেকে উষ্ণ হয়ে উঠছে, ভবিষ্যতে মানুষের কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা আরও বেশি বাড়াতে পারে।

    ড. হ্যালির অন্তত এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, 'বৈশ্বিক উষ্ণতা যতই বাড়ছে, ততই মানুষের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়ছে। এটা আবহাওয়ার উষ্ণতার জন্য হলেও আমরা সে উষ্ণতাকে কীভাবে নিচ্ছি, সেটাও কিন্তু কম দায়ী নয়।

    কথাটা অবশ্য এভাবেও বলা যায়। আমরা গরমে হাঁসফাস করছি, ঘামছি, কিন্তু আমরা শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া তরলের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট পরিমাণ পানি খাচ্ছি না। গরমে বন্ধুবান্ধব মিলে ঢক ঢক করে কোল্ডড্রিংক খাচ্ছি, সুযোগ পেলে হট ডগও বাদ দিচ্ছি না।

    তারপর হামবার্গারসহ গরমে মজাদার এমন সব খাবারও গিলছি গোগ্রাসে। কিন্তু উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে এসব গুরুপাচ্য খাবার যে শরীরের বারোটা বাজাচ্ছে, তা খেয়াল করছি না। এসব খাবার আমাদের প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বাড়াচ্ছে- আর অনেকের কিডনিতে পাথর জমার পথ পরিষ্কার করছে।

    কিডনিতে পাথর হয় ক্যালসিয়াম কিংবা ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থের সঙ্গে লবণের সংমিশ্রণে। এ উপাদানগুলো মিশ্রণের ফলে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি স্ফটিকসম কঠিন পদার্থ। এটাকেই বলে কিডনির পাথর। আর মাঝে মধ্যে এটার কারণ হলো শরীরে দিনের পর দিন তরল পদার্থের অপ্রতুলতা। সুতরাং পানি খান। কখনও শরীরকে ডিহাইড্রেশনে ফেলবেন না।
    বিস্তারিত

    কিডনির পাথর প্রতিরোধে কি কি করবেন

    উন্নয়নশীল দেশে মূত্রথলির পাথর আবার উন্নত দেশে কিডনির পাথর হয় বেশি। উত্তর আমেরিকায় এক সমীায় দেখা গেছে, ৭০ বছর বয়সী মানুষের ১২ শতাংশ পুরুষ ও ৫ শতাংশ মহিলার কিডনিতে পাথর হয়েছে। আমাদের দেশেও কিডনিতে পাথর হওয়া লোকসংখ্যা কম নয়। একটু সচেতন হলে কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
    কি কি করবেন ?
    • দুই লিটারের বেশি পানি পান করুন
    • ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খান
    • শাকসবজি ও ফলমূল খান বেশি করে
    • আমিষজাতীয় খাবার যেমন গোশত খাওয়া কমিয়ে দিন
    • ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান বেশি করে
    • ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ কলা, টমেটো, তরমুজ ইত্যাদি খান
    কি কি বাদ দিবেন ?
    শিম, বিট, কাঁচামরিচ, স্পাইন্যাচ, চকলেট, কোকো বীজের গুঁড়া বা ফল, চীনাবাদাম বা এর তেল, লবণ, প্রচুর গোশত, কোমল পানীয় ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের কুসুম, কলিজা খাওয়া বাদ দিন। এগুলো কিডনি বা মূত্রথলিতে পাথর হতে সাহায্য করে। 

    কিছু ভুল ধারণা :-
    অনেকেই মনে করেন, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেলে বুঝি পাথর বেশি হয় এটা একদম ঠিক নয়। সম্প্রতিক হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ৯০ হাজার মহিলার ওপর জরিপ চালিয়ে দেখতে পেয়েছে যে, যেসব মহিলা বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেয়েছেন তাদের কিডনিতে পাথর হয়নি বললেই চলে। তাই বলে আবার ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না। কারণ তারা আরো দেখতে পেয়েছেন যে, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেলে কিডনিতে পাথর হয় দ্রুত।

    হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :-
    যদি কারো কিডনিতে পাথর হয়ে যায় তাহলে বিষয়টি দ্বিতীয়বার না ভেবে সরাসরি আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন হোমিও চিকিত্সায় অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার যে কোনো আকৃতির কিডনি পাথর গুডু হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে আসবে। আর আপনি কোনো প্রকার অপারেশন ছাড়াই হয়ে উঠবেন পুরোপুরি সুস্থ্য। 
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    কিডনি রোগ প্রতিরোধে কি কি করবেন ?

    মানুষের রেচনতন্ত্র গঠিত হয় একটি মূত্রথলি, একটি মূত্রনালী, একজোড়া ইউরেটার আর একজোড়া কিডনি নিয়ে। আর কিডনি শরীরের দূষিত পদার্থগুলো দেহ থেকে বের করে দিয়ে দেহকে কলুষমুক্ত করে। এর পাশাপাশি ইহা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বেশ সহায়তা করে থাকে। এ ছাড়া আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে কিডনির। কিডনি বা রেচনতন্ত্রের কোনো রোগ দেখা দিলে জীবন হতে পারে সঙ্কটাপন্ন। কিন্তু কিছু নিয়ম মেনে চললেই কিন্তু এসব রোগ থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।
    প্রস্রাব ধরে রাখবেন না :-
    কিডনি প্রতিদিন ১৭০ লিটার করে রক্ত পরিশোধন করে। রক্ত পরিশোধনের পর প্রায় ১.৫ লিটার মূত্র আকারে দেহ থেকে বের হয়ে আসে। নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থগুলো মূত্রের মাধ্যমে দেহের বাইরে চলে আসে। তাই এ বর্জ্য পদার্থ যত দ্রুত সম্ভব দেহের বাইরে বের করে দেয়া দরকার। অনেকেই আছেন প্রস্রাবের প্রচণ্ড বেগ থাকার পরও প্রস্রাব না করে ধরে রাখেন। এটা কিন্তু কিডনির জন্য তিকর। তাই প্রস্রাব ধরে না রেখে প্রস্রাবের চাপ অনুভব করার সাথে সাথে তা ত্যাগের অভ্যাস করতে হবে। এতে করে কিডনি ও মূত্রথলি তির হাত থেকে রা পায়।

    প্রতিরোধ করুন ইনফেকশন :-
    মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য ছোট, যোনি ও পায়ুপথের খুব কাছাকাছি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মতাসম্পন্ন পুরুষের মতো প্রোস্টেটিক গ্রন্থির তরল পদার্থ নিঃসরণ না হওয়ায় মেয়েরা খুব সহজেই কিডনি ও ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হয় বেশি। তাই নারীদের বেশি সাবধান হওয়া প্রয়োজন। আর ইনফেকশন প্রতিরোধে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন।

    প্রচুর পানি পান করুন :-
    অনেকেরই পানি পানে অনীহা দেখা যায়। এটা কিন্তু কিডনির জন্য তিকর। পানি কিডনি থেকে তিকর পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়াকে ধুয়ে ফেলে কিডনিকে রাখে তরতাজা। ফলে কিডনি, মূত্রথলি বা মূত্রনালীর ইনফেকশনের মাত্রা কমে যায়। আবার পানি বেশি করে পান করলে ছোট আকারের পাথর শরীর থেকে আপনা-আপনি বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই কিডনিকে রা করতে প্রচুর পানি পান করুন। প্রতিদিন তিন-চার লিটার বা কমপে দুই লিটার পানি পান করুন। খুব বেশি পানি পান করবেন না। এটা কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য তিকর হতে পারে। আবার অনেক কিডনি রোগীকে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে বলেন। সেসব রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পানি পান করবেন না।

    যৌন মিলনের পর প্রস্রাবের অভ্যাস করুন :-
    মেয়েদের মূত্রনালী যোনিপথের খুব কাছেই অবস্থান করে। তাই যৌনমিলনের সময় মহিলাদের মূত্রনালীতে ছোটখাটো ইনজুরি হয়। যোনিপথে ও মলদ্বারে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে। ফলে খুব সহজেই মেয়েদের মূত্রনালীতে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে পড়ে ইনফেকশন করতে পারে। হতে পারে ইউটিআই। আবার এর সঠিক চিকিৎসা না করালে এ থেকে হতে পারে কিডনির ইনফেকশন যেটা কিডনিকে অকেজো করে দিতে পারে। কিন্তু যৌন মিলনের পর প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের সাথে ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীরের বাইরে চলে আসায় রক্ষা পায় কিডনি।

    মূত্রথলির ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ করুন :-
    দীর্ঘদিন মূত্রথলি বা মূত্রনালীর ইনফেকশনের চিকিৎসা না করালে তা কিডনি ইনফেকশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা সহজে প্রতিরোধ করা যায়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, তলপেট ব্যথা, প্রস্রাবের আগে ও পরে জ্বালাপোড়া, কোমর ব্যথা ও জ্বর থাকলে বুঝবেন আপনার মূত্রথলি বা মূত্রনালীর ইনফেকশন (ইউটিআই) হয়ে থাকতে পারে। বেশি করে পানি পানের পর যদি সমস্যা দূর না হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোনোমতেই নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা ঠিক হবে না। আর একটি ব্যাপার হলো

    কোমর ব্যথা হলেই অনেকেই মনে করেন কিডনির সমস্যা হয়েছে। তারা চিন্তায় পড়ে যান। কোমর ব্যথা হলেই যে কিডনির সমস্যা হয়েছে এটা ঠিক নয়। কোমব ব্যথার সাথে যদি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবের আগে ও পরে তলপেটে ব্যথা, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পর প্রস্রাব ঠিকমতো হয়নি বলে মনে হওয়া, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাব ঠিকমতো ধরে রাখতে না পারা ইত্যাদি নানান সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কিডনির সমস্যা হতে পারে।

    চা-কফি কম পান করুন :-
    কেউ কেউ চা বা কফি পান করেন বেশি করে। এগুলো খুব বেশি পরিমাণে খেলে কিডনির কর্মমতা নষ্ট হতে পারে ও সেই সাথে বারবার কিডনির ইনফেকশন হতে পারে। তাই চা-কফি পানের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে পানি বা ফলের জুস পান করুন।

    অপরিচ্ছন্ন ন্যাপকিন ব্যবহার করবেন না :-
    সাধারণত গ্রাম-গঞ্জে মেয়েরা মাসিকের সময় পরিচ্ছন্ন ন্যাপকিনের পরিবর্তে নোংরা পুরান, ছেঁড়া কাপড়-চোপড় ব্যবহার করেন। এসব নোংরা কাপড় থেকে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই মূত্রনালী দিয়ে ভেতরে ঢুকে রোগাক্রান্ত হতে পারে। তাই সব সময় পরিচ্ছন্ন ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

    ওষুধ হতে সাবধান :-
    একটু শরীর ব্যথা হলে অনেকেই ফার্মেসি থেকে ব্যথার ট্যাবলেট যেমন ডাইকোফেনাক এনে খান। এটা কিন্তু কিডনির জন্য খুবই মারাত্মক। এটা কিডনিকে অকেজো করার পাশাপাশি নানা ধরনের সমস্যা করতে পারে। ব্যথানাশক ট্যাবলেট, এসিআই ইনহিবিটর যেমন ক্যাপটোপ্রিল, এনারাপ্রিল, লিসিনোপ্রিল ইত্যাদি, কেমোথেরাপি, লেড, পেনিসিলামিন, গোল্ড, লিথিয়ামসহ আরো অনেক ওষুধ আছে যেগুলো কিডনির জন্য তিকর। তাই এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করবেন না।

    পরিষ্কার রাখুন গুপ্তস্থান :-
    পায়ুপথে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে। এসব ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই মূত্রনালী দিয়ে ভেতরে ঢুকে কিডনির রোগ করতে পারে। তাই গুপ্তস্থান সব সময় পরিষ্কার রাখুন। টয়লেটের পর বেশি করে পানি দিয়ে গুপ্তস্থান পরিষ্কার করুন।
    বিস্তারিত

    Monday, August 18, 2014

    দৈনন্দিন যে অভ্যাসগুলো আপনার কিডনিকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে

    কিডনি মানুষের শরীরের একটি অতি জরুরি অঙ্গ। রক্তকে বিশুদ্ধ করা, হরমোন উৎপন্ন করা, মূত্রত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়া সহ আরো নানান রকমের জরুরি কাজ করে থাকে আমাদের কিডনি। তাই শরীরের এই প্রয়োজনীয় অঙ্গের দরকার বিশেষ যত্ন। কিন্তু নানান অবহেলা ও ভুলের কারণে প্রতিনিয়তই ক্ষতি হচ্ছে আমাদের কিডনির। জেনে নিন আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস সম্পর্কে যেগুলো প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছে আমাদের কিডনির।
    প্রচুর লবণ খাওয়া :-
    অনেকেই খাবারের সাথে প্রচুর লবণ খেয়ে থাকেন। লবণ শরীরের জন্য জরুরি হলেও প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং কিডনির ক্ষতি হয়।

    পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া :-
    কিডনির মূল কাজ হলো শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়া। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খেলে কিডনি তার কাজ ঠিক মতো করতে পারেনা। ফলে কিডনির ক্ষতি হয়। তাই কিডনি ভালো রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত।

    মূত্রত্যাগে বিলম্ব করা :-
    পাবলিক টয়েলেট ব্যবহার এড়ানোর জন্য অনেকেই মূত্রচাপ থাকলেও মূত্রত্যাগ করেন না। নিয়মিত বিলম্বে মূত্রত্যাগ করার ফলে কিডনিতে চাপ সৃষ্টি হয় এবং কিডনি অকেজো হওয়া ও পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খাওয়া :-
    যারা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খায় কিংবা কোমল পানীয় খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের মূত্রের সাথে প্রোটিন নির্গত হয় যা কিডনির জন্য ঝুকিপূর্ণ।

    ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব :-
    প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেলে কিডনি ভালো থাকে। ভিটামিন বি ৬ ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    ঘুমের ব্যাঘাত :-
    রাতে ঘুমানোর সময়টাতে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু গুলো সেরে ওঠে। তাই রাতে ঠিক মতো না ঘুমালে শরীরের বিশ্রাম হয় না এবং কিডনির ক্ষতি হয়।

    অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ :-
    অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করলে কিডনির মেটাবোলিক চাপ বেড়ে যায়। যত বেশি প্রোটিন গ্রহণ করবেন কিডনির উপর চাপ তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। ফলে কিডনি দ্রুত অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

    অতিরিক্ত পেইন কিলার গ্রহণ :-
    কারো কারো একটুখানি ব্যাথাতেই পেইন কিলার খাওয়ার অভ্যাস আছে। ঘন ঘন অতিরিক্ত পেইন কিলার খেলে দ্রুত কিডনি ও লিভার নষ্ট হয়ে যায়।

    মদ্যপান :-
    অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটে এবং কিডনিতে চাপ সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে লিভারেরও ক্ষতি হয়। তাই কিডনি ভালো রাখতে চাইলে মদ্যপান ত্যাগ করা ভালো।

    অতিরিক্ত কফি খাওয়ার অভ্যাস :-
    কফি রক্তচাপ কিছুটা বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে যাদের দিনে দুই কাপের বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের কিডনি দ্রুত অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Tuesday, July 29, 2014

    কিডনিতে পাথর হলে কি কি করবেন?

    কিডনি আমাদের শরীর থেকে প্রস্রাবের সাথে বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে। কখনো কখনো লবনের সাথে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিশে কিডনিতে একধরনের কঠিন পদার্থের জন্ম দেয়, যাকে আমরা কিডনির পাথর বলি। এই পাথর আকারে একটি ছোট লবনের দানা কিংবা কখনো কখনো পিংপং বল এর মত বড় হতে পারে। আমরা সহজে এই পাথরের উপস্থিতি বুঝতে পারি না যতক্ষণ না এটি আমাদের মূত্রনালির গায়ে ধাক্কা দেয় এবং একে সংকীর্ণ করার ফলে ব্যথার উদ্রেগ করে।
    কিডনিতে পাথরের লক্ষণ :-
    আসুন দেখে নিই কিডনির পাথরের ক্ষেত্রে কি কি ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে-

    • পিঠে, পেটে কিংবা দুই পায়ের সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা অনুভব করা।
    • ঘন ঘন প্রস্রাব করা এবং প্রস্রাব করার সময় ব্যথা অনুভব করা।
    • প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসা।
    • বমি বমি ভাব কিংবা বমি করা।
    আকস্মিকভাবে পেট বা পিঠে ব্যথা অনুভব করা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব করা মানেই কিডনিতে পাথরের লক্ষণ নয়, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্ষ নেয়া প্রয়োজন, কারন হতে পারে এটি মারাত্নক কোন রোগের লক্ষণ।

    কিছু সাধারন উপদেশ :-
    কিডনিতে পাথর হলেই অপারেশন করতে হয় এমন ধারনা ঠিক নয়। ছোট অবস্থায় ধরা পরলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব, কারন ছোট আকৃতির পাথর সাধারনত প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়।

    মনে রাখা প্রয়োজন, দৈনিক ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করলে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ উপযুক্ত পরিমানে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায় এবং কিডনির পাথরের ঝুঁকি এবং জটিলতা কমিয়ে আনে।

    কিডনিতে পাথর কেন হয় ?
    আমাদের প্রস্রাবে পানি, লবন ও খনিজ পদার্থের সঠিক ভারসাম্য বজায় না থাকলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। বিভিন্ন কারনে আমাদের প্রস্রাবের উপাদানের এই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যেমন-
    • প্রয়োজনের চেয়ে কম পরিমান পানি পান করা।
    • মাত্রাতিরিক্ত আমিষ/প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করা।
    • অতিরিক্ত খাবার লবন (সোডিয়াম সল্ট/টেবিল সল্ট) গ্রহন।
    • অতিরিক্ত অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন যেমন চকলেট।
    • শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।
    • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ অথবা বাতের ব্যথা কিংবা মূত্রাশয়ে প্রদাহের উপযুক্ত চিকিৎসা না করা।
    কিডনির পাথর সম্পর্কে সজাগ থাকুন, আপনার নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এই অজাচিত সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।

    কিডনিতে পাথর হলে কি করবেন?
    কিডনিতে পাথর হলে আপনি খুব সহজেই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এর জন্য অযথা কাড়ি কাড়ি টাকা পয়সা খরচ না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে চিকিত্সা নিন। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মধ্যমে আপনি খুব তাড়াতাড়িই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।
    ******** আধুনিক হোমিওপ্যাথি  *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
    ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Sunday, July 27, 2014

    কিডনি সুস্থ রাখার কার্যকরী কিছু উপায়

    আপনারা হয়ত অবগত আছেন মানুষের শরীরে এক নিরব ঘাতক হল Renal failure বা কিডনি ফেইলুর । আমরা সকলেই কমবেশি জানি এ রোগের ভোগান্তি কতটা নির্মম আর কষ্টকর হয়ে থাকে। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে সহজেই এ রোগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। যে কোন রোগ এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই হবে প্রতিটি সুস্থ মানুষের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। তাই বিষয় গুলি আমাদের সবারই জানে রাখা ভালো। কিভাবে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব সে সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হলো :

    কর্মঠ থাকুন :-
    আপনার শরীরকে কর্মঠ ও সতেজ রাখুন। এজন্য নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং করা বা সাঁতার কাটার মতো হাল্কা ব্যায়াম করুন। কর্মঠ ও সতেজ শরীরে কিডনি রোগ হবার ঝুঁকি খুব কম থাকে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন :-
    ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ৫০ জনেরই কিডনি রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকে। রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনি নষ্ট হবার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিয়মিত আপনার রক্তের সুগার পরীক্ষা করিয়ে দেখুন তা স্বাভাবিক মাত্রায় আছে কিনা।
    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন :-
     অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনি ফেইলুর হবার প্রধান কারণ। তাই এ রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কোন কারণে তা ১২৯/৮৯ মি. মি. এর বেশি হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং তদসংক্রান্ত উপদেশ মেনে চললেই সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    পরিমিত আহার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন :-
    পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কিডনি রোগ হবার ঝুঁকি কমে যায়। হোটেলের তেল-মশলা যুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে বিরত থাকুন। খাবারে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন। অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই সুস্থ থাকতে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসুন।

    ধূমপান পরিহার করুন :-
     ধ‍ূমপায়ীদের কিডনিতে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় শতকরা ৫০ গুণ বেশি। ধূমপানের কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে থাকে। ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পেতে শুরু করে।

    অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন :-
     অনেকেই অপ্রয়োজনে দোকান থেকে নানা ধরনের ওষুুধ কিনে সেবন করেন। এদের মধ্যে ব্যথার ওষুধ শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। সব ওষুধই কিডনির জন্য কমবেশি ক্ষতিকর, আর এর মধ্যে ব্যথার ওষুধ সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই যে কোন ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিন।

    নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করান :-
    কারো যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বেশি এবং পরিবারের কেউ কিডনি রোগে আক্রান্ত থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে তার কিডনি রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই এসব কারণ থাকলে অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাতে হবে।

    কিডনি ফেইলুর হয়ে গেলে ভাল করার কোন সুযোগ নেই অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সায়। ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব যদিও, সেটাও ততটা কার্যকরী না। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকরা খুব সফল ভাবেই এর ট্রিটমেন্ট দিয়ে ভালো করতে পারেন। তবে যে কোন রোগ এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই হবে প্রতিটি সুস্থ মানুষের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আমরা চাই না কেউ অসস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাক। ভাল থাকবেন।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Saturday, July 26, 2014

    নারীদের ঘন ঘন প্রস্রাবের সংক্রমণ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

    আমাদের অনেক নারীদের ক্ষেত্রে প্রীয়শই দেখা যায় তারা ঘন ঘন প্রস্রাবের সংক্রমণে ভোগেন। তারা যে অভিযোগটি করে থাকেন সেটি হলো, অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেলে  কিছু দিন ভালো থাকেন। তার পর কিছু দিন পর আবার মূত্রপথে সংক্রমণ দেখা দেয়। প্রায় ৮০ শতাংশ মহিলাই বার বার মূত্রপথে সংক্রমণের অভিযোগ করেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার মূত্রপথের সংক্রমণ ঘটার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে মূত্রপথের কোষের দেয়ালে এঁটে রাখার ক্ষমতা। এনআইএইচ’র গবেষণায় আরো দেখা গেছে, যেসব নারীদের বারবার মূত্রপথের সংক্রমণ হয়, তাদের এই সংক্রমণের জন্য রক্তের বিশেষ ধরণও দায়ী। এসব নারীরা যোনি ও মূত্রনালীতে ব্যাকটেরিয়া সহজে লেগে থাকে।
    গর্ভাবস্থায় মূত্রপথের সংক্রমণ :-
    অন্য নারীদের তুলনায় গর্ভবতীদের মূত্রপথে সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা খুব বেশি দেখা যায় না। তবে গর্ভবতী নারীদের মূত্রপথে সংক্রমণ হলে সেই সংক্রমণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের সংক্রমণ রোধে আক্রান- হন প্রায় দু-চার শতাংশ গর্ভবতী নারী। বিজ্ঞানীদের ধারণা, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন হয় বলে এবং মূত্রপথের অবস্থান সরে যায় বলে ব্যাকটেরিয়া সহজে বৃক্কনালী পথে কিডনিতে পৌঁছে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় প্রতি মাসে অন-ত: একবার প্রস্রাবের পরীক্ষা করে কোনো সংক্রমণ আছে কি না তা দেখা উচিত।

    কিডনি রোগ ও মূত্রপথের সংক্রমণ :-
    কিডনি রোগের প্রধান দু’টি কারণ হচ্ছে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ। পরিবারের কারো কিডনি রোগ হলে এ রোগে আক্রান- হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া নেফ্রাইটিস, ডায়রিয়া, পুড়ে যাওয়া, একাধিকবার মূত্রনালীর সংক্রমণ, মূত্রনালীতে কোনো প্রতিবন্ধকতা, পলিসিস্টিক কিডনি, টিউবারক্যুলোসিস বা যক্ষ্মা, হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া, দীর্ঘ দিন ব্যথার ওষুধ খাওয়া প্রভৃতি কারণে কিডনি রোগ হতে পারে। কিডনি রোগের উপসর্গ হলো-ঘন ঘন প্রস্রাব, রক্তস্বল্পতা, ক্লানি-বোধ করা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, হাত-পা ও চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, রক্তে ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত, ইউরিক অ্যাসিড ও প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, অল্প পরিশ্রমে বুক ধড়ফড় ও শ্বাসকষ্ট হওয়া, কোমরের পেছন দিকে ব্যথা করা ইত্যাদি।

    রোগের লক্ষণগুলো কী ?
    মূত্রপথের সংক্রমণের প্রত্যেকেরই রোগের উপসর্গ থাকে না। তবে বেশির ভাগ লোকের কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে। এসব উপসর্গের রয়েছে ঘনঘন প্রস্রাব করার তাড়া এবং প্রস্রাব করার সময় মূত্রথলি বা মূত্রনালী এলাকায় ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভব করা। মূত্রপথের সংক্রমণের অনেক রোগী অভিযোগ করেন, তাদের ঘনঘন প্রস্রাবের পরিবর্তে খুব সামান্য পরিমাণ প্রস্রাব হচ্ছে। প্রস্রাব দুধের মতো অথবা ঘোলা হতে পারে। এমনকি লালচে হতে পারে যদি প্রস্রাবে রক্ত থাকে। যদি জ্বর থাকে তাহলে বুঝতে হবে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়েছে। কিডনির অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে পিঠ ব্যথা অথবা পাঁজরের নিচে দু’পাশে ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি। শিশুদের ক্ষেত্রে মূত্রপথের সংক্রমণকে অধিকাংশ মা-বাবাই উপেক্ষা করেন। অথবা এটাকে অন্য সমস্যা বলে মনে করেন। যদি শিশু খিটখিটে হয়ে যায়, স্বাভাবিক ভাবে খেতে না চায়, দীর্ঘ দিন জ্বর থাকে, পাতলা পায়খানা হয় কিংবা স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। তাহলে বুঝতে হবে তার মূত্রপথের সংক্রমণ হয়েছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখাতে হবে। যদি শিশুর প্রস্রাবের ধরনে কোন পরিবর্তন লক্ষ করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখাবেন।

    হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা :-
    দরকারী ডাক্তারি পরীক্ষা করে এবং রোগীর সমস্থ লক্ষণ গুলো বুঝে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা দিলে খুব অল্প সময়েই নারীদের প্রস্রাবের সংক্রমণ সমূহ দূর করা যায়।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Thursday, July 17, 2014

    মূত্রমর্গের সংক্রামণ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

    কিডনি, মূত্রবাহিনী, মূত্রাশয় এবং মূত্রনালিকার দ্বারা মূত্রমর্গের সংগঠন হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামণকে মূত্রমর্গের সংক্রামণ বলে।
    মূত্রমর্গের সংক্রামণের লক্ষণ কী ?
    মূত্রমর্গের বিভিন্ন অংশের সংক্রামণের প্রভাবের লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই লক্ষণ সংক্রামণের মাত্রা অনুসারে কম বা বেশি দেখা যায়। অধিকাংশ রোগীদের মধ্যে দেকতে পাওয়া যায় লক্ষণগুলিঃ
    • প্রস্রাবের সময় জ্বলন বা যন্ত্রণা হওয়া।
    • বার বার প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা হওয়া।
    • জ্বর আসা।
    মূত্রাশয়ে সংক্রামণের লক্ষণ :-
    • তলপেটের যন্ত্রণা।
    • লাল রং-এর প্রস্রাব হয়া।
    কিডনিতে সংক্রামণের লক্ষণ :-
    • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।
    • কোমরে যন্ত্রণা হওয়া বা দুর্বল অনুভূত হওয়া।
    • যদি সঠিক চিকিৎসা না হয় তাহলে এই রোগ মৃত্যুর কারন পর্যন্ত হতে পারে।
    বার বার মূত্রমর্গে সংক্রামণ হওয়া বা সঠিক চিকিৎসার পরেও সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে না আসার কারনগুলি হলঃ
    • মহিলাদের মূত্রপলিকা ছোট হবার কারনে মূত্রাশয়ের কারনে সংক্রামণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
    • ডায়াবেটিসের কারনে রক্তে এবং সংক্রামণের মাত্রা বেশি থাকায়।
    “জ্বলন-এর সঙ্গে বারবার প্রস্রাব হওয়া মূত্রমর্গের সংক্রামণের লক্ষণ”
    মূত্রমর্গে সংক্রামণ বারবার হবার কারনের নির্ণয় কীভাবে করা হয়?

    প্রস্রাবে বারবার পুঁজের উপস্থিতি এবং সংক্রামণের চিকিৎসা ফলপ্রসূ না হবার কারনে নির্ণয় নিম্নলিখিত পরীক্ষা মাধ্যমে করা হয়ঃ
    • পেটের এক্স-রে এবং সোনোগ্রাফি।
    • ইন্ট্রাভেনাস পাইরোগ্রাফি।
    • মিকটিউরেটিং সস্টোইরেথ্রোগ্রাম।
    • প্রস্রাবে টি.বির জীবাণুর পরীক্ষা।
    • ইউরোলোজিস্ট দ্বারা বিশেষ প্রকার দূরবীনের সাহায্যে মূত্রনালিকা এবং মূত্রাশয়ের ভিতরের ভাগের পরীক্ষা।
    • স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা বা নির্ণয়।
    মূত্রমর্গের সংক্রামণের অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা :-
    ১. অধিক জলপানঃ প্রস্রাবের সংক্রামণের রোগীদের অধিক মাত্রায় জলপান করার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়। কিডনিতে সংক্রামণের কারনে কিছু রোগীর অত্যধিক বমি হয়, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে গ্লুকোজের বোতল চোরানোর প্রয়োজনও পড়তে পারে।

    ২. ওষুধ দ্বারা চিকিৎসাঃ মূত্রাশয়ের সংক্রামণের রোগীদের সাধারণত ক্লোটাইমেক্সোজোল, সেফালোস্পরিন ওষুধ করা চিকিৎসা করা হয়। এইসব সাধারণত সাত দিনের জন্য দেওয়া হয়। যেসব রোগীদের কিডনির সংক্রামণ খুবই গুরুতর হয়, তাদের শুরুতেই ইনজেকশন দ্বারা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

    “মূত্রমর্গের সংক্রামনে অধিক জল পান করা খুবই দরকার”

    প্রস্রাবের কালচারের রিপোর্টের সাহায্যে অধিক প্রভাবশালী ঔষধ বা ইনজেকশন নির্বাচন করা হয়। শারীরিক অবস্থা উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও এই চিকিৎসা ১৪ দিন পর্যন্ত চালু রাখা হয়। চিকিৎসার পরে পরীক্ষার মাধ্যমে, চিকিৎসাতে কি উন্নতি হয়েছে তা জানা যায়। ওষুধ পুরো হবার পরে, প্রস্রাবে পুঁজের অনুপুস্থিতি, সংক্রামণের উপর নিয়ন্ত্রণের নিদর্শন।

    মূত্রমর্গে যক্ষ্মা :-
    যক্ষ্মার প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পরে, তার মধ্যে ৪ থেকে ৮ শতাংশ কিডনির রোগীদের উপরেও প্রভাব পরে। মূত্রমর্গে বার বার সংক্রামণ হবার একটি কারন হল যক্ষ্মা।

    মূত্রমর্গে যক্ষ্মার লক্ষণ :-
    • এই রোগ সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
    • ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগীদের মধ্যে এই রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে অন্য রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সময় নির্ণয় হয়।
    • প্রস্রাব লাল হওয়া।
    • মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি যক্ষ্মার নিদর্শন দেখা যায়।
    “মূত্রমর্গের সংক্রামণের সফল চিকিৎসার জন্য, বার বার সংক্রামণের কারন জানা দরকার”

    মূত্রমর্গে যক্ষ্মার নির্ণয় :-
    ১. প্রস্রাবের পরীক্ষাঃ
    • এটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা প্রস্রাবে পুঁজ এবং রক্ত দেখা দেওয়া বা প্রস্রাব অ্যাসেডিক হওয়া।
    • বিশেষ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মার জীবাণু দেখা যায়।
    • প্রস্রাবের কালচার পরীক্ষাতে কোনো জীবাণু দেকতে না পাওয়া।
    ২. সোনোগ্রাপিঃ প্রাথমিক অবস্থা এই ধরনের পরীক্ষাতে কিছু ধরা পরড়ে না। অনেক সময় যক্ষ্মার ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে কিডনি ফুলেতে বা সংকুচিত হতে দেখা যায়।

    ৩. আই.ভি.পিঃ বিশেষ এই পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মার কারনে মূত্রবাহিনীর সংকোচন, কিডনির আকার পরিবর্তন বা মূত্রাশয়ের সংকোচন ইত্যাদি নির্ণয় হয়।

    মূত্রমর্গের যক্ষ্মার চিকিৎসা :-
    ১. ওষুধ :- মূত্রমর্গের যক্ষ্মাতে ফুসফুসের যক্ষ্মাতে ব্যবহৃত ওষুধই ব্যাবহার করা হয়। সাধারণত প্রথম দুমাসে চার প্রকারের ওষুধ এবং তার পরে তিন প্রকারের ওষুধ ব্যাবহার করা হয়।

    ২. অন্য চিকিৎসা :- মূত্রমর্গে যক্ষ্মার কারনে যদি মূত্রমর্গে অবরোধ হয়, তাহলে তার চিকিৎসা দূরবীন বা অপারেশন দ্বারা করা হয়। কোনও রোগীর যদি কিডনি বিকল হয়ে যায়, তাহলে তা অপারেশন দ্বারা বের করে দেওয়া হয়।

    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
    মূত্রমর্গের সংক্রামণসহ যেকোন প্রকার কিডনি রোগ নিমূলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের রয়েছে অসাধারণ সাফল্য। যেখানে সংক্রামণ খুব তীব্র আকার ধারণ করে রোগীর জীবন প্রায় দুর্বিসহ করে তুলে সেখানে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ এই রকম সংক্রামণ সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূলে কার্যকর ভুমিকা পালন করে। তার জন্য দরকার একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ এবং অরিজিনাল হোমিও মেডিসিন।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    পাথর রোগ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

    অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ হল পাথরের রোগের সমস্যা। পাথরের কারনে অসহ্য যন্ত্রণা, প্রস্রাবের সংক্রামণ এবং কিডনির ক্ষতি হাতে পারে। এই কারনে পাথরের ব্যাপারে এবং তা প্রতিরোধের ব্যাপারে জানা দরকার।
    পাথর রোগ কী ?
    • প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা অন্যান্য ক্ষার কণার একে অন্যের সাথে মিশে কিছু সময়ের মধ্যেই ধীরে ধীরে মূত্রমর্গে কঠিন পদার্থের সৃষ্টি হতে থাকে, যাকে পাথর নামে জানা যায়।
    • পাথর কত বড় হয়? দেকতে কেমন হয়? মূত্রমর্গের কোনও অংশে দেখা যায়?
    • মূত্রমর্গে হওয়া পাথর বিভিন্ন আকারের এবং লম্বায় বিভিন্ন ধরনের হয়। ইহা বালির দানার মতো ছোট বা গমের দানার মতো বড়ও হতে পারে। কিছু পাথর গোলা বা ডিমের আকারের এবং বাইরের অংশ চকচকে হয়। এই ধরনের পাথরের ক্ষেত্রে যন্ত্রণা কম হয় এবং ইহা স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিকরূপে প্রস্রাবের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।
    • কিছু পাথর মসৃণ হয় না। এক্ষেত্রে যন্ত্রণা একটু বেশি হয় এবং ইহা সহজে প্রস্রাবের সাথে সাথে বাইরে বেরোয় না।
    • পাথর মুখ্যত কিডনি, মূত্রবাহিনী এবং মূত্রাশয়ে দেখা যায়।
    • পাথর কেন কেবলমাত্র বিশেষ কিছু ব্যক্তির শরীরেই দেকতে পাওয়া যায়? পাথর হওয়ার মুখ্য কারণ কী?
    • বেশির ভাগ মানুষের শরীরে প্রস্রাবের উপস্থিতি কিছু বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের ক্ষার পদার্থের কণাকে একে অন্যের সাথে মিলতে দেয় না, যার ফলে পাথর হয় না।
    কিন্তু কিছু মানুষের মধ্যে নিম্নলিখিত কারনে পাথর হবার সম্ভাবনা থাকে-
    • জল কম পান করার অভ্যাস।
    • দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকা।
    • ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে।
    • বংশানুক্রমিক পাথর হবার পূর্ব ইতিহাস।
    • বার বার মূত্রমর্গের সংক্রামণ।
    • মূত্রমর্গের অবরোধ।
    • ভিটামিন সি বা ক্যালসিয়াম জাতীয় ওষুধ অধিক সেবন।
    • সিসটিনোসিস।
    পাথরের লক্ষণ :-
    • সাধারণত পাথরের সমস্যা ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ গুন বেশি দেখা যায়।
    • অনেক সময় পাথরের নির্ণয় সহজেই হয়ে যায়। এই সব রোগীদের মধ্যে রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। একে সাইলেন্ট স্টোন বলে।
    • পিঠ এবং পেটের অসহ্য যন্ত্রণা।
    • বমি বমি ভাব।
    • প্রস্রাবের সময়ে জ্বলন।
    • প্রস্রাবে রক্ত আসা।
    • প্রস্রাবে বার বার সংক্রামণ হওয়া।
    • হঠাৎ করে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
    পাথরের যন্ত্রণার বিশিষ্ট কারণ :-
    • পাথরের যন্ত্রণা, পাথরের স্থান, আকার, প্রকার এবং দৈর্ঘ্য প্রস্থের উপর নির্ভর করে।
    • পাথরের যন্ত্রণা হঠাৎ করে শুরু হয়। এই যন্ত্রণা খুবই অসহ্য হয়।
    • কিডনির স্টোনের যন্ত্রণা কোমর থেকে শুরু হয়ে তলপেট পর্যন্ত যায়।
    • মূত্রাশয়ের পাথরের যন্ত্রণা তলপেট এবং প্রস্রাবের জায়গাতে হয়।
    • এই যন্ত্রণা চলাফেরা করলে বা খারাপ রাস্তাতে গাড়ি চড়ালে আরও বাড়তে থাকে।
    পাথরের প্রতিরোধ :-
    একবার পাথর প্রাকৃতিকরূপে বা চিকিৎসার মাধ্যমে বের করে দেবার পরে কি পুরোপুরি এই পাথরের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?
    না, একবার যে ব্যক্তির পাথর হয়, তার পুনরায় হবার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ থাকে। এই কারনে প্রত্যেক রোগীর সজাগ থাকা প্রয়োজন।

    পুনরায় যাতে পাথর না হয় তার জন্য কী কী সাবধানতা অবলম্ভন করা দরকার?
    পাথরের রোগে খাদ্যের উপর নিয়ন্ত্রণের একটি বিশেষ গুরুত্ব আছে। পুনরায় যাতে পাথর না হর তার জন্য নিম্নলিখিত সাবধানতাগুলি অবলম্ভন করা দরকার-

    ১. অধিক জলপান করা :-
    • ৩ লিটার বা ১২ থেকে ১৪ গ্লাস এর বেশি জল বা তরল পদার্থ গ্রহণ করা দরকার। এটি পাথর তৈরি না হবার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
    • পাথরকে প্রতিরোধ করার জন্য দৈনিক জলপানের পুরো মাত্রা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
    • পাথরকে প্রতিরোধ করার জন্য কতটা জলপান করা হয়েছে তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কতটা প্রস্রাব করা হয়েছে। প্রতিদিন ২ লিটারের বেশি যাতে প্রস্রাব হয় সেই পরিমাণে জলপান করা দরকার।
    • পুরো দিনে কোনও না কোনও একটি সময়ে প্রস্রাব কম এবং গাঢ় হলুদ রং হয়ে থাকে। এই সময়ে প্রস্রাবের মাত্রা বেশি থাকার কারনে পাথর সৃষ্টি হবার প্রক্রিয়া খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যায়, যা প্রতিরোধ করা খুব দরকার। পাথরকে সৃষ্টি হবার থেকে প্রতিরোধ করার জন্য বিনা ভুলে-
    • খাবার পরে তিন ঘণ্টার মধ্যে
    • শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করার পরে
    • রাতে শোবার পূর্বে এবং মধ্য রাতে একবার উঠে দুই গ্লাস বা তার বেশি জল পান করা দরকার
    এই ভাবে দিনের যে সময়ে পাথর সৃষ্টি হবার আশঙ্কা সব থেকে বেশি হয়ে থাকে, সেই সময়ে অধিক মাত্রায় জল এবং অন্যান্য পানীয় গ্রহণ করলে প্রস্রাব পরিষ্কার এবং অধিক মাত্রায় হয়, যার ফলে পাথর সৃষ্টিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    ২. আহার নিয়ন্ত্রণ :-
    পাথরের প্রকারের উপর নির্ভর করে, খাদ্য পানীয়র উপর পুরোপুরি সতর্কতা এবং নিয়ন্ত্রণ রাখলে পাথরকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
    • খাবারে লবণ কম মাত্রায় গ্রহন করা দরকার এবং নোনতা মুখরোচক খাবার, পাঁপড়, আচার ইত্যাদি অধিক লবণযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। পাথর প্রতিরোধ করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ রোগী এই সূচনার ব্যাপারে অবহিত থাকে না।
    • লেবুর রস, ডাবের জল, মুসাম্বির রস, আনারসের রস, গাজর, করলা, বীজহীন টমেটো ইত্যাদি সেবন পাথর প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
    • ভিটামিন সি অধিক মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত নয়।
    • শাক-সবজির মধ্যেঃ টমেটো, বেগুণ, শসা ইত্যাদি।
    • ফলের মধ্যেঃ সবেদা, আমলা, আঙুর, কাজু ইত্যাদি।
    • পানীয়র মধ্যেঃ অত্যধিক গরম চা, আঙুরের রস ইত্যাদি।
    ৩. ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা :-
    • যেসব রোগীর ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, সেসব রোগীকে থায়াজাইডস এবং সাইট্রেটযুক্ত ওষুধ দেওয়া হয়।
    • ইউরিক অ্যাসিডের পাথরের রোগীদের অ্যালোপুরিনল এবং প্রস্রবের ক্ষারযুক্ত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    ৪. নিয়মিত পরীক্ষা :-
    বেরিয়ে যাবার বা বের করে দেবার পরে পুনরায় পাথর সৃষ্টির আশঙ্কা অধিকাংশ রোগীরই থাকে বা কিছু রোগীর পাথর থাকা অবস্থাতেও পাথরের কোনও লক্ষণ থাকে না। এই কারনে কোনও অসুবিধা না হলেও প্রত্যেক বছরে ডাক্তারের পরামর্শমত সোনোগ্রাফি করানো দরকার। সোনোগ্রাফি পরীক্ষাতে পাথর না হবার প্রমান অথবা প্রাথমিক অবস্থাতে নির্ণয় সম্ভব।

    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
    লক্ষণ দেখে অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা পাথর রোগ চিকিৎসায় যন্ত্রনাদায়ক সব উপসর্গ গুলি নির্মূলে সবার আগে সচেষ্ঠ হন কারণ এ ধরনের রোগে রোগী প্রচন্ড যন্ত্রণার ভুগে থাকে। কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করে যে কোন আকৃতির পাথরকে গুড়ো করে প্রস্রাবের সাথে বের করতে হোমিওপ্যাথিই অধিক সাফল্য দেখিয়েছে এখন পর্যন্ত। যেখানে কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার লেশ মাত্র নেই।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Wednesday, July 16, 2014

    প্রসাবে রক্ত যাওয়া বা হেমাচুরিয়া এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা।

    হেমাচুরিয়া বলতে প্রসাবে রক্ত যাওয়াকে বোঝায়। এই রক্ত যাবার কারনে প্রসাবের রঙ ঘোলাটে দেখা যায় এবং কখনো কখনো তা গোলাপি বর্ণ ধারন করে। একজন সুস্থ্য মানুষের প্রসাবের সাথে কোনো রক্ত বা রক্ত কনিকা যাবেনা এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য পরিনত সুস্থ্য মেয়ে / মহিলাদের প্রসাবে শুধুমাত্র মাসিক ঋতু চক্রের সময় কিছু রক্ত কণিকা পাওয়া যাওয়াটা স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয়।

    হেমাচুরিয়া অনেক কারনে হতে পারে তবে প্রধানত এটা কিডনির এবং মুত্রনালির নানাবিধ সমস্যার কারনেই হয়ে থাকে। কিডনি এবং মুত্রথলিতে ইনফেকশন, পাথর, টিউমার, ক্যান্সার বা টিবি হলে প্রসাবে রক্তকনিকা পাওয়া যেতে পারে,এছাড়া কিডনি কোনো কারনে আঘাত প্রাপ্ত হলে বা এ,জি,এন(AGN), পায়োলোনেফ্রাইটিস ইত্যাদি হলেও প্রসাবে রক্ত কনিকা পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া ইউরেটার(Ureter) এবং ইউরেথ্রায় (Urethra) পাথর, টিউমার, ইনফ্লামেশন হলে এবং প্রষ্টেট গ্রন্থির ঘা অথবা ক্যান্সার হলেও হেমাচুরিয়া হতে পারে। কিডনির সমস্যার বাইরে রক্তজমাট বাধার সমস্যা (Bleeding disorder), এন্ডোকার্ডাইটিস, অস্বাভাবিক উচ্চ রক্ত চাপ (Malignant hypertension) এমনকি কিছু অসুধ সেবনের কারনেও হেমাচুরিয়া হওয়া সম্ভব।
    কিডনি বিশেষজ্ঞগণ হেমাচুরিয়ার জন্য প্রসাব ও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, কিডনির বিভিন্ন প্রকার এক্সরে(Plain, Contrast), আলট্রাসনোগ্রাম, সিস্টোস্কোপি (Cystoscopy), বায়োপসি ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়ে রোগের কারন নির্নয় করেন এবং চিকিৎসা করেন। হেমাচুরিয়ার চিকিৎসা পুরোপুরি এর কারন এর উপর নির্ভর করে।

    হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা:
    প্রসাবে রক্ত যাওয়া একটি আশঙ্কাজনক উপসর্গ - তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। হোমিওপ্যাথি এ সকল জটিল অবস্থা তাত্ক্ষণিকভাবে হ্যান্ডেল করতে বরাবরই উস্তাদ, সেটা আপনি বিশ্বাস করেন আর নাই বা করেন। একজন ভালো হোমিওপ্যাথ খুব সফলতার সাথেই এই রকম আশঙ্কাজনক উপসর্গ নিরাময় করে থাকেন।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    কিডনি পাথর বা কিডনি স্টোন এর সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিত্‍সা

    কিডনি আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান অংশ। বেঁচে থাকার জন্য যেমন মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র জরুরি, ঠিক তেমনি জরুরি হলো কিডনি। কিডনি না থাকলে আমাদের জীবনধারণ অসম্ভব! সাধারণত পেটের অভ্যন্তরে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়ার উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি কিডনি আমাদের শরীরে থাকে। কিডনিগুলো দেখতে বিনের মতো।

    কিডনির রোগগুলোর মধ্যে স্টোন বা পাথর হওয়া অন্যতম। কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নির্ভর করে স্টোন কিডনির কোথায় এবং কীভাবে আছে। স্টোনের আকার-আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোনো ব্যথা-বেদনা ছাড়াই দীর্ঘদিন এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত শরীরে নিরীহভাবে থাকতে পারে! স্টোনটি বড় হলে বা বড় হতে শুরু করলে অথবা এর আকার এবড়োখেবড়ো হলে এটি কিডনি ভেতরে ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং ব্যথা অনুভূত হয়। এ ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে তলপেটে এমনকি পুরুষদের অণ্ডকোষেও! 

    রোগের কারণ :
    • কিডনিস্টোন তৈরির প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু ব্যাপার কিডনিতে স্টোন তৈরির কারণ বলে বিবেচিত হয়। যেমন -
    • বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া এবং এর যথোপযুক্ত চিকিত্‍সা না করা।
    • শরীরে পানির স্বল্পতা।
    • শরীরে ক্যালসিয়ামের আধিক্য।
    • অধিক পরিমাণে দুধ, পনির ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করা।
    উপসর্গ 
    • যেহেতু কিডনির ভেতরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তাই সেই ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে শুরু করে এবং প্রসাবের সাথে রক্ত বেরিয়ে আসে। তাই অধিকাংশ কিডনিস্টোন-রোগীদের বেলায় প্রধান উপসর্গ হলো -
    • রক্তবর্ণের প্রসাব।
    • বমি বমি ভাব। অনেক সময় বমিও হতে পারে।
    • কিডনির অবস্থানে ব্যথা। এই ব্যথা তীব্র তবে সাধারণত খুব বেশি স্থায়ী হয় না। ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটে 
    হোমিওপ্যাথিক চিকিত্‍সা : 
    কিডনির অবস্থানে ব্যথা এবং রক্তবর্ণের প্রসাব হলে ডাক্তাররা সাধারণত দুটো সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেন। একটি হলো কিডনির ইনফেকশন, অন্যটি কিডনির পাথর। তাই কিডনি এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাম এবং প্রসাবের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়। 

    অনেকেই হয়তো এই আধুনিক যুগেও কিডনি রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্‍সার কথা শুনে নাক সিটকান। আপনাদের অবগতির জন্য বলছি অনেক ডাক্তারদের কাছ থেকে অনেকদিন পর্যন্ত চিকিত্‍সা নিয়া অবশেষে কোনো প্রকার কুল কিনারা করতে না পেরে ডাক্তাররা যখন অপারাশনের কথা বলেন তখন রোগীরা আমাদের শরণাপন্ন হন। আর ঐ অবস্থা থেকেও হোমিওপ্যাথি রোগীদের পর্যায়ক্রমে পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে নিয়ে যায় আর এবং রোগ নির্মূল হয়ে যায়।

    পাথর না হওয়ার জন্য কিছু সতর্কতা:
    কিডনিতে একবার পাথর হলে তা বার বার হতে পারে। তাই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এর পুনরাবৃত্তির হার কমিয়ে আনা যায়। সাধারণত যেসব এলাকায় গরম বেশি সেসব জায়গায় লোকদের মধ্যে কিডনি পাথর বেশি দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে—
    • প্রধানত অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে শরীর বৃত্তির কার্যকারণে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এসব ক্ষেত্রে পানি বেশি খেতে হবে। পানি খাবার পরিমাণ খাদ্য গ্রহণের ৩ ঘণ্টার মধ্যে বেশি হতে হবে, যখন প্রচুর পরিশ্রম করা হয় তখনও পানি বেশি খেতে হবে। পানির পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাবের পরিমাণ ৩ লিটার বা তার বেশি হয়। 
    • আবার যাদের কিডনিতে পাথর হয় তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে খাদ্যাভাস একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে। 
    • প্রোটিন কিডনি দিয়ে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক এসিডের নিঃসরণ বাড়ায়। এই এসিড কিডনি থেকে ক্যালসিয়াম অ্যাবজরসন কমায়। এসব বিপাক ক্রিয়ার ফলে কিডনিতে পাথরের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
    • যাদের কিডনিতে বার বার পাথর হয় তাদের দৈনিক প্রোটিন গ্রহণ বেশি না করা শ্রেয়।
    • ফাইবার যুক্ত খাদ্য যেমন—গম, সয়া, চালের ভূষি স্টোন রিকারেন্স কমায়। যেসব খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট বেশি আছে যেমন—দুধ, পনির ইত্যাদি রিকারেন্ট স্টোনের রোগীদের কম খাওয়া উচিত। 
    • অতি লবণযুক্ত খাদ্য কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়
    • এছাড়াও যাদের কিডনিতে বারবার পাথর হয় তাদের পাথর এনালাইসিস করে স্পেসিফিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত