Showing posts with label কিডনী ও মূত্রসংবহনতন্ত্র. Show all posts
Showing posts with label কিডনী ও মূত্রসংবহনতন্ত্র. Show all posts

Wednesday, February 7, 2018

কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে লেবুর রস - জানেন কি ?

কিডনির ভিতরে ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের মত পদার্থ তৈরি হলে তাকে কিডনি পাথর বলা হয়। এই ক্রিস্টালের মত পদার্থ গুলো একত্রিত হয় এবং বৃদ্ধি পেয়ে পাথর তৈরি হয়। কিডনির ভিতরের এই পাথর গুলো নীচের দিকে অর্থাৎ মূত্র নালীর মাধ্যমে মূত্র থলিতে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাথর যখন সংকীর্ণ নালীর মধ্য দিয়ে যায় তখন প্রচণ্ড ব্যাথা হয় এবং কখনো কখনো নালীটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। চার ধরণের কিডনি স্টোন হতে পারে। এক প্রকার কিডনি পাথর বংশানুক্রমে হয়। অন্য তিন প্রকার কিডনি স্টোন যা ৮০% হয় ক্যালসিয়াম ভিত্তিক।

গত ৩০ বছরে কিডনি পাথরের সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে চরমে। কিন্তু কেন সেটা অজানাই রয়ে গেছে। কিছু গবেষক মনে করেন যে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এই সমস্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হতে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করেন সমস্যা নির্ণয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেও হতে পারে। কারণ যাই হোকনা কেন, কিছু উপায়ে আপনি কিডনি পাথর প্রতিরোধ করতে পারেন এবং প্রাকৃতিক ভাবে এই পাথর গলানো ও সম্ভব।
কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে লেবুর রস
সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মুসুম্বি লেবু বা যে কোনও লেবু জাতীয় ফলের রস কিডনি স্টোন হওয়া থেকে আমাদের শরীরকে প্রতিরোধ করে।

লেবুর রসে hydroxycitrate (HCA) থাকে, যা আমাদের শরীরের ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। এই ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টালের কারণেই প্রধাণত আমাদের কিডনিতে পাথর হয়।

ইউনিভার্সিটি অফ হাউজটনের অধ্যাপক জেফ্রি রিমার জানিয়েছেন, মিনারেল জমে শক্ত হয়ে আমাদের কিডনিতে জমে যায়। একেই আমরা কিডনির পাথর বলে থাকি। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবিটিস, ওবেসিটি থেকে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যে কোনও লেবুর রস এই জমাট বাঁধা ক্যালসিয়াম গলিয়ে দিতে সাহায্য করে।

কিডনি ভালো রাখতে আরো যা যা করতে পারেন 

যদি আপনার পরিবারের কারো কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে তাহলে আপনার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একবার যাদের কিডনি পাথর হয়েছে তাদের পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাদের দীর্ঘ দিনের কিডনি রোগ আছে তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই কিডনিতে পাথর হতে পারে। কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ পানিশূন্যতা। এবার তাহলে জেনে নেই কিডনি পাথর প্রতিকারের উপায় গুলো সম্পর্কে।

১। প্রচুর পানি পান করুন:- আপনার কোন প্রকারের কিডনি পাথর হয়েছে সেটা কোন ব্যাপার নয়। যদি কোন ব্যাথা না হয় তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দিবেন। বেশি করে পানি পান করলে কিডনি পাথর বাহির হয়ে যাবে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার ইউরিন ক্লিয়ার হয়, কারণ স্বচ্ছ প্রস্রাব দেখে বুঝা যায় যে, আপনার শরীর হাইড্রেটেড আছে।

২। আপেল সাইডার ভিনেগার ও অলিভ ওয়েল:- এই উপাদান গুলো আপনার ঘরেই পাওয়া যাবে এবং কিডনি পাথর অপসারণের জন্য খুবই কার্যকরী। লেবুর রস ও অলিভ ওয়েল এর মিশ্রণ পেট ব্যাথার উপসর্গ কমাতে পারে। এই মিশ্রণটি খাওয়ার পরে ১২ আউন্স পানি পান করতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ০.৫ আউন্স লেবুর রস ও ১২ আউন্স পানি মিশ্রিত করুন। পান করার পূর্বে মিশ্রণটির মধ্যে ১ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশান। ব্যাথা কমার আগ পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় মিশ্রণ দুটি চক্রাকারে পান করুন।

৩। ডালিমের রস:- ডালিমের অপরিমেয় স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আলাদা ভাবে ডালিমের জুস ও এর বীজ কিডনি পাথরের জন্য শুদ্ধ প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা ডালিমের এসারবিক ও তিক্ততার জন্যই একে ব্যবহারের কথা বলেন। ভালো ফল পাওয়ার জন্য অরগানিক ডালিম বা তাজা ডালিমের জুস পান করুন।

৪। তরমুজ:- অন্য সবজীর চেয়ে তরমুজ পটাশিয়ামে ভরপুর থাকে। এবং এতে প্রচুর পানি থাকে বলে পানিশূন্যতা রোধ করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে ডাক্তার ও পুষ্টিবিদগণ তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন কারণ তরমুজ মূত্রবর্ধক এবং কিডনি পাথরের প্রতিকার করে।

৫। আঙ্গুর:- কিডনি পাথরের সবচেয়ে ভালো হোম থেরাপি হিসেবে গণ্য করা হয় আঙ্গুরকে। আঙ্গুর মূত্র বর্ধক এবং এতেও পটাশিয়াম থাকে পর্যাপ্ত পরিমানে। এতে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম ক্লোরাইড ও অ্যালবুমিন থাকে যা কিডনি সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও ক্যাফেইন, চিনি ও অ্যালকোহল মুক্ত পানীয় যেমন- আদা চা, তুলসি চা, ফলের রস, গ্রিনটি পান করুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি কিডনি পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। ডাক্তার ও পুষ্টিবিদগণ স্বাস্থ্যবান কিডনির জন্য ‘কিডনি বিন’ বা ‘শিমের বীচি’ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এনার্জি ড্রিংক ও সোডা খাওয়া বাদ দিন। কিডনি পাথর অপসারণ হওয়া পর্যন্ত ক্যালসিয়াম অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বেরি জাতীয় ফল (স্ট্রবেরি), ইনস্ট্যান্ট কফি, চকলেট ও গাড় সবুজ শাক সবজি খাওয়া বাদ দিতে হবে।
বিস্তারিত

Sunday, December 31, 2017

অল্প খরচে কিডনির পাথর গলে বেরিয়ে যাবে এই চিকিৎসায়

সার্জারি ছাড়া ছাড়াই অতি সহজে কিডনির পাথর পরিপূর্ণভাবে দূর করার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। এর আগে আসুন জেনে কি কিডনি পাথর সম্পর্কে বিস্তারিত - কিডনির যেসব রোগ বের করা গেছে তার মধ্যে পাথর একটি পুরনো রোগ। পাথরগুলো কেবল কিডনিতে নয়, এর বিভিন্ন অংশে হতে পারে। কিডনিতে হতে পারে। কিডনির ভেতর থেকে বের হওয়া বৃক্ক নালীতে হতে পারে, প্রস্রাবের থলেতে হতে পারে এবং থলের থেকে বের হয়ে অনেক সময় পাথর মূত্রনালিতে আটকা পড়ে।
পাথর কেন হয় এর উত্তর দেওয়া মুশকিল। কেননা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন অনেক ক্ষেত্রে কারণ জানাই যায় না। তবে এটা জানা গেছে যে প্রত্যেকের দেহে পাথর যাতে না হয় এমন কিছু নিরোধক পদার্থ রয়েছে। সেই উপাদানগুলো যদি কম থাকে সেসব ব্যক্তির পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি।
কিডনি মানুষের শরীরের পিছন দিকে মেরুদন্ডের কাছে সীমের বিচির আকৃতির দু’টি অঙ্গ। কিডনির সাথে মূত্রথলির সংযোগকারী নালী রয়েছে যাকে ইউরেটার বা কিডনিনালী বলে। এই কিডনিনালী ২৫ সেঃমিঃ-এর মত লম্বা। এর তিনটি জায়গায় একটু চাপা রয়েছে। প্রথমটি হল কিডনির পেলভিসের সাথে ইউরেটারের সংযোগ স্থল, দ্বিতীয়টি যখন পেলভিক ব্রীজ ক্রস করে এবং তৃতীয়টি যখন মূত্রনালী প্রস্রাবের থলিতে প্রবেশ করে। কিডনি থেকে যখন পাথর কিডনি নালীতে নেমে আসে তখন এই জায়গাগুলোতে পাথর আটকানোর সম্ভবনা থাকে।
অল্প খরচে কিডনির পাথর গলে বেরিয়ে যাবে এই চিকিৎসায়
এখানে উল্লেক্ষ্য যে, মূত্রনালীর পাথর মূত্রনালীতে উত্পন্ন হয় না এটি কিডনিতে উত্পন্ন হয়ে কিডনি নালীর দিকে নেমে আসে। কিডনি নালীতে নেমে আসার সময় এটি কিডনি নালীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে কিডনির ভিতর প্রস্রাব জমে কিডনি আকারে বড় হতে পারে যাকে বলা হয় হাইড্রোনেফ্রোসিস।
দীর্ঘদিন এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে। কিডনির পাথর ইউরেটারে নেমে আসলে দেহের পিছনে বক্ষ খাঁচার নীচে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা ক্রমশ নীচের দিকে যেমন তলপেট বা উরুর দিকে অনুভূত হতে পারে। ব্যথা ক্রমশ তীব্র হতে থাকে এবং আবার কমে আসে, এই ভাবে পুনঃ পৌণিক ভাবে ব্যথা চলতে থাকে। প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাব রক্তবর্ণ, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। কখনও কখনও কিছুক্ষণ পর পর প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। যদি সংক্রমণ থাকে তবে বমি বমি ভাব, কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসতে পারে। ইউরেটারে পাথরের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যথার তীব্রতা ও অবস্থান পরিবর্তন হয়।
কিডনি পাথরের ঝুকির মধ্যে রয়েছে পারিবারিক ইতিহাস। পরিবারের একজনের পাথুরে রোগ হলে অন্যদের হবার সম্ভাবনা বেশী। বয়স্ক অর্থাত্ যাদের বয়স ৪০ বত্সরের বেশী তাদের মধ্যে এই রোগ বেশী দেখা যায়। তবে অল্প বয়স্কদের মধ্যেও এই রোগ দেখা যায়। মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা এই রোগে আক্রান্ত বেশী হয়ে থাকেন। যারা গরম আবহাওয়াতে বসবাস করেন এবং পানি কম খান তাদের পানিশূণ্যতা দেখা দেয়। এই পানি শূণ্যতা কিডনিতে পাথর রোগের প্রকোপ বাড়ায়। কিছু কিছু খাদ্য দ্রব্য যেমন অতিরিক্ত প্রোটিন, চিনি ও লবণ কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। মোটা মানুষের ক্ষেত্রে এই পাথুরে রোগের প্রকোপ বেশী দেখা দেয়। কিছু কিছু রোগ যেমন গ্যাষ্ট্রিক, বাইপাস সার্জারী, ইনফ্লামেটরি বাউল ডিজিস, ক্রণিক ডায়রিয়া, হাইপার প্যারাথাইরয়েড, মূত্রনালীর সংক্রমণ ইত্যাদি কিডনি পাথর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

সার্জারি বিহীন কার্যকর চিকিৎসা নিন

চিকিত্সার ক্ষেত্রে মূত্রনালীতে পাথরের অবস্থান, আকার ও কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা বিবেচ্য। আর এর একমাত্র নিরাপদ চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। হয়তো অনেকেরই বিশ্বাস করতে কিছুটা কষ্ট হবে।
আপনার জানা দরকার - কিডনির পাথরকে গুঁড়ো করে প্রস্রাবের সাথে বের করার একমাত্র নিরাপদ চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি আর এটা এতটাই নিরাপদ যে কোনো প্রকার ব্যথা-বেদনা তো দূরে থাক রোগী টেরই পায় না কিভাবে সে ভালো হয়ে গেলো। আর চিকিৎসা খরচ এলোপ্যাথি থেকে বহু গুন্ কম।  
তাই এইসমস্যায় দুশচিন্তাগ্রস্থ না হলে আজই রেজিস্টার্ড একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রপার চিকিৎসা নিন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন- শুভ কামনা আপনার জন্য।
বিস্তারিত

Saturday, December 30, 2017

জেনে নিন, কি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে ?

একজন মানুষের পানি কতটুকু খেতে হবে, তা নির্ভর করে তার কাজের ধরন, দেহের আকার, পরিবেশ, আবহাওয়া ইত্যাদির ওপর। পানির চাহিদা বোঝার জন্য মস্তিষ্কে আছে পিপাসাকেন্দ্র, যা ঠিক করে দেয় কখন কতটুকু পানি পান করতে হবে। তাই মস্তিষ্ক যতক্ষণ কাজ করছে, ততক্ষণ পানির অভাবে জটিলতা সৃষ্টির অবকাশ নেই।

পানি বেশি খেলেই যে কিডনি ভালো রাখা সম্ভব, তাও পুরোপুরি ঠিক নয়; যদিও পর্যাপ্ত পানি পান মূত্রের ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখে এবং সংক্রমণ রোধ করে। কিন্তু কিডনি খারাপ হওয়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিছু ইমিউন রোগ, যা পানি খেয়ে রোধ করা সম্ভব নয়।

প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।
জেনে নিন, কি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে ?
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত।

ভীতিকর কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা এবং এর সমাধান করতে পারা কিডনির জন্য খুবই উপকারী। কারণ, এই ধরনের কাজ মানসিক চাপকে দূর করে এক ধরনের প্রশান্তি দেয়, যা কিডনিকে শক্তিশালী করতে ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কিডনির সঙ্গে শরীরের নিচের অংশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ফলে দেহের পশ্চাৎদেশ ও পায়ের মাংসপেশী সমৃদ্ধ হয়। আর এই সমৃদ্ধ মাংসপেশী কিডনিকে আরও বেশি শক্তিশালী করে।

কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়

মানুষের শরীরে দুটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর অনেক মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসাও বেশ ব্যয়বহুল। তাই আগে থেকেই কিডনির যত্ন নেয়া উচিত। জেনে নিন কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন:- প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

লবণ কম খান:- খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।

অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন:- গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দুর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রাণিজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন:- রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন:- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান:- কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খেলে আপনার অজান্তেই কিডনির বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন।

প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি খাবেন না:- মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

কোমল পানীয় ত্যাগ করুন:- অনেকেই পানির বদলে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকেন। এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং যখনই তৃষ্ণা পায় পানি খেয়ে নিন।

ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন:- ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি একপর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।

কিডনির পরীক্ষা করান:- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত
বিস্তারিত

Sunday, December 7, 2014

কোল্ডড্রিঙ্ক বাড়িয়ে দেয় কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা

আপনি যদি অতিরিক্ত কোল্ডড্রিঙ্ক প্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে আজই সাবধান হোন।  গরমের হাত থেকে বাঁচতে অথবা নেহাতই শখে কোল্ডড্রিংক আপনার রোজকার ডায়েটের অবিচ্ছেদ্দ্য অঙ্গ কোল্ডড্রিংক? তাহলে এবার একটু সাবধান হন। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ্যে এসেছে কোল্ডড্রিংক (যে কোনও সফট ড্রিঙ্ক) আপনার কিডনির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনিও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন দিনে দু`বোতল কোল্ডড্রিঙ্ক প্রোটিনিউরিয়ার (মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রোটিনের নির্গমন) কারণ হয়। প্রোটিনিউরিয়া কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার নির্দেশক।
কোল্ডড্রিঙ্ক বাড়িয়ে দেয় কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা
ওহেই ইয়ামোতোর নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল তিন ধাপে স্বাভাবিক কিডনি ক্ষমতাযুক্ত ৩৫৭৯জনকে, ৩০৫৫ জনকে ও ১৩৪২ জনকে পর্যায়ক্রমে দিনে শূন্য, এক, একাধিকবার কোল্ডড্রিঙ্ক খাইয়ে দেখেছেন প্রথম ক্ষেত্রে ৮.৪%, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৮.৯% ও তৃতীয় ক্ষেত্রে ১০.৭% প্রোটিনিউরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় তিন বছর ব্যাপী এই পরীক্ষাটি চলেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কোল্ডড্রিংকে মিষ্টি স্বাদ তৈরি করার জন্য যে পরিমাণ ফ্রুকটোস সিরাপ ব্যবহার করা হয় তা কিডনি বিকল করতে যথেষ্ট। কিডনির কোষ গুলি অতিরিক্ত নুন পুনঃশোষণ করে। এছাড়া এর ফলে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, হাইপার টেনশনও ব্যপক হারে বৃদ্ধি পায়।
বিস্তারিত

Monday, November 10, 2014

মূত্রনাশ বিকার বা ইউরিমিয়ায় (Uraemia) হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

মূত্রগ্রন্থি দ্বারা যে সকল দূষিত পদার্থ সুস্থাবস্থায় শরীর হতে বের হয়ে থাকে তা যদি মূত্রের সঙ্গে নির্গত না হয়ে রক্তের মধ্যে সঞ্চালিত হয় তবে ইহাকে মূত্রনাশ বিকার বা ইউরিমিয়া বলা হয়। ইহাতে প্রস্রাব বা মূত্ররোধ এবং রক্ত দুষ্টির কতগুলো উপসর্গ ঘটে। এই উপসর্গগুলি ধীরে ধীরে অথবা হঠাৎ আবির্ভূত হতে পারে এবং রোগীকে সংকটজনক অবস্থায় ফেলতে পারে। তাই রোগের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের শ্মরনাপন্ন হওয়া উচিত।
মূত্রনাশ বিকার বা ইউরিমিয়ায় (Uraemia) হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
এই জাতীয় রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কতগুলো বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন - মূত্ররোধ, মূত্র সল্পতা, শোথ, বমন, বমন ইচ্ছা, ভয়ংকর মাথার যন্ত্রণা, মাথা ঘোরা, প্রবল আক্ষেপ আবার কখনো বা প্রলাপসহ আচ্ছন্নভাব অচেতন নিদ্রা অর্থাৎ কমা দেখা দেয়। তাই সকল লক্ষণের সাথে শ্বাস কস্ট, নিঃশ্বাসের সঙ্গে হিস হিস শব্দ, শ্বাসে এমোনিয়ার মত গন্ধ প্রভৃতি লক্ষণও বর্তমান থাকে।

কোন কোন ক্ষেত্রে এই রোগের সঙ্গে পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ থাকতে পারে। বলতে গেলে এটি অতি ভয়ঙ্কর প্রকৃতির রোগ বিশেষ। রোগীর মুখমন্ডল মলিন এবং কমল দেখায়। নাড়ী দ্রুত চলতে থাকে। শরীরের উষ্ণতা প্রথমে বর্ধিত হয় পরে ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়েও কমে যায়। অনেক সময় এটি বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাই যথাসময়ে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নেয়া জরুরি।
বিস্তারিত

Tuesday, October 21, 2014

মূত্রনালীর শোথ ঘা - কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিত্সা

মূত্রনালীর শোথ ঘা (Urinary Fistula) :- সিফিলিস বা গনোরিয়া রোগের কারণে অনেক সময় মূত্রনালীর প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে স্ফোটকের সৃষ্টি হয় এবং ইহাতে পুঁজ উত্পন্ন হয়। এক সময় ইহা ফেটে যায় এবং সেখানে ঘায়ের সৃষ্টি করে। এই জাতীয় ঘা বা ক্ষতকে ইউনারি ফিস্টুলা বলা হয়। এর ফলে মূত্রনালীর ভেতরে জ্বালাপোড়া এবং বেদনা প্রকাশ পায়।

এই সকল ঘা বা ক্ষত সাধারণত সহজে শুকাতে চায় না এবং এ জাতীয় ক্ষত হতে ক্রমান্নয়ে পুঁজরক্ত পড়তে থাকে এবং রোগী অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে। ধীরে ধীরে এই সকল ক্ষত ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে। আবার দেখা যায়, প্রস্রাব না হওয়ার জন্য হার্ড কাথিটার প্রবেশ করানোর জন্যও এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
মূত্রনালীর শোথ ঘা - কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিত্সা

মূত্রনালীর শোথ ঘায়ের লক্ষণ 

কখনো কখনো এই জাতীয় ফিস্টুলা মূত্রনালীর অভ্যন্তর ভাগে একাধিক হতে পারে। এই নালীক্ষতের মুখ মূত্রনালীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় এবং এর সঙ্গে প্রস্রাব স্বাভাবিক মূত্রছিদ্র দিয়ে অল্প পরিমানে বের হয় কিন্তু নালীক্ষতের মুখ দিয়ে অধিক পরিমান প্রস্রাব বের হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় এই জাতীয় নালীক্ষত তেমন জ্বালা-যন্ত্রণা এবং বেদনার উদ্রেক করে না। আবার কোন কোন সময় ভয়ানক যন্ত্রণা করে, কেটে ফেলার মত বেদনা থাকে। মূত্রনালী প্রদাহান্নিত হয়ে ফুলে উঠে এবং অসহ্য যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে এই যন্ত্রণা এত বেশি হয় যে রোগী তা সহ্য করতে পারে না। কখনো কখনো প্রস্রাব অবরুদ্ধ হয় আবার প্রস্রাব কালে ভয়ানক জ্বালাপোড়া করে।

এই ক্ষত যেহেতু অভ্যন্তর ভাগে সৃষ্টি হয় এবং প্রস্রাবের সাথে নানা প্রকার দূষিত ও উত্তেজক পদার্থের স্পর্শ লাগে সেই জন্য সহজে শুকাতে চায় না। এই জাতীয় রোগী প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় চিত্কার করে উঠে। বস্তুত ইহা একটি ভয়ানক বেদনার রোগ বিশেষ।

মূত্রনালীর শোথ ঘা বা ইউনারি ফিস্টুলা (Urinary Fistula) নির্মূলে সফল এবং আরোগ্যকারী চিকিত্সা দিয়ে থাকেন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা। রোগীর সবগুলি লক্ষণ বিবেচনায় এনে যথাযথ ট্রিটমেন্ট দিলে কিছু দিনের মধ্যেই যাবতীয় জ্বালা-যন্ত্রণাকর উপসর্গসমূহ দূর হয়ে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোয় এবং একসময় কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই পরিপূর্ণ আরোগ্য লাভ করে থাকে।
বিস্তারিত

মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা

মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis) কি :- মূত্রনালীর প্রদাহকে ইংরেজিতে ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালীতে গনোকক্কাস নামক রোগের জীবানু প্রবেশ করে এই জাতীয় রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারাও ঘটতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো প্রকার সংক্রমণ ছাড়াও ঘটতে পারে যেমন - মূত্রনালীতে আঘাত পেলে বা কোনো প্রকার অপারেশন হলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।

গনোরিয়া এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ যা মূত্রনালীর প্রদাহ ঘটাতে পারে। গনোরিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে মূত্রনালীর প্রদাহ হলে তাকে নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস বলে। এটার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্লামাইডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া। এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ। কোনো কোনো পুরুষের একই সময়ে গনোরিয়ার জীবাণু এবং অন্য জীবাণু দ্বারা মূত্রনালীর প্রদাহ হতে পারে। যদি কারো মূত্রনালী পথে রস নিঃসরণ হয়, তাহলে হয়ত যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ রয়েছে মনে করতে হবে যা অন্যের মধ্যেও ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত, এমনকি উপসর্গ চলে গেলেও।
মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা
মূত্রনালীর প্রদাহের (Urethritis) লক্ষণ :- এর ফলে মূত্রনালীতে ক্ষত ও বেদনাবোধ হয়। মূত্র ত্যাগের সময় ভয়ানক জ্বালা পোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। প্রস্রাবের সাথে পুজরক্ত নির্গত হয়। এই রোগের প্রথমে মূত্রনালীর মুখে ইরিটেসন হয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয় কিন্তু অল্প অল্প প্রস্রাব হয়। পরে প্রস্রাবের দ্বার বেদনা, জ্বালা এবং প্রস্রাবের সময় ভয়ানক কষ্ট হয়। প্রদাহ ভাব যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই মূত্রনালীর মেমব্রেনগুলো স্ফীত হয়। এর ফলে প্রস্রাব ত্যাগে আরো কস্ট হয়। প্রস্রাব কখনো পানির মত হয় না, ৪/৫ ধারায় প্রস্রাব পড়তে দেখা যায়, প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়ে। প্রস্রাবে তলানি পড়ে শ্লেষ্মার মত পদার্থ ও পুঁজ দেখাতে পাওয়া যায়। অনেক সময় পুরুষ লিঙ্গ শক্ত এবং বেঁকে যায়। এর সাথে অণ্ডকোষ মূত্রস্থলী প্রভৃতির প্রদাহ হয়। বেদনা জ্বালা পোড়া ও পুঁজরক্ত নিঃসরণ।

মহিলাদের বেলায় যে সব উপসর্গ থাকতে পারে :- মহিলাদের ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে তা হলো :অস্বাভাবিক যোনি স্রাব–জ্বর এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটের ব্যথা বেদনাদায়ক মূত্রত্যাগ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা মূত্রত্যাগ এবং তখন প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব । তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব করেন সেই সাথে কার কার কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা বা খিল ধরার মত কিছু মনে হয় । মাঝে মাঝে বমি হতে পারে । নববিবাহিত মেয়েদের মধুচন্দ্রিমা যাপনকালে প্রস্রাবের প্রদাহ হতে পারে ।

সহবাসের পর জীবাণু মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে বেশির ভাগ মহিলাদের – তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জনিত কারনে হলে অবশ্যই মুত্র নালীর মুখ বা ভেজিনাতে চুলকানির লক্ষণ থাকবেই প্রেগন্যান্ট মায়েরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে ( ১২/১৬ সপ্তাহ পর ) বেক্টোরিয়া আক্রমণে মুত্র নালীর যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু মহিলাদের হরমোন জনিত ঔষধ সেবন করার কারনে বেক্টোরিয়া ডেবলাপ্ট হয়ে হতে পারে তবে তা মাত্র ২ ভাগ অথবা মেনোপজ এর সময় একটু বেশি হওয়ার সম্বাভনা আছেই । এলারজি জনিত কারনে হলে অবশ্যই যোনি মুখের আশ পাশ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও উষ্ণ চুল্কানির লক্ষণ থাকবেইযারা অপরিষ্কার ভাবে স্পার্মিসাইড বা কৃত্রিম ডায়াফ্রাম ব্যবহার করেন বা সজোরে যৌনমিলন করলে তাদের বেলায় একটু ঝুঁকি বেশি আছেই।

    ইউরেথ্রাইটিসের প্রতিরোধ ও প্রতিকার :- ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে জাগার পর প্রস্রাব করতে হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। পানির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উচিত যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব তৈরি হয় যা দিনে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু পিছন থেকে সামনের দিকে না এনে সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা, যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্র পথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে অথবা পরিষ্কার কাপড় ব্যাবহার করলে প্রতি বার তা সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যদি দেখা যায় আপনার প্রস্রাবের রাস্তার জ্বালা যন্ত্রণা জীবাণু জনিত বলে সন্দেহ থাকে তাহলে আপনার চিকিত্সা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা আপনার উপসর্গ না যাওয়া পর্যন্ত কার ও সাথে যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মহিলাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ঘন ঘন বদলাতে হবে এবং সহবাসের আগে ও পরে-যাতে মূত্র নালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয় সে দিকে লক্ষ রাখবেন। খতনা বা মুসলমানি করানো হলে ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেস্টা করবেন প্রতিদিন। আন্ডার পেন্ট বা ঐ জাতীয় কিছু যেন অন্য কার ও সংস্পর্শে না যায় সে দিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis), প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা হোমিও চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যায়। তাই নিঃসন্দেহে এর জন্য কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিন। আর বিবাহিত অবস্থায় অবশ্যই স্বামী স্ত্রী দুজনেই ডাক্তারের কাছে যাবেন।
    বিস্তারিত