Showing posts with label ক্যান্সার/টিউমার. Show all posts
Showing posts with label ক্যান্সার/টিউমার. Show all posts

Tuesday, January 9, 2018

টিউমারে থাকতে পারে ক্যানসারের আশঙ্কা - সতর্ক হন ! বিপদ হতে পারে যেকারো

পূর্ণ বয়স্কদের শরীরের হাড়ে দেখা দিতে পারে নানা রকম রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু টিউমার দেখা যায় যা সেকেন্ডারি টিউমার বলে পরিচিত। এই টিউমারটি আসে প্রাইমারি টিউমার থেকে। স্তন, ফুসফুস, প্রস্টেট গ্রন্থি, কিডনি এবং থাইরয়েডে গ্রন্থিতে ক্যানসার হলে তা সহজেই অস্থিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার এর বীজটি অস্থিতে যে টিউমার তৈরি করে তাকে সেকেন্ডারি বোন টিউমার বা মেটাস্টাটিক টিউমার বলা হয়।

সেকেন্ডারি টিউমার প্রায় সবসময়ই ক্যানসার জাতীয় একটি রোগ। কারণ এই টিউমার অস্থি বা হাড়ের নিজস্ব নয়, শরীরের অন্য কোথাও ক্যানসার হলে তা থেকে ছড়িয়ে এটা অস্থিতে আসে। হাড়ের সেকেন্ডারি টিউমার মূলত ক্যানসারের আশঙ্কাই প্রকাশ করে।
টিউমারে থাকতে পারে ক্যানসারের আশঙ্কা
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাত এবং পায়ের হাড়ের ওপরের দিকে মেটাস্টাটিক টিউমার হতে দেখা যায়। কোমরের হাড় এবং মেরুদণ্ডের হাড়েও এই টিউমার হতে পারে। এই ধরনের টিউমার হলে রোগী খুব ব্যথা অনুভব করে, হাত ও পায়ের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়, নড়াচড়া করতে অসুবিধা হয় এবং খুব অল্প আঘাতেও টিউমার হওয়া হাড়টি ভেঙ্গে যেতে পারে। এই টিউমার হলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে দেখা যায়।

টিউমার এবং ক্যান্সার সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন >>>

হাড়ের টিউমার টের পেলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি নানা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবেন টিউমারটির আসলে উৎপত্তি কোথায়। সেক্ষেত্রে এই টিউমারের প্রাইমারি চিকিৎসা দরকার আছে কিনা তাও তিনিই নির্ধারণ করবেন। তিনি হয়তো বুক এবং পেটের সিটি স্ক্যান দিতে পারেন। এভাবেও রোগের উৎস ধরা না গেলে বায়োপসি পর্যন্ত করাতে পারেন।

প্রচলিত চিকিৎসা 

প্রাইমারি টিউমারের উৎস নিশ্চিত করতে পারলে প্রথমে তার চিকিৎসা শুরু করতে হয়। প্রাইমারি রোগ ভালো হলে অথবা নিয়ন্ত্রণে আসলে অস্থির টিউমারের চিকিৎসা শুরু করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি দিয়ে প্রাইমারি টিউমার ফেলে দেয়ার পর অস্থির টিউমার কেটে ফেলে। তবে পুরো চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারটি স্টেজের ওপর।

সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা 

টিউমারটি যখন বড় হয়ে যায় অথবা ক্যান্সারের পর্যায়ে চলে যায় তখন এলোপাথ ডাক্তারগণ এটাকে কেটে ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প খুজেন না। ক্যান্সার/টিউমার এর সর্বাধুনিক, সবচেয়ে কার্যকর এবং সাফল্যমন্ডিত চিকিত্সা দিয়ে থাকে হোমিওপ্যাথি। তাই যেখানে হোমিওপ্যাথি কোন প্রকার অপারেশন এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই  টিউমারকে পুরোপুরি নির্মূল করতে সক্ষম সেখানে অপারেশন করতে যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত বিবেচনা করবেন।
বিস্তারিত

Sunday, December 24, 2017

ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ভূমিকা রাখে টমেটো

নানা পুষ্টিগুণ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রাচুর্যের কারণে টমেটোর স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা নিয়ে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত কৃষিপণ্যটির কদর আরো বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। এতে বলা হয়েছে, পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিকার— দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে টমেটোর নির্যাস। খবর সায়েন্স ডেইলি।

টমেটো একই সঙ্গে ফল ও সবজি হিসেবে সমাদৃত। এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও ফলিক অ্যাসিড রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ও হজমক্ষমতা বাড়ানোয় এর কোনো জুড়িও নেই। এছাড়া রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা এবং ডায়াবেটিস ও চামড়ার সমস্যার চিকিৎসায়ও এটি বহুলব্যবহূত।
ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ভূমিকা রাখে টমেটো
ইতালির অনকোলজি রিসার্চ সেন্টার অব মার্চোগলিয়ানোর (সিআরওএম) বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পাকস্থলীর ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে টমেটো। তারা দেখিয়েছেন, গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও এসব কোষের ম্যালিগন্যান্ট ক্লোনিং থামিয়ে দেয় টমেটোর নির্যাস।

গবেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, টমেটোর কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির পাকস্থলীর ক্যান্সার কোষের বর্ধণ ও ছড়িয়ে পড়া রোধের যে ক্ষমতা রয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী রোগটির কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি গড়ে উঠতে পারে।

মূলত স্যান মারজানো ও করবারিনো প্রজাতির টমেটোর মধ্যে এ গুণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব কমে এসেছে। তবে এখনো ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে এতে আক্রান্তের সংখ্যা চতুর্থ সর্বোচ্চে রয়েছে। গবেষণায় উঠে আসা বিষয়বস্তু প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব সেলুলার ফিজিওলজিতে।
বিস্তারিত

Thursday, September 18, 2014

পুরুষদের স্তন ক্যান্সার - লক্ষণ, নির্ণয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসা

সাধারণত অনেকেই মনে করেন, স্তন ক্যান্সার শুধু মহিলাদেরই হয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা হয়ত অনেকই জানেন না যে এই সমস্যাটি পুরুষদের হয়ে থাকে । পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা কম থাকলেও বর্তমানে এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পুরুষদের স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে বহুক্ষেত্রে এই ক্যান্সার প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। পুরুষদের বুকের দেওয়ালে স্তনবৃন্তের ঠিক নিচে অল্প পরিমাণ অকার্যকরী কিছু স্তন কোষ থাকে। এই কোষগুলির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার দেখা দেয়।
পুরুষদের স্তন ক্যান্সার - লক্ষণ, নির্ণয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসা
স্তন ক্যান্সার সাধরণ অবস্থায় মহিলাদের মধ্যে দেখা গেলেও পুরুষদের মধ্যে বিরল নয়। ২০১০ সালে পৃথিবী জুড়ে পুরুষদের মধ্যে মোট ১,৯৭০টি স্তন ক্যান্সারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তার মধ্যে ৩৯০জন এই ক্যান্সারে প্রাণ হারান।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ

  • একটি ব্যাথাহীন পিণ্ড তৈরি হয় স্তনকলার মধ্যে। 
  • যে চামড়া স্তনকে ঢেকে রাখে তার পরিবর্তন দেখা যায়। চামড়া লাল হয়ে যায়, কুঁচকে যায়, তাতে ভাঁজ বা খাঁজ তৈরি হয়। 
  • স্তনবৃন্তের রঙের পরিবর্তন হয়। লালচে হয়ে যায় বা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। 
  • স্তনবৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হয়। 

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

আল্ট্রাসাউন্ড ও ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে স্তনক্যান্সারের নির্ণয় করা হয়। বায়োপসির সঙ্গেই করা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন হরমোনের পরীক্ষা। করা হয় প্রোটিন পরীক্ষাও।

চিকিৎসা পদ্ধতি

এত কাল যাবৎ লোকজনের ধারনা ছিল যে, শল্যচিকিৎসাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের মূল চিকিৎসা। এর মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে যে পিণ্ড (টিউমার) তৈরি হয় তাকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়াও রেডিয়েশন থেরাপি চলে। এর মাধ্যমে এক্স রে জাতীয় উচ্চ শক্তির রশ্মি দিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলি মেরে ফেলা হয়। চলে কেমোথেরাপি, যার দ্বারা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলি মেরে ফেলা হয়। এছাড়াও পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য ব্যাপকভাবে চলে হরমোন থেরাপি।

কিন্তু আপনি জানেন কি ? কোনো প্রকার অপারেসন ছাড়াই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মাধ্যমে শুধু মাত্র ঔষধ প্রয়োগ করেই এর নিরাময় সম্ভব। এখানে নেই কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং জটিলতা। আর হোমিও চিকিত্সা অপারেসনের মত ব্যয়বহুলও নয়। তাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নির্মূলে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন।
বিস্তারিত

Wednesday, September 3, 2014

ক্যান্সারে কেমোথেরাপি ক্ষতিকর - জানেন কি ?

সাম্প্রতিক ন্যাচার মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, ক্যান্সার চিকিত্সায় বহুল ব্যবহূত "কেমোথেরাপি" রোগীকে সুস্থ না করে বরং ক্যান্সারটাকেই আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদনটিতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কেমোথেরাপি সুস্থ দেহকোষের ক্ষতিসাধন করতে পারে যার ফলে ঐ কোষগুলো বিশেষ একটি প্রোটিন নিঃসরণ করে। এতে করে ক্যান্সার আরো বাড়তে থাকে এবং পরবর্তী চিকিত্সার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠে।

মানবদেহে কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষগুলো ধ্বংস করতে বেশ বেগ পেতে হয় অথচ একই আক্রান্ত কোষ গবেষণাগারে ধ্বংস করা যায় খুব সহজে-এ কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক 'সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে' এই তথ্য আবিষ্কার করেছেন।
ক্যান্সারে কেমোথেরাপি ক্ষতিকর - জানেন কি ?
গবেষকরা ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের প্রোস্টেট গ্রন্থির টিস্যুর ওপর কেমোথেরাপির প্রভাব লক্ষ্য করতে গিয়ে দেখেন, এ থেরাপিটি প্রয়োগের পর পার্শ্ববর্তী সুস্থ কোষে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেমোথেরাপি এমন এক ধরণের চিকিত্সা যা দ্রুত বিভাজনক্ষম কোষ টিউমার বা ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা আরো বলেন, কেমোথেরাপিতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো ডাব্লিউএনটিওয়ানসিক্সবি (WNT16B) নামে এক ধরণের প্রোটিন ক্ষরণ করে যা ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে গবেষণার সহযোগী ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের পিটার নেলসন বলেছেন, ডব্লিউএনটিওয়ানসিক্সবি প্রোটিনের ক্ষরণ সম্পূর্ণ অপ্রতাশিত ঘটনা। ক্যান্সার কোষগুলো কেমোথেরাপিতে ক্ষতিগ্রস্ত পার্শ্ববর্তী কোষের কাছ থেকে এ প্রোটিন গ্রহণ করে। এতে কোষগুলো আরো বৃদ্ধি পায়, অন্য কোষে আক্রামণ করে এবং পরবর্তী চিকিত্সার কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

গবেষণায় ক্যান্সার আক্রান্ত প্রোস্টেট গ্রন্থির টিস্যুর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির নেতিবাচক প্রবাবের প্রমাণ পেলেও স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের ব্যাপারে চিকিত্সায়ও একই প্রভাবের কথা বলেছেন বিজ্ঞানীরা। এ গবেষণার ফলে এখন ক্যান্সার চিকিত্সায় বিকল্প ও আরো উন্নত ব্যবস্থা উদ্ভাবনের পথ নির্দেশ করছে। তবে কেমোথেরাপি দেয়ার সময় ওই বিশেষ প্রোটিনের বিরুদ্ধে প্রতিষেধক প্রয়োগ করলে ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে ভাল ফল পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেছেন নেলসন।

নতুন এ গবেষণার ফলাফল ক্যান্সার চিকিত্সায় এ যাবত্ আবিস্কৃত সবচেয়ে কার্যকর এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল পদ্ধতি কেমোথেরাপি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বিশেষ এ চিকিত্সা পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে পৃথিবীব্যাপী কোটি কোটি ডলারের যে বাণিজ্য দাঁড়িয়ে গেছে তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

একটা বিষয় বলে রাখা দরকার, যে কোনো ক্যান্সার প্রপার হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। সমস্যাটি যখন প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তখন খুব তাড়াতাড়িই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা ক্যান্সারকে একেবারে মূল থেকে নির্মূল করে ফেলেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় দেখা যায়, যখন অ্যালোপ্যাথি ডাক্তাররা এর চিকিত্সায় ব্যর্থ হন তখন রোগীরা শেষ চিকিত্সা নিতে রোগের একেবারে সংকটপূর্ণ অবস্থায় হোমিওপ্যাথদের নিকট আসেন। তখন রোগটি থাকে মারাত্মক সব Symptom সহ জটিল পর্যায়ে। এত কিছুর পরও একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ কিছুটা সময় নিয়ে অতন্ত ধৈর্যের সাথে এ সংক্রান্ত জটিল রোগীদের যথাযথ চিকিত্সা দিয়ে আরোগ্য করে তুলেন। কিন্তু মনে রাখবেন কেমোথেরাপি নেয়ার আগে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিতে হবে কারণ কেমোথেরাপি নেয়ার পর হোমিও ঔষধ প্রয়োগ করেলেও সেটা ফল দেয় না।
বিস্তারিত

মেয়েদের ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট এবং এর কার্যকর চিকিত্সা

মেয়েদের ডিম্বাশয়ে নানা প্রকার সিস্ট হয়ে থাকে যার কোনটার নাম আমরা জানি আবার কোনটার নাম জানি না। আবার কিছু কিছু সিস্ট সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা প্রায় সীমিত। তার মধ্যে একটি হলো চকলেট সিস্ট। চকলেট সিস্ট হচ্ছে এক ধরনের এন্ডোমেট্রিয়াল সিস্ট। এন্ডোমেট্রিওসিস হচ্ছে জরায়ু ব্যাতিত অন্য কোথাও এন্ডোমেট্রিয়ামের উপস্থিতি। যখন ডিম্বাশয় আক্রান্ত হয় তখন একে ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট বলে। এন্ডোমেট্রিওসিস এর সবচেয়ে কমন জায়গা হচ্ছে এই ডিম্বাশয়। এটি সাধারণত হলে দুই দিকেই হয় অর্থাৎ দুই পাশের ডিম্বাশয় আক্রান্ত হয়।

চকলেট সিস্ট কীভাবে হয় ?
সাধারণত মেয়েদের জরায়ু ব্যাতিত এন্ডোমেট্রিয়াম অন্যত্র থাকার কথা নয়। কিন্তু যখন অল্প কিছু এন্ডোমেট্রিয়াল কলা (জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের দিকের কলা) ডিম্বাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়, রক্তপাত করে, বেড়ে উঠে তখন এই রোগ হয়ে থাকে। মাসের পর মাস এভাবে রক্ত ভাঙতে থাকলে এটি একসময় বাদামি আকার ধারণ করে। যখন এটি ফেটে যায়, ভেতরের সব কিছু আশেপাশের অঙ্গ সমুহের ( জরায়ু, মুত্র থলি , অন্ত্র ) উপর ছিটকে পড়ে।
মেয়েদের ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট এবং এর কার্যকর চিকিত্সা

লক্ষণ সমুহ :-
  • তলপেটে ব্যথা (৫০%) (মাসিকের কিছুদিন আগে থেকে কিন্তু মাসিকের সময়ে বেশি ) 
  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, বার বার মাসিক হওয়া (৬০%) 
  • কোনও লক্ষণ নাও থাকতে পারে ( ২৫%) 
  • দীর্ঘদিন তলপেটে ব্যথা থাকা 
  • সন্তান না হওয়া (৪০-৬০%) 
  • উদরে ব্যথা 
  • তলপেটের পরীক্ষা করলে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পাউচ অফ ডগ্লাসে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। আডনেক্সাতে একটি অথবা দুটি বিভিন্ন সাইজের সিস্ট বোঝা যায় অনেক সময়।
  • অন্যান্য :- প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত আসা, জ্বালা পোড়া হওয়া। পায়খানায় কষ্ট হওয়া, রক্ত যাওয়া।
কিছু টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে। যেমন :-
  • ট্রান্স ভেজাইনাল সনোগ্রাফি 
  • তলপেটের আল্ট্রাস্নোগ্রাম 
  • সেরাম মার্কার সি এ- ১২৫ 
  • বায়োপ্সি 
  • ল্যাপারোটমি 
চিকিৎসা আছে কি কি ?
এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা করা হয় ওষুধের মাধ্যমে, কিন্তু কাজ না হলে অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়। যাদের কোন লক্ষণ থাকেনা তাদের ক্ষেত্রে কিছু করার দরকার নেই। একজন কম বয়সী বিবাহিত মেয়েদের বিয়ের পরে বাচ্চা ধারণ করলে এম্নিতেই এটি সেরে যায়। ব্যথা থাকলে রোগীর ধরন ভেদে মেফেনামিক এসিড বা ইবুপ্রফেন খেতে দেন অধিকাংশ চিকিৎসকেরা।

হরমোনের মাধ্যমে চিকিৎসা :-
  • খাবার জন্মবিরতিকরণ পিল 
  • শুধু প্রোজেস্টেরন 
  • গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হ্রমোন 
  • ডানাজল 
অপারেশনের মাধ্যমে :- সিস্টটি যতটুকু সম্ভব কেটে ফেলা হয় যদি পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে থাকে এবং বয়স চল্লিশের বেশি হয় বা যদি এন্ডোমেট্রিওসিস পেল্ভিসের সর্বত্র ছড়িয়ে একটা আরেকটার সাথে লেগে থাকে যা ছোটানো কষ্টকর সেক্ষেত্রে জরায়ু সম্পূর্ণ রূপে দুই দিকের টিউব ও ডিম্বাশয় সহ কেটে ফেলা হয়।

সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :- কোনো প্রকার অপারেশন ছাড়া পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিও চিকিত্সার মাধ্যমে মহিলাদের ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্টসহ সকল সিস্ট-ই অতি সাফল্যের সাথে নির্মূল করে আসছেন দেশের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা । তাই মহিলাদের এই সমস্যার নিশ্চিত আরোগ্যের জন্য ভালো একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট বিলীন হয়ে যাবে।

কী কী জটিলটা দেখা দিতে পারে :-
  • এন্ডোক্রাইনোপ্যাথি 
  • সিস্ট টি ফেটে যেতে পারে 
  • অন্ত্রে অবস্ট্রাকশন হতে পারে 
  • চকলেট সিস্ট এ ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে 
  • খুব বিরল হলেও ক্যান্সার হতে পারে।
সাধারণত এই রোগটি ৩০-৪৫ বছর বয়সের নারীদের হয়ে থাকে। এদের অধিকাংশেরাই একটি সন্তানও হয়নি এমনটাই দেখা যায় অথবা সিস্টের লক্ষণ দেখা দেয়ার অনেক আগে একটি বা দুটি বাচ্চা হয়ে থাকতে পারে। এই রোগটি বংশগত হতে পারে।
বিস্তারিত

Friday, August 29, 2014

নারীদের জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমার নির্মূলে সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

ফাইব্রয়েড (যাকে মায়োমাও বলা হয়ে থাকে)  হলো প্রজননক্ষম বয়সে মহিলাদের জরায়ুতে সবচেয়ে পরিচিত একটি টিউমারের নাম। জরায়ুর পেশির অস্বাভাবিক এবং অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণেই এই টিউমারের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যে সব মহিলাদের বয়স ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের মধ্যে ২০% মহিলাই এই ফাইব্রয়েড টিউমারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এক কথায় বলতে গেলে ফাইব্রয়েড হলো এক প্রকার নিরীহ টিউমার। 

মহিলাদের জরায়ুতে মায়োমা বা ফাইব্রয়েড টিউমার

এটি ক্যানসারের মত সাংঘাতিক না হলেও দুটো কারণে এর সুচিকিৎসা দরকার। সেগুলো হলো :-
  • এর ফলে অতিরিক্ত মাসিক হওয়া এবং তার জন্য রক্তশূন্যতা হতে পারে। 
  • এটিকে বন্ধ্যাত্বের একটি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে এই ধারণা সব সময় সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। কেননা ২৫% ফাইব্রয়েড টিউমার আজীবন কোনো সমস্যাই করে না। কিন্তু মোটামুটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কমবেশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অনিয়মিত মাসিক বা তলপেট ভারী বোধ হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হয়।
নারীদের জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমার নির্মূলে সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
২৭ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রেই কেবল এটি বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে, যদি নিচের ঘটনাগুলো ঘটে :-
  • যদি ফাইব্রয়েডের কারণে জরায়ু অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়
  • জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে রক্তনালির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না
  • জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সংযোগস্থলে বা এমন কোনো জায়গায় টিউমারটির অবস্থান হয়, যা ভ্রূণকে সুস্থিত হতে বাধা দেয়।
যাঁদের বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে বা বারবার গর্ভপাত হচ্ছে, তাঁদের ফাইব্রয়েড থাকলেও বন্ধ্যাত্বের অন্য কারণগুলোকে শনাক্ত করা উচিত। কারণ, মূল সমস্যাটি ফাইব্রয়েড না-ও হতে পারে। মায়োমেকটমি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফাইব্রয়েডকে জরায়ুর দেয়াল থেকে তুলে এনে আবার তা সেলাই করে দেওয়া হয়। জরায়ু কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে এই অস্ত্রোপচার পেট কেটে বা ছিদ্র করে উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়। তবে অস্ত্রোপচার দরকার হোক বা না হোক, কিছু বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

অস্ত্রোপচার বা অপারেশন কতটা সফল !!!

  • এই অস্ত্রোপচারে বেশ রক্তপাত হতে পারে। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সময় জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। 
  • অস্ত্রোপচারের পর আবার ফাইব্রয়েড হওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ ভাগ। 
  • অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৬০ ভাগ। এটি নির্ভর করে ফাইব্রয়েড টিউমারের সংখ্যা, আকার এবং অস্ত্রোপচারের সফলতার ওপর। ফাইব্রয়েড অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণ করলে অবশ্যই ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে হবে।

নিশ্চিতরূপে আরোগ্যকারী হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

হোমিওপ্যাথরা যেখানে অতি সাফল্যের সাথে লাখ লাখ মহিলাদের জরায়ুর টিউমারকে কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই ঔষধের মাধ্যমে নিশ্চিতরূপে চিরতরে নির্মূল করে আসছে সেখানে জরায়ুর টিউমার সারাতে বিপদজনক, ক্ষতিকর এবং প্রায় অনিশ্চিত অস্ত্রোপচার বা অপারেশন করাটা এই আধুনিক যুগে বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। মা বোনদের প্রতি অনুরোধ, হোমিওপ্যাথিতে মহিলাদের জরায়ুর টিউমার সারানোর চিকিত্সাটা একেবারই সাধারণ একটি ব্যাপার, তাই এর জন্য ক্ষতিকর অপারেশনের পেছনে ছুটাছুটি না করে আপনার সব ডাক্তারি রিপোর্টগুলি সাথে নিয়ে ভালো এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। দেখবেন খুব অল্প দিনেই চিরদিনের জন্য আপনার জরায়ুর টিউমার দূর হয়ে গেছে ইনশাল্লাহ।
বিস্তারিত

Monday, August 25, 2014

ক্রমেই বাড়ছে স্তন ক্যানসার - সচেতনতা এখনই দরকার !

ক্রমেই বাড়ছে স্তন ক্যান্সার৷ বাংলাদেশ এবং ভারত কোনটাই ব্যতিক্রম নয়৷ কিন্তু এ নিয়ে সচেতনতা এখনও তলানিতে৷ বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম৷ জেন-এক্স কলেজ পড়ুয়ারা যতই মজে থাকুক হলিউডে, জিনপরীক্ষায় বিপদের আঁচ পেয়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ম্যাস্টেকটোমি করানোর প্রভাব বাস্তব জীবনে সবক শেখাতে পারেনি মহানগরের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের৷ দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে যাদের চলাফেরা সিংহভাগ ছাত্রীদের ধারণাই নেই স্তন ক্যান্সার নিয়ে রয়েছে ঠিক কতটা বিপদের হাতছানি৷

অথচ বয়স ২০ পেরোলেই জিনপরীক্ষা (বিআরসিএ-১ ও ২) করে স্তন ক্যান্সারের আগাম আঁচ পাওয়া সম্ভব (যেমনটা করেছিলেন জোলি)৷ ছাত্রীরা অবশ্য জানে না সে কথা৷
ক্রমেই বাড়ছে স্তন ক্যানসার - সচেতনতা এখনই দরকার !
ধূমপান যে স্তন ক্যান্সারের জন্য বাড়তি ঝুঁকি, তা কি জানা আছে? উত্তর- না৷উল্টো, উঠতি বয়সে নারী স্বাধীনতারই যেন নয়া দিশারি এই কিংসাইজ সিগারেট৷ আর ছেলেরা? পুরুষেরও যে স্তন ক্যান্সার হতে পারে, এ কথা জানা ছাত্রের সংখ্যা আক্ষরিক অর্থেই হাতেগোনা৷

সেলফ ব্রেস্ট এগজামিনেশনই যে স্তন ক্যান্সার ঠেকানোর সেরা রাস্তা, তা নিয়েও তেমন ধারণা গড়ে ওঠেনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের মনে৷ এমনকি, মা-বোনদের সঙ্গেও এ মারণরোগের আশঙ্কা নিয়ে খোলামনে আলোচনা করতে পারে না অধিকাংশই৷ এ নিয়ে উত্‍সাহও যে আছে, তা-ও অবশ্য নয়৷

রোগ সম্পর্কে একেবারে প্রাথমিক ধারণা আছে বটে৷ কিন্ত্ত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এখনও এ সব 'আধুনিকা'র অন্তরমহলে রয়ে গিয়েছে হয় অনীহা অথবা কুণ্ঠা৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্সের তিন ছাত্রী দেয়াশিনি বিশ্বাস, নাদিয়া ইমাম ও রোহিনী মিত্র এ বছরই পা রেখেছে ক্যাম্পাসে৷ এদের সকলেরই বক্তব্য, ব্রেস্ট ক্যানসার যে তাঁদের হতে পারে, এমন একটা ভাবনা তাঁদের মাথা থেকে আলোকবর্ষের দূরত্বে৷

'যা শোনা যায়, তাতে চল্লিশের কাছাকাছি গিয়ে এই ধরনের ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ে৷ তাই আঠেরোতেই এই নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার মতো কী আছে?'-- পাল্টা প্রশ্ন নাদিয়ার৷ দেয়াশিনির কথায়, 'আমি কিছুটা হলেও জানি৷ কারণ আমার মা নিয়মিত চেক আপ করান৷ কিন্তু তাঁর তো বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গিয়েছে৷'

ইংরেজি স্নাতকোত্তরের ছাত্রী কথাকলি বিশ্বাস ও দেবারতি রায়দের দাবি, তাঁরা এ রোগটা সম্পর্কে জানেন৷ দেবারতির কথায়, 'শুনেছি, স্তন ক্যানসার ঠেকাতে সঠিক ভাবে অন্তর্বাস পরা খুব জরুরি৷' কথাকলির বলছেন, 'এখন অনেক নতুন মায়েরা স্তনের আকার খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে বাচ্চাকে খুব কম দিন স্তন্যপান করান৷ সেটাও খারাপ৷' ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর অর্থনীতির প্রথম বর্ষের ছাত্রী অন্তরা মণ্ডলের কথায়, 'বাড়িতে তো এই নিয়ে আলোচনা বিশেষ হয় না৷ মায়ের সঙ্গেও না৷ আর বন্ধুরা তো বেশি জানেই না৷ যেটুকু জানি, কাগজ পড়ে৷ তবে ভয় লাগে৷' তাঁর কথায়, 'শুনেছি ধূমপান করলে এই প্রবণতা বাড়ে৷ আমি করি না৷ কিন্ত্ত আমরা সবাই তো প্যাসিভ স্মোকার৷ তাই বিপদটা থেকেই যাচ্ছে৷' 

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী সুপ্রিয়া সরকার, সুজাতা শর্মা এবং রাখি দলুই৷ এদের সকলেরই বক্তব্য, নিয়মিত চেক-আপ করানোর ইচ্ছে থাকলেও বাড়িতে বলা সম্ভব নয়৷ কারণ বাড়িতে এ নিয়ে কারও সঙ্গেই খোলাখুলি আলোচনা হয় না৷ ওঁদের বাড়ির লোকজন মনে করেন, এ সব নিয়ে জানার বয়স ওদের হয়ইনি!

প্রেসিডেন্সির রাষ্ট্রনীতি বিভাগের ছাত্রী মেহেক চক্রবর্তীর কথায়, 'ব্রেস্ট চেক-আপ করাতে পারি৷ কিন্ত মহিলা চিকিত্‍সক ছাড়া একটু সমস্যা হবে৷ তবে ঠিকঠাক অর্ন্তবাস পরা এর জন্য খুব জরুরি বলে শুনেছি৷' একই সুর তাঁর সহপাঠী পৃথা রায়ের গলাতেও৷ ইতিহাসের ছাত্রী ময়ূরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌমী দত্ত জানাচ্ছেন, তাঁরা সেলফ ব্রেস্ট এগজামিনেশন করেন৷ নিয়মিত নিজেরাই আয়নায় দেখে নেন, স্তনের কোনও অংশ শক্ত ঠেকছে কিনা৷ কিন্ত্ত তাঁদেরও যুক্তি, 'ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য লেডি ডক্টর ইজ মাস্ট৷' সৌমির অভিজ্ঞতা, 'একবার ইসিজি করতে গিয়ে জামা খুলতে খুব অস্বস্তি হয়েছিল৷ তাই পুরুষ চিকিত্‍সক আর নৈব নৈব চ৷' তিনিও মনে করেন সঠিক অন্তর্বাসের তত্ত্বে৷

চিকিত্‍সকরা অবশ্য নস্যাত্‍ করছেন বিষয়টি৷ এসএসকেএমের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক চিকিত্‍সক দীপেন্দ্র বিশ্বাস জানাচ্ছেন, অর্ন্তবাসের সঙ্গে স্তন ক্যানসারের কোনও সম্পর্ক নেই৷ তাঁর কথায়, 'দামি বা ব্র্যান্ডেড ব্রা পরলেই স্তন ক্যানসার থেকে মুক্তি মিলবে, এমনটা নয়৷' তাঁর বক্তব্য, একমাত্র সচেতনতাই পারে এ রোগ থেকে নিষ্কৃতি দিতে৷ কিন্তু আক্ষেপ, সেটাই একেবারে আশানুরূপ নয় নতুন প্রজন্মের মধ্যে৷

কোন কোন ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার হতে পারে?

  • ঋতুচক্র যাঁদের তাড়াতাড়ি শুরু এবং দেরিতে শেষ হয়েছে 
  • ৩০ বছরের বেশি বয়সে যাঁরা প্রথমবার মা হয়েছেন 
  • হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করাচ্ছেন যাঁরা 
  • বাচ্চাকে স্তন্যপান না-করানো অথবা নিঃসন্তান মহিলাদের 
  • স্থূলতা বা ওবেসিটি 
  • নিয়মিত ধূমপান ও মদ্যপান করা 
  • জিনঘটিত কারণ 

কী করে বুঝবেন ?

স্তনের কোনও অংশ ফোলা, অথচ ব্যথা নেই৷ বৃন্ত থেকে রক্তপাত৷ স্তনের ত্বক কিংবা বৃন্ত কুঁচকে যাওয়া

কি করবেন ?

তাড়াতাড়ি ধরা না-পড়লে, রোগনির্ণয়ের পাঁচ বছরের মধ্যেই মারা যান ৪০ শতাংশ রোগী৷ আর পাঁচটা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার (মেটাস্টেসিস) সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া মেলে না৷ একাধিক জিন এর নেপথ্যে থাকায় আঁচ পাওয়া মুশকিল, কখন কোন রোগিণীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার কেমন চেহারা নেবে৷ হয়তো ৫ সেমি টিউমার বাড়লোই না, আবার ১ সেমি টিউমার ছ'মাসে বেড়ে দাঁড়াল ১৫ সেমি-তে। তবে সঠিক সময়ে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো রোগীনি যদি হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার আওতায় আসেন তাহলে এর থেকে রেহাই পাওয়া যায় খুব তাড়াতাড়ি। কিন্তু অন্যান্য রোগের মত স্তন ক্যানসারকেও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা উচিত আর আক্রান্ত হলে হোমিওপ্যাথিই হতে পারে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল চিকিত্সা।
বিস্তারিত