Showing posts with label চর্মরোগ. Show all posts
Showing posts with label চর্মরোগ. Show all posts

Wednesday, May 2, 2018

একজিমা বা বিখাউজ দূর করার উপায়, একজিমার হোমিও চিকিৎসা

একজিমা (ইংরেজী: Eczema) এক প্রকাম চর্ম রোগ যা বাংলাদেশে পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা ইত্যাদি স্থানীয় নামে পরিচিত। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে সচরাচর এটপিক ডার্মাটাইটিস (ইং: atopic dermatitis) হিসাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার অন্যতম উৎস বংশগত বলে ধারণা করা হয়। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত স্থান লালাভ দেখায়, এখানে পুঁজবটী জন্মে, চুলকায়, রস ক্ষরণ হতে পারে এবং মামড়ি পড়ে। এটি কোন সংক্রামক রোগ নয়। তবে এ রোগ থেকে হাঁপানি এবং হে ফিভার হয়ে থাকে। এটি দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা যাতে অতি শুষ্ক ত্বক ফেটে যায়, পুরু হয়ে ওঠে, চুলকানির সৃষ্টি হয় এবং ফুস্কুড়ি হতে পারে।

ঠিক কী কারণে একজিমা হয়ে থাকে তা এখনো জানা যায় নি। বলা হয়েছে অন্তর্ভূত কারণের (যেমনঃ এলার্জি) বহি:প্রকাশ একজিমা। শরীরের যে কোন স্থানেই একজিমা হতে পারে, তবে হাত, পা, বাহু, হাঁটুর বিপরীত পৃষ্ঠা, গোড়ালী, হাতের কব্জি, ঘাড় ও ঊর্ধ বক্ষস্থল ইত্যাদি অংশ বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এলোপ্যাথিতে একজিমার ঔষধ অদ্যবধি আবিষ্কৃত হয় নি, তবে এমোলিয়েণ্টস (Emollients) এবং স্টেরেয়ড মলম (steroid ointments) একজিমার প্রকোপ নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়। তবে এই রোগের একমাত্র নির্মূলকারী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। যদি একজিমা বা বিখাউজ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চান তাহলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
একজিমা বা বিখাউজ দূর করার উপায়, একজিমার হোমিও ঔষধ
ত্বকের যেকোনো অংশেই একজিমা রোগ হতে পারে। তবে হাত, পা, বাহু, হাঁটুর বিপরীতে, গোড়ালী, হাতের কব্জি, ঘাড় কিংবা ঊর্ধ বক্ষস্থল ইত্যাদি অংশে বেশি হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার প্রধান উৎস বংশগত বলে চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বলেও উল্লেখ করা হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

এটি যেকোন বয়সেই হতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। আবার গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থা একজিমা হওয়ার কোন শর্ত নয়। সাধারনভাবে একজিমা অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমগোত্রীয় একটি রোগ যা বংশগত কারণে হতে পারে।

একজিমা কি কি প্রকারের হতে পারে ?

এটি কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন- এটোপিক একজিমা (শরীরের যেসব স্থানে ভাঁজ পড়ে যেমন- হাঁটুর পিছনে, কুনইয়ের সামনে, বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে এটোপিক একজিমা হতে পারে), এলার্জিক কনট্যাক্ট একজিমা (কোন পদার্থ বা বস্তু থেকে এ ধরনের একজিমা হয়ে থাকে। শরীরের যে অংশে এলার্জি হয় সেখানে লালচে দানা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে এটা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে), ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট একজিমা (এটি এলার্জিক একজিমার মতই এবং এটি অধিক হারে ডিটারজেন্ট জাতীয় দ্রবের ব্যবহারের কারনে হতে পারে), সেবোরিক একজিমা (ম্যালাসেজিয়া ইষ্ট দ্বারা সংক্রমণের ফলে সেবোরিক একজিমা হয়ে থাকে এবং এতে মাথার ত্বকে হালকা খুশকির মতো তৈলাক্ত ফুসকুড়ি দেখা যায়। সাধারণত এক বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগটি বেশি দেখা যায়), ভেরিকোস একজিমা (রক্ত সরবরাহে সমস্যা ও উচ্চরক্তচাপের কারণে বয়স্ক লোকদের পায়ের নিচের অংশে এটি হতে পারে), ডিসকয়েড একজিমা (সাধারণত বয়স্ক লোকদেরই এটি বেশি হতে পারে। শুষ্ক ত্বক সংক্রমণের মাধ্যমে বিশেষ করে পায়ের নিচের অংশে এটি হয়ে থাকে) ইত্যাদি।

একজিমার কারণ কি কি ?

একজিমার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ত্বকের আর্দ্রতা ত্বককে ব্যাকটেরিয়া এবং যে সকল পদার্থ অ্যালার্জির সৃষ্টি করে তা থেকে রক্ষা করে। সাধারনত নিম্নলিখিত কারন সমুহকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়ঃ
  • সাধারনত শুষ্ক বা রুক্ষ ত্বক একজিমার জন্য দায়ী কারন- এ ধরনের ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে না।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান বা শ্যাম্পু থেকে এ রোগের সংক্রমণ হতে পারে।
  • এলার্জি হয় এমন বস্তু যেমন- পরাগ রেণু, ধুলা, পশম, উল ইত্যাদি থেকে এটির সংক্রমন হতে পারে।
  • জিনঘটিত যেকোনো পরিবর্তনের ফলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এটির সংক্রমন হতে পারে।
  • দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগের কারনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেলে বিখাউজ হতে পারে।
  • বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারনে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এটির সৃষ্টি হতে পারে।
  • পরিবেশগত কারণেও একজিমা হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কিংবা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়া ইত্যাদি।
আবার হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় এটি হতে পারে।

একজিমার লক্ষণসমূহ

ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হওয়া, ত্বক লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক বা ত্বকে চুলকানি ইত্যাদি একজিমার লক্ষণ। হাত ও পায়ের ত্বকে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি হতে পারে। আবার ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হতে পারে এবং পুঁজ বের হতে পারে। ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হয়ে যেতে পারে।

একজিমার ঝুঁকিতে আছেন যারা 

  • অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়ার ফলে, অর্থাৎ পরিবেশগত কারণেও একজিমা হতে পারে।
  • পরিবারের কোনো সদস্যের একজিমা বা বিখাউজ থাকলে অন্যান্য সদস্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ত্বক শুষ্ক বা রুক্ষ হলে এ রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশি কারন- এ ধরনের ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে না।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পুর ব্যবহারের ফলেও এ রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • এলার্জি হতে পারে এমন বস্তু যেমন- পরাগ রেণু, ধুলা, পশম, উল ইত্যাদির সংস্পর্শে একজিমার সংক্রমন হতে পারে।
  • জিনঘটিত কোনো পরিবর্তনের ফলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে একজিমার সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • চর্মরোগে আক্রান্ত কোন রোগীর সেবাকাজে নিয়োজিত ব্যক্তির এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।
  • বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এটি হতে পারে।
  • শহরাঞ্চালে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে বিশেষ করে ডে-কেয়ার বা চাইল্ড কেয়ারে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
  • হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় একজিমা হতে পারে।
  • দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগের কারনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে একজিমার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

একজিমা প্রতিরোধে করনীয়

  • যেসব বস্তু বিখাউজ বা একজিমার সমস্যা বাড়িয়ে তোলে বা যেসব খাবার খেলে এটি বাড়ে তা পরিহার করতে হবে।
  • সবসময় নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরতে হবে। সিনথেটিক বা উলের পোশাকে অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তা পরা যাবে না।
  • কাপড় পরিষ্কারের জন্য কৃত্রিম রঙ ও সুগন্ধিবিহীন সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হবে।
  • ধূলাবালি, ফুলের রেণু এবং সিগারেটের ধোঁয়া অর্থাৎ যেগুলো থেকে অ্যালার্জি হতে পারে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • আক্রান্ত স্থান চুলকানো যাবে না।
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
  • ত্বক শুষ্ক না রেখে, প্রয়োজনে কৃত্রিম রঙ ও সুগন্ধিবিহীন লোশন বা ক্রিম ব্যাবহার করতে হবে।

একজিমা, বিখাউজ দূর করার  চিকিৎসা 

এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিকার আবিষ্কৃত হয় নি। একজিমার সাথে অ্যাজমা এবং হে ফিভার দেখা দিতে পারে। এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা রোগ হলে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি করলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।একজিমার এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় রয়েছে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন বা হরমোন জাতীয় ওষুধ সেবন এবং স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ফল দেয় না। তবে হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে এই রোগ মূল থেকে চিরতরে নির্মূল করার অনেক উন্নত ঔষধ এবং চিকিৎসা। তাই একজিমা, বিখাউজ দূর করার জন্য রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ট্রিটমেন্ট নিন। 
বিস্তারিত

Sunday, April 15, 2018

সহজে মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করার স্থায়ী উপায়

অনেক মেয়েদের দেখা যায় ঠোঁটের  উপরের  বা মুখের লোম দূর করার জন্য বা উঠানোর উপায় হিসেবে লোম নাশক ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এতে একেবারে সমস্যাটি দূর হয় না। অনেকে আবার এই কাজটি করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন। তাতেও স্বস্তি নেই। কারণ কিছু দিন পর আবার হয়।
আপনি জানেন কি ? যদি মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করতে চান তাহলে কিছুদিন হোমিও চিকিৎসা নিলেই সমস্যাটি দূর হয়ে যায়। অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট দিন। এতে নেই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্যা। আর এটিই হলো আপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান। 
আর যদি অস্থায়ী সমাধান চান তা হলে নিচের প্রক্রিয়াগুলি অনুসরণ করতে পারেন। তার আগে আপনাকে দেখতে হবে কোনটি আপনার ক্ষেত্রে কাজ করে। যেটি কাজ করে সেটি অনুসরণ করতে পারেন বার বার।
সহজে মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করার স্থায়ী উপায়
১। বেসন এবং হলুদের প্যাক :- এক চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং পরিমাণমত দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ভাবে ঠোঁটের উপরের লোম দূর করে দেবে। এটি সপ্তাহে দুই তিন বার ব্যবহার করুন।

২। ডিমের সাদা অংশ :- ঠোঁটের উপরে অংশের লোম দূর করতে ডিমের সাদা অংশ বেশ কার্যকর। একটি ডিমের সাদা অংশ, কর্ণ ফ্লাওয়ার এবং চিনি ভাল করে ফেটে নিন। এবার এই পেস্টটি ঠোঁটের উপর লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে এটি তুলে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন। এক মাসের মধ্যে আপনি দেখতে পাবেন আপনার লোম অনেকটা কমে এসেছে।

৩। চিনি :- ঘরোয়া ওয়াক্সিং করার অন্যতম উপাদান হল চিনি। চিনি অবাঞ্ছিত লোম দূর করে এবং নতুন লোম জন্মাতে বাঁধা দিয়ে থাকে। একটি প্যানে কিছু পরিমাণ চিনি এক মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে কিছু পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ঘন করে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন। এবার একটি কাপড় দিয়ে চক্রাকারে ঘষুন এবং লোমের বিপরীতে টান দিন।

৪। চালের গুঁড়ো এবং টকদই:- চালের গুঁড়ো এবং টকদই মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫। ময়দা :- ময়দা, দুধ এবং হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে এটি টান দিয়ে তুলে ফেলুন। সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী একটি উপায়ের মধ্যে এটি অন্যতম।

বিস্তারিত

Tuesday, January 16, 2018

ত্বকের সমস্যা একজিমার ক্ষেত্রে কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন এবং কিভাবে চিকিৎসা নিবেন।

একজিমা নামক চর্মরোগটি আমাদের সবার কাছেই একটি পরিচিত রোগ। যারা এ রোগে আক্রান্ত তাদের অনেকেই নিজেকে এক দুরারোগ্য রোগের শিকার বলে মনে করেন। আবার অনেকের ধারণা, এ রোগ হলে কখনোই সারে না, তাই তারা চিকিৎসা করান না। আবার অনেকে এও মনে করেন, এটা চিকিৎসা করে সারালে অবশ্যই তার হাঁপানি রোগ দেখা দেবে। কাজেই অনেকেই এ রোগ চিকিৎসা করাতে রাজি নন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

একজিমা হওয়ার প্রবণতা কিছুটা বংশগত। বাইরের কোনো বিশেষ বস্তুর প্রভাবে অ্যালার্জিজনিত কারণে যদি একজিমা হয় তা পুরোপুরি সারানো সম্ভব। তবে ওই বিশেষ বস্তুটি কী তা নির্ধারণ করতে হবে এবং তার স্পর্শ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিতে চাই।
ত্বকের সমস্যা একজিমার ক্ষেত্রে কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন এবং কিভাবে চিকিৎসা নিবেন।
অনেকের হাতে লক্ষ করলে দেখবেন যেখানে ঘড়ি পরে সেখানে অ্যালার্জি দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা একজিমায় পরিণত হয়। আর যদি ওই ঘড়ি পরা বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে কোনো রকম চিকিৎসা না করলেও আস্তে আস্তে রোগটি ভালো হয়ে যায়। একজিমার কারণ যদি দেহের ভেতরে হয় তবে সে ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি ভালো করে তোলা বেশ কঠিন।

ত্বকের সমস্যা একজিমার সম্ভাব্য কারণ

পেশাগতভাবে কৃষক, সিমেন্ট, কীটনাশক, গাছ, পশু, খাবারের কোবাল্ট, কাঠ সংরক্ষণকারী পদার্থ ডিজেল, গ্যাসোলিন, বিভিন্ন জীবানুনাশক পদার্থ।
  • শিল্পী:- অ্যাক্রাইলিক বা ফিনাইল, অ্যাক্রাইলিক রেজিন। এপাক্স এবং পলিয়েস্টার রেজিন, বিভিন্ন দ্রবণ যেমন- কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, বেনজিন, টলুইন, অ্যাসিটোন, টারপেনাটিন, নিকেল, ক্রোমিয়াম রঙ, মাটি, কাদা ও এস্টার।
  • নাপিত:- কুইনাইন, রেসর্সিন, মার্কারি, নিকেল, প্যারাফিনাইল ডাই অ্যামাইন, কেপসিকাম, আর্সেনিক ও সালফার।
  • দারুশিল্পী:- গাছের গুঁড়ি, মেহগিনি, নিকেল, প্লাস্টিক, পালিশ ও রাবার টরপেনটাইন। 
  • কেমিস্ট :- সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ।
  • ছাপাখানার কম্পোজিটা:- বেনজাইন, ডাইক্রোমেট, রাঁধুনি, সাবান, ডিটারজেন্ট, সবজি, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, আলু, নিকেল, কীটনাশক।
  • দন্ত চিকিৎসক:- সাবান, ডিটারজেন্ট, অক্সাইলিক মনোমার ও স্থানিক অবশকারী ওষুধ।
  • চিকিৎসক:- রাবার, গ্লোভস, সাবান ও বিভিন্ন ওষুধ। 
  • ছাপাখানার কর্মচারী :- আর্সেনিক, ডাইক্লোমেট ও নিকেল, হাইড্রোকার্বন।
  • শল্যচিকিৎসক:- এন্টিসেপটিক, আয়োডিন পারদযুক্ত পদার্থ, হেকসাক্লোরোফেন, রাবার গ্লোভস, গ্লোভসের পাউডার, প্রোকেন, ফরমালডিহাইড।

চিকিৎসা কখন কিভাবে নিবেন

একজিমার চিকিৎসায় প্রথম খুঁজতে হবে এটা কোন ধরনের একজিমা। তারপর খুঁজতে হবে কী কারণে হলো এবং তৃতীয়ত, দেখতে হবে এটা একুউট না পুরাতন একজিমা। তার পরেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এর জন্য কোন চিকিৎসা কার্যকরী। তবে আপনি যদি অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তার থেকে যথাযথ চিকিৎসা নেন হলে খুব শিঘ্রীই এর থেকে মুক্তি পাবেন ইনশা-আল্লাহ।
বিস্তারিত

Saturday, December 23, 2017

এলার্জি এক ধরনের চর্মরোগ,তবে চর্মরোগ মানেই এলার্জি নয়! কার্যকর চিকিৎসা কি ?

এলার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি। এলার্জিতে হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধের ভীষণ প্রতিক্রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এলার্জি সামান্যতম অসুবিধা করে, আবার কারো ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করছেন? হঠাৎ করে হাঁচি এবং পরে শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ, গরুর দুধ খেলেই শুরু হলো গা চুলকানি বা চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা। এগুলো হলে আপনার এলার্জি আছে ধরে নিতে হবে।

এলার্জি কি? কেন হয় এবং কি করেই বা এড়ানো যায়?

তা নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শসহ সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে একটি বিস্তারিত ফিচার।
এলার্জি এক ধরনের চর্মরোগ,তবে চর্মরোগ মানেই এলার্জি নয়!
বেশিরভাগ মানুষের ধারনা  চর্মরোগ মানেই এলার্জি। অথচ হাজারো চর্মরোগের মধ্যে এলার্জি হচ্ছে শুধু এক ধরনের রোগ। এলার্জি শব্দটি সকলের কাছে অতি পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে ভুল ধারণার শেষ নেই।
এলার্জি এক ধরনের চর্মরোগ,তবে চর্মরোগ মানেই এলার্জি নয়!
কখনো কখনো আমাদের শরীরে সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করি। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে এলার্জি বলা হয়। এলার্জি হলে হঠাৎ শরীরে বিভিন্ন ধরনের দানা উঠা শুরু হয় বা ত্বক লাল চাকা চাকা হয়ে ফুলে যায় এবং সেই সাথে প্রচণ্ড চুলকানি থাকতে পারে।

অনেক সময় সারা শরীরও ফুলে যায় এবং শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, অস্থিসন্ধি ব্যথা, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি হয়। এমনকি হঠাৎ কোন তীব্র এলার্জিক রিয়েকশনে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

এলার্জির কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। পৃথিবীর সব জিনিসই এলার্জির কারণ হতে পারে। একেকজনের দেহ ও ত্বক একেক ধরনের জিনিসের প্রতি এলার্জিক হয়ে থাকে। যে কোনো খাদ্য দ্রব্য, পরিধেয় ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র, প্রসাধনী সামগ্রী, মশা-মাছি ও পোকা-মাকড়ের কামড়, পারিপার্শ্বিক ধুলা-বালি, আবহাওয়া, সূর্যালোক, কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ, কৃমি, আঘাত, এমনকি দুশ্চিন্তাতেও এলার্জি হতে পারে। যাদের বংশে হাঁপানি, একজিমা বা এলার্জির সমস্যা আছে তাদের এলার্জির প্রবণতা তুলনামূলক অন্যদের তুলনায় বেশি।

এলার্জির প্রাথমিক ও তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা

এলার্জির প্রাথমিক ও তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা হিসেবে অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারগণ ওরাল, টপিকাল অথবা ইনজেক্টেবল এন্টিহিসটামিন বা অনেক সময় স্টেরয়েড (এটি একটা বিপদজনক চিকিৎসা) দেয়া হয়। তবে সঠিক ও উপযুক্ত চিকিত্সার পূর্বশর্ত এলার্জি সৃষ্টিকারী কারণটি খুঁজে বের করতে হবে এবং যথা সম্ভব তা এড়িয়ে চলতে হবে।

প্রত্যেক মানুষের শরীরে এক একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম থাকে, কোনো কারণে এই ইমিউন সিস্টেমে গোলযোগ দেখা দিলে তখনই এলার্জির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

এলার্জি আমাদের শরীর সবসময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এই প্রচেষ্টাকে রোগ প্রতিরোগ প্রক্রিয়া বা ইমিউন বলে। কিন্তু কখনও কখনও আমাদের শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এই অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে এলার্জি বলা হয়। এলার্জি সৃষ্টিকারী বহিরাগত বস্তুগুলোকে এলার্জি উৎপাদক বা এলার্জেন বলা হয়।

এলার্জিজনিত প্রধান সমস্যাসমূহ?

এলার্জিজনিত সর্দি বা এলার্জিক রাইনাইটিস এর উপসর্গ হচ্ছে অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারো কারো চোখ দিয়েও পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়।

এলার্জিক রাইনাইটিস দুই ধরনের সিজনাল এলার্জিক রাইনাইটিস : বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এলার্জিক রাইনাইটিস হলে একে সিজনাল এলার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়।

পেরিনিয়াল এলার্জিক রাইনাইটিস : সারাবছর ধরে এলার্জিক রাইনাইটিস হলে একে পেরিনিয়াল এলার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়। লক্ষণ ও উপসর্গ- সিজনাল

এলার্জিক রাইনাইটিস : ঘন ঘন হাঁচি নাক দিয়ে পানি পড়া নাসারন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া এছাড়াও অন্যান্য উপসর্গসমূহ চোখ দিয়ে পানি পড়া।

পেরিনিয়াল এলার্জিক রাইনাইটিস : পেরিনিয়াল এলার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গগুলো সিজনাল এলার্জিক রাইনাইটিসের মতো। কিন্তু এক্ষেত্রে উপসর্গগুলোর তীব্রতা কম হয় এবং স্থায়িতকাল বেশি হয়।

এ্যাজমা বা হাঁপানি 

উপসর্গ হচ্ছে কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে চাপ চাপ লাগা, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝেই ঠান্ডা লাগা। এ্যাজমা রোগের প্রধান প্রধান উপসর্গ বা লক্ষণগুলো হলো- বুকের ভেতর বাঁশির মতো সাই সাই আওয়াজ শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট, দম খাটো অর্থাৎ ফুসফুস ভরে দম দিতে না পারা ঘনঘন কাশি, বুকে আটসাট বা দম বন্ধ ভাব, রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকা।

আর্টিকেরিয়া 

আর্টিকেরিয়ার ফলে ত্বকে লালচে ফোলা ফোলা হয় এবং ভীষণ চুলকায়। ত্বকের গভীর স্তরে হলে মুখে, হাত-পা ফুলে যেতে পারে। আর্টিকেরিয়ার ফলে সৃষ্টি ফোলা অংশসমূহ মাত্র কয়েকঘণ্টা স্থায়ী থাকে কিন্তু কখনও কখনও বার বার হয়। যে কোনো বয়সে আর্টিকেরিয়া হতে পারে। তবে স্বল্পস্থায়ী আর্টিকেরিয়া বাচ্চাদের মধ্যে এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্টিকেরিয়া বড়দের মধ্যে দেখা যায়।

সংস্পর্শজনিত এলার্জিক ত্বক প্রদাহ/এলার্জিক কনটাক্ট ডারমাটাইটিস : চামড়ার কোথাও কোথাও শুকনো, খসখসে, ছোট ছোট দানার মতো উঠা। বহিঃস্থ উপাদান বা এলার্জেনের সংস্পর্শে ত্বকে হলে তাকে এলার্জিক কনটাক্ট ডারমাটাইটিস বলা হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ 

ত্বকে ছোট ছোট ফোসকা পড়ে ফোসকাগুলো ভেঙ্গে যায় চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে ত্বকের বহিরাবরণ উঠে যায় ত্বক লালচে হয়ে এবং চুলকায়, চামড়া ফেটে অাঁশটে হয়।

একজিমা : একজিমা বংশগত চর্মরোগ যার ফলে ত্বক শুস্ক হয়, চুলকায়, অাঁশটে এবং লালচে হয়। খোঁচানোর ফলে ত্বক পুরু হয় ও কখনও কখনও উঠে যায়। এর ফলে ত্বক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত ত্বক থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে এবং দেখতে ব্রণ আক্রান্ত বলে মনে হয়। এটা সচরাচর বাচ্চাদের মুখে ও ঘাড়ে এবং হাত ও পায়ে বেশি দেখা যায়।

এলার্জিক কনজাংটাইভাইটিস :
  • উপসর্গ : চুলকানো ও চোখ লাল হযে যায়।
খাওয়ায় এলার্জি :
  • উপসর্গ : পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং ডায়রিয়া।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত এলার্জি  এটা খুবই মারাত্মক। এলার্জেন শরীরের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে এটা শুরু হয়ে যেতে পারে। নীচে উল্লেখিত উপসর্গগুলো হতে পারে। চামড়া লাল হয়ে ফুলে উঠে ও চুলকায়, শ্বাসকষ্ট, নিঃশ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো আওয়াজ হয় মূর্ছা যেতে পারে, রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে।

সাধারণ এলার্জি উৎপাদকসমূহ

মাইট মোল্ড ফলের রেণু বা পরাগ ঠান্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়া, খাদ্যদ্রব্য ঘরের ধুলো ময়লা প্রাণীর পশম এবং চুল পোকা-মাকড়ের কামড় ওষুধসহ কিছু রাসায়নিক দ্রব্যাদি প্রসাধন সামগ্রী উগ্র সুগন্ধি বা তীব্র দুর্গন্ধ।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা

রক্ত পরীক্ষা : বিশেষত রক্তে ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কিনা তা দেখা। সিরাম আইজিইর মাত্র : সাধারণত এলার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে আইজিইর মাত্রা বেশি থাকে।

স্কিন প্রিক টেস্ট : এই পরীক্ষায় রোগীর চামড়ার উপর বিভিন্ন এলার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং এই পরীক্ষাতে কোন্ কোন্ জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা ধরা পড়ে।

প্যাচ টেস্ট : এই পরীক্ষায় রোগীর ত্বকের উপর।

বুকের এক্সরে : হাঁপানি রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই বুকের এক্সরে করে নেয়া দরকার যে অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা।

স্পাইরোমেট্রি বা ফুসফুসের ক্ষমতা দেখা : এই পরীক্ষা করে রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা যায়।

সমন্বিতভাবে এলার্জির চিকিৎসা হলো : এলার্জেন পরিহার : যখন এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অ্যালোপ্যাথি ওষুধ প্রয়োগ

এলার্জি ভেদে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ প্রয়োগ করে এলার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায় কিন্তু নির্মূল করা অনেক কঠিন।
এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি: এলার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিনও এলার্জিজনিত রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়ে তাকে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভ্যাকসিন পদ্ধতির চিকিৎসাকে এলার্জিজনিত রোগের অন্যতম চিকিৎসা বলে অভিহিত করেন। এটাই এলোপ্যাথিতে এলার্জি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু স্থায়ী ভাবে এই চিকিৎসা এলার্জি নির্মূল করতে পারে না।

আরোগ্যকারী কার্যকর চিকিৎসা 

এখন পর্যন্ত অর্থাৎ এই আধুনিক যুগেও ৩০% এলার্জির কারণই নির্ণয় করতে পারেনি অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি। আর যেহেতু সেগুলির কারণ তাদের জানা নেই তাই তারা এর স্থায়ী আরোগ্য দানকারী চিকিৎসা দিতে অক্ষম। তবে তাদের চিকিৎসায় কিছুদের জন্য রোগ উপশম হবে মাত্র, সেটা স্থায়ী ভাবে ভালো হবে না অর্থাৎ কিছুদিন পর আবার আপনার অবস্থা হবে আগের মতোই। আর ঔষধের  পার্শপ্রতিক্রিয়া থাকার কারণে সাথে তৈরি হবে আরো কিছু জটিলতা। 
অথচ আপনি জানেন কি ?
হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণকে চিকিৎসা প্রদানকালে প্রাধান্য দেয়া হয় বলে যুগ যুগ ধরে এই চিকিৎসার মাধ্যমে সর্ব প্রকার এলার্জি এবং এলার্জি জনিত জটিলতা পুরুপুরি নির্মূল করে আসছে হোমিওপ্যাথরা। তাই এলার্জি সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। 
অবহেলা করলে এবং রোগ অনেকদিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানেও বাংলাদেশে এই পদ্ধতির চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বিস্তারিত

Monday, December 18, 2017

যে খাবারগুলো এলার্জির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে

অ্যালার্জি  (Allergy) সমস্যা খুবই সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যা। কম বেশী সকলেরই অ্যালার্জির সমস্যা থাকে। মূলত অ্যালার্জির সমস্যা বহু কিছু থেকেই হতে পারে।যেমনঃ ধুলাবালি থেকে হতে পারে ডাস্ট অ্যালার্জি, ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে হতে পারে কোল্ড অ্যালার্জি, অ্যালার্জি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে হতে পারে ফুড অ্যালার্জি। সকলে ধরণের অ্যালার্জির মধ্যে ফুড অ্যালার্জিটা সবচেয়ে বেশী মানুষের মাঝে দেখা যায়।

মূলত গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, বেগুন, ডিম ইত্যাদি খাবারে অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাবটা বেশী থাকে। তাই জেনে নিন কোন খাবারগুলো আপনার অ্যালার্জির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে আপনাকে দেবে স্বস্তি।
যে খাবারগুলো এলার্জির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে
ভিটামিন সি অথবা কমলা জাতীয় ফল:- অনেক সময় পাকস্থলীতে খুব বেশী পরিমাণে প্রোটিনের আধিক্য হলেও অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে থাকে। সে ক্ষেত্রে এসিড জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য বেশী পরিমাণে খেতে হবে।

লেবু:- লেবু হলো অন্যতম সাইট্রাস জাতীয় ফল যা অ্যালার্জির ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে থাকে। পানি এবং মধুর সাথে লেবুর রস মেশালে শরীরের জন্য দারুণ এক ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরি হয়ে যায়। নিয়মিত এই পানীয় পান করলে শরীরের টক্সিক পদার্থগুলো বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং অ্যালার্জির সমস্যা কমে আসবে।

কলা:- কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কম বেশী আমরা সকলেই জানি। তবে খুব দারুণ একটা ব্যাপার হচ্ছে, অ্যালার্জি জাতীয় কোন খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কলা খুবই উপকারী একটি খাদ্য। শরীরে লাল রঙের ছোট র‍্যাশ দেখা দিলে অথবা পেটের সমস্যা দেখা দিলে কলা খুবই উপকারী একটি খাদ্য। কারণ কলা শরীরের মেটাবলিজব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।

শসা এবং গাজরের রস:- কোন খাবার খাওয়ার পরে হুট করেই শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলে শসা এবং গাজরের রস একসাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেললে খুব দ্রুত কাজে দেবে। শসা এবং গাজর দুইটি সবজীতেই এন্টি অ্যালার্জিক উপাদান শরীরে অ্যালার্জির সমস্যাকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

আদা এবং আদা চা:- আদা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল এবং অ্যালার্জির সমস্যার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজে দেয়। প্রদাহজনক বিরোধী এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট মূলক উপাদান আদাতে থাকায় বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, হজমের সমস্যার এমনকি ডায়েরিয়ার ক্ষেত্রেও খুব কাজে দেয় আদা।

আদা চা তৈরি করতে কিছু আদা কুঁচি ফুটন্ত পানিতে দিয়ে ১০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর সেই পানি ছেঁকে নিয়ে কিছুটা আদার রস এবং মধু দিয়ে মিশিয়ে গরম গরম খেয়ে নিতে হবে।

ক্যাস্টর অয়েল:- ক্যাস্টর অয়েল শুধুমাত্র আপনার চুলের জন্য নয়, আপনার পাকস্থলী এবং এলার্জি জাতীয় কোন খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলেো ক্যাস্টর অয়েল দারুণ কাজ করে। অ্যালার্জির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে প্রতিদিন সকালে এক কাপ পরিমাণ পানিতে ৫-১০ ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন।

গ্রিন টি:- গ্রিন টি শুধুমাত্র ওজন কমাতেই নয় অ্যালার্জির সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে থাকে। গ্রিন টিতে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-হিস্টাসিন এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদানের জন্য অ্যালার্জিক খাবার খাওয়ার ফলে যে সকল সমস্যা দেখা দেয় তা বাঁধা দিয়ে থাকে।

অ্যালার্জির সমস্যা যাদের প্রকট তাদের জন্য অ্যালার্জি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। তবে ভুলবশত অথবা শখ করে অ্যালার্জি জাতীয় খাবার খাওয়া হয়ে গেলে দুশ্চিন্তা না করে অ্যালার্জির সমস্যা প্রতিরোধে উপরোক্ত খাবারগুলো খেয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

চিকিৎসা

এলার্জির ক্ষেত্রে পারসন ভেদে নানা প্রকার উপসর্গ দেখা দেয়। অ্যালোপ্যাথিতে ৩০% এলার্জির কোন চিকিৎসাই নেই। তারা শুধু আপনাকে কিছু নিয়ম-কানুন ধরিয়ে দিয়ে আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেবে। অথচ সেক্ষেত্রে আপনার রোগ নির্মূল করতে তারা অপারগ। 
আপনি জানেন কি ?হোমিওপ্যাথিতে সর্বপ্রকার এলার্জির স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। তবে হোমিও চিকিৎসার শর্ত হলো অভিজ্ঞ ডাক্তার থেকে আপনাকে  চিকিৎসা নিতে হবে যিনি আপনার যাবতীয় বিষয় পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ঔষধটি নির্বাচন করবেন। আপনি যদি পাশের দোকান থেকে ২০ টাকা আর ৫০ টাকার ঔষধ কিনে কিনে বছরের পর বছর ধরে খেতে থাকেন আর কোনো উপকার না পেয়ে বলেন হোমিওপ্যাথি খারাপ সেক্ষেত্রে যেসব অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারদের মোটা অংকের টাকা দিয়েও আপনার রোগ সারছে না তাদেরকে  আপনি কি বলবেন ?? তাদের ক্ষেত্রে আপনি একেবারেই চুপ!!  তাই বলবো অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার থেকে সঠিক চিকিৎসা নিন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 
বিস্তারিত

Saturday, December 16, 2017

ত্বকের সোরিয়াসিস চিরদিনের জন্য নির্মূল হয় ! এই রোগের কার্যকর চিকিৎসা কি দেখুন

অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারদের ভাষায় সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী দুরারোগ্য চর্মরোগ। এই রোগ নারী-পুরুষ সবারই হতে দেখা যায়। এখনো পর্যন্ত এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। সোরিয়াসিস হওয়ার পেছনে জন্মগত একটি প্রভাব আছে। পরিবেশগত কারণও জড়িত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা জড়িত, সব কিছু মিলিয়ে এটি একটি মাল্টি ফ্যাকটারাল ইউটোলজি। অনেক কিছু মিলে এই রোগটি হয়।

আগেই বলেছি অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারদের ভাষায়- সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী দুরারোগ্য চর্মরোগ। এই রোগ নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে দেখা যায়। এখনো পর্যন্ত এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে ত্বকে প্রথমে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং সে স্থানে লালচে ভাব দেখা যায়। একই সাথে ছোট ছোট গুটি যা চামড়া থেকে সামান্য উঁচুতে থাকে। ধীরে ধীরে এগুলো বড় হতে পারে। মাছের আঁশের মতো উজ্জ্বল সাদা শুকনো চটলা দ্বারা গুটিগুলো আচ্ছাদিত থাকে। এই আঁশগুলো ঘষে ঘষে তুললে আঁশের নিচের চামড়ায় লালচে ভাব দেখা যায় এবং তা থেকে রস-কষ ঝরতে পারে এবং সেখান থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণও হতে থাকে।
ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের কার্যকর চিকিৎসা
সাধারণভাবে একজন সোরিয়াসিসের রোগীকে দেখলে অন্যরা ভয় পেয়ে যান এবং অনেকেরই ধারণা এটা বুঝি ছোঁয়াচে। আসলে এটা কোনোক্রমেই ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটা কোনো জীবাণুজনিত রোগও নয়। তাই তার থেকে অন্য কারো হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। এটা তেমন বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টিও সাধারণত করে না।

সোরিয়াসিসে মূলত কী হয়?

সাধারণত দেখা যায় যে হাঁটুতে, কনুইতে, মাথায়, হাতের মধ্যে, হাতের তালুতে, পায়ের তালুতে কিছু রিংয়ের মতো প্লাক তৈরি হয়ে যায়। তখন সেখান থেকে চামড়া উঠতে থাকে। একসময় সেটা লাল আকার ধারণ করে। আমরা বলি সিলভার স্কেল, মাছের আশের মতো উঠতে থাকে। খুবই বিরক্তিকর একটি বিষয়। এটা নিয়ে রোগী খুব মনঃক্ষুণ্ণ থাকেন। কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলেন। এই সময় গাঁটগুলো শক্ত হয়ে যেতে থাকে। হাত পায়ের আঙ্গুলগুলো শক্ত হয়ে যেতে থাকে।

ত্বকের সোরিয়াসিস কাদের হয় 

নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই সমহারে হতে দেখা যায়। যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এ ক্ষেত্রে জেনেটিক বা পারিবারিক প্রভাব অবশ্যই আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেক কিছুরই প্রভাবে এটা বাড়তে দেখা গেছে। যেমন আঘাত, ইনফেকশন, দুশ্চিন্তা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, নানাকরম ওষুধ যেমন- কোনো ম্যালেরিয়ার ওষুধ, ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, হরমোন এবং কর্টিসেল জাতীয় ওষুধ সেবনে প্রাথমিকভাবে উপকার পেলেও পরে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের উপসর্গ 

সোরিয়াসিসের উপসর্গ ত্বকের যেকোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। ত্বক ছাড়া নখেও দেখা দিতে পারে। ত্বকের যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়, তা হলো কনুই, হাঁটু, মাথার চামড়া, কোমড়ের নিচের মধ্যখানের স্থানে ইত্যাদি। তবে এটা শরীরের যেকোনো স্থানের যেকোনো চামড়ায়ই হতে পারে। সাধারণত এ রোগে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উপাসর্গই থাকে না।

তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য চুলকানিভাব থাকতে পারে। তবে যাদের এ রোগ হয় তারা লোকসমাজে যেতে ইতস্তত করেন, যাদের কাছে যান তারাও দেখলে ছোঁয়াচে ভেবে ভয়ে দূরে থাকতে চান। কারণ চামড়া উঠতে উঠতে এমন এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয় যা কি না রোগীর জন্য এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে। আসলে কিন্তু এ রোগটি কোনো অবস্থাতেই ছোঁয়াচে নয়।

প্রথমে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, তারপর লালচে ভাব ধারণ করে, সেখানে ছোট ছোট গুটি দেখা দেয়, ওপরের ত্বকে চলটার আকারে মাছের আঁশের মতো শুকনো চামড়া দেখা দেয় যা কি না টানলে চলটাসহ উঠে আসে। খুঁটে বা টেনে এই চামড়া তুললে নিচে লালচে চামড়া দেখা যায়। যা থেকে রস ঝরে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ দেখা যায়। সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে ত্বকের উপসর্গের বাইরে সাধারণত কোনো শারীরিক উপসর্গ থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন হাত ও পায়ের গিরায় গিরায় বাতব্যথার মতো ব্যথা দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় সোরিয়াটিক আর্থোপ্যাথি।

এ ছাড়া হাত ও পায়ের তালুতে পুঁজ ভর্তি দানা দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় প্যাস্টুলার সোরিয়াসিস। আবার ছোট ছোট দানার আকারে লালচে আঁশযুক্ত সোরিয়াসিস যা সারা দেহসহ হাত-পা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যাকে বলা হয় গাটেট সোরিয়াসিস। সোরিয়াসিসে নখও আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নখের রঙ হলদে হতে পারে এবং নখের গায়ে ছোট ছোট দানার আকারে দেখা যায়। নখ পুরো হতে যেতে পারে, নখের গায়ে ফাটা ফাটা দাগ দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া সোরিয়াসিসে আর একটি জটিলতা দেখা দিতে পারে যাকে বলা হয় সোরিয়াটিক এরিথ্রোডারমা, যাতে সারা শরীরের ত্বকে প্রদাহ দেখা দেয় এবং সারা শরীরের ত্বক লালচে হয়ে ফুলে ওঠে। তার সারা শরীর থেকে শুকনো আঁশ ঝরে ঝরে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় রোগীর জীবন আশঙ্কাযুক্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সোরিয়াসিস যখন মাথায় দেখা দেয় তখন তাকে বলা হয় স্কালপ সোরিয়াসিস।

আমাদের দেশে কেন, পৃথিবীজুড়েই এটা ব্যাপক আকারে দেখা যায়। তবে অনেকেই এটাকে মাথার ত্বকের ছত্রাকজনিত চর্মরোগ (টিনিয়া ক্যাপিটিস) ভেবে ভুল করে থাকেন। এ ক্ষত্রে মাথার ত্বক থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি আঁশ উঠতে থাকে এবং আঁশের নিচের ত্বকে লালচে প্রদাহজনিতভাব দেখা যায়। তবে মাথায় তেমন কোনো চুলকানি থাকে না। অল্প সামান্য থাকলেও অনেকে আবার খুশকি ভেবেও ভুল করে থাকেন।

এর চিকিৎসার জন্য কী করা হয়? এটি কী পুরোপুরি ভালো হয়?

এটি পুরোপুরি ভালো হয় না - এই কথাটি বলে থাকেন অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারগণ। তবে তারা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনাকে চিকিৎসা দিবে।  শুধু এই রোগটি নিয়ে ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস হয়। পৃথিবীর সবাই এই রোগটি নিয়ে বেশ চিন্তিত। এবং নতুন নতুন অনেক চিকিৎসা বের হচ্ছে। এর অনেক ভালো চিকিৎসা রয়েছে। ব্যয়বহুল চিকিৎসা রয়েছে, আবার কম খরচেও এর চিকিৎসা করা যায়। রোগীকে কত কম খরচে কত সাধারণ ওষুধ দিয়ে ভালো রাখা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করি - ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের ক্ষেত্রে এই হল অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকদের বক্তব্য। 

সোরিয়াসিস চিরদিনের জন্য নির্মূল হয় ! আপনি জানেন কি 

অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারগণ বলে থাকেন চিকিৎসায় ত্বকের সোরিয়াসিস সম্পূর্ণরূপে সেরে যাবে এ কথা বলা সঙ্গত হবে না। অথচ সমগ্র বিশ্বে হাজার হাজার রোগী পরিপূর্ণরূপে সুস্থ হচ্ছে শুধু মাত্র হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমেই।
আপনি জানেন কি হোমিওপ্যাথি ডাক্তাররা সাফল্যের সাথেই ত্বকের সোরিয়াসিস রোগের কার্যকর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন যুগ যুগ ধরে এবং তাদের চিকিত্সায় সুস্থ হচ্ছেন হাজার হাজার রোগী।
অনেকেই বলেন আমি ২ মাস, ৩ মাস, ৬ মাস হোমিও ঔষধ খেয়েছি কিন্তু আমার রোগ ভালো হচ্ছে না, তাই হোমিওপ্যাথি ভালো না, হোমিওপ্যাথি খারাপ ইত্যাদি ইত্যাদি.........। এই প্রকার প্রশ্ন যারা করেন তাদের অব্শ্যই একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি -
যেখানে অ্যালোপ্যাথি ডাক্তাররা আপনাকে চিকিৎসা দিয়ে হাজার হাজার টাকা নিচ্ছেন অথচ রোগটাই তারা আপনার শরীর থেকে দূর করতে পারছেন না আর আপনি আপনার পাশের দোকান থেকে  ২০ টা আর ৫০টাকার হোমিও ঔষধ খেয়েই বলছেন আমার রোগ ভালো হচ্ছে না। 
আপনার জানা দরকার - আপনার রোগ ভালো হবে কি হবে না এটা নির্ভর করবে ডাক্তারের চিকিৎসা দক্ষতার উপর। আপনি যদি ভালো চিকিৎসা পেতে চান আপনাকে ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। তবে অবশ্যই অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তার থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরী।
বিস্তারিত