Showing posts with label নাক কান গলা. Show all posts
Showing posts with label নাক কান গলা. Show all posts

Monday, November 17, 2014

টনসিলের প্রদাহ (Tonsillitis) - কারণ, লক্ষণ ও চিকিত্সা

টনসিলের প্রদাহ বা Tonsillitis হলো আমাদের পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। মানুষের জিহ্বার গোড়ার দিকে আলজিব থাকে (Uvula) এবং এই আলজিভের দু পাশের স্থানকে টনসিল বলে। এই টনসিলের প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলে।  প্রথমত লক্ষনানুসারে টনসিলাইটিস দু প্রকারের হতে পারে যথা - Acute বা তরুণ  এবং Chronic বা পুরাতন। 

টনসিল প্রদাহের তরুণ রোগের লক্ষণ :- তরুণ রোগের লক্ষণ হচ্ছে যে প্রথমে দু পাশের টনসিল অথবা একদিকের একটি টনসিল স্ফীত হয় এবং বড় হতে হতে প্রায় সুপারির মত আকার ধারণ করে। আলজিভটি ফুলে লাল বর্ণ হয়ে যায়। আহার এবং পানীয় গ্রহনের পথ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে যায়, মুখ দিয়ে লালা ঝরে, টনসিলের বেদনা কান পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, শরীরে জ্বর হয়, জ্বরের তাপ মাত্র ১০৪ ডিগ্রী পর্যন্ত ওঠে, মখের চুয়ালে বেদনা হয়, গলা ফোলে যায়, হা করতে পারেনা। খাদ্য ও পানীয় গ্রহনের পথ (Pharynx )সংকোচিত হয়ে আসে। টনসিল অনেক সময় পাকে এবং ফেটে যায়, পাকার আগে ভীষণ যন্ত্রণা হয়, কম্পন দিয়ে জ্বর আসে। টনসিল ফেটে গেলে যন্ত্রণার উপশম হয়। 
টনসিলের প্রদাহ (Tonsillitis) - কারণ, লক্ষণ ও চিকিত্সা
টনসিল প্রদাহের পুরাতন রোগের লক্ষণ :- পুরাতন টনসিলের লক্ষণ হচ্ছে যে - রোগী বার বার এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং রোগটি কঠিন ও ভয়ংকর হয়ে দেখা দেয়। এই রোগ পুরাতন হলে রোগীর শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয় এবং একপ্রকার শব্দ হয়। হা করলে মুখের ভিতরে টনসিলটিকে একটি বড় সুপারির মত দেখায়। 

রোগের অবস্থানুসারে টনসিলাইটিস কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা কেটারাল, ফলিকিউলার এবং সাপরেটিব। কেটারাল অবস্থায় টনসিলের স্ফীত ভাব এবং সামান্য প্রদাহের সৃষ্টি হয় ফলিকিউলার টনসিলাইটিস্ অবস্থায় আলজিভের কাছে পোস্ত দানার মত একপ্রকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্ল্যান্ড থাকে, এই দানার মত গ্ল্যান্ড গুলোকে ফলিকলস বলে। যখন এই দানার মত গ্ল্যান্ড গুলো আক্রান্ত হয় তখন ইহাকে ফলিকিউলার টনসিলাইটিস বলা হয়। যখন গ্লান্ডের পেরেন কায়মা আক্রান্ত হয় এবং স্ফীত হয়ে প্রদাহ ভাবের সৃষ্টি করে এবং পুজের উত্পত্তি হয় তখন ইহাকে সাপুরেটিভ বা কুইনসি বলা হয়। 

টনসিলের প্রদাহ রোগের সূচনা দেখে বলা যায়না যে এই রোগটি কোন শ্রেণীর হবে অথবা কেমন অবস্থার সৃষ্টি করবে। এই রোগের লক্ষণ গুলোর মধ্য যথেষ্ট সাদৃশ থাকায় ইহাকে শ্রেণীভাগ করা বেশ কঠিন। Dr Walter sands mills সর্ব প্রথমে এই রোগের শ্রেণী বিভাগ করেন এবং তার এই শ্রেণী বিভাগ সংক্রান্ত সংবাদ ১৯০৩ সালে ২৪ শে জানুয়ারী নিউয়ের্কের Medical news এ প্রকাশিত হয়। তার এই রোগ সম্পর্কীয় লেখাটি "Tonsillitis classified as an infectious disease'' নামে প্রকাশিত হয়েছিল। 

টনসিল প্রদাহের কারণ :- সাধারনত ঠান্ডা লেগে এই রোগ হয়ে থাকে। এ ছাড়া ঋতূ পরিবর্তন, রক্তাধিক্য এবং স্ক্রুফলা ধাতুর ব্যক্তিগনের ঘাম হবার সময় হঠাৎ ঠান্ডা লেগে সেই ঘাম বন্ধ হয়ে এই রোগের সৃষ্টি করতে পারে।শরীরের অন্যান্য স্থানে প্রদাহ যে কারণে হয় টনসিলের প্রদাহও ঠিক একই কারণে হয়। টনসিলাইটিসের জন্য কোনো বিশেষ প্রকার জীবানু আছে বলে এখনো জানা যায়নি। তবে যত দূর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে তাতে দেখা যে -Staphylococci, Streptococci এবং Pneumococci প্রভৃতি জীবানুর সন্ধান এই রোগের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। 

টনসিল প্রদাহের লক্ষণ :- সাধারনত দেখা যায় এই রোগটি আক্রমনের সূচনা হতে প্রায় ১-৪ সপ্তাহ কাল পর্যন্ত স্থায়ী হয় অর্থাৎ রোগীর ভোগান্তি কাল প্রায় ৭-৩০ দিন পর্যন্ত। তবে ১০/১৫ দিনের মধ্য ইহার যাবতীয় লক্ষণগুলো প্রকাশ লাভ করে। ইহার প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায় গলা বেদনার মাধ্যমে ইহার পর আনুসঙ্গীক উপসর্গ গুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে যেমন - মাথার যন্ত্রণা, পিঠে বেদনা, দুর্বলতা, শরীরের নানা স্থানে বেদনার ভাব, মুখ মন্ডল স্ফীত এবং রক্তিম বর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি লক্ষণগুলো খুব দ্রুত প্রকাশ পেতে থাকে, জ্বর হয়, অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে জ্বর ভাব বর্তমান থাকে, শীত শীত ভাব বর্তমান, জ্বরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০১ ডিগ্রী হতে ১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত ওঠে, জ্বরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তৃতীয় দিনের সন্ধার সময় ওঠে। জিহ্বায় ময়লার প্রলেপ, জিহ্বা শুকানো, মুখ থেকে প্রচুর লালা নিসৃত হয়। 

টনসিল দুটি অথবা একটি স্ফিত হয়ে রক্তিম বর্ণ ধারণ করে। এই স্ফিত এবং রক্তিম ভাব মুখের বিসৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পরে। গলায় বেদনা এবং প্রদাহ ভাব দেখা দেয়। রোগী হা করতে পারেনা এমনকি কথা বলতে কষ্ট বোধ করে। টনসিলাইটিস অনেক সময় স্বরযন্ত্রের উপর খারাপ প্রভাব বিস্তার করে, রোগীর স্বরভংগ ভাব দেখা দেয় এবং নাকি সুরে কথা বলে। এই রোগের লক্ষণগত বৈশিষ্ট দেখে চিকিত্সকগণ ইহার শ্রেণী ভাগ করে থাকেন এবং এই শ্রেণী ভাগের কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। 

টনসিলাইটিসের ভাবীফল অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারণ করে থাকে। তবে সাধারণ ভাবে এই রোগ নির্ণয় করা সহজ, অনেক সময় খাদ্যনালী আক্রান্ত হয়ে রোগীর অবস্থা খুব সংকটময় করে তুলে আবার অনেক সময় আরক্ত জ্বর দেখা দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, ফলিকিউলার টনসিলাইটিস্ ডিপথেরিয়া রোগের সৃষ্টি হয়. ফলিকিউলার টনসিলাইটিস এবং ডিপথেরিয়া লক্ষণগুলো প্রায় এক এবং যথেষ্ট সাদৃশযুক্ত। 

তাই অনেক চিকিত্সকগণই অনেক সময় সঠিক ভাবে রোগীর রোগ নির্ণয় করতে পারেননা। অর্থাৎ রোগী ফলিকিউলার টনসিলাইটিস আক্রান্ত অথবা ডিপথেরিয়া আক্রান্ত এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সাপরেটিব টনসিলাইটিস অনেক সময় খাদ্য নালীতে ফোড়া সৃষ্টি করে এমন ভয়ংকর রূপ লাভ করে যে ইহাতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই রোগে রোগীর মৃত্যু সংখ্যা তেমন যথেষ্ট নয়। লক্ষনানুসারে উপযুক্ত হোমিও চিকিত্সা নিলে ইহা পরিপূর্ণ ভাবে  আরোগ্য হয়ে যায়। তবে অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সা নেয়া জরুরী। 
বিস্তারিত

Wednesday, August 27, 2014

কানে তীব্র ব্যথা হলে তাত্ক্ষণিক ভাবে যা যা করতে পারেন !

কানের ব্যথা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। আর নানা কারণে কানে তীব্র ব্যথা হতে পারে যেমন :- কানের ভেতরে ব্রণের সমস্যা, কানে পানি ঢোকা, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, ঠাণ্ডা, কানের কোনো রোগ, অ্যালার্জি, ফাঙ্গাস, দুর্ঘটনায় কানে ব্যথা পাওয়া ইত্যাদি। ব্যথার সময় ভুলেও কানে আঙুল কিংবা অন্য কোনো কিছু অথবা কটন বাড জাতীয় জিনিস ঢোকানো যাবে না। কানের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসা নিতে পারেন খুব সহজেই। এতে করে খুব দ্রুত কানের তীব্র ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যদি এতে কাজ না হয় তবে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে।
আদার রস :-
আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান দ্রুত কানের ব্যথা উপশমে বেশ কার্যকরী। আদা ছেঁচে নিয়ে এর তাজা রস ২/৩ ফোঁটা কানের ভেতর দিয়ে দিন। ব্যথা উপশম হবে। এছাড়াও আদা থেঁতো করে তিলের তেলে ফুটিয়ে তেল কানের ভেতর দিতে পারেন, এতেও ভালো কাজ হয়।

গরম ভাপ :-
একটি বোতলে কিংবা হট ব্যাগে গরম পানি নিয়ে অথবা একটি সুতি পাতলা কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে কানের কাছে চেপে ধরুন। গরম ভাপ কানের ভেতরে গেলে কানের ভেতরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। এতে করে কানের ব্যথা উপশম হবে।

পেঁয়াজের রস :-
পেঁয়াজ অনেক কার্যকরী অ্যান্টিসেপ্টিক। পেঁয়াজ গ্রেট বা কুঁচি করে নিয়ে চিপে রস বের করে দিনে অন্তত ২/৩ বার ৩/৪ ফোঁটা করে আক্রান্ত কানের ভেতর দেবেন। এতে করে কানের ব্যথা দূর হবে।

রসুন ও তিলের তেল :-
রসুনের অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান কানের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের ব্যথা উপশমে কাজ করে। ২ টেবিল চামচ তিলের তেলে ১ চা চামচ থেঁতো করা রসুন ফুটিয়ে নিন ২/৩ মিনিট। রসুন ছেঁকে নিয়ে এই তেল ঠাণ্ডা হতে দিন। তেল ঠাণ্ডা হলে ২/১ ফোঁটা তেল কানের ভেতর দিয়ে দিন। ব্যথা কমে যাবে।

লবণ :-
একটি প্যানে লবণ দিয়ে ভাজতে থাকুন। লবণ বাদামী বর্ণ ধারণ করলে তা চুলা থেকে নামিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড়ে পেঁচিয়ে নিয়ে কানের এই লবণের গরম ভাপ নিন। এতে করে কানের ব্যথা তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হবে।

অলিভ অয়েল :-
অলিভ অয়েল গরম করে নিন। কুসুম গরম থাকতে থাকতেই ৩/৪ ফোঁটা অলিভ অয়েল ড্রপার দিয়ে কানের ভেতর দিয়ে দিন। এতে কানের ইনফেকশন জনিত ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন খুব দ্রুত।

কানে ব্যথায় আপনার পছন্দমত উপরের পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারেন কিন্তু এই প্রাথমিক চেষ্টায় কোনো ফল না হলে বুঝতে হবে সমস্যাটা কঠিন তাই দেরি না করে তখন আপনার চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ করুন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Thursday, July 31, 2014

টনসিলের প্রদাহ কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার/চিকিত্সা

আমাদের গলা ও শ্বাস নালীর বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু Lymphoid Tissue আছে। এদের টনসিল বলে। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে যদি এসব টনসিল ফুলে যায় তাহলে একে টনসিলাইটিস বা সোজা ভাষায় টনসিলের সমস্যা বা টনসিলের প্রদাহ বলে। গলার দু পাশে টনসিলের প্রদাহ সাধারনত ১০ বছরের নিচে বাচ্চাদের বেশি হয়।
টনসিলের লক্ষণসমূহ :-

  • গিলতে অসুবিধা, ফলে বাচ্চারা খেতে চায় না
  • কানে ব্যথা
  • জ্বর, জ্বরে কাঁপুনি
  • মাথা ব্যথা
  • গলার লিম্ফ গ্রন্থি বড় হয়ে গলা ফোলা মনে হয়
  • Tonsil দেখতে লাল হয়ে যায় ও এর উপর সাদা সাদা বা হলুদ দাগ দেখা যায়
  • গলায় ও মাড়িতে ব্যথা হয়
জটিলতা :-
  • Tonsil ফুলে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • গিলতে অসুবিধা হওয়ায় পানি না খেয়ে ডিহাইড্রেশন
  • বাতজ্বর এমনকি রিউমেটিক হার্ট ডিজিজ
  • গলার অন্যান্য স্থানে পেরিটনসিলার এবসিস
কি করলে ভাল লাগবে ?
  • ঠান্ডা তরল পান করা করা আইসক্রিম চুষে খাওয়া
  • উষ্ণ গরম পানি খাওয়া
  • কুসুম গরম পানি দিয়ে বার বার গড়গড়া করা
  • বেনজোকাইন জাতীয় লজেন্স চুষে খাওয়া
চিকিত্সা :-
যখন দেখবেন মুখ দিয়ে লালা নিঃসরণ হচ্ছে। জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি।  ফলার পেছন দিকে পুঁজ দেখা যাচ্ছে, গিলতে অসুবিধা হচ্ছে, গলায় ফুলে ওঠা লিম্ফ গ্রন্থিতে অনেক ব্যথা করছে, তখন আর দেরি না করে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন কারণ অ্যালোপ্যাথরা আপনাকে হয় আন্টিবায়োটিক দিবে না হয় অপারেশন  করার পরামর্শ দিবে। অন্যদিকে হোমিওপ্যাথি আপনাকে পরিপূর্ণ ভাবে সারিয়ে তুলবে কোন প্রকার সার্জারি ছাড়াই। 
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Wednesday, July 30, 2014

সাইনোসাইটিসের কার্যকর হোমিও চিকিত্সা

সাইনোসাইটিসের সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। এটা হল নাক, কান ও গলা বিভাগের একটা রোগ।  নাক, কান ও গলা এ তিনটি অংশের যে কোনো একটি অথবা একত্রে তিনটিই রোগাক্রান্ত হতে পারে। কোনো মানুষের রক্তের Esonophil এবং Serum IGE-এর পরিমাণ বাড়তে থাকলে এমনিতেই ঠাণ্ডা, হাচি, সর্দি লেগে যায়। এক পর্যায়ে নাকের ভেতরের মাংস ও টনসিল বৃদ্ধি হয় এবং সব শৈ্লষ্মিক ঝিলি্লগুলোতে অ্যালার্জিক প্রদাহ সৃষ্টি হয়। 
নাকের মাঝে ও কপালের চামড়ার নিচে ৮টি কুঠুরি/স্তর থাকে। এই কুঠুরিগুলোকে বলা হয় সাইনাস। Cold Alargy কারণে এই সাইনাসগুলোতে প্রদাহের সৃষ্টি ও ইনফেকশন হয়। এই প্রদাহ ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাকে সাইনোসাইটিস বলে। 


সাইনাস সাধারণত চার প্রকার। যথা- Maxylary, Frontal, IIhmoedal and Sphenedal সাধারণত Maxylary and Frontal সাইনাসে ইনফেকশন হয়। মাথার খুলির মধ্যে যে সাইনাস থাকে সেগুলোর বিশেষ ধরনের কাজ রয়েছে। এসব সাইনাস মাথার মধ্যে অবস্থিত বাতাসকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুতে কাজ করে মাথাকে হালকা রাখে ও খুলির বিভিন্ন অঙ্গকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করে। 

সাইনাসাটিস দুই ধরনের হয়। একটি Acute (নতুন) অর্থাৎ তীব্র প্রদাহযুক্ত সাইনাস অন্যটি Cronic (পুরনো)। এটি দীর্ঘদিনের, এর প্রদাহটা সাধারণত আস্তে আস্তে হয়। সাইনোসাইটিস সাধারণত ঠাণ্ডা ও ভেজা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও ধুলাবালি ধোয়াযুক্ত পরিবেশে বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে সাইনোসাইটিস হতে পারে। যেমন : নাকের ইনফেকশন, নাকের ভেতর ঝিলি্লর প্রদাহ, নাকের মাংস বাড়া, ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণ, যেমন : Hemofitus, Steptococus and Club sela ইত্যাদি। এছাড়া দূষিত পানি ব্যবহারেও সাইনোসাইটিস হতে পারে। 

সাইনোসাইটিসের কারণে নাকের পলিপাস (নাকে মাংস ও বাড়া DNS) ও নাকের হাড় বাড়ে। সাধারণত সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীরই নাকের ভেতর মাংস বাড়ে।  সাধারণত অ্যালোপ্যাথিতে অপারেশন ও সিরিঞ্জ দ্বারা পানি ঢুকিয়ে ওয়াসের মাধ্যমে সাইনোসাইটিসের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে দেখা যায়, বছরে কমপক্ষে দুইবার এ ধরনের ওয়াসের মতো কষ্টকর ট্রিটমেন্ট নিতে হয়। এটি রোগীর জন্য দীর্ঘ সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ চিকিৎসা। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় প্রথমে লক্ষণ অনুযায়ী এলার্জির ওপর চিকিৎসা দিয়ে অল্প কয়েক মাসের চিকিৎসায় সাইনোসাইটিসের তীব্র কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই অযথা কষ্ট না করে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন। 
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Friday, July 25, 2014

নাক, কান, গলা রোগসমূহের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

এ বিষয়ের উপর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করেছে ডা: এস এম আবদুল আজিজ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, অন্য যত প্রাণী আছে তাদের মধ্যে মানবজাতিকে সুন্দর অঙ্গের সমন্বয়ে অত্যন্ত সুচারুরূপে সৃষ্টি করেছেন। মানবদেহের অঙ্গগুলোর মধ্যে নাক, কান ও গলাকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছেন। এ তিনটি অঙ্গের যেকোনো একটি অসুস্থ হলে সম্পূর্ণ মানবদেহই অসুস্থ হয়ে যায়। 
হোমিওপ্যাথিতে রোগের নয়, রোগীর চিকিৎসা করা হয়। হোমিওপ্যাথি যদিও কোনো অঙ্গের নির্দিষ্টভাবে চিকিৎসা দেয়াকে সমর্থন করে না, তবুও উপরিউক্ত অঙ্গগুলো যেকোনো একটি রোগাক্রান্ত হলে অন্য বিধানের চিকিৎসক তথা অ্যালোপ্যাথিকেরা অপারেশন বা সার্জারির জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দেখা যায় তার বর্তমান রোগ লক্ষণ যেমন নাক, গলগণ্ড ও নাকের পলিপাস নাকে ডিএনএস সাইনোসাইটিসসহ বিভিন্ন সমস্যার, সাময়িক সমাধান হলেও অপারেশন বা অস্ত্রোপচারের ফলে অন্য আরো কয়েক ধরনের রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। যার ফলে পরবর্তীকালে রোগীকে অনেক কষ্ট পেতে হয়। এ সমস্যার দিকে লক্ষ রেখেই মানবদেহের রোগ তথা নাক, কান ও গলার যে ধরনের রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, সেসব রোগের লক্ষণ ভিত্তিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রোগীকে অতি অল্প সময়ে বিনাকষ্টে অস্ত্রোপচার ছাড়াই আরোগ্য করা সম্ভব। 

নাক, কান, গলা ও টিউমারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিতে অস্ত্রোপচার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ওষুধ সম্বন্ধে একাধিক হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়ামেডিকা ও রেপার্টরি অধ্যয়ন করলে প্রকৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সফলতা পাওয়া যাবে।

মানবদেহের রোগ লক্ষণভিত্তিক নিম্নের ওষুধগুলোর সাহায্যে চিকিৎসা করা যেতে পারে নাকের পলিপাস ও সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে ১. এলিয়াম সিপা, ২. স্যাংগুইনিয়া, ৩. থুজা, ৪. অরামমেট, ৫. মার্ক সল, ৬. লাইকোপডিয়াম, ৭. নাক্স ভূমিকা ইত্যাদি ওষুধ নাকের পলিপাসের চিকিৎসায় সফলতার আশা করা যায়। তবে এগুলির প্রয়োগ প্রণালী চিকিত্সক ভেদে ভিন্ন হতে পারে। রোগীরা সরাসরি ঔষধ খেতে যাবেন না। অবশ্যই ভাল কোন হোমিওপ্যাথের কাছে ট্রিটমেন্ট নিবেন। 

এ ছাড়াও বায়োকেমিক ওষুধেও নাকের পলিপাস ও সাইনোসাইটিসের চিকিৎসা করা সম্ভব। রোগের সিম্পটম বা লক্ষণের প্রতি লক্ষ রেখে এই মেডিসিনগুলোও প্রয়োগ করা যেতে পারে যথা: ১. ক্যালকেরিয়া ফ্লোর ২. ক্যালি ফস ৩. ক্যালি মিওর ৪. ন্যাটরাম মিওর ইত্যাদি।

কানের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ১. কস্টিকাম ২. বেলেডোনা ৩. হিপার সালপ ৪. সাইলিসিয়া ৫. প্লানটা গো ৬. লাইকোপডিয়াম ৭. ম্যাডোরিনাম ইত্যাদি।

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচনা থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছি এটা একটি প্রকৃত চিকিৎসাবিজ্ঞান। রোগীর কী কষ্ট, কী তার ইচ্ছা, কী তার চাওয়াপাওয়া সব কিছুই বিবেচনা করে ওষুধ প্রয়োগ করাই হবে একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাজ। এত সুন্দর একটা চিকিৎসা বিধান মানবজাতিকে ডা: স্যামুয়েল হ্যানিম্যান উপহার দিয়েছেন।

ডা: স্যামুয়েল হানেমানের আবিষ্কৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে মানবজাতিকে সুস্থ ও আরোগ্য করতে সক্ষম হচ্ছে। মানুষ জটিল, কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থা মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখছে। যেকোন অসুস্থতায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, সফল এবং আধুনিক হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা গ্রহণ করুন। সুস্থ থাকুন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত