Showing posts with label নারীর স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label নারীর স্বাস্থ্য. Show all posts

Sunday, April 15, 2018

সহজে মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করার স্থায়ী উপায়

অনেক মেয়েদের দেখা যায় ঠোঁটের  উপরের  বা মুখের লোম দূর করার জন্য বা উঠানোর উপায় হিসেবে লোম নাশক ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এতে একেবারে সমস্যাটি দূর হয় না। অনেকে আবার এই কাজটি করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন। তাতেও স্বস্তি নেই। কারণ কিছু দিন পর আবার হয়।
আপনি জানেন কি ? যদি মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করতে চান তাহলে কিছুদিন হোমিও চিকিৎসা নিলেই সমস্যাটি দূর হয়ে যায়। অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট দিন। এতে নেই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্যা। আর এটিই হলো আপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান। 
আর যদি অস্থায়ী সমাধান চান তা হলে নিচের প্রক্রিয়াগুলি অনুসরণ করতে পারেন। তার আগে আপনাকে দেখতে হবে কোনটি আপনার ক্ষেত্রে কাজ করে। যেটি কাজ করে সেটি অনুসরণ করতে পারেন বার বার।
সহজে মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করার স্থায়ী উপায়
১। বেসন এবং হলুদের প্যাক :- এক চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং পরিমাণমত দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ভাবে ঠোঁটের উপরের লোম দূর করে দেবে। এটি সপ্তাহে দুই তিন বার ব্যবহার করুন।

২। ডিমের সাদা অংশ :- ঠোঁটের উপরে অংশের লোম দূর করতে ডিমের সাদা অংশ বেশ কার্যকর। একটি ডিমের সাদা অংশ, কর্ণ ফ্লাওয়ার এবং চিনি ভাল করে ফেটে নিন। এবার এই পেস্টটি ঠোঁটের উপর লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে এটি তুলে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন। এক মাসের মধ্যে আপনি দেখতে পাবেন আপনার লোম অনেকটা কমে এসেছে।

৩। চিনি :- ঘরোয়া ওয়াক্সিং করার অন্যতম উপাদান হল চিনি। চিনি অবাঞ্ছিত লোম দূর করে এবং নতুন লোম জন্মাতে বাঁধা দিয়ে থাকে। একটি প্যানে কিছু পরিমাণ চিনি এক মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে কিছু পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ঘন করে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন। এবার একটি কাপড় দিয়ে চক্রাকারে ঘষুন এবং লোমের বিপরীতে টান দিন।

৪। চালের গুঁড়ো এবং টকদই:- চালের গুঁড়ো এবং টকদই মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫। ময়দা :- ময়দা, দুধ এবং হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে এটি টান দিয়ে তুলে ফেলুন। সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী একটি উপায়ের মধ্যে এটি অন্যতম।

বিস্তারিত

Wednesday, January 17, 2018

সিজারিয়ান ডেলিভারী (প্রসব) মা ও শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর? দেখুন ভিডিওতে

আপনি জানেন কি সিজারিয়ান প্রসব মা ও শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর।  বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ। দেখুন মা-শিশুর জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ সিজারিয়ান প্রসব? (ভিডিও)

যদিও সিজারিয়ান করানো খুব সাধারণ ব্যাপার আজকাল, কিন্তু এটা একটা বড় অপারেশন তাই এর নিজস্ব কিছু ঝুঁকি থাকে। এজন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ ছাড়া ডাক্তার সিজারিয়ান করানোর পরামর্শ দেননা। গর্ভাবস্থায় কোন জটিল সমস্যা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে ভ্যাজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ। নরমাল ডেলিভারি শুধু বর্তমান গর্ভাবস্থার জন্যই ভালো নয় বরং পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্যও ভালো।

কখনো কখনো মা ও বাচ্চার জীবন রক্ষার্থে সিজারিয়ান করতে হয়, সেই পরিস্থিতিতে প্রশ্নাতীত ভাবেই সিজারিয়ান করানোটা হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ। আবার এমনও হতে পারে যে, আপনি কোন বিশেষ দিনে বিশেষ উপায়ে বাচ্চার জন্ম দিতে চান তখন ডাক্তার আপনাকে সিজারিয়ান করানোর পরামর্শ দেন। তবে আপনার এই সিদ্ধান্ত আপনার স্বাস্থ্য ও জীবনধারায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।
সিজারিয়ান ডেলিভারী (প্রসব) মা ও শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর
বর্তমানে চারজনের মধ্যে একজন শিশু সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয়। BBC  ও Guardian এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।    

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে মায়ের সুবিধা সমূহ-
  •  প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয়না
  • অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হয়না
  • ভ্যাজাইনাল ইনজুরি হয়না

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে মায়ের অসুবিধা সমূহ-

  • অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়
  • শিশুর জন্মের পরও ব্লিডিং হলে অনেক ক্ষেত্রে গর্ভ অপসারণ করে ফেলতে হয়  একে হিস্টেরেক্টমি বলে।
  • হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ইউটেরাইন ইনফেকশন এর ঝুঁকি বাড়ে।
  • অপারেশনের পরে ব্যাথা হয় যা প্রায় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
  • পরবর্তীতে সন্তান ধারণের সময় এক্টোপিক বা টিউবাল প্রেগনেন্সি, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টা অ্যাক্রিটা এবং প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন এর সমস্যাগুলো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে বাচ্চার অসুবিধা সমূহ-

  • ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রাখতে হয়
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা থাকে
  • ব্রেস্ট ফিডিং এর অভ্যাস গড়ে উঠতে দেরি হয়
The Australian study  তাদের এক গবেষণায় দেখেছে যে, সিজারিয়ান করানো মায়েদের মধ্যে মানসিক প্রতিকূলতার প্রভাব প্রাকৃতিক প্রসবের মায়েদের চেয়ে বেশি হয়। সিজারিয়ান করানো মায়েদের মধ্যে বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং এ সমস্যা হতে পারে।

সিজারিয়ান ডেলিভারিতে কি পাচ্ছি

  • সফলভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর সংগঠন বৈজ্ঞানিক তথ্যে জানাচ্ছে, নরমাল জরায়ুমুখ প্রসবের তুলনায় সিজারিয়ান শিশুর মাতৃদুগ্ধ পান শুরু বেশি সমস্যাঘন থাকে।
  • সিজারিয়ান অপারেশনে মাকে অস্ত্রোপচারের জন্য যেসব অ্যানেসথেটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তা নবজাতক শিশুতে প্রভাব ফেলতে পারে। সফল বুকের দুধ পানে বাধা হয়ে উঠতে পারে।
  • সিজারিয়ান ডেলিভারির ফলে মাকে বাকি জীবনে মানতে হয় বিভিন্ন বিধিনিষেধ। যা বলতে গেলে তার স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
  • সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুর হাসপাতালে থাকার সময়কাল বেশি বলে বেশি ইনফেকশন ঝুঁকিতে থাকে এসব শিশু।
  • সিজারিয়ান শিশুতে ব্লাড ইনফেকশন হার বেশি। জন্ডিস দেখা দেওয়ার পাল্লাটা খানিক হেলানো। ফরসেপের তুলনায় মাথায় আঘাতের আশংকা ৬০ শতাংশ কম কিন্তু সিজারিয়ান বেবিতে ইনটেনসিভ কেয়ার পরিচর্যার সংখ্যা ফরসেপের তুলনায় ২ দশমিক ৬ গুণ বেশি।
  • ২৫ শতাংশ সি-সেকশনে সময়ের দুই-তিন সপ্তাহ আগে সন্তান জন্মদান হয়ে যায়। শিশু ইনফেকশনে পড়ার এটিও এক কারণ হয়ে থাকতে পারে।
  • সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশু অণুজীবাণু পায় হাসপাতালের পরিবেশ থেকে, যা অত্যন্ত ভয়ংকর জীবাণু। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয় খর্ব।
  • মিউনিখ, জার্মানিতে ৮৬৫ জন বেবি, যারা প্রথম চার মাস শুধু বুকের দুধে নির্ভরশীল ছিল, পরবর্তী সময়ে ১২ মাস বয়সে এসে দেখা যায় সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুতে ডায়রিয়া হওয়ার ৪৬ গুণ বেশি ঝুঁকি মিলছে।
  • কিডস অ্যালার্জি রিস্ক ডাটা দেখাচ্ছে সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুতে অ্যালার্জির প্রবণতা বেশি। গরুর দুধে অ্যালার্জি প্রায় দুই গুণ বেশি। অন্য পাঁচটা উপাদানেও অ্যালার্জিরভাব বেশি।
  • ২০০১ সালে প্রকাশিত জার্নাল অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমিউনোলজি দেখাচ্ছে, সিজারিয়ান বাচ্চাদের মধ্যে অ্যাজমার প্রবণতা বেশি থাকে। এই গবেষণা হয়েছে ফিনল্যান্ডে
  • *শিকাগোর ডা. এলিউট এম লেভিন ও সহযোগী গবেষকদের মতে, সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুতে প্রাইমারি পালমোনারি উচ্চ রক্তচাপ পাঁচ গুণ বেশি। প্রতি হাজারে প্রায় চারজনে ঘটে। নরমাল ডেলিভারির শিশুতে এই হার ০.৮ প্রতি ১০০০ শিশু জন্মে।
  • নিউরোসায়েন্সের বিজ্ঞানীরা ইঁদুরে ওপর গবেষণা করে পেয়েছেন, সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশু পরবর্তী সময়ে সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক রোগে ভোগার ঝুঁকিতে থাকে বেশি।
  • যেসব মা সিজারিয়ান অপারেশনে বাচ্চা জন্মদানে বেশি আগ্রহী থাকেন, সেসব নবজাতক সন্তানের প্রথম ২৮ দিনে মৃত্যুহার তিন গুণ বেশি থাকে।
অতএব আপনিই এবার সিদ্ধান্ত নিন, কোনটা, কেন যৌক্তিক?
এবার আমরা জানবো প্রাকৃতিক প্রসবের সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি –
  • ভেজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি অস্বস্তিকর ও কষ্টকর।
  • নরমাল ডেলিভারি নোংরা মনে হতে পারে। শরীর থেকে অনেক ঘাম, অ্যামনিওটিক তরল, রক্ত এবং বাচ্চার জন্মের পর প্লাসেন্টা বা নাড়ি বের হয়।
  • ভ্যাজাইনাল ইনজুরি হতে পারে। অনেক সময় সেলাই লাগতে পারে।
  • নরমাল ডেলিভারি হলে মা কয়েক ঘন্টা পরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারে।
  • ভালোভাবে বাচ্চার জন্ম হয়ে গেলে বাচ্চা শান্ত থাকে।
  • বাচ্চার জন্মের পর মা শারীরিক ও মানসিক শক্তি লাভ করে। এর মাধ্যমে সে শান্তি ও অর্জনের বিস্ময়কর অনুভূতি পায়।
  • বাচ্চার জন্মের পর বাচ্চাকে সাথে সাথেই শাল দুধ খাওয়ানো সহজ হয় ফলে মা ও বাচ্চার সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
  • নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চাকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্ম নিতে হয় তাঁতে বাচ্চার ফুসফুস শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার জন্য প্রস্তুত ও শক্তিশালী হয়।  

বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ

সফল ভাবে বাচ্চা প্রসবের জন্য যে কাজ গুলো করা প্রয়োজন এবং যে কাজ গুলো করা ঠিক না সেগুলো জেনে নেই আসুন।

১। প্রাকৃতিক ভাবে বাচ্চা প্রসবের জন্য একজন স্বাস্থ্য কর্মী বা ধাত্রীর প্রয়োজন। সান ফ্রান্সিস্কো এর ওয়াইজওমেনচাইল্ডবার্থ.কম এর সারটিফাইড প্রফেশনাল মিডওয়াইফ, লাইসেন্সড মিডওয়াইফ মারিয়া লরিলো পরামর্শ দেন, “প্রাকৃতিক ভাবে বাচ্চা প্রসবের জন্য একজন ডাক্তার বা দাই এর ব্যবস্থা করতে হবে যিনি পুরো বিষয়টাকে সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করাতে পারবেন”।     

২। প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিষ গুলো জীবাণু মুক্ত করে নিতে হবে।

৩। বিজ্ঞানীদের মতে সদ্যজাত বাচ্চার নাড়ীতে প্রচুর আয়রন থাকে যা জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে বাচ্চার শরীরে উৎপন্ন হয়না। তাই জন্মের অন্তত ২ মিনিট পরে নাড়ী কাটা ভালো যাতে শিশু অনেক বেশি আয়রন নিয়ে নিতে পারে।

৪। জন্মের সাথে সাথে বাচ্চাকে দূরে সরিয়ে না নিয়ে মায়ের বুকে নিলে বন্ধন দৃঢ়  হয়।

৫। জন্মের পরপর বাচ্চাকে শাল দুধ খাওয়াতে হবে। বাচ্চাকে বুকের দুধ দিলে বাচ্চা এবং মা উভয়ের জন্যই ভালো। বুকের দুধ বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং মাকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, বাচ্চা ও মায়ের বন্ধন দৃঢ় হয়।

৬। বাচ্চার জন্মের ব্যাপারে ভয়ংকর কিছু হতে পারে বা হয়েছে এমন কারো গল্প শুনবেন না বরং সব সময় ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন।

যুক্তরাজ্যের National Institute for Clinical Excellence  এর মতে, ‘সকল মহিলাদেরই অধিকার আছে বাচ্চার জন্মের পদ্ধতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার। কিন্তু তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে তাঁদেরকে সাহায্য করার জন্য সঠিক পরামর্শ দেয়াও জরুরি’। মহিলাদের জন্য বাচ্চার জন্মের দিনটা অনেক মোহনীয় ও স্মরণীয় একটি দিন। প্রসব বেদনা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি কষ্টের কিন্তু মা যখন তাঁর সদ্যজাত সন্তানের মুখ দেখেন তখন তাঁর সব কষ্ট ভুলে যান।

সিজারিয়ানকে না বলুন এবং নরমাল ডেলিভারী নিশ্চিত করুন 

আপনি জানেন কি সন্তান পেটে আসার পর অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে নিয়মিত নির্দিষ্ট হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে নরমাল ডেলিভারী নিশ্চিত করা যায়। তাই আসুন সিজারিয়ান প্রসবকে না বলি এবং নরমাল প্রসব নিশ্চিত করি। 
বিস্তারিত

Saturday, August 15, 2015

স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

দুই বৎসর বা তার থেকে বেশি সময় চেষ্টা করার পড়েও গর্ভধারণে ব্যার্থ হলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বন্ধ্যত্ব বলে। ৮% দম্পতি বন্ধ্যত্বের শিকার হন। বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের কারণে হতে পারে। বন্ধ্যত্ব দু ধরনের যথা:

প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব :- বিবাহের পর সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কখনই গর্ভধারণ না হওয়াকে প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব বলে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব :- কোন মহিলা প্রথম বার গর্ভধারণের পর দ্বিতীয় বার আর যদি গর্ভধারণ করতে না পারে তবে তাকে পরবর্তী বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব বলে।
স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
কারণ:- বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজনের কারণে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে অন্যায় ভাবে শুধুমাত্র স্ত্রীদেরকে দোষারোপ করা হয় এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে স্বামীকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়েতে উৎসাহিত করা হয়।

ক) স্বামীর কারণে বন্ধ্যত্ব:- 
  • স্বামীর বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে।
  • মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণু বিহীন বীর্যের কারণে
  • একটি অণ্ডকোষ/লুপ্ত প্রায় অণ্ডকোষ/অণ্ডকোষ জন্মগত ভাবে না থাকলে।
  • অণ্ডকোষের প্রদাহ, মাম্পস বা গলা ফুলা রোগের প্রদাহের কারণে।
  • বিকৃত শুক্রাণু থাকলে।
  • যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম হলে।
  • শুক্রাণু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও পরিবেষ অণ্ড কোষে না থাকলে।
  • যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা, গনোরিয়া প্রভৃতি রোগ থাকলে।
খ) স্ত্রীর কারণে বন্ধ্যত্ব:-
  • যদি জরায়ুর আকার ছোট হয়।
  • ডিম্বাশয় যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে।
  • মাসিকের গণ্ডগোল থাকলে।
  • বস্তি কোটরের প্রদাহ হলে।
  • বংশগত।
  • জরায়ুতে টিউমার হলে।
  • যক্ষ্মা গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ হলে।
উল্লেখিত কারণগুলো ছাড়াও স্ত্রীর ডিম্ব ক্ষরণের সময় যৌনমিলন না হলে গর্ভধারণ হয় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা :- বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়ে প্রথমে স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এবং স্বামীর শারীরিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি কোন অসুবিধা ধরা না পড়ে তখন স্ত্রীকে পরীক্ষা করতে হবে। স্ত্রীর পরীক্ষাগুলো ব্যয়বহুল বিধায় প্রথমে স্বামীকে পরীক্ষা করা উচিত।

পরামর্শ :- যদি কোন দম্পতির একবারেই সন্তান না হয় অথবা সন্তান হওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তান কাঙ্ক্ষিত সময়ে না হয় তবে তাদেরকে নিন্মলিখিত পরামর্শ দেয়া উচিত:

স্বামী ও স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে (সব ঠিক থাকার পরেও শতকরা ২০ ভাগ দম্পতির ১ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে, শতকরা ১০ ভাগ দম্পতির ২ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে)।

স্ত্রীর ডিম্বক্ষরনের সময় অর্থাৎ মাসিক শুরুর ১১ তম দিন থেকে ১৮ তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সম্ভব না হলে ১ দিন পরে পরে স্বামীর সাথে মিলনের পরামর্শ দিতে হবে।

স্বামীর বা স্ত্রীর কোন জটিল রোগ বা যৌন রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর ধূমপান, মদ্যপান, যে কোন নেশা গ্রহণ, একনাগাড়ে দীর্ঘদিন এন্টিহিস্টামিন খাওয়া বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ওজন থাকলে কমাতে হবে।

চিকিৎসা, লক্ষণ :- হোমিওপ্যাথিতে বন্ধাত্ব রোগের চিকিৎসার জন্য লক্ষণ ও তার রেপার্টরি রুব্রিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি লক্ষণের আলাদা আলাদা ঔষধ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে। যারা চিকিৎসা নিতে চান তারা নিজেদের সব লক্ষণসমূহ নিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। ডাক্তারকে আপনার সব কিছু স্পষ্ট করে জানালে চিকিৎসা পেতে সহজ হবে।
বিস্তারিত

Friday, March 6, 2015

মহিলাদের স্তনের আকার নষ্ট হয় যেসকল কারণে ?

নারীদেহের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল স্তন। সুস্থ দেহের পাশাপাশি সুন্দর স্তনেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে নারীরা নিজের দেহের প্রতি খুব কমই যত্ন নিতে পারেন। দেহকে সুস্থ রাখার সাথে সুগঠিত স্তন পেতে সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, প্রচুর পানি করা, মাঝে মাঝে নিজেই নিজের স্তন চেক করা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক নারীর ক্ষেত্রেই নিজের দেহের প্রতি অযত্নের কারণে দেখা দেয় নানা সমস্যা এবং সাথে স্তনের আকারও নষ্ট হয়ে থাকে। তাই জেনে রাখুন কিছু বিষয় যেই কারণে স্তনের আকার নষ্ট হয়। 
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়া :- সর্বদা সুস্থ থাকার মূল মন্ত্রই হল পানি। ঠিক মতো পানি পান না করলে যেমন ত্বকের লাবণ্যতা নষ্ট হয়ে যায় ঠিক একই ভাবে স্তনের আকারও নষ্ট হয়ে থাকে। তাই সুস্থ থাকতে ও সুগঠিত স্তন পেতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া উচিৎ নারীদের। 

ভুল সাইজের ব্রা পরা :- স্তনের সাইজ অনুযায়ী যদি সঠিক মাপের ব্রা না পরা হয় তাহলে তা স্তনের আকার নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। তাই ব্রা কেনার সময় অবশ্যই দেখেশুনে সঠিক মাপের ব্রা কেনা উচিৎ। আবার অন্যদিকে ১৫ বছরের একটি গবেষণার পর ২০১৩ তে প্রকাশ করা হয়, যে সকল নারীরা কখনোই ব্রা পরেন নি তাদের স্তন যারা সবসময় ব্রা পরছেন তাদের থেকেও সুগঠিত। 

ধূমপান ত্যাগ করতে হবে :- দীর্ঘ ৮ বছরের একটি গবেষণার পর বলা হয়েছে যে স্তনের আকার নষ্ট হওয়ার পিছনে ধূমপান করা অন্যতম কারণ। ধূমপানের ফলে নারীর স্তনের টানটান ভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং যার কারণে স্তন সুগঠিত থাকে না। 

অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা :- আপনি যদি অতিরিক্ত ডায়েট করে থাকেন তাহলে তা স্তনের জন্য ক্ষতিকর। খুব বেশি ডায়েট করার জন্য দেহের চামড়ার সতেজ ভাব কমে যায় চামড়া ঝুলে পড়ে। এবং ওজন কমানোর পরে নারীদেহে সবার প্রথমে ওজন কমে স্তনের কারণ স্তনেই সবচেয়ে বেশি ফ্যাট থাকে।

রোদের আলো থেকে স্তন রক্ষা না করা  :- আমরা জানি যে সূর্যের আলো আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এর থেকে বাঁচার উপায় হল সানস্ক্রিন। যদিও আমাদের দেশে নারীরা সানবাথ করেন না। কিন্তু তারপরেও অনেক নারীই খোলামেলা কাপড় পরে থাকেন। তাই অন্যান্য দেহের অন্যান্য অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পাশাপাশি স্তনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। 
বিস্তারিত

মেয়েদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ ও প্রতিকার

মেয়েদের নানা প্রকার শারীরিক সমস্যা থাকে। তার মধ্যে প্রধান একটি সমস্যা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করার জীবাণুটি হলো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং ভাইরাস। কারণ মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছে এজন্য সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। তবে ই-কলাই নামক জীবাণু শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহের কারণ বেলে মনে করা হয়।

আবার অনেক সময় যৌন সঙ্গমের কারণেও জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে।আবার এসব জীবাণু মূত্রনালীপথে কখন কখন মূত্রথলি ও কিডনিতে প্রবেশ করে থাকে। যা সহজেই দৈনন্দিক ও যৌন জীবনে অশান্তি সিয়ে আসে। 
মেয়েদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ ও প্রতিকার
যার কারণে এমণ সমস্য দেখা দেয় যেমন প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বার বার প্রস্রাবের বেগ, ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব ইত্যাদি।উপস্বর্গ প্রস্রাবের রং ধোঁয়াটে, দুর্গন্ধযুক্ত ও পরিমানে কম ই্ত্যাদি। এছাড়া তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

এই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সমস্যা প্রতিরোধের উপায় কী?
  • পানিকে করুন জীবন বন্ধু। প্রত্যেকদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। মানে আপনার উদ্দেশ্য হবে প্রস্রাবের বেগ আন দিনের মধ্যে ২/৩ ঘন্ট অন্তর অন্তর প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।এতে শরীরের ক্ষতি হয়।
  • রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রস্রাব করতে হবে এবং ঘুম থেকে জাগার পর ও প্রস্রাব করতে হবে।
  • প্রত্যেকবার সহবাসের পর ভালো করে পানি দিয়ে ভালোভাবে প্রস্রাবের রাস্তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • খেয়াল রাখবেন মলত্যাগের পর শৌচকাজ সতর্কতার সাথে করবেন এবং শৌচকাজের পানি যেন প্রস্রাবের রাস্তায় না আসে।
এই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সমস্যা প্রতিকারের উপায় কী?
কোন চিন্তা নেই। মেয়েদের এই সকল সমস্যা একেবারে মূল থেকে নির্মূল করতে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কোনো প্রকার লজ্জা না করে অভিজ্ঞ কোনো হোমিও ডাক্তার সাথে কথা বলুন, চিকিত্সা নিন। দেখবেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। 
বিস্তারিত

Sunday, November 9, 2014

মহিলাদের যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সারের (Vulvar Cancer) লক্ষণ ও চিকিত্সা

মহিলাদের যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সার (Vulvar Cancer) :- সাধারণত সিফিলিস রোগ হতে এই জাতীয় ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ইহার সঠিক কারণ খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে দাড়ায় কারন হঠাৎ যোনি বা লেবিয়া প্রভৃতিতে আক্রমন হয়। লেবিয়া মেজরাতেই আক্রমন বেশি হয়ে থাকে। ইহা অনেক সময় বাইরে থেকে বিস্তার লাভ করে যোনি, মূত্রনালী, জরায়ু প্রভৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। যোনির ভেতর থেকে বা জরায়ু হতেও বিস্তার লাভ করতে পারে।
এই জাতীয় ক্যান্সার টিসুতে দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে। ইহার জীবানু রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে টিসুতে ইহা বেশি বিস্তৃতি লাভ করে। প্রথমে টিউমার আকারে দেখা দেয়, তারপর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর যোনি, মূত্রনালী, মূত্রাশয়, ওভারী, গুহ্যদ্বার ইত্যাদি আক্রান্ত হয়।

মহিলাদের  যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ :- প্রথমে নির্দিষ্ঠ কয়েকটি স্থানে ব্যথা ও ক্ষত দেখা দেয় তারপর ধীরে ধীরে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব ও রক্তপাত দেখা দেয় এবং ক্যান্সাররূপ লাভ করে। তবে রোগ ধরা পড়া মাত্রই দেরী না করে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিলে তা খুব সহজেই নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং জটিল উপসর্গগুলির বৃদ্ধি ঘটে না। দেখা গেছে, বয়স যাদের ৫০ এর বেশি তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে এর থেকে কম বয়সী নারীদেরও হতে পারে। রোগের প্রথমাবস্থায় কখনো শক্ত নডল আকারে দেখা দেয় এবং এর আকার কখনো কখনো ফুলকপির মত দেখায়। তবে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে মহিলাদের যোনির বহিঃভাগে ক্যান্সার (Vulvar Cancer) নির্মূল হয়ে যায়। 
বিস্তারিত

পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের কামোন্মাদনা (Nymphomania) - কারণ, লক্ষণ, চিকিত্সা

যৌন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সময় আমরা দেখেছি স্ত্রীলোকের কামোন্মাদনার (Nymphomania) সমস্যাটিকেও অনেক যৌন বিশেষজ্ঞ বেশ গুরুত্বের সাথেই তুলে ধরেছেন। তবে এটি পুরুষদের মধ্যেও দেখা যায়। আধুনিক যৌন বিজ্ঞান ইহাকে একটি বিশেষ রোগ বলে চিহ্নিত করেছে। বাস্তবিকও তাই। "আধুনিক হোমিওপ্যাথি ঢাকা" তে বেশ কয়েকজন রোগিনীকে সফল হোমিও চিকিত্সা দিয়ে আমরা আরোগ্যও করছি। 

কিন্তু একটি বিষয় লিক্ষনীয় যে, এই রোগটির প্রতি অনেক ডাক্তারই ততটা মনোযোগ দেন না। দেশের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ এবং "আধুনিক হোমিওপ্যাথি ঢাকা" এর চিকিৎসক ডাক্তার হাসান তার কেইস স্টাডিতে বলেন, স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে সমস্যাটির পেছনে রোগিনীর বেশ কিছু শারীরিক কারণও বিদ্যমান থাকে। তাই সেদিকে যথাযথ দৃষ্টি রেখে রোগিনীর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন - প্রপার ট্রিটমেন্ট করা না হলে এর ফলে কিছু দূরারোগ্য ব্যাধিরও সৃষ্টি হতে পারে।
এবার আসুন বিষয়টির বিস্তারিত বিশ্লেষণে যাই। আমরা অনেক নারী ও পুরুষদেরকেই এই রোগটির কারণে খারাপ বলে অবহিত করে থাকি। অথচ প্রকৃত কারণটি খুঁজে দেখি না। দুর্নিবার কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য মান মর্যাদা, লজ্জা ও ভয় পরিত্যাগ করে থাকে এবং ন্যায় অন্যায়, ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা যখন থাকে না তখন তাকেই কামোন্মাদনা বা Nymphomania বলা হয়ে থাকে। তবে এতে স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হতে পারে।

সর্বদা অশ্লীল বা কামোদ্দীপক চিন্তা বা কল্পনা, অশ্লীল পুস্তকাদি পাঠ, ভোগ বিলাসিতা, আলস্য, জনন ইন্দ্রিয়ের বিকৃতি, নারী জননঅঙ্গে ইনফেকশন প্রভৃতি কারণে এই রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানসিক কারণও এর পেছনে কাজ করে। যার কারণে অনেক যৌন বিজ্ঞানী ইহাকে এক প্রকার মানসিক রোগ বলেও অবহিত করে থাকেন। এ বিষয়ে তারা যে যুক্তি উপস্থাপন করেন তা হল - এর ফলে মনের উপর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং তা  মানসিক চিন্তাকে বিঘ্নিত করে থাকে। এতে অতিশয় কামেচ্ছার সৃষ্টি হয় এবং তা চরিতার্থ করার জন্য ব্যক্তির বুদ্ধি বিবেচনা শক্তি একেবারে লোপ পায়।

শুধু তাই নয় এর ফলে কতগুলি খারাপ লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে যেমন - উলঙ্গ হওয়া, হস্তমৈথুন করা, অশ্লীল ইসারা করা, সর্বদাই মনে মনে কামভাব পোষণ করা ইত্যাদি। এই জাতীয় ব্যাধির যথাযথ চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে কোন প্রকার সংকোচ না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের শ্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ, এর যথাযথ চিকিত্সা করা না হলে নানা প্রকার মানসিক এবং শারীরিক রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। অবসাদ, দুর্বলতা এবং অনেক সময় ক্ষয় রোগও হয়ে থাকে।
বিস্তারিত

Monday, November 3, 2014

মহিলাদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহের (Ovaritis) কারণ, লক্ষণ ও হোমিও চিকিত্সা

মহিলাদের ডিম্বাশয়ে কোন জীবানুর ইনফেকশন হয় বা কোন ক্ষত সৃষ্টি হয় তখন যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায় তাকে ডিম্বাশয়ের প্রদাহ বলা হয়। ডিম্বাশয়ের প্রদাহের ফলে বেশ কিছু জটিল উপসর্গ সৃষ্টি হয় যা মহিলাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলে। তাই এই সমস্যার কারণ এবং লক্ষণগুলি জেনে রাখলে অন্তত এই রোগের প্রতিরোধে মহিলারা কার্যকর পদক্ষেপ রাখতে পারবে। আসুন জেনে নেই মহিলাদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহের কারণ, লক্ষণ এবং আক্রান্ত হলে করণীয় বিষয় সম্পর্কে।

মহিলাদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহের কারণ :- বিভিন্ন কারণে ডিম্বাশয়ের প্রদাহ হতে পারে যথা - প্রচন্ড ঠান্ডা লাগা, ঋতুকালীন সহবাস করা, পায়ের পাতা জলে ভেজান, কোন রকম আঘাত লাগা, হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে হতে পারে। নানা প্রকার জীবানু ডিম্বনালী দিয়ে সোজা গিয়ে ডিম্বাশয়কে আক্রমন করতে পারে। এছাড়া পেটের অন্যান্য যন্ত্রাদির ইনফেকশন হতেও এই রোগের উদ্ভব হতে পারে।
মহিলাদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহের (Ovaritis) কারণ, লক্ষণ ও হোমিও চিকিত্সা
অনেক সময় ঋতু কালে নোংরা কাপড় চোপর ব্যবহার করার ফলে বীজাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এই জাতীয় বীজাণু জরায়ু ডিম্বনালী ও ডিম্বকোষ প্রভৃতি আক্রমন করে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। ষ্টাফাইলো ষ্টেপটো , বিকোলাই প্রভৃতি বীজাণু দ্বারা এই রোগ বিস্তার লাভ করে। অনেক সময় যক্ষারোগ থেকে ইহার সৃষ্টি হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতির জীবাণু ডিম্বনালী অতিক্রম করে ডিম্বাশয় আক্রমন করতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে মূত্রথলি, পেরিটোনিয়াম, অন্ত্র, লিভার প্রভৃতি স্থানে জীবাণু দূষণ ফোড়া থেকেও ডিম্বাশয়ের প্রদাহ হতে পারে তবে ইহা অতি কম ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।

মহিলাদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহের লক্ষণ :- ডিম্বাশয় প্রদাহ রোগে আক্রান্ত রোগিনীর মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় যথা - কখনো ঋতুস্রাব বৃদ্ধি পায় কখনো হ্রাস পায়। মাথার যন্ত্রণা, মাথাধরা, মাথাঘোরা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। পেটে প্রচন্ড ব্যথা থাকে এবং সেটা পিঠে এবং কোমরে ছড়িয়ে পড়ে। ডিম্বাশয় আকারে বৃদ্ধি পায়। Bi-manual পরীক্ষা করলে ইহা বুঝা যায়। অনেক সময় সারা দেহে প্রচন্ড ব্যথা এবং তার সাথে জ্বর থাকে। কখনো জ্বরের প্রবলতার জন্য বমি, প্রলাপ, মূর্চ্ছা প্রভৃতি হয়ে থাকে।

কখনো ঋতুর পর সাদাস্রাব চলতে থাকে, ফোটা ফোটা স্রাব দীর্ঘদিন ধরে চলে এবং রোগিনী এর জন্য কষ্ট পেয়ে থাকে। কখনো বা স্রাব বন্ধ হয়ে ৮/১০ দিন পর আবার হতে থাকে, স্রাব অত্যন্ত দুর্গন্ধ প্রকৃতির হয়ে থাকে, কোন কোন সময় স্রাবের সঙ্গে থান থান কালো বর্ণের রক্ত টুকরো দেখা দেয়। এই রোগে বেশি দিন ভুগলে বন্ধাত্ব লক্ষণ দেখা দিতে পারে এবং সেপটিক হতে পারে। তাই রোগাক্রমনের শুরুতেই প্রপার হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিলে রোগটি জটিলতার দিলে না গিয়ে শুরুতেই সমূলে নির্মূল হয়ে যায়।

এই রোগের ক্ষেত্রে কুচকির উপর বেদনা ও জ্বালা ভাব থাকে। ডিম্বকোষ স্ফীত হয়ে এমন প্রদাহ হতে পারে যে রোগিনী ঐ স্থানে হাত দিতে ভয় পায় বা স্পর্শ কাতর হয়। স্নায়ুবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। বস্তুত ইহা মহিলাদের একটি মারাত্মক প্রকৃতির রোগ। তাই কোন প্রকার অবহেলা না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিত্সা নেয়া উচিত।
বিস্তারিত

Sunday, November 2, 2014

মহিলাদের জরায়ুর প্রদাহে (Uterine Inflammation) কার্যকর হোমিও চিকিৎসা নিন

মহিলাদের জরায়ু সংক্রান্ত নানা প্রকার রোগ-ব্যাধির মধ্যে প্রদাহের সমস্যা অন্যতম। বাংলাদেশ তথ্য সমগ্র বিশ্বে মহিলারা এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। দেখা গেছে কিছুটা সচেতন জীবন যাপন করলে জরায়ুর প্রদাহের সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। আর তার জন্য এটি হওয়ার জন্য দায়ী কারণসমূহ এবং প্রকাশিত লক্ষণগুলি সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা থাকা জরুরি। সাথে সাথে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থাতেই একজন রেজিস্টার্ড ও অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এবার আসুন জেনে নেই নারীদের নারীদের জরায়ুর প্রদাহের (Uterine Inflammation) কারণ এবং প্রকাশিত উপসর্গগুলি -
মহিলাদের জরায়ুর প্রদাহের কারণসমূহ :- বিভিন্ন কারণে মহিলাদের জরায়ু প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। প্রধান কারণগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
  • ঠান্ডা লাগা, ভিজা সেঁত সেঁতে স্থানে বাস থাকা, ঋতু বন্ধ হওয়া, অতিরিক্ত স্বামী সহবাস করা, কষ্টকর জরায়ুর উত্তেজনা ইত্যাদি কারণে হতে পারে।
  • জরায়ুতে নানা প্রকার জীবানু দূষণ থাকে যেমন - মনিলিয়াল ইনফেকশন, ট্রাইকোমনা জাতীয় ইনফেকশনের ফলে প্রদাহ হতে পারে।
  • জরায়ুতে ক্ষত, টিউমার ইত্যাদির জন্য ইহা হতে পারে।
  • ঋতুস্রাবের সময় নোংরা নেকড়া, কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার থেকে এই রোগ হতে পারে।
  • B. coli রোগে অনেক দিন ভুগলে অথবা প্রস্রাব নালী নির্গত জীবানু যোনি পথে প্রবেশ করে এই জাতীয় প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।
  • গনোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতি রোগ থেকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
  • গর্ভপাতের পর কোন কিছু Incomplete হলে অথবা Complete এই জাতীয় প্রদাহ হতে পারে অর্থাৎ আজকাল যে ভাবে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়ে থাকে এর ফলেও এই রোগটি অধিক পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • Curate অপারেশন ঠিক মত করাতে না পারলে জরায়ু প্রদাহ দেখা দিতে পারে, এছাড়া অন্যান্য অপারেশনের ফলেও ইহা দেখা দিতে পারে।
  • কেথিটার প্রয়োগের সময় তাতে জীবানু থাকলে তার দ্বারাও এই প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেক সময় প্রদাহ হয় কিন্তু তার সঠিক কারণ পাওয়া যায় না।
  • প্রস্রাবের পর ঠিক মত যত্ন না নেয়ার জন্য জরায়ুর গাত্রে ফুল পড়ে যাওয়ার পর ঘা থাকে এবং ঐ ঘায়ের মধ্যে জীবানু প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
মহিলাদের জরায়ু প্রদাহের লক্ষণসমূহ :- জরায়ু প্রদাহে আক্রান্ত রোগিনীর বিশেষ কতগুলি লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন - মাসিক ঋতু ৮/১০ দিন এমন কি এর চেয়েও বেশি দিন ধরে চলতে পারে এবং ফোটা ফোটা রক্ত ঝরতে পারে। দুই মাসিক ঋতুর মধ্যবর্তী সময়কাল কমে যেতে পারে। জরায়ু থেকে স্রাবের পর অনেক সময় শ্বেতস্রাব নির্গত হতে দেখা দিতে পারে। জরায়ু এবং যোনিতে বেদনার ভাব থাকে, কোন কোন সময় জ্বালা পোড়া করতে পারে এবং সাথে রক্তপাত হতে পারে। জরায়ুর নিচের অংশে এবং যোনিতে চুলকানির ভাব দেখা যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ এই রোগে ভুগতে থাকলে সেপটিক হতে পারে এবং সংকট জনক হয়। কোন কোন সময় ঋতুস্রাবে অত্যন্ত দুর্গন্ধ থাকে এবং ঋতু স্রাব স্বাভাবিক না হয়ে বিশ্রী বর্ণের হতে পারে, কালো কালো জমাট রক্তের টুকরো বের হতে পারে।

জরায়ুতে টিউমার বা ক্যান্সার হলে প্রসব বেদনার মত বেদনা দেখা দিতে পারে এবং বন্ধাত্ব দেখা দিতে পারে। কখনো বা রোগিনীর গায়ে জ্বর থাক, শরীর মেজ মেজ করে, মাথা ঘুরায়, মাথায় যন্ত্রণা হয়, কোন কাজ করতে ইচ্ছে করে না। জরায়ু প্রদাহ বেশি দিন থাকলে সেপটিক হয়ে ফেলোপিয়াম নালী, ডিম্বনালী প্রভৃতি আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালীর ক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে এবং নানাবিধ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই রোগ হয়েছে বুঝা মাত্র অর্থাৎ সমস্যাটি ধরা পড়া মাত্র অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে তাত্ক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা উচিত।

মহিলাদের জরায়ুর প্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণ রূপে শীত শীত ভাব এবং জ্বর দেখা দিয়ে থাকে। জ্বর এবং তলপেটে বেদনা এর প্রধান লক্ষণগুলির অন্যতম। জরায়ু স্থানে স্বল্প চাপ দিলে অসহ্য বেদনা পায়, দপদপানি বেদনা, খোচামারা ব্যথা, সামান্য নড়াচড়ার ফলে বেদনার উদ্রেক হয়, পিপাসা, গা বমি বমি, কোথ পারা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

মুত্রাশয়ের উত্তেজনা, মুত্রত্যাগ সহজে হয় না, জরায়ুর স্ফীতিভাব দেখা যায়, রোগিনী চিত হয়ে শুতে পারে না এবং ঠিক মত বসতে পারে না। উঠে বসলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়। পুরাতন জরায়ু প্রদাহ তরুনাবস্থার পর ইহাতে আরম্ভ হয়। পুরাতন অবস্থায় স্ফীতি ও কঠিন হয়। যোনির নিকটস্থ অংশে ক্ষত হয়ে পুজ স্রাব হয় ও শ্বেত প্রদর হয়ে থাকে। এই রোগে নিশ্চিত আরোগ্যদানকারী সফল চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সাইন্স এ। একজন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই নারীদের জরায়ুর প্রদাহ এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় জটিল উপসর্গ খুব দক্ষতার সাথে নির্মূল করে থাকেন। 
বিস্তারিত

মহিলাদের ডিম্বনালীর প্রদাহের কারণ, লক্ষণ ও চিকিত্সা

মহিলাদের ডিম্বনালীতে অনেক সময় জীবানুর ইনফেকশন থেকে প্রদাহ হয়, এই জাতীয় প্রদাহকে ডিম্বনালীর প্রদাহ বা সালফিন জাইটিস (Salpingitis) বলে। বিভিন্ন কারণে মহিলাদের ডিম্বনালীতে এই জাতীয় প্রদাহ হতে পারে।

মহিলাদের ডিম্বনালীর প্রদাহের (Salpingitis) কারণ :- সাধারনত জীবানু আক্রমনে এই প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে থাকে। গনোকক্কাস, পায়ুজেনিক (Fyogenic), স্ট্রেপটোকক্কাস, ষ্টাফাইলোকক্কাস, বিকোলাই প্রভৃতি জীবানুর ইনফেকশনের জন্য এই প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই সকল জীবানু যোনি ও জরায়ু অতিক্রম করে ডিম্বনালীকে অতিক্রম করতে পারে। ডিম্বনালীতে ক্ষত, টিউমার অথবা অপারেশন হতে এই প্রদাহ হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে টিউবার কুলার রোগ থেকে এই জাতীয় প্রদাহ হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস রোগে আক্রান্ত মহিলাদের ডিম্বনালীতে প্রদাহ হতে পারে। এই জাতীয় রোগে আক্রান্ত মহিলাদের শরীর অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়ে। 
মহিলাদের ডিম্বনালীর প্রদাহের কারণ, লক্ষণ ও চিকিত্সা
মহিলাদের ডিম্বনালীর প্রদাহের (Salpingitis) লক্ষণ:- 
  • ডিম্বনালীর প্রদাহ হলে কোন কোন সময় রোগীর গায়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জ্বর হয়। 
  • সাধারণত এই "প্রদাহ সমস্যায়" বেশি দিন ভুগলে জ্বর হয়ে থাকে।
  • মাসিক ঋতু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে আবার কখনো কখনো বা কম হতে পারে।
  • পেটে বিশেষ করে তলপেটে বেদনা দেখা দেয়। তলপেট, কোমর এবং পিঠে বেদনা থাকে।
  • মাথায় যন্ত্রনা, মাথাধরা, মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব, গা মেজ মেজ করা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
  • ঋতুস্রাবে অত্যন্ত দূর্গন্ধ থাকে এবং এই ঋতুস্রাব ৮-১২ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
  • কখনো কখনো আবার দুই ঋতুর মাঝখানে স্রাব হয়।
  • ঋতুস্রাবের রক্ত কালো বর্ণের এবং চাপ চাপ। কখনো বা ফোটা ফোটা করে দীর্ঘদিন যাবৎ স্রাব চলতে থাকে।
  • ডিম্বনালীর প্রদাহ বেশি দিন চলতে থাকলে সেপটিক জ্বর এবং বিকার ভাব দেখা দিতে পারে।
  • স্ত্রী জননেন্দ্রিয়ের কোন কোন অংশে সেপটিক সৃষ্টি হতে পারে। 
  • ধীরে ধীরে ডিম্বনালী, ডিম্বাশয় অকেজো হয়ে পড়ে। 
  • ডিম্বনালীটি ফুলে মোটা হয়ে যায় এবং ইহাতে জ্বালা যন্ত্রণা এবং বেদনা থাকে। 
  • জরায়ু হতে ঋতুর পর শ্বেত প্রদর দেখা দিতে পারে । 
  • রোগিনীর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যায়, হীনবল হয়ে পড়ে ।
মহিলাদের ডিম্বনালীর প্রদাহ (Salpingitis) সৃষ্টি হয়ে যেসকল জটিল এবং কষ্টকর উপসর্গ সৃষ্টি হয় সেগুলিসহ ডিম্বনালীর প্রদাহকে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মাধ্যমে খুব সাফল্যের সাথে অতি দ্রুত নির্মূল করেন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারগণ। তাই এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে কাল বিলম্ব না করে ভাল এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ চিকিত্সা নিন।
বিস্তারিত

Tuesday, October 21, 2014

অণ্ডলালমূত্র (Albuminuria) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিত্সা

এই রোগে রোগীর মূত্রের সাথে অণ্ডলাল বা এলবুমেন (Albumen) দেখতে পাওয়া যায়। এই রোগের সঙ্গে প্রায়ই মূত্রগ্রন্থির প্রদাহভাব প্রকাশ পায়। সাধারণত মূত্রগ্রন্থির পুরাতন রোগাবস্থায় মূত্রের সঙ্গে অধিক পরিমানে অণ্ডলাল বা এলবুমেন(Albumen) ক্ষরণ হয়ে থাকে। যেকোন কারণে যদি কিডনি যন্ত্রের অভ্যন্তরে সূক্ষ সূক্ষ মূত্র নালীর কোষগুলো প্রদাহিত হয় তা হলে ইহার রক্ত মধ্যস্থ এলবুমেন বা অন্ডলাল মূত্র নালীর মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে মূত্রে অণ্ডলাল বা এলবুমেন দেখা যায়।
এই রোগ বিশেষ কত গুলো কারণের জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে যেমন :- অজীর্ণ, অতি মাত্রায় অণ্ডলালময় খাদ্য গ্রহণ, ঠান্ডা লাগা, জল বৃষ্টিতে ভেজা, মদ্য পান ইত্যাদি। কোন কারণ বশত কিডনি আক্রান্ত হলে এই জাতীয় লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে।

এবার আসুন এই রোগের লক্ষণগুলির দিকে দৃষ্টি দেই। রোগীর প্রস্রাব ঘন, বর্ণের পরিবর্তন এবং প্রস্রাব পরীক্ষায় অণ্ডলাল বা এলবুমেন (Albumen) দেখতে পাওয়া যায়। শীতকম্প হয়ে পীড়ার আরম্ভ হয়। পিপাসা, মূত্রকোষে টান টান ভাব, বেদনা এবং এই বেদনা সময় সময় কুচকি ও অন্ডকোষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বার বার প্রস্রাব হয় এবং প্রস্রাবের পরিমান কম হয়। প্রস্রাব কালচে বর্ণের অথবা কখনো কখনো রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব দেখা যায়। রোগীর দেহে শোথ লক্ষণ প্রকাশ পায়। হাত পা এবং মুখমন্ডলে স্ফীত ভাব প্রকাশ পায়। এছাড়া অম্ল উদগার, রক্ত সল্পতা, মাথার যন্ত্রনা, হৃদপিন্ডের গোলযোগ প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যায়।

এই রোগের হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা রোগীর সবগুলি লক্ষণ বিবেচনায় এনে অথবা প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা করে কার্যকর ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন। দেখা যায় খুব অল্প দিনের হোমিও চিকিত্সাতেই রোগীর অণ্ডলালমূত্র Albuminuria রোগ নির্মূল হয়ে যায়।

চিকিত্সা নেয়ার সময় রোগীকে কিছু আনুষঙ্গিক পথ্য ও বিষয় খেয়াল রাখলে ভালো হয়। যেমন বিশ্রাম এবং আলোবাতাস যুক্ত ঘরে থাকা রোগীর জন্য হিতকর। ঠান্ডা লাগানো উচিত নয়। হালকা গরম পানি, গরম পানিতে গোসল করা এবং উষ্ণ জলবায়ূ প্রধান স্থানে বসবাস করা হিতকর।

দুধ এই প্রকারের রোগীদের জন্য একটি উত্কৃষ্ট পথ্য, অতিরিক্ত লবন যুক্ত খাবার হতে সাবধান থাকাই ভালো। ঘোল, পাতলা খিচুরী, প্রচুর পানি পান করা, ফলের রস এবং পরিমিত পরিমান আহার গ্রহণ অধিক ফলদায়ক। শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম করা আদৌ উচিত নয়। রোগের প্রথম অবস্থায় সহজ ও লঘু জাতীয় খাবার এবং কঠিন অবস্থায় দুধ রুটি সুজি দেয়া উচিত।
বিস্তারিত

গর্ভপাতের কারণ এবং লক্ষণ এবং চিকিৎসা

গর্ভপাত (Abortion) :- গর্ভের অপূর্ণ অবস্থায় ভ্রুণ বের হলে তাকে গর্ভপাত বলা হয়ে থাকে। যদি ভ্রুণ সাত মাস পর বের হয় তবে অনেক ক্ষেত্রে শিশু জীবত থাকে। একবার গর্ভস্রাব হলে পরবর্তী গর্ভেও গর্ভপাত হতে পারে। যে মাসে গর্ভস্রাব হয় সে সময় আসলে রোগীকে বিশেষ ভাবে সাবধানে থাকতে হয়। সাধারণত তৃতীয় মাসে, কখনো বা তার পূর্বে বা পরে গর্ভপাত হতে পারে। নারীর গর্ভ সঞ্চারের পর ভ্রুণটি জরায়ুতে ২৮০ দিন অর্থাৎ ৯ মাস ১০ দিন ধরে গঠিত হয়, তারপর শিশুর জন্ম হয়। ঠিক পূর্ণভাবে ভ্রুণ গঠিত না হয়ে তার আগেই যদি তা গর্ভ থেকে নির্গত হয় তবে তা বাঁচে না।  গর্ভপাত সাধারণত দু'ধরনের হতে পারে যথা : 
  • আপনা থেকেই গর্ভপাত। 
  • জোর করে গর্ভপাত ঘটানো। 
সাধারণত সন্তান ভীতির জন্য আজকাল জোর করে গর্ভপাত ঘটানো হয়। অবশ্য অন্য কারনেও জোর করে ঘটানো হয়ে থাকে। যেমন - মায়ের দেহ অতি দুর্বল হলে সন্তান ধারণ করলে অনেক সময় জীবন বিপন্ন হতে পারে। প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তশুন্যতার লক্ষণ থাকলে হার্টফেল হওয়ার আশংকা থাকে।
গর্ভপাতের কারণ এবং লক্ষণ এবং চিকিৎসা
প্রসূতির একলামসিয়া রোগ থাকলে অথবা প্রসূতির শারীরিক বা মানসিক রোগ থাকলে সাধারনত চিকিত্সকদের পরামর্শ নিয়ে জোর করে গর্ভপাত ঘটানো হয়। তাছাড়া প্রসূতির যদি ভেনারেল কোন রোগ থাকে অথবা অতিরিক্ত সন্তান লাভের ইচ্ছা না থাকলে ইত্যাদির জন্যও অনেক সময় গর্ভপাত ঘটানো হয়। 

গর্ভপাতের কারণসমূহ 

বিভিন্ন করনে প্রসূতির গর্ভপাত হতে পারে যেমন -
  • পড়ে গিয়ে কোনরূপ আঘাত লাগা, শারীরিক দুর্বলতা, গর্ভের প্রথমাবস্থায় জরায়ুর সাথে ভ্রুণের সল্প সংযোগ।
  • প্রচুর রক্তস্রাব, দীর্ঘকাল স্থায়ী প্রদর, স্রাব, গর্ভাবস্থায় স্বামী সহবাস, জরায়ুর অসম্পূর্ণ প্রসারণ।
  • জরায়ু মুখের শিথিলতা, রাত্রি জাগরণ, কাপড় কসে পড়া, আছার খেয়ে পড়া, অসমান পথে গাড়ী চড়া, ভারী কোন কিছু আলগানো।
  • কলেরা, বসন্ত, জ্বর, ডিপথেরিয়া প্রভৃতি সংক্রামক রোগ হওয়া।
  • শোক, দুঃখ প্রভৃতি মানসিক উদ্বেগ ইত্যাদি কারনেও গর্ভপাত হতে পারে।
  • জননতন্ত্রের ত্রুটি থাকলে, হরমোন সংক্রান্ত ত্রুটি থাকলে অনেক সময় গর্ভপাত হতে পারে।
  • তাছাড়া দেহে রক্তশুন্যতা, অপুষ্টি জনিত কারনেও গর্ভপাত হতে পারে।
  • হরমোনের অভাব ঘটলে প্রসুতি পূর্ণ সময় অর্থাৎ ২৮০ দিন পর্যন্ত সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে পারে না।

গর্ভপাতের লক্ষণসমূহ

মাসিক ঋতুর পূর্বে শারীরিক অবস্থা যেরূপ হয় গর্ভস্রাবের সময়ও অনেকটা সেরূপ অবস্থা হয়ে থাকে। নড়াচড়া করতে বা কোন কাজকর্ম করতে চায় না। বিমর্ষ ভাব, ধীরে ধীরে রক্তস্রাব বৃদ্ধি পায়। কোমরে, তলপেটে বেদনার উদ্রেক হয় এবং বেদনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং যখন অধিক বেদনা দেখা দেয় তখন জল ভাঙ্গে এবং ভ্রুণ নির্গত হয়। গর্ভস্রাবে অনেক সময় প্রসূতির জীবন বিপন্ন হয়ে উঠে। নারী জীবনে ইহা একটি বিশ্রী রোগ।

জেনে রাখা ভালো 

বার বার যদি আপনার এরকম গর্ভপাতের সমস্যা বা এ সংক্রান্ত অন্য কোন সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কাল বিলম্ব না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আশা করি অসাধারণ ফল পাবেন।
বিস্তারিত

মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা

মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis) কি :- মূত্রনালীর প্রদাহকে ইংরেজিতে ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালীতে গনোকক্কাস নামক রোগের জীবানু প্রবেশ করে এই জাতীয় রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারাও ঘটতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো প্রকার সংক্রমণ ছাড়াও ঘটতে পারে যেমন - মূত্রনালীতে আঘাত পেলে বা কোনো প্রকার অপারেশন হলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।

গনোরিয়া এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ যা মূত্রনালীর প্রদাহ ঘটাতে পারে। গনোরিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে মূত্রনালীর প্রদাহ হলে তাকে নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস বলে। এটার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্লামাইডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া। এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ। কোনো কোনো পুরুষের একই সময়ে গনোরিয়ার জীবাণু এবং অন্য জীবাণু দ্বারা মূত্রনালীর প্রদাহ হতে পারে। যদি কারো মূত্রনালী পথে রস নিঃসরণ হয়, তাহলে হয়ত যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ রয়েছে মনে করতে হবে যা অন্যের মধ্যেও ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত, এমনকি উপসর্গ চলে গেলেও।
মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা
মূত্রনালীর প্রদাহের (Urethritis) লক্ষণ :- এর ফলে মূত্রনালীতে ক্ষত ও বেদনাবোধ হয়। মূত্র ত্যাগের সময় ভয়ানক জ্বালা পোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। প্রস্রাবের সাথে পুজরক্ত নির্গত হয়। এই রোগের প্রথমে মূত্রনালীর মুখে ইরিটেসন হয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয় কিন্তু অল্প অল্প প্রস্রাব হয়। পরে প্রস্রাবের দ্বার বেদনা, জ্বালা এবং প্রস্রাবের সময় ভয়ানক কষ্ট হয়। প্রদাহ ভাব যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই মূত্রনালীর মেমব্রেনগুলো স্ফীত হয়। এর ফলে প্রস্রাব ত্যাগে আরো কস্ট হয়। প্রস্রাব কখনো পানির মত হয় না, ৪/৫ ধারায় প্রস্রাব পড়তে দেখা যায়, প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়ে। প্রস্রাবে তলানি পড়ে শ্লেষ্মার মত পদার্থ ও পুঁজ দেখাতে পাওয়া যায়। অনেক সময় পুরুষ লিঙ্গ শক্ত এবং বেঁকে যায়। এর সাথে অণ্ডকোষ মূত্রস্থলী প্রভৃতির প্রদাহ হয়। বেদনা জ্বালা পোড়া ও পুঁজরক্ত নিঃসরণ।

মহিলাদের বেলায় যে সব উপসর্গ থাকতে পারে :- মহিলাদের ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে তা হলো :অস্বাভাবিক যোনি স্রাব–জ্বর এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটের ব্যথা বেদনাদায়ক মূত্রত্যাগ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা মূত্রত্যাগ এবং তখন প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব । তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব করেন সেই সাথে কার কার কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা বা খিল ধরার মত কিছু মনে হয় । মাঝে মাঝে বমি হতে পারে । নববিবাহিত মেয়েদের মধুচন্দ্রিমা যাপনকালে প্রস্রাবের প্রদাহ হতে পারে ।

সহবাসের পর জীবাণু মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে বেশির ভাগ মহিলাদের – তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জনিত কারনে হলে অবশ্যই মুত্র নালীর মুখ বা ভেজিনাতে চুলকানির লক্ষণ থাকবেই প্রেগন্যান্ট মায়েরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে ( ১২/১৬ সপ্তাহ পর ) বেক্টোরিয়া আক্রমণে মুত্র নালীর যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু মহিলাদের হরমোন জনিত ঔষধ সেবন করার কারনে বেক্টোরিয়া ডেবলাপ্ট হয়ে হতে পারে তবে তা মাত্র ২ ভাগ অথবা মেনোপজ এর সময় একটু বেশি হওয়ার সম্বাভনা আছেই । এলারজি জনিত কারনে হলে অবশ্যই যোনি মুখের আশ পাশ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও উষ্ণ চুল্কানির লক্ষণ থাকবেইযারা অপরিষ্কার ভাবে স্পার্মিসাইড বা কৃত্রিম ডায়াফ্রাম ব্যবহার করেন বা সজোরে যৌনমিলন করলে তাদের বেলায় একটু ঝুঁকি বেশি আছেই।

    ইউরেথ্রাইটিসের প্রতিরোধ ও প্রতিকার :- ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে জাগার পর প্রস্রাব করতে হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। পানির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উচিত যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব তৈরি হয় যা দিনে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু পিছন থেকে সামনের দিকে না এনে সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা, যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্র পথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে অথবা পরিষ্কার কাপড় ব্যাবহার করলে প্রতি বার তা সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যদি দেখা যায় আপনার প্রস্রাবের রাস্তার জ্বালা যন্ত্রণা জীবাণু জনিত বলে সন্দেহ থাকে তাহলে আপনার চিকিত্সা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা আপনার উপসর্গ না যাওয়া পর্যন্ত কার ও সাথে যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মহিলাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ঘন ঘন বদলাতে হবে এবং সহবাসের আগে ও পরে-যাতে মূত্র নালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয় সে দিকে লক্ষ রাখবেন। খতনা বা মুসলমানি করানো হলে ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেস্টা করবেন প্রতিদিন। আন্ডার পেন্ট বা ঐ জাতীয় কিছু যেন অন্য কার ও সংস্পর্শে না যায় সে দিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis), প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা হোমিও চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যায়। তাই নিঃসন্দেহে এর জন্য কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিন। আর বিবাহিত অবস্থায় অবশ্যই স্বামী স্ত্রী দুজনেই ডাক্তারের কাছে যাবেন।
    বিস্তারিত

    মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাবের শুরুতে বিলম্বের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

    রজস্রাবে বিলম্ব (Delayed Menstruation) :- নারীদের রজস্রাবে সাধারণত দুই ভাবে বিলম্ব দেখা দেয়। প্রথমত: নারী যে বয়সে ঋতুবতী হবার কথা সেই বয়সে হয় না। সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ১৪/১৫ বয়সে নারী ঋতুবতী হয়ে থাকে। যদি তা না হয়, তবে তাকে প্রথম রজস্রাবের শুরুতে বিলম্ব বলা হয়। এ ছাড়া দ্বিতীয়তো: ঋতুস্রাব চলাকালে, ঋতুর শুরুতে বিলম্ব হয়ে থাকে। প্রতি ২৮ দিন পরপর নারীর ঋতুস্রাব হওয়ার কথা, তা না হয়ে ৩০/৪০ দিন পরে আবার কখনো বা এক মাস বন্ধ থেকে পরের মাসে ঋতু হয়ে থাকে। তাই মোটামুটি ভাবে ইহাকে  দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :
    • প্রথম ঋতু প্রকাশ হতে বিলম্ব হওয়া।
    • ঋতুস্রাব চলা কালে ঋতুর বিলম্ব।
     
    কিন্তু আজ আমরা শুধু "প্রথম ঋতু প্রকাশ হতে বিলম্ব হওয়া" সম্পর্কে জানব। এ কথা আগেই বলেছি যে - গ্রীষ্ম প্রধান দেশে সাধারণত নারীদের ১৩ হতে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম ঋতুস্রাব হবার কথা তবে নিম্ন লিখিত কারণে বিলম্ব ঘটতে পারে :-

    • স্ত্রীজাতীর হরমোন বা লিউটিনাজির জাতীয় হরমোন নারীদেহে যৌবন আগমন ঘটায়। নারীর ঋতুর শুরুতে এর বিশেষ ভূমিকা থাকে, আর তাকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রধানত Posterior Pituitary গ্রন্থি এবং এড্রেনাল গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোন। যদি নারীর ডিম্বাশয়ের হরমোন ঠিকমত নিঃসরণ না হয় অথবা অন্য দুটি গ্রন্থির নিঃসরণ কম হয় তাহলে উপযুক্ত বয়সে নারীর ডিম্বকোষ ও ডিম্ব ঠিকমত গঠিত হতে পারে না। এর ফলে প্রথম ঋতু সহজে শুরু হয় না।
    • নারীর জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের জন্মগত অপরিনতি বা ঠিকমতো বর্ধিত না হলে প্রথম ঋতু প্রকাশে বিলম্ব হয়ে পারে।
    • নারীর দেহে পুষ্টির অভাব এবং তার জন্য দেহের গঠন ঠিকমতো না হওয়ার কারনেও প্রথম ঋতু প্রকাশে বিলম্ব হয়ে পারে।
    • নারীর দেহে রক্তশুন্যতার রোগ থাকলে ঋতু প্রকাশে বিলম্ব হয়ে পারে।
    • প্রথম ঋতু শুরু হওয়ার আগেই যখন ডিম্বটি বা Premordial follicle টি হয়ে Graffian follicle হয়ে ডিম্বনীলাতে আসার সাথে সাথে যদি ঐ নারী কোন পুরুষের সাথে সংসর্গ বা মিলন করে তবে গর্ভবতী হয়ে যাবে। তার ঋতু শুরুতেই হবে না। তার প্রথম গর্ভ সঞ্চার হবে ও ঋতুর শুরুতে বিলম্ব মনে হবে।

    মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাবের শুরুতে বিলম্বের লক্ষণসমূহ :-
    নারীদের এই জাতীয় অবস্থা দেখা দিলে সাধারণত শরীর দুর্বল, কৃশ ও রক্তশুন্য হয়ে পড়ে। তার দেহে স্ত্রী জনোচিত গঠন হয় না। বক্ষ ঠিকমতো উন্নত হয় না এবং দেহের প্রয়োজনীয় অংশে মেদ জমে না। অনেক সময় দেহে রক্ত শুন্যতার ভাব অতি প্রকটভাবে দেখা দেয়। মাথা ভার, মাথা ব্যথা, বুক ধড়ফড় করাসহ দেহের নানা প্রকার অসঙ্গতি সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় চেহারাতে কিশোরী ভাব না এলে বাল্যভাবই বর্তমান থাকে। জরায়ু ও ডিম্বাশয় প্রভৃতির পূর্ণ ও স্বাভাবিক গঠন হয় না। এছাড়া শারীরিক অসুস্থতা, ডিম্বকোষের কোনরূপ পীড়া, যোনিদ্বারের আবরক পর্দার আচ্ছন্ন অবস্থা, সর্বদা ঘরে বসে থাকা, মনমরা অবস্থায় থাকা ইত্যাদি উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।

    কোমরে বেদনা ও টাটানি, তলপেটে পূর্ণবোধ ও বেদনা প্রভৃতি লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। যদি কোমরে বেদনা ও স্বাস্থের কোনরূপ বৈলক্ষন্য না ঘটে প্রথম ঋতুস্রাব প্রকাশ পেতে বিলম্ব হয় তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যৌবনকালে স্ত্রীলোকের শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন ঘটেও যদি ঋতুস্রাব না হয় তবে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে কিছু দিনের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়। কারণ মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাবের শুরুতে বিলম্বের পেছনে যে কারণগুলি বিদ্যমান থাকে তা যথাযথ হোমিও চিকিৎসায় একেবারে মূল থেকে দূর হয়ে যায় আর এরই সাথে রোগিনী পুরুপুরি সুস্থ হয়ে উঠে এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে।
    বিস্তারিত

    নারীদের ঋতু চলাকালে ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

    নারীদের ঋতু (Menstruation) চলাকালে ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার কারণ :- নারীদের ডিম্বকোষ হতে দু'প্রকার রস নিঃসরণ হয়। প্রথমটির সাহায্যে ডিম্বকোষ থেকে ডিম্ব বের হয়ে Fallopian tube এর সাহায্যে জরায়ুতে আসে ইহাকে বহিঃ নিঃসরণ বলা হয়ে থাকে। আর অপরটি হলো অন্তনিঃসরণ। এর সাহায্যে সন্তান উত্পাদন সংক্রান্ত সমস্ত যন্ত্রবৃদ্ধি ও পরিপুষ্টি লাভ করে থাকে এবং এর অভাব ঘটলে প্রজনন যন্ত্রসমূহের পুষ্টির অভাব, রজ প্রকাশে বিলম্ব বা সম্পূর্ণ রজরোধ ও প্রজনন ক্ষমতা লোপ ইত্যাদি উপসর্গ উপস্থিত হয়। আবার অনেক সময় স্নায়ুবিক দুর্বলতা, দীর্ঘকাল কোন পীড়ায় ভোগে শারীরিক দুর্বলতা, রক্তহীনতা বশত এবং যোনি মুখ আবরক ঝিল্লি-ছিন্ন না হওয়াতে রজ প্রকাশে বিলম্ব ঘটতে পারে।

    অনেক সময় ঋতু চলছে কিন্তু তা ঠিকমত ২৮ দিন অন্তর অন্তর হয় না। কখনো কখনো ৩০/৩৫/৪০ দিন পর, কখনো বা আরো দেরিতে হয়।
    নারীদের ঋতু চলাকালে ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
    কতগুলো কারণের জন্য এ রকম বিলম্ব ঘটতে পারে:-
    • নারীদেহে হরমোনের অভাব হলে।
    • ডিম্বাশয়ের অপরিনতি হলে।
    • আবার রক্তহীনতার জন্যও হতে পারে।
    • উপযুক্ত খাবার এবং পুষ্টির অভাবে হতে পারে।
    কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী প্রভৃতি গঠনের জন্য ঠিকমতো বা সময়মতো ডিম্বের অথবা জরায়ুর অসুস্থতার জন্য ঠিকমতো ঋতু প্রকাশ পায় না। তাছাড়াও একটি বিষয় প্রকট ভাবে দেখা যে - জরায়ুর নানা প্রকার রোগের জন্যও ঋতু প্রকাশে বিলম্ব ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে জরায়ুর সংক্রান্ত রোগসমূহ নির্মূল করলেই ঋতুস্রাব বা মাসিক স্বাভাবিক হয়ে আসে।

    নারীদের ঋতু (Menstruation) চলাকালে ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার লক্ষণ

    এই সমস্যাটির বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ লাভ করে থাকে। নিচে সে গুলি সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
    • দেহে রক্তহীনতার ভাব অতি প্রকট ভাবে দেখা দেয় এবং রোগিনী রক্তহীনতায় ভোগে। 
    •  দেহের গঠন কৃশকায় হয়, দেহ ঠিকমতো বর্ধিত এবং পুষ্টি লাভ করে না।
    • অনেক সময় হরমোনের গোলযোগে দেহ খুব স্থুলকায় হয় কিন্তু ঋতুর গোলযোগ থেকে যায়। 
    • মাথা ধরা, মাথা ব্যথা, মাথা ভার প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 
    • তল পেতে ভা বোধ, শরীর অসুস্থ, গা মেজ মেজ কার, দুর্বলতা বোধ করা, সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তিবোধ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। 
    • কখনো কখনো ঋতু খুব সামান্য হয়ে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। কখনো দেরিতে হলেও ঋতু খুব বেশি পরিমানে হয়। 
    • কখনো কখনো গা এবং হাত পায়ে ব্যথা হয়, পেট, বুক, স্তনেও বেদনা বোধ হয়। উরুতে ভারবোধ হয়, থেকে থেকে বুকে যন্ত্রণা দেখা দেয়। 
    • শ্বাস-প্রোশ্বাসে কষ্ট হয়, বুক ধড়ফড় করে, থেকে থেকে বুকে যন্ত্রণা দেখা দেয়। মন অবসন্ন হয়, কোন কাজে মনোযোগ থাকে না। 
    নারীদের ঋতু (Menstruation) চলাকালে ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার কারণ এবং লক্ষণগুলি সম্পর্কে জানলেন। কিন্তু দেখা যায় আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত অনেক মহিলারাই বিষয়টি মনের মধ্যে পুষে রাখেন এবং কাউকেই বলতে চান না। অথচ রোগ তা যে প্রকারেরই হোক না কেন এটি রোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে এবং কোন প্রকার সংকোচ না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অনেকেই নানা প্রকার চিকিৎসা নিয়েও আবার আরোগ্য হন না।

    জেনে রাখা দরকার মহিলাদের এই সমস্যা গুলির প্রপার ট্রিটমেন্ট না করলে তা পুরোপুরি নির্মূল হয় না। আর নারীদের মাসিক/ঋতু সংক্রান্ত সমস্যাগুলির আরোগ্যদায়ক এবং সর্বাধিক কার্যকর ট্রিটমেন্ট নিশ্চিত করে রেখেছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞান। তাই মহিলাদের কেউ মাসিক/ঋতু সংক্রান্ত কোন সমস্যায় আক্রান্ত হলে কোন প্রকার সংকোচ না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ চিকিত্সা নিন। এর জন্য খুব দীর্ঘকাল ঔষধ খেতে হবে না। খুব তাড়াতাড়িই জটিল উপসর্গ গুলি মূল থেকে নির্মূল হয়ে পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করবেন ইনশাল্লাহ।
    বিস্তারিত

    নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

    নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব (Oligomenorrhea) :- সময়ে সময়ে নারীদের ঋতুস্রাবে নানা প্রকার অনিয়ম ভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় এই ঋতুস্রাব নির্দিষ্ঠ সময়ে না হয়ে অনিয়মিত ভাবে ফোটা ফোটা পড়তে থাকে। এই জাতীয় লক্ষণযুক্ত পীড়াকে অলিগোমেনেরিয়া বলা হয়ে থাকে। 
    নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
    নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব বা অলিগোমেনেরিয়ার কারণ :- বিভিন্ন কারণে এই রোগটি হতে পারে-
    • জরায়ু বা ডিম্বকোষের অপরিনতি ভাব সৃষ্টি হওয়ার জন্য অনেক সময় নির্দিষ্ঠ সময় যথারীতি রজস্রাব হয় না। জরায়ুর স্বাভাবিক ক্রিয়া ঠিকমত হয় না বলে রজস্রাবে গোলযোগ দেখা দেয়। জরায়ুর স্বাভাবিক কাজ ঠিক মত হলে পূর্ণ স্রাব ৪/৫ দিনে হওয়ার কথা কিন্তু তা যদি না হয় তবে ঋতুস্রাবে বিলম্ব হতে পারে এবং ইহার ফলে অনেকদিন ধরে স্রাব ফোটা ফোটা হতে পারে। 
    • নারী দেহে যদি হরমোনের অভাব ঘটে তবে স্রাব স্বভাবতই কম হয় এবং এর ফলে অনেক সময় ধরে একটু একটু করে হয়। কিন্তু এতে ঋতুকালের সময় ৬/৭ দিনের বেশি হয় না। 
    • যদি কোন নারীর দেহে গনোরিয়া বা সিফিলিসের জীবানু থাকে এবং এই জন্য জরায়ু, জরায়ু ঝিল্লী, মেমব্রেন, ডিম্বনালী, ওভারী প্রভৃতি আক্রান্ত হয় তবে ঋতুস্রাবে অবশ্যই গোলযোগ থাকে। এই সব রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঠিকমত স্রাব হয় না, তাদের ঋতুস্রাব অনেক দিন পর্যন্ত চলতে পারে এবং জরায়ু থেকে ফোটা ফোটা রক্ত অনেক দিন পর্যন্ত পড়ে থাকে। 
    • ডিম্বকোষের প্রদাহ হলে অথবা ডিম্বকোষের জন্য কোন রোগ হলে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ঠ সময় ধরে তা থেকে ইষ্ট্রন ও প্রজেসষ্ট্রন নিঃসরণ হয় না। তার ফলে ঋতুচক্র নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় না এবং জরায়ুর কাজও নিয়মিত সঠিক মত হয় না। যার কারণে ঋতুর সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং ঋতুস্রাব ফোটা ফোটা ও থেমে থেমে হতে পারে। 
    • অনেক সময় দেখা যায়, নারী গর্ভবতী হওয়ার পরও ঋতু চক্রে তার ঋতু ঠিকমত চলে না তবে মাঝে মাঝে ফোটা ফোটা স্রাব হতে থাকে। অবশ্য এটি হরমোনের গোলযোগের কারনেও হতে পারে। 
    • দেহে রক্তহীনতার ভাব থাকলে বা দৈহিক পরিপুষ্টির অভাবেও ইহা হতে পারে। এই অবস্থায় ঋতুস্রাবে গোলযোগ থাকবে এবং ধীরে ধীরে ফোটা ফোটা ঋতুস্রাবহতে থাকবে। 
    নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব বা অলিগোমেনেরিয়ার লক্ষণ :- অলিগোমেনেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে বিশেষ কতগুলি লক্ষণ প্রকাশ লাভ করে থাকে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
    • রোগিনীর দেহে রক্তহীনতার ভাব অতি প্রকট ভাবে দেখা যায়। আবার কোন কোন নারীর ক্ষেত্রে এই ভাব নাও থাকতে পারে। 
    • এই লক্ষণ সাধারনত দীর্ঘস্থায়ী হয় অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফোটা ফোটা স্রাব হতে থাকে। 
    • ঋতুকালে যথারীতি ঋতুস্রাব না হয়ে জরায়ু থেকে ফোটা ফোটা রক্তপাত হতে থাকে। 
    • এই ফোটা ফোটা স্রাব কখনো বা ঋতুচক্র অনুসারে হয় আবার কখনো বা অনিয়মিত ভাবে হয়। 
    • যদি গর্ভকালে এমন হয় তবে তার জন্য পৃথক লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। 
    • এই সমস্যায় নারীরা ভয়ানক দূর্বল হয়ে পড়ে এবং চেহারা মলিন দেখায়। দূর্বলতা জনিত লক্ষণগুলি অতি পরিষ্কার ভাবে প্রকাশ পেয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার দূর্বলতা তেমন একটা থাকে না। 
    • গনোরিয়া বা সিফিলিস রোগ থাকলে ভিন্ন ধরনের লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে। 
    অলিগোমেনেরিয়ার জটিল উপসর্গ :- এই সমস্যায় দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নানা রূপ জটিল উপসর্গ প্রকাশ পায়। এর ফলে জরায়ুর প্রদাহ, ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালীর প্রদাহ, জরায়ুর ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ভয়ঙ্কর রক্তহীনতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রথম অবস্থাতেই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নেয়া উচিত তাতে যন্ত্রনাকর কোন উপসর্গই বিকশিত হতে পারে না আর রোগিনী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে থাকে।
    বিস্তারিত

    নারীদের গোপন ঋতুস্রাবের কারণ, লক্ষণ ও চিকিত্সা

    নারীদের গোপন ঋতুস্রাব (Cryptomenorrhoea) :- সাধারণত প্রতি ২৮ দিনে স্ত্রীলোকের ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। ইহার ব্যতিক্রম ঘটলে নানাবিধ রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেক সময় নারীদের ঋতুস্রাব হয় কিন্তু তা এত সামান্য এবং কিঞ্চিতকর যে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যায়। এই প্রকারের ঋতুস্রাবকে গোপন ঋতুস্রাব বা Hidden Menstruation বা Cryptomenorrhoea বলা হয়।
     
    নারীদের গোপন ঋতুস্রাবের কারণ :- বিভিন্ন কারণে এইরূপ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে যেমন - অনেক সময় নানা রকম পর্দার দ্বারা জরায়ু এবং যোনিমুখ আবৃত থাকার জন্য ঋতুস্রাব ঠিকমতো হতে পারে না। কখনো কখনো জন্মগত কারণে সতীচ্ছেদ একেবারে ছিদ্রশূন্য থাকে। এর ফলে ঋতুস্রাব ঠিকমতো হতে পারে না। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে পর্দা জরায়ু মুখকে আটকে রাখে। এছাড়া শারীরিক দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি ইত্যাদির জন্য ঠিকমতো রজস্রাব হয় না। অতি সামান্য হয় তা ঠিক বুঝতে পারা যায় না। অনেক সময় আঘাতের জন্য জরায়ু মুখ আটকে থাকে, এর ফলেও ঋতুস্রাব হয় না অথবা এত সামান্য হয় যে ধরা যায় না।

    নারীদের গোপন ঋতুস্রাবের লক্ষণ :-
    গোপন ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন - রক্ত জননেন্দ্রিয়ের অভ্যন্তরে জমা হতে পারে এবং এর ফলে নানারূপ লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে ও ঋতুস্রাব বাইরে নির্গত হয় না। অনেক সময় তরুনীদের ঋতুস্রাবের বয়স হওয়া এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি যথাযথভাবে বৃদ্ধি লাভ করা সত্বেও ঋতুস্রাব হচ্ছে না। প্রস্রাব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় কিন্তু স্রাব ঠিকমতো হয় না বা একেবারেই হয় না অথবা দু'এক ফোটা করে হয় মাত্র। মলত্যাগ কালে ব্যথা পায়, বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যে এই ব্যথা অসহ্য হয়ে উঠে। কখনো কখনো দেহের তাপমাত্র বৃদ্ধি পায় এবং জ্বর জ্বর ভাব দেখা দেয়।

    এই সমস্যায় দেরী না করে রোগ আক্রমনের সাথে সাথেই চিকিত্সা নিলে রোগের বিস্তার আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না, অর্থাৎ উপসর্গ গুলি ততটা জটিল আকার ধারণ করতে পারে না। কিন্তু দেখা যায় প্রপার ট্রিটমেন্ট না করলে সমস্যাটি পুরুপুরি নির্মূল হতে চায় না। নারীদের গোপন ঋতুস্রাব (Cryptomenorrhoea) এর প্রাথমিক বা পুরাতন উভয় অবস্থাতেই প্রপার হোমিওপ্যাথি ট্রিটমেন্ট নিলে পুরুপুরি নির্মূল হয়ে রোগী আরোগ্য লাভ করে থাকে। তবে এর জন্য অবশ্যই ভাল এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।
    বিস্তারিত

    নারীদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর চিকিৎসা

    নারীদের অনিয়মিত ঋতু (Irregular menstruation) :- নারীদের প্রতি ২৮ দিনে জরায়ুদ্বার দিয়ে সামান্য কালো লাল বর্ণের পাতলা স্রাব হয়। সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত স্রাব বর্তমান থাকে। স্রাবের স্বাভাবিক পরিমান থাকতে হবে। খুব বেশিও নয় আবার অতি সামান্যও নয়। এই সকল নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই অনিয়মিত ঋতুদোষ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। ঋতু সংক্রান্ত বিষয়টি আবার দৈহিক গঠনের সাথেও সম্পর্কিত।

    নারীদের অনিয়মিত ঋতুর কারণ :- সাধারণত ঋতুস্রাব ৪/৫ দিন বর্তমান থাকে। এই সময় যোনির মাধ্যমে প্রায় এক থেকে দেড় পোয়া রক্ত দেহ থেকে নিঃসৃত হয়। নিয়মিত স্রাব ২৮ দিন অন্তর হয়ে থাকে কিন্তু স্রাব অনিয়মিত হলে সময়ের কোন নির্দিষ্ঠ ভাব থাকে না। বিভিন্ন কারণে মাসিক স্রাবের অনিয়মিত ভাব দেখা দিতে পারে। কখনো দেরিতে হয় আবার কখনো বা দ্রুত হয়। যে সকল কারণে নারীদের স্রাব অনিয়মিত হয় তার মধ্যে প্রধান হলো :-
    • দেহের হরমোন জনিত গোলযোগ বা হরমোনের অভাব।
    • ডিম্বকোষ হতে ঠিক মতো নিঃসরণ হয় না।
    • জরায়ু বা ডিম্বকোষের রোগ থাকলে। 
    • দেহের স্বাভাবিক পুষ্টির অভাব হলে।
    • দেহের এবং যৌন অঙ্গের পূর্ণ বিকাশের অভাব হলে।
    • দেহে রক্ত শুন্যতার ভাব থাকলে।
    • গনোরিয়া, সিফিলিস জাতীয় কঠিন প্রকৃতির রোগ থাকলে।
    নারীদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব - কারণ, লক্ষণ ও কার্যকর চিকিৎসা
    নারীদের অনিয়মিত ঋতুর লক্ষণ :-  নারীদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত হলে বেশ কিছু  লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
    • ঋতুস্রাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে ঐরূপ ২/৩ মাস পর্যন্ত থাকে। কখনো বা ৪/৫ মাস পর্যন্ত বন্ধ থেকে হঠাৎ অধিক পরিমানে স্রাব অথবা ১০/১৫ দিন পর্যন্ত অল্প অল্প স্রাব নিঃসরণ হয়। 
    • ঋতুস্রাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, আবার দুই তিন মাস হয় না, কখনো বা ১৫/২০ দিন বন্ধ থাকে। কখনো বা ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর ৮/১০ দিন বা ১০/১৫ দিন পর্যন্ত কম বেশি চলতে থাকে।
    • ঋতুস্রাব ১৫/২০ দিন বন্ধ থেকে ফোটা ফোটা ঋতু হতে থাকে। কখনো ঠিকমতো চলে আবার কখনো বা হঠাৎ গোলমাল দেখা দেয়।
    • রোগী তলপেটে ভয়নক ব্যথা অনুভব করে। কখনো বা কালচে বর্ণের রক্তস্রাব হতে থাকে। কখনো বা স্রাবের রক্তে ছোট ছোট কালো টুকরা দেখা যায়।
    • অনিয়মিত ঋতুস্রাবের রোগীদের আরো কতগুলি লক্ষণ প্রকাশ লাভ করে যেমন - তলপেটে খিল ধরার মত ব্যথা, প্রসব বেদনার মত ব্যথা, বার বার মল ত্যাগের প্রবৃত্তি, কোষ্ঠকাঠিন্যের ভাব ইত্যাদি।
    • ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে প্রচন্ড বমি এবং বমি বমি ভাব, আবার কখনো বা ঋতুস্রাব আরম্ভ হলে সব যন্ত্রণার অবসান হয়। সামান্য বিরতিতে চাপ চাপ রক্তস্রাব হয়, রোগী মনে করে উদরের মধ্যে সজীব কোন পদার্থ নাড়াচাড়া করছে।
    • কখনো বা কেবলমাত্র রাত্রিকালে ঋতুস্রাব হয়, কখনো বা শুধু দিনে হয়। ঋতুস্রাব কালে স্তন দুটি প্রদাহিত ও বেদনাযুক্ত হয়। ঋতুস্রাব আরম্ভ হবার পূর্বে গলায় ও স্তনে বেদনা অনুভব হয়।
    • কখনো বা শুয়ে থাকলে ঋতুস্রাব হয়, বসলে বা হাটাচলা করলে বন্ধ হয় আবার কখনো বা দুই সপ্তাহ অন্তর ঋতুস্রাব হয়। স্রাব চটচটে ও শ্লেষ্মাপূর্ণ হতে পারে আবার কালো বর্ণের বা মাংস ধোয়া জলের মত হতে পারে।
    মা বোনদের অনেককেই এই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। গ্রামগঞ্জে মহিলারা বিষয়টি নিয়ে নানা প্রকার কুসংস্কারের শিকার হয়ে থাকেন এবং বছরের পর বছর প্রপার ট্রিটমেন্ট না নেয়ার কারণে ভুগতে ভুগতে শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্র্রায় হাড্ডিসার করে তুলেন। শুধু তাই নয়, শহুরে শিক্ষিত অনেক তরুণীদেরকেও দেখা যায় বিষয়টি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকার কারণে যথাযথ চিকিৎসা না নিয়ে রোগটি পোষে রাখে এবং একসময় এর থেকে আরো জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে বসে। হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে অনিয়মিত ঋতুস্রাব নির্মূলের সম্পূর্ণ আরোগ্যকারী সমাধান রয়েছে। কিছু দিন যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব রোগ পরুপুরি দূর হয়ে আবার ঋতুস্রাব স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই এতে আক্রান্ত হলে কোন প্রকার সংকোচ না করে ভালো এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিত্সকের স্মরনাপন্ন হোন এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন, আশা করি খুব শীঘ্রই সুস্থ এবং স্বাভাবিক হয়ে উঠবেন।
    বিস্তারিত

    নারীদের অতিরজ মেট্রোরেজিয়া - কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

    অতিরজ বা মেট্রোরেজিয়া (Metrorrhagia) :- নারীদের মেট্রোরেজিয়া এবং মেনোরেজিয়ার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য আছে। কিন্তু বাংলায় ইহাদের অর্থ হলো অতিরজ। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মেট্রোরেজিয়া এবং মেনোরেজিয়ার মধ্যে লক্ষণগত পার্থক্য বিদ্যমান। নারীদের যখন ঠিক নিয়মিত সময়ে মাসিক ঋতুস্রাব হয় এবং অধিক পরিমানে স্রাব হয় তখন তাকে মেনোরেজিয়া বলা হয়। আবার যখন নিয়মিত মাসান্তে অর্থাৎ ২৮ দিন অন্তর ঋতু স্রাব না হয়ে অন্য সময় বেশি পরিমানে বা অন্য কোন কারণে অধিক পরিমানে জননেদ্রিয় হতে রক্ত স্রাব হয় তখন তাকে মেট্রোরেজিয়া বলে।

    অতিরিক্ত রজস্রাব বা মেট্রোরেজিয়ার কারণ :- ইহা জরায়ু ও স্ত্রী জননেদ্রিয়ের একটি প্রধান রোগ এবং নানা প্রকার কারণে এই রোগটি সৃষ্টি হতে পারে। যেমন - জরায়ু এবং যোনি গাত্রে টিউমার হলে, জরায়ু গ্রীবার ক্যান্সার বা ঐ জাতীয় রোগ হলে এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডিম্বকোষ বা ডিম্বনালীর পীড়া বা প্রদাহ হলে, জরায়ুর স্থানচ্যুতি হলে, প্রথম রজস্রাব বিলম্ব হলে, দেহের হরমোন ক্রিয়ার গোলযোগ হলে বা হরমোন যথাযথভাবে হরমোন নিঃসরণ না হলে ইহা দেখা দিতে পারে।
    নারীদের অতিরজ মেট্রোরেজিয়া - কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
    এছাড়া গর্ভধারণের সময় কোন স্ত্রীলোকের প্রথম মাসে রজস্রাব হলে গর্ভপাতের লক্ষণ বুঝায়। সময় হোক আর অসময় হোক - সন্তান ভুমিষ্ট হবার পর অনেকক্ষণ ধরে কষ্টকর প্রসব বেদনার পর সন্তান হয়ে অথবা খুব শীঘ্র শীঘ্র ও জোরে জোরে সন্তান বের হওয়া ও ফুলের কিছু অংশ জরায়ুর মধ্যে থাকা অথবা জরায়ুর মধ্যে বড় একটা রক্তের চাপ আটকে থাকা ইত্যাদি কারণে প্রচুর পরিমানে রক্ত স্রাব হতে পারে। যারা সন্তানকে দুধ পান না করায় তাদের মধ্যে কারো কারো এবং জরায়ুর কোন কোন প্রকার প্রদাহ হতে অত্যন্ত রজস্রাব হয়। এছাড়া টাইফয়েড, বসন্ত, কলেরা, ইত্যাদি পীড়া ভোগকালে কখনো কখনো জননেদ্রিয় হতে অতিরিক্ত রজস্রাব হয়।

    অতিরিক্ত রজস্রাব বা মেট্রোরেজিয়ার লক্ষণ :-
    • রজস্রাব এক একবার স্রোতবেগে দমকা বের হয় আবার কখনো কখনো অনবরত স্রাব চলতে থাকে।
    • মুখমন্ডল ও চেহারা ফ্যাকাশে এবং শরীর ঠান্ডা হিমাংগ হয়ে আসে, উদ্বেগ, অস্থিরতা বৃদ্ধি হয়।
    • তলপেটে প্রসব বেদনার মত ব্যথা অনুভূত হয়, বমি বমি ভাব দেখা দেয়, মূর্ছা যায়, শ্বাস প্রোশ্বাসে কষ্ট হয়।
    • শীঘ্রই রক্তহীনতার ভাব দেখা দেয়, চোখে অন্ধকার দেখে, কানে ভো ভো শব্দ হয়, নাড়ী ক্ষীন হয়।
    • মাসিক বা ঋতুর সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমানে ঋতুস্রাব হয়। কখনো বা ঋতু বেশি দিন বন্ধ থাকে তারপর আবার ঋতু হয় এবং বেশি পরিমানে হয়।
    • কখনো কালচে পদার্থ স্রাবের সাথে বের হয়ে আসে। আলস্য, হাইতোলা এবং গা মেজ মেজ করা লক্ষণ প্রকাশ পায়।
    • পেটে পিঠে এবং কোমরে অত্যধিক বেদনা দেখা দিতে পারে। ক্ষুধাহীনতার ভাব ও অরুচি দেখা দেয়, এ ছাড়া পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ, অম্ল, অজীর্ণ, উদরাময়, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
    • সর্বদাই গা শীত শীত করে, হাত পা ঠান্ডা বোধ হয়, মারাত্মক দুর্বলতার ভাব সৃষ্টি হতে পারে, চোখে দেখা, কানে কম শোনা ইত্যাদি লক্ষণও অনেকের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়।
    • শারীরিক দুর্বলতা ও কৃশভাব আবার কখনো বা স্থুলকায় হতে পারে। শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে।
    প্রকাশিত কিছু জটিল উপসর্গ :- কখনো কখনো অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ার পর রোগী এত দুর্বল হয়ে পড়ে যে তা থেকে লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। ব্রেনের এনিমিয়া, মুর্চ্ছা প্রভৃতি হতে পারে। কখনো কখনো শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পেতে পারে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ জাতীয় রোগে ভুগলে রক্তহীনতার দোষে রোগিনীর জীবন সংশয় হয়ে উঠতে পারে। তাই কোনো প্রকার অবহেলা না করে শুরুতেই ভালো এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন, খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবেন । নারীদের অতিরজ মেট্রোরেজিয়া (Metrorrhagia) নির্মূলে সর্বাধিক কার্যকর চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে বিদ্যমান। অতিরজের নতুন পুরাতন যে কোন জটিল পর্যায়ে প্রপার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিলে যাবতীয় কষ্টকর উপসর্গ নির্মূল হয়ে রোগিনী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে থাকে।
    বিস্তারিত

    নারীদের রজ নিবৃত্তি বা মেনোপজ ও এর লক্ষণসমূহ

    নারীদের রজ নিবৃত্তি বা মেনোপজ :- নারীদের অধিক বয়স হলে ঋতুস্রাব কমে আসে এবং ধীরে ধীরে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থা সাধারনত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু পূর্বে বা কিছু পরেও ঘটতে পারে। এইরূপ অবস্থাকে ঋতুস্রাব নিবৃত্তি বা মেনোপজ বলে। এই অবস্থায় জরায়ুর আকার ছোট হয়ে যায়, যোনিদেশ সংকোচিত হয় এবং দুর্বলতার লক্ষণ বাড়ে।
     
    কিন্তু স্নায়ুবিক ভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ না হয়ে যদি তা চলতে থাকে এবং যদি স্নায়ুর উগ্রতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বার বার গরমবোধ, শির পীড়া, হৃদকম্পন এবং হিস্টিরিয়া, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, উদরে বায়ুর সঞ্চয়, অধিক মাত্রায় ঘাম বা প্রচুর প্রস্রাব প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায় তবে যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন আর এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা প্রায় মন্ত্রের মতো কাজ করে।

    নারীদের রজ নিবৃত্তির লক্ষণ :- নারীদের শেষ ঋতু বন্ধ হবার আগে ঋতু সম্পর্কে নানা প্রকার অনিয়ম দেখতে পাওয়া যায়, কখনো প্রচুর বা অল্পস্রাব হয়, কখনো বা হঠাত ঋতু বন্ধ হয়ে কিছুক্ষণ থেকে বন্ধ হয়ে যায়, কখনো কখনো উপসর্গ উপস্থিত হয় আবার কখনো কখনো উপসর্গ প্রকাশ না পেয়ে ক্রমে ক্রমে ঋতু বন্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো স্ত্রীলোকের শেষ ঋতু বন্ধ হবার সময় অত্যন্ত রক্তস্রাব, মাথাধরা, মাথাঘোরা, মাথা ঝিম ঝিম করা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে।

    নারীদের রজ নিবৃত্তিকালে এই সকল লক্ষণসমূহ প্রকাশ পাবার কারণ হলো - এই সময় দেহের বিভিন্ন অন্তনিঃসরণশীল গ্রন্থিসকলের যথাযথ কাজ সম্পর্কীয় বিশেষ অসংহতি বা কিছু সময়ের জন্য ইহাদের পারস্পরিক সহযোগীতার সম্পূর্ণ অভাব। রজ নিবৃত্তির সমাপ্তির পূর্বে কোন কোন নারী বেশ সুস্থ এবং সবল হয়ে উঠেন। তবে দেখা যায় কারো কারো ক্ষেত্রে বেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায় এবং ঐ অবস্থায় ট্রিটমেন্ট এর দরকার হয়ে পড়ে। আর নারীদের রজ নিবৃত্তিকালে যেকোন বিরূপ উপসর্গে হোমিওপ্যাথি ঔষধ স্রষ্ঠার আশীর্বাদের মতো কাজ করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তখনকার যাবতীয় জটিল উপসর্গসমূহকে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই পুরুপুরি নির্মূল করে থাকেন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা। 
    বিস্তারিত