Showing posts with label নারীর স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label নারীর স্বাস্থ্য. Show all posts

Tuesday, July 3, 2018

মহিলাদের এন্ডোমেট্রিওসিস এবং এর সুচিকিৎসা

এই মূলত মহিলাদের রোগ।  মহিলাদের  ইউটেরাসের যে আস্তরণ বা পর্দা থাকে তাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলা হয়। এই এন্ডোমেট্রিয়াম নামক আস্তরণ যখন ইউটেরাসের বাইরে বিকাশিত হয়, এবং অনেকসময়ে দেহের অন্যান্য অংশে যেমন- দুটো ওভারির মধ্যে, ফ্যালোপিয়ান টিউবে এবং কখনও কখনও অন্ত্রে এই কোষের বাড়বাড়ন্ত দেখা যায় তখন এন্ডোমেট্রিওসিস নামক সমস্যার সৃষ্টি হয়। ইউটেরাসের বাইরে গড়ে ওঠা এই আস্তরণের উপস্থিতি মহিলাদের যন্ত্রণাময় মাসিকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু মহিলার ক্ষেত্রে এই ব্যথা-বেদনা এতটাই গুরুতর হয় যে মাসিক চলাকালীন পুরো সময় ধরে মহিলারা একেবারে সবদিক থেকে অক্ষম হয়ে পড়ে।
মহিলাদের এন্ডোমেট্রিওসিস এবং এর সুচিকিৎসা
এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে শুধু যে দৈহিক যন্ত্রণা হয় তা নয়, একনাগাড়ে চলতে থাকা এই ব্যথা মানসিক জটিলতারও কারণ হয়।

এন্ডোমেট্রিওসিস-এর লক্ষণগুলো কী কী?

মহিলাদের মধ্যে যখন সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা জন্মায় তখন এন্ডোমেট্রিওসিসের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা জাগে। সাধারণত মহিলাদের জননক্ষমতা বিকশিত হওয়ার একেবারে গোড়ার দিকে এই সমস্যার জন্ম হয়। পরে ক্রমশ রোগের উপসর্গগুলো ঘনীভূত হয়ে উঠতে থাকে। বহু মহিলার ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয় সঠিক সময়ে হয় না। এর পিছনে অনেক কারণ থাকে। যেমন- মেয়েদের মাসিক সম্পর্কে কথা বলার ক্ষেত্রে 'স্বাভাবিক' ঘটনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অজ্ঞতা। এই রোগের লক্ষণগুলো হল-
  • অতিরিক্ত রক্তস্রাব, সঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণা
  • সহবাসের সময়ে যন্ত্রণা উপলব্ধি করা
  • মাসিকের সময়ে বা অন্য সময়ে বারবার তলপেটে বা পেলভিক অঞ্চলে ব্যথা হওয়া
  • দুটো মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত ঘটা
  • সন্তানসম্ভবা হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা
গবেষণায় দেখা গিয়েছে ৫ থেকে ২০ শতাংশ  মহিলার মধ্যে এন্ডোমেট্রিওসিসের সমস্যা থাকে। যদি যন্ত্রণাদায়ক মাসিকের ফলে কোনও মহিলা কিছুদিনের জন্য প্রায় অক্ষম হয়ে পড়ে তাহলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। কারণ এটাই এই সমস্যার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা।

নিয়মিত মাসিক-যন্ত্রণার ও এন্ডোমেট্রিওসিসের যন্ত্রণার মধ্যে কতটা পার্থক্য রয়েছে?

অনেক মহিলার ক্ষেত্রেই মাসিক চলাকালীন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে থাকা, পেটে ব্যথা অথবা শরীরের পিছনের অংশে ব্যথা হয়। কিছু যন্ত্রণা স্বাভাবিক। কারণ এই যন্ত্রণার পিছনে মহিলাদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দায়ী থাকে। এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে যে যন্ত্রণা হয় তা অত্যন্ত তীব্র এবং এর ফলে মহিলারা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে সক্ষম হয় না। কয়েকজন মহিলার ক্ষেত্রে মাসিকের আগে ও পরে পেটে ব্যথা হয়ে থাকে।

এই রোগের মানসিক প্রভাব

যন্ত্রণাময় মাসিকের চেয়েও এন্ডোমেট্রিওসিস অনেক বেশি কষ্টকর। একনাগাড়ে এই ব্যথা হওয়ার ফলে মহিলাদের পক্ষে দৈনন্দিন কাজকর্ম করা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য মহিলাদের মানসিক চাপ জন্মাতে পারে-
  • প্রাত্যহিক দায়িত্বগুলো, তা সে ঘরের বা বাইরের যে কাজই হোক না কেন, তা পালন করার ক্ষেত্রে অক্ষমতা
  • সহবাসের সময়ে যন্ত্রণা হওয়া এবং এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন গড়ে ওঠে
  • বন্ধ্যাত্বের সমস্যার কথা ভেবে চিন্তা বা উদ্বেগ দেখা দেয়
  • সমস্যা বারবার দেখা দেওয়া বা নিজেদের অবস্থার অবনতির জন্য মহিলাদের চিন্তাভাবনা বেড়ে যায়
  • চিকিৎসার ক্ষেত্রে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং মানসিক হতাশা বা আশাহত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে
অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যার মতো এই রোগের ক্ষেত্রে হরমোন কদাচিৎ দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন দৈহিক যন্ত্রণা একজন মহিলার জীবনে চেপে বসে তখন তার মধ্যে সমস্যার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা একেবারে ভেঙে পড়ে। এর ফলে পারিপার্শ্বিক চাপের মোকাবিলা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যায়। এই পারিপার্শ্বিক চাপের মধ্যে থাকে-
  • অসহযোগিতাপূর্ণ কাজের পরিবেশ
  • পরিবারের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা না পাওয়া
  • তার সমস্যার প্রতি অন্যদের সহানুভূতি ও মানসিক সাহায্যের অভাব
  • বিয়ের পরেই সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য সামাজিক চাপ
  • মাসিককে ঘিরে সামাজিক কুসংস্কারের জন্য নিজের সমস্যা নিয়ে মহিলাদের মন খুলে আলোচনা করতে না পারা
এসব পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে মহিলারা একাকিত্বে ভুগতে শুরু করে, আত্মনির্ভরতা হারিয়ে ফেলে এবং বোধগম্যতার বোধ নষ্ট হয়ে যায়। লাগাতার সমস্যার ফলে একঘেয়েমি ও হতাশা এসে যায়। যে সব মহিলারা এন্ডোমেট্রিওসিসের শিকার হয় এবং যাদের পারিপার্শ্বিক চাপ খুব বেশি থাকে তাদের মধ্যে মেজাজ-মর্জির সমস্যা, উদ্বেগ, অবসাদ বা অবসেসিভ কম্পালসান-এর জটিলতা দেখা দেয়। হরমোনের চিকিৎসা মেজাজ-মর্জির ঘন ঘন বদল
রোধ করে।

চিকিৎসা

এর একমাত্র সুচিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং চিকিৎসা নিন। 
বিস্তারিত

Sunday, April 15, 2018

সহজে মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করার স্থায়ী উপায়

অনেক মেয়েদের দেখা যায় ঠোঁটের  উপরের  বা মুখের লোম দূর করার জন্য বা উঠানোর উপায় হিসেবে লোম নাশক ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এতে একেবারে সমস্যাটি দূর হয় না। অনেকে আবার এই কাজটি করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন। তাতেও স্বস্তি নেই। কারণ কিছু দিন পর আবার হয়।
আপনি জানেন কি ? যদি মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করতে চান তাহলে কিছুদিন হোমিও চিকিৎসা নিলেই সমস্যাটি দূর হয়ে যায়। অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট দিন। এতে নেই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্যা। আর এটিই হলো আপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান। 
আর যদি অস্থায়ী সমাধান চান তা হলে নিচের প্রক্রিয়াগুলি অনুসরণ করতে পারেন। তার আগে আপনাকে দেখতে হবে কোনটি আপনার ক্ষেত্রে কাজ করে। যেটি কাজ করে সেটি অনুসরণ করতে পারেন বার বার।
সহজে মেয়েদের মুখের অবাঞ্ছিত লোম চিরতরে দূর করার স্থায়ী উপায়
১। বেসন এবং হলুদের প্যাক :- এক চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং পরিমাণমত দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ভাবে ঠোঁটের উপরের লোম দূর করে দেবে। এটি সপ্তাহে দুই তিন বার ব্যবহার করুন।

২। ডিমের সাদা অংশ :- ঠোঁটের উপরে অংশের লোম দূর করতে ডিমের সাদা অংশ বেশ কার্যকর। একটি ডিমের সাদা অংশ, কর্ণ ফ্লাওয়ার এবং চিনি ভাল করে ফেটে নিন। এবার এই পেস্টটি ঠোঁটের উপর লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে এটি তুলে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন। এক মাসের মধ্যে আপনি দেখতে পাবেন আপনার লোম অনেকটা কমে এসেছে।

৩। চিনি :- ঘরোয়া ওয়াক্সিং করার অন্যতম উপাদান হল চিনি। চিনি অবাঞ্ছিত লোম দূর করে এবং নতুন লোম জন্মাতে বাঁধা দিয়ে থাকে। একটি প্যানে কিছু পরিমাণ চিনি এক মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে কিছু পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ঘন করে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন। এবার একটি কাপড় দিয়ে চক্রাকারে ঘষুন এবং লোমের বিপরীতে টান দিন।

৪। চালের গুঁড়ো এবং টকদই:- চালের গুঁড়ো এবং টকদই মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫। ময়দা :- ময়দা, দুধ এবং হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে এটি টান দিয়ে তুলে ফেলুন। সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী একটি উপায়ের মধ্যে এটি অন্যতম।

বিস্তারিত

Wednesday, January 17, 2018

সিজারিয়ান ডেলিভারী (প্রসব) মা ও শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর? দেখুন ভিডিওতে

আপনি জানেন কি সিজারিয়ান প্রসব মা ও শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর।  বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ। দেখুন মা-শিশুর জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ সিজারিয়ান প্রসব? (ভিডিও)

যদিও সিজারিয়ান করানো খুব সাধারণ ব্যাপার আজকাল, কিন্তু এটা একটা বড় অপারেশন তাই এর নিজস্ব কিছু ঝুঁকি থাকে। এজন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ ছাড়া ডাক্তার সিজারিয়ান করানোর পরামর্শ দেননা। গর্ভাবস্থায় কোন জটিল সমস্যা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে ভ্যাজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ। নরমাল ডেলিভারি শুধু বর্তমান গর্ভাবস্থার জন্যই ভালো নয় বরং পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্যও ভালো।

কখনো কখনো মা ও বাচ্চার জীবন রক্ষার্থে সিজারিয়ান করতে হয়, সেই পরিস্থিতিতে প্রশ্নাতীত ভাবেই সিজারিয়ান করানোটা হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ। আবার এমনও হতে পারে যে, আপনি কোন বিশেষ দিনে বিশেষ উপায়ে বাচ্চার জন্ম দিতে চান তখন ডাক্তার আপনাকে সিজারিয়ান করানোর পরামর্শ দেন। তবে আপনার এই সিদ্ধান্ত আপনার স্বাস্থ্য ও জীবনধারায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।
সিজারিয়ান ডেলিভারী (প্রসব) মা ও শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর
বর্তমানে চারজনের মধ্যে একজন শিশু সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয়। BBC  ও Guardian এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।    

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে মায়ের সুবিধা সমূহ-
  •  প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয়না
  • অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হয়না
  • ভ্যাজাইনাল ইনজুরি হয়না

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে মায়ের অসুবিধা সমূহ-

  • অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়
  • শিশুর জন্মের পরও ব্লিডিং হলে অনেক ক্ষেত্রে গর্ভ অপসারণ করে ফেলতে হয়  একে হিস্টেরেক্টমি বলে।
  • হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ইউটেরাইন ইনফেকশন এর ঝুঁকি বাড়ে।
  • অপারেশনের পরে ব্যাথা হয় যা প্রায় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
  • পরবর্তীতে সন্তান ধারণের সময় এক্টোপিক বা টিউবাল প্রেগনেন্সি, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টা অ্যাক্রিটা এবং প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন এর সমস্যাগুলো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  

পরিকল্পিত সিজারিয়ানে বাচ্চার অসুবিধা সমূহ-

  • ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রাখতে হয়
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা থাকে
  • ব্রেস্ট ফিডিং এর অভ্যাস গড়ে উঠতে দেরি হয়
The Australian study  তাদের এক গবেষণায় দেখেছে যে, সিজারিয়ান করানো মায়েদের মধ্যে মানসিক প্রতিকূলতার প্রভাব প্রাকৃতিক প্রসবের মায়েদের চেয়ে বেশি হয়। সিজারিয়ান করানো মায়েদের মধ্যে বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং এ সমস্যা হতে পারে।

সিজারিয়ান ডেলিভারিতে কি পাচ্ছি

  • সফলভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর সংগঠন বৈজ্ঞানিক তথ্যে জানাচ্ছে, নরমাল জরায়ুমুখ প্রসবের তুলনায় সিজারিয়ান শিশুর মাতৃদুগ্ধ পান শুরু বেশি সমস্যাঘন থাকে।
  • সিজারিয়ান অপারেশনে মাকে অস্ত্রোপচারের জন্য যেসব অ্যানেসথেটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তা নবজাতক শিশুতে প্রভাব ফেলতে পারে। সফল বুকের দুধ পানে বাধা হয়ে উঠতে পারে।
  • সিজারিয়ান ডেলিভারির ফলে মাকে বাকি জীবনে মানতে হয় বিভিন্ন বিধিনিষেধ। যা বলতে গেলে তার স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
  • সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুর হাসপাতালে থাকার সময়কাল বেশি বলে বেশি ইনফেকশন ঝুঁকিতে থাকে এসব শিশু।
  • সিজারিয়ান শিশুতে ব্লাড ইনফেকশন হার বেশি। জন্ডিস দেখা দেওয়ার পাল্লাটা খানিক হেলানো। ফরসেপের তুলনায় মাথায় আঘাতের আশংকা ৬০ শতাংশ কম কিন্তু সিজারিয়ান বেবিতে ইনটেনসিভ কেয়ার পরিচর্যার সংখ্যা ফরসেপের তুলনায় ২ দশমিক ৬ গুণ বেশি।
  • ২৫ শতাংশ সি-সেকশনে সময়ের দুই-তিন সপ্তাহ আগে সন্তান জন্মদান হয়ে যায়। শিশু ইনফেকশনে পড়ার এটিও এক কারণ হয়ে থাকতে পারে।
  • সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশু অণুজীবাণু পায় হাসপাতালের পরিবেশ থেকে, যা অত্যন্ত ভয়ংকর জীবাণু। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয় খর্ব।
  • মিউনিখ, জার্মানিতে ৮৬৫ জন বেবি, যারা প্রথম চার মাস শুধু বুকের দুধে নির্ভরশীল ছিল, পরবর্তী সময়ে ১২ মাস বয়সে এসে দেখা যায় সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুতে ডায়রিয়া হওয়ার ৪৬ গুণ বেশি ঝুঁকি মিলছে।
  • কিডস অ্যালার্জি রিস্ক ডাটা দেখাচ্ছে সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুতে অ্যালার্জির প্রবণতা বেশি। গরুর দুধে অ্যালার্জি প্রায় দুই গুণ বেশি। অন্য পাঁচটা উপাদানেও অ্যালার্জিরভাব বেশি।
  • ২০০১ সালে প্রকাশিত জার্নাল অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমিউনোলজি দেখাচ্ছে, সিজারিয়ান বাচ্চাদের মধ্যে অ্যাজমার প্রবণতা বেশি থাকে। এই গবেষণা হয়েছে ফিনল্যান্ডে
  • *শিকাগোর ডা. এলিউট এম লেভিন ও সহযোগী গবেষকদের মতে, সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশুতে প্রাইমারি পালমোনারি উচ্চ রক্তচাপ পাঁচ গুণ বেশি। প্রতি হাজারে প্রায় চারজনে ঘটে। নরমাল ডেলিভারির শিশুতে এই হার ০.৮ প্রতি ১০০০ শিশু জন্মে।
  • নিউরোসায়েন্সের বিজ্ঞানীরা ইঁদুরে ওপর গবেষণা করে পেয়েছেন, সি-সেকশনে জন্ম নেওয়া শিশু পরবর্তী সময়ে সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক রোগে ভোগার ঝুঁকিতে থাকে বেশি।
  • যেসব মা সিজারিয়ান অপারেশনে বাচ্চা জন্মদানে বেশি আগ্রহী থাকেন, সেসব নবজাতক সন্তানের প্রথম ২৮ দিনে মৃত্যুহার তিন গুণ বেশি থাকে।
অতএব আপনিই এবার সিদ্ধান্ত নিন, কোনটা, কেন যৌক্তিক?
এবার আমরা জানবো প্রাকৃতিক প্রসবের সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি –
  • ভেজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি অস্বস্তিকর ও কষ্টকর।
  • নরমাল ডেলিভারি নোংরা মনে হতে পারে। শরীর থেকে অনেক ঘাম, অ্যামনিওটিক তরল, রক্ত এবং বাচ্চার জন্মের পর প্লাসেন্টা বা নাড়ি বের হয়।
  • ভ্যাজাইনাল ইনজুরি হতে পারে। অনেক সময় সেলাই লাগতে পারে।
  • নরমাল ডেলিভারি হলে মা কয়েক ঘন্টা পরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারে।
  • ভালোভাবে বাচ্চার জন্ম হয়ে গেলে বাচ্চা শান্ত থাকে।
  • বাচ্চার জন্মের পর মা শারীরিক ও মানসিক শক্তি লাভ করে। এর মাধ্যমে সে শান্তি ও অর্জনের বিস্ময়কর অনুভূতি পায়।
  • বাচ্চার জন্মের পর বাচ্চাকে সাথে সাথেই শাল দুধ খাওয়ানো সহজ হয় ফলে মা ও বাচ্চার সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
  • নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চাকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্ম নিতে হয় তাঁতে বাচ্চার ফুসফুস শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার জন্য প্রস্তুত ও শক্তিশালী হয়।  

বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ

সফল ভাবে বাচ্চা প্রসবের জন্য যে কাজ গুলো করা প্রয়োজন এবং যে কাজ গুলো করা ঠিক না সেগুলো জেনে নেই আসুন।

১। প্রাকৃতিক ভাবে বাচ্চা প্রসবের জন্য একজন স্বাস্থ্য কর্মী বা ধাত্রীর প্রয়োজন। সান ফ্রান্সিস্কো এর ওয়াইজওমেনচাইল্ডবার্থ.কম এর সারটিফাইড প্রফেশনাল মিডওয়াইফ, লাইসেন্সড মিডওয়াইফ মারিয়া লরিলো পরামর্শ দেন, “প্রাকৃতিক ভাবে বাচ্চা প্রসবের জন্য একজন ডাক্তার বা দাই এর ব্যবস্থা করতে হবে যিনি পুরো বিষয়টাকে সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করাতে পারবেন”।     

২। প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিষ গুলো জীবাণু মুক্ত করে নিতে হবে।

৩। বিজ্ঞানীদের মতে সদ্যজাত বাচ্চার নাড়ীতে প্রচুর আয়রন থাকে যা জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে বাচ্চার শরীরে উৎপন্ন হয়না। তাই জন্মের অন্তত ২ মিনিট পরে নাড়ী কাটা ভালো যাতে শিশু অনেক বেশি আয়রন নিয়ে নিতে পারে।

৪। জন্মের সাথে সাথে বাচ্চাকে দূরে সরিয়ে না নিয়ে মায়ের বুকে নিলে বন্ধন দৃঢ়  হয়।

৫। জন্মের পরপর বাচ্চাকে শাল দুধ খাওয়াতে হবে। বাচ্চাকে বুকের দুধ দিলে বাচ্চা এবং মা উভয়ের জন্যই ভালো। বুকের দুধ বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং মাকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, বাচ্চা ও মায়ের বন্ধন দৃঢ় হয়।

৬। বাচ্চার জন্মের ব্যাপারে ভয়ংকর কিছু হতে পারে বা হয়েছে এমন কারো গল্প শুনবেন না বরং সব সময় ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন।

যুক্তরাজ্যের National Institute for Clinical Excellence  এর মতে, ‘সকল মহিলাদেরই অধিকার আছে বাচ্চার জন্মের পদ্ধতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার। কিন্তু তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে তাঁদেরকে সাহায্য করার জন্য সঠিক পরামর্শ দেয়াও জরুরি’। মহিলাদের জন্য বাচ্চার জন্মের দিনটা অনেক মোহনীয় ও স্মরণীয় একটি দিন। প্রসব বেদনা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি কষ্টের কিন্তু মা যখন তাঁর সদ্যজাত সন্তানের মুখ দেখেন তখন তাঁর সব কষ্ট ভুলে যান।

সিজারিয়ানকে না বলুন এবং নরমাল ডেলিভারী নিশ্চিত করুন 

আপনি জানেন কি সন্তান পেটে আসার পর অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে নিয়মিত নির্দিষ্ট হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে নরমাল ডেলিভারী নিশ্চিত করা যায়। তাই আসুন সিজারিয়ান প্রসবকে না বলি এবং নরমাল প্রসব নিশ্চিত করি। 
বিস্তারিত

Saturday, August 15, 2015

স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

দুই বৎসর বা তার থেকে বেশি সময় চেষ্টা করার পড়েও গর্ভধারণে ব্যার্থ হলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বন্ধ্যত্ব বলে। ৮% দম্পতি বন্ধ্যত্বের শিকার হন। বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের কারণে হতে পারে। বন্ধ্যত্ব দু ধরনের যথা:

প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব :- বিবাহের পর সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কখনই গর্ভধারণ না হওয়াকে প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব বলে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব :- কোন মহিলা প্রথম বার গর্ভধারণের পর দ্বিতীয় বার আর যদি গর্ভধারণ করতে না পারে তবে তাকে পরবর্তী বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব বলে।
স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
কারণ:- বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজনের কারণে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে অন্যায় ভাবে শুধুমাত্র স্ত্রীদেরকে দোষারোপ করা হয় এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে স্বামীকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়েতে উৎসাহিত করা হয়।

ক) স্বামীর কারণে বন্ধ্যত্ব:- 
  • স্বামীর বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে।
  • মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণু বিহীন বীর্যের কারণে
  • একটি অণ্ডকোষ/লুপ্ত প্রায় অণ্ডকোষ/অণ্ডকোষ জন্মগত ভাবে না থাকলে।
  • অণ্ডকোষের প্রদাহ, মাম্পস বা গলা ফুলা রোগের প্রদাহের কারণে।
  • বিকৃত শুক্রাণু থাকলে।
  • যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম হলে।
  • শুক্রাণু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও পরিবেষ অণ্ড কোষে না থাকলে।
  • যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা, গনোরিয়া প্রভৃতি রোগ থাকলে।
খ) স্ত্রীর কারণে বন্ধ্যত্ব:-
  • যদি জরায়ুর আকার ছোট হয়।
  • ডিম্বাশয় যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে।
  • মাসিকের গণ্ডগোল থাকলে।
  • বস্তি কোটরের প্রদাহ হলে।
  • বংশগত।
  • জরায়ুতে টিউমার হলে।
  • যক্ষ্মা গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ হলে।
উল্লেখিত কারণগুলো ছাড়াও স্ত্রীর ডিম্ব ক্ষরণের সময় যৌনমিলন না হলে গর্ভধারণ হয় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা :- বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়ে প্রথমে স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এবং স্বামীর শারীরিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি কোন অসুবিধা ধরা না পড়ে তখন স্ত্রীকে পরীক্ষা করতে হবে। স্ত্রীর পরীক্ষাগুলো ব্যয়বহুল বিধায় প্রথমে স্বামীকে পরীক্ষা করা উচিত।

পরামর্শ :- যদি কোন দম্পতির একবারেই সন্তান না হয় অথবা সন্তান হওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তান কাঙ্ক্ষিত সময়ে না হয় তবে তাদেরকে নিন্মলিখিত পরামর্শ দেয়া উচিত:

স্বামী ও স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে (সব ঠিক থাকার পরেও শতকরা ২০ ভাগ দম্পতির ১ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে, শতকরা ১০ ভাগ দম্পতির ২ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে)।

স্ত্রীর ডিম্বক্ষরনের সময় অর্থাৎ মাসিক শুরুর ১১ তম দিন থেকে ১৮ তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সম্ভব না হলে ১ দিন পরে পরে স্বামীর সাথে মিলনের পরামর্শ দিতে হবে।

স্বামীর বা স্ত্রীর কোন জটিল রোগ বা যৌন রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর ধূমপান, মদ্যপান, যে কোন নেশা গ্রহণ, একনাগাড়ে দীর্ঘদিন এন্টিহিস্টামিন খাওয়া বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ওজন থাকলে কমাতে হবে।

চিকিৎসা, লক্ষণ :- হোমিওপ্যাথিতে বন্ধাত্ব রোগের চিকিৎসার জন্য লক্ষণ ও তার রেপার্টরি রুব্রিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি লক্ষণের আলাদা আলাদা ঔষধ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে। যারা চিকিৎসা নিতে চান তারা নিজেদের সব লক্ষণসমূহ নিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। ডাক্তারকে আপনার সব কিছু স্পষ্ট করে জানালে চিকিৎসা পেতে সহজ হবে।
বিস্তারিত

Friday, March 6, 2015

মহিলাদের স্তনের আকার নষ্ট হয় যেসকল কারণে ?

নারীদেহের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল স্তন। সুস্থ দেহের পাশাপাশি সুন্দর স্তনেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে নারীরা নিজের দেহের প্রতি খুব কমই যত্ন নিতে পারেন। দেহকে সুস্থ রাখার সাথে সুগঠিত স্তন পেতে সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, প্রচুর পানি করা, মাঝে মাঝে নিজেই নিজের স্তন চেক করা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক নারীর ক্ষেত্রেই নিজের দেহের প্রতি অযত্নের কারণে দেখা দেয় নানা সমস্যা এবং সাথে স্তনের আকারও নষ্ট হয়ে থাকে। তাই জেনে রাখুন কিছু বিষয় যেই কারণে স্তনের আকার নষ্ট হয়।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়া :- সর্বদা সুস্থ থাকার মূল মন্ত্রই হল পানি। ঠিক মতো পানি পান না করলে যেমন ত্বকের লাবণ্যতা নষ্ট হয়ে যায় ঠিক একই ভাবে স্তনের আকারও নষ্ট হয়ে থাকে। তাই সুস্থ থাকতে ও সুগঠিত স্তন পেতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া উচিৎ নারীদের।
মহিলাদের স্তনের আকার নষ্ট হয় যেসকল কারণে ?
ভুল সাইজের ব্রা পরা :- স্তনের সাইজ অনুযায়ী যদি সঠিক মাপের ব্রা না পরা হয় তাহলে তা স্তনের আকার নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। তাই ব্রা কেনার সময় অবশ্যই দেখেশুনে সঠিক মাপের ব্রা কেনা উচিৎ। আবার অন্যদিকে ১৫ বছরের একটি গবেষণার পর ২০১৩ তে প্রকাশ করা হয়, যে সকল নারীরা কখনোই ব্রা পরেন নি তাদের স্তন যারা সবসময় ব্রা পরছেন তাদের থেকেও সুগঠিত।

ধূমপান ত্যাগ করতে হবে :- দীর্ঘ ৮ বছরের একটি গবেষণার পর বলা হয়েছে যে স্তনের আকার নষ্ট হওয়ার পিছনে ধূমপান করা অন্যতম কারণ। ধূমপানের ফলে নারীর স্তনের টানটান ভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং যার কারণে স্তন সুগঠিত থাকে না।

অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা :- আপনি যদি অতিরিক্ত ডায়েট করে থাকেন তাহলে তা স্তনের জন্য ক্ষতিকর। খুব বেশি ডায়েট করার জন্য দেহের চামড়ার সতেজ ভাব কমে যায় চামড়া ঝুলে পড়ে। এবং ওজন কমানোর পরে নারীদেহে সবার প্রথমে ওজন কমে স্তনের কারণ স্তনেই সবচেয়ে বেশি ফ্যাট থাকে।

রোদের আলো থেকে স্তন রক্ষা না করা :- আমরা জানি যে সূর্যের আলো আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এর থেকে বাঁচার উপায় হল সানস্ক্রিন। যদিও আমাদের দেশে নারীরা সানবাথ করেন না। কিন্তু তারপরেও অনেক নারীই খোলামেলা কাপড় পরে থাকেন। তাই অন্যান্য দেহের অন্যান্য অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পাশাপাশি স্তনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
বিস্তারিত

মেয়েদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ ও প্রতিকার

মেয়েদের নানা প্রকার শারীরিক সমস্যা থাকে। তার মধ্যে প্রধান একটি সমস্যা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করার জীবাণুটি হলো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং ভাইরাস। কারণ মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছে এজন্য সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। তবে ই-কলাই নামক জীবাণু শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহের কারণ বেলে মনে করা হয়।

আবার অনেক সময় যৌন সঙ্গমের কারণেও জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে।আবার এসব জীবাণু মূত্রনালীপথে কখন কখন মূত্রথলি ও কিডনিতে প্রবেশ করে থাকে। যা সহজেই দৈনন্দিক ও যৌন জীবনে অশান্তি সিয়ে আসে। 
মেয়েদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ ও প্রতিকার
যার কারণে এমণ সমস্য দেখা দেয় যেমন প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বার বার প্রস্রাবের বেগ, ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব ইত্যাদি।উপস্বর্গ প্রস্রাবের রং ধোঁয়াটে, দুর্গন্ধযুক্ত ও পরিমানে কম ই্ত্যাদি। এছাড়া তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

এই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সমস্যা প্রতিরোধের উপায় কী?
  • পানিকে করুন জীবন বন্ধু। প্রত্যেকদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। মানে আপনার উদ্দেশ্য হবে প্রস্রাবের বেগ আন দিনের মধ্যে ২/৩ ঘন্ট অন্তর অন্তর প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।এতে শরীরের ক্ষতি হয়।
  • রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রস্রাব করতে হবে এবং ঘুম থেকে জাগার পর ও প্রস্রাব করতে হবে।
  • প্রত্যেকবার সহবাসের পর ভালো করে পানি দিয়ে ভালোভাবে প্রস্রাবের রাস্তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • খেয়াল রাখবেন মলত্যাগের পর শৌচকাজ সতর্কতার সাথে করবেন এবং শৌচকাজের পানি যেন প্রস্রাবের রাস্তায় না আসে।
এই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সমস্যা প্রতিকারের উপায় কী?
কোন চিন্তা নেই। মেয়েদের এই সকল সমস্যা একেবারে মূল থেকে নির্মূল করতে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কোনো প্রকার লজ্জা না করে অভিজ্ঞ কোনো হোমিও ডাক্তার সাথে কথা বলুন, চিকিত্সা নিন। দেখবেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। 
বিস্তারিত

Sunday, November 9, 2014

মহিলাদের যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সারের (Vulvar Cancer) লক্ষণ ও চিকিত্সা

মহিলাদের যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সার (Vulvar Cancer) :- সাধারণত সিফিলিস রোগ হতে এই জাতীয় ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ইহার সঠিক কারণ খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে দাড়ায় কারন হঠাৎ যোনি বা লেবিয়া প্রভৃতিতে আক্রমন হয়। লেবিয়া মেজরাতেই আক্রমন বেশি হয়ে থাকে। ইহা অনেক সময় বাইরে থেকে বিস্তার লাভ করে যোনি, মূত্রনালী, জরায়ু প্রভৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। যোনির ভেতর থেকে বা জরায়ু হতেও বিস্তার লাভ করতে পারে।
মহিলাদের যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সারের (Vulvar Cancer) লক্ষণ ও চিকিত্সা
এই জাতীয় ক্যান্সার টিসুতে দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে। ইহার জীবানু রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে টিসুতে ইহা বেশি বিস্তৃতি লাভ করে। প্রথমে টিউমার আকারে দেখা দেয়, তারপর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর যোনি, মূত্রনালী, মূত্রাশয়, ওভারী, গুহ্যদ্বার ইত্যাদি আক্রান্ত হয়।

মহিলাদের যোনির বহির্ভাগে ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ

প্রথমে নির্দিষ্ঠ কয়েকটি স্থানে ব্যথা ও ক্ষত দেখা দেয় তারপর ধীরে ধীরে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব ও রক্তপাত দেখা দেয় এবং ক্যান্সাররূপ লাভ করে। তবে রোগ ধরা পড়া মাত্রই দেরী না করে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিলে তা খুব সহজেই নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং জটিল উপসর্গগুলির বৃদ্ধি ঘটে না। দেখা গেছে, বয়স যাদের ৫০ এর বেশি তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে এর থেকে কম বয়সী নারীদেরও হতে পারে। রোগের প্রথমাবস্থায় কখনো শক্ত নডল আকারে দেখা দেয় এবং এর আকার কখনো কখনো ফুলকপির মত দেখায়। তবে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে মহিলাদের যোনির বহিঃভাগে ক্যান্সার (Vulvar Cancer) নির্মূল হয়ে যায়।
বিস্তারিত