Showing posts with label নারীর স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label নারীর স্বাস্থ্য. Show all posts

Tuesday, October 21, 2014

নারীদের রজ নিবৃত্তি বা মেনোপজ ও এর লক্ষণসমূহ

নারীদের রজ নিবৃত্তি বা মেনোপজ :- নারীদের অধিক বয়স হলে ঋতুস্রাব কমে আসে এবং ধীরে ধীরে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থা সাধারনত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু পূর্বে বা কিছু পরেও ঘটতে পারে। এইরূপ অবস্থাকে ঋতুস্রাব নিবৃত্তি বা মেনোপজ বলে। এই অবস্থায় জরায়ুর আকার ছোট হয়ে যায়, যোনিদেশ সংকোচিত হয় এবং দুর্বলতার লক্ষণ বাড়ে।
নারীদের রজ নিবৃত্তি বা মেনোপজ ও এর লক্ষণসমূহ
কিন্তু স্নায়ুবিক ভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ না হয়ে যদি তা চলতে থাকে এবং যদি স্নায়ুর উগ্রতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বার বার গরমবোধ, শির পীড়া, হৃদকম্পন এবং হিস্টিরিয়া, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, উদরে বায়ুর সঞ্চয়, অধিক মাত্রায় ঘাম বা প্রচুর প্রস্রাব প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায় তবে যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন আর এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা প্রায় মন্ত্রের মতো কাজ করে।

নারীদের রজ নিবৃত্তির লক্ষণ

নারীদের শেষ ঋতু বন্ধ হবার আগে ঋতু সম্পর্কে নানা প্রকার অনিয়ম দেখতে পাওয়া যায়, কখনো প্রচুর বা অল্পস্রাব হয়, কখনো বা হঠাত ঋতু বন্ধ হয়ে কিছুক্ষণ থেকে বন্ধ হয়ে যায়, কখনো কখনো উপসর্গ উপস্থিত হয় আবার কখনো কখনো উপসর্গ প্রকাশ না পেয়ে ক্রমে ক্রমে ঋতু বন্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো স্ত্রীলোকের শেষ ঋতু বন্ধ হবার সময় অত্যন্ত রক্তস্রাব, মাথাধরা, মাথাঘোরা, মাথা ঝিম ঝিম করা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে।

নারীদের রজ নিবৃত্তিকালে এই সকল লক্ষণসমূহ প্রকাশ পাবার কারণ হলো - এই সময় দেহের বিভিন্ন অন্তনিঃসরণশীল গ্রন্থিসকলের যথাযথ কাজ সম্পর্কীয় বিশেষ অসংহতি বা কিছু সময়ের জন্য ইহাদের পারস্পরিক সহযোগীতার সম্পূর্ণ অভাব। রজ নিবৃত্তির সমাপ্তির পূর্বে কোন কোন নারী বেশ সুস্থ এবং সবল হয়ে উঠেন। তবে দেখা যায় কারো কারো ক্ষেত্রে বেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায় এবং ঐ অবস্থায় ট্রিটমেন্ট এর দরকার হয়ে পড়ে। আর নারীদের রজ নিবৃত্তিকালে যেকোন বিরূপ উপসর্গে হোমিওপ্যাথি ঔষধ স্রষ্ঠার আশীর্বাদের মতো কাজ করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তখনকার যাবতীয় জটিল উপসর্গসমূহকে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই পুরুপুরি নির্মূল করে থাকেন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা।
বিস্তারিত

নারীদের অতিরজ - এপিমেনোরিয়ার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

নারীদের এপিমেনোরিয়া (Epimenorrhea) :- নারীদের একটি মাসিক ঋতু আরম্ভ হবার পর দীর্ঘ সময় ধরে বা অতিরিক্ত সময় ধরে স্রাব চলতে থাকার নামই হলো এপিমেনোরিয়া। অনেক সময় চিকিত্সকগণও মেনোরেজিয়ার সঙ্গে একে ভুল করে বসেন। কারণ মেনোরেজিয়ার ক্ষেত্রে রক্তস্রাব বেশি হয় কিন্তু এপিমেনোরিয়ার ক্ষেত্রে রক্তস্রাব বেশি হয় না তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে। যদিও বাংলায় আমরা উভয়টাকেই অতিরজ বলে অভিহিত করে থাকি। তবে মূল পার্থক্যটুকু স্মরণ রেখে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সকদের ট্রিটমেন্ট দেয়া উচিত। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমানে রক্তস্রাব দীর্ঘ সময় ধরে চলে এবং এই সকল ক্ষেত্রে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট এর প্রয়োজন নতুবা রোগীর জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে। এ সকল ক্ষেত্রে অতি দ্রুত রক্তহীনতার লক্ষণ দেখা দেয়।
 
নারীদের এপিমেনোরিয়ার কারণ :-  বিভিন্ন কারণে এপিমেনোরিয়া হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
  • Overy হতে নিঃসৃত হরমোন দুটি সময়মত চক্রবৎ কাজ না করলে । যদি নিঃসরণ কম হয় বা কম সময় ধরে চলে তবে কাজ খুব ধীরে ধীরে হয় । এই জন্য তখন Destructive Phase এর সময় বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ৮/১০/১২ দিন পর্যন্ত ঋতুস্রাব চলতে পারে। অতি ধীরে ধীরে ফোটা ফোটা করে ঋতুস্রাব হয় আবার ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। 
  • অনেক সময় জরায়ুর Destructive Phase ৫/৬ দিন ধরে চলতে থাকে বলে ঐ সময় রক্তপাত হয়। কিন্তু হরমোনের ক্রিয়ার গোলমাল ঐ সময় বৃদ্ধি লাভ করে ৮/১০/১২ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। এমন কি এর বেশি সময় ধরেও চলতে পারে। 
  • অনেক সময় ধরা পড়ে যে, জরায়ুর অত্যধিক দুর্বলতার জন্য জরায়ুর নির্দিষ্ঠ কাজগুলি যথাযথ ভাবে সম্পন্ন না হয়ে এই রোগ দেখা দেয়। 
  • ডিম্বাশয়ে Hypertroply এর জন্য এই রোগ হতে পারে। 
  • কোন কোন সময় মেনোরেজিয়ার মত এতেও রক্ত চাপ বৃদ্ধির লক্ষণ থাকে। এর ফলে ধীরে ধীরে জরায়ুর চাপ অর্থাৎ রক্তচাপ কমে এবং ঋতু বেশি দিন ধরে চলতে থাকে। 
  • কোন কোন ক্ষেত্রে জরায়ুতে ক্ষত হলে বা কোন প্রকার Infection হলে বেশি দিন যাবৎ ঋতুস্রাব হতে থাকে। প্রথমে অবশ্য ধীরে ধীরে শুরু হয় কিন্তু পরে বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। এই সকল ক্ষেত্রে সিফিলিস বা গনোরিয়ার Infection থাকা সম্ভব। আজকাল নারীদের ক্ষেত্রে এই কারনটাই বেশি পরিলক্ষিত হয়। তাই এই সকল সমস্যাগুলি সমূলে নির্মূল করে পুরুপুরি সুস্থ হতে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের দ্বারস্থ হওয়া অতি জরুরি। 

নারীদের এপিমেনোরিয়ার লক্ষণ :- এই জাতীয় সমস্যায় আক্রান্ত হলে নারীদের একাধিক লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে, উল্লেখযোগ্য হলো -
  • অনেক সময় ধরে রক্তস্রাব হওয়ার ফলে রক্তক্ষরণের পরিমান বেশি হয়। এর ফলে রোগীর মধ্যে রক্তহীনতার লক্ষণ ও দুর্বলতা প্রকাশ পায়। চেহারা ফেকাশে হয়ে যায়, হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়। নাড়ীর গতি স্বাভাবিক থাকে না, শ্বাস প্রোশ্বাসে অনিয়মিতার লক্ষণ দেখা যায়। সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কোন পরিশ্রমের কাজ করতে পারে না। 
  • রোগী অত্যন্ত খিট খিটে মেজাজের, সহনশীলতার অভাব, কোন কাজ করতে মন চায় না ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
  • অনেক সময় শারীরিক এবং মানসিক অবসাদ আসে। হতাশার ভাব দেখা দেয়, কাজকর্ম করতে বিরক্ত বোধ করে। কখনো কখনো হজম শক্তির গোলমাল দেখা দেয়, বদ হজম থেকে অম্ল হয়, পেটে চাপ এবং আঘাত আদৌ সহ্য হয় না। 
  • ঋতুস্রাব ঠিকসময় আরম্ভ হয় তবে তা ফোটা ফোটা করে, অল্প অল্প করে বেশি দিন পর্যন্ত চলে। এর ফলে ১০/১২ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। বেশিদিন ধরে ঋতু চলার জন্য ঋতুর মাঝে বিশ্রামের সময় খুব করে হয়। এই সকল রোগীর ঋতু বন্ধ খুব কম সময় মাত্র থাকে ।
  • হজম শক্তির কমে যাবার কারণে প্রায়ই উদরাময়, কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্ল ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। স্বাভাবিক কারণেই এই সকল রোগী দুর্বল থাকে, মাথা ঘোরায়, মাথায় যন্ত্রণা থাকে, হাত চলা করার শক্তি পায় না, মনমরা থাকে। 
দেখা যায়, নারীদের এপিমেনোরিয়া লক্ষণের ক্ষেত্রে কোন কোন সময় বেশ কয়েকটি অথবা অনেক গুলি লক্ষণ একবারেই প্রকাশ পেয়ে থাকে। তবে রোগ যে পর্যায়েই থাকুক না কেন কোন প্রকার সংকোচ না করে যথা সময়ে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে খুব দ্রুতই যাবতীয় জটিল উপসর্গগুলি নির্মূল হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে উঠে।
বিস্তারিত

Monday, September 22, 2014

গনোরিয়া (Gonorrhea) - পুরুষ এবং মহিলাদের কষ্টদায়ক যৌন ব্যাধি

গনোরিয়া একটি সাধারণ এবং পরিচিত যৌন সংক্রামক রোগ। আমাদের গ্রাম গঞ্জে এটি আবার প্রমেহ নামেও পরিচিত। প্রকৃত পক্ষে এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। তবে চুম্বন, হাত ধরা  ইত্যাদি থেকে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে।

এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলারা যারা গনোরিয়া আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে।
আমাদের সমাজে দেখা যায়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই  এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং তাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। গনোরিয়ার জীবাণু "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সাথে যৌন সংসর্গের দ্বারা।

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যৌন মিলনের ২ থেকে ১০ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
  • রুষদের মূত্রনালীর সম্মুখভাগে সাধারণত সংক্রমণ ঘটে।
  • বারবার প্রস্রাবের ইচ্ছা করে। মূত্রনালীতে প্রদাহের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা করে।
  • লিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়।যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।
  • মূত্রনালীপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • অণ্ডকোষ ফুলে একটা আপেলের মতো বড় হতে পারে।
  • এপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়।
  • সমকামীরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালীতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়।
  • মুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলাব্যথা হয়।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
নারীর ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর, সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়।
  • যৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়।
  • প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা থাকতে পারে। প্রস্রাবে যন্ত্রণা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালীতে প্রদাহ হয়।
  • বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়।
  • তলপেটে ব্যথা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালী, ডিম্বাশ্বয় কিংবা তলপেটের মধ্যে ফোঁড়া হতে পারে।
  • মাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়।
  • পায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালী পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • মুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থা :-
গনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়াতে আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রোগ নির্ণয় :-
এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। সে এরই মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কি-না প্রশ্ন করে ভালো করে উত্তর পেতে হবে। সম্পর্ক থাকলে তা কতদিন আগে এবং কত জনের সঙ্গে। এসব জেনে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্রস্রাবও পরীক্ষা করা যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু নিঃসরিত বস্তু পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রতিকার কিভাবে করা যেতে পারে :-
  • জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 
  • সঠিক বয়সে উপযুক্ত যৌন শিক্ষা প্রচলন। 
  • বহুনারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ মহিলারই এ রোগে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই যে কোনো সময়ে এদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
  • রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা করানো উচিত। 
  • আক্রান্ত অবস্থায় স্ত্রী মিলনের বা স্বামী সহবাসে বিরত থাকা উচিত, তা না হলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। 
  • সর্বোপরি বিবাহিত যৌন জীবন সবার জন্য বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পথ। 
কিছু সতর্কতা জরুরি :-
অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও আবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে অল্প সংক্রমণ থেকে যায় কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে। তবে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ লাভ করতে পারে না।

কার্যকর চিকিৎসা :-
পুরুষ বা মহিলারা যে কেউ আক্রান্ত হন না কেন আর গনোরিয়ার উপসর্গ যত জটিল পর্যায়েই থাকুক না কেন এর যথাযথ এবং সর্বাধিক সফল ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই কেউ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে কোনো প্রকার সংকোচ না করে আপনার হোমিওপ্যাথকে বিস্তারিত খুলে বলুন এবং অযথা দেরি না করে যথাযথ চিকিত্সা নিন। প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যা থেকে নিশ্চিত মুক্তি পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
******** আধুনিক হোমিওপ্যাথি *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Wednesday, September 17, 2014

দৈনন্দিন যে সব কারণে আপনারও স্তন ক্যান্সার হতে পারে !

"স্তন ক্যান্সারের" নাম শুনেননি এমন নারী হয়তো আপনি খুঁজে পাবেন না। কারণ বর্তমান বিশ্বে নারীদের কাছে স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে, কিছুদিন আগে স্তন ক্যান্সারের কারণে হলিউডের অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার স্তন অপসারন করেছেন। তাই নারীদের স্তন ক্যান্সার মোটেই হালকাভাবে নেয়ার মতন কোন বিষয় নয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে আপনিও রয়েছেন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে? আসুন এ বিষয়ে জেনে নিই কিছু দরকারী তথ্য। 
বক্ষবন্ধনী সারাক্ষণ পরে থাকা :-
সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গত হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী ব্যবহার :-
স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। কেননা নয়তো এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকখানি। স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে।

লেবেল না দেখে ডিওডোরেন্ট কেনা :-
আজকাল কর্মজীবী নারী হোক বা শিক্ষার্থী সারাদিনের বাইরে থাকা আর সেই সাথে ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাই! এতে নিজের ফ্রেশ ভাবটা যেমন বজায় থাকে তেমনি ঘামের গন্ধের কারণে অন্য কারো সামনেও বিব্রত হতে হয় না। কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই কোন কোম্পানির পণ্যটি ব্যবহার করবেন তা আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন।

প্লাস্টিকের বক্সে সব সময় খাবার রাখা :-
প্লাস্টিকের বক্সে খাবার রাখা এবং বিশেষত সেটিতেই ওভেনে গরম করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। এর চেয়ে কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে তা ফুড গ্রেড কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

কেমিকেলযুক্ত চুলের রঙ ব্যবহার :-
চুল পেকে যাওয়া বা হাল ফ্যাশনের সাথে মানিয়ে নিতে চুলে নানা রঙের ব্যবহার, যেটিই হোক না কেন, দোকান থেকে সস্তার চুলের রঙ কিনে আনবেন না। এতে চুল তো পড়ে যেতে পারেই, সেই সাথে এতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিকেলের কারণে হতে পারে স্তন ক্যান্সার। তাই ভালো কোম্পানির ভেষজ চুলের রঙ ব্যবহার করুন। আর মেহেদী ব্যবহার করলে তা একদিকে যেমন চুলের জন্যে ভালো আর সেই সাথে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার :-
ঘরের দূর্গন্ধ দূর করতে বা সুগন্ধিযুক্ত ঘর পেতে এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকা প্যাথালেট নামক প্লাস্টিসাইজিং কেমিকেল, যা সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। এটির সাথে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক আছে। এর চেয়ে ফুটন্ত পানিতে এক টুকরো দারুচিনি ফেলে দিন। এবার দেখুন, ঘরময় কি সুগন্ধই না ছড়াচ্ছে!

ন্যাপথলিনের ব্যবহার :-
আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন কয়েকটি। কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে ১০০ মাইল দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়ায় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

কেমিকেলযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার :-
অদ্ভুত হলেও সত্যি যে, আপনার রান্নাঘরের সিঙ্ক বা কেবিনেট যে রঙিন তরল ক্লিনার দিয়ে আপনি পরিস্কার করছেন, তাতে থাকা কেমিকেল কেবল আপনার স্তন ক্যান্সারই নয় বরং অন্য ধরনের ক্যান্সার ও বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক রোগ, যেমন মাইগ্রেন ও এলার্জিরও জন্ম দিতে পারে। তাই কেমিকেলযুক্ত এই ক্লিনার ব্যবহার না করে ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করতে পারেন। (সূত্র: প্রিয় লাইফ)
বিস্তারিত

Wednesday, September 3, 2014

মেয়েদের ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট এবং এর কার্যকর চিকিত্সা

মেয়েদের ডিম্বাশয়ে নানা প্রকার সিস্ট হয়ে থাকে যার কোনটার নাম আমরা জানি আবার কোনটার নাম জানি না। আবার কিছু কিছু সিস্ট সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা প্রায় সীমিত। তার মধ্যে একটি হলো চকলেট সিস্ট। চকলেট সিস্ট হচ্ছে এক ধরনের এন্ডোমেট্রিয়াল সিস্ট। এন্ডোমেট্রিওসিস হচ্ছে জরায়ু ব্যাতিত অন্য কোথাও এন্ডোমেট্রিয়ামের উপস্থিতি। যখন ডিম্বাশয় আক্রান্ত হয় তখন একে ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট বলে। এন্ডোমেট্রিওসিস এর সবচেয়ে কমন জায়গা হচ্ছে এই ডিম্বাশয়। এটি সাধারণত হলে দুই দিকেই হয় অর্থাৎ দুই পাশের ডিম্বাশয় আক্রান্ত হয়।

চকলেট সিস্ট কীভাবে হয় ?
সাধারণত মেয়েদের জরায়ু ব্যাতিত এন্ডোমেট্রিয়াম অন্যত্র থাকার কথা নয়। কিন্তু যখন অল্প কিছু এন্ডোমেট্রিয়াল কলা (জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের দিকের কলা) ডিম্বাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়, রক্তপাত করে, বেড়ে উঠে তখন এই রোগ হয়ে থাকে। মাসের পর মাস এভাবে রক্ত ভাঙতে থাকলে এটি একসময় বাদামি আকার ধারণ করে। যখন এটি ফেটে যায়, ভেতরের সব কিছু আশেপাশের অঙ্গ সমুহের ( জরায়ু, মুত্র থলি , অন্ত্র ) উপর ছিটকে পড়ে।
মেয়েদের ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট এবং এর কার্যকর চিকিত্সা

লক্ষণ সমুহ :-
  • তলপেটে ব্যথা (৫০%) (মাসিকের কিছুদিন আগে থেকে কিন্তু মাসিকের সময়ে বেশি ) 
  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, বার বার মাসিক হওয়া (৬০%) 
  • কোনও লক্ষণ নাও থাকতে পারে ( ২৫%) 
  • দীর্ঘদিন তলপেটে ব্যথা থাকা 
  • সন্তান না হওয়া (৪০-৬০%) 
  • উদরে ব্যথা 
  • তলপেটের পরীক্ষা করলে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পাউচ অফ ডগ্লাসে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। আডনেক্সাতে একটি অথবা দুটি বিভিন্ন সাইজের সিস্ট বোঝা যায় অনেক সময়।
  • অন্যান্য :- প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত আসা, জ্বালা পোড়া হওয়া। পায়খানায় কষ্ট হওয়া, রক্ত যাওয়া।
কিছু টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে। যেমন :-
  • ট্রান্স ভেজাইনাল সনোগ্রাফি 
  • তলপেটের আল্ট্রাস্নোগ্রাম 
  • সেরাম মার্কার সি এ- ১২৫ 
  • বায়োপ্সি 
  • ল্যাপারোটমি 
চিকিৎসা আছে কি কি ?
এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা করা হয় ওষুধের মাধ্যমে, কিন্তু কাজ না হলে অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়। যাদের কোন লক্ষণ থাকেনা তাদের ক্ষেত্রে কিছু করার দরকার নেই। একজন কম বয়সী বিবাহিত মেয়েদের বিয়ের পরে বাচ্চা ধারণ করলে এম্নিতেই এটি সেরে যায়। ব্যথা থাকলে রোগীর ধরন ভেদে মেফেনামিক এসিড বা ইবুপ্রফেন খেতে দেন অধিকাংশ চিকিৎসকেরা।

হরমোনের মাধ্যমে চিকিৎসা :-
  • খাবার জন্মবিরতিকরণ পিল 
  • শুধু প্রোজেস্টেরন 
  • গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হ্রমোন 
  • ডানাজল 
অপারেশনের মাধ্যমে :- সিস্টটি যতটুকু সম্ভব কেটে ফেলা হয় যদি পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে থাকে এবং বয়স চল্লিশের বেশি হয় বা যদি এন্ডোমেট্রিওসিস পেল্ভিসের সর্বত্র ছড়িয়ে একটা আরেকটার সাথে লেগে থাকে যা ছোটানো কষ্টকর সেক্ষেত্রে জরায়ু সম্পূর্ণ রূপে দুই দিকের টিউব ও ডিম্বাশয় সহ কেটে ফেলা হয়।

সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :- কোনো প্রকার অপারেশন ছাড়া পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিও চিকিত্সার মাধ্যমে মহিলাদের ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্টসহ সকল সিস্ট-ই অতি সাফল্যের সাথে নির্মূল করে আসছেন দেশের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা । তাই মহিলাদের এই সমস্যার নিশ্চিত আরোগ্যের জন্য ভালো একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট বিলীন হয়ে যাবে।

কী কী জটিলটা দেখা দিতে পারে :-
  • এন্ডোক্রাইনোপ্যাথি 
  • সিস্ট টি ফেটে যেতে পারে 
  • অন্ত্রে অবস্ট্রাকশন হতে পারে 
  • চকলেট সিস্ট এ ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে 
  • খুব বিরল হলেও ক্যান্সার হতে পারে।
সাধারণত এই রোগটি ৩০-৪৫ বছর বয়সের নারীদের হয়ে থাকে। এদের অধিকাংশেরাই একটি সন্তানও হয়নি এমনটাই দেখা যায় অথবা সিস্টের লক্ষণ দেখা দেয়ার অনেক আগে একটি বা দুটি বাচ্চা হয়ে থাকতে পারে। এই রোগটি বংশগত হতে পারে।
বিস্তারিত

Friday, August 29, 2014

নারীদের জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমার নির্মূলে সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

ফাইব্রয়েড (যাকে মায়োমাও বলা হয়ে থাকে)  হলো প্রজননক্ষম বয়সে মহিলাদের জরায়ুতে সবচেয়ে পরিচিত একটি টিউমারের নাম। জরায়ুর পেশির অস্বাভাবিক এবং অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণেই এই টিউমারের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যে সব মহিলাদের বয়স ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের মধ্যে ২০% মহিলাই এই ফাইব্রয়েড টিউমারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এক কথায় বলতে গেলে ফাইব্রয়েড হলো এক প্রকার নিরীহ টিউমার। 

মহিলাদের জরায়ুতে মায়োমা বা ফাইব্রয়েড টিউমার

এটি ক্যানসারের মত সাংঘাতিক না হলেও দুটো কারণে এর সুচিকিৎসা দরকার। সেগুলো হলো :-
  • এর ফলে অতিরিক্ত মাসিক হওয়া এবং তার জন্য রক্তশূন্যতা হতে পারে। 
  • এটিকে বন্ধ্যাত্বের একটি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে এই ধারণা সব সময় সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। কেননা ২৫% ফাইব্রয়েড টিউমার আজীবন কোনো সমস্যাই করে না। কিন্তু মোটামুটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কমবেশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অনিয়মিত মাসিক বা তলপেট ভারী বোধ হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হয়।
নারীদের জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমার নির্মূলে সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
২৭ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রেই কেবল এটি বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে, যদি নিচের ঘটনাগুলো ঘটে :-
  • যদি ফাইব্রয়েডের কারণে জরায়ু অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়
  • জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে রক্তনালির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না
  • জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সংযোগস্থলে বা এমন কোনো জায়গায় টিউমারটির অবস্থান হয়, যা ভ্রূণকে সুস্থিত হতে বাধা দেয়।
যাঁদের বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে বা বারবার গর্ভপাত হচ্ছে, তাঁদের ফাইব্রয়েড থাকলেও বন্ধ্যাত্বের অন্য কারণগুলোকে শনাক্ত করা উচিত। কারণ, মূল সমস্যাটি ফাইব্রয়েড না-ও হতে পারে। মায়োমেকটমি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফাইব্রয়েডকে জরায়ুর দেয়াল থেকে তুলে এনে আবার তা সেলাই করে দেওয়া হয়। জরায়ু কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে এই অস্ত্রোপচার পেট কেটে বা ছিদ্র করে উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়। তবে অস্ত্রোপচার দরকার হোক বা না হোক, কিছু বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

অস্ত্রোপচার বা অপারেশন কতটা সফল !!!

  • এই অস্ত্রোপচারে বেশ রক্তপাত হতে পারে। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সময় জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। 
  • অস্ত্রোপচারের পর আবার ফাইব্রয়েড হওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ ভাগ। 
  • অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৬০ ভাগ। এটি নির্ভর করে ফাইব্রয়েড টিউমারের সংখ্যা, আকার এবং অস্ত্রোপচারের সফলতার ওপর। ফাইব্রয়েড অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণ করলে অবশ্যই ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে হবে।

নিশ্চিতরূপে আরোগ্যকারী হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

হোমিওপ্যাথরা যেখানে অতি সাফল্যের সাথে লাখ লাখ মহিলাদের জরায়ুর টিউমারকে কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই ঔষধের মাধ্যমে নিশ্চিতরূপে চিরতরে নির্মূল করে আসছে সেখানে জরায়ুর টিউমার সারাতে বিপদজনক, ক্ষতিকর এবং প্রায় অনিশ্চিত অস্ত্রোপচার বা অপারেশন করাটা এই আধুনিক যুগে বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। মা বোনদের প্রতি অনুরোধ, হোমিওপ্যাথিতে মহিলাদের জরায়ুর টিউমার সারানোর চিকিত্সাটা একেবারই সাধারণ একটি ব্যাপার, তাই এর জন্য ক্ষতিকর অপারেশনের পেছনে ছুটাছুটি না করে আপনার সব ডাক্তারি রিপোর্টগুলি সাথে নিয়ে ভালো এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। দেখবেন খুব অল্প দিনেই চিরদিনের জন্য আপনার জরায়ুর টিউমার দূর হয়ে গেছে ইনশাল্লাহ।
বিস্তারিত

নারীদের যৌন অনীহার কারণ, লক্ষন, প্রতিকার ও হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

নারীদেরও কি 'যৌন দুর্বলতা' হয়ে থাকে ? হ্যাঁ, যৌন আকাঙ্খা কম থাকাকেই নারীদের ক্ষেত্রে "ফিমেল সেক্সুয়াল এ্যরুসাল ডিজওর্ডার" বা যৌন দুর্বলতা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রেই এটা খুবই ক্ষনস্থায়ী ব্যাপার। তাই হয়ত আমাদের সমাজের পুরুষদের মত যৌন দুর্বলতার সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে নারীদের যেতে ততটা দেখা যায় না। 
অনেক নারী আপনা থেকেই এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। কন্তু যারা পারেন না তাদের অবশ্যই অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে পরামর্শ করা উচিত। কারণ এর পেছনে হয়ত অন্য কোন কারণও থাকতে পারে। তবে এই যৌন অনীহার বিষয়টি  পুরুষের ক্ষেত্রে বিরল কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে সচরাচর। নারীর যৌন অনীহা শাররীক কিংবা মনস্তাস্তিক উভয় কিংবা যেকোন একটি কারনে হতে পারে।

নারীর যৌন অনীহার শারীরিক কারনগুলি :-
  • ডায়াবেটিস জাতীয় রোগ দেখা যায়। 
  • রক্ত স্বল্পতা, যা নারীদের মাসিক ঋজচক্রকালীন রক্তে আয়রনের হার হ্রাস পাওয়া থেকে প্রকট হয়। 
  • মাদাকাসক্তি
  • মদ্যপানে আসক্তি
  • কিছু অ্যালোপ্যাথি ঔষধের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া
  • Hyperprolactinaemia – পিটুহিটারী গ্রন্থির অতিরিক্ত ক্রিয়াশীলতায় এ সমস্যা দেখা দেয়। 
  • সন্তান প্রসব। সন্তান প্রসবের পরবর্তী কিছু সময়কাল নারীর যৌন আকঙ্খা সম্পুর্ন হারিয়ে যায়। এটি শরীরে হরমোনাল পরিবর্তনের সাথে প্রায় সরাসরি জড়িত। বেশির ভাগ নারী সন্তান জন্মদেবার পর মানসিক ভাবে অনেকটা বিক্ষিপ্ত থাকেন তাই তারা শাররীক মিলন নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ পাননা। 
নারীর যৌন অনীহার মনস্তাস্তিক কারনগুলি :-
  • উদ্বিগ্নতা
  • অবসাদ 
  • বিষন্নতা 
  • শিশুসুলভ মনোভাবের পুর্নজন্ম। 
  • স্বামীর সাথে প্রচন্ড মানসিক বিবাধ থাকা। 
  • দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া; যখন নারী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে তখন এ্যডরিনাল (মুত্র) গ্রন্থি ইষ্ট্রোজেন এবং টেষ্ট্রোষ্টিরন হরমোন সৃষ্টিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইষ্ট্রোজেন এবং টেষ্ট্রোষ্টিরন হরমোনই নারী শরীরে যৌন আকাঙ্খা উৎপন্ন করে। 
  • পুর্বের ধর্ষণ কিংবা যন্ত্রনাদায়ক শারীরিক সম্পর্কের শিকার হওয়া। 
নারীদের যৌন অনীহায় করনীয় :-
যৌনকামে আপনার অনীহার কারন কি সেটা যদি আপনি অনুধাবন করতে না পারেন  তাহলে কাল বিলম্ব না করে ভালো একজন হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন। কিছুক্ষেত্রে ডায়াগোনোসিস এর প্রয়োজনও পড়তে পারে। কারণ এর পিছনে হয়ত অন্য আরো কোন কারণ থাকতে পারে যেটা আপনার হোমিওপ্যাথ বুঝবেন এবং আপনাকে যথাযথ সমাধান দিবেন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Thursday, August 28, 2014

সহবাসে মহিলাদের কষ্টদায়ক কিছু সমস্যা এবং তার কার্যকরী সমধান

অনেক সময়ই দেখা যায় বিবাহিত মহিলারা সহবাসে বেশ কিছু কষ্টদায়ক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। বিষয়গুলি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে তারা নিজেরাই এরকম অনেক সমস্যার সমাধান করে নিতে পারেন। আবার কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে তার জন্য যথাযথ ট্রিটমেন্ট নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু তারা সংকোচ করে তা চিকিত্সককে বলেন না, গোপনে গোপনে শুধু কষ্টই সহ্য করে যান যা করা আদৌ উচিত হয়। এমনি কিছু সমস্যা এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হলো।
সহবাসে মহিলাদের কষ্টদায়ক কিছু সমস্যা ও সমধান
যৌন চাহিদা কমে যাওয়া
এর কারণ কি হতে পারে ?
মেনোপজের কাছাকাছি বয়সের মহিলাদের এটি একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। মেনোপজের আগে ইস্ট্রোজেন হরমোন লেভেল কমে যায়। লুব্রিকেশনের অভাবে ব্যথা ও ব্যথা থেকে আগ্রহ কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ।

কি ভাবে সমাধান করবেন ?
হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, ইস্ট্রোজেন ক্রিম ও সাপোজিটরি আর লুব্রিকেন্ট (পিচ্ছিল কারক ) কাজ দিতে পারে। এতে কাজ না হলে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নিশ্চিত সেরে যাবেন। 

যৌন চাহিদা হওয়ার পরেও লুব্রিকেশনের অভাব
এর কারণ কি হতে পারে ?
অনেকেরই যৌন চাহিদা হওয়া সত্ত্বেও যৌন স্থান ভিজে না। পানিশূন্যতা, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ( কাউন্টার এন্টিহিস্টামিন), নার্সিং, মেনোপজের সময় হরমোন লেভেল পরিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য কারণ।

কি ভাবে সমাধান করবেন ?
পিচ্ছিল কারক পদার্থ ব্যবহার করতে হবে, পানি জাতীয় ব্যবহার করলে ভালো, কারণ কনডম এর জন্যে নিরাপদ। কিন্তু কেউ যদি তৈলাক্ত পিচ্ছিল কারক ব্যবহার করে তখন এটি কনডমের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে দিতে পারে। রঙ দেয়া, সেন্ট দেয়া ও ফ্লেভার জাতীয় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তা ইস্ট ইনফেকশন করে শুকনা ভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেকের প্রশ্ন হতে পারে, ইস্ট ইনফেকশন কি তার পুরুষ সঙ্গীর শরীরেও ইনফেকশন করতে পারে? উত্তর হবে হ্যাঁ । এটি অনেক কমই হয়, কিন্তু হয়। একই রকম লক্ষণ যেমন- লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, যৌনমিলনের পর অস্বাভাবিক নিঃসরণ হতে পারে। কোন পুরুষের যদি ডায়াবেটিস থাকে, এন্টিবায়োটিক নিতে থাকে অথবা সে তার যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোন কারণে কমে যায় তখন তার আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়। খৎনা করা না থাকলেও এর ঝুকি বেড়ে যায়। কারণ এর উপরের চামড়া ভেজা ভেজা অবস্থার সৃষ্টি করে যা ইস্ট বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে।

মিশনারি (পুরুষ উপরে থাকা ) পজিশনে যৌন মিলনে সমস্যা হওয়া
শতকরা ২০ ভাগ মহিলার জরায়ু নরমালের উল্টো দিকে থাকতে পারে অর্থাৎ পেটের দিকে না থকে শিরদাঁড়ার দিকে থাকেতে পারে। এ ক্ষেত্রে টেম্পুন বা ডায়াফ্রাম ব্যবহার করা কষ্টকর হয় কারণ তা জরায়ুর ভেতর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। তাই নারী উপরে থেকে মিলনে কষ্ট লাঘব হবে। আর মা হতে চাইলে যৌন মিলনের পর পেটের উপর অর্থাৎ উপুড় হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলে তা স্পার্ম কে সাঁতরে জরায়ুমুখে যেতে সাহায্য করবে।

যৌনমিলনের পর তীব্র দুর্গন্ধ ও চুলকানি
এর কারণ কি হতে পারে ?
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এমন হতে পারে। নতুন বা একাধিক মিলন সঙ্গীর কারণে এমন হতে পারে। যৌন স্থানের ভেতরে কিছু দেয়া থাকলে ( যেমন চিকিৎসার জন্যে বা রোগ নির্ণয়ে কোন কিছু ব্যবহার করা হলে ) তা থেকেও হতে পারে। এর পাশাপাশি ইনফেকশনের আরও কিছু লক্ষণ থাকতে পারে যেমন অস্বাভাবিক নিঃসরণ, জ্বালাপোড়া। চিকিৎসা না করা হলে ডেট এর আগেই ডেলিভারি হওয়া, স্বল্প ওজনের বাচ্চা জন্ম নিতে পারে।

কি ভাবে সমাধান করবেন ?
এন্টিবায়োটিক, যেমন- মেট্রোনিডাজল বা ক্লিন্ডামাইসিন ব্যবহারে লাভ হতে পারে। যাদের বাচ্চার জন্মকালীন ওজন কম বা যাদের ডেট এর পূর্বেই সন্তান জন্ম নিয়েছে তাদের স্ক্রিনিং করাতে হবে।

যৌন মিলনের পর প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
এর কারণ কি হতে পারে ?
চাপে ঘষা লেগে মূত্রনালিতে ইরিটেশন হলে জ্বালাপোড়া হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ মিলন আর যৌন স্থানের শুষ্ক ভাবও এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রস্রাব নালীতে ইনফেকশন হলেও এই সমস্যা হতে পারে। যদি প্রস্রাব যৌন স্থানে লাগার পর জ্বালাপোড়া হয় তবে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মুত্রথলি খালি হওয়ার সাথে সাথে ব্যথা বাড়তে থাকলে মুত্রথলি ইনফেকশনের ব্যাপারেই সন্দেহ বেড়ে যায়।

কি ভাবে সমাধান করবেন ?
যৌন মিলনের পর বাথ টাব ভর্তি কুসুম গরম পানিতে বসে থাকলে ব্যথা কমতে পারে। তাছাড়া পিচ্ছিল কারক ব্যবহারেও মাঝে মাঝে উপকার পাওয়া যেতে পারে। যদি এসব কিছুতেই লাভ না হয় তবে ডাক্তার দেখাতে হবে কারণ তখন কারণটা ইনফেকশনের দিকেই বেশি ইঙ্গিত করে। পানি বেশি পান করলে পিচ্ছিলতা ও ইনফেকশন থেকে মুক্তি দুইটা জিনিসেই উপকার পাওয়া যায়।

সব শেষে কি করবেন ?
যখন দেখবেন কোনটাতেই কোনো ফল পাচ্ছেন না তখন কোনো প্রকার সংকোচ না করে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সমস্ত সমস্যাবলী নিশ্চিতরূপে দূর হয়ে যাবে। কারণ স্ত্রীরোগসমূহের চিকিত্সায় এবং মহিলাদের জটিল রোগসমূহ নির্মূলে জন্মলগ্ন থেকেই হোমিওপ্যাথি এক এবং অদ্বিতীয় ভুমিকা পালন করে আসছে।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

কিশোরী মেয়েদের স্তন ঝুলে যাওয়া বা শিথিল হয়ে যাওয়ার কারন, লক্ষন এবং প্রতিকার

নারীদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টি নির্দিষ্ট কৌনিক মাত্রায় স্তনের বৃদ্ধির কারণে কিছুটা ঝুলে যাওয়াও স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু মেয়েদের বাড়ন্ত বয়সে স্তন শিথিল হয়ে ঢিলে হওয়াটা তাদের স্বাভাবিক শাররীক পরিবর্তনের পর্যায়ে পড়েনা। সাধারণত মহিলাদের স্তন ঝুলে যাবার সম্ভাব্য কারন গুলোর মধ্যে রয়েছে সন্তান গর্ভধারন, শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া, ধুমপান অথবা বংশগত কারনে বড় আকৃতির স্তন থাকা এবং বড় স্তনে প্রয়োজনীয় আকারের সঠিক ব্রা পরিধান না করা। কিন্তু কিশোরী বয়সে বিষয়টি ভিন্ন। ঐ বয়সে এ রকম হয়ে থাকলে আগে তার যথাযথ কারণ বের করে সাথে সাথে সমাধানের পথও বের করতে হবে।
লক্ষনসমুহ কি কি ?
মহিলাদের স্তন অস্থিবন্ধনীতে অবলম্বন করে থাকে; যদি ঐসকল অস্থিবন্ধনী প্রসারিত হয়, পেশীকলার শক্তি হ্রাস পাবার কারনে স্তনের প্রাকৃতিক অবস্থান সাধারনত নিচে নেমে আসে। স্তনবোঁটার স্থানচ্যুতি (স্তনের একদম নিচের দিকে চলে আসা) এবং স্তনের দুই পাশে চামড়া কুচকে যাওয়া থেকেও স্তন ঝুল সহযে অনুমান করা যায়।

কারনগুলো কি কি ?
মহিলাদের স্তন শিথিল হয়ে যাবার স্বাভাবিক কারন হলো স্তন অতিরিক্ত বড় এবং ভারী হয়ে যাওয়া, অথবা অপ্রতুল স্তন-সার্পোট। সন্তান জন্মদানের কারনে অর্থাৎ প্রসুতিকালীন সময় স্তনের আকার বড় হয়ে যাওয়া এবং স্তনধারনের কারনে তা ভারী হয়ে যায় এবং ফল স্বরূপ স্তন ঢিলা হয়ে যেতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে সন্তানকে স্তন পান করালে স্তনের আকারে কোন প্রকার পরিবর্তন হয়না। একইসাথে কিশোরী বয়সে উচ্চ প্রভাব ব্যয়াম যেমন দৌড়ানো, নাচ করা ইত্যাদির সময় যদি স্পোটস ব্রা কিংবা স্তনের পুর্ন অবলম্বনে সামর্থ্য ব্রা ব্যবহার না করা হয় তবে তা থেকে স্তনের ঝুলে যাওয়া সম্ভব।

কিছু বিবেচ্য বিষয় :-
অনেক মহিলাই চিন্তিত হন – সন্তানকে স্তনদানের সাথে স্তনের ঢিলা হয়ে যাবার সম্পর্ক আছে কিনা? কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে স্তনদানের সাথে স্তনের আকার এবং গঠনের পরিবর্তনের কোন প্রকার নেগেটিভ সম্পর্ক নেই। মাইয়োক্লিনিক ওয়েবসাইটের মতে প্রসুতিকালীন স্তন ঝুলার কারন হলো হঠাৎ স্তনের আকার পরিবর্তন এবং পরবতীতে তা আবার স্বল্প সময় ব্যবধানে কমে যাওয়া।

সমাধান কি হতে পারে ?
কিশোরী বয়সে মেয়েদেরস্তনের ঝুলে যাওয়া রোধে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যেন স্তনের অস্থিবন্ধনী প্রসারীত না হয় এবং স্তন চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট না হয়। যেহেতু প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ধুমপান চামড়ার স্থিতিস্থপকতা দুর্বল করে দেয় তাই ধুমপায়ীর তুলনায় অধুমপায়ী নারীর স্তন শিথিলতার প্রবনতা কম। স্বাস্থ্যকর শাররীক ওজন রক্ষা করা এবং উচ্চ-প্রভাব ব্যয়াম এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে পর্যাপ্ত স্তন সার্পোট স্তনের ঝুলে যাওয়া প্রতিহত করতে পারে। ‘মেডিসিন ইন স্পোর্টস এন্ড এক্সসেরসাইজ’ জার্নাল এর জুলাই ২০১০ সংখ্যায় ছাপা এক প্রতিবেদনে বলা হয় – যে সকল স্পোর্টস ব্রা ক্রিয়াকালীন অধিক ওজনের স্তনকে সম্পুর্ন উত্তোলন এবং চেপে রাখতে সক্ষম তা নারীর অস্বস্তির সাথে সাথে স্তনের আকার/গঠন পরিবর্তন প্রতিহত করে।

কি কি করা দরকার ?
স্তনের আকার/গঠনে যেকোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং স্তনবোঁটার স্থান, আকার কিংবা গঠন পরিবর্তন হয়তো অন্যকোন কঠিন সমস্যার পুর্বাবাশ হতে পারে। আপনার উচিত স্তনের মাসিক স্ব-পর্যবেক্ষন করা। যেকোন হঠাৎ পরিবর্তন লিপিবদ্ধ করুন। আপনার স্তনের আকার সম্পর্কে কোন প্রকার অস্বাভাবিকতা আঁচ করলে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করতে অস্বস্তি করবেন না। কারন লজ্জার কারনে সমস্যা প্রকটতা পেতে পারে।
বিস্তারিত

মহিলাদের স্তন ঝুলে যাওয়া, ঢিলে হওয়া বা শিথিল হয়ে গেলে কি কি করবেন ?

অতিরিক্ত ওজন, বয়স এবং সন্তান গর্ভধারনসহ আরো নানা কারণে মহিলাদের স্তন ঝুলে যাওয়া, শিথিল বা ঢিলে হয়ে যেতে পারে। তবে এর আসল কারণ হলো মহিলাদের বুকের অস্থিসন্ধির প্রসারন এবং চামড়া স্থিতিস্থাপকতা হারানোর ফলে স্তন ঢিলে/শিথিল হয়ে যায়। কিছু বিষয় মেনে চললে এর থেকে মুক্তিও পাওয়া যায় খুব সহজেই। যেমন - নিয়মিত ব্যয়াম করা, ধুমপান থেকে বিরত থাকা, ফিট্ হওয়া বক্ষবন্ধনী বা ব্রা পরিধান করা ইত্যাদি মহিলাদের স্তনের শিথিল হওয়া থেকে রক্ষা করে থাকে। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো :-
নিয়মিত সঠিক ব্যয়াম করলে আপনার পিকটোরিয়াল পেশী সুগঠিত থাকবে, যা আপনার স্তন সুঢৌল থাকার ঐচ্ছ্যিক সমর্থন জোগাবে। ফলমুল এবং তাজা সব্জির সমন্বয়ে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার, কম চর্বিযুক্ত খাবার এবং আঁইশ যুক্ত খাবার আপনার স্বাস্থ্য ঠিক রাখবে যা স্তনের সুন্দর গঠনে ভুমিকা রাখবে। পক্ষান্তরে শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা(টান টান ভাব) কমে যায় – যা স্তনের ঢিলে ভাব প্রকট করে।

এমন ব্রা পরুন যা আপনার স্তনকে সম্পুর্ন সাপোর্ট দেয় (সঠিক ব্রা চিহ্নিত করার উপায় আগে আলোচনা করা হয়েছে)। লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার ব্রা অবশ্যই আপনার সাথে সাবলীল ভাবে চলতে পারে – অর্থাৎ চলার সময় আপনার ব্রা লেইস যেন কাঁধ থেকে খসে না পড়ে অথবা বন্ধনি অতিরিক্ত টাইট কিংবা অতিরিক্ত লুজ না হয়। যখন ব্রা সাইজ নেবার জন্য মাপতে যাবেন – অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার পুরাতন ব্রা পরনে থাকতে হবে এবং সে অবস্থায় স্তনের ঠিক নিচে মাপ নিচ্ছেন।

আপনি যদি ধুমপায়ী (প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ) হন তাহলে তা আজই বর্জন করুন। কারন তামাকের নিকোটিন সরাসরি বার্ধক্যকে প্রভাবিত করে এবং চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে যা শরীরের অন্য অংশের মত স্তনের চামড়াকেও ঢিলে করে দেয় – ফলশ্রুতি, স্তনের ঝুলে পড়া!

ব্রেষ্ট লিপ্ট সার্জারী তথা স্তন উন্নতকরন অস্ত্রোপ্রচারের মাধমে ঝুলে যাওয়া স্তনকে উন্নত করা যায়। ব্রেষ্ট লিপ্ট সার্জারীর জন্য লোকাল এনেস্থেসিয়া করে অস্ত্রপ্রচার করা হয়ে থাকে সাধারনত। এ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ত্বক ফেলে দেয়া হয় এবং অনেকের ক্ষেত্রে নিফল/স্তন বোঁটা এবং Areola এর স্থান পরিবর্তন করা হয়। আপনি যদি সন্তানকে স্তনদান করছেন অথবা গর্ভধারন করেছেন, সেই অবস্থায় অস্ত্রপ্রচার করা উচিৎ হবেনা।
বিস্তারিত

গর্ভাবস্থায় মায়েদের কিছু সাধারন সমস্যা এবং তার প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়েরই কিছু না কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় যা খুব সহজেই হ্যান্ডেল করা যায়। কিন্তু অনেকে আবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে উল্টোটিও করে বসেন সে দিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত। এ সময় বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে অনেক মায়েদেরই কিছু সাধারণ সমস্যা হয়ে থাকে যে গুলি তারা নিজেরাই প্রতিরোধ করতে পারেন। তার জন্য দরকার একটু সচেতনতা।

কোষ্ঠ কাঠিন্য :- গর্ভাবস্থায় মায়েদের কোষ্ঠ কাঠিন্য সমস্যাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই এর থেকে পরিত্রানের জন্য  প্রচুর পানি খেতে হবে। ফল আর স্বাভাবিক আঁশযুক্ত খাবার, যেমনঃ ফল, সাগু, ভূষি খেতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করাটাও জরুরি।
গর্ভাবস্থায় মায়েদের কিছু সাধারন সমস্যা এবং তার প্রতিকার
বমি বমি ভাব :- গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এই অসুবিধা দেখা দেয়, বিশেষ করে সকালের দিকে। যেসব মায়েদের এই সমস্যা দেখা দেয় তাদের সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তেলবিহীন শুকনো খাবার যেমনঃ মুড়ি, খই, রুটি, বিস্কুট ইত্যাদি খেয়ে কিছুক্ষ্ণ শুয়ে থাকতে হবে। একসাথে বেশি না খেয়ে এসব মহিলার ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর পর অল্প অল্প খাওয়া উচিৎ। প্রতিবার খাবার পর ৫ থেকে ১০ মিনিট বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিলে বেশি আরাম পাওয়া যাবে।

বুক জ্বালা :- গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি এবং শেষ দিকে মায়েদের বুক জ্বালা হওয়াটা খুব সাধারন ঘটনা। মশলাযুক্ত খাবার ও প্রচুর পরিমান পানি এবং সম্ভব হলে দুধ পান করলে বুক জ্বালা কমে যাবে। গর্ভাবস্থায় এন্টাসিড বা অম্লনাশক পরিহার করা উচিৎ।

খিল ধরা :- গর্ভকালে কোন কোন স্নায়ুর উপর চাপ পড়লে গর্ভবতীর পা বা উরুতে খিল ধরতে পারে। পা শরীর থেকে উঁচু জায়গায় রেখে শুলে অথবা পা ছড়িয়ে বসে পায়ে তেল মালিশ করলে বা বার বার গোটালে ও ছড়ালে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়ামের অভাব ঘটলেও এরকম হতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে খিল ধরা সেরে যায়।

বারবার প্রসাবের বেগ :- গর্ভের প্রথম ৩ থেকে ৪ মাস এটা হওয়া স্বাভাবিক। প্রসাবের জ্বালাপোড়া না থাকলে এ নিয়ে চিন্তার কোন কারন নেই।

বুক ধড়ফড়ানি :- গর্ভাবস্থায় উপরের দিকে জরায়ুর চাপে অথবা যমজ সন্তান পেটে থাকলে উপরের দিকে বেশি চাপ পড়ে ও বুক ধড়ফড়ানি হয়। এতে ঘাবড়াবার কোন কারন নেই।

মুখোশ চিহ্ন :- গর্ভাবস্থায় অনেক মেয়ে মুখে, স্তনে আর পেটের মাঝখানে নিচের দিকে পর্যন্ত গাঢ় সবুজ রঙের দাগ হয়। প্রসবের পর কখনো কখনো এগুলি চলে যায়, কখনো বা যায় না। যে মেয়েরা জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি খায় তাদেরও কখনো কখনো এরকম দাগ হয়। এগুলি একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার, কোনো দুর্বলতা বা অসুখ বোঝায় না। তাই কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই।

পায়ের শিরা ফুলে যাওয়া :- পায়ের দিকে থেকে যেসব শিরা আসছে সেগুলোর উপর গর্ভস্থ শিশুর চাপ পড়ে এবং এর চাপে শিরাগুলো ফুলে যায়। কোন কোন সময় এমনো হয় যে, শিরাগুলো ফেটে যাবে। এমতাবস্থায় চলাফেরা করার সময় পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে চলাফেরা করা উচিৎ। বসা বা শোবার সময় পা সব সময় উপরে তুলে বসতে বা শুয়া উচিত।
সিজার করা থেকে বিরত থাকুন। নরমাল ডেলিভারির জন্য গর্ভ হওয়ার সাথে সাথেই  অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিন। তাতে আপনার নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত হবে এবং আপনার সন্তান উচ্চ জীবনী শক্তি নিয়ে জন্মাবে। 
বিস্তারিত

গর্ভবতী মায়েদের খাওয়া দাওয়া - করণীয় এবং বর্জনীয়

গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলাফেরা না করলে যে কোনো সময়ে ঘটে যেতে পারে বিপত্তি। বিশেষ করে  এই সময়টাতে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় খাবার দাবারের প্রতি বিশেষ নজর রাখা উচিৎ। গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার পাশাপাশি গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে হয় বলে মায়ের সাধারণ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে আনা দরকার সুশৃঙ্খল পরিবর্তন। আর এর জন্য কি কি করতে পারেন আসুন জেনে নেই সে সম্পর্কে :-
গর্ভকালীন সময়ে কোন ডায়েট নয় :-
গর্ভকালীন সময়ে প্রতিটি নারীর নিশ্চিতভাবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি খাবার-দাবার খেতে হবে, তা না হলে গর্ভস্থ শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে। তাই এ সময়ে কোন প্রকার ডায়েটের কথা চিন্তা করাও যাবে না। ডায়েট করতে গিয়ে নিজের কিংবা সন্তানের বিপদ ডেকে আনবেন না।

ক্যাফেইন, পনির বাদ দিন :-
পনির ও পনির দিয়ে তৈরি খাবার-দাবার, ক্যাফেইনযুক্ত খাদ্যগুলো আপনার শিশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এসব গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। অনেক নারী রয়েছেন যারা এসব খাবার ছাড়া থাকতেই পারেন না। তাঁদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো  ধীরে ধীরে এসব খাবার গ্রহণ করার পরিমাণ কমিয়ে কমিয়ে এক সময় শুন্যে নামিয়ে আনুন।

প্রোটিন, ফলিক এসিড ও আয়রন :-
আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্য সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণে প্রোটিন, ফলিক এসিড ও অয়রন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। আপনার উদরে বেড়ে উঠা শিশুর বৃদ্ধির জন্য এই উপাদানগুলো অনেক বেশি প্রয়োজন।

অল্প বিরতিতে বারবার খাবার খান :-
এক সময় অনেক বেশি খাবার খেতে গেলে মায়ের উপরও চাপ পড়বে, তাই ছোট ছোট বিরতিতে অল্প করে খাবার খেতে শুরু করুন, এতে আপনার রুচিও নষ্ট হবে না আর খেতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। দিনে তিন বেলা না খেয়ে ছোট ছোট বিরতিতে ছয়বার বা তাঁর বেশি খাবার খেতে চেষ্টা করুন।

কোন ফাস্টফুড খাবেন না :-
গর্ভবতী মায়েদের  ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড একেবারে বাদ দিতে হবে এইসময়। অনেকে আছেন এসব খাবারের প্রতি আসক্ত। কিন্তু আপনার অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কিছুদিনের জন্য হলেও এসব খাবার গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকুন।

গর্ভকালীন ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট :-
গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে ভিটামিন ও মিনারেল এর অভাব থাকলে তা শিশুর শরীরেও প্রভাব ফেলবে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করতে পারেন অতিরিক্ত মিনারেল এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ ওষুধপত্র। তবে তা কখনোই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করবেন নয়। এছাড়া নিশ্চিত হোন আপনি যে  ভিটামিন ওষুধ গ্রহণ করছেন সেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান ফলিক এসিড রয়েছে।
বিস্তারিত

প্রসূতি মায়ের বুক জ্বালাপোড়া - জেনে নিন কি করবেন ?

সমগ্র বিশ্বে ১৭ থেকে ৪৫ শতাংশ নারী তাদের গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ সমস্যাটা যে শুধু আমাদের দেশের নারীদের তা কিন্তু নয়। এটা সারা পৃথিবী জুড়েই একটা সার্বজনীন সমস্যা। এটা একটা সাধারন ও স্বভাবিক শরীরবৃত্তীয় ঘটনা বলা যায়। তাই আমাদের সকলেরই এ বিষয় সচেতন হওয়া উচিত। কিন্তু কখন এটা বেশি হয়ে থাকে ?

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম সন্তান জন্মের সময় এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, আর গর্ভকালীন সময়ের প্রথম ও শেষ তিন মাসে থাকে সবচেয়ে প্রকট। গর্ভাবস্থায় রক্তে প্রচুর প্রোজেস্টেরন হরমোন পরিপাকতন্ত্রের পেশির চলন ধীর করে দেয়, একই সঙ্গে খাদ্যনালির ভাল্ব নমনীয়তাকেও বিনষ্ট করে। ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপর দিকে এসে খাদ্যনালিতে ঢুকে পড়ে এবং বুক জ্বলে।

অর্থাৎ প্রেগনেনসি হরমোনের কারণে খাদ্যনালীর ভাল্ব শিথিল হয়ে যায়, যার কারণে পাকস্থলীর খাদ্যবস্তু ও পাকস্থলীতে সৃষ্ট এসিড গলনালীর গিকে ধবিত হয়। যার কারণে গর্ভবতী নারীর বুক জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। এছড়াও জরায়ুর বৃদ্ধির কারণে পাকস্থলীর উপর চাপ পড়ে। তাই খাদ্যবস্তু ও এসিড গলনালীর দিকে যায় এবং বুব জ্বালাপোড়া হয়।

কি করবেন ?
কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এই সমস্যা থেকে কিছুটা রেহাই মেলে। আসুন জেনে নিই সেগুলি কি কি :-
  • ভাজাপোড়া ও চর্বি তেলযুক্ত ,টক জাতীয় খাবার সস ইত্যাদি  পরিহার করুন। 
  • ক্যাফেইন যথাসম্ভব পরিহার করুন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দুরে থাকুন অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন।
  • একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে খান। 
  • খাওয়া সময় পানি কম পান করুন। খাওয়ার সময় পানি বেশি খেলে খাবার হজমে সহায়তাকারি হাড্রক্লোরিক এসিড পাতলা হয়ে যায়। ফলে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং এসিডকে উপরের দিকে চাপ দেয় ও বুক জ্বালাপোড়া বৃদ্ধি করে। 
  • খাবার পরই না শুয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করা বা সোজা হয়ে বসে বই পড়া বা টিভি দেখা উচিত।
  • ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। কারণ আঁটসাঁট পোশাক আপনার পাকস্থলী ও তলপেটে চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার বৃদ্ধি ঘটায়। 
  • ঘুমানোর সময় বিছানা থেকে মাথাকে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি উচুতে রেখে শয়ন করুন।
  • মাথার নিচে একটু উঁচু বালিশ দিয়ে শোবেন। তার পরও সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিস্তারিত

Wednesday, August 27, 2014

নারীদের প্রেগনেন্সি বা গর্ভধারণ কালে কসমেটিক্স ব্যবহারে সাবধানতা

আজকাল মেয়েরা সবই কম বেশি রূপ সচেতন এবং অনেকেই প্রতিদিন ক্রিম, লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, নেইলপলিশ ব্যবহার করে থাকে। আজকাল আবার ক্রিম এর মধ্যে বিভিন্ন রকম ভেদ আছে। যেমন – ব্রণ দূর করার ক্রিম, বলিরাখার ক্রিম, রঙ ফর্সা করার ক্রিম ইত্যাদি। আরও আছে দাঁত সাদা করার পেস্ট, হেয়ার রিমুভাল ক্রিম। কিন্তু আপনি জানেন কি প্রেগনেন্সির সময় এসব বিশেষায়িত কস্মেটিক্স ব্যবহার করলে আপনার অনাগত বাচ্চার উপর কি প্রভাব ফেলবে? 
একটি জরিপে দেখা গিয়েছে একজন মেয়ে প্রতিদিন ১২ রকমের কস্মেটিকস ব্যবহার করে। প্রেগনেন্সির সময় কিছু কস্মেটিকস পরিহার করা ভালো। আমাদের দেশের ডাক্তাররা এখনও সেইভাবে প্রেগনেন্সিতে নারীকে সতর্ক করে না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে Retinoids, Lead, Parabens আছে এরকম কস্মেটিকস ব্যবহার করেলে দেহে হরমোনাল পরিবর্তন আসে যা অনগত বাচ্চাকে বিকলাঙ্গ, মানসিক ভাবে ভারসম্যহীন করতে পারে। তাই প্রেগনেন্সিতে নারীদের কিছু প্রসাধনী সামগ্রী পরিহার করা উচিত অথবা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

সানস্ক্রিন লোশান :-
সানস্ক্রিন লোশান এ oxybenzone থাকে। একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে যারা oxybenzone যুক্ত সানস্ক্রিন লোশান মাখে তাদের বাচ্চার ওজন কম হতে পারে। তাছাড়া এই উপাদান প্রেগনেন্সিতে হরমোন কে আরও সেন্সসেটিভ বানাতে পারে নরমাল এর থেকে। সানস্ক্রিন লোশান্‌ ব্যবহার না করে এমন কাপড় পরিধান করুন যেটা পুরো গা ঢেকে রাখে অথবা সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা র মধ্যে ঘরের বাইরে যাওয়া পরিহার করুন। যদি যেতে হয় তাহলে zinc oxide এবং titanium dioxide যুক্ত সানস্ক্রিন লোশান্‌ ব্যবহার করুন, এটি সূর্যের বেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করবে, আর এই উপাদানটি শরীরে অথবা রক্তে মিশে যায় না।

Parabens :-
মোটামুটি বলতে গেলে সকল কস্মেটিকস এ এই উপাদান টি আছে, লোশান, ক্রিম, টোনার, ফাউন্ডেশন। Parabens অনেক ধরেনের হয়, যেমন propyl paraben, methylparaben ইত্যাদি। সকল paraben -ই পরিহার যোগ্য। কস্মেটিকস এর গায়ে উপাদানে paraben লেখা থাকলে সেটা ব্যবহার না করাই ভালো। আমাদের দেশে paraben ছাড়া লোশান, ক্রিম কম -ই দেখা যায়। কিছু আছে যেমন Nivea soft cream, J&j lotion(made in Italy) , lotus herbal cream, Himalaya, Biotique Botanicals ইত্যাদি।

Retinol :-
Retinol হলো একধরনের ভিটামিন এ , যেটা বলিরখা, ব্রণ দূর করে, স্কিন এর কোলাজেন এর সমতা রাখে। অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ বাচ্চার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রমানিত হয়েছে। ভিটামিন এ যুক্ত যেকোন ক্রিম পরিহার করা ভালো।

Salicylic Acid( BHA or beta hydroxyl Acid) :-
এই উপাদানটি মূলত থাকে ব্রণ নির্মূল ক্রিম , বলিরেখা দূর করার ক্রিমে যা মুখ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। Asprin এ যেহেতু Salicylic Acid আছে, তাই এইসময় এটা পরিহার করা উচিত। অতিরিক্ত Asprin গ্রহণে অনেক বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্ল্যাকহেডস দূর করার Scrub এ Salicylic Acid থাকে, তাই scrub ব্যবহার না করে ১ চামচ চিনি আর ১ চামচ মধু দিয়ে Scrub বানিয়ে ব্যবহার করুন।

হোয়াইটেনিং টুথ ব্রাশ :-
Peroxide হলো দাঁত ফর্সাকারি পেস্ট এর মুল উপাদান। এটা যেহেতু ব্লিচিং প্রসেস তাই এটা পরিহার করাই ভালো। কিন্তু হোয়াইটেনিং টুথ ব্রাশ অনাগত বাচ্চার উপর কতো টুকু বিরূপ প্রভাব ফেলবে সেটা নিয়ে এখনও ডেন্টিস্টরা সন্ধিহান, কিন্তু পরিহার করার পরামর্শই দিয়েছেন। খুব ভালো হয় রেগুলার নরমাল পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, আর রেগুলার ডেন্টিস্ট এর সাথে চেক আপ করানো।

Phthalates :-
এই উপাদানটি ব্যবহার করা হয় নেইলপলিস তৈরীতে। আর ব্যবহার করা হয় পারফিউম, বডি স্প্রে , হেয়ার স্প্রে ইত্যাদিতে। ২০০৫ এর একটি পরীক্ষাতে দেখা গিয়েছে যে Phthalates যারা বেশি গ্রহণ করে, তাদের অনাগত ছেলে সন্তানের জেনিটল এর ক্ষতিকর পরিবর্তন সাধিত হওয়ায় খুব বড় সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে।

বিঃদ্রঃ Phthalates বাচ্চা জন্মগ্রহণে কোন ক্ষতি সাধন করে না, শুধু ছেলে বাচ্চার জেনিটল ডেভেলপমেন্ট এ বাঁধা সৃষ্টি করে)

হেয়ার রিমুভাল ক্রিম :-
প্রেগনেন্সির সময় এমন কিছু কস্মেটিক্স ব্যবহার করা উচিত না যেটা দেহে তাড়াতাড়ি Absorb করে এবং রক্তের সাথে মিশে যায়। প্রেগন্যান্ট নারীদের জন্য বেশি নিরাপদ হলো হেয়ার রিমুভাল ক্রিম, পারফিউম পরিহার করা। অনেক মেয়েদের-ই গায়ে বেশি লোম থাকে, তারা প্রাকৃতিকভাবে ওয়াক্সিং করাতে পারেন।

Lead :-
Lead যেটা লিপস্টিক তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। খুব রিসেন্ট পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে Lead দ্বারা cancer, বাচ্চা বিকলাঙ্গ হতে পারে । কিন্তু দুঃখের বিষয় খারাপ থেকে শুরু করে ভালো অনেক লিপস্টিক কোম্পানির লিপস্টিক এ Lead পাওয়া গিয়েছে, কোম্পানি হার ৬১%। Maybelline color sensational range এর pink petal এ সব চাইতে বেশি Lead পাওয়া গিয়েছে, এই লিপস্টিকটি আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয়। কোন লিপস্টিক এ Lead আছে সেটা জানতে হলে , হাতে লিপস্টিক দিয়ে গোল্ডেন কয়েন দিয়ে ঘষে যদি দেখেন লিপস্টিক এর রঙ কালো হয়ে গিয়েছে, তাহলে বুঝবেন এটায় Lead আছে। আমাদের দেশে পাওয়া যায় মোটামুটি সব লিপস্টিক এ Lead আছে, যেমন Revlon, Loreal , Maybelline । একটু দাম দিয়ে কিনতে পারলে MAC লিপস্টিক কেনা ভালো।

প্রেগনেন্সির সময় কস্মেটিক্স ব্যবহার কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সব প্রোডাক্ট এ খারাপ উপাদান থাকে না, খুব ভালো হয় যদি প্রাকৃতিক উপাদান আছে এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, আর নতুন কিছু অথবা কোন কস্মেটিক্স ব্যবহার করার আগে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেওয়া। Parabens যুক্ত প্রোডাক্ট বানাতে ইউরোপ এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমাদের দেশের মেয়েরাও অনেক সচেতন হয়েছে এই ব্যাপারে।

কিছু ছোট টিপস :-
প্রেগনেন্সির সময় হরমোনাল পরিবর্তন আসে, এই কারণে অনেকের মুখে ব্রণ উঠে, তখন Accutane (isotretinoin), Retin-A (tretinoin), and tetracyclines ব্যবহারে বাচ্চার জন্মগত কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তখন কোন মেডিসিন না খেয়ে ঘরে বসে প্রাকৃতিক ভাবে নিমপাতা, হলুদ বাটা দিতে পারেন। অনেক সময় প্রেগন্যান্ট নারীরা এণ্টি-রিঙ্কেল ক্রিম দিয়ে পেট মালিশ করে, সেটা না করাই ভালো, সেক্ষেত্রে অলিভ অয়েল ব্যবহার অনেক বেশি কাজে দেয়। প্রেগন্যান্ট নারীদের চুলে হাইলাইটস করা থেকে বিরত থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রেগনেন্সির সময় ঘাড় কালো হয়ে গেলে ১ চামচ উপ্টান, ১ চামচ হলুদ বাটা, ১ টা এলাচি গুঁড়ো, ১ চামচ ঘি মিক্সড করে ঘাড়ে লাগান ঠিক হয়ে যাবে। রেগুলার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স খাবেন।
তথ্য সুত্র :- সাজগোজ
বিস্তারিত

নারীদের গর্ভাবস্থা এবং প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

নারীরা গর্ভবতী হলে বয়োজ্যেষ্ঠ নানা উপদেশ আর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসময় এটা করা ভালো আর ওটা করা ভালো নয়। এটা করবেনা, ওইটা খাবেনা, এটা ব্যবহার করলে সন্তানের জন্য খুব খারাপ এরকম আরো কত যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়! কিন্তু সব কিছুই কি আসলে মেনে চলাটা জরুরী? কিছু ভুল ধারণাও তো থাকতে পারে। আসুন তাহলে জেনে নেই এ অবস্থা সম্পর্কে কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা-
ভুল তথ্য :- Flu vaccine নেয়া যাবে না। অনেকেই ভয় পান এটা ভেবে যে এর কারণে গর্ভে থাকা শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হবে। কেও কেও মনে করেন হয়ত তার শিশুর কিছু হবেনা কিন্তু তিনি নিজে ফ্লু তে আক্রান্ত হবেন।
সঠিক তথ্য :- Pregnancy তে নারীর immune system এ কিছু পরিবর্তন আসে। এসময় তাই একজন গর্ভবতী নারীর ফ্লু হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় Flu vaccination তাই মা এবং মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর জন্য খুব-ই জরুরী।

ভুল তথ্য :- ২ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ যতোটুকু খাদ্য গ্রহণ করে তত পরিমাণ খাদ্য একজন গর্ভবতী খাবেন।
সঠিক তথ্য :- যদি একজন গর্ভবতী নারীর ওজন গর্ভধারণের আগে স্বাভাবিক থেকে থাকে তাহলে শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য তাকে আগের তুলনায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসক দের মতে একজন নারীর গর্ভাবস্থার আগে যদি overweight না হয়ে থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় তার ওজন ২৫ থেকে ৩৫ পাউন্ড বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক কিন্তু এর বেশি নয়। কারণ শিশুর জন্মের পর মায়ের অতিরিক্ত ওজন কমাতে তাহলে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। যদি ওজন ৫০পাউন্ডের বেশি বৃদ্ধি পায় তাহলে সেক্ষেত্রে শিশু জন্মের সময় কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে আর জন্মের সময় যেসব শিশু অতিরিক্ত ওজনের হয়ে থাকে তাদের বড় হওয়ার পরে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ভুল তথ্য :- Hair dye করালে শিশুর ক্ষতি হবে।
সঠিক তথ্য :- Hair dye এর ক্ষেত্রে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সামান্য অংশ আমাদের ত্বক absorb করে নেয় যা মা বা শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কেমিক্যালের কড়া গন্ধে হয়ত একজন গর্ভবতী নারী অস্বস্তি বোধ করতে পারেন তাই এরকম সময়ে এমন জায়গায় Hair dye এর জন্য যেতে হবে যেখানে ventilation ব্যবস্থা ভালো থাকবে। তারপরেও যদি আপনার দুশ্চিন্তা থাকে এ ব্যাপারে তাহলে ammonia আছে এমন dye এড়িয়ে চলুন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গর্ভধারণের পর আপনার চুলের সহনশীলতায় পরিবর্তন আসতে পারে। গর্ভধারণের আগে যেই প্রোডাক্ট আপনার চুলে ভালো কাজ করত সেই এক-ই প্রোডাক্ট গর্ভধারণের পর কাজ নাও করতে পারে।

ভুল তথ্য :- গর্ভাবস্থায় caffeine গ্রহণ করা একদম বন্ধ করতে হবে কারন এটি গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।
সঠিক তথ্য :- গবেষোণায় দেখা গিয়েছে যে একজন গর্ভবতী নারী যদি ২০০ মিলিগ্রামের কম (একটি ১২ ounce কফির কাপ এ যতটুকু কফি থাকবে) কফি পান করেন সেক্ষেত্রে তার গর্ভপাত আর low birth weight এর কোন ঝুঁকি থাকেনা।

ভুল তথ্য :- body scanner থেকে দূরে থাকুন।
সঠিক তথ্য :- বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশ করার আগে আজকাল body scanner ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই কারণ Airport body scanner, সিকিউরিটি এক্স-রে মেশিন এগুলোর সামান্য radiation একজন গর্ভবতীর কোন ক্ষতি করতে পারেনা। তবে যেসব নারীর গর্ভধারণের পরবর্তী সময়ে lung অথবা cardiac সমস্যা দেখা দেয় তারা সাধারণত ৩০,০০০ ফুট উপরে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। তাই প্লেনে যাত্রা করার আগে তাদের চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া উচিত।

ভুল তথ্য :- গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া যাবেনা।
সঠিক তথ্য :- সপ্তাহে ২বার মাছ খেতে পারলে ভালো কারণ মাছে omega-3 fatty acid আছে যা গর্ভে থাকা শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট আর দৃষ্টি শক্তির জন্য জরুরী। তবে অবশ্যই রান্না করা মাছ খেতে হবে আর অনেক বেশি mercury আছে এমন মাছ খাওয়া যাবেনা। আমাদের দেশে এখন কিছু জায়গায় sushi অথবা sashimi পাওয়া যায়,বিশেষ করে কোন ফুড ফেস্টিভাল হলে, কোরিয়ান খাবারের দোকান গুলোতে বা ফাইভ স্টার হোটেল গুলোতে। এগুলো এক ধরণের জাপানীজ খাবার যেটাতে মাছ কিছুটা কাঁচা অবস্থায় থাকে। কাঁচা মাছে ব্যাক্টেরিয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভে থাকা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তবে রান্না করা sushi খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন দোকানে tuna মাছ পাওয়া যায় যা ক্যানের ভেতর প্রস্তুত করে রাখা থাকে। সেগুলো খাওয়া যেতে পারে।

ভুল তথ্য :- এ অবস্থায় সব সময় বা দিকে কাঁত হয়ে শুতে হবে।
সঠিক তথ্য :- যেদিকে বা যেভাবে শুয়ে আরাম বোধ হয় সেভাবে শুতে হবে।

ভুল তথ্য :- গর্ভবতী নারী coitus এ involve হতে পারবে না।
সঠিক তথ্য :- গর্ভবতী নারী coitus এ involve হতে পারবে। কারণ এর ফলে গর্ভে থাকা শিশুর শারীরিক কোন ক্ষতি হবেনা। শিশু amniotic sac এবং strong uterine muscle এর মাধ্যমে তার মায়ের গর্ভে সুরক্ষিত থাকে। তবে sexually transmitted infection যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সন্তানের মা ও বাবা ২ জন কেই সাবধান থাকতে হবে। কারণ গর্ভবতী নারী যদি herpes, genital warts, chlamydia, HIV দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে তার কাছ থেকে তার গর্ভে থাকা শিশুর মাঝেও রোগ ছড়াতে পারে।তবে এ ব্যাপারে বেশি দুশ্চিন্তা হলে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে যে coitus এ involve হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কিনা।
তথ্য সুত্র :- সাজগোজ
বিস্তারিত

মেয়েদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এবং হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

অনিয়মিত মাসিক, মুখমণ্ডলে অবাঞ্ছিত লোম, অ্যাকনে এবং বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ হল পলিসিস্টিক ওভারি ৷ তাই অনিয়মিত মাসিক নিয়ে মেয়েদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই৷ মেয়েদের হরমোনাল সমস্যার মধ্যে ৫-১০ % হলো এই পলিসিস্টিক ওভারি ৷ এই রোগটি যখন অনেক গুলো উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় তখন একে বলা হয় পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ৷ সংক্ষেপে PCOS ৷
অধিকাংশ মহিলাদের জরায়ুতেই ধরা পড়ছে একাধিক সিস্ট। যদিও এখনও এর প্রকৃত কারণ জানাতে পারেননি চিকিত্সকরা । অনেকেই মনে করেন জরায়ুর সিস্ট বংশগত ব্যাপার। প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ টিনএজারদের মধ্যে জরায়ুতে একাধিক সিস্টের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যার দুটি সব থেকে বড় ফল বন্ধ্যাত্ব ও অতিরিক্ত মেদবহুল শরীর। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে আক্রান্ত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মহিলাদের মধ্যে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার প্রবণতা দেখা গেছে। যার থেকে ডায়বেটিস, রক্তে উচ্চ কলেস্টেরল মাত্রা ও জরায়ুর ক্যানসারের মত অসুখেও আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা।

সমীক্ষা বলছে সারা বিশ্বের ৪ থেকে ১১ শতাংশ মহিলাদের মধ্যে জরায়ুতে সিস্টের প্রবণতা পাওয়া গেছে। যদিও গ্রামের দিকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম, প্রায় ৩০ শতাংশ শহুরে মহিলা এই অসুখে আক্রান্ত। চলুন জেনে নেয়া যাক কারা এই রোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন , রোগটির লক্ষণ কী এবং কোথায় গেলে সুচিকিত্সা পাব ৷

পলিসিস্টিক ওভারি কী ?
নাম থেকে আমরা বুঝতে পারি এটা ওভারি বা ডিম্বাশয়ের রোগ ৷ এই রোগে ওভারিতে সিস্ট তৈরি হয় ৷ তবে সবক্ষেত্রেই যে এমনটি হবে তা নয় ৷ এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা ক্লিনিক্যাল ডায়াগনসিস করে থাকেন ৷

রোগের লক্ষণ সমূহ :-
  • অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি হওয়া।
  • ঘামে দুর্গন্ধ।
  • পুরুষদের মতো কিছু শারীরিক সমস্যা, যেমন অস্বাভাবিক হেয়ার গ্রোথ।
  • ঘাড়ের কাছে কালো চওড়া দাগ।
  • পিরিয়ড অনিয়মিত। অনেক দিন পরপর পিরিয়ড হওয়া। সেই সময় খুব বেশি রক্তক্ষরণ অথবা অল্প রক্ত যাওয়া।
  • খুব বেশি পিম্পল।
  • অতি উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা
  • চুল পড়া। অনেক ক্ষেত্রে টাক পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। প্রতিরোধে যতটা সম্ভব ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা। বেশি তেল, মসলা ছাড়া হালকা খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাবার গ্রহণ করা।
এছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের কারণে রোগী ডায়াবেটিস , হাইপারটেনশন এবং রক্তে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরলজনিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে পারে ৷

কাদের হয় :-
নারীদের রিপ্রোডাকটিভ এইজ বা প্রজননক্ষম বয়সে রোগটি হয় ৷ সাধারণত ১৫-৪৫ বছর বয়সে রোগটি বেশি হয় ৷

কেন হয়ে থাকে ?
এই রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও , ধারনা করা হয় হরমনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগতি অন্যতম কারণ ৷ যেই পরিবারের কোনো সদস্যদের বিশেষ করে মা বা বোনের এই রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেশি ৷মেয়েদের শরীরে অতিরিক্ত এন্ড্রজেন ( পুরুষ হরমোন ) তৈরি হওয়া কেও এই রোগের কারণ হিসেবে ধরা হয় ৷

প্রয়োজনীয় টেস্টসমূহ :-
যেহেতু টেস্ট গুলোর বাংলা নাম কখনই ব্যবহার করা হয়না , তাই এইক্ষেত্রেও সেই নিয়ম অনুসরণ করা হলো।
  • Fasting glucose test
  • Thyroid function test
  • Lipid level
  • Ultrasonogram
  • Serum testosteron level
  • Serum FSH / LH 
এই রোগের কারণে কী কী জটিলতা দেখা দিতে পারে :-
  • ডায়াবেটিস
  • উচ্চ-রক্তচাপ
  • রক্তে উচ্চ-মাত্রায় কোলেস্টেরল
  • Endometrial carcinoma ( এক রকম জরায়ু ক্যান্সার )
  • হার্ট এ্যাটাক
  • স্লিপ এপ্নিয়া ( ঘুমের ভিতর নিশ্বাস আটকে যাওয়া )
  • অতি উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা
  • ব্রেস্ট ক্যান্সার ( স্তন ক্যান্সার )
গর্ভকালীন অতিরিক্ত সতর্কতা :-
PCOS এর রোগীর ক্ষেত্রে মিসক্যারিজ ,মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তান প্রসবের মত জটিলতা দেখা দিতে পারে। আপনি যদি পলিসিস্টিক ওভারির রোগী হন , তবে গর্ভধারণকালীন সময়ে আপনাকে অবশ্যই অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ৷ নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন এবং চেকআপ করাবেন ৷

রোগের চিকিৎসা :-
পলিসিস্টিক ওভারির প্রপার হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা রয়েছে। অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন, চির দিনের জন্য এটি নির্মূল হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ তাও আবার কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই। সুস্বাস্থ্য ও শুভকামনা রইলো সবার প্রতি ৷
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

নারীদের গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ? জেনে নিন কী কি করবেন

নারীদের ক্ষেত্রে গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ এর সমস্যাটা অনেক বেশী এবং এটা এতই বিব্রতকর একটি সমস্যা যে কাউকে তারা  বলতেও পারেন না আবার সহ্যও করতে পারেন না। আর এমন সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবার কথা তো কোন নারী চিন্তাও করেন না। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার স্বাভাবিক যৌন জীবনে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে এই সমস্যাটি।
দুর্গন্ধ দূর করার চেষ্টা করেও বারবার বিফল হয়েছেন? আসুন জেনে নেই শরীরের স্পর্শ কাতর সেই অংশের দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকরী উপায়।

প্রতিটি মানুষের শরীরে স্বাভাবিক একটি ঘ্রাণ আছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় খুব সুক্ষ্মভাবে ঘ্রাণটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। এছাড়াও মানুষের বগল, পায়ের পাতা কিংবা শরীরের অন্যান্য ভাঁজের জায়গায় দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। গোপন অঙ্গটিও বাদ যায় না। তবে গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ হবার পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ। যেমন,
  • আপনার যদি স্বাস্থ্য ভালো হয়ে থাকে, তাহলে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ঘাম জমে যায়। সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।
  • এছাড়া গোপন অঙ্গে ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন থেকে হতে পারে খুবই বাজে দুর্গন্ধ।
  • গোপন অঙ্গ সঠিক ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না রাখা, পিরিয়ডের সময় এক প্যাড দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করা ইত্যাদি কারণেও জন্ম নেয় দুর্গন্ধ।
  • এছাড়া খুব বেশী টাইট পোশাক দীর্ঘসময় পরিধান করলেও ঘামে দুর্গন্ধ হতে পারে। অনেকের প্রস্রাব লিক করার সমস্যা থাকে। সে কারণেও গন্ধ হতে পারে।
কি কি করতে পারেন ?
  • প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো পরিষ্কার পরিচ্ছনতা রক্ষা করা। নিজের গোপন অঙ্গের যত্ন খুব ভালোভাবে নিন। সর্বদা পরিষ্কার থাকুন। ভালো অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন।
  • বাজারে গোপন অঙ্গ পরিষ্কার করার জন্য ভালো কোম্পানির বিশেষ ধরণের সাবান ও বডি ওয়াশ কিনতে পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করুন।
  • গোপন অঙ্গে পাউডার ব্যবহার করতে হলে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও সুগন্ধী পাউডার ব্যবহার করুন। তবে দীর্ঘসময় একই স্থানে পাউডার দিয়ে রাখবেন না।
  • নিজের প্যানটি পরার আগে পারফিউম ছিটিয়ে নিন।
  • বেশী টাইট পরবেন না পোশাক। গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ হলে ঢিলেঢালা পোশাক পরাই সবচাইতে ভালো।
  • ভালো করে খেয়াল করুন। চুইয়ে চুইয়ে প্রশ্রাব এসে কি প্যানটি ভিজে যায়? এমন সমস্যা অনেক নারীরই থাকে। যদি তা হয় তো অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যান।
  • ভালো কোম্পানির স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করুন। পিরিয়ডের সময় বাড়তি পরিছন্ন থাকুন।
  • গোপন অঙ্গ পরিষ্কার করতে উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন। যতবার টয়লেট ব্যবহার করবেন, প্রতিবার ভালো করে সাবান দিয়ে পরিছন্ন হোন।
এসবের পরেও যদি গোপন গঙ্গের গন্ধ দূর না হয় তাহলে আপনার চিকিত্সা কাছে যান। এটা হতে পারে অন্য কোন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত! লজ্জায় নিজের শরীরকে অবহেলা করবেন না। দেশে অনেক ভালো ভালো গাইনি ডাক্তারও আছেন। তাদের পরামর্শ নিন। (তথ্য সুত্র :-প্রিয় লাইফ)
বিস্তারিত

Tuesday, August 26, 2014

নারীর গর্ভধারন এবং নির্দ্ধিষ্ট ওভুলেশান বা ডিম্বনিঃস্বরন লক্ষন

ডিম্বনিঃস্বরন লক্ষন বিচার করা একটি দুরুহ কাজই বটে। তবুও ডিম্বনিঃস্বরন অনুমান করা এবং সেই সময়ের আশেপাশে স্বামী-স্ত্রীর মিলন গর্ভধারনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। ডিম্বনিঃস্বরন বলতে নারীর ডিম্বকোষ থেকে পরিপক্ক ডিম্বের বহিঃর্গমনকে বুঝায়। ডিম্বনিঃস্বরন সাধারনত সংঘটিত হয় ঋজচক্রের ১৪ তম দিনে। তবে ডিম্বনিঃস্বরনের সময় নারীভেদে এমনকি একই নারীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন দিনে হতে পারে। ডিম্বনিঃস্বরন লক্ষনগুলো নিম্নরূপ হতে পারে :-
তলপেটে খিচুনী :- কিছু কিছু মহিলার ক্ষেত্রে ডিম্বনিঃস্বরন সময়কালে পেটে খুব হালকা খিচুনীর সৃষ্টি হতে পারে।  

যোনী থেকে ক্ষরিত রসে পরিবর্তন :- ডিম্বনিঃস্বরনের ঠিক আগ মুহুর্তে যোনীপথ থেকে সামান্য অধিক পরিমানে স্বচ্ছ তরল, আঠালো রস নির্গত হতে দেখা যেতে পারে। নিঃস্বরিত তরলটি দেখতে ডিমের সাদা লালার মত দেখতে। যদি ডিম্বটি নিষিক্ত হয়ে যায় অর্থাৎ গভধারন হয়ে যায় তাহলে তরলগুলো সাদা রঙের হতে থাকে অথবা সম্পুর্ন রূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। 

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি :- ডিম্বনিঃস্বরন সময়কালে নারীর শরীরের তাপমান স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পায়। ডিম্বনিঃস্বরন সয়ম অনুমান করার জন্য প্রতিদিন ঘুম থেকে জাগার পর ডিজিটাল/সুক্ষ তাপমান মাপক যন্ত্র দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মেপে তা একটি ডায়রিতে লিপিবদ্ধ করে রাখুন। সাধারনত শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবার দুই-তিন দিন আগের সময়টায় নারী ফার্টাইল অর্থাৎ সন্তান উৎপাদন করতে সক্ষম থাকে। 

এসব বিষয়েরে পাশাপাশি আপনি হয়তো "ওভুলেশান কাউন্টার কিট" দিয়ে ডিম্বনিঃস্বরন নিরীক্ষন করতে পারেন। এ ধরনের কিট প্রস্রাব পরীক্ষার সাহায্যে শরীরের হরমোন জনিত পরিবর্তন বিবেচনা করে ডিম্বনিঃস্বরনের সম্ভাব্য সময় বলে দিতে পারে। গর্ভধারনের সম্ভাবনা বৃদ্ধির জন্য ডিম্বনিঃস্বরন সময়কালে এবং তার আগে-পরে ২/৩ দিন সর্বনিন্ম দৈনিক স্বামী-স্ত্রীর একবার শাররীক মিলন অত্যাবশ্যক।
বিস্তারিত

বিয়ের পর গর্ভধারনে সমস্যা হচ্ছে - জেনে নিন কি করবেন ?

বিয়ের পর অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ে গর্ভধারন বিষয়টি ঘটে যায়। অনেকে আবার লম্বা সময় চেষ্টা করেও সফল হননা। যদি আপনি চেষ্টা করার এক বছরের মধ্যে সন্তান সম্ভবা না হন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হওয়া উচিত। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে নিচের বিষয় গুলি মেনে চলার চেষ্টা করুন। 
গর্ভধারনের জন্য ডিম্বনিস্বঃরনের পুর্বে যৌন মিলন করুন :-
অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী ডিম্ব নিষেক এর জন্য মিলনের সঠিক সময় নিয়ে সন্দেহে ভোগেন। প্রতি মাসে আপনার খুব একটা ছোট সময় আছে গর্ভধারনের। নারীর ডিম্বনিঃস্বরনের পর আনুমানিক ২৪ ঘন্টা তা জীবিত থাকতে পারে। অন্যদিকে পুরুষের শুক্রানু নারীর যৌনাঙ্গে প্রায় পাঁচ দিনের মত জীবিত থাকতে পারে। সেই কারনে ওভুলেশানের ২/৩ দিন আগে যৌন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ওভুলেশানের দিনের জন্য অপেক্ষা না করাই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে।

তাড়াতাড়ি মা হবার জন্য সপ্তাহে অন্তত: তিনবার যৌন মিলন করুন :-
সঠিক ভাবে মা হবার জন্য নিয়মিত যৌন মিলন অত্যন্ত জরুরী। স্বামী-স্ত্রী সাধারনত হিসেব করতে থাকেন আনুমানিক কখন ডিম্ব নিঃস্বরন (ওভুলেশান) হবে? সেজন্য তারা অন্য সময় যৌন মিলন থেকে বিরত থাকেন। এটা সত্যযে ওভুলেশান ছাড়া কনসিভ করা সম্ভব নয় – তবে যেহেতু নারীর ওভুলেশান সব সময় তাদের অনুমান করা সময়ে নাও হতে পারে তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন স্বামী-স্ত্রীর মিলন গর্ভধারনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

গর্ভধারন নিশ্চিত করতে ডিম্বস্ফোটন ভবিষ্যদ্বাণী কিট অথবা নিষেক পরীক্ষন কিট ব্যবহার করুন :-
Ovulation prediction kit হচ্ছে একধরনের স্টি্রপ যা শরীরের তাপমাত্রা এবং প্রস্রাবে Luteinizing হরমোনের লেভেল পরীক্ষা করে ডিম্বনিস্বরনের সময় সম্পর্কে ধারনা দিতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে ওভুলেশান চার্ট অথবা অন্য সব হিসাব-নিকাশ কিছুটা কনফিউজিং। তাই ovulation prediction kit দিয়ে ওভুলেশানের সময় আগে থেকে জেনে মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া “ক্লিয়ার ব্লু ইজি মনিটর” জাতীয় নিষেক পরীক্ষন যন্ত্র দিয়েও গর্ভধারনের সম্ভাবনার একটি চিত্র পাওয়া যায়। নিষেক পরীক্ষন যন্ত্রও ওভুলেশান প্রিডিকশন কিটের মত লুটিইনজিং হরমোনের পরিবর্তন সহ অন্যন্য আনুষাঙ্গিক হরমোনাল পরিবর্তনের বিবেচনায় গর্ভধারনের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

শুধুমাত্র ঋজচক্র ক্যালেন্ডারে নির্ভর করবেন না :-
আপনাদের অনেকে হয়তো শুনে আসছেন মাসিক ঋজচক্রের ১৪ তম দিন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটি আসলে যাদের মাসিক চক্র ২৮ দিনের তাদের হিসেবে এ কথাটির প্রচলন হয়েছে। এটি দ্বারা অনুমান করা হয় মাত্র – কখন ডিম্বনিস্বঃরন হতে পারে। তবে এটি একদম ১০০ ভাগ নির্ভুল পদ্ধতি নয়। অনেক নারী ঠিক ১৪ তম দিনে ওভুলেট করেন না। কিন্তু আপনি যদি ওভুলেশান প্রিডিকশান কিট অথবা ডিম্বনিঃস্বরনের কোন আলামত লক্ষ্য করে মিলন করেন তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

গর্ভধারনের চেষ্টার আগে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন :-
নিশ্চিত করুন আপনি সন্তান ধারনের জন্য স্বাস্থ্যগত ভাবে তৈরী আছেন। শাররীক ইনফেকশান, এসটিডি তথা যৌন বাহিত রোগ অথবা দুর্বল স্বাস্থ্য আপনার গর্ভধারনে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

যখন বাচ্চা নেবার চিন্তা করছেন তখন ধুমপান, মদ্যপান এবং যাচ্ছেতাই ভাবে মেডিসিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন :-
এটি একটি সাধারন জ্ঞানের কথা কিন্তু অনেক নারী ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদির বহাল রেখে গর্ভধারন করেতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হল উপরোক্ত সব বদঅভ্যাস ডিম্ব নিষেকে প্রভাব পেলতে পারে এবং এটি গর্ভের সন্তানের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর।

গর্ভধারনের জন্য আনন্দদায়ক যৌন মিলন খুবই জরুরী :-
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন কোন যুগল সন্তান নিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হন তখন তারা যৌন মিলনকে একপ্রকার ডিউটি মনে করতে শুরু করেন এবং মিলনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন।রোমান্টিক কোন প্ল‍্যান করুন অথবা সম্পর্ক স্পাইস-আপ করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। কারন আপনি মিলনে কি রকম অনুভূতি পাচ্ছেন তার উপরও গর্ভধারনের সম্ভাবনা নির্ভর করে। গবেষনায় দেখা গেছে মিলনকালে নারীর পুর্নতৃপ্তি সন্তানধারনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। পুর্নতৃপ্তির ফলে নারীর জরায়ুর দিকে শুক্রানু প্রাকিতিক ভাবে সঞ্চালিত হয় এবং পুরুষের তৃপ্তি বীর্যে শুক্রানুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

কিছু যৌন আসন শুক্রানুকে বেশি সময় যোনীতে রাখতে সহায়তা করে :-
মিসনারী আসন হচ্ছে সবছে ভাল আসন যখন আপনি গর্ভধারনের চেষ্টা করছেন। যখন আপনি সন্তান নেবার পরিকল্পনা করছেন তখন ঐসকল আসন থেকে বিরত থাকুন যেখানে নারী পুরুষের উপর আরোহন করে। কারন মধ্যকর্ষন শক্তির প্রভাবে শুক্রানু লিক হয়ে বেরিয়ে পড়তে পারে। কিংবা মিলনকালে নারীর কোমরের নিচে একটি বালিশ দিয়ে রাখতে পারেন যাতে তার যোনীতে বেশি সময় শুক্রানু অবস্থান করার সম্ভাবনা বাড়ায়।

গর্ভধারনের জন্য শ্রেষ্ঠ সময় :-
ওভুলেশান তথা ডিম্বাশয় থেকে ডিম্ব নিঃস্বরনের সময়কালে যৌন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা থাকে। ওভুলেশান সাধারনত নারীর গত ঋজচক্র বা পিরিয়ডের  প্রথম দিন থেকে গননা করে ১৪ তম দিবসে হয়ে থাকে। একটি ডিম্ব ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হবার পর প্রায় ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকে – নিষেকের জন্য এ সময়কালের মধ্যে কোন শুক্রানু প্রজননতন্ত্রে উপস্থিত থাকা জরুরী। পুরুষের শুক্রানু নারীর প্রজননতন্ত্রে প্রায় সাত (৭) দিন পর্যন্ত জীবন্ত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে গর্ভধারনে সাফল্যের জন্য সর্বনিন্ম প্রতি ২ থেকে ৩ দিন অন্তর যৌন মিলন করা জরুরী। আপনাকে মাসের ১৪ তম দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবেনা।
বিস্তারিত

নারীর পিরিয়ড বা ঋতুকাল, ওভুলেশন বা ডিম্ব নিঃস্বরন এবং গর্ভধারণ

জীবনের প্রতিটি দিনই পুরুষেরা শুক্রানু উৎপন্ন করতে পারেন। কিন্তু নারীরা প্রায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ্য ডিম্বানু নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন এবং তার অল্প কিছু মাত্র জীবনকালে অবমুক্ত করেন। আবহাওয়ার পার্থক্যভেদে নারীর ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সে প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়ে থাকে। পিরিয়ড শুরু হবার সময়কালে মাত্র ৩ লক্ষ ডিম্ব সক্রিয় থাকে, তার পুর্বেই বেশিরভাগ ডিম্বানু নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতি মাসিক ঋতুকালে মাত্র একটি ডিম্ব পরিপক্ক হয়ে ডিম্ব থলি থেকে নিঃস্বরীত হয়।
নিঃস্বরীত ডিম্বানু ফেলোপাইন টিউব (প্রজনন তন্ত্রের একটি অংশ) এর শেষ প্রান্তে এসে অবস্থান নেয়। পরবতীতে তা ক্রমশঃ গর্ভাশয়ের এর দিকে অগ্রসর হয়। তার এই যাত্রাপথে যদি কোন শুক্রানু দ্বারা ডিম্বটি নিষিক্ত হয় তবে তা গর্ভাশয়ে গিয়ে বসে যাবে। যাকে আমরা নারীর গর্ভধারন বলি। গর্ভাশয়ে পরবর্তীতে শিশুর জীবনকাল আরাম্ভ হয়।

আর যদি ডিম্বানুটি কোন পুরুষের শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত না হয়, তবে তা বিচূর্ন হয়ে কিছু রক্তকনিকা সহ মাসিক ঋতুচক্রের সময় নির্গত হয়ে যাবে।

ডিম্ব নিঃস্বরন কিভাবে সনাক্ত করবেন ?
গড়পড়তা প্রতি ঋতুচক্র ২৮ থেকে ২৯ দিন ব্যাপ্ত থাকে। যা পুর্ববতী ঋতুচক্রের প্রথম দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ঋতুচক্র শুরুর আগের দিন পর্যন্ত গনানা করা হয়। বেশিরভাগ নারীর মাসিক ঋতুচক্রের ১১তম থেকে ২১তম দিবসের মাঝের সময়ে ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ক ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়। ডাক্তারী ভাষায় এই সময়কে নিষেক-কাল বলা হয়। কারন এই সময়ের মধ্যে যৌন মিলনের ফলে নারীর গর্ভধারনের সম্ভাবনা থাকে।

যারা কোন প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি বা ইনজেকশান ব্যবহার না করতে চান তারা এই সময়কালে মিলনে বিরতি দিয়ে গর্ভধারন থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। একই ভাবে যেসকল যুগল সন্তান নিতে চান তারা এই সময়কালে বেশি বেশি মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা প্রকট থাকে। তবে মনে রাখবেন প্রতি মাসে একই সময়কালে ডিম্ব নিঃস্বরন নাও হতে পারে। কারণ এক মেডিকেল রিচার্স এ দেখা গেছে মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ নারীর ঋতুচক্রের ১০ থেকে ১৭ তম দিবসের মাঝে ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়েছে। তাই যারা এ সময় মিলনে বিরতি দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রন করতে চান তারা বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। 

ডিম্বানুর নিষেক সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
  • ডিম্বাশয় থেকে নিঃস্বরনের পর প্রতিটি ডিম্বানু ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা জীবিত থাকে।
  • প্রতিবার সাধরনত একটি ডিম্ব নিঃস্বরীত হয়।
  • ডিম্বানুর নিঃস্বরন মানসিক চিন্তা, অসুস্থতা অথবা ঋতুচক্রের দৈর্ঘ্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • অনেক নারীর ডিম্ব নিঃস্বরেনের সময় যৎসামান্য রক্ত নির্গত হতে পারে।
  • নিঃস্বরনের পর নিষিক্ত ডিম্বানু ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে গর্ভশয়ে স্থান নেয়।
  • ঋতুচক্রের রক্তক্ষরন ডিম্বানু নিঃস্বরন ব্যতিরিকেও হতে পারে।
  • ঋতুচক্রের রক্তক্ষরন ব্যতিরিকেও ডিম্বানু নিঃস্বরীত হতে পারে।
মাসিক ঋতুচক্রের বিভিন্ন দিক :-
ঋতুচক্র হচ্ছে নারীর একটি ডিম্বানু নিষেক অথবা ক্ষরনের শারীরবিত্তিয় পরিবর্তনের চক্র। গড়পড়তা প্রতি ঋতুচক্র ২৮ থেকে ২৯ দিন ব্যাপ্ত থাকে। যা পুর্ববতী ঋতুচক্রের প্রথম দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ঋতুচক্র শুরুর আগের দিন পর্যন্ত গনানা করা হয়। তবে অনেক নারীর ঋতুচক্র মাত্র ২২ দিন (সর্বনিন্ম) এবং অনেকের ৩৬ দিন (সর্বচ্চ) পযন্ত ঋতুচক্র স্থায়ী হতে পারে। এমনকি একই নারীর ভিন্ন ভিন্ন মাসে ভিন্ন সময় ব্যাপ্তির ঋতুচক্র হতে পারে।

ঋতুচক্রের ভিতর সাদা স্রাব (ভাজাইনাল ডিসচার্য) একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই ক্ষরনের মাত্রা ইস্ট্রোজেন এবং প্রো-ইস্ট্রোজেন হরমনের লেভেল উঠা-নামার সাথে কম বেশি হতে পারে।

নারীর বয়স যত বাড়তে থাকে তত ঋতুচক্রের দৈর্ঘ্য (সময় ব্যাবধান) কমতে থাকে। আমাদের দেশে নারীদের সাধারনত ৫৫ থেকে ৫৬ বছর বয়সে ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অনেক নারী বসতে অথবা উঠতে মুত্র ধরে রাখতে পারেন না এবং ক্ষানিক মুত্র বিসর্জন করে ফেলেন। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। অনেকে এটি না জানার কারনে চিন্তিত হয়ে চিকিত্সকের সরনাপন্ন হয়ে থাকেন – যার আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই।
বিস্তারিত