Showing posts with label পুরুষের স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label পুরুষের স্বাস্থ্য. Show all posts

Tuesday, April 3, 2018

মেহ প্রমেহ অল্প উত্তেজনায় ধাতুঝরা এবং ধাতু ক্ষয়জনিত সমস্যার কার্যকর সমাধান

আমাদের দেশের অধিকাংশ তরুণদের মাঝে যৌনতা বিষয়ক জ্ঞান স্বল্পতা এবং যৌবনকালের শুরুতে নিজ কতৃক বিভিন্ন ভুলত্রুটির ফলে পরবর্তীতে যৌনস্বাস্থ্য জনিত নানাবিধ সমস্যা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে, যা মূলত মেহ, প্রমেহ, ধাতুঝরা, ধাতু দুর্বলতা, ধাতুক্ষয় রোগ নামে পরিচিত । উক্ত রোগটি সরাসরি বা তৎক্ষণাৎ ভাবে শরীরের উপর কোন প্রকার প্রভাব তৈরি করে না বিধায় উক্ত রোগটির সৃষ্টি সম্পর্কে আক্রান্ত পুরুষ মানবদেহটি সহজে তেমন কিছু অনুভব ও করতে পারে না, কিন্তু উক্ত রোগটি খুব ধীরে ধীরে শরীরের উপর প্রভাব ফেলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা সম্পুর্ন নষ্ট করে দেয় ।

এক কথায় বলতে গেলে – ইহা নিজে কোন রোগ নয় বরং ইহা অন্যান্য অনেক শারীরিক রোগের সৃষ্টিকারী এবং আমাদের দেশে পুরুষ সমাজের অনেকেই উক্ত রোগের ভুক্তভোগী । আর তাই, আজ আমরা আলোচনা করছি – পুরুষ মানবদেহে উক্ত রোগসমূহ সৃষ্টির কারন, লক্ষন এবং শতভাগ কার্যকরী সমাধানসমূহ সহ পুর্ন বিস্তারিত গাইডলাইন ।
মেহ প্রমেহ অল্প উত্তেজনায় ধাতুঝরা এবং ধাতু ক্ষয়জনিত সমস্যার কার্যকর সমাধান

কারণসমূহ 

আমাদের দেশের পুরুষদের মাঝে উক্ত সমস্যা সৃষ্টির প্রধান এবং অন্যতম কারণই হল যৌবনকালের শুরুতে অধিক পরিমানে হস্তমৈথুন করা । এছাড়া অল্প বয়সে যৌনতা বিষয়ক অধিক বেশী চিন্তা করা, অধিক বেশী পর্ণ দেখা, অতিরিক্ত বেশী যৌন মিলন করা সহ অনিয়ন্ত্রিত এবং অনিরাপদ যৌনাচার উক্ত রোগসমূহ পুরুষ মানবদেহে সৃষ্টির অন্যতম কারন হিসাবে বিবেচিত । পাশাপাশি অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ, অতিরিক্ত মানুষিক দুঃশ্চিন্তা, হজমের গন্ডগোল, শারীরিক পুষ্টির অভাব সহ অন্যান্য আরো নানবিধ কারনে উক্ত সমস্যাসমূহ পুরুষ মানবদেহে সৃষ্টি হতে পারে ।

লক্ষণসমূহ

  • উক্ত রোগে আক্রান্ত রোগীর শুক্র অত্যন্ত তরল হয়।
  • রোগী ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শক্তিহীন ভাব প্রকাশ পেতে থাকে।
  • দেহের এবং চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়, চেহারার লাবণ্যতা কমে যায়, মুখ মলিন এবং চক্ষু কোঠরাগত হয়ে পরে।
  • দেহে প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং ভিটামিনের প্রবল অভাব পরিলক্ষিত।
  • রোগীর জীবনীশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা প্রকার রোগে অতি সহজেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • দেহে যৌন হরমোন বা পিটুইটারি এড্রিনাল প্রভৃতি গ্রন্থির হরমোন কম নিঃসৃত হয়, যার ফলে দেহে যৌন ক্ষমতা কমে যায় এবং শুক্র ধীরে ধীরে পাতলা হতে থাকে।
  • দৈহিক এবং মানসিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়, মাথা ঘোরে, বুক ধড় ফড় করে, মাথার যন্ত্রণা দেখা যায়।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বদাই অস্থির বোধ করে, বসা থেকে উঠলেই মাথা ঘোরে এবং চোখে অন্ধকার দেখে, ক্ষুধাহীনতার ভাব দেখা দেয়।
  • পেনিস বা পুরুষাঙ্গ দুর্বল হয়ে যায়
  • প্রসাবের আগে-পরে আঠালো জাতীয় ধাতু নির্গত হয়
  • সমস্যা ধীরে ধীরে কঠিন আকার ধারণ করলে সামান্য উত্তেজনায় শুক্রপাত হয়, স্ত্রীলোক দর্শনে বা স্পর্শে শুক্রপাত ঘটে এমনকি মনের চাঞ্চল্যেও শুক্রপাত হয়।
  • পায়খানার সময় কুন্থন দিলে শুক্রপাত হয়।
  • স্মরণশক্তি কমে যায় এবং বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়।

কার্যকর সমাধান বা চিকিৎসা

পুরুষ মানবদেহের জন্য ক্ষয়জনিত সমস্যাসমূহ অত্যন্ত মারাত্মক হিসাবে বিবেচিত, বিশেষ করে আমাদের দেশের তরুন সমাজ এই সকল সমস্যাসমূহের অধিক বেশী ভুক্তভোগী হয়ে থাকে, যা পরবর্তীতে তাদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে দুর্বলতা সৃষ্টি সহ দাম্পত্য জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । আর এর থেকে মুক্তির জন্য সমগ্র পৃথির্বীতে সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা হল হোমিওপ্যাথি। একমাত্র হামিও চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগের যাবতীয় উপসর্গ দূর হয়ে রোগী নব যৌবন প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। তবে এর জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। কারণ অনেক হোমিও ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারণেও বহু রোগী আরোগ্য লাভ করে না। অথচ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে এর সবচেয়ে কার্যকর ঔষধসমূহ এবং স্থায়ীভাবে  রোগ নির্মূলকারী চিকিৎসা।
বিস্তারিত

Saturday, August 15, 2015

স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

দুই বৎসর বা তার থেকে বেশি সময় চেষ্টা করার পড়েও গর্ভধারণে ব্যার্থ হলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বন্ধ্যত্ব বলে। ৮% দম্পতি বন্ধ্যত্বের শিকার হন। বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের কারণে হতে পারে। বন্ধ্যত্ব দু ধরনের যথা:

প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব :- বিবাহের পর সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কখনই গর্ভধারণ না হওয়াকে প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব বলে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব :- কোন মহিলা প্রথম বার গর্ভধারণের পর দ্বিতীয় বার আর যদি গর্ভধারণ করতে না পারে তবে তাকে পরবর্তী বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব বলে।
স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
কারণ:- বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজনের কারণে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে অন্যায় ভাবে শুধুমাত্র স্ত্রীদেরকে দোষারোপ করা হয় এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে স্বামীকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়েতে উৎসাহিত করা হয়।

ক) স্বামীর কারণে বন্ধ্যত্ব:- 
  • স্বামীর বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে।
  • মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণু বিহীন বীর্যের কারণে
  • একটি অণ্ডকোষ/লুপ্ত প্রায় অণ্ডকোষ/অণ্ডকোষ জন্মগত ভাবে না থাকলে।
  • অণ্ডকোষের প্রদাহ, মাম্পস বা গলা ফুলা রোগের প্রদাহের কারণে।
  • বিকৃত শুক্রাণু থাকলে।
  • যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম হলে।
  • শুক্রাণু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও পরিবেষ অণ্ড কোষে না থাকলে।
  • যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা, গনোরিয়া প্রভৃতি রোগ থাকলে।
খ) স্ত্রীর কারণে বন্ধ্যত্ব:-
  • যদি জরায়ুর আকার ছোট হয়।
  • ডিম্বাশয় যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে।
  • মাসিকের গণ্ডগোল থাকলে।
  • বস্তি কোটরের প্রদাহ হলে।
  • বংশগত।
  • জরায়ুতে টিউমার হলে।
  • যক্ষ্মা গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ হলে।
উল্লেখিত কারণগুলো ছাড়াও স্ত্রীর ডিম্ব ক্ষরণের সময় যৌনমিলন না হলে গর্ভধারণ হয় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা :- বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়ে প্রথমে স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এবং স্বামীর শারীরিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি কোন অসুবিধা ধরা না পড়ে তখন স্ত্রীকে পরীক্ষা করতে হবে। স্ত্রীর পরীক্ষাগুলো ব্যয়বহুল বিধায় প্রথমে স্বামীকে পরীক্ষা করা উচিত।

পরামর্শ :- যদি কোন দম্পতির একবারেই সন্তান না হয় অথবা সন্তান হওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তান কাঙ্ক্ষিত সময়ে না হয় তবে তাদেরকে নিন্মলিখিত পরামর্শ দেয়া উচিত:

স্বামী ও স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে (সব ঠিক থাকার পরেও শতকরা ২০ ভাগ দম্পতির ১ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে, শতকরা ১০ ভাগ দম্পতির ২ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে)।

স্ত্রীর ডিম্বক্ষরনের সময় অর্থাৎ মাসিক শুরুর ১১ তম দিন থেকে ১৮ তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সম্ভব না হলে ১ দিন পরে পরে স্বামীর সাথে মিলনের পরামর্শ দিতে হবে।

স্বামীর বা স্ত্রীর কোন জটিল রোগ বা যৌন রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর ধূমপান, মদ্যপান, যে কোন নেশা গ্রহণ, একনাগাড়ে দীর্ঘদিন এন্টিহিস্টামিন খাওয়া বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ওজন থাকলে কমাতে হবে।

চিকিৎসা, লক্ষণ :- হোমিওপ্যাথিতে বন্ধাত্ব রোগের চিকিৎসার জন্য লক্ষণ ও তার রেপার্টরি রুব্রিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি লক্ষণের আলাদা আলাদা ঔষধ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে। যারা চিকিৎসা নিতে চান তারা নিজেদের সব লক্ষণসমূহ নিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। ডাক্তারকে আপনার সব কিছু স্পষ্ট করে জানালে চিকিৎসা পেতে সহজ হবে।
বিস্তারিত

Sunday, November 9, 2014

পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের কামোন্মাদনা (Nymphomania) - কারণ, লক্ষণ, চিকিত্সা

যৌন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সময় আমরা দেখেছি স্ত্রীলোকের কামোন্মাদনার (Nymphomania) সমস্যাটিকেও অনেক যৌন বিশেষজ্ঞ বেশ গুরুত্বের সাথেই তুলে ধরেছেন। তবে এটি পুরুষদের মধ্যেও দেখা যায়। আধুনিক যৌন বিজ্ঞান ইহাকে একটি বিশেষ রোগ বলে চিহ্নিত করেছে। বাস্তবিকও তাই। "আধুনিক হোমিওপ্যাথি ঢাকা" তে বেশ কয়েকজন রোগিনীকে সফল হোমিও চিকিত্সা দিয়ে আমরা আরোগ্যও করছি। 

কিন্তু একটি বিষয় লিক্ষনীয় যে, এই রোগটির প্রতি অনেক ডাক্তারই ততটা মনোযোগ দেন না। দেশের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ এবং "আধুনিক হোমিওপ্যাথি ঢাকা" এর চিকিৎসক ডাক্তার হাসান তার কেইস স্টাডিতে বলেন, স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে সমস্যাটির পেছনে রোগিনীর বেশ কিছু শারীরিক কারণও বিদ্যমান থাকে। তাই সেদিকে যথাযথ দৃষ্টি রেখে রোগিনীর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন - প্রপার ট্রিটমেন্ট করা না হলে এর ফলে কিছু দূরারোগ্য ব্যাধিরও সৃষ্টি হতে পারে।
এবার আসুন বিষয়টির বিস্তারিত বিশ্লেষণে যাই। আমরা অনেক নারী ও পুরুষদেরকেই এই রোগটির কারণে খারাপ বলে অবহিত করে থাকি। অথচ প্রকৃত কারণটি খুঁজে দেখি না। দুর্নিবার কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য মান মর্যাদা, লজ্জা ও ভয় পরিত্যাগ করে থাকে এবং ন্যায় অন্যায়, ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা যখন থাকে না তখন তাকেই কামোন্মাদনা বা Nymphomania বলা হয়ে থাকে। তবে এতে স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হতে পারে।

সর্বদা অশ্লীল বা কামোদ্দীপক চিন্তা বা কল্পনা, অশ্লীল পুস্তকাদি পাঠ, ভোগ বিলাসিতা, আলস্য, জনন ইন্দ্রিয়ের বিকৃতি, নারী জননঅঙ্গে ইনফেকশন প্রভৃতি কারণে এই রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানসিক কারণও এর পেছনে কাজ করে। যার কারণে অনেক যৌন বিজ্ঞানী ইহাকে এক প্রকার মানসিক রোগ বলেও অবহিত করে থাকেন। এ বিষয়ে তারা যে যুক্তি উপস্থাপন করেন তা হল - এর ফলে মনের উপর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং তা  মানসিক চিন্তাকে বিঘ্নিত করে থাকে। এতে অতিশয় কামেচ্ছার সৃষ্টি হয় এবং তা চরিতার্থ করার জন্য ব্যক্তির বুদ্ধি বিবেচনা শক্তি একেবারে লোপ পায়।

শুধু তাই নয় এর ফলে কতগুলি খারাপ লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে যেমন - উলঙ্গ হওয়া, হস্তমৈথুন করা, অশ্লীল ইসারা করা, সর্বদাই মনে মনে কামভাব পোষণ করা ইত্যাদি। এই জাতীয় ব্যাধির যথাযথ চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে কোন প্রকার সংকোচ না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের শ্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ, এর যথাযথ চিকিত্সা করা না হলে নানা প্রকার মানসিক এবং শারীরিক রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। অবসাদ, দুর্বলতা এবং অনেক সময় ক্ষয় রোগও হয়ে থাকে।
বিস্তারিত

Saturday, November 8, 2014

লিঙ্গ প্রদাহ (Balanitis) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিৎসা

লিঙ্গ প্রদাহ (Balanitis) :- লিঙ্গমনি এবং লিঙ্গের অগ্রভাগের চর্মের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির প্রদাহকে লিঙ্গ প্রদাহ বা Balanitis বলে। বাংলায় এই প্রদাহকে মনোষ বলা হয়ে থাকে। সাধারনত যাদের লিঙ্গের অগ্রভাগের চর্ম অধিক লম্বা তাদেরই এই পীড়া হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় প্রমেহ রোগের উপসর্গ রূপে ইহা প্রকাশ পায়। এছাড়া সহবাস করলে ঘর্ষণ জনিত চর্মময় বা শ্বেতপ্রদরে আক্রান্ত স্ত্রীলোকের সঙ্গে সহবাস করলে এই প্রদাহ হতে পারে।
লিঙ্গ প্রদাহের (Balanitis) লক্ষণ :- ইহাতে প্রথমে আক্রান্ত স্থান লালবর্ণ ধারণ করে, চুলকানি হয়, গরম বোধ ও বেদনাযুক্ত হয়। তারপর পুজ পড়তে থাকে এবং কখনো কখনো ক্ষত হয়ে যায়। লিঙ্গের সম্মুখ অংশ ও ইহার আবরণ প্রদাহিত হয়। ফুলে উঠে, ঘোর লাল বর্ণ হয়, টন টন করে, কাপড়ের ঘষা লাগলে বেদনা অনুভব হয়। প্রদাহিক স্থানের মধ্য হতে প্রচুর পরিমানে তরল হরিদ্রা বর্ণের বা সবুজাভ দূর্গন্ধযুক্ত চটচটে পুঁজ নির্গত হতে থাকে। কখনো কখনো লিঙ্গমুন্ডের উপর লাল বর্ণের ভাসা চওড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়। ১০/১৫ দিন পর্যন্ত এই ক্ষতের কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা যায় না কিন্তু তারপরে আপনা আপনি আরোগ্য হয়। কিন্তু অনেক সময় আবার ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে থাকে। তখন ইহা উপদংশ পীড়ার সেন্গ্কারের মক্ত রূপ লাভ করে। 

রোগীর মধ্যে যদি কোন সিফিলিস বা গনোরিয়া জাত জীবানু না থাকে তবে ইহা শীগ্রই আরোগ্য লাভ হয় নতুবা সহজে আরোগ্য লাভ করতে চায় না এবং রোগী বেশ যন্ত্রণা ভোগ করে। অনেক সময় শিশুদের এই রোগ দেখা দেয়। যে সকল শিশুর নিতান্ত রুগ্ন এবং যাদের লিঙ্গাগ্রে চর্ম লম্বা তারা অনেক সময় এই পীড়ায় আক্রান্ত হয়। তবে এই সমস্যার যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট রয়েছে। অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিলে খুব অল্প সময়েই লিঙ্গ প্রদাহ দূর হয়ে যায়। 
বিস্তারিত

Tuesday, October 21, 2014

অণ্ডলালমূত্র (Albuminuria) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিত্সা

এই রোগে রোগীর মূত্রের সাথে অণ্ডলাল বা এলবুমেন (Albumen) দেখতে পাওয়া যায়। এই রোগের সঙ্গে প্রায়ই মূত্রগ্রন্থির প্রদাহভাব প্রকাশ পায়। সাধারণত মূত্রগ্রন্থির পুরাতন রোগাবস্থায় মূত্রের সঙ্গে অধিক পরিমানে অণ্ডলাল বা এলবুমেন(Albumen) ক্ষরণ হয়ে থাকে। যেকোন কারণে যদি কিডনি যন্ত্রের অভ্যন্তরে সূক্ষ সূক্ষ মূত্র নালীর কোষগুলো প্রদাহিত হয় তা হলে ইহার রক্ত মধ্যস্থ এলবুমেন বা অন্ডলাল মূত্র নালীর মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে মূত্রে অণ্ডলাল বা এলবুমেন দেখা যায়।
এই রোগ বিশেষ কত গুলো কারণের জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে যেমন :- অজীর্ণ, অতি মাত্রায় অণ্ডলালময় খাদ্য গ্রহণ, ঠান্ডা লাগা, জল বৃষ্টিতে ভেজা, মদ্য পান ইত্যাদি। কোন কারণ বশত কিডনি আক্রান্ত হলে এই জাতীয় লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে।

এবার আসুন এই রোগের লক্ষণগুলির দিকে দৃষ্টি দেই। রোগীর প্রস্রাব ঘন, বর্ণের পরিবর্তন এবং প্রস্রাব পরীক্ষায় অণ্ডলাল বা এলবুমেন (Albumen) দেখতে পাওয়া যায়। শীতকম্প হয়ে পীড়ার আরম্ভ হয়। পিপাসা, মূত্রকোষে টান টান ভাব, বেদনা এবং এই বেদনা সময় সময় কুচকি ও অন্ডকোষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বার বার প্রস্রাব হয় এবং প্রস্রাবের পরিমান কম হয়। প্রস্রাব কালচে বর্ণের অথবা কখনো কখনো রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব দেখা যায়। রোগীর দেহে শোথ লক্ষণ প্রকাশ পায়। হাত পা এবং মুখমন্ডলে স্ফীত ভাব প্রকাশ পায়। এছাড়া অম্ল উদগার, রক্ত সল্পতা, মাথার যন্ত্রনা, হৃদপিন্ডের গোলযোগ প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যায়।

এই রোগের হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা রোগীর সবগুলি লক্ষণ বিবেচনায় এনে অথবা প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা করে কার্যকর ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন। দেখা যায় খুব অল্প দিনের হোমিও চিকিত্সাতেই রোগীর অণ্ডলালমূত্র Albuminuria রোগ নির্মূল হয়ে যায়।

চিকিত্সা নেয়ার সময় রোগীকে কিছু আনুষঙ্গিক পথ্য ও বিষয় খেয়াল রাখলে ভালো হয়। যেমন বিশ্রাম এবং আলোবাতাস যুক্ত ঘরে থাকা রোগীর জন্য হিতকর। ঠান্ডা লাগানো উচিত নয়। হালকা গরম পানি, গরম পানিতে গোসল করা এবং উষ্ণ জলবায়ূ প্রধান স্থানে বসবাস করা হিতকর।

দুধ এই প্রকারের রোগীদের জন্য একটি উত্কৃষ্ট পথ্য, অতিরিক্ত লবন যুক্ত খাবার হতে সাবধান থাকাই ভালো। ঘোল, পাতলা খিচুরী, প্রচুর পানি পান করা, ফলের রস এবং পরিমিত পরিমান আহার গ্রহণ অধিক ফলদায়ক। শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম করা আদৌ উচিত নয়। রোগের প্রথম অবস্থায় সহজ ও লঘু জাতীয় খাবার এবং কঠিন অবস্থায় দুধ রুটি সুজি দেয়া উচিত।
বিস্তারিত

ভেরিকোসিল - পুরুষের যৌন সমস্যা

ভেরিকোসিল (Varicocele) পুরুষদের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য যৌন রোগ। স্পার্মাটিক কর্ড বা রেত্রজ্জু, এপিডিডায়মিস বা অন্ডকোষের উপরিস্থিত কেচোর মত লম্বা বস্তু - ইহাই উক্ত উত্পাদক নাড়ী এবং টেস্টিকেলের (কোষের) শিরা সমূহ স্ফীত হয় এবং গাট গাট মত হয়ে ফুলে উঠে, আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করলে যেন একটা কেচো কুন্ডলির মত পাকিয়ে আছে মনে হয়। সোজা ভাবে শুয়ে থাকলে ও চাপ দিলে ইহা ক্ষুদ্র হয়ে যায় এবং খাড়া হয়ে দাড়ালে পুনরায় বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ স্থলে এই পীড়া বাম দিকেই অধিক দেখা যায় কারণ বাম দিকের স্পার্মাটিক কর্ড ডান দিক অপেক্ষা অধিক লম্বা এবং অধিক জড়ানো থাকে। এছাড়া বাম দিকে এসগময়েড ফ্লেক্সরে অধিক পরিমান পানি জমে থাকলে তার চাপেও বাম দিক আক্রান্ত হয়।
 
এই রোগে কোনো কোন ক্ষেত্রে আদৌ যন্ত্রনার উদ্রেক করে না আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়াভহ যন্ত্রনার সৃষ্টি করে থাকে। এক প্রকার টানা হেচড়ার মত বেদনা কোমর থেকে প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এই বেদনা হাটাচলা করলে, দাড়ালে এবং গরম কালে অধিক অনুভূত হয়।

যে সকল পুরুষ অধিক কামাশক্ত অথবা যারা অত্যধিক হস্তমৈথুন করে তারা যদি হঠাত এই অভ্যাস ছেড়ে দেয় কিন্তু কাম চিন্তা ত্যাগ করতে না পারলে এপিডিডায়মিসের উপর দিকে স্পার্মাটিক কর্ড এর মধ্যে বীর্য ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়ে উঠে। ইহাতে কোষ উপর দিকে আকৃষ্ট হয়, স্ফীত হয় এবং স্পর্শ করলে, দাড়ালে বা হাটাচলা করলে বেদনার উদ্রক হয়। লিঙ্গ অর্ধবক্র হয়, এই অবস্থায় কিছুক্ষণ বা কিছুদিন থাকার পর ধীরে ধীরে ঐ স্ফীত ভাব কমে আসে এবং কখনো আবার বৃদ্ধিও পেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ভেরিকোসিলে পরিনত হয়। ইহার ফলে পুরুষাঙ্গ কখনো শক্ত ও সোজা হয়, কখনো বা বাকা হয়ে থাকে এবং এটা রাত্রেই বেশি হতে দেখা যায়। ইহাতে রোগী অনেক যন্ত্রনাও ভোগ করে থাকে।

ভেরিকোসিল (Varicocele) এর অত্যন্ত কার্যকরী এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা রয়েছে। একজন ভালো হোমিওপ্যাথ রোগীর সবগুলি লক্ষণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ঔষধ নির্বাচন পূর্বক যথাযথ ট্রিটমেন্ট দিলেই ভেরিকোসিল অনায়সে নির্মূল হয়ে যাবে। তবে এই সময় উগ্র মসলা যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। হালকা অথচ পুষ্টিকর খাদ্যই গ্রহণ করা শ্রেয়। কোনো প্রকার মদ্য পান বা উগ্র নেশা করা অনুচিত। সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। রাত্রি জাগরণ এবং অসৎ সঙ্গে মেলামেশা করা আদৌ উচিত নয়।
বিস্তারিত

মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা

মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis) কি :- মূত্রনালীর প্রদাহকে ইংরেজিতে ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালীতে গনোকক্কাস নামক রোগের জীবানু প্রবেশ করে এই জাতীয় রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারাও ঘটতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো প্রকার সংক্রমণ ছাড়াও ঘটতে পারে যেমন - মূত্রনালীতে আঘাত পেলে বা কোনো প্রকার অপারেশন হলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।

গনোরিয়া এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ যা মূত্রনালীর প্রদাহ ঘটাতে পারে। গনোরিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে মূত্রনালীর প্রদাহ হলে তাকে নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস বলে। এটার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্লামাইডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া। এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ। কোনো কোনো পুরুষের একই সময়ে গনোরিয়ার জীবাণু এবং অন্য জীবাণু দ্বারা মূত্রনালীর প্রদাহ হতে পারে। যদি কারো মূত্রনালী পথে রস নিঃসরণ হয়, তাহলে হয়ত যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ রয়েছে মনে করতে হবে যা অন্যের মধ্যেও ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত, এমনকি উপসর্গ চলে গেলেও।
মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা
মূত্রনালীর প্রদাহের (Urethritis) লক্ষণ :- এর ফলে মূত্রনালীতে ক্ষত ও বেদনাবোধ হয়। মূত্র ত্যাগের সময় ভয়ানক জ্বালা পোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। প্রস্রাবের সাথে পুজরক্ত নির্গত হয়। এই রোগের প্রথমে মূত্রনালীর মুখে ইরিটেসন হয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয় কিন্তু অল্প অল্প প্রস্রাব হয়। পরে প্রস্রাবের দ্বার বেদনা, জ্বালা এবং প্রস্রাবের সময় ভয়ানক কষ্ট হয়। প্রদাহ ভাব যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই মূত্রনালীর মেমব্রেনগুলো স্ফীত হয়। এর ফলে প্রস্রাব ত্যাগে আরো কস্ট হয়। প্রস্রাব কখনো পানির মত হয় না, ৪/৫ ধারায় প্রস্রাব পড়তে দেখা যায়, প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়ে। প্রস্রাবে তলানি পড়ে শ্লেষ্মার মত পদার্থ ও পুঁজ দেখাতে পাওয়া যায়। অনেক সময় পুরুষ লিঙ্গ শক্ত এবং বেঁকে যায়। এর সাথে অণ্ডকোষ মূত্রস্থলী প্রভৃতির প্রদাহ হয়। বেদনা জ্বালা পোড়া ও পুঁজরক্ত নিঃসরণ।

মহিলাদের বেলায় যে সব উপসর্গ থাকতে পারে :- মহিলাদের ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে তা হলো :অস্বাভাবিক যোনি স্রাব–জ্বর এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটের ব্যথা বেদনাদায়ক মূত্রত্যাগ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা মূত্রত্যাগ এবং তখন প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব । তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব করেন সেই সাথে কার কার কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা বা খিল ধরার মত কিছু মনে হয় । মাঝে মাঝে বমি হতে পারে । নববিবাহিত মেয়েদের মধুচন্দ্রিমা যাপনকালে প্রস্রাবের প্রদাহ হতে পারে ।

সহবাসের পর জীবাণু মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে বেশির ভাগ মহিলাদের – তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জনিত কারনে হলে অবশ্যই মুত্র নালীর মুখ বা ভেজিনাতে চুলকানির লক্ষণ থাকবেই প্রেগন্যান্ট মায়েরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে ( ১২/১৬ সপ্তাহ পর ) বেক্টোরিয়া আক্রমণে মুত্র নালীর যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু মহিলাদের হরমোন জনিত ঔষধ সেবন করার কারনে বেক্টোরিয়া ডেবলাপ্ট হয়ে হতে পারে তবে তা মাত্র ২ ভাগ অথবা মেনোপজ এর সময় একটু বেশি হওয়ার সম্বাভনা আছেই । এলারজি জনিত কারনে হলে অবশ্যই যোনি মুখের আশ পাশ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও উষ্ণ চুল্কানির লক্ষণ থাকবেইযারা অপরিষ্কার ভাবে স্পার্মিসাইড বা কৃত্রিম ডায়াফ্রাম ব্যবহার করেন বা সজোরে যৌনমিলন করলে তাদের বেলায় একটু ঝুঁকি বেশি আছেই।

    ইউরেথ্রাইটিসের প্রতিরোধ ও প্রতিকার :- ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে জাগার পর প্রস্রাব করতে হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। পানির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উচিত যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব তৈরি হয় যা দিনে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু পিছন থেকে সামনের দিকে না এনে সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা, যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্র পথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে অথবা পরিষ্কার কাপড় ব্যাবহার করলে প্রতি বার তা সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যদি দেখা যায় আপনার প্রস্রাবের রাস্তার জ্বালা যন্ত্রণা জীবাণু জনিত বলে সন্দেহ থাকে তাহলে আপনার চিকিত্সা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা আপনার উপসর্গ না যাওয়া পর্যন্ত কার ও সাথে যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মহিলাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ঘন ঘন বদলাতে হবে এবং সহবাসের আগে ও পরে-যাতে মূত্র নালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয় সে দিকে লক্ষ রাখবেন। খতনা বা মুসলমানি করানো হলে ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেস্টা করবেন প্রতিদিন। আন্ডার পেন্ট বা ঐ জাতীয় কিছু যেন অন্য কার ও সংস্পর্শে না যায় সে দিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis), প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা হোমিও চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যায়। তাই নিঃসন্দেহে এর জন্য কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিন। আর বিবাহিত অবস্থায় অবশ্যই স্বামী স্ত্রী দুজনেই ডাক্তারের কাছে যাবেন।
    বিস্তারিত

    Tuesday, September 23, 2014

    হার্নিয়া (Hernia) - কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা

    হার্নিয়া আমাদের দেশের লোকজনের কাছে বেশ পরিচিত একটি রোগ৷ এটা হয়তো অনেকেরই জানা যে, আমাদের পেটের ভিতরে খাদ্যনালী থাকে যা মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত৷ সাধারণত খাদ্যনালী ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে৷ হার্নিয়ার ক্ষেত্রে পেটের কিছু দুর্বল অংশ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ বিশেষ অণ্ডথলিতে চলে আসে৷ তখন কুচকি এবং অণ্ডথলি অস্বাভাবিক ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়৷

    যদি আপনার কোনো কুঁচকিতে ব্যথা হয় কিংবা ফোলা দেখতে পান তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। এই ফোলা বেশি দেখা যাবে যখন আপনি দাঁড়াবেন। সাধারণত আক্রান্ত অনুভব করতে পারেন। আপনি শুয়ে পড়লে হার্নিয়া আপনা আপনি মিলিয়ে যাবে অথবা আপনি হাত দিয়ে হালকা চেয়ে পেটে ঢুকিয়ে দিতে পারবেন। যদি তা না হয় তাহলে জায়গাটিতে বরফের সেঁক দিলে ফোলা কমে গিয়ে হার্নিয়া চলে যায়।
    হার্নিয়া (Hernia) - কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা
    শোয়ার সময় মাথার তুলনায় কোমর উঁচু করে শুতে হবে। যদি আপনি হার্নিয়া ঢোকাতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালে আটকে গেছে। এটি একটি মারাত্মক অবস্থা এ ক্ষেত্রে জরুরিভাবে অপারেশনে প্রয়োজন হয়। এ পর্যায়ে বমি বমি ভাব অথবা জ্বর হতে পারে এবং হার্নিয়া লাল, বেগুনি অথবা কালো হয়ে যেতে পারে। যদি এ ধরনের কোনো চিহ্ন বা উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    কারণসমূহ :- পেট বা এবডোমেন ওয়ালের দুর্বলতাই হার্নিয়ার একমাত্র কারণ। এই দুর্বলতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন- জন্মগত, অপারেশন, আঘাত এবং ইনফেকশন ইত্যাদি। সবচেয়ে কমন যে হার্নিয়া আমরা পেয়ে থাকি তার মধ্যে ইনগুইনাল হার্নিয়া এবং ইনসিসনাল হার্নিয়া বা অপারেশনের জায়গায় হার্নিয়া।

    ইনগুইনাল হার্নিয়া কুচকির মাঝামাঝি ১/২ ইঞ্চি উপরে এই হার্নিয়ার প্রাথমিক অবস্থান। ইনগুইনাল হার্নিয়া যে কোন বয়সেই এ রোগ হতে পারে এবং বেশির ভাগ রোগীই পুরুষ। জন্মলগ্নেই পুরুষ শিশুর হার্নিয়া থাকতে পারে। এই অবস্থাকে জন্মগত হার্নিযা বলা হয়। সুস্থ সবল শরীরে পরবর্তীতে যে কোন বয়সেই হার্নিয়া সম্পূর্ণ নতুনভাবে দেখা দিতে পারে। এ ধরনের হার্নিয়াকে অর্জিত হার্নিয়া বলা হয়। জন্মগত হার্নিয়া মূলত জন্মগত গাঠনিক ত্রুটি। অর্জিত হার্নিয়া সমস্যা সৃষ্টির পিছনে কিছু কারণ কাজ করতে পারে। উদর গহ্বরের অভ্যন্তরস্থ চাপ বৃদ্ধিকারী কারণগুলোই এক্ষেত্রে প্রধান। সঙ্গে তলপেটের মাংসপেশীর দুর্বলতাও বিশেষভাবে অনুঘটক যা বয়স্কদের বেলায় বিশেষভাবে প্রযোজ্য। উদর গহ্বরের চাপ বৃদ্ধি সহায়ক পরিস্থিতিসমূহ হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী কাশি, পেটে চাপ পড়ে এমন পেশার কাজ যেমন ভারোত্তোলন, প্রবল চাপ দিয়ে প্রস্রাব করতে হয় এমন কোন অসুখ, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য এ ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় খুব চাপ পড়ে, যেমন বৃদ্ধ বয়সে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া ইত্যাদি। যেসব শিশু স্বাভাবিক জন্মগ্রহণের তারিখের আগেই ভূমিষ্ঠ হয় তাদের ইনগুইনাল হার্নিয়া বেশি হয়।

    হার্নিয়ার প্রকারভেদ :-
    • ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া (Inguinal Hernia) :- এই প্রকারের হার্নিয়ায় দেখা যায়, অন্ত্রের অংশবিশেষ (Parts of intestine) উদর ও উরুর সংযোগস্থলে ইঙ্গুইনাল অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। তখন উদর ও উরুর সংযোগস্থল ফোলা মনে হয়।
    • ইঙ্গুইনো-স্ক্রোটাল(Inguino-scrotal) :- যদি ইঙ্গুইনাল হার্নিয়াতে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়া হয় তখনই এধরনের হার্নিয়া হয়ে থাকে। তখন অন্ত্রের অংশবিশেষ নামতে নামতে একেবারে অন্ডকোষে (Testes) এসে প্রবেশ করে(Enter), ফলে অন্ডথলি (Scrotum) ফুলে যায়।
    • ফিমোরাল হার্নিয়া(Femoral Hernia) :- ফিমোরাল হার্নিয়াটা সাধারনত মহিলাদের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে উরুর ভেতরের দিকে স্ফিতি দেখা দেয়।
    • ইনসিসনাল হার্নিয়া(Incisional Hernia) :- উদরের পূর্বে অপারেশন (Previous operation area) করা হয়েছে এমন অঞ্চলে ইনসিসনাল (Incisional) হার্নিয়া হয়ে থাকে। কেননা অপারেশনের ফলে সেই অঞ্চল খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
    • আম্বিলিকাল হার্নিয়া(Umbilical Hernia) :- এক্ষেত্রে দেখা যায়, যিনি আক্রান্ত হয়ে থাকেন তার নাভির চারপাশ(Around Naval) বা একপাশ ফুলে ওঠে।
    লক্ষণসমূহ :-
    • কুচকি বা অণ্ডথলি ফুলে যায়৷
    • নাভির একপাশে বা চারপাশে ফুলে যায়৷
    • উরুর গোড়ার ভেতরের দিকে ফুলে যায়৷
    • আগে অপারেশন করা হয়েছে এমন কাটা জায়গা ফুলে যায়৷
    রোগ নির্ণয় :- হার্নিয়া নির্ণয়ের বেলায় সাধারণ শারীরিক পরীক্ষায় মাধ্যমে ইন্টেস্টইনাল হার্নিয়া (Intestinal hernia) নির্ণয় করা হয়। আপনার চিকিৎসক আপনাকে আপনার উপসর্গগুলো জানতে চাইবেন, তারপর কুঁচকি (Inguinal hernia) এলাকায় ফোলাটা (Swelling) পরীক্ষা করে দেখবেন। যেহেতু কাশি দিলে হার্নিয়া অধিক স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়, তাই কাশি (Coughing) দেয়াটাও আপনার পরীক্ষার একটা অংশ হতে পারে।

    চিকিৎসা :- চিকিত্সা ছাড়া হার্নিয়া ভাল হয় না, যদিও কয়েক মাস বা এক বছরে হার্নিয়া খুব একটা খারাপ অবস্থায় উপনীত হয় না। অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত এক ধরনের হার্নিয়া আছে, যা থেকে তুলনামূলকভাবে সহজে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং তা স্বাস্থ্যের জন্যও আশঙ্কাজনক নয়, একে রিডিউসিবল হার্নিয়া বলা হয়। আর এক ধরনের হার্নিয়া রয়েছে যা হতে পরিত্রাণ পাওয়া অনেকটাই কষ্টসাধ্য। একে ননরিডিউসিবল হার্নিয়া বলে। এই ধরনের হার্নিয়া জীবনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন উন্মুক্ত অংশে অন্ত্রের কোনো অংশ আটকে যায় বা রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। এই ধরনের হার্নিয়াকে ইনকারসিরেটেড হার্নিয়াও বলা হয়ে থাকে।
    যদি আপনার হার্নিয়া ছোট থাকে এবং আপনার কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে তাহলে আপনার চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করার কথা ও অপেক্ষা করার কথা বলতে পারেন। কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবং ব্যথা হয় তাহলে অস্বস্তি দূর করতেও মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধ করতে  সাধারণ অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারগণ অপারেশনের করতে বলেন। হার্নিয়ার দু'ধরনের সাধারণ অপারেশন করা হয়।
    • হানিয়োব্যাফি :- এ পদ্ধতিতে আপনার সার্জন আপনার কুঁচকিতে একটা ইনসিশন দিয়ে বেরিয়ে আসা অন্ত্রকে ঠেলে পেটের মধ্যে ফেরত পাঠান। তারপর দুর্বল বা ছেঁড়া মাংসপেশি সেলাই করে ঠিক করে দেন। অপারেশনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি চলাফেরা করতে পারবেন। তবে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে আপনার চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
    • হানিয়োপ্লাস্টি :- এ পদ্ধতিতে আপনার সার্জন কুঁচকি এলাকায় এক টুকরো সিনথেটিক মেশ লাগিয়ে দেন। সেলাই, ক্লিপ অথবা স্টাপল করে এটাকে সাধারণ দীর্ঘজীবী রাখা হয়। হার্নিয়ার ওপরে একটা একক লম্বা ইনসিশন দিয়েও হার্নিয়োপ্লাস্টি করা যেতে পারে। বর্তমানে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে, ছোট ছোট কয়েকটি ইনসিশন দিয়ে হার্নিয়েপ্লাস্টি করা হয়।
    জটিলতা :- অপারেশনের মাধ্যমে হার্নিয়া ঠিক না করলে ক্রমে হার্নিয়া বড় হতে থাকে। বড় হার্নিয়া চার পাশের টিস্যুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে। পুরুষের ক্ষেত্রে হার্নিয়া অন্ত্রথলি বিস্তৃত হতে পারে এবং ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টি করে। তবে ইনস্তইনাল হার্নিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো যখন অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গায় আটকে যায়। এ সময় প্রচন্ড ব্যথা হয়। বমি বমি ভাব ও বমি হয় এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়, কিংবা বায়ু চলাচল করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আটকে পড়া অংশে রক্ত চলাচল কমে যায় এ অবস্থাকে বলে স্ট্রাংগুলেশন যার করণে আক্রান্ত অন্ত্রের টিস্যুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। স্ট্রাংগুলেটেউ হার্নিয়া একটি জীবনমরণ সমস্যা, এ ক্ষেত্রে জরুরি অপারেশন করতে বলেন অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারগণ ।

    হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :- হার্নিয়া নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। রোগী যদি প্রথম দিকেই হোমিও ট্রিটমেন্ট নিতে আসে তাহলে যে ধরনের হার্নিয়াই হোক না কেন হোমিও চিকিৎসায় আক্রান্ত অঙ্গটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে পূনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে। কাজেই সময় লাগলেও ধৈর্য্য ধরে হোমিও চিকিৎসা নেয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা অপারেশান করলে সাধারণত কয়েক বছরের মধ্যে রোগটি আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। তবে কিছু কিছু হার্নিয়া জটিল অবস্থায় থাকলেও ট্রিটমেন্ট দিয়ে ভালো করা যায় - যেমন আম্বিলিকাল হার্নিয়া। তাই হার্নিয়া সমস্যায় অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন। 
    বিস্তারিত

    Monday, September 22, 2014

    পুরুষদের কয়েকটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুকি - হৃদরোগ, কিডনির রোগ ও ক্যানসার

    মহিলাদের তুলনায় পুরুষদেরকেই জটিল রোগসমূহে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়। তবে এর মধ্যে এমন কিছু রোগ আছে, যা পুরুষ স্বাস্থ্যে মারাত্মক ভাবে আঘাত আনে। তবে যত বড় রোগই হোক না কেনো। এর সমাধান অবশ্যই রয়েছে। দীর্ঘ, সুস্থ জীবনের জন্য জানা কয়েকটি স্বাস্থ্য ঝুকি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
    পুরুষদের কয়েকটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুকি - হৃদরোগ, কিডনির রোগ ও ক্যানসার

    হৃদরোগ 

    পুরুষদের প্রধান ঝুকি সম্পূর্ণ রোগ গুলোর মধ্যে একটি হলো হৃদরোগ যদিও সব বয়সের নারী পুরুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু এই রোগটির কারনে প্রতি বছর বহু পুরুষ মারা যাছে। তাই হৃদরোগ প্রতীকারের জন্য পুরুষদের সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবে। নিম্নে কয়েকটি প্রতিকারক :-
    • পুরুষদের খাদ্যের প্রতি বেশি অনীহা থাকে। তাই নিয়মিত সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। সব সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
    • হূদরোগের বিশেষ একটি কারণ ধূমপান। তাই প্রথমত ধূমপান পরিহার করতে হবে।
    • অনেক বেশি পরিমাণের পুরুষদের ডায়াবেটিস সমস্যা থেকে থাকে। তাই অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
    • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ব্যায়াম করতে হবে।
    • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে এবং আনন্দপূর্ণ কাজ করতে হবে। 

    কিডনির রোগ

    আমাদের দেশে কিডনি রোগ বলতে গেলে অতি সাধারণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। পুরুষরা কিডনির নানা প্রকার সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিত। ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপের প্রথম জটিলতা হলো কিডনি বিকল হওয়া। ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে হবে। আর যা যা করতে পারেন -
    • স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ হবে।
    • প্রতিদিন ব্যায়ামক রতে হবে। 
    • লবন কম খেতে হবে।
    • ওজন বেশি থাকলেকমাতে হবে।

    ক্যানসার

    এটা হয়ত সকলেরই জানা যে, ক্যানসার পুরুষদের জীবন নাশের প্রধান রোগ গুলোর মধ্যে একটি। পুরুষের মধ্যে ক্যানসারের কারণে যাদের মৃত্যু হয়, শীর্ষে রয়েছে ফুসফুসের ক্যানসার। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির অভিমত: এর কারণ হলো ধূমপান। এরপর রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার ও কোলেস্টেরল ক্যানসার।ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হলে-
    • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে।
    • ফল ও শাকসবজিসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর আহার করতে হবে।
    • মদ্যপান বর্জন করতে হবে।
    • ধূমপান করা যাবে না। তামাকপাতা, জর্দা, গুল চিবানো যাবে না।
    • পাশে কেউ ধূমপান করলে দূরে সরে যেতে হবে।
    • দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চা থাকতেই হবে।
    • কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়।  
    • এড়িয়ে যেতে হবে চর্বিবহুল খাবার।
    • ক্যানসার জনক বস্তু অর্থাৎ কার্সিনোজেন যেমন, রেড়ন, এসবেসটস বিকিরণ ও বায়ুদূষণের মুখোমুখি যাতে না হতে হয়, সে রকম ব্যবস্থা করা।

    আক্রান্ত হলে কি করবেন ?

    উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলির নাম শুনলে আমরা অনেকেই ভয়ে আতকে উঠি। কারণ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জানা মতে, এ গুলির নিশ্চিত ফলপ্রদ কোনো চিকিত্সা নেই। অথচ এই আধুনিক যুগেও আমরা অনেকে জানি না যে, এই সকল রোগের কার্যকর, সফল এবং আরোগ্যকারী ট্রিটমেন্ট হয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই যে কেউ হার্ট, কিডনি, লিভার অথবা যে কোনো প্রকার ক্যানসারে আক্রান্ত হলে অযথা সময় নষ্ট না করে রোগ ধরা পড়ার সাথে সাথেই অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। সঠিক সময় থেকেই যদি আপনি প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নেয়া শুরু করেন তাহলে এ সকল সমস্যা থেকে খুব তাড়াতাড়ি আরোগ্য লাভ করা যায়।
    বিস্তারিত

    গনোরিয়া (Gonorrhea) - পুরুষ এবং মহিলাদের কষ্টদায়ক যৌন ব্যাধি

    গনোরিয়া একটি সাধারণ এবং পরিচিত যৌন সংক্রামক রোগ। আমাদের গ্রাম গঞ্জে এটি আবার প্রমেহ নামেও পরিচিত। প্রকৃত পক্ষে এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। তবে চুম্বন, হাত ধরা  ইত্যাদি থেকে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে।

    এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলারা যারা গনোরিয়া আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে।
    আমাদের সমাজে দেখা যায়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই  এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং তাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। গনোরিয়ার জীবাণু "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সাথে যৌন সংসর্গের দ্বারা।

    পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
    • যৌন মিলনের ২ থেকে ১০ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
    • রুষদের মূত্রনালীর সম্মুখভাগে সাধারণত সংক্রমণ ঘটে।
    • বারবার প্রস্রাবের ইচ্ছা করে। মূত্রনালীতে প্রদাহের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা করে।
    • লিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়।যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।
    • মূত্রনালীপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
    • অণ্ডকোষ ফুলে একটা আপেলের মতো বড় হতে পারে।
    • এপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়।
    • সমকামীরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালীতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়।
    • মুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলাব্যথা হয়।
    • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
    নারীর ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
    • যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর, সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়।
    • যৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়।
    • প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা থাকতে পারে। প্রস্রাবে যন্ত্রণা হয়।
    • ডিম্ববাহী নালীতে প্রদাহ হয়।
    • বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়।
    • তলপেটে ব্যথা হয়।
    • ডিম্ববাহী নালী, ডিম্বাশ্বয় কিংবা তলপেটের মধ্যে ফোঁড়া হতে পারে।
    • মাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়।
    • পায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালী পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।
    • মুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।
    • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
    গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থা :-
    গনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়াতে আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    রোগ নির্ণয় :-
    এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। সে এরই মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কি-না প্রশ্ন করে ভালো করে উত্তর পেতে হবে। সম্পর্ক থাকলে তা কতদিন আগে এবং কত জনের সঙ্গে। এসব জেনে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্রস্রাবও পরীক্ষা করা যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু নিঃসরিত বস্তু পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

    প্রতিকার কিভাবে করা যেতে পারে :-
    • জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 
    • সঠিক বয়সে উপযুক্ত যৌন শিক্ষা প্রচলন। 
    • বহুনারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ মহিলারই এ রোগে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই যে কোনো সময়ে এদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
    • রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা করানো উচিত। 
    • আক্রান্ত অবস্থায় স্ত্রী মিলনের বা স্বামী সহবাসে বিরত থাকা উচিত, তা না হলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। 
    • সর্বোপরি বিবাহিত যৌন জীবন সবার জন্য বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পথ। 
    কিছু সতর্কতা জরুরি :-
    অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও আবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে অল্প সংক্রমণ থেকে যায় কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে। তবে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ লাভ করতে পারে না।

    কার্যকর চিকিৎসা :-
    পুরুষ বা মহিলারা যে কেউ আক্রান্ত হন না কেন আর গনোরিয়ার উপসর্গ যত জটিল পর্যায়েই থাকুক না কেন এর যথাযথ এবং সর্বাধিক সফল ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই কেউ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে কোনো প্রকার সংকোচ না করে আপনার হোমিওপ্যাথকে বিস্তারিত খুলে বলুন এবং অযথা দেরি না করে যথাযথ চিকিত্সা নিন। প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যা থেকে নিশ্চিত মুক্তি পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
    ******** আধুনিক হোমিওপ্যাথি *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
    ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Thursday, September 18, 2014

    পুরুষদের স্তন ক্যান্সার - লক্ষণ, নির্ণয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসা

    সাধারণত অনেকেই মনে করেন, স্তন ক্যান্সার শুধু মহিলাদেরই হয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা হয়ত অনেকই জানেন না যে এই সমস্যাটি পুরুষদের হয়ে থাকে । পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা কম থাকলেও বর্তমানে এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পুরুষদের স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে বহুক্ষেত্রে এই ক্যান্সার প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। পুরুষদের বুকের দেওয়ালে স্তনবৃন্তের ঠিক নিচে অল্প পরিমাণ অকার্যকরী কিছু স্তন কোষ থাকে। এই কোষগুলির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার দেখা দেয়।
    স্তন ক্যান্সার সাধরণ অবস্থায় মহিলাদের মধ্যে দেখা গেলেও পুরুষদের মধ্যে বিরল নয়। ২০১০ সালে পৃথিবী জুড়ে পুরুষদের মধ্যে মোট ১,৯৭০টি স্তন ক্যান্সারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তার মধ্যে ৩৯০জন এই ক্যান্সারে প্রাণ হারান।

    পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ :-
    • একটি ব্যাথাহীন পিণ্ড তৈরি হয় স্তনকলার মধ্যে।
    • যে চামড়া স্তনকে ঢেকে রাখে তার পরিবর্তন দেখা যায়। চামড়া লাল হয়ে যায়, কুঁচকে যায়, তাতে ভাঁজ বা খাঁজ তৈরি হয়।
    • স্তনবৃন্তের রঙের পরিবর্তন হয়। লালচে হয়ে যায় বা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়।
    • স্তনবৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হয়।
    রোগ নির্ণয় পদ্ধতি :-
    আল্ট্রাসাউন্ড ও ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে স্তনক্যান্সারের নির্ণয় করা হয়। বায়োপসির সঙ্গেই করা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন হরমোনের পরীক্ষা। করা হয় প্রোটিন পরীক্ষাও।

    চিকিৎসা পদ্ধতি :-
    এত কাল যাবৎ লোকজনের ধারনা ছিল যে, শল্যচিকিৎসাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের মূল চিকিৎসা। এর মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে যে পিণ্ড (টিউমার) তৈরি হয় তাকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়াও রেডিয়েশন থেরাপি চলে। এর মাধ্যমে এক্স রে জাতীয় উচ্চ শক্তির রশ্মি দিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলি মেরে ফেলা হয়। চলে কেমোথেরাপি, যার দ্বারা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলি মেরে ফেলা হয়। এছাড়াও পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য ব্যাপকভাবে চলে হরমোন থেরাপি।

    কিন্তু আপনি জানেন কি ? কোনো প্রকার অপারেসন ছাড়াই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মাধ্যমে শুধু মাত্র ঔষধ প্রয়োগ করেই এর নিরাময় সম্ভব। এখানে নেই কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং জটিলতা। আর হোমিও চিকিত্সা অপারেসনের মত ব্যয়বহুলও নয়। তাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নির্মূলে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    Saturday, August 30, 2014

    অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হলে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিন

    স্বপ্নদোষকে অনেকে আবার "ভেজাস্বপ্ন" ও বলে থাকেন। স্বপ্নদোষ হলো একজন পুরুষ মানুষের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাতের এক প্রকার অভিজ্ঞতা। গবেষনায় দেখা গেছে কিশোর বয়সে শারীরবৃত্তীয় হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারনে স্বপ্নদোষের সমস্যাটি বেশি পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। কিন্তু তের থেকে উনিশ বছর বয়সী ছেলেদের এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রাথমিক বছরগুলোতে স্বপ্নদোষ খুব সাধারণ একটা ব্যাপার।  
    স্বপ্নদোষের হওয়ার সাথে যৌন উত্তেজক কোনো স্বপ্নের সম্পর্ক থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। আবার অনেক সময় পুরুষদের লিঙ্গ উত্থান ছাড়াই স্বপ্নদোষ ঘটে যেতে পারে। যদিও স্বপ্নদোষ হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু এটি যখন অতিরিক্ত পরিমানে হতে থাকে তখন কিন্তু রোগেরই পূর্বাবাস দেয়। আর সেই সময় স্বপ্নদোষের কারনে পুরুষের নানা প্রকার শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। 

    অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় হস্তমৈথুন এবং স্বপ্নদোষ আনুপাতিক হারে বিপরীতমুখী। অর্থাৎ হস্তমৈথুন করলে কিছু কিছু পুরুষের  স্বপ্নদোষ হ্রাস পায়। কিন্তু এটা করা আরো ক্ষতিকর। একসময় হস্তমৈথুন করার অভ্যাসটাই একজন পুরুষের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলে। অতিরিক্ত হ্স্তমৈথুনের ফলেও কিছু শারীরিক, মানসিক এবং হরমোনজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে যা এই ধরনের স্বপ্নদোষকে পুরুষের স্থায়ী পুরুষত্বহীনতা এবং লিঙ্গত্থানহীনতার মত মারাত্মক জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

    পুরুষের শরীরে বীর্য প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীতে শারীরিক মিলন বা হস্তমৈথুনের সময় চরম তৃপ্তির পর্যায়ে পুরুষের শরীর থেকে নির্গত হয়ে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে পুরুষের টেষ্টষ্টোরেন হরমোন অধিক পরিমান অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীর্য তৈরি করে এবং একই সাথে স্পিংটার পেশী এবং স্নায়ু দুর্বল করে দেয় যার ফলে বীর্য যৌনতন্ত্রে আটকে যায়। পরবর্তীতে আটকে থাকা বীর্য প্রস্রাবের সাথে কিংবা কোন রকম খারাপ স্বপ্ন ছাড়া ঘুমের মাঝে শুধুমাত্র বিছানার ঘর্ষনের ফলে নিজ থেকে বেরিয়ে যায়। বীর্য আটকে থাকার কারনে এবং তা থেকে স্বপ্নদেষের সৃষ্টির কারনে ক্রমশ বেশ কিছু সম্যসার জন্ম দেয়। যেমন  :-
    • শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি
    • লিঙ্গত্থান সমস্যা
    • বীর্যের পরিমান হ্রাস
    • শুক্রানুর পরিমান কমে যাওয়া
    • হাটু, মাজা এবং শরীরের অন্যান্য জোড়ার ব্যাথা
    • অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব অনুভুতি ইত্যাদি। 

    হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা 

    স্বপ্নদোষ যখন সপ্তাহে ১ বারের বেশি এবং মাসে ৫ বারের বেশি হতে থাকে তখন এটাকে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ বলা হয়ে থাকে। তখন এটার পেছনে কোনো না কোন কারণ থাকে অর্থাৎ সেই সময় এটা রোগের পর্যায়ে পড়ে যায়। স্বপ্নদোষ যদিও ভয়াবহ কোনো বিষয় নয় কিন্তু এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় এটা নানা প্রকার শারীরিক, মানসিক সমস্যার জন্ম দিয়ে থাকে। তাই যখনই বুঝবেন স্বপ্নদোষ অতিরিক্ত পরিমানে হচ্ছে কাল বিলম্ব না করে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেরে উঠবেন ইনশাল্লাহ। ঐ অবস্থায় চিকিত্সা না নিয়ে কেউ এর থেকে মুক্তির জন্য হাজার নিয়ম কানুন পালন করলেও কোনটাই সুফল বয়ে আনে না। এটাই বাস্তবের কথা, তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের গাজাখুরি গল্প নয়।

    জেনে রাখা ভালো

    রাতে অতিরিক্ত ভুজন বা গুরুপাক দ্রবাদি ভুজন অথবা তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেকেরই কিছু দিন অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হতে পারে। এটা কোনো রোগের পর্যায়ে পড়ে না। রাতে শোবার ২/৩ ঘন্টা আগে হালকা খাবার গ্রহণ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে সেটা প্রতিরোধ করলেই ঐ সময়কার অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ ঠিক হয়ে যাবে। এর জন্য কোনো প্রকার চিকিত্সার প্রয়োজন নেই। 
    বিস্তারিত

    বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় আদৌ কি ঔষধের প্রয়োজন আছে ?

    আমাদের দেশের কিছু হারবাল প্রতিষ্ঠান তরুণ-যুবকদের দুর্বল মানুসিকতার সুযোগ নিয়ে নানা কৌশলে বিজ্ঞাপনের ছটায় বিভ্রান্ত করে তাদের যৌন রোগী বানিয়ে তুলছে। ক্যাবল নেটওয়ার্কদের বাণিজ্যিক ভিডিও চ্যানেলের মাধ্যমেও ভুঁইফোড় কথিত নামসর্বস্ব হারবাল মেডিক্যালগুলোর অশ্লীল চটকদার বিজ্ঞাপনে যে কোন ভদ্র রুচিশীল দর্শকও এখন অতিষ্ঠ। অথচ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা পর্যন্ত বলছেন যৌন উত্তেজক এই হারবাল ঔষধগুলি একসময় পুরুষদের যৌন ক্ষমতায় অক্ষম করে তুলে। দেখুন এ সম্পর্কে দেশের খ্যাতনামা একজন চিকিত্সক কি বলছেন ? এরকম আরো অনেক মতামত পেয়ে যাবেন অনলাইন সার্চ করে।

    আরেকটি কথা জেনে রাখবেন আমি সব হারবাল ঔষধেরই দোষ দিচ্ছি না। এখানে শুধু যৌন উত্তেজক ক্ষতিকর ঔষধের কথা বলা হচ্ছে যে গুলো তরুণ যুবকরা চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়াই বিজ্ঞাপনের ছটায় বিভ্রান্ত হয়ে বা শখের বসে কিনে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর ক্ষনিকের আনন্দ লাভ করতে গিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে। অথচ এগুলো খাওয়ার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। 
    এখন কথা হলো বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় আদৌ কি কোনো ঔষধের প্রয়োজন আছে ? এক কথায় উত্তর হলো : " না "
    স্বাভাবিক অবস্থায় যৌন দুর্বলতায় কোনো প্রকার ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন নাই। অর্থাৎ লিঙ্গ উত্থান জনিত কোনো শারীরিক সমস্যা অথবা অন্য কোনো যৌন রোগের কারণে যদি আপনার যৌন দুর্বলতার সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিত্সা করাতে হবে। তারপর যৌন সমস্যার বিষয়টি দেখতে হবে। মূল কথা হলো বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় কোনো ঔষধের প্রয়োজন নাই। আপনারা হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে যৌন দুর্বলতার সৃষ্টি হলে এটা সারবে কিভাবে ? একটা বিষয় চিন্তা করুন পুরুষের যৌন ক্ষমতাটা তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এটা সরাসরি নির্ভর করে তার শারীরিক সক্ষমতার উপর। তাই আপনাকে চিন্তা করতে হবে কি করলে আপনি সবসময় শারীরিক ভাবে ফিট থাকবেন। কারণ যৌনতাও আপনার শরীরেরই একটা অংশ। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি যৌনতায় ফিট থাকতে পারেন। তার জন্য ক্ষতিকর হার্বাল ঔষধের প্রয়োজন নেই। 
    বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় আদৌ কি ঔষধের প্রয়োজন আছে ?
    আপনি যদি সখের বসে নিয়মিত এইসব ক্ষতিকর হার্বাল বা কবিরাজি ঔষধ খেতে থাকেন তা হলে একসময় দেখবেন আপনি এতে অব্ভস্থ হয়ে পড়েছেন আর এমনটিই হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং প্রতিবার ঐসব ঔষধ খাওয়া ব্যতীত আপনি আর সহবাস করতে পারছেন না। শুধু তাই নয় আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহও নানা প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে থাকবে। আর সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আমরা দেখে আসছি সেটা হলো ঐ অবস্থায় আর কোনো যৌন শক্তির ঔষধই কাজ করে না। এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কি ঐসব ক্ষতিকর হার্বাল ঔষধ খেয়ে আপনার যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলবেন নাকি নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনের মাধ্যমে আনন্দময় সুখী যৌন জীবন উপভোগ করবেন। তবে ক্ষেত্র বিশেষে হয়ত চিকিত্সকরা ঐ সংক্রান্ত ঔষধ কিছু দিনের জন্য প্রেস্ক্রাইব করতে পারেন। সেটা ভিন্ন কথা। কারণ যে কোনো ঔষধই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া বিপদজনক। এবার আসুন বিবাহিত পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় কি কি করা প্রয়োজন সে দিকে যাই। 

    বিবাহিত জীবনে পুরুষদের যৌন দুর্বলতা একেবারেই একটা সাধারণ ব্যাপার । আপনি যদি এবিষয়ে একটু সচেতন থাকেন তাহলে এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। আপাতত আজকে কিছু খাবার-দাবার সম্পর্কে বলব যে গুলো আপনার খাবার মেনুতে নিয়মিত রাখলে যৌন দুর্বলতার প্রশ্নই উঠবে না। তবে আপনার যদি অন্য আরো কোনো শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে যার জন্য আপনি যৌন সমস্যায় ভুগছেন তাহলে অবশ্যই আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলে চিকিত্সা নিবেন। দেখবেন কিছু দিনের হোমিও চিকিত্সাতেই আপনি সেরে উঠেছেন তার জন্য সব সময় ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিবাহিত জীবনে যৌনতায় সব সময় ফিট থাকতে নিচের খাদ্যগুলি নিয়মিত গ্রহণ করুন। 

    ডিম :- খাদ্য হিসাবে ডিম আপনার যৌন সামর্থ্য বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ডিমে প্রচুর পরিমাণে বি-ফাইভ, বি-সিক্স থাকে। বি-ফাইভ এবং বি-সিক্স হরমোন লেভেলের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ক্লান্তি দূর করে। তাই প্রতিদিন ডিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

    দুধ :- দুধ হলো অসাধারণ একটি যৌন শক্তি বর্ধক খাদ্য। বিশেষ করে ছাগলের দুধ পুরুষদের দ্রুত যৌনশক্তি যোগায়। এতে রয়েছে বেশি পরিমাণ প্রাণিজ-ফ্যাট যা একটি প্রাকৃতিক খাদ্য এবং পুরুষদের যৌনজীবনের উন্নতি ঘটিয়ে থাকে। আপনি যদি শরীরে সেক্স হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ বাড়াতে চান তাহলে নিয়মিত দুধ পান করুন। 

    মধুঃ- এর গুনের কথা মনে হয় আমার চেয়ে আপনারাই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়্সাল্লামের নিকট মধু এই জন্য বেশী প্রিয় ছিল যে, আল্লাহ তা’আলা বলেন, এর মধ্যে মানব জাতির রোগ নিরাময় রয়েছে। সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয় এবং স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, পুরুষের যৌন শক্তির বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয় এবং ক্ষুধা বাড়ায়। অর্থাৎ আপনাকে শারীরিক ভাবে এবং যৌনতায় ফিট রাখতে মধুর রয়েছে জাদুকরী ভুমিকা। মধু এবং দুধ হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস। দুনিয়ার সকল গবেষকরা একত্র হয়ে এমন নির্যাস প্রস্তুত করতে চাইলেও কখনো পারবে না। এটা শুধু মহান আল্লাহ পাকেরই শান যে, তিনি বান্দার জন্য এমন উত্তম ও বিশেষ উপকারী নির্যাস পয়দা করে দিয়েছেন। 

    কলিজা :- পুরুষের যৌন জীবনে খাদ্য হিসেবে কলিজারও অনেক প্রভাব রয়েছে। কারণ, কলিজায় প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। আর এই জিঙ্ক শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি পরিমাণে রাখে। যথেষ্ট পরিমাণ জিঙ্ক শরীরে না থাকলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয় না। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা টেস্টোস্টেরন তৈরি হওয়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া জিঙ্ক এর কারণে আরোমেটেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। এই এনজাইমটি অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরোনকে এস্ট্রোজেনে পরিণত হতে সাহায্য করে। এস্ট্রোজেনও আপনার যৌনতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন। তাই মাঝে মাঝে কলিজা খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

    জয়ফল :- জয়ফল থেকে এক ধরনের কামোদ্দীপক যৌগ নিঃসৃত হয়। সাধারণভাবে এই যৌগটি স্নায়ুর কোষ উদ্দীপিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে পুরুষের যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়। কফির সাথে মিশিয়েও আপনি জয়ফল খেতে পারেন, বলে রাখা প্রয়োজন পুরুষের যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে কফির ভালো ভুমিকা রয়েছে। তাই এক্ষেত্রে দুইটির কাজ একত্রে পাওয়া সম্ভব।

    রসুন :- রসুন নিস্তেজ লোকদের মধ্যে যৌন ক্ষমতা সৃষ্টি করে, বীর্য বৃদ্ধি করে, গরম স্বভাব লোকদের বীর্য গাঢ় করে, পাকস্থলী ও গ্রন্থির ব্যাথার উপকার সাধন এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। এই রসুনকে আবে হায়াত বলেও আখ্যা দেয়া হয়। অন্যান্য উপকারের সাথে সাথে রসুন পুরুষদের যৌন ক্ষমতা বাড়াতে অসাধারণ ভুমিকা পালন করে। তাই দৈনিক অন্তত ২/৩ কোয়া রসুন অন্তর্ভক্ত করুন। 

    চীনা বাদাম :- চীনা বাদামে প্রচুর জিঙ্ক থাকে। এই জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ায় এবং শক্তিশালী শুক্রাণু তৈরি করে। জিঙ্ক কম থাকলে শরীরে শতকরা ৩০% কম বীর্য তৈরি হয়। যারা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে কম জিঙ্ক গ্রহণ করে তাদের বীর্য এবং টেস্টোস্টেরনের ঘনত্ব দুটিই কমে যায়। তাই মাঝে মাঝে চীনা বাদাম খেতে চেষ্টা করুন। 

    কলা :- কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ব্রুমাইল্ড এনজাইম। এইসব উপাদান পুরুষদের যৌন আসক্তি বাড়াতে দারুন কার্যকরী। তাই কলাকেও বাদ রাখবেন না। 

    উপরে যতগুলো খাদ্যের কথা বলা হয়েছে তাদের সবগুলিই হলো প্রাকৃতিক অর্থাৎ এই গুলো গ্রহণে কোন প্রকার ক্ষতির অবকাশ নেই। আপনি যদি সবগুলো গ্রহণ করতে না পারেন অন্তত দুধ, ডিম এবং মধু গ্রহণ করুন নিয়মিত। তাতেও আপনি যৌন দুর্বলতায় ভুগবেন না। কিন্তু ভুল করেও শখের বসে রাস্তাঘাট থেকে যৌন উত্তেজক কোনো প্রকার হার্বাল ঔষধ কিনে খাবেন না। প্রয়োজনবোধে যেকোনো যৌন সমস্যায় আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে পরামর্শ করুন। 
    বিস্তারিত

    প্রেমিকার সাথে ভালো কথা বললেও লিঙ্গ দিযে সাদা আঠালো পানি আসে !

    প্রশ্ন :- স্যার, আমার কিছু রোগ হযেছে আমি আপনারকে অনুরোধ করছি কি করলে ভালো হবে। আমার একটু Sex অনুভব হলে এবং প্রেমিকার সাথে ভালো কথা বললে ও আমার লিঙ্গ দিযে সাদা আঠালো পানি আসে এবং এর জন্য আমার উওজনা ও sex কম এবং লিঙ্গ ছোট হযেছে। বযস ২২ বছর। 
    প্রশ্নটি করেছেন আমাদের ফেইসবুক ফ্যান পেইজে। প্রশ্ন কর্তাকে অনেক ধন্যবাদ এই জন্যে যে, তার এই প্রশ্নের করনে অনেক তরুণ যুবক উপকৃত হবেন। কারণ এই ধরনের চিন্তা ভাবনা আমাদের দেশের লাখ লাখ তরুনদের মনে প্রতিনিয়ত ঘোরপাক খাচ্ছে। কারণ উপযুক্ত যৌন শিক্ষাটা আমাদের দেশের তরুণরা একেবারেই পায় না বললেই চলে। 

    অনলাইনে যে কয়টা দেখবেন তারা আবার যৌন শিক্ষার নামে অশ্লীল গল্পের (চটি) সাইট খুলে যুবকদের চরিত্র নষ্ঠ করে চলছে দিন দিন। ঐসব ইতর শ্রেনীর লোকদের জন্যই আজ আমাদের দেশের যুবকরা নানা যৌন অনাচারে লিপ্ত হয়ে নিজের অজান্তেই তাদের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলছে। তাই ঐসব অশ্লীল গল্পের (চটি) ব্লগগুলির অ্যাডমিনরা জেনে রাখুন উপরে আল্লাহ আছেন। লাখ লাখ তরুণদের বিপদগামী করার জন্য আর আপনাদের এইসব নোংরা কাজের কারণে শত শত সংসার ধ্বংস করার জন্য অন্তত কোনো সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশা করবেন না। তাই ঐসব অশ্লীল গল্পের (চটি) সাইটগুলি নিজ উদ্যোগে বন্ধ করে আল্লাহর কাছে আজই তাওবা করুন। এবার আসুন প্রশ্নটার দিকে যাই :-
    উত্তর :- 
    লিঙ্গ দিযে সাদা আঠালো পানি আসা :-
    যৌন চিন্তার ফলে লিঙ্গ দিযে সাদা আঠালো পানি (যাকে কমরস ও বলা হয়ে থাকে) আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপনারা এটা জানেন যে, পুরুষদের প্রস্রাবের পথ আর প্রজননতন্ত্র একই। প্রস্রাব অম্লীয় প্রকৃতির। যার কারণে বীর্য বের হওয়ার সময় যাতে অম্লীয় পরিবেশের কারণে শুক্রানু নষ্ট হতে যেতে না পারে তার জন্য এই পদার্থটি আল্লাহ পাক বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যাতে অম্লীয় ভাবটা দূর হয়ে যায়। তবে যদি বেশি বেশি হয়ে থাকে তাহলে হয়ত কিছুটা সমস্যা থাকতে পারে। তখন আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করা উচিত কারণ এ ব্যাপারে হয়ত আরো কিছু জানার দরকার হতে পারে। 

    এবার আসুন আপনার পেনিসের প্রসঙ্গে :-
    আপনার লিঙ্গ ছোট হয়ে যায় নি, এটা আপনার মনের ভুল। লিঙ্গ প্রাকৃতিক ভাবে ছোট বা বড় হয়ে যেতে পারে না। নিয়মিত দুধ, ডিম, মধু খেয়ে যান আপনার উত্তেজনা ঠিক হয়ে যাবে। তখন দেখবেন আপনার লিঙ্গ আপনার কাছে ঠিকই মনে হচ্ছে। আর হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকলে আজই পরিত্যাগ করার উদ্যোগ নিন। আশা করি এ বিষয়ে আর কোনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না। ধন্যবাদ
    বিস্তারিত

    Friday, August 29, 2014

    হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক - সতর্ক হন !!

    লাখ লাখ যুবকের উপর চালিত পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে যে, হস্তমৈথুন এমন এক সমস্যা যাতে একবার কেউ আসক্ত হয়ে পড়লে প্রপার ট্রিটমেন্ট ছাড়া এ থেকে রেহাই পাওয়ার অন্য কোনো কার্যকর উপায় থাকে না বললেই চলে। আপনি অনলাইন সার্চ করলে হস্তমৈথুন অভ্যাস পরিত্যাগের বিষয়ে ভুরি ভুরি উপদেশ বাণী পেয়ে যাবেন। যার সবগুলিই অকার্যকর। তারপরও তাদের উপদেশ বাণীর যেন কোনো শেষ নেই।

    কিন্তু তাদের অনেকেই বাস্তবতাটা বুঝতে পেরে কোথাও এর জন্য চিকিত্সা নেয়ার কথাটা বলে না।
    কেন জানেন ??
    ভালো করে শুনে নিন ** তাদের কাছে এ সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো চিকিত্সা নেই **
    তাই উপদেশ বাণী শোনানো ছাড়া তাদের আর কি-ই বা করার আছে। কিন্তু ঐসব চিকিত্সকদের নিকট চিকিত্সা নিতে গেলে ঐ অবস্থায় যখন একে একে সব গুলো উপদেশ বাণী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তখন তাদের সর্বশেষ চিকিত্সা হলো - * বিয়ে করে ফেলেন *। বুঝেন অবস্থা !!!! আর এই সময়টাতে চিকিত্সার নাম করে আপনার কাছ থেকে যা নেয়ার সেটা কিন্তু তারা ঠিকই নিয়ে নিল। অথচ তারা নিজেরাই জানত তাদের কাছে এর কোনো কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। শুধু তাই নয়, চিকিত্সার ব্যর্থতা ঢাকতে  অবশেষে তারা এও বলেন যে - *হস্তমৈথুন কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয় !!!!!!*
    হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক - সতর্ক হন
    একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো :-
    অনেকেই শীতপ্রধান দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ ফলাফল আমাদের উপমহাদেশের অর্থাৎ গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেলায় চালাতে চান। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের বাস্তবতা উপলগ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশের ছেলেদের ১০-১২ বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্কতা চলে আসার কারণে তারা অনেকেই তখন থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে এবং বিয়ের সময় অর্থাৎ বয়স ২০-৩০ বছর হওয়ার পর দেখা যায় তারা নানা প্রকার যৌন সমস্যা সৃষ্টি করে ফেলেছেন। কিন্তু শীতপ্রধান দেশগুলির বিষয়টা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। ঐসব দেশে ছেলেদের যৌন পরিপক্কতা আসে অনেক দেরিতে, অনেকের ১৬-১৮ বছর হয়ে যায়। তাছাড়া তারা যে কারো সাথে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে থাকার কারণে  হস্তমৈথুন ততটা করে না। তাই তারা এর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হয় না বললেই চলে। তাই আপনাদের অবশ্যই এ বিষয়টা বুঝতে হবে এবং তাদের ক্ষেত্রে যে থিওরি তাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন তা আমাদের দেশের ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ তারা যদি আমাদের দেশের ছেলেদের মত হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে এটা করতে থাকত তাহলে তারাও এর কুফল গুলির সম্মুখীন হত। 

    যারা হস্তমৈথুন করাকে ক্ষতিকর না বলে ভালো বলে থাকেন তাদের কাছে প্রশ্ন ????
    সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম, যাকে বলা হয়ে থাকে *A complete code of life.* এ বিষয়ে হয়ত আপনারা সবাই আমার সাথে একমত হবেন আশা করি যদি আপনি মুসলিম হন। হস্তমৈথুন করাটা যদি মানুষের জন্য উপকারীই হত তাহলে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের অনেক মুফতীগণ রাসূলের হাদিসের আলোকে এটাকে কেন পাপ বলে অবহিত করলো। আশা করি বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর বলার প্রয়োজন নেই। জেনে রাখুন হস্তমৈথুন অভ্যাসটা এমন কিছু মারাত্মক সমস্যার জন্ম দেয়, যা এক সময় একজন পুরুষের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলে। এটা যুবকদের শারীরিক এবং মানুষিক উভয় সমস্যারই সৃষ্টি করে থাকে। আমাদের কাছে চিকিত্সা নিতে আসা হাজর হাজার যুবকরা নিজ মুখেই স্বীকার করেছে তাদের জীবনের অতীত কালের এ সকল অনাচারের কথা। 

    ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিক সমুহ :-
    অনেক আলেমরা এটিকে ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে হারাম ঘোষণা করেছেন । শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুনকরে তারা সীমালংগনকারী। তবে এখানে আমি শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব, যেহেতু আমি একজন ডাক্তার। পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে্সব সমস্যায় ভুগতে পারে সেগুলি হলো :-
    • পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে যায়। অর্থাৎ যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায় ।
    • আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয় । বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না ।
    • অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় । তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম । যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয় । (যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত । স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয়না। )
    • অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr.Liu বলেন - "There is a huge change in body chemistry when one masturbates excessively"
    হস্তমৈথুনের ফলে শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয় :-
    • Nervous system, heart, digestive system, urinary system এবং আরো অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ - বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
    • মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
    • স্মরণ শক্তি কমে যায়  এবং চোখেরও ক্ষতি হয় ।
    • আরেকটি সমস্যা হল সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া যাকে বলা হয়  Leakage of semen । ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামায পড়তে কষ্ট হয়।
    মহান আল্লাহ্ তা’ আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন। রসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন-
    "যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব । "
    -(বুখারী ও মুসলিম)
    তাই কাউকে হস্তমৈথুন করার উপদেশ দিয়ে আপনি নিজে গুনাহ বা পাপের অংশীদার হবেন না। পারলে কেউ এতে আসক্ত হলে যথাযথ হোমিও চিকিত্সার মাধ্যমে তাকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র কার্যকর চিকিত্সা বিজ্ঞান যা কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই যুবকদের হস্তমৈথুন অভ্যাস দূরীকরণে সফলতা দেখিয়ে আসছে।
    বিস্তারিত

    Tuesday, August 26, 2014

    মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করবেন কিভাবে ?

    নারী এবং পুরুষ উভয়ই কখনো কখনো মুখের অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। যদিও নারীদের ক্ষেত্রেই বিষয়টি বেশি দেখা যায়। কপালে বা গালে, ঠোঁটের উপরে বাড়তি লোম সৌন্দর্যটাই যেন নষ্ট করে দেয়। সব সাজগোজ, ত্বকের যত্ন সবই বৃথা হয়ে যায় যদি মুখের ত্বকে অবাঞ্ছিত লোম থাকে। আজকাল অনেক ধরনের ট্রিটমেন্ট আছে ত্বক থেকে এই লোম দূর করার জন্য। কিন্তু বেশিরভাগই বেশ কষ্টদায়ক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। অনেকেই এসব সাত-পাঁচ ভেবে মুখের এই অবাঞ্ছিত লোম নিয়েই থাকেন এবং মনকষ্টে ভোগেন।
    মুখের এই অবাঞ্ছিত লোম দূর করার ঘরোয়া বেশ কিছু সহজ উপায় আছে। পুরোটাই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে করা হয় বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। কষ্টদায়ক হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। মুখের লোম উঠা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের জন্যও ভালো এই উপায় গুলো। তাহলে জেনে নিন অবাঞ্ছিত লোম দূর করার সহজ ঘরোয়া কিছু উপায়।

    চিনি ও লেবুর রসের স্ক্রাব :-
    লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। মুখের লোম দূর করা ও লোমের ঘনত্ব কমাতে লেবুর রসের জুড়ি নেই। চিনি দিয়ে স্ক্রাব করলে ত্বকের রোমকূপ থেকে লোম দূর হতে সহায়তা করে। এই স্ক্রাবটি তৈরি করতে লাগবে ৩ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ পানি। প্রথমে সব উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রন তৈরি করুন। ভালো করে মিশিয়ে নেবেন। এরপর এই মিশ্রণ মুখের ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর মুখ ধোয়ার সময় ভালোভাবে ঘষে তুলুন। এতে লোম দূর হবে। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এভাবে করুন। দ্রুত মুখের লোম থেকে মুক্তি পাবেন।

    ময়দা ও দই এর প্যাক :-
    ময়দা ও দই-এর এই প্যাকটি ত্বকের লোমের রঙের পরিবর্তন করে এবং ওঠার পরিমাণ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। এই প্যাকটি তৈরি করতে লাগবে ২ টেবিল চামচ ময়দা, ১ টেবিল চামচ দই, ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চিমটি হলুদ গুঁড়ো। একটি বাটিতে এই সব উপাদান নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা না হয়। থকথকে ঘন হলে ভালো কাজে দেবে। এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগান। বিশেষ করে নাকের নিচে ও থুতনিতে এবং কপালে। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ভালো মতো ঘষে মুখ থেকে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে ৩/৪ দিন এই প্যাকটি লাগানোর চেষ্টা করবেন। কিছুদিনের মধ্যেই অবাঞ্ছিত লোম দূর হবে।

    কফি স্ক্রাব :-
    কফির স্ক্রাব সব চাইতে বেশী কার্যকরী একটি উপায় মুখের লোমের হাত থেকে রক্ষা পেতে। ক্যাফেইন ত্বকের গভীরে ঢুকে লোম দূর হতে সাহায্য করে। এই স্ক্রাবটি তৈরি করতে আপনার লাগবে ২ টেবিল চামচ কফি, ১ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস। একটি বাটিতে প্রথমে কফি ও চিনি মিশিয়ে নিন। এতে মধু ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। কফি ও চিনি পুরো পুরি গলবে না। এরপর এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে খানিকক্ষণ ম্যাসাজ করুন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহারে অনেক ভালো ফলাফল পাবেন। 

    সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :-
    মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার সফল চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তাই যারা উপরে বর্ণিত দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতিগুলি পালন করতে কষ্ট বোধ করেন তাদের জন্য ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। আমরা বেশ কয়েক জন মহিলা পেসেন্টকে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট দিয়ে ফেসিয়াল হেয়ার প্রবলেম থেকে মুক্ত করেছি। অর্থাৎ এর সফল এবং যথাযথ চিকিত্সা নিতে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা। খুব তাড়াতাড়ি মুখের অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে এ বিষয়ে দৃঢ আশা রাখি। তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ(পরিমার্জিত)
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত

    জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি কতটা কার্যকর !

    বিভিন্ন প্রাকৃতিক পন্থায় জন্মনিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করে আসছে মানুষ বহু কাল ধরে যদিও এমন এক সময় ছিল যখন জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য কোন কৃত্রিম পদ্ধতি ছিলনা। কিন্তু আধুনিক কালে জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য রয়েছে অনেক উপকরণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনলেও কোনো কোনোটা কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিও করে থাকে। তাই জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই ভাবেন। এরকমই একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি হলো  'নিরাপদ সময় বা Safe Period.' আজকে আমরা সে বিষয় সম্পর্কেই জানব।
    মেয়েদের মাসিক ঋতুচক্র (Menstrual cycle) এমন যে এতে এমন কিছু দিন আছে যা নিরাপদ দিবস (Safe period) হিসেবে ধরা হয়।

    এই দিবস গুলোতে স্বামী-স্ত্রীর অবাধ মিলনের (Sexual act) ফলে স্ত্রীর সন্তান সম্ভবা হবার সম্ভাবনা থাকেনা। যেহেতু এই পদ্ধতিটি প্রকৃতিগত ভাবেই নির্দিষ্ট করা তাই একে প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বলা হয়। অনেক সময় একে ক্যালেন্ডার পদ্ধতিও বলা হয়।

    এ পদ্ধতি কার্যকর করতে অবশ্যই জেনে নিতে হবে স্ত্রীর ঋতুচক্রের নিরাপদ দিন কোন গুলো। এজন্য সবার আগে জানা চাই তার মাসিক নিয়মিত হয় কিনা, হলে তা কতদিন পরপর হয়। এবার সবচেয়ে কম যতদিন পরপর মাসিক হয় তা থেকে ১৮ দিন বাদ দিন, মাসিক শুরুর ১ম দিন থেকে ঐ দিনটিই হলো প্রথম অনিরাপদ দিন। আবার আপনার স্ত্রীর সবচেয়ে বেশী যতদিন পরপর মাসিক হয় তা থেকে ১০ দিন বাদ দিন, মাসিক শুরুর ১ম দিন থেকে ঐ দিনটিই হলো শেষ অনিরাপদ দিন।

    ধরুন স্ত্রীর মাসিক ২৮ থেকে ৩০ দিন পরপর হয়। তাহলে ২৮-১৮=১০, অর্থাৎ মাসিকের শুরুর পর থেকে প্রথম ৯ দিন আপনার জন্য নিরাপদ দিবস, এই দিন গুলোতে অন্য কোনো পদ্ধতি ছাড়াই সঙ্গম করা যাবে। ১০ম দিন থেকে অনিরাপদ দিবস, তাই ১০ম দিন থেকে সঙ্গমে সংযম আনতে হবে। আবার যেহেতু ৩০ দিন হলো দীর্ঘতম মাসিক চক্র তাই ৩০-১০=২০, অর্থাৎ ২০তম দিন আপনার জন্য শেষ অনিরাপদ দিবস। ২১ তম দিবস থেকে আপনি আবার অবাধ সঙ্গম করতে পারবেন। এর অর্থ এই উদাহরনে শুধু ১০ম থেকে ২০ম দিবস পর্যন্ত আপনি অবাধ সঙ্গম করলে আপনার স্ত্রীর গর্ভধারন করার সম্ভাবনা আছে। তবে এই দিবস গুলোতে কনডম (Condom) ব্যবহার করে আপনারা অতি সহজেই ঝুকিমুক্ত থাকতে পারেন।

    জেনে রাখা ভালো অনিয়মিতভাবে মাসিক হবার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর নয়। তবে কারো যদি হিসাব রাখতে সমস্যা হয় তবে সহজ করার জন্য বলা যায় মাসিক শুরুর পর ১ম ৭ দিন এবং মাসিক শুরুর আগের ৭ দিন অবাধ সঙ্গম করা নিরাপদ।

    কৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রন ৮০% নিরাপদ, বা এর সাফল্যের হার শতকরা ৮০ ভাগ। সাধারনত হিসেবে গন্ডগোল করে ফেলা, অনিরাপদ দিবসেও সূযোগ নেয়া বা ঝুকি নেয়া, অনিয়মিত মাসিক হওয়া এসব কারনে এই পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে। তাই সঠিক হিসেব জেনে নেবার জন্য ১ম বার চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিছু পুরুষের শুক্রানুর আয়ু বেশী হওয়ার কারনে তারা এটায় সফল নাও হতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে অনিরাপদ দিবস ২ দিন বাড়িয়ে নেবার প্রয়োজন হতে পারে। অনেকে এটা Programmed sex বলে একে ঝামেলাপুর্ণ মনে করেন, কিন্ত একবার এতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটা বেশ সহজ, আরামদায়ক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
    বিস্তারিত

    Tuesday, August 19, 2014

    যৌনতা নিয়ে পুরুষরা সতর্ক হন - ক্ষতিকর হারবাল ঔষধে পুরুষের ক্ষমতা হ্রাস পায়

    উত্তেজক হারবাল ঔষধের বাস্তব ক্ষতিকর দিক গুলি নিয়ে আলোকপাত করেছেন প্রখ্যাত চিকিত্সক ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম। প্রায় বছর দুয়েক ধরে স্বাস্থ্য পাতায় পুরুষের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে আসছি। লেখাটির উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ, যুবক এবং বিবাহিত পুরুষের মধ্যে শারীরিক সমস্যা নিয়ে নানা ভুল ধারণা নিরসন করা। আমার এই লেখাটি বিভ্রান্ত যুবসমাজের কতটা উপকারে এসেছে তা বলার জন্য আজকের এই লেখাটি নয়। গতমাসে প্যারিস গিয়েছিলাম ইউরোপিয়ান একাডেমী অব ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে। আমার সঙ্গে ছিলেন বারডেম হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রেজা বিন জায়েদ।
    সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ১৫ হাজার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ যোগ দেন বিশ্বের এই অন্যতম বৃহত্তম ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে। চর্মরোগ, লেজার ও ত্বকের কসমেটিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশ্ব কতখানি অগ্রসর হয়েছে তা ইউরোপিয়ান কংগ্রেসে যোগদান না করলে বুঝা কঠিন। বিশ্বের অপর বৃহত্তম ডার্মাটোলজী কংগ্রেস হচ্ছে আমেরিকান একাডেমী অভ ডার্মাটোলজি কংগ্রেস। এ দুটো কংগ্রেস নিয়ে আমার লেখার কোন ইচ্ছা নেই। শুধু ইউরোপিয়ান একাডেমী অব ডার্মাটোলজির একটি বিষয় নিয়ে লিখতে চাই। আর এ বিষয়টি আমার লেখা পুরুষ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। 

    প্যারিসে অনুষ্ঠিত ডার্মাটোলজি কংগ্রেস এর একটি পেইড টপিকস ছিলো এন্ড্রোলজি বা পুরুষের যৌন সমস্যা বা শারীরিক সমস্যা বিষয়ক। আমার এবং ডাঃ রেজা বিন জায়েদের খুব ইচ্ছা ছিলো এন্ড্রোলজির লেকচার শুনবো। প্যারিস ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে এমনিতে ফিস দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছে। কিন্তু এন্ড্রোলজি লেকচারে যোগদান করতে হলে অতিরিক্ত ৩৫ ইউরো বা সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। এতেও আমাদের আপত্তি ছিলো না। কিন্তু এন্ড্রোলজি লেকচারে অংশ নিতে বিশেষজ্ঞদের এতই উৎসাহ ছিলো যে, কুপন ফুললি সোল্ড হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করে বিনা কুপনে হলে ঢুকে পড়ি। 

    আমার খুব ইচ্ছা ছিল এন্ড্রোলজি সম্পর্কে জানবো। কারণ বাংলাদেশে পুরুষের সেক্স সমস্যা নিয়ে আমাকে অনেক ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে হয়। সম্ভবতঃ ডাঃ রেজা বিন জায়েদ আমার পথ অনুসরণ করতে পারেননি। যাহোক পুরো এক ঘণ্টার লেখচারে দেখানো হলো ইউরোপেও কিভাবে পুরুষের শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো সেক্স সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ কখনও বললেন না কোন হারবাল মেডিসিনের কথা। শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ পুরুষের নানা কারণে শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়।

    আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের তরুণ ও যুব সমাজকে সচেতন করার জন্য যে ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি মোটামুটি একই রকম তথ্য দেয়া হয় প্যারিস কনফারেন্সে। তবে পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণ নানা বিভ্রান্তির শিকার । আর ইউরোপে তরুণদের শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নেই। তারা জানেন না এ ধরনের সমস্যার কথা। তবে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় শতকরা সর্বোচ্চ ২ থেকে ৫ ভাগ অক্ষমতা থাকতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় কখনও হারবাল চিকিৎসার কোন বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে একশ্রেণীর ওষুধ প্রুস্ততকারী  প্রতিষ্ঠান তরুণ-যুবকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে হারবালের নামে নানা ক্ষতিকর উপাদানে তৈরী যৌন উত্তেজক ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রয় হয়। আর তরুণ-যুবক এবং অনেক ক্ষেত্রে বিবাহিত পুরুষরাও এসব ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করছে। 

    কোনভাবেই উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। প্যারিস কনফারেন্সে এন্ড্রোলজি লেকচারে যেসব কারণে পুরুষের শারীরিক সমস্যা হতে পারে তা তুলে ধরা হয়। যেমন ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, দীর্ঘদিন মানসিক চিকিৎসার ওষুধ সেবন, ননস্টেরাডাল এন্টি ইনক্লামেটরী ড্রাগ সেবন, হরমোনের স্বল্পতা, কিছু কিছু হ্নদরোগ এবং প্রবল মানসিক চাপ অন্যতম। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা, মানসিক চাপমুক্ত থাকা এবং শারীরিক ফিটনেসের কথা বলেন।

    এছাড়া যাদের শতকরা ২ ভাগ ক্ষেত্রে প্রকৃত শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীতার কথা বলা হয়। এন্ড্রোলজির আরও কিছু তথ্য নিয়ে পরবর্তীতে লিখতে চাই। তবে যে কথাটি বলতে চাই তা হচ্ছে তরুণ-যুবক এবং বিবাহিত পুরুষদের কোনভাবেই অপ্রয়োজনীয় উত্তেজক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পাশাপাশি কোন ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
    বিস্তারিত

    Sunday, August 17, 2014

    পুরুষের দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার কারণ, জটিলতা, প্রতিরোধ এবং চিকিত্সা

    কোনো নারী-পুরুষ যখন যৌন সঙ্গম শুরু করার আগেই কিংবা যৌনসঙ্গম শুরুর একটু পরেই যদি পুরুষের বীর্যপাত ঘটে যায় - তাহলে পুরুষটির ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি বুঝায় তার নাম প্রি-ম্যাচিউর ইজেকুলেশন সহজ বাংলায় যাকে বলা হয় দ্রুত বীর্যপাত। দ্রুত বীর্যপাত পুরুষদের একটি সাধারণ যৌনগত সমস্যা। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি তিনজন পুরুষের মধ্যে একজনই দ্রুত বীর্যপাত সমস্যায় ভোগে থাকেন।
    একসময়ে ধারণা করা হতো যে, দ্রুত বীর্যপাতের কারণ হলো সম্পূর্ণ মানসিক, কিন্তু বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে শারীরিক বিষয়গুলোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে দ্রুত বীর্যপাতের সাথে পুরুষত্বহীনতার সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে অনেক চিকিৎসা বেরিয়েছে - যেমন বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও বিভিন্ন যৌন পদ্ধতির শিক্ষা। কিন্তু দেখা গেছে এগুলোরই কোনই অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কোনো ফল দেয় না ।

    দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার উপসর্গ কি কি :-
    পুরুষের বীর্যপাত হতে কতটা সময় নেবে সে ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদর্শ মাপকাঠি নেই। দ্রুত বীর্যপাতের প্রাথমিক লক্ষণ হলো নারী-পুরুষ উভয়ের পুলক লাভের আগেই পুরুষটির বীর্যপাত ঘটে যাওয়া। এ সমস্যা সব ধরনের যৌনতার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। এমনকি হস্তমৈথুনের সময়ও কিংবা শুধু যৌনমিলনের সময়ও।

    দ্রুত বীর্যপাত সমস্যাকে  দু' ভাগে ভাগ করা হয় :-
    • প্রাইমারি প্রি-ম্যাচিউর ইজেকুলেশন :- এটি হলো আপনি যৌন সক্রিয় হওয়া মাত্রই বীর্যপাত ঘটে যাওয়া।
    • সেকেন্ডারি প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন :- এ ক্ষেত্রে আগের বা প্রথম দিকের যৌনজীবন তৃপ্তিদায়কই ছিল, বর্তমানে দ্রুত বীর্যপাত ঘটছে।
    পুরুষের দ্রুত বীর্যপাতের কারণ :-
    কী কারণে দ্রুত বীর্যপাত হচ্ছে তা নিরূপণ করতে বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসময় ধারণা করা হতো, এটা সম্পূর্ণ মানসিক ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে জানা যায়, দ্রুত বীর্যপাত হওয়া একটি জটিল বিষয় এবং যার সাথে মানসিক ও জৈবিক দু’টিরই সম্পর্ক রয়েছে।

    জৈবিক কারণ :-
    বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, কিছুসংখ্যক জৈবিক বা শারীরিক কারণে দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে-
    • হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা
    • মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটারের অস্বাভাবিক মাত্রা
    • বীর্যস্খলনে অস্বাভাবিক ক্রিয়া
    • থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা
    • প্রোস্টেট অথবা মূত্রনালীর প্রদাহ ও সংক্রমণ
    • বংশগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
    মানসিক কারণ :-
    কিছু চিকিৎসক বিশ্বাস করেন, প্রথম বয়সে যৌন অভিজ্ঞতা ঘটলে তা এমন একটি অবস্থায় পৌছে যে, পরবর্তী যৌন জীবনে সেটা পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে। যেমন-
    • লোকজনের দৃষ্টিকে এড়ানোর জন্য তড়িঘড়ি বা তাড়াতাড়ি করে চরম পুলকে পৌঁছানোর তাগিদ।
    • অপরাধ বোধ, যার কারণে যৌনক্রিয়ার সময় হঠাৎ করেই বীর্যপাত ঘটে যায়। অন্য কিছু বিষয়ও আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
    পুরুষাঙ্গের শিথিলতা :- যেসব পুরুষ যৌনমিলনের সময় তাদের লিঙ্গের উত্থান ঠিকমতো হবে কি না কিংবা কতক্ষণ লিঙ্গ উত্থিত অবস্থায় থাকবে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত পুরুষের দ্রুত বীর্যস্খলন ঘটে।
    দুশ্চিন্তা :- অনেক পুরুষের দ্রুত বীর্যপাতের একটি প্রধান কারণ দুশ্চিন্তা। সেটা যৌনকাজ ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে হতে পারে। আবার অন্য কারণেও হতে পারে। দ্রুত বীর্যপাতের আরেকটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত উত্তেজনা।
    নিচের কারণগুলোর জন্যও দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে :-
    • সার্জারি বা আঘাতের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হওয়া।
    • মাদক বা নারকোটিকস কিংবা দুশ্চিন্তার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ট্রাইফ্লুপেরাজিন প্রত্যাহার করা এবং অন্য মানসিক সমস্যা থাকা।
    বেশির ভাগ প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক দু’টি বিষয়ই দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে দায়ী হলো শারীরিক কারণ যদি সেটা জীবনভর সমস্যা হয়ে থাকে ।

    দ্রুত বীর্যপাতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব বিষয় :-
    • স্বাস্থ্যগত সমস্যা :- যদি এমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে যার কারণে যৌনমিলনের সময় উদ্বেগ অনুভব করে যথা- হৃদরোগ থাকে। এতেও দ্রুত বীর্যপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
    • পুরুষাঙ্গের শিথিলতা :- লিঙ্গ ঠিকমতো উত্থিত না হয়, মাঝে মাঝে উত্থিত হয় অথবা উত্থিত হয় কিন্তু বেশিক্ষন এ অবস্থায় না থাকে তাহলে দ্রুত বীর্যপাত ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। যৌনসঙ্গমের সময় লিঙ্গের উত্থান অবস্থা বেশিক্ষণ থাকবে না, এমন ভয়ও দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে।
    • মানসিক চাপ :- আবেগজনিত কারণ কিংবা মানসিক চাপ দ্রুত বীর্যস্খলনের ব্যাপারে ভূমিকা রাখে।
    • ওষুধ :- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও দ্রুত বীর্যস্খলন ঘটাতে পারে।
    পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় :-
    চিকিৎসক বিস্তারিত যৌন ইতিহাস জেনে তার ওপর ভিত্তি করে দ্রুত বীর্যপাত রোগ নির্ণয় করেন। চিকিৎসক স্বাস্থ্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। তিনি সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা করতে পারেন।
    পুরুষ হরমোনের (টেস্টোস্টেরন) মাত্রা দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষাসহ আরো কিছু পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।

    কি কি জটিলতা রয়েছে :-
    যদিও দ্রুত বীর্যপাত আপনার মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ায় না, কিন্তু এটা ব্যক্তিগত জীবনে ধস নামাতে পারে। যেমন-
    • সম্পর্কে টানাপড়েন :- দ্রুত বীর্যপাতের সাধারণ জটিলতা হলো যৌনসঙ্গিনীর সাথে সম্পর্কের অবনতি।
    • বন্ধ্যত্ব সমস্যা :- দ্রুত বীর্যপাত মাঝে মধ্যে বন্ধ্যাত্ব ঘটাতে পারে। যেসব দম্পতি সন্তান নেয়ার চেষ্টা করছেন সেটা অসম্ভব হতে পারে। যদি দ্রুত বীর্যপাতের ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে সঙ্গি ও সঙ্গিনীর দু’জনেরই বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
    প্রতিরোধ :-
    দ্রুত বীর্যপাতের কারণে যৌনসঙ্গিনীর সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ বন্ধন গড়ে উঠতে নাও পারে। চরম পুলকে পৌঁছতে পুরুষের তুলনায় নারীর দীর্ঘ উদ্দীপনার প্রয়োজন হয় আর এই পার্থক্য একটা দম্পতির মধ্যে যৌন অসন্তুষ্টি ঘটাতে পারে। অনেক পুরুষ যৌন মিলনের সময় চাপ অনুভব করেন বলে দ্রুত বীর্যপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    নারী ও পুরুষ একে অপরকে বুঝতে পারলে দু’জনের জন্যই যৌন আনন্দ লাভ করা সহজ হয়। এতে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাও দূর হয়। যদি সঙ্গিনীর কাছ থেকে যৌনসুখ লাভ না করেন তাহলে তার সাথে খোলামেলা আলাপ করুন। আপনাদের মধ্যে সমস্যাটা কোথায় তা খুঁজে বের করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন। এ ক্ষেত্রে সব লজ্জা ও জড়তা ঝেড়ে ফেলে খোলা মনে আলাপ করুন। এ সমস্যা খুবই সাধারণ এবং এর চিকিৎসাও রয়েছে।

    হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :-
    সেক্সুয়াল থেরাপি, সাইকোথেরাপি বা অ্যালোপ্যাথি কোনটাই কার্যকর সমাধান আজও দিতে পারে নি এ ক্ষেত্রে । অথচ প্রতিদিনই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় লাখ লাখ তরুণ-যুবক দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে নব যৌবন লাভ করছে। আবার এটাও সত্য যে, অনেক অনভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার দ্বারা ভুল চিকিত্সায় প্রতারিতও হচ্ছেন অনেকে । তাই যারা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষ হোমিওপ্যাথ তাদের থেকে চিকিত্সা নিন আশা করি দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা থেকে চির মুক্তি পাবেন। ধন্যবাদ।
    বিস্তারিত

    Sunday, July 27, 2014

    পুরুষ বা মহিলা বন্ধ্যাত্বের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

    সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা এটি একটি শারীরিক ত্রুটি। যার সন্তান হয় না তাকে বন্ধ্যা বলে। এই সমস্যাটি কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী উভয়েরই হতে পারে। যদিও আমাদের সমাজে প্রায়সই স্ত্রীকে দোষ দেয়া হয়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব ৪০ ভাগ এবং মহিলা বন্ধ্যাত্ব প্রায় ৩৫. বন্ধ্যাত্বের অঙ্কে ব্যাখ্যাহীন ২৫ শতাংশ। পুরুষের সমস্যা চিরকাল ছিল।
    বন্ধ্যাত্ব কী
    অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বন্ধ্যাত্বের স্বরূপ না বুঝেই বাঁজা তকমা দেয়া হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞাটি হলো কোনো সুস্থ স্বাভাবিক দম্পতির ক্ষেত্রে টানা দুবছর যাবত নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গের পরেও যদি স্ত্রীর গর্ভ সঞ্চার সম্ভব না হয়, তখন তাকে বন্ধ্যাত্ব আখ্যা দেয়া হয়। প্রথমে গর্ভধারণে সক্ষম না হলে তাকে প্রাইমারি ইনফাটিলিটি এবং দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ অক্ষম হলে তাকে সেকেন্ডারি ইনফাটিলিটি বলে। এক্ষেত্রে গর্ভধারণ বলতে মসক্যারেজ বা অন্য কোনো সমস্যা ছাড়াই পুরো সময়ের যে গর্ভধারণ বা ফুলটার্ম প্রেগন্যান্সির কথা বলা হচ্ছে।

    বন্ধ্যাত্বের কারণ :-
    বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। একটি বিশেষ কিংবা অনেক কারণের ফল বন্ধ্যাত্ব। বন্ধ্যাত্বের কারণ হিসেবে বেশি বয়সকেই দায়ী করা হয়। বিশেষত ৩৫ বছরের বেশি বয়স যে মহিলাদের সবচেয়ে বেশি চিহ্নিত করেন চিকিৎসকরা। প্রজননতন্ত্রের কোনো গঠনগত বা শারীর বৃত্তীয় ত্রুটি থেকেও বন্ধ্যাত্বের সূত্রপাত। এছাড়া জিনগত কারণও যেমন বন্ধ্যাত্বের জন্ম দিতে পারে। তেমনই হরমোন ঘটিত নানা অসুখ-বিসুখ (ডায়াবিটিস, থাইরয়েডর গ-গোল, অ্যাড্রেনাল ডিজিজ ইত্যাদি). কিংবা পিটুইটারি গ্রন্থি সমস্যার কারণেও বন্ধ্যাত্বের থাবা বসায় দাম্পত্য জীবনে। পরিবেশের প্রভূত কুপ্রভাব পড়েছে বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে। কিছু উদ্বায়ী জৈব রাসায়নিক সিলিকন, কেমিকেল ড্যাট, কীটনাশক ইত্যাদি বিষাক্ত প্রভাব প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তাৎপর্যপূর্ণভাবে। ধূমপানের প্রভূত নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। একজন অধূমপায়ীর চেয়ে একজন ধূমপায়ীর ঝুঁকিও এ ব্যাপারে ৬০ শতাংশ বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    স্ত্রী বন্ধ্যাত্বের সুনির্দিষ্ট কারণ :-
    নারী দেহের জটিল গঠনতন্ত্রের ফল, নানাবিধ কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।
    • ওভুলেশন বা ডিম্বাণু নিরসরনের সমস্যা। ঋতুচক্রের যে সময়ে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত হয়। সেই সময়ে সংসর্গ হওয়াটা গর্ভ সঞ্চারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের ডিম্বাশয় পূর্ণতা লাভ করে না এবং ডিম্বাণু নিঃসৃত হয় না। স্বাভাবিকভাবেই তারা বন্ধ্যাত্বের শিকার।
    • টিউবের সমস্যা, এন্ডোমেট্রিয়োসিস হলেও বন্ধ্যান্তের ঝুঁকি থাকে ১০০ ভাগ। ফ্যালোপিয়ান টিউবের সংক্রমণ আপাত বা গঠনগত সমস্যা থাকলেও সন্তান ধারণে অসুবিধা হতে পারে।
    • বেশি বয়স ৩৫ বছরের বেশি বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা বেশি।
    • অত্যধিক বেশি বা কম ওজনের মহিলাদেরও গর্ভ সঞ্চারের সমস্যা দেখা যায়।
    • অপরিণত বয়সে যৌন সংসর্গ মুরু হলেও বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা থাকে।
    পুরুষ বন্ধ্যাত্বের সুনির্দিষ্ট কারণ :-
    পুরুষ দেহের গঠনতন্ত্র অপেক্ষাকৃত সরল হওয়ায় বন্ধ্যাত্বের কারণ খুব বেশি নেই। আপাত সংক্রমণ কিংবা জিনগত বা জন্মগত কারণে মূলত বীর্যের নিকৃষ্ট গুণগতমান কিংবা অপর্যাপ্ত শুক্রাণুর সংখ্যাই বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ। পর্যাপ্ত শুক্রাণু থাকলেও তার সচলতা বা মোবিলিটি না থাকার কারণেও অনেক সময় পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।

    স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বন্ধ্যাত্ব :-
    স্বামী-স্ত্রীর দুজনের বন্ধ্যাত্বের কারণে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে সন্তানের জন্ম দেয়া অধরা থাকে। অনেক সময় দুজনেরই যেমন বন্ধ্যাত্ব থাকে। তেমনি আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় এককভাবে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে হয়তো কেউই বন্ধ্যা নয়। অথচ দম্পতি হিসেবে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম। শুনলে আশ্চর্য লাগলেও এমন ঘটনাল নমুনা প্রায় তিন শতাংশ। তবে প্রায় ১৫ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

    হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা :-
    স্বামী বা স্ত্রী যারই সমস্যা হোক না কেন দরকারী ডাক্তারি পরীক্ষা করে তার সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে যেকোন দম্পতিই সন্তানের মুখ দেখবে এ বিষয়ে একজন হোমিওপ্যাথ হিসাবে আমি দৃঢ আশা রাখি। তাই ভাল একজন হোমিওপ্যাথের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিন। ইনশাল্লাহ বিফল হবেন না।
    ********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
    ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
     ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
    বিস্তারিত