Showing posts with label পুরুষের স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label পুরুষের স্বাস্থ্য. Show all posts

Saturday, August 15, 2015

স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা

দুই বৎসর বা তার থেকে বেশি সময় চেষ্টা করার পড়েও গর্ভধারণে ব্যার্থ হলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বন্ধ্যত্ব বলে। ৮% দম্পতি বন্ধ্যত্বের শিকার হন। বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের কারণে হতে পারে। বন্ধ্যত্ব দু ধরনের যথা:

প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব :- বিবাহের পর সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কখনই গর্ভধারণ না হওয়াকে প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব বলে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব :- কোন মহিলা প্রথম বার গর্ভধারণের পর দ্বিতীয় বার আর যদি গর্ভধারণ করতে না পারে তবে তাকে পরবর্তী বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব বলে।
স্বামীর বা স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা
কারণ:- বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজনের কারণে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে অন্যায় ভাবে শুধুমাত্র স্ত্রীদেরকে দোষারোপ করা হয় এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে স্বামীকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়েতে উৎসাহিত করা হয়।

ক) স্বামীর কারণে বন্ধ্যত্ব:- 
  • স্বামীর বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে।
  • মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণু বিহীন বীর্যের কারণে
  • একটি অণ্ডকোষ/লুপ্ত প্রায় অণ্ডকোষ/অণ্ডকোষ জন্মগত ভাবে না থাকলে।
  • অণ্ডকোষের প্রদাহ, মাম্পস বা গলা ফুলা রোগের প্রদাহের কারণে।
  • বিকৃত শুক্রাণু থাকলে।
  • যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম হলে।
  • শুক্রাণু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও পরিবেষ অণ্ড কোষে না থাকলে।
  • যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা, গনোরিয়া প্রভৃতি রোগ থাকলে।
খ) স্ত্রীর কারণে বন্ধ্যত্ব:-
  • যদি জরায়ুর আকার ছোট হয়।
  • ডিম্বাশয় যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে।
  • মাসিকের গণ্ডগোল থাকলে।
  • বস্তি কোটরের প্রদাহ হলে।
  • বংশগত।
  • জরায়ুতে টিউমার হলে।
  • যক্ষ্মা গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ হলে।
উল্লেখিত কারণগুলো ছাড়াও স্ত্রীর ডিম্ব ক্ষরণের সময় যৌনমিলন না হলে গর্ভধারণ হয় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা :- বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়ে প্রথমে স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এবং স্বামীর শারীরিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি কোন অসুবিধা ধরা না পড়ে তখন স্ত্রীকে পরীক্ষা করতে হবে। স্ত্রীর পরীক্ষাগুলো ব্যয়বহুল বিধায় প্রথমে স্বামীকে পরীক্ষা করা উচিত।

পরামর্শ :- যদি কোন দম্পতির একবারেই সন্তান না হয় অথবা সন্তান হওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তান কাঙ্ক্ষিত সময়ে না হয় তবে তাদেরকে নিন্মলিখিত পরামর্শ দেয়া উচিত:

স্বামী ও স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে (সব ঠিক থাকার পরেও শতকরা ২০ ভাগ দম্পতির ১ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে, শতকরা ১০ ভাগ দম্পতির ২ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে)।

স্ত্রীর ডিম্বক্ষরনের সময় অর্থাৎ মাসিক শুরুর ১১ তম দিন থেকে ১৮ তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সম্ভব না হলে ১ দিন পরে পরে স্বামীর সাথে মিলনের পরামর্শ দিতে হবে।

স্বামীর বা স্ত্রীর কোন জটিল রোগ বা যৌন রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর ধূমপান, মদ্যপান, যে কোন নেশা গ্রহণ, একনাগাড়ে দীর্ঘদিন এন্টিহিস্টামিন খাওয়া বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ওজন থাকলে কমাতে হবে।

চিকিৎসা, লক্ষণ :- হোমিওপ্যাথিতে বন্ধাত্ব রোগের চিকিৎসার জন্য লক্ষণ ও তার রেপার্টরি রুব্রিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি লক্ষণের আলাদা আলাদা ঔষধ হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে। যারা চিকিৎসা নিতে চান তারা নিজেদের সব লক্ষণসমূহ নিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। ডাক্তারকে আপনার সব কিছু স্পষ্ট করে জানালে চিকিৎসা পেতে সহজ হবে।
বিস্তারিত

Sunday, November 9, 2014

পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের কামোন্মাদনা (Nymphomania) - কারণ, লক্ষণ, চিকিত্সা

যৌন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সময় আমরা দেখেছি স্ত্রীলোকের কামোন্মাদনার (Nymphomania) সমস্যাটিকেও অনেক যৌন বিশেষজ্ঞ বেশ গুরুত্বের সাথেই তুলে ধরেছেন। তবে এটি পুরুষদের মধ্যেও দেখা যায়। আধুনিক যৌন বিজ্ঞান ইহাকে একটি বিশেষ রোগ বলে চিহ্নিত করেছে। বাস্তবিকও তাই। "আধুনিক হোমিওপ্যাথি ঢাকা" তে বেশ কয়েকজন রোগিনীকে সফল হোমিও চিকিত্সা দিয়ে আমরা আরোগ্যও করছি। 

কিন্তু একটি বিষয় লিক্ষনীয় যে, এই রোগটির প্রতি অনেক ডাক্তারই ততটা মনোযোগ দেন না। দেশের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ এবং "আধুনিক হোমিওপ্যাথি ঢাকা" এর চিকিৎসক ডাক্তার হাসান তার কেইস স্টাডিতে বলেন, স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে সমস্যাটির পেছনে রোগিনীর বেশ কিছু শারীরিক কারণও বিদ্যমান থাকে। তাই সেদিকে যথাযথ দৃষ্টি রেখে রোগিনীর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন - প্রপার ট্রিটমেন্ট করা না হলে এর ফলে কিছু দূরারোগ্য ব্যাধিরও সৃষ্টি হতে পারে।
এবার আসুন বিষয়টির বিস্তারিত বিশ্লেষণে যাই। আমরা অনেক নারী ও পুরুষদেরকেই এই রোগটির কারণে খারাপ বলে অবহিত করে থাকি। অথচ প্রকৃত কারণটি খুঁজে দেখি না। দুর্নিবার কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য মান মর্যাদা, লজ্জা ও ভয় পরিত্যাগ করে থাকে এবং ন্যায় অন্যায়, ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা যখন থাকে না তখন তাকেই কামোন্মাদনা বা Nymphomania বলা হয়ে থাকে। তবে এতে স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হতে পারে।

সর্বদা অশ্লীল বা কামোদ্দীপক চিন্তা বা কল্পনা, অশ্লীল পুস্তকাদি পাঠ, ভোগ বিলাসিতা, আলস্য, জনন ইন্দ্রিয়ের বিকৃতি, নারী জননঅঙ্গে ইনফেকশন প্রভৃতি কারণে এই রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানসিক কারণও এর পেছনে কাজ করে। যার কারণে অনেক যৌন বিজ্ঞানী ইহাকে এক প্রকার মানসিক রোগ বলেও অবহিত করে থাকেন। এ বিষয়ে তারা যে যুক্তি উপস্থাপন করেন তা হল - এর ফলে মনের উপর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং তা  মানসিক চিন্তাকে বিঘ্নিত করে থাকে। এতে অতিশয় কামেচ্ছার সৃষ্টি হয় এবং তা চরিতার্থ করার জন্য ব্যক্তির বুদ্ধি বিবেচনা শক্তি একেবারে লোপ পায়।

শুধু তাই নয় এর ফলে কতগুলি খারাপ লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে যেমন - উলঙ্গ হওয়া, হস্তমৈথুন করা, অশ্লীল ইসারা করা, সর্বদাই মনে মনে কামভাব পোষণ করা ইত্যাদি। এই জাতীয় ব্যাধির যথাযথ চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে কোন প্রকার সংকোচ না করে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের শ্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ, এর যথাযথ চিকিত্সা করা না হলে নানা প্রকার মানসিক এবং শারীরিক রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। অবসাদ, দুর্বলতা এবং অনেক সময় ক্ষয় রোগও হয়ে থাকে।
বিস্তারিত

Saturday, November 8, 2014

লিঙ্গ প্রদাহ (Balanitis) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিৎসা

লিঙ্গ প্রদাহ (Balanitis) :- লিঙ্গমনি এবং লিঙ্গের অগ্রভাগের চর্মের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির প্রদাহকে লিঙ্গ প্রদাহ বা Balanitis বলে। বাংলায় এই প্রদাহকে মনোষ বলা হয়ে থাকে। সাধারনত যাদের লিঙ্গের অগ্রভাগের চর্ম অধিক লম্বা তাদেরই এই পীড়া হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় প্রমেহ রোগের উপসর্গ রূপে ইহা প্রকাশ পায়। এছাড়া সহবাস করলে ঘর্ষণ জনিত চর্মময় বা শ্বেতপ্রদরে আক্রান্ত স্ত্রীলোকের সঙ্গে সহবাস করলে এই প্রদাহ হতে পারে।
লিঙ্গ প্রদাহের (Balanitis) লক্ষণ :- ইহাতে প্রথমে আক্রান্ত স্থান লালবর্ণ ধারণ করে, চুলকানি হয়, গরম বোধ ও বেদনাযুক্ত হয়। তারপর পুজ পড়তে থাকে এবং কখনো কখনো ক্ষত হয়ে যায়। লিঙ্গের সম্মুখ অংশ ও ইহার আবরণ প্রদাহিত হয়। ফুলে উঠে, ঘোর লাল বর্ণ হয়, টন টন করে, কাপড়ের ঘষা লাগলে বেদনা অনুভব হয়। প্রদাহিক স্থানের মধ্য হতে প্রচুর পরিমানে তরল হরিদ্রা বর্ণের বা সবুজাভ দূর্গন্ধযুক্ত চটচটে পুঁজ নির্গত হতে থাকে। কখনো কখনো লিঙ্গমুন্ডের উপর লাল বর্ণের ভাসা চওড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়। ১০/১৫ দিন পর্যন্ত এই ক্ষতের কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা যায় না কিন্তু তারপরে আপনা আপনি আরোগ্য হয়। কিন্তু অনেক সময় আবার ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে থাকে। তখন ইহা উপদংশ পীড়ার সেন্গ্কারের মক্ত রূপ লাভ করে। 

রোগীর মধ্যে যদি কোন সিফিলিস বা গনোরিয়া জাত জীবানু না থাকে তবে ইহা শীগ্রই আরোগ্য লাভ হয় নতুবা সহজে আরোগ্য লাভ করতে চায় না এবং রোগী বেশ যন্ত্রণা ভোগ করে। অনেক সময় শিশুদের এই রোগ দেখা দেয়। যে সকল শিশুর নিতান্ত রুগ্ন এবং যাদের লিঙ্গাগ্রে চর্ম লম্বা তারা অনেক সময় এই পীড়ায় আক্রান্ত হয়। তবে এই সমস্যার যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট রয়েছে। অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিলে খুব অল্প সময়েই লিঙ্গ প্রদাহ দূর হয়ে যায়। 
বিস্তারিত

Tuesday, October 21, 2014

অণ্ডলালমূত্র (Albuminuria) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিত্সা

এই রোগে রোগীর মূত্রের সাথে অণ্ডলাল বা এলবুমেন (Albumen) দেখতে পাওয়া যায়। এই রোগের সঙ্গে প্রায়ই মূত্রগ্রন্থির প্রদাহভাব প্রকাশ পায়। সাধারণত মূত্রগ্রন্থির পুরাতন রোগাবস্থায় মূত্রের সঙ্গে অধিক পরিমানে অণ্ডলাল বা এলবুমেন(Albumen) ক্ষরণ হয়ে থাকে। যেকোন কারণে যদি কিডনি যন্ত্রের অভ্যন্তরে সূক্ষ সূক্ষ মূত্র নালীর কোষগুলো প্রদাহিত হয় তা হলে ইহার রক্ত মধ্যস্থ এলবুমেন বা অন্ডলাল মূত্র নালীর মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে মূত্রে অণ্ডলাল বা এলবুমেন দেখা যায়।

এই রোগ বিশেষ কত গুলো কারণের জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে যেমন - অজীর্ণ, অতি মাত্রায় অণ্ডলালময় খাদ্য গ্রহণ, ঠান্ডা লাগা, জল বৃষ্টিতে ভেজা, মদ্য পান ইত্যাদি। কোন কারণ বশত কিডনি আক্রান্ত হলে এই জাতীয় লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। 
অণ্ডলালমূত্র (Albuminuria) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিত্সা
এবার আসুন এই রোগের লক্ষণগুলির দিকে দৃষ্টি দেই। রোগীর প্রস্রাব ঘন, বর্ণের পরিবর্তন এবং প্রস্রাব পরীক্ষায় অণ্ডলাল বা এলবুমেন (Albumen) দেখতে পাওয়া যায়। শীতকম্প হয়ে পীড়ার আরম্ভ হয়। পিপাসা, মূত্রকোষে টান টান ভাব, বেদনা এবং এই বেদনা সময় সময় কুচকি ও অন্ডকোষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বার বার প্রস্রাব হয় এবং প্রস্রাবের পরিমান কম হয়। প্রস্রাব কালচে বর্ণের অথবা কখনো কখনো রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব দেখা যায়। রোগীর দেহে শোথ লক্ষণ প্রকাশ পায়। হাত পা এবং মুখমন্ডলে স্ফীত ভাব প্রকাশ পায়। এছাড়া অম্ল উদগার, রক্ত সল্পতা, মাথার যন্ত্রনা, হৃদপিন্ডের গোলযোগ প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যায়। 

এই রোগের হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথরা রোগীর সবগুলি লক্ষণ বিবেচনায় এনে অথবা প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা করে কার্যকর ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন। দেখা যায় খুব অল্প দিনের হোমিও চিকিত্সাতেই রোগীর অণ্ডলালমূত্র Albuminuria রোগ নির্মূল হয়ে যায়।

চিকিত্সা নেয়ার সময় রোগীকে কিছু আনুষঙ্গিক পথ্য ও বিষয় খেয়াল রাখলে ভালো হয়। যেমন বিশ্রাম এবং আলোবাতাস যুক্ত ঘরে থাকা রোগীর জন্য হিতকর। ঠান্ডা লাগানো উচিত নয়। হালকা গরম পানি, গরম পানিতে গোসল করা এবং উষ্ণ জলবায়ূ প্রধান স্থানে বসবাস করা হিতকর। 

দুধ এই প্রকারের রোগীদের জন্য একটি উত্কৃষ্ট পথ্য, অতিরিক্ত লবন যুক্ত খাবার হতে সাবধান থাকাই ভালো। ঘোল, পাতলা খিচুরী, প্রচুর পানি পান করা, ফলের রস এবং পরিমিত পরিমান আহার গ্রহণ অধিক ফলদায়ক। শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম করা আদৌ উচিত নয়। রোগের প্রথম অবস্থায় সহজ ও লঘু জাতীয় খাবার এবং কঠিন অবস্থায় দুধ রুটি সুজি দেয়া উচিত।
বিস্তারিত

ভেরিকোসিল - পুরুষের যৌন সমস্যা

ভেরিকোসিল (Varicocele) পুরুষদের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য যৌন রোগ। স্পার্মাটিক কর্ড বা রেত্রজ্জু, এপিডিডায়মিস বা অন্ডকোষের উপরিস্থিত কেচোর মত লম্বা বস্তু - ইহাই উক্ত উত্পাদক নাড়ী এবং টেস্টিকেলের (কোষের) শিরা সমূহ স্ফীত হয় এবং গাট গাট মত হয়ে ফুলে উঠে, আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করলে যেন একটা কেচো কুন্ডলির মত পাকিয়ে আছে মনে হয়। সোজা ভাবে শুয়ে থাকলে ও চাপ দিলে ইহা ক্ষুদ্র হয়ে যায় এবং খাড়া হয়ে দাড়ালে পুনরায় বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ স্থলে এই পীড়া বাম দিকেই অধিক দেখা যায় কারণ বাম দিকের স্পার্মাটিক কর্ড ডান দিক অপেক্ষা অধিক লম্বা এবং অধিক জড়ানো থাকে। এছাড়া বাম দিকে এসগময়েড ফ্লেক্সরে অধিক পরিমান পানি জমে থাকলে তার চাপেও বাম দিক আক্রান্ত হয়।
এই রোগে কোনো কোন ক্ষেত্রে আদৌ যন্ত্রনার উদ্রেক করে না আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়াভহ যন্ত্রনার সৃষ্টি করে থাকে। এক প্রকার টানা হেচড়ার মত বেদনা কোমর থেকে প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এই বেদনা হাটাচলা করলে, দাড়ালে এবং গরম কালে অধিক অনুভূত হয়।

ভেরিকোসিল সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি দেখুন

যে সকল পুরুষ অধিক কামাশক্ত অথবা যারা অত্যধিক হস্তমৈথুন করে তারা যদি হঠাত এই অভ্যাস ছেড়ে দেয় কিন্তু কাম চিন্তা ত্যাগ করতে না পারলে এপিডিডায়মিসের উপর দিকে স্পার্মাটিক কর্ড এর মধ্যে বীর্য ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়ে উঠে। ইহাতে কোষ উপর দিকে আকৃষ্ট হয়, স্ফীত হয় এবং স্পর্শ করলে, দাড়ালে বা হাটাচলা করলে বেদনার উদ্রক হয়। লিঙ্গ অর্ধবক্র হয়, এই অবস্থায় কিছুক্ষণ বা কিছুদিন থাকার পর ধীরে ধীরে ঐ স্ফীত ভাব কমে আসে এবং কখনো আবার বৃদ্ধিও পেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ভেরিকোসিলে পরিনত হয়। ইহার ফলে পুরুষাঙ্গ কখনো শক্ত ও সোজা হয়, কখনো বা বাকা হয়ে থাকে এবং এটা রাত্রেই বেশি হতে দেখা যায়। ইহাতে রোগী অনেক যন্ত্রনাও ভোগ করে থাকে।
ভেরিকোসিল
ভেরিকোসিল (Varicocele) এর অত্যন্ত কার্যকরী এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা রয়েছে। একজন ভালো হোমিওপ্যাথ রোগীর সবগুলি লক্ষণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ঔষধ নির্বাচন পূর্বক যথাযথ ট্রিটমেন্ট দিলেই ভেরিকোসিল অনায়সে নির্মূল হয়ে যাবে। তবে এই সময় উগ্র মসলা যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। হালকা অথচ পুষ্টিকর খাদ্যই গ্রহণ করা শ্রেয়। কোনো প্রকার মদ্য পান বা উগ্র নেশা করা অনুচিত। সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। রাত্রি জাগরণ এবং অসৎ সঙ্গে মেলামেশা করা আদৌ উচিত নয়।
বিস্তারিত

মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা

মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis) কি :- মূত্রনালীর প্রদাহকে ইংরেজিতে ইউরেথ্রাইটিস বলে। মূত্রনালীতে গনোকক্কাস নামক রোগের জীবানু প্রবেশ করে এই জাতীয় রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারাও ঘটতে পারে। আবার কখনো কখনো কোনো প্রকার সংক্রমণ ছাড়াও ঘটতে পারে যেমন - মূত্রনালীতে আঘাত পেলে বা কোনো প্রকার অপারেশন হলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।

গনোরিয়া এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ যা মূত্রনালীর প্রদাহ ঘটাতে পারে। গনোরিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে মূত্রনালীর প্রদাহ হলে তাকে নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস বলে। এটার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্লামাইডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া। এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ। কোনো কোনো পুরুষের একই সময়ে গনোরিয়ার জীবাণু এবং অন্য জীবাণু দ্বারা মূত্রনালীর প্রদাহ হতে পারে। যদি কারো মূত্রনালী পথে রস নিঃসরণ হয়, তাহলে হয়ত যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ রয়েছে মনে করতে হবে যা অন্যের মধ্যেও ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত, এমনকি উপসর্গ চলে গেলেও।
মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং চিকিত্সা
মূত্রনালীর প্রদাহের (Urethritis) লক্ষণ :- এর ফলে মূত্রনালীতে ক্ষত ও বেদনাবোধ হয়। মূত্র ত্যাগের সময় ভয়ানক জ্বালা পোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। প্রস্রাবের সাথে পুজরক্ত নির্গত হয়। এই রোগের প্রথমে মূত্রনালীর মুখে ইরিটেসন হয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয় কিন্তু অল্প অল্প প্রস্রাব হয়। পরে প্রস্রাবের দ্বার বেদনা, জ্বালা এবং প্রস্রাবের সময় ভয়ানক কষ্ট হয়। প্রদাহ ভাব যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই মূত্রনালীর মেমব্রেনগুলো স্ফীত হয়। এর ফলে প্রস্রাব ত্যাগে আরো কস্ট হয়। প্রস্রাব কখনো পানির মত হয় না, ৪/৫ ধারায় প্রস্রাব পড়তে দেখা যায়, প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়ে। প্রস্রাবে তলানি পড়ে শ্লেষ্মার মত পদার্থ ও পুঁজ দেখাতে পাওয়া যায়। অনেক সময় পুরুষ লিঙ্গ শক্ত এবং বেঁকে যায়। এর সাথে অণ্ডকোষ মূত্রস্থলী প্রভৃতির প্রদাহ হয়। বেদনা জ্বালা পোড়া ও পুঁজরক্ত নিঃসরণ।

মহিলাদের বেলায় যে সব উপসর্গ থাকতে পারে :- মহিলাদের ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে তা হলো :অস্বাভাবিক যোনি স্রাব–জ্বর এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটের ব্যথা বেদনাদায়ক মূত্রত্যাগ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা মূত্রত্যাগ এবং তখন প্রস্রাবের প্রচণ্ড চাপ অনুভব । তল পেটে স্বাভাবিকভাবে অথবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব করেন সেই সাথে কার কার কোমরের পাশের দিকে অথবা পিছনে মাঝামাঝি অংশে ব্যাথা বা খিল ধরার মত কিছু মনে হয় । মাঝে মাঝে বমি হতে পারে । নববিবাহিত মেয়েদের মধুচন্দ্রিমা যাপনকালে প্রস্রাবের প্রদাহ হতে পারে ।

সহবাসের পর জীবাণু মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে বেশির ভাগ মহিলাদের – তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জনিত কারনে হলে অবশ্যই মুত্র নালীর মুখ বা ভেজিনাতে চুলকানির লক্ষণ থাকবেই প্রেগন্যান্ট মায়েরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে ( ১২/১৬ সপ্তাহ পর ) বেক্টোরিয়া আক্রমণে মুত্র নালীর যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু মহিলাদের হরমোন জনিত ঔষধ সেবন করার কারনে বেক্টোরিয়া ডেবলাপ্ট হয়ে হতে পারে তবে তা মাত্র ২ ভাগ অথবা মেনোপজ এর সময় একটু বেশি হওয়ার সম্বাভনা আছেই । এলারজি জনিত কারনে হলে অবশ্যই যোনি মুখের আশ পাশ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও উষ্ণ চুল্কানির লক্ষণ থাকবেইযারা অপরিষ্কার ভাবে স্পার্মিসাইড বা কৃত্রিম ডায়াফ্রাম ব্যবহার করেন বা সজোরে যৌনমিলন করলে তাদের বেলায় একটু ঝুঁকি বেশি আছেই।

    ইউরেথ্রাইটিসের প্রতিরোধ ও প্রতিকার :- ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে জাগার পর প্রস্রাব করতে হবে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। পানির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উচিত যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব তৈরি হয় যা দিনে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে প্রস্রাব করতে হবে। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু পিছন থেকে সামনের দিকে না এনে সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা, যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্র পথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে অথবা পরিষ্কার কাপড় ব্যাবহার করলে প্রতি বার তা সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যদি দেখা যায় আপনার প্রস্রাবের রাস্তার জ্বালা যন্ত্রণা জীবাণু জনিত বলে সন্দেহ থাকে তাহলে আপনার চিকিত্সা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা আপনার উপসর্গ না যাওয়া পর্যন্ত কার ও সাথে যৌন সম্পর্ক করা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মহিলাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ঘন ঘন বদলাতে হবে এবং সহবাসের আগে ও পরে-যাতে মূত্র নালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয় সে দিকে লক্ষ রাখবেন। খতনা বা মুসলমানি করানো হলে ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেস্টা করবেন প্রতিদিন। আন্ডার পেন্ট বা ঐ জাতীয় কিছু যেন অন্য কার ও সংস্পর্শে না যায় সে দিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

    মূত্রনালীর প্রদাহ (Urethritis), প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া এবং এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা হোমিও চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যায়। তাই নিঃসন্দেহে এর জন্য কার্যকর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিন। আর বিবাহিত অবস্থায় অবশ্যই স্বামী স্ত্রী দুজনেই ডাক্তারের কাছে যাবেন।
    বিস্তারিত

    Tuesday, September 23, 2014

    হার্নিয়া (Hernia) - কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা

    হার্নিয়া আমাদের দেশের লোকজনের কাছে বেশ পরিচিত একটি রোগ৷ এটা হয়তো অনেকেরই জানা যে, আমাদের পেটের ভিতরে খাদ্যনালী থাকে যা মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত৷ সাধারণত খাদ্যনালী ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে৷ হার্নিয়ার ক্ষেত্রে পেটের কিছু দুর্বল অংশ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ বিশেষ অণ্ডথলিতে চলে আসে৷ তখন কুচকি এবং অণ্ডথলি অস্বাভাবিক ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়৷

    যদি আপনার কোনো কুঁচকিতে ব্যথা হয় কিংবা ফোলা দেখতে পান তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। এই ফোলা বেশি দেখা যাবে যখন আপনি দাঁড়াবেন। সাধারণত আক্রান্ত অনুভব করতে পারেন। আপনি শুয়ে পড়লে হার্নিয়া আপনা আপনি মিলিয়ে যাবে অথবা আপনি হাত দিয়ে হালকা চেয়ে পেটে ঢুকিয়ে দিতে পারবেন। যদি তা না হয় তাহলে জায়গাটিতে বরফের সেঁক দিলে ফোলা কমে গিয়ে হার্নিয়া চলে যায়।
    হার্নিয়া (Hernia) - কারণ, লক্ষণ এবং কার্যকর চিকিৎসা
    শোয়ার সময় মাথার তুলনায় কোমর উঁচু করে শুতে হবে। যদি আপনি হার্নিয়া ঢোকাতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালে আটকে গেছে। এটি একটি মারাত্মক অবস্থা এ ক্ষেত্রে জরুরিভাবে অপারেশনে প্রয়োজন হয়। এ পর্যায়ে বমি বমি ভাব অথবা জ্বর হতে পারে এবং হার্নিয়া লাল, বেগুনি অথবা কালো হয়ে যেতে পারে। যদি এ ধরনের কোনো চিহ্ন বা উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    কারণসমূহ :- পেট বা এবডোমেন ওয়ালের দুর্বলতাই হার্নিয়ার একমাত্র কারণ। এই দুর্বলতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন- জন্মগত, অপারেশন, আঘাত এবং ইনফেকশন ইত্যাদি। সবচেয়ে কমন যে হার্নিয়া আমরা পেয়ে থাকি তার মধ্যে ইনগুইনাল হার্নিয়া এবং ইনসিসনাল হার্নিয়া বা অপারেশনের জায়গায় হার্নিয়া।

    ইনগুইনাল হার্নিয়া কুচকির মাঝামাঝি ১/২ ইঞ্চি উপরে এই হার্নিয়ার প্রাথমিক অবস্থান। ইনগুইনাল হার্নিয়া যে কোন বয়সেই এ রোগ হতে পারে এবং বেশির ভাগ রোগীই পুরুষ। জন্মলগ্নেই পুরুষ শিশুর হার্নিয়া থাকতে পারে। এই অবস্থাকে জন্মগত হার্নিযা বলা হয়। সুস্থ সবল শরীরে পরবর্তীতে যে কোন বয়সেই হার্নিয়া সম্পূর্ণ নতুনভাবে দেখা দিতে পারে। এ ধরনের হার্নিয়াকে অর্জিত হার্নিয়া বলা হয়। জন্মগত হার্নিয়া মূলত জন্মগত গাঠনিক ত্রুটি। অর্জিত হার্নিয়া সমস্যা সৃষ্টির পিছনে কিছু কারণ কাজ করতে পারে। উদর গহ্বরের অভ্যন্তরস্থ চাপ বৃদ্ধিকারী কারণগুলোই এক্ষেত্রে প্রধান। সঙ্গে তলপেটের মাংসপেশীর দুর্বলতাও বিশেষভাবে অনুঘটক যা বয়স্কদের বেলায় বিশেষভাবে প্রযোজ্য। উদর গহ্বরের চাপ বৃদ্ধি সহায়ক পরিস্থিতিসমূহ হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী কাশি, পেটে চাপ পড়ে এমন পেশার কাজ যেমন ভারোত্তোলন, প্রবল চাপ দিয়ে প্রস্রাব করতে হয় এমন কোন অসুখ, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য এ ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় খুব চাপ পড়ে, যেমন বৃদ্ধ বয়সে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া ইত্যাদি। যেসব শিশু স্বাভাবিক জন্মগ্রহণের তারিখের আগেই ভূমিষ্ঠ হয় তাদের ইনগুইনাল হার্নিয়া বেশি হয়।

    হার্নিয়ার প্রকারভেদ :-
    • ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া (Inguinal Hernia) :- এই প্রকারের হার্নিয়ায় দেখা যায়, অন্ত্রের অংশবিশেষ (Parts of intestine) উদর ও উরুর সংযোগস্থলে ইঙ্গুইনাল অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। তখন উদর ও উরুর সংযোগস্থল ফোলা মনে হয়।
    • ইঙ্গুইনো-স্ক্রোটাল(Inguino-scrotal) :- যদি ইঙ্গুইনাল হার্নিয়াতে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়া হয় তখনই এধরনের হার্নিয়া হয়ে থাকে। তখন অন্ত্রের অংশবিশেষ নামতে নামতে একেবারে অন্ডকোষে (Testes) এসে প্রবেশ করে(Enter), ফলে অন্ডথলি (Scrotum) ফুলে যায়।
    • ফিমোরাল হার্নিয়া(Femoral Hernia) :- ফিমোরাল হার্নিয়াটা সাধারনত মহিলাদের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে উরুর ভেতরের দিকে স্ফিতি দেখা দেয়।
    • ইনসিসনাল হার্নিয়া(Incisional Hernia) :- উদরের পূর্বে অপারেশন (Previous operation area) করা হয়েছে এমন অঞ্চলে ইনসিসনাল (Incisional) হার্নিয়া হয়ে থাকে। কেননা অপারেশনের ফলে সেই অঞ্চল খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
    • আম্বিলিকাল হার্নিয়া(Umbilical Hernia) :- এক্ষেত্রে দেখা যায়, যিনি আক্রান্ত হয়ে থাকেন তার নাভির চারপাশ(Around Naval) বা একপাশ ফুলে ওঠে।
    লক্ষণসমূহ :-
    • কুচকি বা অণ্ডথলি ফুলে যায়৷
    • নাভির একপাশে বা চারপাশে ফুলে যায়৷
    • উরুর গোড়ার ভেতরের দিকে ফুলে যায়৷
    • আগে অপারেশন করা হয়েছে এমন কাটা জায়গা ফুলে যায়৷
    রোগ নির্ণয় :- হার্নিয়া নির্ণয়ের বেলায় সাধারণ শারীরিক পরীক্ষায় মাধ্যমে ইন্টেস্টইনাল হার্নিয়া (Intestinal hernia) নির্ণয় করা হয়। আপনার চিকিৎসক আপনাকে আপনার উপসর্গগুলো জানতে চাইবেন, তারপর কুঁচকি (Inguinal hernia) এলাকায় ফোলাটা (Swelling) পরীক্ষা করে দেখবেন। যেহেতু কাশি দিলে হার্নিয়া অধিক স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়, তাই কাশি (Coughing) দেয়াটাও আপনার পরীক্ষার একটা অংশ হতে পারে।

    চিকিৎসা :- চিকিত্সা ছাড়া হার্নিয়া ভাল হয় না, যদিও কয়েক মাস বা এক বছরে হার্নিয়া খুব একটা খারাপ অবস্থায় উপনীত হয় না। অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত এক ধরনের হার্নিয়া আছে, যা থেকে তুলনামূলকভাবে সহজে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং তা স্বাস্থ্যের জন্যও আশঙ্কাজনক নয়, একে রিডিউসিবল হার্নিয়া বলা হয়। আর এক ধরনের হার্নিয়া রয়েছে যা হতে পরিত্রাণ পাওয়া অনেকটাই কষ্টসাধ্য। একে ননরিডিউসিবল হার্নিয়া বলে। এই ধরনের হার্নিয়া জীবনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন উন্মুক্ত অংশে অন্ত্রের কোনো অংশ আটকে যায় বা রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। এই ধরনের হার্নিয়াকে ইনকারসিরেটেড হার্নিয়াও বলা হয়ে থাকে।
    যদি আপনার হার্নিয়া ছোট থাকে এবং আপনার কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে তাহলে আপনার চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করার কথা ও অপেক্ষা করার কথা বলতে পারেন। কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবং ব্যথা হয় তাহলে অস্বস্তি দূর করতেও মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধ করতে  সাধারণ অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারগণ অপারেশনের করতে বলেন। হার্নিয়ার দু'ধরনের সাধারণ অপারেশন করা হয়।
    • হানিয়োব্যাফি :- এ পদ্ধতিতে আপনার সার্জন আপনার কুঁচকিতে একটা ইনসিশন দিয়ে বেরিয়ে আসা অন্ত্রকে ঠেলে পেটের মধ্যে ফেরত পাঠান। তারপর দুর্বল বা ছেঁড়া মাংসপেশি সেলাই করে ঠিক করে দেন। অপারেশনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি চলাফেরা করতে পারবেন। তবে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে আপনার চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
    • হানিয়োপ্লাস্টি :- এ পদ্ধতিতে আপনার সার্জন কুঁচকি এলাকায় এক টুকরো সিনথেটিক মেশ লাগিয়ে দেন। সেলাই, ক্লিপ অথবা স্টাপল করে এটাকে সাধারণ দীর্ঘজীবী রাখা হয়। হার্নিয়ার ওপরে একটা একক লম্বা ইনসিশন দিয়েও হার্নিয়োপ্লাস্টি করা যেতে পারে। বর্তমানে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে, ছোট ছোট কয়েকটি ইনসিশন দিয়ে হার্নিয়েপ্লাস্টি করা হয়।
    জটিলতা :- অপারেশনের মাধ্যমে হার্নিয়া ঠিক না করলে ক্রমে হার্নিয়া বড় হতে থাকে। বড় হার্নিয়া চার পাশের টিস্যুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে। পুরুষের ক্ষেত্রে হার্নিয়া অন্ত্রথলি বিস্তৃত হতে পারে এবং ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টি করে। তবে ইনস্তইনাল হার্নিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো যখন অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গায় আটকে যায়। এ সময় প্রচন্ড ব্যথা হয়। বমি বমি ভাব ও বমি হয় এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়, কিংবা বায়ু চলাচল করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আটকে পড়া অংশে রক্ত চলাচল কমে যায় এ অবস্থাকে বলে স্ট্রাংগুলেশন যার করণে আক্রান্ত অন্ত্রের টিস্যুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। স্ট্রাংগুলেটেউ হার্নিয়া একটি জীবনমরণ সমস্যা, এ ক্ষেত্রে জরুরি অপারেশন করতে বলেন অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারগণ ।

    হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :- হার্নিয়া নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। রোগী যদি প্রথম দিকেই হোমিও ট্রিটমেন্ট নিতে আসে তাহলে যে ধরনের হার্নিয়াই হোক না কেন হোমিও চিকিৎসায় আক্রান্ত অঙ্গটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে পূনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে। কাজেই সময় লাগলেও ধৈর্য্য ধরে হোমিও চিকিৎসা নেয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা অপারেশান করলে সাধারণত কয়েক বছরের মধ্যে রোগটি আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। তবে কিছু কিছু হার্নিয়া জটিল অবস্থায় থাকলেও ট্রিটমেন্ট দিয়ে ভালো করা যায় - যেমন আম্বিলিকাল হার্নিয়া। তাই হার্নিয়া সমস্যায় অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন। 
    বিস্তারিত