Showing posts with label পুরুষের স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label পুরুষের স্বাস্থ্য. Show all posts

Monday, September 22, 2014

পুরুষদের কয়েকটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুকি - হৃদরোগ, কিডনির রোগ ও ক্যানসার

মহিলাদের তুলনায় পুরুষদেরকেই জটিল রোগসমূহে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়। তবে এর মধ্যে এমন কিছু রোগ আছে, যা পুরুষ স্বাস্থ্যে মারাত্মক ভাবে আঘাত আনে। তবে যত বড় রোগই হোক না কেনো। এর সমাধান অবশ্যই রয়েছে। দীর্ঘ, সুস্থ জীবনের জন্য জানা কয়েকটি স্বাস্থ্য ঝুকি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
পুরুষদের কয়েকটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুকি - হৃদরোগ, কিডনির রোগ ও ক্যানসার

হৃদরোগ 

পুরুষদের প্রধান ঝুকি সম্পূর্ণ রোগ গুলোর মধ্যে একটি হলো হৃদরোগ যদিও সব বয়সের নারী পুরুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু এই রোগটির কারনে প্রতি বছর বহু পুরুষ মারা যাছে। তাই হৃদরোগ প্রতীকারের জন্য পুরুষদের সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবে। নিম্নে কয়েকটি প্রতিকারক :-
  • পুরুষদের খাদ্যের প্রতি বেশি অনীহা থাকে। তাই নিয়মিত সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। সব সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • হূদরোগের বিশেষ একটি কারণ ধূমপান। তাই প্রথমত ধূমপান পরিহার করতে হবে।
  • অনেক বেশি পরিমাণের পুরুষদের ডায়াবেটিস সমস্যা থেকে থাকে। তাই অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ব্যায়াম করতে হবে।
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে এবং আনন্দপূর্ণ কাজ করতে হবে। 

কিডনির রোগ

আমাদের দেশে কিডনি রোগ বলতে গেলে অতি সাধারণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। পুরুষরা কিডনির নানা প্রকার সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিত। ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপের প্রথম জটিলতা হলো কিডনি বিকল হওয়া। ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে হবে। আর যা যা করতে পারেন -
  • স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ হবে।
  • প্রতিদিন ব্যায়ামক রতে হবে। 
  • লবন কম খেতে হবে।
  • ওজন বেশি থাকলেকমাতে হবে।

ক্যানসার

এটা হয়ত সকলেরই জানা যে, ক্যানসার পুরুষদের জীবন নাশের প্রধান রোগ গুলোর মধ্যে একটি। পুরুষের মধ্যে ক্যানসারের কারণে যাদের মৃত্যু হয়, শীর্ষে রয়েছে ফুসফুসের ক্যানসার। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির অভিমত: এর কারণ হলো ধূমপান। এরপর রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার ও কোলেস্টেরল ক্যানসার।ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হলে-
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে।
  • ফল ও শাকসবজিসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর আহার করতে হবে।
  • মদ্যপান বর্জন করতে হবে।
  • ধূমপান করা যাবে না। তামাকপাতা, জর্দা, গুল চিবানো যাবে না।
  • পাশে কেউ ধূমপান করলে দূরে সরে যেতে হবে।
  • দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চা থাকতেই হবে।
  • কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়।  
  • এড়িয়ে যেতে হবে চর্বিবহুল খাবার।
  • ক্যানসার জনক বস্তু অর্থাৎ কার্সিনোজেন যেমন, রেড়ন, এসবেসটস বিকিরণ ও বায়ুদূষণের মুখোমুখি যাতে না হতে হয়, সে রকম ব্যবস্থা করা।

আক্রান্ত হলে কি করবেন ?

উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলির নাম শুনলে আমরা অনেকেই ভয়ে আতকে উঠি। কারণ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জানা মতে, এ গুলির নিশ্চিত ফলপ্রদ কোনো চিকিত্সা নেই। অথচ এই আধুনিক যুগেও আমরা অনেকে জানি না যে, এই সকল রোগের কার্যকর, সফল এবং আরোগ্যকারী ট্রিটমেন্ট হয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই যে কেউ হার্ট, কিডনি, লিভার অথবা যে কোনো প্রকার ক্যানসারে আক্রান্ত হলে অযথা সময় নষ্ট না করে রোগ ধরা পড়ার সাথে সাথেই অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। সঠিক সময় থেকেই যদি আপনি প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নেয়া শুরু করেন তাহলে এ সকল সমস্যা থেকে খুব তাড়াতাড়ি আরোগ্য লাভ করা যায়।
বিস্তারিত

গনোরিয়া (Gonorrhea) - পুরুষ এবং মহিলাদের কষ্টদায়ক যৌন ব্যাধি

গনোরিয়া একটি সাধারণ এবং পরিচিত যৌন সংক্রামক রোগ। আমাদের গ্রাম গঞ্জে এটি আবার প্রমেহ নামেও পরিচিত। প্রকৃত পক্ষে এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। তবে চুম্বন, হাত ধরা  ইত্যাদি থেকে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে।

এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলারা যারা গনোরিয়া আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে।
আমাদের সমাজে দেখা যায়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই  এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং তাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। গনোরিয়ার জীবাণু "নাইসেরিয়া গনোরিয়া" দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সাথে যৌন সংসর্গের দ্বারা।

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যৌন মিলনের ২ থেকে ১০ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
  • রুষদের মূত্রনালীর সম্মুখভাগে সাধারণত সংক্রমণ ঘটে।
  • বারবার প্রস্রাবের ইচ্ছা করে। মূত্রনালীতে প্রদাহের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা করে।
  • লিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়।যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।
  • মূত্রনালীপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • অণ্ডকোষ ফুলে একটা আপেলের মতো বড় হতে পারে।
  • এপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়।
  • সমকামীরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালীতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়।
  • মুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলাব্যথা হয়।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
নারীর ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ :-
  • যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর, সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়।
  • যৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়।
  • প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা থাকতে পারে। প্রস্রাবে যন্ত্রণা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালীতে প্রদাহ হয়।
  • বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়।
  • তলপেটে ব্যথা হয়।
  • ডিম্ববাহী নালী, ডিম্বাশ্বয় কিংবা তলপেটের মধ্যে ফোঁড়া হতে পারে।
  • মাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়।
  • পায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালী পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • মুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।
  • দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।
গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থা :-
গনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়াতে আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রোগ নির্ণয় :-
এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। সে এরই মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কি-না প্রশ্ন করে ভালো করে উত্তর পেতে হবে। সম্পর্ক থাকলে তা কতদিন আগে এবং কত জনের সঙ্গে। এসব জেনে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্রস্রাবও পরীক্ষা করা যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু নিঃসরিত বস্তু পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রতিকার কিভাবে করা যেতে পারে :-
  • জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 
  • সঠিক বয়সে উপযুক্ত যৌন শিক্ষা প্রচলন। 
  • বহুনারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ মহিলারই এ রোগে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই যে কোনো সময়ে এদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
  • রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা করানো উচিত। 
  • আক্রান্ত অবস্থায় স্ত্রী মিলনের বা স্বামী সহবাসে বিরত থাকা উচিত, তা না হলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। 
  • সর্বোপরি বিবাহিত যৌন জীবন সবার জন্য বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পথ। 
কিছু সতর্কতা জরুরি :-
অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও আবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে অল্প সংক্রমণ থেকে যায় কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারো সাথে যৌন মিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে। তবে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ লাভ করতে পারে না।

কার্যকর চিকিৎসা :-
পুরুষ বা মহিলারা যে কেউ আক্রান্ত হন না কেন আর গনোরিয়ার উপসর্গ যত জটিল পর্যায়েই থাকুক না কেন এর যথাযথ এবং সর্বাধিক সফল ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে। তাই কেউ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে কোনো প্রকার সংকোচ না করে আপনার হোমিওপ্যাথকে বিস্তারিত খুলে বলুন এবং অযথা দেরি না করে যথাযথ চিকিত্সা নিন। প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যা থেকে নিশ্চিত মুক্তি পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
******** আধুনিক হোমিওপ্যাথি *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Thursday, September 18, 2014

পুরুষদের স্তন ক্যান্সার - লক্ষণ, নির্ণয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসা

সাধারণত অনেকেই মনে করেন, স্তন ক্যান্সার শুধু মহিলাদেরই হয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা হয়ত অনেকই জানেন না যে এই সমস্যাটি পুরুষদের হয়ে থাকে । পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা কম থাকলেও বর্তমানে এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পুরুষদের স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে বহুক্ষেত্রে এই ক্যান্সার প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। পুরুষদের বুকের দেওয়ালে স্তনবৃন্তের ঠিক নিচে অল্প পরিমাণ অকার্যকরী কিছু স্তন কোষ থাকে। এই কোষগুলির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার দেখা দেয়।
পুরুষদের স্তন ক্যান্সার - লক্ষণ, নির্ণয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসা
স্তন ক্যান্সার সাধরণ অবস্থায় মহিলাদের মধ্যে দেখা গেলেও পুরুষদের মধ্যে বিরল নয়। ২০১০ সালে পৃথিবী জুড়ে পুরুষদের মধ্যে মোট ১,৯৭০টি স্তন ক্যান্সারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তার মধ্যে ৩৯০জন এই ক্যান্সারে প্রাণ হারান।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ

  • একটি ব্যাথাহীন পিণ্ড তৈরি হয় স্তনকলার মধ্যে। 
  • যে চামড়া স্তনকে ঢেকে রাখে তার পরিবর্তন দেখা যায়। চামড়া লাল হয়ে যায়, কুঁচকে যায়, তাতে ভাঁজ বা খাঁজ তৈরি হয়। 
  • স্তনবৃন্তের রঙের পরিবর্তন হয়। লালচে হয়ে যায় বা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। 
  • স্তনবৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হয়। 

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

আল্ট্রাসাউন্ড ও ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে স্তনক্যান্সারের নির্ণয় করা হয়। বায়োপসির সঙ্গেই করা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন হরমোনের পরীক্ষা। করা হয় প্রোটিন পরীক্ষাও।

চিকিৎসা পদ্ধতি

এত কাল যাবৎ লোকজনের ধারনা ছিল যে, শল্যচিকিৎসাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের মূল চিকিৎসা। এর মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে যে পিণ্ড (টিউমার) তৈরি হয় তাকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়াও রেডিয়েশন থেরাপি চলে। এর মাধ্যমে এক্স রে জাতীয় উচ্চ শক্তির রশ্মি দিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলি মেরে ফেলা হয়। চলে কেমোথেরাপি, যার দ্বারা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলি মেরে ফেলা হয়। এছাড়াও পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য ব্যাপকভাবে চলে হরমোন থেরাপি।

কিন্তু আপনি জানেন কি ? কোনো প্রকার অপারেসন ছাড়াই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মাধ্যমে শুধু মাত্র ঔষধ প্রয়োগ করেই এর নিরাময় সম্ভব। এখানে নেই কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং জটিলতা। আর হোমিও চিকিত্সা অপারেসনের মত ব্যয়বহুলও নয়। তাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নির্মূলে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন।
বিস্তারিত

Friday, August 29, 2014

হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক - সতর্ক হন !!

লাখ লাখ যুবকের উপর চালিত পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে যে, হস্তমৈথুন এমন এক সমস্যা যাতে একবার কেউ আসক্ত হয়ে পড়লে প্রপার ট্রিটমেন্ট ছাড়া এ থেকে রেহাই পাওয়ার অন্য কোনো কার্যকর উপায় থাকে না বললেই চলে। আপনি অনলাইন সার্চ করলে হস্তমৈথুন অভ্যাস পরিত্যাগের বিষয়ে ভুরি ভুরি উপদেশ বাণী পেয়ে যাবেন। যার সবগুলিই অকার্যকর। তারপরও তাদের উপদেশ বাণীর যেন কোনো শেষ নেই।

কিন্তু তাদের অনেকেই বাস্তবতাটা বুঝতে পেরে কোথাও এর জন্য চিকিত্সা নেয়ার কথাটা বলে না।
কেন জানেন ??
ভালো করে শুনে নিন ** তাদের কাছে এ সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো চিকিত্সা নেই **
তাই উপদেশ বাণী শোনানো ছাড়া তাদের আর কি-ই বা করার আছে। কিন্তু ঐসব চিকিত্সকদের নিকট চিকিত্সা নিতে গেলে ঐ অবস্থায় যখন একে একে সব গুলো উপদেশ বাণী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তখন তাদের সর্বশেষ চিকিত্সা হলো - * বিয়ে করে ফেলেন *। বুঝেন অবস্থা !!!! আর এই সময়টাতে চিকিত্সার নাম করে আপনার কাছ থেকে যা নেয়ার সেটা কিন্তু তারা ঠিকই নিয়ে নিল। অথচ তারা নিজেরাই জানত তাদের কাছে এর কোনো কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। শুধু তাই নয়, চিকিত্সার ব্যর্থতা ঢাকতে  অবশেষে তারা এও বলেন যে - *হস্তমৈথুন কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয় !!!!!!*
হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক - সতর্ক হন
একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো :-
অনেকেই শীতপ্রধান দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ ফলাফল আমাদের উপমহাদেশের অর্থাৎ গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেলায় চালাতে চান। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের বাস্তবতা উপলগ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশের ছেলেদের ১০-১২ বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্কতা চলে আসার কারণে তারা অনেকেই তখন থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে এবং বিয়ের সময় অর্থাৎ বয়স ২০-৩০ বছর হওয়ার পর দেখা যায় তারা নানা প্রকার যৌন সমস্যা সৃষ্টি করে ফেলেছেন। কিন্তু শীতপ্রধান দেশগুলির বিষয়টা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। ঐসব দেশে ছেলেদের যৌন পরিপক্কতা আসে অনেক দেরিতে, অনেকের ১৬-১৮ বছর হয়ে যায়। তাছাড়া তারা যে কারো সাথে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে থাকার কারণে  হস্তমৈথুন ততটা করে না। তাই তারা এর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হয় না বললেই চলে। তাই আপনাদের অবশ্যই এ বিষয়টা বুঝতে হবে এবং তাদের ক্ষেত্রে যে থিওরি তাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন তা আমাদের দেশের ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ তারা যদি আমাদের দেশের ছেলেদের মত হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে এটা করতে থাকত তাহলে তারাও এর কুফল গুলির সম্মুখীন হত। 

যারা হস্তমৈথুন করাকে ক্ষতিকর না বলে ভালো বলে থাকেন তাদের কাছে প্রশ্ন ????
সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম, যাকে বলা হয়ে থাকে *A complete code of life.* এ বিষয়ে হয়ত আপনারা সবাই আমার সাথে একমত হবেন আশা করি যদি আপনি মুসলিম হন। হস্তমৈথুন করাটা যদি মানুষের জন্য উপকারীই হত তাহলে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের অনেক মুফতীগণ রাসূলের হাদিসের আলোকে এটাকে কেন পাপ বলে অবহিত করলো। আশা করি বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর বলার প্রয়োজন নেই। জেনে রাখুন হস্তমৈথুন অভ্যাসটা এমন কিছু মারাত্মক সমস্যার জন্ম দেয়, যা এক সময় একজন পুরুষের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলে। এটা যুবকদের শারীরিক এবং মানুষিক উভয় সমস্যারই সৃষ্টি করে থাকে। আমাদের কাছে চিকিত্সা নিতে আসা হাজর হাজার যুবকরা নিজ মুখেই স্বীকার করেছে তাদের জীবনের অতীত কালের এ সকল অনাচারের কথা। 

ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিক সমুহ :-
অনেক আলেমরা এটিকে ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে হারাম ঘোষণা করেছেন । শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুনকরে তারা সীমালংগনকারী। তবে এখানে আমি শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব, যেহেতু আমি একজন ডাক্তার। পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে্সব সমস্যায় ভুগতে পারে সেগুলি হলো :-
  • পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে যায়। অর্থাৎ যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায় ।
  • আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয় । বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না ।
  • অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় । তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম । যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয় । (যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত । স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয়না। )
  • অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr.Liu বলেন - "There is a huge change in body chemistry when one masturbates excessively"
হস্তমৈথুনের ফলে শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয় :-
  • Nervous system, heart, digestive system, urinary system এবং আরো অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ - বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
  • মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
  • স্মরণ শক্তি কমে যায়  এবং চোখেরও ক্ষতি হয় ।
  • আরেকটি সমস্যা হল সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া যাকে বলা হয়  Leakage of semen । ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামায পড়তে কষ্ট হয়।
মহান আল্লাহ্ তা’ আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন। রসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন-
"যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব । "
-(বুখারী ও মুসলিম)
তাই কাউকে হস্তমৈথুন করার উপদেশ দিয়ে আপনি নিজে গুনাহ বা পাপের অংশীদার হবেন না। পারলে কেউ এতে আসক্ত হলে যথাযথ হোমিও চিকিত্সার মাধ্যমে তাকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র কার্যকর চিকিত্সা বিজ্ঞান যা কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই যুবকদের হস্তমৈথুন অভ্যাস দূরীকরণে সফলতা দেখিয়ে আসছে।
বিস্তারিত

Tuesday, August 26, 2014

মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করবেন কিভাবে ?

নারী এবং পুরুষ উভয়ই কখনো কখনো মুখের অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। যদিও নারীদের ক্ষেত্রেই বিষয়টি বেশি দেখা যায়। কপালে বা গালে, ঠোঁটের উপরে বাড়তি লোম সৌন্দর্যটাই যেন নষ্ট করে দেয়। সব সাজগোজ, ত্বকের যত্ন সবই বৃথা হয়ে যায় যদি মুখের ত্বকে অবাঞ্ছিত লোম থাকে। আজকাল অনেক ধরনের ট্রিটমেন্ট আছে ত্বক থেকে এই লোম দূর করার জন্য। কিন্তু বেশিরভাগই বেশ কষ্টদায়ক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। অনেকেই এসব সাত-পাঁচ ভেবে মুখের এই অবাঞ্ছিত লোম নিয়েই থাকেন এবং মনকষ্টে ভোগেন।
মুখের এই অবাঞ্ছিত লোম দূর করার ঘরোয়া বেশ কিছু সহজ উপায় আছে। পুরোটাই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে করা হয় বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। কষ্টদায়ক হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। মুখের লোম উঠা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের জন্যও ভালো এই উপায় গুলো। তাহলে জেনে নিন অবাঞ্ছিত লোম দূর করার সহজ ঘরোয়া কিছু উপায়।

চিনি ও লেবুর রসের স্ক্রাব :-
লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। মুখের লোম দূর করা ও লোমের ঘনত্ব কমাতে লেবুর রসের জুড়ি নেই। চিনি দিয়ে স্ক্রাব করলে ত্বকের রোমকূপ থেকে লোম দূর হতে সহায়তা করে। এই স্ক্রাবটি তৈরি করতে লাগবে ৩ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ পানি। প্রথমে সব উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রন তৈরি করুন। ভালো করে মিশিয়ে নেবেন। এরপর এই মিশ্রণ মুখের ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর মুখ ধোয়ার সময় ভালোভাবে ঘষে তুলুন। এতে লোম দূর হবে। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এভাবে করুন। দ্রুত মুখের লোম থেকে মুক্তি পাবেন।

ময়দা ও দই এর প্যাক :-
ময়দা ও দই-এর এই প্যাকটি ত্বকের লোমের রঙের পরিবর্তন করে এবং ওঠার পরিমাণ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। এই প্যাকটি তৈরি করতে লাগবে ২ টেবিল চামচ ময়দা, ১ টেবিল চামচ দই, ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চিমটি হলুদ গুঁড়ো। একটি বাটিতে এই সব উপাদান নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা না হয়। থকথকে ঘন হলে ভালো কাজে দেবে। এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগান। বিশেষ করে নাকের নিচে ও থুতনিতে এবং কপালে। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ভালো মতো ঘষে মুখ থেকে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে ৩/৪ দিন এই প্যাকটি লাগানোর চেষ্টা করবেন। কিছুদিনের মধ্যেই অবাঞ্ছিত লোম দূর হবে।

কফি স্ক্রাব :-
কফির স্ক্রাব সব চাইতে বেশী কার্যকরী একটি উপায় মুখের লোমের হাত থেকে রক্ষা পেতে। ক্যাফেইন ত্বকের গভীরে ঢুকে লোম দূর হতে সাহায্য করে। এই স্ক্রাবটি তৈরি করতে আপনার লাগবে ২ টেবিল চামচ কফি, ১ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস। একটি বাটিতে প্রথমে কফি ও চিনি মিশিয়ে নিন। এতে মধু ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। কফি ও চিনি পুরো পুরি গলবে না। এরপর এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে খানিকক্ষণ ম্যাসাজ করুন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহারে অনেক ভালো ফলাফল পাবেন। 

সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা :-
মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার সফল চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তাই যারা উপরে বর্ণিত দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতিগুলি পালন করতে কষ্ট বোধ করেন তাদের জন্য ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। আমরা বেশ কয়েক জন মহিলা পেসেন্টকে প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট দিয়ে ফেসিয়াল হেয়ার প্রবলেম থেকে মুক্ত করেছি। অর্থাৎ এর সফল এবং যথাযথ চিকিত্সা নিতে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা। খুব তাড়াতাড়ি মুখের অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে এ বিষয়ে দৃঢ আশা রাখি। তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ(পরিমার্জিত)
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি কতটা কার্যকর !

বিভিন্ন প্রাকৃতিক পন্থায় জন্মনিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করে আসছে মানুষ বহু কাল ধরে যদিও এমন এক সময় ছিল যখন জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য কোন কৃত্রিম পদ্ধতি ছিলনা। কিন্তু আধুনিক কালে জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য রয়েছে অনেক উপকরণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপকাaর বয়ে আনলেও কোনো কোনোটা কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিও করে থাকে। তাই জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই ভাবেন। এরকমই একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি হলো 'নিরাপদ সময় বা Safe Period.' আজকে আমরা সে বিষয় সম্পর্কেই জানব।

মেয়েদের মাসিক ঋতুচক্র (Menstrual cycle) এমন যে এতে এমন কিছু দিন আছে যা নিরাপদ দিবস (Safe period) হিসেবে ধরা হয়।
জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি কতটা কার্যকর !
এই দিবস গুলোতে স্বামী-স্ত্রীর অবাধ মিলনের (Sexual act) ফলে স্ত্রীর সন্তান সম্ভবা হবার সম্ভাবনা থাকেনা। যেহেতু এই পদ্ধতিটি প্রকৃতিগত ভাবেই নির্দিষ্ট করা তাই একে প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বলা হয়। অনেক সময় একে ক্যালেন্ডার পদ্ধতিও বলা হয়।

এ পদ্ধতি কার্যকর করতে অবশ্যই জেনে নিতে হবে স্ত্রীর ঋতুচক্রের নিরাপদ দিন কোন গুলো। এজন্য সবার আগে জানা চাই তার মাসিক নিয়মিত হয় কিনা, হলে তা কতদিন পরপর হয়। এবার সবচেয়ে কম যতদিন পরপর মাসিক হয় তা থেকে ১৮ দিন বাদ দিন, মাসিক শুরুর ১ম দিন থেকে ঐ দিনটিই হলো প্রথম অনিরাপদ দিন। আবার আপনার স্ত্রীর সবচেয়ে বেশী যতদিন পরপর মাসিক হয় তা থেকে ১০ দিন বাদ দিন, মাসিক শুরুর ১ম দিন থেকে ঐ দিনটিই হলো শেষ অনিরাপদ দিন।

ধরুন স্ত্রীর মাসিক ২৮ থেকে ৩০ দিন পরপর হয়। তাহলে ২৮-১৮=১০, অর্থাৎ মাসিকের শুরুর পর থেকে প্রথম ৯ দিন আপনার জন্য নিরাপদ দিবস, এই দিন গুলোতে অন্য কোনো পদ্ধতি ছাড়াই সঙ্গম করা যাবে। ১০ম দিন থেকে অনিরাপদ দিবস, তাই ১০ম দিন থেকে সঙ্গমে সংযম আনতে হবে। আবার যেহেতু ৩০ দিন হলো দীর্ঘতম মাসিক চক্র তাই ৩০-১০=২০, অর্থাৎ ২০তম দিন আপনার জন্য শেষ অনিরাপদ দিবস। ২১ তম দিবস থেকে আপনি আবার অবাধ সঙ্গম করতে পারবেন। এর অর্থ এই উদাহরনে শুধু ১০ম থেকে ২০ম দিবস পর্যন্ত আপনি অবাধ সঙ্গম করলে আপনার স্ত্রীর গর্ভধারন করার সম্ভাবনা আছে। তবে এই দিবস গুলোতে কনডম (Condom) ব্যবহার করে আপনারা অতি সহজেই ঝুকিমুক্ত থাকতে পারেন।

জেনে রাখা ভালো অনিয়মিতভাবে মাসিক হবার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর নয়। তবে কারো যদি হিসাব রাখতে সমস্যা হয় তবে সহজ করার জন্য বলা যায় মাসিক শুরুর পর ১ম ৭ দিন এবং মাসিক শুরুর আগের ৭ দিন অবাধ সঙ্গম করা নিরাপদ।

কৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রন ৮০% নিরাপদ, বা এর সাফল্যের হার শতকরা ৮০ ভাগ। সাধারনত হিসেবে গন্ডগোল করে ফেলা, অনিরাপদ দিবসেও সূযোগ নেয়া বা ঝুকি নেয়া, অনিয়মিত মাসিক হওয়া এসব কারনে এই পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে। তাই সঠিক হিসেব জেনে নেবার জন্য ১ম বার চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিছু পুরুষের শুক্রানুর আয়ু বেশী হওয়ার কারনে তারা এটায় সফল নাও হতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে অনিরাপদ দিবস ২ দিন বাড়িয়ে নেবার প্রয়োজন হতে পারে। অনেকে এটা Programmed sex বলে একে ঝামেলাপুর্ণ মনে করেন, কিন্ত একবার এতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটা বেশ সহজ, আরামদায়ক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
বিস্তারিত

Tuesday, August 19, 2014

যৌনতা নিয়ে পুরুষরা সতর্ক হন - ক্ষতিকর হারবাল ঔষধে পুরুষের ক্ষমতা হ্রাস পায়

উত্তেজক হারবাল ঔষধের বাস্তব ক্ষতিকর দিক গুলি নিয়ে আলোকপাত করেছেন প্রখ্যাত চিকিত্সক ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম। প্রায় বছর দুয়েক ধরে স্বাস্থ্য পাতায় পুরুষের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে আসছি। লেখাটির উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ, যুবক এবং বিবাহিত পুরুষের মধ্যে শারীরিক সমস্যা নিয়ে নানা ভুল ধারণা নিরসন করা। আমার এই লেখাটি বিভ্রান্ত যুবসমাজের কতটা উপকারে এসেছে তা বলার জন্য আজকের এই লেখাটি নয়। গতমাসে প্যারিস গিয়েছিলাম ইউরোপিয়ান একাডেমী অব ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে। আমার সঙ্গে ছিলেন বারডেম হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রেজা বিন জায়েদ।

সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ১৫ হাজার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ যোগ দেন বিশ্বের এই অন্যতম বৃহত্তম ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে। চর্মরোগ, লেজার ও ত্বকের কসমেটিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশ্ব কতখানি অগ্রসর হয়েছে তা ইউরোপিয়ান কংগ্রেসে যোগদান না করলে বুঝা কঠিন। বিশ্বের অপর বৃহত্তম ডার্মাটোলজী কংগ্রেস হচ্ছে আমেরিকান একাডেমী অভ ডার্মাটোলজি কংগ্রেস। এ দুটো কংগ্রেস নিয়ে আমার লেখার কোন ইচ্ছা নেই। শুধু ইউরোপিয়ান একাডেমী অব ডার্মাটোলজির একটি বিষয় নিয়ে লিখতে চাই। আর এ বিষয়টি আমার লেখা পুরুষ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
যৌনতা নিয়ে পুরুষরা সতর্ক হন - ক্ষতিকর হারবাল ঔষধে পুরুষের ক্ষমতা হ্রাস পায়
প্যারিসে অনুষ্ঠিত ডার্মাটোলজি কংগ্রেস এর একটি পেইড টপিকস ছিলো এন্ড্রোলজি বা পুরুষের যৌন সমস্যা বা শারীরিক সমস্যা বিষয়ক। আমার এবং ডাঃ রেজা বিন জায়েদের খুব ইচ্ছা ছিলো এন্ড্রোলজির লেকচার শুনবো। প্যারিস ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে এমনিতে ফিস দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছে। কিন্তু এন্ড্রোলজি লেকচারে যোগদান করতে হলে অতিরিক্ত ৩৫ ইউরো বা সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। এতেও আমাদের আপত্তি ছিলো না। কিন্তু এন্ড্রোলজি লেকচারে অংশ নিতে বিশেষজ্ঞদের এতই উৎসাহ ছিলো যে, কুপন ফুললি সোল্ড হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করে বিনা কুপনে হলে ঢুকে পড়ি।

আমার খুব ইচ্ছা ছিল এন্ড্রোলজি সম্পর্কে জানবো। কারণ বাংলাদেশে পুরুষের সেক্স সমস্যা নিয়ে আমাকে অনেক ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে হয়। সম্ভবতঃ ডাঃ রেজা বিন জায়েদ আমার পথ অনুসরণ করতে পারেননি। যাহোক পুরো এক ঘণ্টার লেখচারে দেখানো হলো ইউরোপেও কিভাবে পুরুষের শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো সেক্স সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ কখনও বললেন না কোন হারবাল মেডিসিনের কথা। শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ পুরুষের নানা কারণে শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়।

আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের তরুণ ও যুব সমাজকে সচেতন করার জন্য যে ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি মোটামুটি একই রকম তথ্য দেয়া হয় প্যারিস কনফারেন্সে। তবে পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণ নানা বিভ্রান্তির শিকার । আর ইউরোপে তরুণদের শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নেই। তারা জানেন না এ ধরনের সমস্যার কথা। তবে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় শতকরা সর্বোচ্চ ২ থেকে ৫ ভাগ অক্ষমতা থাকতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় কখনও হারবাল চিকিৎসার কোন বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে একশ্রেণীর ওষুধ প্রুস্ততকারী প্রতিষ্ঠান তরুণ-যুবকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে হারবালের নামে নানা ক্ষতিকর উপাদানে তৈরী যৌন উত্তেজক ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রয় হয়। আর তরুণ-যুবক এবং অনেক ক্ষেত্রে বিবাহিত পুরুষরাও এসব ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করছে। তবে পুরুষের যৌন সমস্যা নির্মূলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে সারা বিশ্বেই। কারণ যৌন সমস্যাগুলি পুরুপুরি নির্মূলে এলোপ্যাথি ব্যর্থ হলেও হোমিওপ্যাথি প্রায় শতভাগ সফল।

তবে কোনভাবেই উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। প্যারিস কনফারেন্সে এন্ড্রোলজি লেকচারে যেসব কারণে পুরুষের শারীরিক সমস্যা হতে পারে তা তুলে ধরা হয়। যেমন ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, দীর্ঘদিন মানসিক চিকিৎসার ওষুধ সেবন, ননস্টেরাডাল এন্টি ইনক্লামেটরী ড্রাগ সেবন, হরমোনের স্বল্পতা, কিছু কিছু হ্নদরোগ এবং প্রবল মানসিক চাপ অন্যতম। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা, মানসিক চাপমুক্ত থাকা এবং শারীরিক ফিটনেসের কথা বলেন।

এছাড়া যাদের শতকরা ২ ভাগ ক্ষেত্রে প্রকৃত শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীতার কথা বলা হয়। এন্ড্রোলজির আরও কিছু তথ্য নিয়ে পরবর্তীতে লিখতে চাই। তবে যে কথাটি বলতে চাই তা হচ্ছে তরুণ-যুবক এবং বিবাহিত পুরুষদের কোনভাবেই অপ্রয়োজনীয় উত্তেজক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পাশাপাশি কোন ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
বিস্তারিত