Showing posts with label লিভার পিত্ত ও পেটের পীড়া. Show all posts
Showing posts with label লিভার পিত্ত ও পেটের পীড়া. Show all posts

Friday, April 27, 2018

পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ IBS, IBD, Ulcerative Colitis, Crohn's Disease এর চিকিৎসা

আমরা আজ ইরিটেবল বাওয়াল সিনড্রোম (IBS-আইবিএস), ইনফ্ল্যামেটরি বাওল ডিজিজ (IBD-আইবিডি), অলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative Colitis), ক্রনস ডিজিজ (Crohn's Disease) সম্পর্কে জানবো। পরিপাকতন্ত্রের কোনো অংশে প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক অসুখগুলো খুব কষ্টদায়ক হয়, বিশেষ করে আইবিএস, আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রনস ডিজিজ। সতর্ক থাকলে এসব অসুখ থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়, নিয়ম মানলে আক্রান্ত হওয়ার পরও ভালো থাকা যায়। তবে চাইলে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন চিরদিনের জন্য।

মূলত দুটি অসুখকে আইবিডি বা পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি অসুখ বলা হয়। আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রনস ডিজিজ। এ দুটির মধ্যে আমাদের দেশে আলসারেটিভ কোলাইটিস বেশি হয়। ক্রনস ডিজিজও হয়, তবে উন্নত দেশে এটি অনেক বেশি হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এই দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলো রোগীর প্রাণহানির কারণও ঘটায়। আবার এলোপ্যাথিতে এই রোগগুলো চিকিৎসায় খুব একটা ভালো ফল পাওয়া যায় না। কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যয়বহুলও। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে এই রোগগুলির অনেক উন্নত চিকিৎসা রয়েছে। হোমিও চিকিৎসকরা খুব সহজেই প্রপার ট্রিটমেন্ট দিয়ে এই রোগগুলি নির্মূল করতে পারেন।
পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ IBS, IBD, Ulcerative Colitis, Crohn's Disease এর  চিকিৎসা

ইরিটেবল বাওয়াল সিনড্রোম (IBS - আইবিএস)

আইবিএস>> হলো পরিপাকতন্ত্র কার্যক্রমের একটি সমস্যা। এটি অন্ত্রের কার্যকারিতারও একটি সমস্যা। এ রোগে মলত্যাগের সময় পেটে ব্যথা হয়ে মলত্যাগের সাধারণ অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটে। স্বাভাবিক মলত্যাগের পরিবর্তে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।

কারণ : আইবিএসকে এলোপ্যাথিরা  অতিরিক্ত মানসিক অত্যাচার ও মানসিক রোগ বলে অবহিত করে থাকেন। কিন্তু এর পেছনে প্রধান কারণ কি সেটা আজ পর্যন্ত এলোপ্যাথির বিজ্ঞানীগন আবিষ্কারই করতে পারেন নি। পৌষ্টিকনালির স্বাভাবিক গতির পরিবর্তনে সাধারণত আইবিএসের রোগীরা হয় পাতলা পায়খানা নয়তো ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগে থাকেন। ১০ থেকে ২০ শতাংশ রোগীর আইবিএস হয় পৌষ্টিকনালির প্রদাহ হওয়ার পরবর্তী সময়ে। অনেকের ক্ষেত্রে এ রোগের জন্য দৈনন্দিন জীবনের কতগুলো খাবার প্রধানত দায়ী। যেমন- দুধ, দুধের তৈরি খাবার, শসার সালাদ, গম ও গমের তৈরি বিভিন্ন খাবার।

ইনফ্ল্যামেটরি বাওল ডিজিজ (IBD-আইবিডি)

পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত অসুখ বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওল ডিজিজ বা আইবিডি আসলে কয়েকটি অসুখের একটি সম্মিলিত নাম। দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগ এগুলো। ডায়রিয়া, পেটে ও বুকে ব্যথা, ওজন কমা, দুর্বলতাবোধ ইত্যাদি সাধারণ উপসর্গ থাকে রোগটিতে।

আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রনস ডিজিজের সাধারণত লক্ষণগুলো অনেকটা একই রকম।
  • ঘন ঘন ডায়রিয়া হয়। 
  •  জ্বরজ্বর ভাব। দুর্বলতাবোধ হয় ও ক্লান্তি লাগে। 
  • পেটে ব্যথা। কারো কারো পেট মোচড়ায়। অনেকের বমি বা বমি বমিভাব হয়।
  • পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়। তবে সব সময় যে তাজা রক্ত যায় তা নয়। পায়খানায় রক্ত থাকার কারণে অনেক সময় ঘন কালো রঙের পায়খানাও হয়। এগুলোকে বলে অকাল্ট ব্লাড।
  • খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। চেষ্টা করেও খাওয়া যায় না।
  • কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকে।
আলসারেটিভ কোলাইটিস সাধারণত বৃহদান্ত্র বা লার্জ ইনটেসটাইনের মধ্যে সীমিত থাকে এবং রেকটাম (মলদ্বার) থেকে শুরু হয়ে মিউকাস পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। অন্যদিকে ক্রনস ডিজিস মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে পায়ুপথ পর্যন্ত যেকোনো স্থানে হতে পারে। রোগ দুটি সাধারণত ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে।

অলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative colitis)

এ রোগ বৃহদান্ত্রের প্রদাহ হয়ে অন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেনে বা মিউকাস আবরণীতে ক্ষত সৃষ্টি করে। কোন অঞ্চলে হয়েছে এবং রোগের মাত্রা কেমন তার ওপর নির্ভর করে এর ধরন নির্ণয় করা হয়। যেমন - মলদ্বারের কাছে হলে আলসারেটিভ প্রক্টাইটিস, সিগময়েড কোলন এবং মলদ্বারে হলে প্রক্টসিগময়েডাইটিস ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে লেফট সাইডেড কোলাইটিস, প্যানকোলাইটিস, অ্যাকিউট সিভিয়ার আলসারেটিভ কোলাইটিস ইত্যাদি ধরনও।

রক্ত আমাশয়ই হলো এ রোগের বিশেষ লক্ষণ। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক লোকের যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি রক্ত আমাশয় থাকে, তাহলেই এ রোগ সন্দেহ করতে হবে। রোগের তীব্রতা বেশি হলে অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
তবে চিন্তার কারণ নেই - এই রোগের প্রায় শত ভাগ কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করে রেখেছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিলেই এই রোগ নির্মূল হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসে। 

ক্রনস ডিজিজ (Crohn's disease)

এই রোগে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে পায়ুপথ পর্যন্ত যেকোনো স্থান আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত আইলিয়াম বা স্মল ইনটেসটাইনের একটি বিশেষ অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কখনো কখনো কোলনও আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ রোগে পরিপাকতন্ত্রের নালির গাত্রে স্কার বা ফাইব্রোসিস হতে থাকে এবং নালি সরু হয়ে যেতে থাকে। জটিলতা হিসেবে পায়খানার সমস্যা হওয়া, ফোড়া, ফিস্টুলাও হতে পারে।

কেন হয় আইবিডি?

ঠিক কী কারণে আইবিডি হয় তা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায়নি। তবে কিছু বিষয় এ রোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।
  • পরিবারে নিকটাত্মীয়ের মধ্যে কারো এ রোগ থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
  • ধূমপান করলে ক্রনস ডিজিজ বেশি হতে দেখা যায়। তবে ধূমপায়ীদের আবার আলসারেটিভ কোলাইটিস কম হয়।
  • ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ যেমন—আইসোট্রেটিনন ব্যবহার করলে।
  • দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে। যেমন -আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন সোডিয়াম, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম ইত্যাদি।
  • শহরের লোকের বেশি হয়, বিশেষ করে শিল্পকারখানার আশপাশে বা যেখানে বাতাসের দূষণ বেশি সেখানে বসবাসকারীদের এটি বেশি হতে দেখা যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের জীবাণু বা জীবাণুর সংক্রমণ এ রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যদি আঁশজাতীয় খাবার, শাকসবজি কম খাওয়া হয়, তবে এ রোগ বেশি হয়।  বলা যায়, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতির কারণেই পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি সাধন হয়ে এ অসুখগুলো হয়।

দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি

এ রোগ দুটির নানা রকম দীর্ঘস্থায়ী, নানা প্রকার  উপসর্গসহ বিভিন্ন জটিলতা আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। অন্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি এ রোগের কারণে অনেক বেড়ে যায়। আরো কিছু জটিলতা দেখা দেয়।
  • অ্যানাল ফিস্টুলা হতে পারে
  • অপুষ্টিজনিত অসুখবিসুখ হয়
  • কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়
  • শরীরের অন্যান্য অঙ্গ, যেমন - চোখ, অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া, অস্টিওপরোসিস, লিভারের প্রদাহ, শিশুর শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হওয়া ইত্যাদি হতে পারে।
রোগ নির্ণয়:-  রোগের লক্ষণসহ কিছু রুটিন পরীক্ষা যেমন -রক্ত, পায়খানা, পেটের এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাম ইত্যদি এ রোগ নির্ণয়ে সহায়ক। তবে রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করার জন্য কলোনোস্কোপি, এন্টারোস্কোপি, ফ্লেক্সিবল সিগময়ডোস্কোপি ও এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করা হয়। অনেক সময় বায়োপসি করেও রোগ নির্ণয় সম্ভব করা যায়। পেটের সিটিস্ক্যান, এমআরআইও মাঝেমধ্যে এ রোগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।

স্থায়ী ভাবে নির্মূলের জন্য চিকিৎসা আছে কি ?

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা:- আগেই বলেছি এ রোগ নিরাময়ের কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা এখনো জানা যায়নি। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ পর্যন্ত লক্ষণনির্ভর বা লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের হাতে এই রোগ স্থায়ী ভাবে সারানোর মতো কোন ঔষধ নেই অর্থাৎ আপনাকে সব সময় ঔষধ খেয়ে যেতে হবে ভালো থাকার জন্য।
  • সাধারণত প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এসব ওষুধের মধ্যে আছে অ্যামাইনোস্যালিসাইলেট ও কর্টিকোস্টেরয়েড। আলসারেটিভ কোলাইটিসে অ্যামাইনোস্যালিসাইলেট উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আনতে ভালো কাজ করে কিন্তু স্থায়ী ভাবে ভালো করতে পারে না। আর কর্টিকোস্টেরয়েডের মধ্যে প্রেডনিসোলন, হাইড্রোকর্টিসন তখনই প্রয়োগ করা হয়, যখন রোগটির তীব্রতা ব্যাপক হয় এবং অন্য ওষুধে ঠিকমতো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তখন, ভালো হওয়া তো দূরের কথা।
  • অনেক সময় ইমিউন সিস্টেম সাপ্রেসর বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমিয়ে রাখার জন্যও কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে থাকে এলোপ্যাথি ডাক্তারগণ । এ ধরনের ওষুধের মধ্যে আছে অ্যাজাথিওপ্রাইন, সাইক্লোস্পোরিন, ইনফ্লিক্সিম্যাব, মেথোট্রেক্সেট ইত্যাদি।
  • যাদের আলসারেটিভ কোলাইটিসের সঙ্গে সব সময় জ্বর জ্বর ভাব থাকে, তাদের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও চিকিৎসা দিয়ে থাকে অনেক এলোপ্যাথিক ডাক্তার। কার্যকরী এ ধরনের দুটি অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে মেট্রোনিডাজল ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন।
  • সাধারণত এসব ওষুধের পাশাপাশি ব্যথানাশক, আয়রন সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন বি ১২, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ইত্যাদিও দিতে হয়।
  • রোগ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ ব্যয়বহুল। আবার কিছু ওষুধ  মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ওষুধ প্রয়োগ করেও রোগ ভালো না হলে সার্জারি বা অপারেশনও প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত ক্রনস ডিজিজে আক্রান্তের অর্ধেকেরই সার্জারির প্রয়োজন হয়।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা:- এলোপ্যাথি এই সকল রোগ নির্মূল করতে ব্যর্থ হলেও এটা কখনই মনে করবেন না যে  - আপনি এর থেকে মুক্তি পাবেন না। কারণ এই রোগসমূহ স্থায়ী ভাবে নির্মূল করার চিকিৎসা রয়েছে আপনার হাতের কাছেই - পুঁজিবাদীদের অপপ্রচারের  কারণে যা হয়তো এতদিন আপনার অজানা ছিল। মনে রাখবেন বর্তমান বিশ্বে এলোপ্যাথিই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। এই আধুনিক যুগে পৃথিবীতে প্রায় ১৫০+ চিকিৎসা পদ্ধতি>> রয়েছে। এলোপ্যাথির ক্রমবর্ধমান রোগ জটিলতা, নিরাময়ে ব্যর্থতা, মারাত্মক পার্শপ্রতিক্রিয়া ফলে বিভিন্ন দেশে এই সকল চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে এবং মানুষ সেগুলি গ্রহণ করে সুস্থ্যতা লাভ করছে বিধায় একেক দেশে একেক প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
আর বিকল্প এই সব চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। কারণ শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথি দিয়েই প্রায় ৯০ ভাগ রোগের কার্যকর চিকিৎসা দেয়া যায়।
উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হলো - হোমিওপ্যাথি হল পার্শপ্রতিক্রিয়ামুক্ত একটি স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি। পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত যেকোন প্রকার রোগে হোমিওপ্যাথি দারুন কার্যকর। তবে মনে রাখবেন - এর জন্য আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। যদি একজন ডাক্তারের চিকিৎসাতে ভালো ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ প্রপার ট্রিটমেন্ট নিলে এই সকল রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিস্তারিত

Monday, April 23, 2018

IBS রোগ কি ? Irritable Bowel Syndrome বা আই.বি.এস এর স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে

IBS রোগের পরামর্শ থাকছে এই আর্টিকেলে। ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম  (Irritable Bowel Syndrome) হলো অন্ত্রের দীর্ঘ মেয়াদী একটি বৈকল্য যা সাধারণত পেটের ব্যথা হিসেবে নিজেকে জানান দেয়। আই,বি,এস রোগের জন্য এখনো কিছুকে একক ভাবে দায়ী করা যায়নি। সাধারণত ২০-৪০ বছরের মহিলাদের এবং মানসিক ভাবে অস্থির প্রকৃতির লোকদের মধ্যে আই,বি,এস এর প্রবণতা বেশী দেখা যায়।

পেটের নীচের অংশের যেকোনো একপাশে বা মাঝখানে ব্যথা, সেই সাথে ঘন ঘন নরম মলত্যাগ অথবা দীর্ঘ মেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য আই,বি,এস রোগীদের অভিযোগের প্রথম তালিকায় থাকে। সাধারণত সকালের দিকে অথবা কোনো উত্তেজনাময় মুহুর্তে হঠাৎ করে মলত্যাগের চাপ অনুভব করা আই,বি,এস রোগীর একটি অতিপরিচিত উপসর্গ। এছাড়া পেট ভরা ভরা লাগা, পেটে ভুট ভাট শব্দ করা, অতিরিক্ত বায়ু (Flatus) ত্যাগ করা বা মলত্যাগের পর ও মলাশয়ে কিছু রয়ে গেছে এই অনুভূতি গুলোও আই,বি,এস রোগী প্রতিনিয়ত অনুভব করে থাকেন।
IBS রোগ কি? Irritable Bowel Syndrome বা আই.বি.এস এর স্থায়ী চিকিৎসা জেনে নিন ?
অনেক সময় বৃহদন্ত্রের ক্যন্সার বা টিউমার হলেও রোগীর এই ধরনের অনুভূতি হয়ে থাকে তাই আই,বি,এস এর মতো উপসর্গ নিয়ে আসলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কোলোনোস্কোপি (Colonoscopy), ব্যারিয়াম এনেমা (Barium enema)এই জাতীয় পরীক্ষাগূলো করে ক্যান্সার এর সম্ভাবনা নাকচ করে থাকেন।

ঠিক কি কারণে IBS হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের বৃহদান্ত্রে কোনও ধরনের গাঠনিক ত্রুটি বা অসামঞ্জস্য দেখা যায় না। মনে করা হয় এটি বৃহদন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয়। বৃহদন্ত্রের মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট যে চলাচল প্রক্রিয়া তাতে বিঘ্ন ঘটে এ রোগে । মানসিক চাপ, আবেগীয় সমস্যা, বিশেষ ধরণের কিছু খাবার ও পরিপাকতন্ত্রের স্থানীয় হরমোন Serotonine- এর প্রভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়। খাবারের পরিমাণও IBS- এর রোগীদের অস্বস্তিতে ফেলে। এক সাথে বেশি পরিমাণ খাবার খাওয়া এ রোগীর যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিতে পারে।

রিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম আই বি এস এর লক্ষণ

  • পেটে ব্যাথা, বিশেষ করে মোচড় দিয়ে বা কামড় দিয়ে ব্যাথা
  • পেট ফাঁপা বা পেটে গ্যাস জমা হওয়া
  • মলত্যাগের পরও অসম্পূর্ণ  মল ত্যাগের অনুভূতি
  • পাতলা পায়খানা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পেটে অস্বস্তি ইত্যাদি 

আই.বি.এস স্থায়ীভাবে নির্মূলকারী চিকিৎসা

এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ আজও নির্ণয় করতে না পারার কারণে এলোপ্যাথিতে এর নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই কারণ এর ঔষধ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজও আবিষ্কার করতে পারেননি, তারা এটিকে মানুষিক রোগ বলেই চালিয়ে দিয়ে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। আর সেই সাথে এর জন্য যে ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন সেটিও নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে থাকে অর্থাৎ আপনাকে এখানেও শান্তিতে থাকতে দিবে না। তাহলে কি এই রোগ থেকে মুক্তি নেই ? অবশ্যই এর থেকে আপনার মুক্তি রয়েছে। আপনাকে জানতে হবে পৃথিবীতে রয়েছে প্রায়ই দেড় শতাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এলোপ্যাথিই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। কোন না কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেই রোগেরও স্থায়ী আরোগ্য রয়েছে যা এলোপ্যাথি করতে পারছে না।

সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে Irritable Bowel Syndrome (IBS) ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম আই.বি.এস নির্মূলের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। কারণ হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে রোগীর - শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আই.বি.এস এর ক্ষেত্রে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক প্রকার লক্ষণ অর্থাৎ লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের এই রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অযথাই এলোপ্যাথির পেছনে ছুটাছুটি করে আপনার টাকা পয়সা এবং সময় নষ্ট না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। আর সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম।
বিস্তারিত

Saturday, April 21, 2018

আই.বি.এস (IBS) ও পুরাতন আমাশয় ভালো হচ্ছে হোমিও চিকিৎসায়

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম - আই.বি.এস Irritable Bowel Syndrome (IBS), পুরাতন আমাশয় এবং অন্যান্য ক্রনিক লিভার এবং পরিপাকতন্ত্রের পীড়ায় হোমিও ডাক্তাররা খুব সহজেই হ্যান্ডেল করছেন অথচ এই সব ক্ষেত্রে এলোপ্যাথির নামকরা ডাক্তারগণ পর্যন্ত যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এইগুলিকে মানুষিক ব্যাধি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এই সকল রোগ সমূহ সারাতে কেন এলোপ্যাথি চিকিৎসা ব্যর্থ ! আর কেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণ খুব সহজেই এই রোগগুলি নির্মূল করতে পারছেন ? এরই তাৎপর্য খুঁজবো আজকে। আশা করি পুরু আর্টিকেলটি মনযোগ দিয়ে পড়বেন।

প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে বর্তমান বিশ্বে এলোপ্যাথিই এক মাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। পৃথিবীতে এখন প্রায় ১৫০টিরও বেশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি চালু রয়েছে : এখানে দেখুন >>>। এবার হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে - এলোপ্যাথি থাকতে কেন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে ? এর উত্তর খুব সহজ। অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার বিকল্প চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয় এবং অনেক জটিল এবং কঠিন রোগ থেকে এই সকল চিকিৎসার মাধ্যমে খুব সহজেই মানুষজন সুস্থতা লাভ করছে বিধায় বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আই.বি.এস (IBS) ও পুরাতন আমাশয় ভালো হচ্ছে হোমিও চিকিৎসায়
এবার আপনাকে বুঝতে হবে এলোপ্যাথিতে একটি রোগের কার্যকর চিকিৎসা নেই এর মানে এই নয় যে পৃথিবীতে আপনার রোগের কোন চিকিৎসা নেই! এর মানে এই নয় যে আপনি কখনো ভালো হবে না ! আপনাকে শুধু খুঁজে বের করতে হবে, কোন চিকিৎসা ব্যবস্হায় আপনার রোগের স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে। এটাই হল আপনার প্রথম কাজ। তারপর দ্বিতীয় কাজ হলো আপনাকে চিকিৎসা নেয়া। 

এবার আসুন আমরা আবার আগের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আই.বি.এস (IBS) এবং পুরাতন আমাশয়ের মতো রোগগুলি এলোপ্যাথি নিরাময়ে ব্যর্থ আর এর প্রধান কারণ হলো - আজ পর্যন্ত এলোপ্যাথিক বিজ্ঞানীরা আই.বি.এস (IBS) রোগের পেছনে দায়ী প্রকৃত কারণটি কি সেটাই আবিষ্কার করতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা। তাই তারা এটাকে মানুষিক রোগ বলে চালিয়ে দিয়ে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। যার কারণে এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ এই রোগের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা দিতে পারেন না। তার মানে এই নয় যে, এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই!

আগেই বলেছি - অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে আর বর্তমান বিশ্বে, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে হোমিওপ্যাথি এক নম্বর স্থান শুরু থেকেই দখল করে আছে। এলোপ্যাথি লবি যদি WHO কে হোমিওপ্যাথিকে স্বীকৃতি >> দিতে বাধা না দিতো তাহলে হয়তো আজ বিশ্বে হোমিওপ্যাথিই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতির স্থানটি দখল করে নিতো। উল্লেখ করা প্রয়োজন, যিনি হোমিওপ্যাথির আবিস্কারক তিনি পূর্বে নিজেই একজন নামকরা এলোপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই হোমিওপ্যাথি জনপ্রিয়। এর প্রধান কারণ হলো যেখানে এলোপ্যাথি জটিল ও কঠিন রোগগুলি নিরাময়ে ব্যর্থ সেখানে হোমিওপ্যাথি মন্ত্রের মতো কার্য্যকর।

আই.বি.এস (IBS) এবং পুরাতন আমাশয় কেন হোমিও চিকিৎসায় ভালো হয়

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা ঠিকই যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে আই.বি.এস (IBS) এবং পুরাতন আমাশয়ের মতো জটিল রোগগুলি স্থায়ী ভাবে নির্মূল করে রোগীকে সুস্থ করে তুলছেন। কিন্তু তাদের এই সাফল্যের পেছনে কারণটি কি ? আসুন এ সম্পর্কে আমরা জেনে নিই।  আপনি হয়তো জেনে থাকবেন হোমিওপ্যাথিতে একই রোগের জন্য রয়েছে অনেক উন্নত মানের কার্য্যকর ঔধষ। শুধু তাই নয় এই সকল ঔষধও আবার বিভিন্ন শক্তি বা পাওয়ারে বিন্যস্ত করা। বিস্তারিত পর্যালোচনা পূর্বক লক্ষণ সাদৃশ্যে অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারগণ তাদের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সকল ঔষধের পাওয়ার সিলেকশন করে প্রয়োগ করে থাকেন। 
আপনি এটা জেনেও অবাক হবেন যে - হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে  রোগীর - শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আই.বি.এস, পুরাতন আমাশয় এবং অন্যান্য ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রে একেক জন রোগীর শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে সে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের ব্যক্তি ভেদে লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারদের এই সকল রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। 
তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অযথাই এলোপ্যাথির পেছনে ছুটাছুটি করে আপনার টাকা পয়সা এবং সময় নষ্ট না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। তাছাড়া ডাক্তারের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও হোমিও চিকিৎসা দানের ক্ষত্রে একটি বড়ো ফ্যাক্টর। একজন হোমিও ডাক্তার যত অভিজ্ঞ হবেন তার চিকিৎসাও তত অব্যর্থ হবে। তাই সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন সব সময়।  ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

Saturday, April 14, 2018

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন? একবার খাওয়ার আগে ১০ বার ভাবুন কি খাচ্ছেন ?

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম-বেশি সবারই হয়। গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণগুলো হল পেটে জ্বালা-পোড়া করা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি করা, পেটে ক্ষুধা, ক্ষুধা হ্রাস পাওয়া, খাওয়ার পর উপরের পেট বেশি ভরে গিয়েছে অনুভূতি হওয়া ইত্যাদি।

খাবার সময়মতো খাওয়া হয়না, বাইরের ভাজা-পোড়া বেশি খাওয়া, জাঙ্কফুড খাওয়া, পরিমাণ মতো পানি না খাওয়া ইত্যাদি কারণে গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা দেখা দেয়।

পেটে জ্বালা-পোড়া করা, বুক ও গলা জ্বালাপোড়া বা পেটে গ্যাসের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এলোপ্যাথিক গ্যাস্ট্রিকের ধরনের ওষুধ সেবনে আমাদের কিডনিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করলেন গবেষকরা। কারণ এটা সবারই জানা যে - এমন কোন এলোপ্যাথিক ঔষধ নেই যার কোন না কোন সাইড ইফেক্ট নেই।
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন
গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস (পিপিআইএস) জাতীয় ওষুধ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ তৈরি করে। নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক প্রদীপ আরোরা ও তার গবেষক দল ৭১ হাজার ৫১৬ রোগীর পরীক্ষা করেন, যাদের মধ্যে ২৪ হাজার ১৪৯ জন দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত।

এসব রোগীর মধ্যে ২৫ শতাংশ পিপিআইএস জাতীয় ওষুধ সেবন করেছেন। পিপিআই জাতীয় ওষুধ ব্যবহারকারী মধ্যে ১০ শতাংশের কিডনি রোগীর ঝুঁকি বাড়ায় এবং ৭৬ শতাংশের ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

প্রদীপ অরোরা বলেন, রোগীদের বৃহৎ একটা অংশ পিপিআইএস জাতীয় ওষুধ সেবন করেন। যারা স্বাস্থ্য সেবা দেন তাদের এই জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিৎ।

একটি পানীয় যদি অনেকগুলো স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করে, তবে কেমন হয়? ভাবছেন এটি কী করে সম্ভব? এটি সম্ভব, একটি পানীয় রক্তচাপ হ্রাস করবে, ডায়াবেটিস কমিয়ে দেবে এমনকি এই একটি পানীয় শরীরে ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করবে! এটি দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে।
একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার নিন। এর সাথে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ বিশুদ্ধ মধু এবং ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টের সাথে এক গ্লাস জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার পান করুন
এছাড়া আপনি যদি দীর্ঘস্থায়ী কোন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট দিন। কারণ হোমিওতে সকল প্রকার গ্যাস্ট্রিকের পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন উন্নত চিকিৎসা রয়েছে যা এলোপ্যাথি ডাক্তাররা কল্পনাও করতে পারে না। কারণ এলোপ্যাথি আপনাকে সারা জীবন গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়াবে - কিন্তু আপনার রোগ নির্মূল করতে পারবে না। অর্থাৎ সারা জীবনই তারা আপনার পকেট কাটবে। আর আপনি হয়তো ভেবে বসে আছেন এটিই হলো একমাত্র চিকিৎসা। আপনার জানা উচিত বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১৫০টিরও বেশি চিকিৎসা পদ্ধতি >>> রয়েছে। অর্থাৎ সব রোগেরই সুচিকিৎসা রয়েছে আপনাকে শুধু খুঁজে বের করতে হবে - কোনটি আপনার রোগ সারাতে স্থায়ী ফল দিবে। 
বিস্তারিত

Sunday, April 1, 2018

যকৃৎ বা লিভারের জটিল রোগসমূহের লক্ষণ ও কার্যকর চিকিৎসা

আমাদের দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল লিভার বাংলায় যাকে যকৃত বলা হয়ে থাকে।  তাই আমরা আজ লিভারের কিছু জটিল রোগ ব্যাধি নিয়ে আলোচনা করব যেমন - লিভার অ্যাবসেস বা ফোঁড়া, ভাইরাল এবং ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, ফ্যাটি লিভার। দেহকে সুস্থ্য ভাবে কার্যক্ষম রাখার জন্য এই লিভারকে অনেক কাজ করতে হয় যেমন খাদ্য হজম করতে, গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ঔষুধ বা অন্যান্য রাসায়নিক নির্বিষকরণ, পিত্তরস উৎপাদন, রক্ত পরিস্রুত করণ ইত্যাদি।

উল্লেখিত কাজ ছাড়াও লিভার দেহের আরও কিছু জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এক কথায় বলতে গেলে লিভার হলো মানব দেহের একটি পাওয়ার স্টেশন যার সুস্থতার উপর আমাদের দেহের অন্যান্য অনেক কিছুই নির্ভর করে।
যকৃৎ বা লিভারের জটিল রোগসমূহের লক্ষণ ও কার্যকর  চিকিৎসা
লিভার সুস্থ্য রাখতে লিভারের জটিল রোগসমূহ সম্পর্কে আমাদের সবার সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন কারন লিভারের রোগের লক্ষণাদি সহসাই প্রকাশ পায় না এমন কি লিভারের এগারো ভাগের একভাগ অংশ ও যদি ভালো থাকে তবে সে অবস্থাতেও লিভারের রোগ প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই আমাদের খুব ভাল করে এর যত্ন, রোগ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার। তাই এর গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদের দেশে যে সব লিভারের জটিল রোগ হয়ে থাকে সেই সব রোগ এর লক্ষণ, প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় করণীয় সম্পর্কে বর্ননা করা হলো।

লিভার অ্যাবসেস বা ফোঁড়া

লিভার অ্যাবসেস বা লিভারের ফোঁড়া মানব দেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি রোগ। লিভারে দুধরনের ফোঁড়া হয়, পায়োজেনিক ও অ্যামিবিক। ইকোলাই, স্টাফাইলোকক্কাই, স্ট্রেপ্টোকক্কাই, ক্লেবসিয়েলা ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া পায়োজেনিক লিভার অ্যাবসেসের জন্য দায়ী, আর অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস হয় অ্যামিবা থেকে। তবে এসব জীবাণু ঠিক কী কারণে লিভারে ফোঁড়া তৈরি করে তা সব সময় জানা যায় না। তবে ডায়াবেটিস, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, গ্যাস্ট্রোএন্টাররাইটিস, রক্তের ইনফেকশন, নবজাত শিশুর নাভির ইনফেকশন, অতিরিক্ত মদ্যপান, পেটে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে লিভারে ফোঁড়া হতে পারে। একজন রোগীর লিভারে একটি বা একাধিক ফোঁড়া থাকতে পারে।

লিভার অ্যাবসেস রোগের লক্ষণ:- লিভারের ফোঁড়ার কোনো বিশেষ লক্ষণ নেই। রোগীদের সাধারণত খাবারে অরুচি, জ্বর ও পেটে ব্যথা থাকে। অনেক সময় কাশি কিংবা ডান কাঁধে ব্যথা থাকতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস হতে পারে।

লিভার অ্যাবসেস হলে করণীয় ও চিকিৎসা:- লিভার অ্যাবসেসের জন্য মূল পরীক্ষা হলো পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগের শুরুতে আল্ট্রাসনোগ্রামে অ্যাবসেস ধরা পড়ে না। এ জন্য ৭ থেকে ১০ দিন পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপিট করলে ভালো। অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারগণ  লিভার অ্যাবসেস হলে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। তবে লিভার থেকে পুঁজ বের করে দেয়াটা জরুরি। বিশেষ করে লিভারে যদি বড় বা একাধিক অ্যাবসেস থাকে। এক সময় এর জন্য অপারেশনের প্রয়োজন পড়লেও আজ আর তার দরকার পড়ে না। এখন লোকাল অ্যানেসথেসিয়া করে খুব অল্প খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাফি গাইডেনসে লিভার থেকে পুঁজ বের করা সম্ভব। এরপর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে লিভারের ফোঁড়া সেরে যায়। 
তবে এর থেকে ভালো চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। কারণ এখানে এলোপ্যাথির তুলনায় চিকিৎসা জটিলতা এবং খরচ অনেক অনেক কম। তার উপর হোমিও ঔষধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। 

ভাইরাল হেপাটাইটিস

হেপাটাইটিস হলো লিভারে প্রদাহ, সাধারনত হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস দ্ধারা স্বল্প মেয়াদী প্রদাহ কে ভাইরাল হেপাটাইটিস বলে। আমরা অনেকেই এই ধরনের রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাকে জন্ডিস বলি। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস ছড়ায় এবং স্বল্প মেয়াদী লিভার প্রদাহ করে থাকে।

ভাইরাল হেপাটাইটিস এর লক্ষণ:- একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস বা স্বল্পমেয়াদী লিভার প্রদাহের প্রধান লক্ষণগুলো হলো— জন্ডিস, খাবারে অরুচি, উপরের পেটের ডান দিকে বা মাঝখানে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি, দুর্বলতা ও জ্বর।

ভাইরাল হেপাটাইটিস হলে করণীয়:- রোগীকে হলুদ, মরিচ, তরিতরকারি, মাছ-মাংস ইত্যাদি স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন। ফল, ডাবের পানি, আখের রস ইত্যাদি খাওয়াবেন না। ঘন ঘন গোসল করাবেন না। ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে যদি রোগের লক্ষণ ভালো না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। রোগ ধরা পরার পর কেউ অস্থিরতা, অস্বাভাবিক আচরণ করলে বা অজ্ঞান হলে, এটা মারাত্মক জরুরি অবস্থা। তাকে অনতিবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। 
আপনি জানেন কি এক্ষেত্রে এলোপ্যাথির তুলনায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারীতা ৮০% বেশি। তাই এই সমস্যায় রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। 

ক্রনিক হেপাটাইটিস

লিভারের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের ফলে যেসব রোগ হয়ে থাকে তাকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বলে। হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাস রক্ত কিংবা দূষিত সিরিঞ্জ বা সুচের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে হেপাটাইটিস ই-ভাইরাস রক্তের মাধ্যমেও ছড়ায়। বাংলাদেশে ক্রনিক হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। রোগী প্রাথমিক অবস্থায় বুঝতেই পারেন না কখন তিনি বি অথবা সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাবিহীন থাকলে এই সংক্রমণ মাসের পর মাস লিভার এর ক্ষতি করে। এমনকি লিভার সিরোসিসে রূপ নেয় এবং পরে লিভার ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। উল্লেখ্য, হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস আমাদের দেশে যথাক্রমে ৬০ ও ৩০ শতাংশ লিভার সিরোসিস এবং যথাক্রমে ৬৪ ও ১৭ শতাংশ হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা বা লিভার ক্যান্সার এর জন্য দায়ী।

ক্রনিক হেপাটাইটিসের লক্ষণসমূহ:- ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস তথা দীর্ঘ মেয়াদী লিভার প্রদাহে ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় লিভারের কোষে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা ও পেটে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখে পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় নেই কোন ভাইরাস হয়েছে। কিন্তু যাদের ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস থেকে লিভার সিরোসিস হয়ে যায় তাদের ক্ষুধামন্দা, পেটের অসুখ, শরীর শুকিয়ে যাওয়া, জন্ডিস, পেটে পানি আসা ও চেতনালোপ জাতীয় লক্ষণ দেখা দেয়।

ক্রনিক হেপাটাইটিস হলে করণীয় ও চিকিৎসা:- এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে বিশেষজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে পরিক্ষা করাতে হবে যে এই ভাইরাসের প্রাণ HBV DNA বা HBeAg রক্তে বহমান কিনা? এবং তা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পজেটিভ কিনা? ভাইরাসটা লিভারে সংক্রামিত হয়ে লিভারের ক্ষতি করে লিভার এনজায়েম ALT(SGPT) বাড়িয়ে দিয়েছে কিনা? যদি রোগীর রক্তে HBV DNA বা HBeAg ছয় মাসের বেশি সময় পরেও বিদ্যমান থাকে, রক্তে ALT (SGPT) দুই বা আড়াই গুণেরও বেশি থাকে তখন মানুষটি রোগী বলে বিবেচিত হবেন। কিন্তু ALT (SGPT) পরিমাণ যদি স্বাভাবিক থাকে, HBV DNA ও HBeAg নেগেটিভ থাকে তবে কিন্তু তিনি রোগী নন, HBsAg বহনকারী সুস্থ Carrier, তার চিকিৎসা অনাবশ্যক , তিনি এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাহীন এবং এর প্রতিষেধকও নিতে পারবেন না।
তবে এক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে যখন যে প্রকার চিকিৎসার দরকার পড়বে তখন সেই চিকিৎসা নিলেই বিপদমুক্ত থাকবেন। এক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসার সাফল্য অনেক বেশি, যা সারা বিশ্বে অন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতি দেখতে পারেনি। 

লিভার ক্যান্সার

ক্যান্সার মানেই তো আতঙ্ক আর তা যদি হয় লিভারের মত দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে তাহলেতো কথাই নেই। গবেষনায় প্রমানিত, এদেশে ক্যান্সারে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ লিভার ক্যান্সার। বিশ্বব্যাপি লিভার ক্যান্সারের মূল কারণ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস আর এ্যালকোহল। আমাদের দেশে অবশ্য হেপাটাইটিস বি আসল খলনায়ক, কারণ এদেশে প্রায় ৮০ লক্ষ লোক এ ভাইরাসের বাহক বা HBsAg পজেটিভ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ লোক জীবনের কোন এক পর্যায়ে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ:- যে কোন বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের ঝুকি পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলাদের চেয়ে ৪ থেকে ৬ গুণ বেশী। সাধারণতঃ ক্যান্সার হওয়ার আগে লিভারে সিরোসিস দেখা দেয়, তবে এর ব্যতিক্রম হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। লিভার ক্যান্সারের রোগীরা প্রায়ই পেটের ডান পাশে উপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নীচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন যার তীব্রতা রোগী ভেদে বিভিন্ন রকম। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পরা, পেট ফাপা, ওজন কমে যাওয়া আর হালকা জ্বর জ্বর ভাব এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। লিভার ক্যান্সার রোগীদের প্রায়ই জন্ডিস থাকে না, আর থাকলেও তা খুবই অল্প। রোগীদের খাওয়ায় অরুচি, অতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কষা পায়খানার উপসর্গ থাকতে পারে- আবার কখনো দেখা দেয় ডায়রিয়া। পেটে পানি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে।

লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা ও করণীয়:- লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ে সহজ উপায় একটি নির্ভরযোগ্য আল্ট্রাসনোগ্রাম। তবে কখনো কখনো সিটি-স্ক্যানেরও দরকার পরে। রক্তের AFP পরীক্ষাটি লিভার ক্যান্সারের একটি মোটামুটি নির্ভরযোগ্য টিউমার মার্কার। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত যে কোন ব্যক্তিরই উচিত প্রতি ৬ মাসে একবার AFR ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করা। তবে লিভার ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস কনফার্ম করতে হলে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডেড FNAC অত্যন্ত জরুরি আর অভিজ্ঞ হাতের সাফল্যের হারও প্রায় শতভাগ। এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু। শুরুতে ধরা পরলে আর আকারে ছোট থাকলে অপারেশনের মাধ্যমে এই টিউমার লিভার থেকে কেটে বাদ দেয়া যায়। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় কুসা মেশিন ও দক্ষ হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন এদেশেই বিদ্যমান। পাশাপাশি আছে বিনা অপারেশনে টিউমার অ্যাবলেশন বা টিউমারকে পুরিয়ে দেয়া। নামমাত্র খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডে আমাদের দেশে এখন অহরহই লিভার ক্যান্সারের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন করা হয়। পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডে সস্তায় অ্যালকোহল দিয়েও অ্যাবলেশন বা টিউমার পুড়িয়ে ছোট করে দেয়া সম্ভব। বর্তমানে এলোপ্যাথি ডাক্তাররা কেমোথেরাপি জেলোডা ও সুরাফিনেব চিকিৎসা দিয়ে থাকেন কিন্তু এর রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া । এই দুটি ওষুধ আমাদের দেশে তৈরিও হচ্ছে। লিভার ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসা এদেশে নিয়মিত হচ্ছে।
যদিও এলোপ্যাথি ডাক্তারদের এই চিকিৎসায় সাকসেস রেট অনেক অনেক কম। অথচ সারা বিশ্বে হোমিও ডাক্তারদের লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় রোগীদের সুস্থ করার রেকর্ড বহুগুন্ বেশি তাও আবার কোনোরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ছাড়াই।

লিভার সিরোসিস

লিভার সিরোসিস একটি মারাত্মক ও অনিরাময়যোগ্য রোগ বলে থাকেন এলোপ্যাথি ডাক্তারগণ। তবে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে লিভার সিরোসিস থেকে অনেকটা দূরে থাকা যায়। এতে যকৃৎ বা লিভারের কোষকলা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যায় যে তা সম্পূর্ণ বিকৃত ও অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং প্রদাহ এর কারণে লিভারে ফাইব্রোসিস এবং নুডিউল বা গুটি গুটি জিনিস তৈরি হয় ফলে লিভার এর যেসব স্বাভাবিক কাজ আছে, যেমন বিপাক ক্রিয়া, পুষ্টি উপাদান সঞ্চয়, ওষুধ ও নানা রাসায়নিকের শোষণ, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি ইত্যাদি কাজ ব্যাহত হয়। দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। এ ছাড়া কিছু জন্মগত অসুখের কারণেও এই সমস্যা হয়ে থাকে যেমন, ওইলসন ডিজিজ, হেমোক্রোমেটাসিস ইত্যাদি। ধীরে ধীরে এই রোগ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাই সকলের আগে থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

লিভার সিরোসিসের লক্ষণ:- প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে দেরি হয় তবে সাধারনত রক্তস্বল্পতা, রক্ত জমাট বাঁধার অস্বাভাবিকতা, যকৃতে বেশি পরিমাণে জৈব রসায়ন, বেশি বিলুরুবিন, কম সিরাম অ্যালবুমিন ইত্যাদি সমস্যা ধরা পড়তে পারে। সিরোসিস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও যকৃতের বায়োপসি করতে হয়। সাধারণত খাদ্যে অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি ভাব বা বমি, বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাত, শরীরে পানি আসা ইত্যাদি হলো মূল উপসর্গ। পরে যকৃতের অকার্যকারিতার সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতা, রক্তবমি, রক্তে আমিষ ও লবণের অসামঞ্জস্য ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়।

লিভার সিরোসিস হলে করণীয় ও চিকিৎসা:- লিভার সিরোসিস চিকিৎসার মূল বিষয় হচ্ছে প্রতিরোধ - এটাই হলো এলোপ্যাথি ডাক্তারদের বাণী। তবে এটা ঠিক যে, যেসব কারণে লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে, বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি-এর যেহেতু প্রতিশেধক আছে। তাই আমাদের উচিত প্রত্যেকেরই এই প্রতিশেধক নেওয়া। পাশাপাশি কিছু সচেতনতা জরুরি। দূষিত কোনো সূঁচ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা, কোনো দূষিত রক্ত পরিসঞ্চালন না করা পাশাপাশি সেলুনে সেভ করাসহ যেকোনো কাটাকাটি বা সেলাইয়ের সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি এই ভাইরাস সংক্রমিত হয় না।
আপনি জানেন কি লিভার সিরোসিস নিরাময়ের প্রপার হোমিও চিকিৎসা রয়েছে। তবে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি স্টেজে আসলে এই রোগ দূর করার সম্ভবনা থাকে অনেক বেশি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে - এলোপ্যাথি ডাক্তারগণের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে এমন এক সময় রোগী হোমিও চিকিৎসকের কাছে আসেন তখন তার অবস্থা এতটাই নাজুক থাকে যে, অনেক অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার পর্যন্ত হিমশিম খেয়ে যান এর ট্রিটমেন্ট দিতে। তাই এই সমস্যায় প্রথমেই অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ট্রিটমেন্ট নিন - আশা করি ভালো একটা রেজাল্ট পাবেন, আর এর সাথে আপনার টাকা পয়সাও অনেক বেঁচে যাবে ।  

ফ্যাটি লিভার

লিভার কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে যা তার গাঠনিক উপাদানের ৫ থেকে ১০ শতাংশ তাকে ফ্যাটি লিভার বলে। যখন কোনো মানুষ তার দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বি খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করে, তখন এ চর্বি ধীরে ধীরে তার কলা বা টিসুতে জমতে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মদ্যপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু যাঁরা মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদেরও এই রোগ হতে পারে। সাধারণত মধ্যবয়সী মহিলাদের দেখা দেয়। স্থূলতা ফ্যাটি লিভারের একটি প্রধান কারণ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি (হাইপার লিপিডেমিয়া), বংশগত, ওষুধ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যেমন, মদ বা অ্যালকোহল, স্টেরয়েড, টেট্রাসাইক্লিন এবং কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ইত্যাদি কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে। যাদের ওজন আদর্শ ওজনের ১০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি, তাদের ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মুটিয়ে গেলে শিশুদেরও এ রোগ হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার রোগের লক্ষণ:- রোগীরা সাধারণত ক্লান্তি, অবসাদ, ওপরের পেটের ডান দিকে ব্যথা নিয়ে ডাক্তারদের কাছে আসেন। পরীক্ষা করলে দেখা যায়, রোগীদের এসজিপিটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এদের বিলুরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়, লিভারে অ্যানজাইমের মাত্রা স্বাভাবিক অথচ লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রামে চর্বির মাত্রা বেশি।

ফ্যাটি লিভার হলে করণীয় ও চিকিৎসা:- পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, লিভার বায়োপসি পরীক্ষা করলে রোগটি নির্ণয় করা যায়। যদি লিভারের এনজাইমগুলো বেড়ে যায়, তখন বুঝতে হবে, তার ক্ষেত্রে এই ফ্যাটি লিভারের কারণে দীর্ঘমেয়াদি অসুখ হওয়া আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রোগির জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে, ওজন কমাতে হবে এবং কিছু ওষুধ খেতে হবে। আর যদি শুধু ফ্যাটি লিভার থাকে, পাশাপাশি লিভারের অন্যান্য কার্যক্রম যদি ভালো থাকে, যদি খুব বেশি স্থূলকায় না হোন, তাহলে শুধু একটু জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করলে হয়। সুষম খাবার, কায়িক পরিশ্রম, নিয়মিত ব্যায়াম—এগুলো করলে ভালো থাকবেন।

আসলে আমাদের লিভার সুস্থ রাখতে হলে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। যেহেতু লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউস তাই লিভারের অসুস্থতার ফলাফল ক্ষেত্রবিশেষে হতে পারে ব্যাপক ও ভয়াবহ। সঠিক সময়ে সঠিক হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ নিরাময় এবং জটিলতামুক্ত থাকা যায়। আশাকরি উল্লেখিত লিভারের জটিল রোগসমূহ, লক্ষণ ও চিকিৎসায় করণীয় বিষয় গুলো আপনাকে লিভারের যত্ন নিতে আরও আগ্রহী করবে।
বিস্তারিত

Saturday, February 24, 2018

অ্যাসিডিটির ১২টি ঘরোয়া চিকিৎসা - কাজে লাগতে পারে আপনারাও

পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড থেকে যখন অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরিত হয় তখনই মূলত অ্যাসিডিটি তৈরি হয়। এর ফলে পেটে গ্যাস উৎপাদন, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস, পেট ব্যথা এবং আরো অনেক লক্ষণ দেখা যায়।

সাধারণত খাবার গ্রহণে অনিয়ম, না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চা, কফি পান বা ধূমপান ও মদপানের কারণে অ্যাসিডিটি হয়। এর ফলে বুকে জ্বালাপোড়া এবং খাবার খাওয়ার সময় গলা দিয়ে অ্যাসিড উদগীরণের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এখানে রইল অ্যাসিডিটির সহজ ১২টি ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির বিবরণঃ

১. তুলসী পাতাঃ এই পাতার শীতল এবং বায়ুনাশকারী উপাদান আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাসিডিটির ফলে সৃষ্ট যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে। অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকটি তুলসী পাতা খেয়ে নিন। অথবা ৩-৪টি তুলসী পাতা এক কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং কয়েক মিনিট ধরে সেদ্ধ হতে দিন। এরপর পানিটুকু চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলুন।
অ্যাসিডিটির ১২টি ঘরোয়া চিকিৎসা - কাজে লাগতে পারে আপনারাও
২. ফিনেল টিঃ প্রতিবেলা খাবার গ্রহণের পর অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই পেতে ফিনেল চা বীজ চিবিয়ে খেতে পারেন। ফিনেল চা বদহজম এবং পেট ফাঁপার চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফিনেল বীজের নির্যাস থেকে যে তেল বের হয় তা এ ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।

৩. দারুচিনিঃ এই নম্র মসলাটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে। এটি হজম প্রক্রিয়া ও শোষণক্রিয়া শক্তিশালী করে পাকস্থলীর সমস্যা দূর করবে। পাকস্থলীর নালীগুলোর ইনফেকশন থেকে মুক্তি পেতে দারুচিনির চা পান করুন।

৪. মাখন তোলা দুধ বা ঘোলঃ ভারী বা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অ্যান্টাসিড না খেয়ে বরং একগ্লাস ঘোল পান করুন। এতে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা পাকস্থলীর অ্যাসিডিটিকে স্বাভাবিক করে আনে। এর সঙ্গে কয়েকটি গোল মরিচ বা ১ চা চামচ ধনে পাতা মিশিয়ে দিলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৫. গুড়ঃ খাবারের পর বুড়োরা কেন গুড় খান তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? গুড়ে রয়েছে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেশিয়াম উপাদান যা পাকস্থলীর কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করে। এটি হজম প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করে। আর হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করার মাধ্যমে পাকস্থলীকে অ্যাসিড মুক্ত করে। এ ছাড়া দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা এবং পাকস্থলীকে ঠাণ্ডা করার কাজও করে গুড়।

৬. লবঙ্গঃ লবঙ্গ হজমজনিত বিশৃঙ্খলার চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা শাস্ত্র এবং আয়র্বেদ শাস্ত্রে লবঙ্গের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। লবঙ্গ বায়ুনাশকারী। ফলে এটি পাকস্থলীতে গ্যাস নির্গমণে বাধা দেয়। লবঙ্গ ও এলাচ গুঁড়া খেলে নিশ্বাসের দুর্গন্ধও দূর হয়।

৭. জিরা বীজঃ জিরা বীজ অ্যাসিড প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে। হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক এবং পাকস্থলীর ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। ভাজা জিরা বীজ চূর্ণ করে এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে অথবা এক কাপ সেদ্ধ পানিতে ১ চা চামচ জিরা বীজ মিশিয়ে প্রতিবেলা খাবারের পর পান করুন।

৮. আদাঃ আদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হজমে সহায়ক এবং প্রদাহরোধী উপাদান। পাকস্থলীর অ্যাসিড দূরীকরণে এক ফালি তাজা আদা চিবিয়ে খান। অথবা প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার এক চামচ করে আদার রস খান। অথবা এককাপ ফুটন্ত পানিতে তাজা আদা সেদ্ধ করে পানিটুকু পান করুন।

৯. ঠাণ্ডা দুধঃ ল্যাকটোজ গ্রহণে যাদের কোনো সমস্যা হয় না তাদের পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড দূর করতে দুধ খুবই কার্যকর ভুমিকা পালন করতে পারে। দুধ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। যা পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরিতে বাধা দেয়। সুতরাং পরেরবার অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হলে একগ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করুন।

১০. আপেল সুরা ভিনেগারঃ অনেক সময় পাকস্থলীতে স্বল্প অ্যাসিডিটির ফলেও সমস্যা দেখা দেয়। আর এ ক্ষেত্রে আপেলের সুরা থেকে তৈরি ভিনেগার কাজে লাগে। ১-২ চা চামচ অপরিশোধিত এবং অপরিশুদ্ধ আপেল সুরা ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার বা দুইবার পান করুন। এ ছাড়া এক টেবিল চামচ আপেল সুরা ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে পান করতে পারেন।

১১. নারকেলের পানিঃ নারকেলের পানি দেহে পিএইচ অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে আনে। এ ছাড়া নারকেলের পানি পাকস্থলীতে শ্লেষ্মা তৈরিতেও কাজ করে। শ্লেষ্মা পাকস্থলীকে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। আর এটি আঁশসমৃদ্ধ হওয়ার কারণে হজম প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করে এবং পুনরায় অ্যাসিডিটির হাত থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে।

১২. কলাঃ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই পেতে এটি সবচেয়ে সহজ ঘরোয়া টোটকা। প্রতিদিনি অন্তত একটি কলা খান। তাহলে অ্যাসিডিটির কুপ্রভাব থেকে রেহাই পাবেন।
বিস্তারিত

Tuesday, December 19, 2017

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখুন এই সব খাবার

কোষ্ঠকাঠিন্য খুব পরিচিত একটি সমস্যা এবং এই সমস্যাটি সব বয়সের মানুষদেরই হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণে দেহে দেখা দিয়ে থাকে নানা ধরণের সমস্যা যেমন- এসিডিটি, ক্ষুধা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মাথা ব্যথা, বিষণ্নতা, ব্রণ, এবং মুখে আলসার। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ভালোভাবে জীবনযাপন করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই প্রায় নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষেরা। গর্ভবতী নারীদেরও এটা একটা সমস্যা। কোষ্ঠকাঠিন্যের ভয়ে তাঁরা অনেক কিছুই খেতে ভয় পান। কোনটা খেলে যে স্বস্তি পাবেন, আর কোনটা খেলে কষ্ট চরমে উঠবে, বুঝতে পারেন না।

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি মারাত্মক অস্বস্তিকর শারীরিক সমস্যা, যা সঠিক চিকিৎসার অভাবে পাইলস এবং কোলন ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ দেহে বয়ে নিয়ে আসে। অস্বাস্থ্যকর এবং বাজে খাদ্যাভ্যাস, অপুষ্টিকর খাবার ইত্যাদির কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অস্বস্তিকর সমস্যায় পড়ে থাকেন অনেকেই।
constipation-home-remedy
সব চাইতে ক্ষতিকর দিকটি হলো অনেকেই এই কোষ্ঠকাঠিন্যকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন। এরপর যখন তা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এটি মোটেও ঠিক কাজ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকে অবহেলা করবেন না। যদি ডাক্তারের কাছে যেতে না চান তবে ঘরোয়াভাবে এই সমস্যা বাড়তে না দিয়ে সমাধান করে নিন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

১. আঁশজাতীয় খাবার এবং শাকসবজি ও ফলমূল কম খেলে;
২. পানি কম খেলে;
৩. দুশ্চিন্তা করলে;
৪. কায়িক পরিশ্রম, হাঁটা-চলা কিংবা ব্যায়াম একেবারেই না করলে;
৫. অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার হলে;
৬. ডায়াবেটিস হলে;
৭. মস্তিষ্কে টিউমার হলে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে;
৮. অনেক দিন বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে বিছানায় শুয়ে থাকলে;
৯. বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন, যেমনঃ
ক. ব্যথার ওষুধ;
খ. উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ;
গ. গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ;
ঘ. খিঁচুনির ওষুধ এবং
ঙ. যেসব ওষুধের মধ্যে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামজাতীয় খনিজ পদার্থ থাকে। তা ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার জন্যও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর মধ্যে কাঁপুনিজনিত অসুখ, স্নায়ু রজ্জু আঘাতপ্রাপ্ত হলে, কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ও থাইরয়েডের সমস্যা উল্লেখযোগ্য।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ

  • শক্ত পায়খানা হওয়া;
  • পায়খানা করতে অধিক সময় লাগা;
  • পায়খানা করতে অধিক চাপের দরকার হওয়া;
  • অধিক সময় ধরে পায়খানা করার পরও পূর্ণতা না আসা;
  • মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথার অনুভব করা এবং
  • আঙুল কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে পায়খানা বের করা।

কোষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসা না করা হলে যে সমস্যা হতে পারে

  • পায়খানা ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে
  • পাইলস
  • এনালফিশার
  • রেকটাল প্রোলাপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে যেতে পারে
  • মানসিকভাবে রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে
  • প্রস্রাব বন্ধ হতে পারে
  • খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যেতে পারে
  • খাদ্যনালীতে আলসার বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে এবং
  • কোষ্ঠকাঠিন্য যদি কোলন ক্যান্সার এবং মস্তিষ্কে টিউমারের জন্য হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা করা না হয় তবে অকালমৃত্যু হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা যে ধরনের খাবার এড়িয়ে চলতে পারেন:

দুধ: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার (যেমন: পনির, আইসক্রিম ইত্যাদি) কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে অনেকের। এ ধরনের খাবারে আঁশের পরিমাণ কম। ছোট শিশু যারা শুধু কৌটার দুধ খায়, তাদের এ সমস্যা বেশি। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুধ থাকা উচিত। টক দই হজমে সহায়ক।

মাংস: লাল মাংসে (গরু ও খাসির) চর্বি বেশি থাকে। এটা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এই খাবার অন্ত্রে অনেকক্ষণ থাকে। মাংসের সঙ্গে পাতে যেন প্রচুর সবজি ও সালাদ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

চিপস: স্ন্যাকস বা নাশতা হিসেবে পটেটো চিপসজাতীয় খাবার ভালো নয়। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেবে।

হিমায়িত খাবার: সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে পানি শুকিয়ে ফেলা হয় ও লবণ বেশি থাকে। ফলে এ ধরনের খাবারে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়বে।

বেকারি পণ্য: বেকারি পণ্য যেমনবিস্কুট, ক্র্যাকার্স, ডোনাট, পেস্ট্রিজাতীয় খাবারে চর্বি বেশি, জলীয় অংশ কম, আঁশও কম। এর ফলে যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাঁদের জন্য এগুলো বর্জনীয়। ফল খাওয়াটা তাঁদের জন্য ভালো।

কাঁচকলা: কাঁচকলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, এটা ঠিক। তবে পাকা কলায় যথেষ্ট আঁশ আছে। তাই ওটা খাওয়া যাবে।

ভাজাপোড়া: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, বিস্কুটের গুঁড়া ও ব্রেড ক্রাম্বে ভাজা যত খাবার আছে, সেগুলো অন্ত্রের চলন কমিয়ে দেয় ও কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে কিছু খাবার

কলা:- কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া কলা পটাশিয়াম বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে কলার অবদান অপরিসিম।

কফি:- কফি একটি জনপ্রিয় পানীয়। এটা আজকাল সবাই খেয়ে থাকে। যখন শরীর থেকে ঘুমের ভাব কাটানোর দরকার হয় তখন বেশিরভাগ মানুষ কফি পান করেন, কিন্তু এটা অন্যান্য কারণেও উপকারি। কারো কারো ক্ষেত্রে এই কফি পেট নরম করতে সাহায্য করে থাকে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গিয়ে অতিরিক্ত কফি পান করে বসবেন না যেন, এতে ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে। ২-৩ কাপের বেশি পান না করাই ভালো।

পানি:- এটা তো বলার প্রয়োজন নেই পানি আমাদের দেহের জন্য কতটা উপকার। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শরীর যথেষ্ট পানি না পাওয়ার কারণে তৈরি হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। এ কারণে যথেষ্ট পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে আপনি যখন ব্যায়াম করবেন বা বাইরে অনেকটা সময় গরমে কাটাবেন, তখন পানি বিশেষভাবে জরুরী।

কমলা:- উচ্চমাত্রার ফাইবার সমৃদ্ধ কমলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে একটি বা দুটি কমলা খাওয়া অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করবে। জুস নয়। বরং আস্ত কমলা ফলটাকেই খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে যে ফাইবার থাকে। তা আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করবে শুধু তা নয় সাথে পুরাপুরি সারাতেও সম্ভাব করবে। এটা ২০০৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে কমলায় থাকা নারিনজেনিন নামের একটি উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক সহায়ক।

পপকর্ন:- অনেকে পপকর্ন খাবার এতটা নাও পছন্দ করতে পারে। কিন্তু পপকর্ন যে কতটা স্বাস্থ্যকর খাবার তা আমাদের জানা প্রয়োজন। আর পপকর্নে যে ফাইবার থাকে তার কারনে খাদ্য তালিকায় পপকর্ন রাখা উচিত। এই ফাইবারের কারণে আপনার দেহের অনেক সাহায্য করতে পারে। তবে সাবধান, মাখনে ভরা ফ্যাটি পপকর্ন খাবেন না। দরকার হলে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন একদম সাধারণ পপকর্ন। পপকর্নে থাকা ফাইবার উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক উপকারি।

লাল চাল:- যদিও আমাদের সাদা চাল খাওয়ার অভ্যাস কিন্তু প্রতি কাপ লাল চালে থাকে ৩.৫ গ্রাম ফাইবার। এ ছাড়াও এটি সাধারণ সাদা চালের চাইতে বেশি পুষ্টিকর। আরো খেতে পারেন বিভিন্ন হোল গ্রেইন। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে লাল চালের ভূমিকা অনেক বেশি।

পালং শাক:- সবজি হিসেবে পালং আমাদের অনেক পছন্দের। এক কাপ সেদ্ধ পালং শাকেই থাকে চার গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও থাকে ১৫০ মিলিগ্রামের বেশি ম্যাগনেসিয়াম, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পালং শাকের ভূমিকা অপরিসীম।

টকদই:- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে টকদইয়ের তো তুলনায় নেই। টকদইয়ের প্রোবায়োটিক গুণাগুণ আপনার হজমের সমস্যাকে দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। এমনকি নিয়মিত টকদই খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হবার সম্ভাবনা থাকবেই না।

ইসুপগুলের ভুষি:- ইসুপগুলের ভুষি পানির সাথে মিশিয়ে খেলে যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান হয় এটা প্রায় সবাই জানেন। তবে খেতে হবে নিয়ম মতো। অনেকেই ইসুপগুলের ভুষি পানিতে ভিজিয়ে রাখেন এবং পরে খান। এতে আসলে উপকার হয় না। বরং পানিতে দিয়ে সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে। আবার অনেক ইসবগুল বা ভূসি ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে চিনি বা গুড়সহ নিয়মিত খালি পেটে সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে এই কথাও বলে থাকে গ্রামে-গঞ্জে দীর্ঘকাল ধরে। একথা সত্যি ইসুপগুলের ভুষি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক উপকার।

আপেল:- আপেলের গুনাগুন তো আমরা কমবেশি জানি। আপেলের খোসার মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার যা খাবার হজমের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়াও আপেলের প্যাক্টিন নিশ্চিত করে পরিপাকতন্ত্রের সঠিক কর্মক্ষমতা। সবচাইতে ভালো ফলাফল পেতে প্রতিদিন খালি পেটে অন্তত ১ টি আপেল খেতে হবে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আপেলের উপকারিতা অনেক।

গাজর:- গাজর একটি সুস্বাদু সবজি। এই সবজিটি কাঁচাও খাওয়া যায় এবং রান্না করেও খাওয়া যায়। এই অত্যন্ত সুস্বাদু সবজিটি প্রক্রিতিক ডায়াটেরি ফাইবারের বেশ ভালো উৎস। মাত্র আধা ইঞ্চির ৭ খণ্ড গাজরে রয়েছে প্রায় ১.২ গ্রাম ফাইবার। প্রতিদিন গাজর খাওয়ার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকে দূরে রাখবে চিরকাল। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গাজর খাওয়ার অভ্যাস করার দরকার।

শসা:- শসার বেশীরভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি, আর শসার ডায়াটেরি ফাইবার শসাকে করে তোলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার মহৌষধ। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করতে সক্ষম নিয়মিত শসা খাওয়ার অভ্যাস থেকে।

কাঠবাদামের তেল:- কাঠবাদামের তেল কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। কাঠবাদামের ল্যাক্সাটিভ ইফেক্ট হজম ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন রাতে ১ গ্লাস দুধে ২ টেবিল চামচ কাঠবাদামের তেল মিশিয়ে পান করলে সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া সম্ভব।

পাকা বরই:- আবার অনেকে পাকা বরই কে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য ব্যবহার করে থাকে। এই মিষ্টি পাকা বরই চটকে খোসা ও বীজ ফেলে অথবা ছেঁকে অল্প পানি মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের উপশম হয়।

বেলের সরবত:- বেলের সরবতও অনেক উপকারী। ৩০-৩৫ গ্রাম পাকা বেলের শাঁস প্রতিবারে ১ গ্লাস পানিতে শরবত তৈরী করে দিনে ২ বার সেবন করতে হবে। এভাবে কমপক্ষে ৫-১০ দিন বেলের সরবত পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

বুচকি দানা:- বুচকি দানাও উপকারী। ২ গ্রাম পাতা চূর্ণ রাতে ঘুমানোর সময় গরম পানি অথবা দুধসহ সেবন করতে হবে। খারাপ লাগলে দই খেতে হবে।

ঘরোয়া উপায়:- কোষ্ঠকাঠিন্য বেশ অস্বস্তিকর একটি সমস্যা। পেট ফোলাভাব, বমি বমি ভাব, বাথরুম করতে অসুবিধা ইত্যাদি সমস্যা হয় এ সময়। সমস্যা হলে তো চিকিৎসকের কাছে যাবেনই, তবে ঘরে তৈরি একটি পানীয় খেয়ে দেখতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এই পানীয়। জেনে নিন ৩টি আয়ুর্বেদিক উপায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অব্যর্থ।

এই পানীয় তৈরি করতে লাগবে তিনটি উপাদান অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, মধু ও পানি। অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে রয়েছে অ্যাসিটোব্যাকটার নামের একটি ভালো ব্যাকটেরিয়া। এটি খাবারকে ভাঙতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমতে সহায়ক হয়। তবে এর জন্য কাঁচা ও অপরিশোধিত অ্যাপেল সিডার ভিনেগার প্রয়োজন। কাঁচা মধুর মধ্যে থাকা উপাদান ইউজেনল কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কাজ করে। এই পানীয় বানানোর জন্য এক গ্লাস গরম পানি নিতে হবে। এর মধ্যে দুই টেবিল চামচ কাঁচা অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে। এর মধ্যে দুই টেবিল চামচ কাঁচা মধু দিতে হবে। একে ভালো নাড়তে হবে। মধুকে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে সকালে বা দিনের যেকোনো সময় এটি পান করতে হবে।

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে একটি খোসাসহ পুরো আপেল খাবেন। এছাড়া রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক কাপ কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। এটা হজমে সহায়তা করবে এবং কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করবে।

সারা রাত বড় ১টি সাদা এলাচ এক কাপ গরম দুধে ভিজিয়ে রাখতে হবে । সকালবেলা এই এলাচটি থেঁতো করে দুধসহ খেতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাটি যদি ভয়াবহ রকমের বেশি হয় তাহলে সকাল ও রাতে একইভাবে দুধসহ এলাচ খেতে হবে।

কিসমিস ও গরম দুধ:- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কিসমিস ও গরম দুধের অনেক উপকার। ১০/১২টি কিসমিস নিয়ে তার মধ্যে বিচি থাকলে ছাড়িয়ে ফেলতে হবে। এরপর ১গ্লাস দুধে কিসমিস দিয়ে ১চিমটি দারুচিনির গুড়া ভালভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। এভাবে টানা ৩দিন দুধ পান করতে হবে। তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

ত্রিফলা:- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ত্রিফলা কার্যকরী। ত্রিফলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া এটি হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ও বদহজম জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ ত্রিফলা পাউডার ১ গ্লাস গরম পানিতে বা গরম দুধে ভালভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে তা নিয়মিত পান করতে হবে। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

তিলবীজ:- তিল বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে অনেক উপকার করে থাকে। তিল বীজ গুড়া করে আটা বা ময়দার সাথে মিশিয়ে রুটি তৈরি করে খেতে পারেন। এতে করে দেহে ফাইবারের অভাব পূরণ হবে। সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে কি করবেন ?

আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগতে থাকেন তাহলে এটি দূর না করলে আরো মারাত্মক স্বাস্থ জটিলতায় পড়তে পারেন এই যেমন পাইলস এবং কোলন ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাই ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে দেরি না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন আশাকরি অচিরেই এই সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন কারণ একমাত্র হোমিওতেই রয়েছে ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের স্থায়ী চিকিৎসা।
বিস্তারিত