Showing posts with label লিভার পিত্ত ও পেটের পীড়া. Show all posts
Showing posts with label লিভার পিত্ত ও পেটের পীড়া. Show all posts

Wednesday, October 29, 2014

পিত্ত পাথর (Gallstone) - কারণ, লক্ষণ এবং চিকিত্সা

অনেক সময় কোন কারণবশত পিত্ত কোষে অথবা পিত্তবাহী নালীতে পিত্তরস জমাট বেধে প্রস্তরকনা আকার ধারণ করে যাকে পিত্ত পাথরী বলা হয়ে থাকে।  পিত্তবাহী নালীতে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে এই রোগটি হতে পারে। সচরাচর এই রোগটি অন্য কোনো কারণে হয় না। রোগের পিত্ত কোষে (Gallbladder) যে পিত্ত পাথর হয় তার আকার এবং প্রকার বিভিন্ন রকম। ইহা ছোট বড় মাঝারি গুলাকার, সাদা কালো কাটা সবুজ বর্ণ ইত্যাদি হতে পারে। ইহা বালুকা কনার মত অথবা পায়রার ডিমের আকারেরও হতে পারে। একটি অথবা একধিক পাথরী পিত্ত পিত্ত্কোষে জন্মে বেদনার সৃষ্টি করতে পারে। 
বর্তমানে আমাদের দেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। এই পাথর যতদিন পিত্তকোষে আবদ্ধ থাকে ততদিন রোগী তেমন বিশেষ অস্বস্থি বোধ করেনা, মাঝে মাঝে সামান্য বেদনার অনুভব করে। কিন্ত যখন পিত্তকোষ হতে এই পথরী পিত্ত নালীর মধ্য এসে পড়ে তখনই অসম্ভব বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী অস্থির হয়ে পড়ে। এই বেদনাকে পিত্ত শূল Biliary colic বলা হয়। 

পিত্ত পাথরের (gall stone) কারণ :- শারীরিক বিধিশুদ্ধ নিয়মানুসারে পিত্তকোষ (Gallbladder) হতে সঞ্চিত পিত্তরস পিত্তনালী (Bile Duct) দিয়ে ক্রমে ক্রমে ক্ষুদ্রান্তের প্রথমাংশ বা ডিউডেনামের মধ্যে প্রবাহিত হয়। আহারাদির দোষে অথবা পিত্ত কোষের বা পিত্ত নালীর প্রদাহ জনিত কারণে এই পিত্ত প্রবাহ বিঘ্নিত হতে পারে, ইহার ফলে পিত্তরস জমাট বেধে যায় এবং ধীরে ধীরে পিত্ত পাথরী দেখা দেয়। যদি পিত্ত পাথরী ছোট হয় বা বালু কনার মত হয় তখন তা অনেক সময় আপনা থেকেই বেরিয়ে যায় এবং কখন সেটা বেরিয়ে যায় তা ঠিক বুঝা যায় না। তবে পিত্ত পাথরী আকারে বড় হলে বেরিয়ে যেতে পারেনা তখন বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী কষ্ট পায়। পিত্ত কোষ অঞ্চলে মাঝে মাঝে ব্যথা লক্ষণটি দেখে অনেক সময় ধরা যায়। আবার অনেক সময় জীবনভর পিত্ত পাথরী পিত্ত কোষে থেকে যায় এবং তা সত্তেও রোগী কোন রূপ কোন বেদনার অনুভব করেনা। 

এই রোগ হলে পিত্ত ক্ষরণ যথারীতি হতে পারেনা। সর্বদা ঘরে বসে মানসিক পরিশ্রম করা, মাছ, মাংস প্রভৃতি উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ, অধিক পরিমানে চুন খাওয়া বা যান্ত্রিক কোন গোলযোগ হেতু এই রোগ হতে পারে। পাথর যতদিন দিন পিত্ত কোষের মধ্য থাকে ততদিন রোগী তেমন কিছু অনুভব করেনা, মাঝে মাঝে অবশ্য সামান্য বেদনার সৃষ্টি হয় মাত্র কিন্ত যখন ঐ পাথর পিত্তকোষ থেকে পিত্ত নালীতে এসে পরে। তখন হঠাত ঐ স্থানে প্রচন্ড বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী বেদনার অস্থির হয়ে পড়ে। 

এই রোগের কারণ হিসাবে এখানে উল্লেখ করা যায়-"Some gallstones are composed almost wholly of calcium salts or bilirubin. The latter are commonest where there has been prolonged overproduction of bilirubin due to hydrolysis, very little is know about the formation of calcium stones" কিছু কিছু পিত্ত পাথর ক্যালসিয়াম লবন অথবা বিলীরুবিন দ্বারা সৃষ্টি হয় তবে বিলীরুবিন দিয়েই বেশি সৃষ্টি হয়ে থাকে, অতি নগন্য ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম লবন দ্বারা সৃষ্টি হয়। Hemolysis জনিত কারণে অতি মাত্রায় বিলীরুবিন সৃষ্টির ফলেই এই পাথর হতে পারে। পিত্ত প্রবাহ ঠিকমত না হলে পিত্ত জমাট বেধে যে পাথর সৃষ্টি হয় সেটা পরীক্ষা করে জানা গেছে। 

পিত্ত পাথরের (gall stone) লক্ষণ :- 
  • প্রচন্ড বেদনা ডান কুক্ষিদেশ হতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচন্ড বেদনায় রোগী ছটফট করে এবং অস্থির হয়ে পড়ে।
  • অনেক সময় বেদনার সঙ্গে বমি, পিত্ত বমি হয়ে থাকে। 
  • বেদনার সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়। নাড়ী দুর্বল হয়, ছটফট ভাব এবং হিমাঙ্গ ভাব দেখা দেয়, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
  • অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস রোগ হয় এবং দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায়। 
  • অনেক সময় ২/৩ দিন পর্যন্ত বেদনা থাকে তারপর বেদনার নিবৃত হয়। যখন বেদনার নিবৃত হয় তখন বুঝতে হবে যে পাথর পুনরায় পিত্ত কোষে ফিরে গেছে অথবা পিত্ত নালী দিয়ে ক্ষুদ্রান্তের ডিউডেনামে চলে আসছে। ডিউডেনামে চলে আসলে অনেক সময় মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় আবার মলের সঙ্গে বের না হয়ে ভিতরে থেকে যায় এমন কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে। 
  • পাথর যখন পিত্ত কোষের দ্বার দিয়ে বের হতে থাকে তখন অসহ্য বেদনার সৃষ্টি হয় এবং বেদনা পেটের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
হোমিও বা অ্যালোপ্যাথি ঔষধ সাধারনত পিত্তকোষের পাথরী রোগে কোনো কাজই দেয় না শুধু ব্যথা হয়তো কমিয়ে রাখা যায়। তাই পিত্তকোষ হতে অপারেশন করে বের করার ব্যবস্থা করতে হয় নতবা রোগী ক্রমাগত কষ্ট ভোগ করতে থাকে। 
বিস্তারিত

Friday, August 1, 2014

কি ভাবে আপনার লিভারের যত্ন নিবেন ?

লিভার নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই৷ তাকে ভালো রাখতে কত কী-ই যে করি৷ কিন্ত্ত তাকে কি সে সত্যিই ভালো থাকে! অঢেল মদ্যপানের সঙ্গে লিভার ভালো রাখার ওষুধ খেয়ে চলা মানুষের সংখ্যা প্রচুর৷ মাঝ বয়সের পর তো বিশেষ করে৷ উদ্দেশ্য, মদ্যপানজনীত লিভার ড্যামেজকে সামলে রাখা৷ কিন্ত্ত সত্যিই কি সে সামলে থাকে? বিজ্ঞানীদের মতে, থাকার স্বপক্ষে এখনও কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই৷ বস্ত্তত, লিভার ভালো রাখার কোনও ওষুধই নেই৷ প্রশ্ন আসে, তাহলে এই যে বাজার ছেয়ে গিয়েছে লিভারের ওষুধে, তাদের তবে ভূমিকা কী? যাঁরা খাচ্ছেন, সবাই কি বোকা?

লিভার ভালো করার ওষুধ, প্ল্যাসিবো এফেক্ট:- বিজ্ঞান যাই বলে বলুক, এই সব ওষুধের কিছু এফেক্ট হয় শরীরে, যাকে বলে প্ল্যাসিবো এফেক্ট৷ অর্থাত্‍, ভক্তিভরে চরণামৃত খেলে যে ফল হয়, তাই৷ বিশ্বাস বলে, আমি এতেই ভালো হবে সব৷ মনে শান্তি আসে৷ তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে শরীরে৷ আর কে না জানে, শরীর সুস্থ রাখতে, বিশেষ করে পেটের যে কোনও সমস্যায় মনের ভূমিকা অসীম৷
কি ভাবে আপনার লিভারের যত্ন নিবেন ?
সরবিলিন :-এই ওষুধ বাওয়েল মুভ করতে সাহায্য করে৷ অ্যাকিউট হেপাটাইটিসে যখন শরীর আইঢাই, এই ওষুধে পেট পরিষ্কার হয়ে কষ্ট কমে৷ ল্যাকটুলোজ জাতীয় স্টুল সফটনার দিলেও এই একই কাজ হবে৷ কাজেই ওষুধের চক্করে সময় নষ্ট না করে, লিভার যাতে সত্যিই ভালো থাকে তার ব্যবস্থা করুন৷

মদ্যপানে বিরতি :- যত মানুষ মদ্যপান করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের লিভার খারাপ হয়৷ উল্টো দিকে, লিভার খারাপ হওয়া মানুষের মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ জনের ক্ষেত্রেই কারণ মদ্যপান৷ এবার আপনিই ঠিক করুন কী করবেন৷ গলা অবধি খেয়েও কারও হয়তো কিছু হয় না, কিন্ত্ত আপনার যে দু-এক পেগেই হবে না, এমন গ্যারান্টি নেই৷ তাও যদি নেশা ছাড়তে না পারেন, বছরে এক-আধবার লিভার ফাংশন টেস্ট করিয়ে দেখুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা৷ তবে হ্যাঁ, মদ্যপানে ও আনুসঙ্গিকের যুগলবন্দিতে বা এমনিও ওজন যদি বেজায় বাড়িয়ে ফেলেন লিভারের হাত ধরে কিন্ত্ত আসতে পারে অন্য বিপদও৷

ওবেসিটি, লিভার ও অন্যান্য :- ওজন খুব বেড়ে গেলে লিভারে ফ্যাট জমার প্রবল আশঙ্কা৷ অর্থাত্‍ যাকে ফ্যাটি লিভার বলে৷ ব্যাপারটা ভালো মোটেও নয়৷ তবে একেবারে হায় হায় করার মতোও কিছু নয়, অন্তত লিভারের দিক থেকে৷ কারণ হিসেব বলছে ব্যবস্থা না নিলে এই সব মানুষদের মধ্যে অধিকাংশই মারা যান স্ট্রো, হার্টঅ্যাটাক বা ক্যান্সারে৷ লিভার নষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার চান্স আসে এর পরে৷ কারণ, ফ্যাটি লিভারের তলায় লুকিয়ে থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবিটিস, হাইকোলেস্টেরল-ট্রাইগ্লিসারাইড ও হাইপ্রেশাররের বীজ৷ যাদের একযোগে মেটাবলিক সিনড্রোম বলেয় সময়ে ব্যবস্থা না নিলে মহীরুহ হয়ে উঠতে যাদের বেশি সময় লাগে না৷

এক ঢিলে তিন পাখি :- ওবেসিটি, ফ্যাটি লিভার ও মেটাবলিক সিনড্রোম, তিনের চাবিকাঠিই লুকিয়ে আছে লো-ক্যালোরির সুষম খাবার ও এক্সারসাইজের মধ্যে৷ দিনে ৩০-৪০ মিনিট ঘাম ঝড়ানো ব্যায়াম করলে, সঙ্গে ভাজা-মিষ্টি-ফাস্টফুড বর্জিত কম তেলে রান্না করা খাবার খেলে সব কটি সমস্যাই আয়ত্তে থাকে৷ দেখা গিয়েছে যাঁরা ওষুধ খেয়ে ফ্যাটি লিভারকে বশে রাখার চেষ্টা করুন তাঁদের চেয়ে যাঁরা ডায়েট-ব্যায়াম করেন, তাঁরা অনেক বেশি ভালো থাকেন৷

ওষুধ ও লিভার :- প্রচুর ওষুধ আছে যা লিভারের ক্ষতি করে৷ ডাক্তারের পারমর্শ মতো খেলে তিনি লাভ-ক্ষতির বিচার করে ওষুধ দেন বলে সমস্যা কম হয়৷ সে জন্যই বলা হয় নিতান্ত প্রয়োজন না হলে ওষুধ না খেতে৷ কথায় কথায় ব্যথার ওষুধ, ভেষজ ওষুধ বা ওজন কমানোর সাপলিমেন্ট না খাওয়াই ভালো৷

লিভারে ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে :- এর অন্যতম শর্ত হাইজিন৷ খাবার ও জলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা৷ না হলে হেপাটাইটিস এ ও ই হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ অর্থাত্‍ লিভারে এ বা ই ভাইরাসের ইনফেকশন হয়ে জন্ডিস হওয়া৷ বড় বয়সে হলে যা প্রায়শই যথেষ্ট ঘোরালো হয়ে ওঠে৷ হেপাটাইটিস বি ঠেকাতে বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে নেওয়া উচিত৷ আর হেপাটাইটিস সি ঠেকাতে সতর্ক থাকা দরকার রক্তের ব্যাপারে৷ রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভালো ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যারা হেপাটাইটিস সি স্ক্রিনিং করে তবে রক্ত বাজারে ছাড়েন৷ ইনজেকশনের সিরিঞ্জও যাতে স্টেরাইল থাকে সে দিকে নজর রাখা দরকার৷ কারণ বি এবং সি হেপাটাইটিসের পাল্লায় পড়লে লিভার একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷
বিস্তারিত

কোষ্টকাঠিন্য রোধে কি কি করবেন - কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধের কার্যকর ঘরোয়া উপায়।

কোষ্টকাঠিন্য আমাদের সবারই অতি পরিচিত সমস্যা। কারো মাঝে মাঝে হয়ে থাকে এবং কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু যাদের অনেক দিনের সমস্যা অর্থাৎ বহু দিন যাবৎ কোষ্টকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন, তারা অবশ্যই কোনো হোমিওপ্যাথের সাথে আলাপ করবেন এবং চিকিত্সা নিবেন। দেখবেন সেরে যাবেন এবং এর জন্য আপনাকে আর সবসময় ঔষধ খেয়ে যেতে হবে না। আসুন এবার জেনে নেই কোষ্টকাঠিন্য রোধে করনীয় কি ?
কোষ্টকাঠিন্য রোধে কি কি করবেন - কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধের কার্যকর ঘরোয়া উপায়।
নীচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে দেখুন কোনটা আপনার দেহের সাথে সবচেয়ে বেশি ফিট হয়। যেটাতে ভালো ফলাফল পাবেন সেটাই নিয়মিত করুন-
  • দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান। 
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ১ গ্লাস কুসুম গরম দুধে ১ চা চামচ ঘি মিশিয়ে খান 
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে ২ গ্লাস কুসুম গরম পানি খেয়ে মর্নিং ওয়াক করুন 
  • নিয়মিত ফল বা সব্জী খান। পেপে, পেয়ারা, আখ, টমেটো ও বিট- কোষ্টকাঠিন্য রোধে সবচেয়ে কার্যকরী 
  • কোষ্টকাঠিন্য রোধে আপেল ও কার্যকরী। প্রতিদিন সকালে একটা আস্ত আপেল কামড়ে খান (পিস করে কেটে নয়) 
  • কোষ্টকাঠিন্য চলাকালীন অবস্থায় নিস্তার পেতে রোজ পানিতে লেবুর রস ও এক চিমটি লবন মিশিয়ে খান। 
  • তাছাড়া কোষ্টকাঠিন্য রোধে রোজ সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খান। 
  • ইসব গুলের ভুসি কোষ্টকাঠিন্য রোধে দারুন কাজ করে। প্রতিদিন সকালে ১ চামচ ইসব গুলের ভুসি এবং সাথে ১ গ্লাস পানি খান। 
বিস্তারিত

Wednesday, July 30, 2014

আপনার রক্তে HBsAg+Positive হলে তা Negative করুন

রক্তে HBsAg+Positive এর বিষয়টা আমাদের দেশের বিদেশগামীরা ভালো ভাবে উপলগ্ধি করে থাকেন। তাই অনেকের মনে এ নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকে এই যেমন - hbeag কি, হেপাটাইটিস বি রোগের চিকিৎসা, হেপাটাইটিস বি পজিটিভ, হেপাটাইটিস বি এর হোমিও চিকিৎসা, alt (sgpt) কি, হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা খরচ, sgpt মানে কি, হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন ইত্যাদি, ইত্যাদি.... তবে অনেকে হয়ত জানেনই না যে, তারা এটি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলশ্রতিতে যা হবার তাই হয়। তবে যখন ডাক্তারের কাছে যান তখন রোগীরা বলেন রক্ত জন্ডিস, লিভার জন্ডিস বা ম্যাইট্যা জন্ডিস। রোগী নিজে সুস্থ- তাই তার কোনো অভিযোগও নাই, বিদেশে যাবেন চাকরির খোঁজে, মেডিক্যাল টেস্টের পর জানলেন আনফিট, কারণ রক্তে HBsAg পজেটিভ কিন্তু বিলিরুবিন স্বাভাবিক।

আসুন এর সম্পর্কে কিছু জেনে নিই 

HBEAG বা HBcAg (কোর অ্যান্টিজেন) একটি ভাইরাল হেপাটাইটিস বি প্রোটিন। এটি সক্রিয় ভাইরাল প্রতিলিপি একটি সূচক। এই হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তি সম্ভবত অন্য ব্যক্তির উপর ভাইরাস প্রেরণ করতে পারেন অর্থ্যাত এটা সংক্রামক। HBeAg উভয় উপস্থিতি ভাইরাল প্রতিলিপি চিহ্নিতকারী এবং এই অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি প্রতিলিপি রোগটির অধ: পতন এর চিহ্নিতকারী। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। এ রোগটি বর্তমান সময়ে খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে চলেছে। সংক্ষেপে এটিকে এইচবিএস এজি'ও (Hbs Ag) বলা হয়। এর অর্থ হলো হেপাটাইটিস-বি সারফেস এন্টিজেন যা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দেহ থেকে নি:সৃত হয়ে থাকে।
আপনার রক্তে HBsAg+Positive হলে তা Negative করুন
শুধুমাত্র হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হলেই রক্তের এইচবিএস এজি (Hbs Ag) পরীক্ষা পজিটিভ হয়। এই ভাইরাসটি প্রধানত রক্ত ও বিভিন্ন দেহাংশের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে প্রবেশ করে। তাই এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে। পরীক্ষা ছাড়া কারো রক্ত নিজের শরীরে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। অন্যের ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুঁচ, সিরিঞ্জ, ক্ষুর, রেজার, ব্রাশ প্রভৃথি ব্যবহার না করা। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক, বিউটি পার্লার, সেলুন এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। অবৈধ যেকোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। 

বৈজ্ঞানিকভাবে HBsAg পজেটিভ মানে সব শেষ নয়। এটা রক্ত দিয়ে সংক্রামিত জন্ডিসের এক দুষ্ট জীবাণু হেপাটাইটিস বি-এর বহিরাবরণ বা তার খোসা মাত্র। সম্পূর্ণ জীবাণু বা ভাইরাস নয়। এটা ভাইরাসের নিষ্ক্রিয় অংশ। রক্তে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকরির জন্য অযোগ্য হতে হবে এবং উন্নত বিশ্বের যে কোনো দেশ ভ্রমণের জন্য বা চাকরির জন্য রক্তে HBsAg পজেটিভ থাকা কোনো অযোগ্যতা নয়। এটা থাকা মানে অসুস্থতাও নয়। 
তার সঙ্গে দেখতে হয় এই ভাইরাসের প্রাণ HBV DNA বা HBeAg রক্তে বহমান কিনা? এবং তা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পজেটিভ কিনা? ভাইরাসটা লিভারে সংক্রামিত হয়ে লিভারের ক্ষতি করে লিভার এনজায়েম ALT(SGPT) বাড়িয়ে দিয়েছে কিনা? যদি রোগীর রক্তে HBV DNA বা HBeAg ছয় মাসের বেশি সময় পরেও বিদ্যমান থাকে, রক্তে ALT (SGPT) দুই বা আড়াই গুণেরও বেশি থাকে তখন মানুষটি রোগী বলে বিবেচিত হবেন। আর তখনই চিকিৎসা নেয়ার কথা আসবে। কিন্তু ALT (SGPT) পরিমাণ যদি স্বাভাবিক থাকে, HBV DNA ও HBeAg নেগেটিভ থাকে তবে কিস্তু তিনি রোগী নন, HBsAg বহনকারী সুস্থ Carrier, তার চিকিৎসা অনাবশ্যক, তিনি এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাহীন এবং এর প্রতিষেধকও নিতে পারেন না। 
তাই যে কোনো সময় তার এই ভাইরাসটা সক্রিয় হয়ে যেতে পারে বা তিনি নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। তার দরকার তিন থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর চেকআপ করে নিশ্চিত হওয়া যে তিনি আগের মতো সুস্থ Carrier অবস্থায় আছেন, নাকি ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে তার লিভার আক্রমণ করে তাকে রোগী বানিয়ে ফেলছে। নিকটাত্মীয়রা অবশ্যই স্ত্রী Hepatitis Virus B প্রতিষেধক টীকা নেবেন। এই টীকা কার্যকর, যারা এখনও এই টীকা নেননি তারা Hepatitis Virus B থেকে বাঁচতে চাইলে আজই এর সম্পূর্ণ টীকা নিন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

আমরা বার বার বলে থাকি, প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই হোমিওপ্যাথি মন্ত্রের মত ক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে। তার একটি হলো লিভার ফাংসন। আপনার রক্তে যদি HBsAg+Positive ধরা পরে তাহলে কাল বিলম্ব না করে ভালো একজন রেজিস্টার্ড হোমিও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, দেখবেন চিকিত্সার কয়েক মাসের মধ্যেই অনেক ক্ষেত্রেই  HBsAg+Positive টা Nagative হয়ে যায়। তবে এটাও জেনে রাখা দরকার - কারো কারো ক্ষেত্রে নেগেটিভ করা কিছুটা দুরূহ হয়ে দাঁড়ায় - কিন্তু ১০০% ফলাফল না দিলেও এলোপ্যাথির চেয়ে হোমিওপ্যাথির ফলাফল অনেক বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেগেটিভ হয় না - এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যেমন - আপনার যদি HBV DNA পসিটিভ থাকে এবং ভাইরাসের গতি ক্রমাগত উর্ধমুখী(খুব বেশি একটিভ) থাকে তাদের ক্ষত্রে Nagative করা সম্ভব হয়ে উঠে না।  আপনি ডাক্তারের সাথে আলোচনা করলেই বিস্তারিত  বুঝতে পারবেন। 
বিস্তারিত

Tuesday, July 29, 2014

কোষ্টকাঠিন্য বা শক্ত পায়খানা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আমাদের জানাশুনা সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি হলো কোষ্টকাঠিন্য। অনিয়ন্ত্রিত খাবার দাবার অথবা স্থান বা পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যায় পরেন নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কিন্তু বিষয়টি যখন ক্রনিক হয়ে দাড়ায় তখন সত্যিই চিন্তার বিষয়। 

কোষ্টকাঠিন্য বলতে কেবল শক্ত পায়খানাকে বুঝায় না, নরম পায়খানাও যদি বের করতে কষ্ট হয়, তাকেও কোষ্টকাঠিন্য বলা হয়। কোষ্টকাঠিন্য কোন রোগ নয় বরং এটি শরীরের ভেতরকার অন্যকোন মারাত্মক রোগের একটি লক্ষণ মাত্র। তবে দীর্ঘদিন কোষ্টকাঠিন্য চলতে থাকলে পাইলস, উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিক আলসার, হৃদরোগ, হজমশক্তির দুর্বলতা, পেট ফাঁপা, দুর্বলতা, মেদভুঁড়ি, মাথা ব্যথা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, শরীরে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, বিষন্নতাসহ নানা রকমের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। 

কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো পায়খানার বেগ হওয়ার পরেও পায়খানা না করে তাকে চেপে রাখা। চেয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাও কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার আরেকটা বড় কারণ। এজন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সকালে বা রাতে) পায়খানা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যাদের কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা আছে তাদের শাক-সবজি, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ফল-মুল ইত্যাদি খাবার বেশী বেশী খাওয়া উচিত

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা :-
অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সায় কোষ্টকাঠিন্য এর জন্য নির্দিষ্ঠ সময় অন্তর অন্তর সব সময় ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। রোগ নির্মূলের নির্দিষ্ট কোন ট্রিটমেন্ট নেই। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় কোষ্টকাঠিন্য নির্মূলে খুব ভাল এবং কর্যকর রিমেডি রয়েছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Sunday, July 27, 2014

হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে কোথায় চিকিত্সা নিবেন?

হেপাটাইটিস নামটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। হেপাটাইটিসের  কথা শুনলেই বলি টিকা নিতে হবে অথবা আক্রন্ত হলে নিতে হবে বেশ দীর্ঘ মেয়াদী ট্রিটমেন্ট । বিশ্ব জুড়ে বেড়েই চলছে হেপাটাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। অবাক হলেও সত্য বিশ্বে প্রতি ১২ জন মানুষের মধ্যে একজন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলেও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষই জানে যে সে নিজে আক্রান্ত।
সুস্থ অবস্থায় টিকা নিয়ে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করা যায় খুব সহজেই। কিন্তু আক্রন্ত হয়ে গেলে অ্যালোপ্যাথি ডাক্তাররা আপনাকে দেবে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিত্সা তাও আবার ভাল হবেন কি হবেন না তা প্রায় অনিশ্চিত। তার পরও এগুলি নিয়ে কত সেমিনার, কত আলোচনা সভা, আরো যে কত কি !!! কারণ কি জানেন ? এর পেছনে রয়েছে পুজিবাদী কোম্পানি গুলোর প্রোডাক্ট গুলোর বিজ্ঞাপন। আর আপনরা এ গুলি দেখতে দেখতেই  বড় হয়েছেন।

কোথায় চিকিত্সা নিবেন ?
আপনি হয়ত অনেক দিন যাবত হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সা নিয়ে আসছেন। আর মানুষিক ভাবে এ সমস্যাটা নিয়ে বেশ বিপর্যস্থও বটে। আপনি কি জানেন এ সমস্যার সমাধান হতে ৩-৪ মাসের বেশি সময় লাগে না। তাও আবার চির দিনের জন্য আরোগ্য হবেন হেপাটাইটিস থেকে। কথা গুলি ম্যাজিকের মত লাগছে হয়ত আপনার কাছে !! বিষয়টা এমনই, বিজ্ঞাপনের ছটায় আমরা আজ আসল নকল বুঝতেও ভুল করি। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিত্সা হলো হোমিওপ্যাথি। একজন ভালো হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। দেখবেন আপনার ধারণা পরিবর্তন হয়ে গেছে।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Saturday, July 19, 2014

জন্ডিস (Jaundice) এর কার্যকরী চিকিৎসা

রক্তে বিলিরুবিন নামক এক ধরনের পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। এ রোগে চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। জন্ডিস আসলে কোনো রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণমাত্র। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে হাত-পা, এমনকি শরীরেও হলদেটে ভাব চলে আসতে পারে। এর পাশাপাশি প্রস্রাবের রং হালকা থেকে গাঢ় হলদেটে হয়ে যায়। জন্ডিসে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লিভারের মতো গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গটি আক্রান্ত হয়। আর ক্ষেত্রবিশেষে এটি জীবন নাশকারী অবস্থায় চলে যেতে পারে। তাই এ রোগটি হেলাফেলা করা উচিত নয় মোটেই।
জন্ডিস যেভাবে হয় :-
আগেই যেমনটি বলেছি, রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। রক্তের লোহিত কণিকাগুলো একটা সময় স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে, যা পরে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সঙ্গে পিত্তনালির মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যেকোনো অসংগতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায় আর দেখা দেয় জন্ডিস।

জন্ডিস ও লিভার :-
লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ। আমরা যা কিছুই খাই না কেন, তা লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়। লিভার নানা কারণে রোগাক্রান্ত হতে পারে। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বেই জন্ডিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। তবে উন্নত দেশগুলোতে অতিরিক্ত মদ্যপান জন্ডিসের অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া অটোইমিউন লিভার ডিজিজ এবং বংশগত কারণসহ আরো কিছু বিরল ধরনের লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও অনেক সময় জন্ডিস হয়। তা ছাড়া থ্যালাসেমিয়া ও হিমোগ্লোবিন ই-ডিজিজের মতো যেসব রোগে রক্ত ভেঙে যায় কিংবা পিত্তনালির পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে। তাই জন্ডিস শুধুই লিভারের রোগ_এমনটি ভাবা ঠিক নয়।

লক্ষণ :-
জন্ডিস হলে চোখ হলুদ হয়। তবে হেপাটাইটিস রোগে জন্ডিসের পাশাপাশি ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, বমিভাব, জ্বর জ্বর অনুভূতি কিংবা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, মৃদু বা তীব্র পেটব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে তাই অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞের পরমর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক শারীরিক লক্ষণ এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জন্ডিসের তীব্রতা ও কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা :-
ভাইরাল হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করারও প্রয়োজন হতে পারে। ভাইরাল হেপাটাইটিস সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সেরে যায়। এ সময় ব্যথার ওষুধ, যেমন_প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, ঘুমের ওষুধসহ কোনো অপ্রয়োজনীয় ও কবিরাজি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, জন্ডিস হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই বাস্তবে সেবন করা ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকিটাই বেশি থাকে।

হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস সেরে যাওয়ার পরও লিভারের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে, যা লিভার পরবর্তী সময়ে লিভারসিরোসিস আর, এমনকি লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও তৈরি করতে পারে। তাই এ দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি লিভার বিশেষজ্ঞের ফলোআপে থাকত হয় এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নিতে হয়।

হোমিওপ্যাথিতে জন্ডিসসহ সকল লিভার রোগের অনেক উন্নত এবং সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা রয়েছে যার ফলাফল মাজিকের মত মনে হয়। কারণ যেখানে এ সকল রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ কাল অ্যালোপ্যাথি ঔষধ সেবন করতে হয় সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ততটা সময় লাগে না। সবচেয়ে সাফল্যের বিষয় হলো এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ  কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। তবে আপনাকে অবশ্যই ভালো কোন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের দারস্থ হতে হবে।

হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় :-
হেপাটাইটিস এ ও ই খাদ্য-পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আর বি সি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও প্রচুর পানি খেতে হবে। শরীরে রক্ত নেওয়ার দরকার হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিন। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটাও খুবই জরুরি।

হেপাটাইটিস বি ও এ-এর টিকা দেশে পাওয়া যায়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি'র টিকা প্রত্যেকেরই নেওয়া উচিত। যাঁরা সেলুনে শেভ করেন, খেয়াল রাখবেন যেন আগে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর আবারও ব্যবহার করা না হয়। জন্ডিস অনেক ক্ষেত্রেই এমনকি মৃত্যুরও কারণ হতে পারে।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

লিভার/যকৃত ফোড়ায় (Liver abscess) হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

শরীরের অন্য জায়গার মতো যকৃতেও ফোড়া হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলে লিভার অ্যাবসেস। ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীর সংক্রমণে যকৃতের কোনো একটি এলাকা আক্রান্ত হয়ে সেখানে যদি পুঁজ জমে, তবেই তাকে অ্যাবসেস বলা হয়। আর আশ্চর্য হলেও সত্যি যে দুনিয়াজুড়ে এই যকৃতের ফোড়ার অন্যতম কারণ হলো পরজীবী বা কৃমি সংক্রমণ।
 ফোড়ার প্রকারভেদ:
যকৃতের ফোড়া সাধারণত দুই ধরনের—পরজীবী সংক্রমণজনিত বা অ্যামিবিক অ্যাবসেস এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত বা পায়োজেনিক অ্যাবসেস। অ্যান্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামের পরজীবী বা কৃমি সংক্রমণ যেসব এলাকায় বেশি হয়, সেই এলাকার বসবাসকারী বা ভ্রমণকারীদের পেটে এই পরজীবী দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে প্রবেশ করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মৃদু ডায়রিয়া বা রক্ত আমাশয় ছাড়া কিছুই করে না। কিন্তু কখনো কখনো অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করে এটি রক্তে ছড়িয়ে পড়ে ও রক্তের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছে বাসা বাঁধে। ক্রমে সেখানে কলা ভেদ করে কালচে বা খয়েরি পুঁজের সৃষ্টি করে।

ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ সাধারণত দেহের অন্য কোনো স্থান থেকে রক্তে বাহিত হয়ে আসে। যেমন পিত্তথলিতে সংক্রমণ বা পেটের অন্য কোনো অঙ্গ থেকে জীবাণু আসে, কখনো যকৃতের কোনো সিস্ট বা টিউমারে সংক্রমণ বাসা বাঁধে। একে বলা হয় পায়োজেনিক লিভার অ্যাবসেস।

কীভাবে বুঝবেন?
জ্বর বিশেষ করে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, খাবারে অরুচি, ওজন হ্রাসের সঙ্গে পেটের ওপরে ও ডান দিকে একটা চিনচিনে ব্যথা যকৃতে ফোড়ার মূল উপসর্গ। কখনো পেটের ডান দিকে একটা চাকাও অনুভব করা যায়, যা হাত দিলে ব্যথা করে। কোনো কোনো সময় এর সঙ্গে জন্ডিস বা হলুদাভ হয়ে আসা বা ডায়ারিয়াও হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য পেটের একটা আলট্রাসনোগ্রাম ও কিছু রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কখনো পেটের সিটি স্ক্যানও প্রয়োজন হয়। সুইয়ের সাহায্যে পুঁজ বের করে এনে সেটা পরীক্ষা করা হয় মাঝেমধ্যে।

চিকিৎসা কী?
অ্যালোপ্যাথিতে দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ দিয়ে যকৃতের ফোড়ার চিকিৎসা করা হয়। তবে প্রয়োজনে ফোড়া কেটে পুঁজ বের করে আনা দরকার হতে পারে। কখনো এই ফোড়া ওপর দিকে ফেটে গিয়ে বুকের খাঁচায় ছড়িয়ে পড়ে জীবনাশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তবে আশার বিষয় হলো খুব সহজেই হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় যকৃতের ফোড়া Liver abscess) নির্মূল করা হয়ে থাকে। তাই অযথা না ঘাবড়িয়ে ভাল কোন হোমিওপ্যাথের পরামর্শ নিন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Thursday, July 17, 2014

হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis B) এর অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আমাদের শিক্ষিত সমাজে এখন হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis B) ভাইরাস সচেতনতা ও আতঙ্ক দুই-ই বেশ বেড়েছে। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ব্যাপারে সচেতনতা নিঃসন্দেহে সবার জন্যই কল্যাণকর। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস অ্যাকিউট হেপাটাইটিস বা জন্ডিসের উল্লেখযোগ্য কারণ এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী  লিভার ডিজিজের প্রধান কারণ। এই ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে অর্থাৎ দূষিত রক্ত সঞ্চালনের ফলে দূষিত ইনজেকশনের সুচের মাধ্যমে, সেলুনের ক্ষুরের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।

লিভারে দীর্ঘস’স্থায়ী প্রদাহকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বলে। ক্রনিক হেপাটাইটিস দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকলে এক সময় লিভার সিরোসিসের উৎপত্তি হয়।লিভার সিরোসিস লিভারের মারাত্মক রোগ। এ রোগে লিভারের স্বাভাবিক কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং লিভারের ভেতর ফাইব্রাশ টিস্যু ঘেরা নডিউল সৃষ্টি হয়। ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা কমে যায় বা বিনষ্ট হয় এবং লিভারের ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয়। লিভার মানুষের শরীরের অপরিহার্য অঙ্গ। একটি লিভারের কাজ অনেক। তাই ক্রনিক হেপাটাইটিস ও সিরোসিস অব লিভারের রোগীর অনেক ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে একটা স্বাভাবিক লিবারের কর্মক্ষমতা দেহের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। তাই লিভারের কর্মক্ষমতা সামান্য কমলেও মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।
হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis B) এর অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
লিভার সিরোসিসের রোগীর লিভারের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলে তাকে কম্প্যানসেটেড সিরোসিস বলে। কম্প্যানসেটেড সিরোসিসের রোগী, প্রায় সুস’ মানুষের মতোই বাঁচতে পারেন। তাই বি-ভাইরাসজনিত ক্রনিক হেপাটাইটিস সময়মতো চিকিৎসা করলে রোগের অগ্রগতি বন্ধ করা সম্ভব এবং সিরোসিস প্রতিকার করা সম্ভব হয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে বি-ভাইরাসজনিত সিরোসিস লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ক্রনিক হেপাটাইটিসের চিকিৎসা লিভার ক্যান্সারের আশঙ্কাও কমাতে পারে।

আমাদের দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে শতকরা ১২ জন ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত। তবে এদের বেশির ভাগের শরীরে এ ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায়  আছে এবং লিভারের কোনো ক্ষতি করছে না। বি-ভাইরাসের চিকিৎসা সম্পর্কিত কিছু তথ্য ইতোমধ্যে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরে ক্রনিক লিভার ডিজিজ ও ক্রনিক বি-ভাইরাস আক্রান্ত অনেক রোগী ও তাদের অভিভাবকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।

অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা 

হেপাটাইটিস-বি এর চিকিৎসার জন্য ‘ল্যামিভাডিন’ নামক যে ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, তা বিদেশে এ রোগের জন্য বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। একটানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা করে শতকরা ৫০ জনের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ভালো ফল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে। দেখা গেছে, আরো বেশি দিন চিকিৎসা নিলে আরো বেশিসংখ্যক রোগী উপকার পান। এমনকি বিদেশে গবেষণায় দেখা গেছে, এ ওষুধ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে না পারলেও লিভারের কর্মক্ষমতায় উন্নতি ঘটায় এবং সিরোসিসেরও উন্নতি করে। আমাদের দেশেও এ ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এ ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
  • একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এবং তত্ত্বাবধানেই এ ওষুধ সেবন করা উচিত। কারণ এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এবং তা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
  • এ ওষুধ কমপক্ষে দুই বছর পর্যন্ত খেতে হতে পারে।
  • একবার শুরু করলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • বি-ভাইরাসের নিষ্ক্রিয় অবস্থায় শুধু এইচবিএসএজি পজিটিভ রিপোর্ট দেখে এ ওষুধ ব্যবহার করা মোটেই ঠিক নয়। কারণ তাদের ক্ষেত্রে এ ওষুধের কোনো প্রয়োজন নেই। সুতরাং নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের মতো এ ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

যেখানে অ্যালোপ্যাথি আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী এবং প্রায় অনিশ্চিত ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকে সেখানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিওপ্যাথিক আপনাকে এই ধরনের রোগ থেকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চিরদিনের জন্য আরোগ্য করতে সক্ষম। যদি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আপনার কোন প্রকার বিশ্বাস না থেকে থাকে তাহলে অন্তত একবার হলেও কারো জন্য ট্রাই করে দেখতে পারেন।
বিস্তারিত

লিভার ভালো রাখার উপায়সমূহ জেনে নিন

লিভার মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, যা খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং রাসায়নিক ফিল্টারপ্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। তাই লিভার যদি কোনো কারণে কার্যমতা হারায়, তবে মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মদপান বর্জন, একই সূচ ব্যবহারে অনেকে ইঞ্জেকশন নেয়া বন্ধ করা, ভ্যাকসিন নিন হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন হেপাটাইটিস সংক্রমণ থেকে রা করে।

তা ছাড়া বর্তমানে হেপাটাইটিস-এ ভ্যাকসিনও পাওয়া যায়, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত ওষুধ সেবন বন্ধ করা, ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া হার্বাল ওষুধ না খাওয়া, রেজর ব্লেড অন্যের ব্যবহার করা হলে তা ব্যবহার বর্জন, নার্স ডাক্তার রোগীকে ইঞ্জেকশন দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন রোগীর জন্য ব্যবহৃত সূচ নিজের হাতে ফুটে না যায়, কীটনাশক, অ্যারোসল, বিষাক্ত রসায়ন ব্যবহারের সময় মাস্ক, গ্লাভস, লম্বা হাতা জামা, মাথায় টুপি ব্যবহার করা জরুরি, অন্য কারো রক্ত ও শরীরের নির্গত তরল পদার্থ থেকে নিরাপদ থাকুন, ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দাম্পত্য জীবন যাপন করুন, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন শাকসবজি, ফলমূল, উদ্ভিদজাত খাবার খান; অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করে, শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখুন।
লিভার ভালো রাখার উপায়সমূহ জেনে নিন
মেদভুঁড়ি লিভারে নন-এলকহলিক ফ্যাটি লিভার অসুখ হতে ভূমিকা রাখে। ফলে ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস ও সিরোসিস হতে পারে, এ ছাড়া লিভারে হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস হেপাটাইটিস সংক্রমণ করতে পারে। এ দু’টি ভাইরাস দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় এ জন্য নিরাপদ পানি গ্রহণ করা জরুরি। যথাযথভাবে ফুটানো পানি ছাড়া রাস্তাঘাটে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় বা ট্যাপের পানি পান করা উচিত নয়। খাবার আগে-পরে, রোগীর সেবা করার পরে হাত অবশ্যই ধোয়া উচিত।

এখানে উল্লেখ করতে চাই, জনগণের অনেক সংশয় রয়েছে লিভারের কঠিন রোগের চিকিত্সা বাংলাদেশে হবে হবে কি না? আমি নির্দ্বিধায় বলতে চাই এবং সবাইকে জানাতে চাই, বাংলাদেশে বর্তমানে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগ নির্ণয়, চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অভিজ্ঞ চিকিত্সক সবই আছেন। এজন্য অযথা হয়রানি হবেন না। লিভারের যেকোন জটিল অবস্থায় হোমিওপ্যাথি কার্যকর ভুমিকা পালন করে। জন্ডিস, HBsAg (+ve), লিভারে ফোঁড়া, লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস এর মত মারাত্মক সব জটিল রোগের সফল চিকিত্সা করা সহ এ সমস্ত সমস্যা সমূহকে সাফল্যের সাথে সারিয়ে তুলছেন দেশের খ্যাতনামা হোমিওপ্যাথরা। পাঠকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি না করে প্রথমেই হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা গ্রহণ করুন তাহলে খুব দ্রুত ভালো হবেন।
বিস্তারিত

Wednesday, July 16, 2014

লিভার সিরোসিস এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্ববৃহৎ অঙ্গ। শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুস্থ লিভার। লিভারকে বলা হয় শরীরের পাওয়ার হাউজ যা জীবন ধারনের জন্য অপরিহার্য। তাই লিভারের অসুস্থতার ফলাফল ক্ষেত্র বিশেষে হতে পারে ব্যাপক ও ভয়াবহ।

লিভারের বিভিন্ন রোগ

লিভার নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কিছু রোগ বংশগত , কিছু একোয়ার্ড বা অর্জিত, কিছু রোগ স্বল্পস্থায়ী যা চিকিৎসায় পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়, কিছু রোগ দীর্ঘস্থায়ী, যা চিকিৎসা সত্ত্বেও ক্রমাগত জটিল থেকে জটিলতর হয়ে নিঃশেষ করে দেয় জীবন। হেপাটাইটিস বা লিভারে প্রদাহ বিশ্ব জুড়ে লিভারের প্রধান রোগ। নানা কারনে এই প্রদাহ হতে পারে। যার অন্যতম কারণ এ,বি,সি,ডি,ই, নামক হেপাটাইটিস ভাইরাস। পানি ও খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস লিভারে একিউট হেপাটাইটিস বা স্বল্প স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সেরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাস। অনেক কারনেই লিভারের প্রদাহ হতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস বছরের পর বছর চলতে থাকলে লিভারের কোষগুলো মরে যায়। অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় ফাইব্রাস টিসু সেস্থান দখল করে জন্ম দেয় সিরোসিস নামক মারাত্মক রোগ। লিভার সিরোসিস একটি মারাত্বক রোগ যা পরবর্তিতে লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

লিভার সিরোসিসের লক্ষণ 

প্রাথমিকভাবে সিরোসিসের কিছু লক্ষণ দেখা যায় তা হলঃ দুর্বলতা, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, জ্বর জ্বর ভাব, পেটের ডান পাশে ব্যথা, দাঁতের মাঢ়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, ঘনঘন পেটের সমস্যা। পরবর্তিতে লিভার সিরোসিস আরো জটিল আকার ধারণ করলে দেখা যায় :-

পেটে পানি আসার কারণে পেট ফুলে যাওয়া, জন্ডিস, অজ্ঞান হওয়া, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ফুসফুসে পানি আসা, কিডনি ফেইলিউর, শরীরের যেকোনো জায়গা থেকে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত, সর্বশেষ পর্যায়ে লিভার ক্যানসার।

লিভার সিরোসিসের কারণ

সিরোসিসের কারণগুলো বিভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশে লিভার সিরোসিসের অন্যতম প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, আর এর পরেই রয়েছে ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার নানা কারণে হয়ে থাকে। যেমনঃ ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বি বেশি থাকা, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চরক্তচাপ , হাইপোথাইরয়েডিজম ইত্যাদি । এক গবেষণায় জানা যায়, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৩০ শতাংশ রোগী পরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়। 

লিভার সিরোসিসের আরেকটি মারাত্মক কমপ্লিকেশন হলো হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি বা হেপাটিক কোমা। সহজ কথায় বলতে গেলে, অপ্সান হয়ে যাওয়া। প্রাণিজ আমিষ যেমন মাছ-মাংস, ডিম-দুধ ইত্যাদি খুব বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রোগীর অপ্সান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ডিকম্পেনসেটেড বা এডভান্সড লিভার সিরোসিসের রোগীদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্লান্ট প্রোটিন যেমন ডাল এ ধরনের রোগীদের জন্য নিরাপদ। তাই বলে অতিরিক্ত সতর্ক হতে গিয়ে প্রাণীজ আমিষ একেবারেই বাদ দিলে চলবে না। সেক্ষেত্রে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যেয়ে কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। বিশেষ করে যেহেতু এ ধরনের রোগীদের কিডনি এমনিতেই নাজুক অবস্থায় থাকে এবং তারা হেপাটোরেনাল সিনড্রোম নামক মারাত্মক ধরনের কিডনি ফেইলিওরের ঝুঁকিতে থাকেন।

লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তির উচিত দ্রুত লিভার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ও নিয়মিত ফলোআপে থাকা। এতে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়। এছাড়াও লিভার সিরোসিসের কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা গেলে লিভার সিরোসিসের জটিলতার দিকে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। লিভার সিরোসিসের আধুনিক চিকিৎসা আজ এ দেশেই সম্ভব। তবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের ব্যবস্থা এদেশে এখনও সেরকম নাই। প্রতিবেশী দেশে এ সুযোগ থাকলেও তা খুব ব্যয়বহুল আর সংগত কারণেই আমাদের দেশের অধিকাংশ রোগীর পক্ষে তা সাধ্যের অতীত। তবে আমরা আশাবাদী সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের দেশেই অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে এ দেশের লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সম্ভব হবে।

লিভারের রোগ মানেই সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ন নিরাময় এবং জটিলতা মুক্ত থেকে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবে জীবন নির্বাহ করা যায়। তাই এব্যাপারে সবার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন ছাড়াই হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাধ্যমে লিভার সিরোসিসের জটিল সব উপসর্গ নির্মূল করে পরিপূর্ণ সুস্থ করা হচ্ছে হাজার হাজার রোগীকে। হোমিওপ্যাথি আধুনিক, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল এবং অধিকতর কার্যকর একটি বৈজ্ঞানিক চিকিত্সা পদ্ধতি। আপনি অনায়াসেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।
বিস্তারিত

লিভার সিরোসিসে করণীয়সমূহ

সিরোসিস বা লিভার সিরোসিস নামক রোগটির কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু জন্ডিস কথাটি শুনলে আমরা যতটা বিচলিত হই, লিভার সিরোসিস কথাটি আমাদের ঠিক ততটা বিচলিত করে না। অথচ বিশ্বব্যাপী অন্ততঃ পঞ্চাশ মিলিয়ন এবং বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এই রোগে লিভার তথা যকৃতের শেষ পর্যায়ের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে এর স্বাভাবিক কাঠামো স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়। ফলে এর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে লিভার দুর্বলতা জনিত জটিলতায় রোগী মৃত্যুর কোলে ঢেলে পড়ে। লিভারের নিস্ক্রিয়তা, লিভার ক্যান্সার ও লিভার জনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ হল এই সিরোসিস।

সিরোসিস শব্দটি প্রথম বর্ননা করেন বিখ্যাত ফরাসী বিজ্ঞানী ডাঃ রিনে লেনেক (Rene Laennec) ১৮১৯ খ্রীষ্টাব্দে । শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ কিরাস (Kirrhos) থেকে। যার শাব্দিক অর্থ তামাটে হলুদ অমসৃন রঙ যা লিভারের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে রোগীর শরীরে দেখা যায়।

আমরা জানি যকৃত বা লিভার হল মানুষের শরীরের একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। পিত্ত নিঃসরণের মাধ্যমে খাবার হজম হতে শুরু করে শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কার্যাবলী এর দ্বারা সম্পাদিত হয়। ফলে লিভারের অসুস্থতার ফলাফল হয় ব্যাপক ও ভয়াবহ। অনেক রকম কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে। তবে কারণ যাই হোক নূন্যতম ছয় মাসব্যাপী প্রদাহ না হলে লিভার এর স্বাভাবিক কাঠামোর পরিবর্তন হয় না। লিভার সিরোরিস হতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪-১০ বত্সর। বাংলাদেশে সিরোসিস এর প্রধান কারণ শরীরে হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের সংক্রমণ।
এছাড়া আরও কারণ রয়েছে :-
  • হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সংক্রমণ। 
  • লিভারের অতিরিক্ত চর্বি। 
  • অতিরিক্ত মদ্যপান। 
  • ইমিউনোলজিক্যাল রোগ: অটোইমিউন লিভার ডিজিজ। 
  • প্রাইমারী বিলিয়ারী সিরোসিস। 
  • জেনেটিক/বংশানুক্রমিক রোগ, যেমন: হেমোক্রমাটোসিস, উইলসন্স ডিজিজ। 
  • অজ্ঞাত কারণসমূহ।
রোগীরা যদি নূন্যতম ছয় মাস বা তার বেশিদিন এই কারণ সমূহে আক্রান্ত থাকে তাহলে লিভারে দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ হয়ে সিরোসিসে রুপান্তরিত হয়। এই রোগের শুরুতে কোন উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। তবে আস্তে আস্তে রোগী শারীরিক দুর্বলতা, খুদামন্দা, পেট ফাঁপা, হজমে অনিয়ম এরূপ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। সবচাইতে ভয়াবহ ব্যাপার হল অসুখটি অনেকটা অগ্রসর না হওয়া পর্যন্ত আসক্ত রোগীর কোন শারীরিক সমস্যা বা রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

লিভার সিরোসিস কে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত- Compensated Cirrhosis. এই রোগীরা সিরোসিস অবস্থায় স্বাভাবিক মানুষের ন্যায় কোন সমস্যা ছাড়া অথবা রক্তবমি বা কালোপায়খানার সমস্যা নিয়ে চিকিত্সকের নিকট আসেন। নিয়মিত শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এদের অধিকাংশের সিরোসিস ধরা পরে।

দ্বিতীয়ত :- Decompensated Cirrhosis. কিছু রোগী শরীরে পানি জমা অবস্থায়, জন্ডিস নিয়ে বা অজ্ঞান অবস্থায় চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। এরাই হল ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস এর রোগী।
সিরোসিস আক্তান্ত রোগীর চিকিত্সার জন্য কয়েকটি দিক লক্ষ্যনীয় :-
  • রোগ নির্ণয় (Diagnosis) 
  • রোগের কারণ নির্ণয় (Aetiology) 
  • রোগের জন্য সৃষ্ট জটিলতা নির্ণয় (Complication) 
  • রোগীর বর্তমান অবস্থা (Present Status)| 
এই চারটি বিষয়ের জন্য রোগীর বেশ কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা করার প্রয়োজন হয়। মূল চিকিত্সা এই দিকসমূহ বিবেচনায় রেখে করতে হয়। লিভারে দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহের ফলে রোগীরা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত অবস্থা, শরীরে পানি, বমিভাব ইত্যাদি নিয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ করতে আসেন। তবে অনেকে আসেন এমন অবস্থায় যে ইতমধ্যে তার লিভারের ক্যান্সার হয়ে গেছে। অর্থাত্ রোগীরা সিরোসিস পরবর্তী জটিলতা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। সিরোসিস পরবর্তী এরুপ আরও কিছু জটিলতা হল- গলার রক্তনালী মোটা হওয়া ও রক্তক্ষরণ, বার বার অজ্ঞান হওয়া, পেট ও শরীরে পানি জমা, জন্ডিস, কিডনির বিকলতা, প্রস্রাবে সমস্যা ইত্যাদি।

রোগ প্রতিরোধ এবং অগ্রসর হবার পূর্বে রোগটি নির্ণয়ই হল এ রোগ হতে বাঁচার পূর্বশর্ত। যেহেতু হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস সংক্রমণ বাংলাদেশে এ রোগের প্রধান কারণ, সেহেতু হেপাটাইটিস ‘বি’ এর সংক্রমনণ প্রতিরোধ জরুরী। তাই হেপাটাইটিস ‘বি’ এর টীকা গ্রহণ, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, ডিসপোজেবল সুঁই ব্যবহার এবং ব্লেড, রেজর, ব্রাশ, ক্ষুর প্রভৃতি যেন বহুজনে ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত মা গর্ভবতী হলে সন্তানের জন্মদানের সাথে সাথে দু’রকম টীকা দেওয়া বাঞ্চনীয়। এছাড়া পরিবারের একজন সিরোসিস আক্তান্ত হলে বাকী সদস্যদের উচিত্ রোগের কারণ অনুযায়ী লিভার ব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা।

উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশেও যতই নগরায়ন ও শিল্পায়ন হচ্ছে ততই বাড়ছে মদ্যপান, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ ও ফাস্ট ফুড কালচারের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত মেদ। যার কারণে লিভারে চর্বি জমার মাধ্যমে সিরোসিস হওয়ার পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। তবে নিয়মিত জীবন ও খাদ্যাভ্যাস, নৈতিকতা বিরোধী কাজ পরিহার, পরিশ্রম ও ব্যায়াম এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। আর যারা এ রোগে আক্রান্ত তারা নিয়মিত লিভার ব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও আজীবন চিকিত্সা গ্রহণের মাধ্যমে এর জন্য সৃষ্ট জটিলতা সমূহ হতে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

মনে রাখবেন সুশৃঙ্খল জীবন এবং নিয়মিত খাদ্যাভাসই পারে একজনকে সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘজীবি করতে। তবে লিভার সিরোসিসে আক্রন্ত হলে কখনই হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিতে ভুল করবেন না। কারণ লিভার সিরোসিসসহ লিভারের যাবতীয় জটিল সমস্যায় হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞান অসাধারণ সফলতা দেখিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। প্রয়োজন শুধু অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের তত্ত্বাবধানে থেকে প্রপার ট্রিটমেন্ট নেয়া। তাই লিভার সংক্রান্ত যেকোনো জটিল পীড়ায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা গ্রহন করুন।
বিস্তারিত

পিত্তনালির ক্যান্সার এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

ক্যান্সার যাকে বলা হয় একটা মহা ক্ষত আর এ ক্ষত নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সার গুরত্ব অপরিসীম। খুব কম লোকেরই পিত্তনালিতে ক্যান্সার হতে দেখা যায় তবে একবার ক্যানার হলে তা সারানোও আবার তেমনই দুস্কর। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভর যোগ্য একটা ট্রিটমেন্ট হয়ে দাড়ায়।

সাধারনত ৬০ বছরের বেশী বয়স্ক লোকদের এই ক্যান্সার হতে দেখা যায়। এ রোগে রোগীর পেটের উপরের অংশে সামান্য ব্যথা হয় সেই সাথে খুব দ্রুত ওজন কমতে থাকে এবং জন্ডিস দেখা দেয়। এই ধরনের জন্ডিসে শরীরে খুব চুলকানি হয় এবং পায়খানার রঙ সাদাটে হয়ে যায়। পরীক্ষা করলে দেখা যায় রোগীর লিভার বেশ বড় হয়ে গেছে। পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করালে ক্যান্সার সম্বন্ধে ধারনা পাওয়া যায়।
পিত্তনালির ক্যান্সার এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা
বায়োপসি করার মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়। এই রোগের সবচেয়ে খারাপ দিক হলো যখন তা ধরা পড়ে ৯০% রোগীরই অন্যান্য চিকিৎসা নেবার কোনো সুযোগ থাকেনা। তাই এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিই একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাড়ায়। শতকরা মাত্র ৫-১০ ভাগ রোগীকে অপারেশনের মাধ্যমে সুস্থ্য করে তোলার সুযোগ থাকে। অপারশনের মাধ্যমে রোগীর লিভার এর বিশাল একটি অংশ এবং পিত্তনালি কেটে ফেলে দেয়া হয়।

এধরনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ঝুকি না নিয়ে প্রথম থেকেই হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নেয়া যুক্তিযুক্ত। এতে রোগটি আরো অবনতির দিকে না গিয়ে ক্রমান্নয়ে সুস্থতার দিকে এগোয় এবং একসময় পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
বিস্তারিত

পিত্তথলির পাথর এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

পিত্তথলিতে পাথর হওয়া একটি অতিপরিচিত রোগ গুলোর মধ্যে একটি, আত্মীয়স্বজনের কারো পিত্তথলিতে পাথর হয়নি বা এজন্য গলব্লাডার ফেলে দিতে হয়নি এমন লোক মনে হয় খুঁজে পাওয়া দুস্কর হবে। সত্যিই কি পাথর হয় না এগুলো অন্য কিছু। এসব কি সত্যিকারের পাথরের মতো, কিভাবে ওখানে গেলো ওসব এ জাতীয় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় আমাদের মনে।

হ্যাঁ সত্যি সত্যিই পিত্তথলিতে পাথর হয়। কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম, বিলিরুবিন ইত্যাদির সংমিশ্রনেযে পাথর গুলো পিত্তথলিতে হয় তা দেখতে অনেকটাই রাস্তার পাথরের মতো। এদের কোনোটি ময়লাসাদা, কোনোটি হাল্কা বাদামী আবার কোনোটি একদম কুচকুচে কালো বর্ণের হয়।

সাধারনত স্থুলাকায় মানুষের এই রোগ বেশী হতে দেখা যায়, মহিলাদের মাঝেও এই রোগ হবার প্রবনতাবেশী। যারা চর্বি জাতীয় খাবার বেশী খান ৪০ এর কাছাকাছি বয়সে তাদের এই রোগ হবার সম্ভাবনাবেশী এমন একটা শক্ত ধারনা খুব প্রচলিত। পিত্তথলিতে পাথর হলে এতে প্রদাহ বা কলিসিস্টাইটিস হয়।তখন পেটের উপরের দিকে ডান পাশে তীব্র ব্যথা হয় যাকে অনেকে দম বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যথা বলে থাকেন। এটা সাধারনত মিনিট খানেক স্থায়ী হয় তবে তা ঘণ্টা খানেক ও থাকতে পারে। ব্যথাটি পেটেরপিছনের দিকে, কাধে, পেটের মাঝ বরাবর এবং বুকের ভেতরেও ছড়িয়ে পরতে পারে। সেই সাথে বমিবমি লাগা বা বমি করে ফেলা, হাল্কা জ্বর এই সব উপসর্গও থাকতে পারে।
পিত্তথলির পাথর এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
কলিসিস্টাইটিস এর ব্যথা অত্যন্ত তীব্র এবং এমন ব্যথা হলে সাথে সাথে রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাওয়া উচিত। হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন বা জেনারেল সার্জন উভয়েই এই রোগের বিশেষজ্ঞ সার্জন। প্রায় ৯৬% ক্ষেত্রেই হোমিও ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে পিত্তপাথরী সমস্যা সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষত্রে অপারেশন করা দরকার হয়ে পড়ে। রোগটি নিশ্চিত করার জন্য প্রথমেই পেটেরআল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষাটি করে নিতে হয়, সেই সাথে কিছু রক্তের পরীক্ষা, ইসিজি, এক্সরে এই সবপরীক্ষা করে দেখতে হয় ব্যথার অন্য কোনো কারন আছে কিনা। এছাড়া ধরনের রোগীর খুব গ্যাসের সমস্যা থাকে দেখে অনেক সময় পাকস্থলীর এন্ডোসকোপি পরীক্ষা করে দেখতে হয় তাতে আলসার হয়েছে কিনা। পশ্চিমা দেশগুলোতে অনেক সময় এই রোগে কোলাঞ্জিওগ্রাম অথবা ই, আর, সি, পিপরীক্ষাটিও করিয়ে নেয়া হয়।

অনেক সময় পিত্তথলিতে পাথর হলেও রোগী কোনো প্রকার ব্যথা বা অন্য সমস্যা অনুভব করেনা। সাধারনত অন্য কোনো রোগের জন্য পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে গিয়ে এটা ধরা পরে। এসব ক্ষেত্রে অনেক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকই কলিসিস্টেকটমি না করে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং ব্যথা হলে তবেই অপারেশন করাতে বলেন। তবে এই নিয়ে বিতর্ক আছে কারন অনেক দিন পাথর থাকা অবস্থায় ট্রিটমেন্ট না করালে তা ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। এসব বিষয়ও বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে পিত্তথলিতে পাথর হলে ভালো এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ট্রিটমেন্ট নেয়া জরুরি। কারণ ৯৬% ক্ষেত্রেই হোমিও ট্রিটমেনটে পিত্তপাথরী দূর হয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে যখন অপারেশন করা দরকার হয়ে পড়ে তখন একজন অভিজ্ঞ সার্জন কর্তৃক ল্যাপকলিরমাধ্যমে অপারেশন বা ল্যাপারোস্কপিক কলিসিস্টেকটমি করিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আগেই বলেছি প্রায় ৯৬% ক্ষেত্রেই কোন প্রকার অপারেশন ছাড়া পিত্তথলির পাথর নিরাময়ের সবচেয়ে সফল চিকিত্সা রয়েছে একমাত্র হোমিওপ্যাথিতে। হোমিও ঔষধসমূহ পিত্তথলির পাথরকে মোমের মত গুলিয়ে শরীর থেকে বের করতে সক্ষম। একজন ভালো হোমিওপ্যাথ খুব দক্ষতার সাথে এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
বিস্তারিত

Sunday, December 8, 2013

লিভারের রোগসমূহ (যকৃতের পীড়া) এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, লিভার হলো আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় সলিড অর্গান। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে লিভারের ওজন হয়ে থাকে ১ থেকে ১.৫০ কেজি। এক কথায় বলতে গেলে লিভার হলো মানব দেহের একটি পাওয়ার স্টেশন। যেমন ধরুন—বিদ্যুতের বাতি জ্বলতে হলে পাওয়ার সাপ্লাই লাগে, তেমনি আমাদের সব ক’টি অঙ্গ চলাচলের জন্য শক্তির উত্স হলো এই লিভার।
বিস্তারিত