Showing posts with label লিভার পিত্ত ও পেটের পীড়া. Show all posts
Showing posts with label লিভার পিত্ত ও পেটের পীড়া. Show all posts

Wednesday, October 29, 2014

পিত্ত পাথর (Gallstone) - কারণ, লক্ষণ এবং চিকিত্সা

অনেক সময় কোন কারণবশত পিত্ত কোষে অথবা পিত্তবাহী নালীতে পিত্তরস জমাট বেধে প্রস্তরকনা আকার ধারণ করে যাকে পিত্ত পাথরী বলা হয়ে থাকে।  পিত্তবাহী নালীতে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে এই রোগটি হতে পারে। সচরাচর এই রোগটি অন্য কোনো কারণে হয় না। রোগের পিত্ত কোষে (Gallbladder) যে পিত্ত পাথর হয় তার আকার এবং প্রকার বিভিন্ন রকম। ইহা ছোট বড় মাঝারি গুলাকার, সাদা কালো কাটা সবুজ বর্ণ ইত্যাদি হতে পারে। ইহা বালুকা কনার মত অথবা পায়রার ডিমের আকারেরও হতে পারে। একটি অথবা একধিক পাথরী পিত্ত পিত্ত্কোষে জন্মে বেদনার সৃষ্টি করতে পারে। 
বর্তমানে আমাদের দেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। এই পাথর যতদিন পিত্তকোষে আবদ্ধ থাকে ততদিন রোগী তেমন বিশেষ অস্বস্থি বোধ করেনা, মাঝে মাঝে সামান্য বেদনার অনুভব করে। কিন্ত যখন পিত্তকোষ হতে এই পথরী পিত্ত নালীর মধ্য এসে পড়ে তখনই অসম্ভব বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী অস্থির হয়ে পড়ে। এই বেদনাকে পিত্ত শূল Biliary colic বলা হয়। 

পিত্ত পাথরের (gall stone) কারণ :- শারীরিক বিধিশুদ্ধ নিয়মানুসারে পিত্তকোষ (Gallbladder) হতে সঞ্চিত পিত্তরস পিত্তনালী (Bile Duct) দিয়ে ক্রমে ক্রমে ক্ষুদ্রান্তের প্রথমাংশ বা ডিউডেনামের মধ্যে প্রবাহিত হয়। আহারাদির দোষে অথবা পিত্ত কোষের বা পিত্ত নালীর প্রদাহ জনিত কারণে এই পিত্ত প্রবাহ বিঘ্নিত হতে পারে, ইহার ফলে পিত্তরস জমাট বেধে যায় এবং ধীরে ধীরে পিত্ত পাথরী দেখা দেয়। যদি পিত্ত পাথরী ছোট হয় বা বালু কনার মত হয় তখন তা অনেক সময় আপনা থেকেই বেরিয়ে যায় এবং কখন সেটা বেরিয়ে যায় তা ঠিক বুঝা যায় না। তবে পিত্ত পাথরী আকারে বড় হলে বেরিয়ে যেতে পারেনা তখন বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী কষ্ট পায়। পিত্ত কোষ অঞ্চলে মাঝে মাঝে ব্যথা লক্ষণটি দেখে অনেক সময় ধরা যায়। আবার অনেক সময় জীবনভর পিত্ত পাথরী পিত্ত কোষে থেকে যায় এবং তা সত্তেও রোগী কোন রূপ কোন বেদনার অনুভব করেনা। 

এই রোগ হলে পিত্ত ক্ষরণ যথারীতি হতে পারেনা। সর্বদা ঘরে বসে মানসিক পরিশ্রম করা, মাছ, মাংস প্রভৃতি উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ, অধিক পরিমানে চুন খাওয়া বা যান্ত্রিক কোন গোলযোগ হেতু এই রোগ হতে পারে। পাথর যতদিন দিন পিত্ত কোষের মধ্য থাকে ততদিন রোগী তেমন কিছু অনুভব করেনা, মাঝে মাঝে অবশ্য সামান্য বেদনার সৃষ্টি হয় মাত্র কিন্ত যখন ঐ পাথর পিত্তকোষ থেকে পিত্ত নালীতে এসে পরে। তখন হঠাত ঐ স্থানে প্রচন্ড বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী বেদনার অস্থির হয়ে পড়ে। 

এই রোগের কারণ হিসাবে এখানে উল্লেখ করা যায়-"Some gallstones are composed almost wholly of calcium salts or bilirubin. The latter are commonest where there has been prolonged overproduction of bilirubin due to hydrolysis, very little is know about the formation of calcium stones" কিছু কিছু পিত্ত পাথর ক্যালসিয়াম লবন অথবা বিলীরুবিন দ্বারা সৃষ্টি হয় তবে বিলীরুবিন দিয়েই বেশি সৃষ্টি হয়ে থাকে, অতি নগন্য ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম লবন দ্বারা সৃষ্টি হয়। Hemolysis জনিত কারণে অতি মাত্রায় বিলীরুবিন সৃষ্টির ফলেই এই পাথর হতে পারে। পিত্ত প্রবাহ ঠিকমত না হলে পিত্ত জমাট বেধে যে পাথর সৃষ্টি হয় সেটা পরীক্ষা করে জানা গেছে। 

পিত্ত পাথরের (gall stone) লক্ষণ :- 
  • প্রচন্ড বেদনা ডান কুক্ষিদেশ হতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচন্ড বেদনায় রোগী ছটফট করে এবং অস্থির হয়ে পড়ে।
  • অনেক সময় বেদনার সঙ্গে বমি, পিত্ত বমি হয়ে থাকে। 
  • বেদনার সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়। নাড়ী দুর্বল হয়, ছটফট ভাব এবং হিমাঙ্গ ভাব দেখা দেয়, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
  • অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস রোগ হয় এবং দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায়। 
  • অনেক সময় ২/৩ দিন পর্যন্ত বেদনা থাকে তারপর বেদনার নিবৃত হয়। যখন বেদনার নিবৃত হয় তখন বুঝতে হবে যে পাথর পুনরায় পিত্ত কোষে ফিরে গেছে অথবা পিত্ত নালী দিয়ে ক্ষুদ্রান্তের ডিউডেনামে চলে আসছে। ডিউডেনামে চলে আসলে অনেক সময় মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় আবার মলের সঙ্গে বের না হয়ে ভিতরে থেকে যায় এমন কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে। 
  • পাথর যখন পিত্ত কোষের দ্বার দিয়ে বের হতে থাকে তখন অসহ্য বেদনার সৃষ্টি হয় এবং বেদনা পেটের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
হোমিও বা অ্যালোপ্যাথি ঔষধ সাধারনত পিত্তকোষের পাথরী রোগে কোনো কাজই দেয় না শুধু ব্যথা হয়তো কমিয়ে রাখা যায়। তাই পিত্তকোষ হতে অপারেশন করে বের করার ব্যবস্থা করতে হয় নতবা রোগী ক্রমাগত কষ্ট ভোগ করতে থাকে। 
বিস্তারিত

Friday, August 1, 2014

কি ভাবে আপনার লিভারের যত্ন নিবেন ?

লিভার নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই৷ তাকে ভালো রাখতে কত কী-ই যে করি৷ কিন্ত্ত তাকে কি সে সত্যিই ভালো থাকে! অঢেল মদ্যপানের সঙ্গে লিভার ভালো রাখার ওষুধ খেয়ে চলা মানুষের সংখ্যা প্রচুর৷ মাঝ বয়সের পর তো বিশেষ করে৷ উদ্দেশ্য, মদ্যপানজনীত লিভার ড্যামেজকে সামলে রাখা৷ কিন্ত্ত সত্যিই কি সে সামলে থাকে? বিজ্ঞানীদের মতে, থাকার স্বপক্ষে এখনও কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই৷ বস্ত্তত, লিভার ভালো রাখার কোনও ওষুধই নেই৷ প্রশ্ন আসে, তাহলে এই যে বাজার ছেয়ে গিয়েছে লিভারের ওষুধে, তাদের তবে ভূমিকা কী? যাঁরা খাচ্ছেন, সবাই কি বোকা?

লিভার ভালো করার ওষুধ, প্ল্যাসিবো এফেক্ট:- বিজ্ঞান যাই বলে বলুক, এই সব ওষুধের কিছু এফেক্ট হয় শরীরে, যাকে বলে প্ল্যাসিবো এফেক্ট৷ অর্থাত্‍, ভক্তিভরে চরণামৃত খেলে যে ফল হয়, তাই৷ বিশ্বাস বলে, আমি এতেই ভালো হবে সব৷ মনে শান্তি আসে৷ তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে শরীরে৷ আর কে না জানে, শরীর সুস্থ রাখতে, বিশেষ করে পেটের যে কোনও সমস্যায় মনের ভূমিকা অসীম৷
কি ভাবে আপনার লিভারের যত্ন নিবেন ?
সরবিলিন :-এই ওষুধ বাওয়েল মুভ করতে সাহায্য করে৷ অ্যাকিউট হেপাটাইটিসে যখন শরীর আইঢাই, এই ওষুধে পেট পরিষ্কার হয়ে কষ্ট কমে৷ ল্যাকটুলোজ জাতীয় স্টুল সফটনার দিলেও এই একই কাজ হবে৷ কাজেই ওষুধের চক্করে সময় নষ্ট না করে, লিভার যাতে সত্যিই ভালো থাকে তার ব্যবস্থা করুন৷

মদ্যপানে বিরতি :- যত মানুষ মদ্যপান করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের লিভার খারাপ হয়৷ উল্টো দিকে, লিভার খারাপ হওয়া মানুষের মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ জনের ক্ষেত্রেই কারণ মদ্যপান৷ এবার আপনিই ঠিক করুন কী করবেন৷ গলা অবধি খেয়েও কারও হয়তো কিছু হয় না, কিন্ত্ত আপনার যে দু-এক পেগেই হবে না, এমন গ্যারান্টি নেই৷ তাও যদি নেশা ছাড়তে না পারেন, বছরে এক-আধবার লিভার ফাংশন টেস্ট করিয়ে দেখুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা৷ তবে হ্যাঁ, মদ্যপানে ও আনুসঙ্গিকের যুগলবন্দিতে বা এমনিও ওজন যদি বেজায় বাড়িয়ে ফেলেন লিভারের হাত ধরে কিন্ত্ত আসতে পারে অন্য বিপদও৷

ওবেসিটি, লিভার ও অন্যান্য :- ওজন খুব বেড়ে গেলে লিভারে ফ্যাট জমার প্রবল আশঙ্কা৷ অর্থাত্‍ যাকে ফ্যাটি লিভার বলে৷ ব্যাপারটা ভালো মোটেও নয়৷ তবে একেবারে হায় হায় করার মতোও কিছু নয়, অন্তত লিভারের দিক থেকে৷ কারণ হিসেব বলছে ব্যবস্থা না নিলে এই সব মানুষদের মধ্যে অধিকাংশই মারা যান স্ট্রো, হার্টঅ্যাটাক বা ক্যান্সারে৷ লিভার নষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার চান্স আসে এর পরে৷ কারণ, ফ্যাটি লিভারের তলায় লুকিয়ে থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবিটিস, হাইকোলেস্টেরল-ট্রাইগ্লিসারাইড ও হাইপ্রেশাররের বীজ৷ যাদের একযোগে মেটাবলিক সিনড্রোম বলেয় সময়ে ব্যবস্থা না নিলে মহীরুহ হয়ে উঠতে যাদের বেশি সময় লাগে না৷

এক ঢিলে তিন পাখি :- ওবেসিটি, ফ্যাটি লিভার ও মেটাবলিক সিনড্রোম, তিনের চাবিকাঠিই লুকিয়ে আছে লো-ক্যালোরির সুষম খাবার ও এক্সারসাইজের মধ্যে৷ দিনে ৩০-৪০ মিনিট ঘাম ঝড়ানো ব্যায়াম করলে, সঙ্গে ভাজা-মিষ্টি-ফাস্টফুড বর্জিত কম তেলে রান্না করা খাবার খেলে সব কটি সমস্যাই আয়ত্তে থাকে৷ দেখা গিয়েছে যাঁরা ওষুধ খেয়ে ফ্যাটি লিভারকে বশে রাখার চেষ্টা করুন তাঁদের চেয়ে যাঁরা ডায়েট-ব্যায়াম করেন, তাঁরা অনেক বেশি ভালো থাকেন৷

ওষুধ ও লিভার :- প্রচুর ওষুধ আছে যা লিভারের ক্ষতি করে৷ ডাক্তারের পারমর্শ মতো খেলে তিনি লাভ-ক্ষতির বিচার করে ওষুধ দেন বলে সমস্যা কম হয়৷ সে জন্যই বলা হয় নিতান্ত প্রয়োজন না হলে ওষুধ না খেতে৷ কথায় কথায় ব্যথার ওষুধ, ভেষজ ওষুধ বা ওজন কমানোর সাপলিমেন্ট না খাওয়াই ভালো৷

লিভারে ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে :- এর অন্যতম শর্ত হাইজিন৷ খাবার ও জলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা৷ না হলে হেপাটাইটিস এ ও ই হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ অর্থাত্‍ লিভারে এ বা ই ভাইরাসের ইনফেকশন হয়ে জন্ডিস হওয়া৷ বড় বয়সে হলে যা প্রায়শই যথেষ্ট ঘোরালো হয়ে ওঠে৷ হেপাটাইটিস বি ঠেকাতে বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে নেওয়া উচিত৷ আর হেপাটাইটিস সি ঠেকাতে সতর্ক থাকা দরকার রক্তের ব্যাপারে৷ রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভালো ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যারা হেপাটাইটিস সি স্ক্রিনিং করে তবে রক্ত বাজারে ছাড়েন৷ ইনজেকশনের সিরিঞ্জও যাতে স্টেরাইল থাকে সে দিকে নজর রাখা দরকার৷ কারণ বি এবং সি হেপাটাইটিসের পাল্লায় পড়লে লিভার একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷
বিস্তারিত

কোষ্টকাঠিন্য রোধে কি কি করবেন - কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধের কার্যকর ঘরোয়া উপায়।

কোষ্টকাঠিন্য আমাদের সবারই অতি পরিচিত সমস্যা। কারো মাঝে মাঝে হয়ে থাকে এবং কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু যাদের অনেক দিনের সমস্যা অর্থাৎ বহু দিন যাবৎ কোষ্টকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন, তারা অবশ্যই কোনো হোমিওপ্যাথের সাথে আলাপ করবেন এবং চিকিত্সা নিবেন। দেখবেন সেরে যাবেন এবং এর জন্য আপনাকে আর সবসময় ঔষধ খেয়ে যেতে হবে না। আসুন এবার জেনে নেই কোষ্টকাঠিন্য রোধে করনীয় কি ?
কোষ্টকাঠিন্য রোধে কি কি করবেন - কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধের কার্যকর ঘরোয়া উপায়।
নীচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে দেখুন কোনটা আপনার দেহের সাথে সবচেয়ে বেশি ফিট হয়। যেটাতে ভালো ফলাফল পাবেন সেটাই নিয়মিত করুন-
  • দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান। 
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ১ গ্লাস কুসুম গরম দুধে ১ চা চামচ ঘি মিশিয়ে খান 
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে ২ গ্লাস কুসুম গরম পানি খেয়ে মর্নিং ওয়াক করুন 
  • নিয়মিত ফল বা সব্জী খান। পেপে, পেয়ারা, আখ, টমেটো ও বিট- কোষ্টকাঠিন্য রোধে সবচেয়ে কার্যকরী 
  • কোষ্টকাঠিন্য রোধে আপেল ও কার্যকরী। প্রতিদিন সকালে একটা আস্ত আপেল কামড়ে খান (পিস করে কেটে নয়) 
  • কোষ্টকাঠিন্য চলাকালীন অবস্থায় নিস্তার পেতে রোজ পানিতে লেবুর রস ও এক চিমটি লবন মিশিয়ে খান। 
  • তাছাড়া কোষ্টকাঠিন্য রোধে রোজ সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খান। 
  • ইসব গুলের ভুসি কোষ্টকাঠিন্য রোধে দারুন কাজ করে। প্রতিদিন সকালে ১ চামচ ইসব গুলের ভুসি এবং সাথে ১ গ্লাস পানি খান। 
বিস্তারিত

Wednesday, July 30, 2014

আপনার রক্তে HBsAg+Positive হলে তা Negative করুন

রক্তে HBsAg+Positive এর বিষয়টা আমাদের দেশের বিদেশগামীরা ভালো ভাবে উপলগ্ধি করে থাকেন। তাই অনেকের মনে এ নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকে এই যেমন - hbeag কি, হেপাটাইটিস বি রোগের চিকিৎসা, হেপাটাইটিস বি পজিটিভ, হেপাটাইটিস বি এর হোমিও চিকিৎসা, alt (sgpt) কি, হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা খরচ, sgpt মানে কি, হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন ইত্যাদি, ইত্যাদি.... তবে অনেকে হয়ত জানেনই না যে, তারা এটি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলশ্রতিতে যা হবার তাই হয়। তবে যখন ডাক্তারের কাছে যান তখন রোগীরা বলেন রক্ত জন্ডিস, লিভার জন্ডিস বা ম্যাইট্যা জন্ডিস। রোগী নিজে সুস্থ- তাই তার কোনো অভিযোগও নাই, বিদেশে যাবেন চাকরির খোঁজে, মেডিক্যাল টেস্টের পর জানলেন আনফিট, কারণ রক্তে HBsAg পজেটিভ কিন্তু বিলিরুবিন স্বাভাবিক।

আসুন এর সম্পর্কে কিছু জেনে নিই 

HBEAG বা HBcAg (কোর অ্যান্টিজেন) একটি ভাইরাল হেপাটাইটিস বি প্রোটিন। এটি সক্রিয় ভাইরাল প্রতিলিপি একটি সূচক। এই হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তি সম্ভবত অন্য ব্যক্তির উপর ভাইরাস প্রেরণ করতে পারেন অর্থ্যাত এটা সংক্রামক। HBeAg উভয় উপস্থিতি ভাইরাল প্রতিলিপি চিহ্নিতকারী এবং এই অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি প্রতিলিপি রোগটির অধ: পতন এর চিহ্নিতকারী। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। এ রোগটি বর্তমান সময়ে খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে চলেছে। সংক্ষেপে এটিকে এইচবিএস এজি'ও (Hbs Ag) বলা হয়। এর অর্থ হলো হেপাটাইটিস-বি সারফেস এন্টিজেন যা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দেহ থেকে নি:সৃত হয়ে থাকে।
আপনার রক্তে HBsAg+Positive হলে তা Negative করুন
শুধুমাত্র হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হলেই রক্তের এইচবিএস এজি (Hbs Ag) পরীক্ষা পজিটিভ হয়। এই ভাইরাসটি প্রধানত রক্ত ও বিভিন্ন দেহাংশের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে প্রবেশ করে। তাই এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে। পরীক্ষা ছাড়া কারো রক্ত নিজের শরীরে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। অন্যের ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুঁচ, সিরিঞ্জ, ক্ষুর, রেজার, ব্রাশ প্রভৃথি ব্যবহার না করা। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক, বিউটি পার্লার, সেলুন এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। অবৈধ যেকোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। 

বৈজ্ঞানিকভাবে HBsAg পজেটিভ মানে সব শেষ নয়। এটা রক্ত দিয়ে সংক্রামিত জন্ডিসের এক দুষ্ট জীবাণু হেপাটাইটিস বি-এর বহিরাবরণ বা তার খোসা মাত্র। সম্পূর্ণ জীবাণু বা ভাইরাস নয়। এটা ভাইরাসের নিষ্ক্রিয় অংশ। রক্তে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকরির জন্য অযোগ্য হতে হবে এবং উন্নত বিশ্বের যে কোনো দেশ ভ্রমণের জন্য বা চাকরির জন্য রক্তে HBsAg পজেটিভ থাকা কোনো অযোগ্যতা নয়। এটা থাকা মানে অসুস্থতাও নয়। 
তার সঙ্গে দেখতে হয় এই ভাইরাসের প্রাণ HBV DNA বা HBeAg রক্তে বহমান কিনা? এবং তা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পজেটিভ কিনা? ভাইরাসটা লিভারে সংক্রামিত হয়ে লিভারের ক্ষতি করে লিভার এনজায়েম ALT(SGPT) বাড়িয়ে দিয়েছে কিনা? যদি রোগীর রক্তে HBV DNA বা HBeAg ছয় মাসের বেশি সময় পরেও বিদ্যমান থাকে, রক্তে ALT (SGPT) দুই বা আড়াই গুণেরও বেশি থাকে তখন মানুষটি রোগী বলে বিবেচিত হবেন। আর তখনই চিকিৎসা নেয়ার কথা আসবে। কিন্তু ALT (SGPT) পরিমাণ যদি স্বাভাবিক থাকে, HBV DNA ও HBeAg নেগেটিভ থাকে তবে কিস্তু তিনি রোগী নন, HBsAg বহনকারী সুস্থ Carrier, তার চিকিৎসা অনাবশ্যক, তিনি এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাহীন এবং এর প্রতিষেধকও নিতে পারেন না। 
তাই যে কোনো সময় তার এই ভাইরাসটা সক্রিয় হয়ে যেতে পারে বা তিনি নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। তার দরকার তিন থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর চেকআপ করে নিশ্চিত হওয়া যে তিনি আগের মতো সুস্থ Carrier অবস্থায় আছেন, নাকি ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে তার লিভার আক্রমণ করে তাকে রোগী বানিয়ে ফেলছে। নিকটাত্মীয়রা অবশ্যই স্ত্রী Hepatitis Virus B প্রতিষেধক টীকা নেবেন। এই টীকা কার্যকর, যারা এখনও এই টীকা নেননি তারা Hepatitis Virus B থেকে বাঁচতে চাইলে আজই এর সম্পূর্ণ টীকা নিন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

আমরা বার বার বলে থাকি, প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই হোমিওপ্যাথি মন্ত্রের মত ক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে। তার একটি হলো লিভার ফাংসন। আপনার রক্তে যদি HBsAg+Positive ধরা পরে তাহলে কাল বিলম্ব না করে ভালো একজন রেজিস্টার্ড হোমিও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, দেখবেন চিকিত্সার কয়েক মাসের মধ্যেই অনেক ক্ষেত্রেই  HBsAg+Positive টা Nagative হয়ে যায়। তবে এটাও জেনে রাখা দরকার - কারো কারো ক্ষেত্রে নেগেটিভ করা কিছুটা দুরূহ হয়ে দাঁড়ায় - কিন্তু ১০০% ফলাফল না দিলেও এলোপ্যাথির চেয়ে হোমিওপ্যাথির ফলাফল অনেক বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেগেটিভ হয় না - এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যেমন - আপনার যদি HBV DNA পসিটিভ থাকে এবং ভাইরাসের গতি ক্রমাগত উর্ধমুখী(খুব বেশি একটিভ) থাকে তাদের ক্ষত্রে Nagative করা সম্ভব হয়ে উঠে না।  আপনি ডাক্তারের সাথে আলোচনা করলেই বিস্তারিত  বুঝতে পারবেন। 
বিস্তারিত

Tuesday, July 29, 2014

কোষ্টকাঠিন্য বা শক্ত পায়খানা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আমাদের জানাশুনা সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি হলো কোষ্টকাঠিন্য। অনিয়ন্ত্রিত খাবার দাবার অথবা স্থান বা পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যায় পরেন নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কিন্তু বিষয়টি যখন ক্রনিক হয়ে দাড়ায় তখন সত্যিই চিন্তার বিষয়। 

কোষ্টকাঠিন্য বলতে কেবল শক্ত পায়খানাকে বুঝায় না, নরম পায়খানাও যদি বের করতে কষ্ট হয়, তাকেও কোষ্টকাঠিন্য বলা হয়। কোষ্টকাঠিন্য কোন রোগ নয় বরং এটি শরীরের ভেতরকার অন্যকোন মারাত্মক রোগের একটি লক্ষণ মাত্র। তবে দীর্ঘদিন কোষ্টকাঠিন্য চলতে থাকলে পাইলস, উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিক আলসার, হৃদরোগ, হজমশক্তির দুর্বলতা, পেট ফাঁপা, দুর্বলতা, মেদভুঁড়ি, মাথা ব্যথা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, শরীরে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, বিষন্নতাসহ নানা রকমের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। 

কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো পায়খানার বেগ হওয়ার পরেও পায়খানা না করে তাকে চেপে রাখা। চেয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাও কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার আরেকটা বড় কারণ। এজন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সকালে বা রাতে) পায়খানা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যাদের কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা আছে তাদের শাক-সবজি, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ফল-মুল ইত্যাদি খাবার বেশী বেশী খাওয়া উচিত

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা :-
অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সায় কোষ্টকাঠিন্য এর জন্য নির্দিষ্ঠ সময় অন্তর অন্তর সব সময় ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। রোগ নির্মূলের নির্দিষ্ট কোন ট্রিটমেন্ট নেই। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় কোষ্টকাঠিন্য নির্মূলে খুব ভাল এবং কর্যকর রিমেডি রয়েছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Sunday, July 27, 2014

হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে কোথায় চিকিত্সা নিবেন?

হেপাটাইটিস নামটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। হেপাটাইটিসের  কথা শুনলেই বলি টিকা নিতে হবে অথবা আক্রন্ত হলে নিতে হবে বেশ দীর্ঘ মেয়াদী ট্রিটমেন্ট । বিশ্ব জুড়ে বেড়েই চলছে হেপাটাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। অবাক হলেও সত্য বিশ্বে প্রতি ১২ জন মানুষের মধ্যে একজন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলেও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষই জানে যে সে নিজে আক্রান্ত।
সুস্থ অবস্থায় টিকা নিয়ে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করা যায় খুব সহজেই। কিন্তু আক্রন্ত হয়ে গেলে অ্যালোপ্যাথি ডাক্তাররা আপনাকে দেবে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিত্সা তাও আবার ভাল হবেন কি হবেন না তা প্রায় অনিশ্চিত। তার পরও এগুলি নিয়ে কত সেমিনার, কত আলোচনা সভা, আরো যে কত কি !!! কারণ কি জানেন ? এর পেছনে রয়েছে পুজিবাদী কোম্পানি গুলোর প্রোডাক্ট গুলোর বিজ্ঞাপন। আর আপনরা এ গুলি দেখতে দেখতেই  বড় হয়েছেন।

কোথায় চিকিত্সা নিবেন ?
আপনি হয়ত অনেক দিন যাবত হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সা নিয়ে আসছেন। আর মানুষিক ভাবে এ সমস্যাটা নিয়ে বেশ বিপর্যস্থও বটে। আপনি কি জানেন এ সমস্যার সমাধান হতে ৩-৪ মাসের বেশি সময় লাগে না। তাও আবার চির দিনের জন্য আরোগ্য হবেন হেপাটাইটিস থেকে। কথা গুলি ম্যাজিকের মত লাগছে হয়ত আপনার কাছে !! বিষয়টা এমনই, বিজ্ঞাপনের ছটায় আমরা আজ আসল নকল বুঝতেও ভুল করি। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিত্সা হলো হোমিওপ্যাথি। একজন ভালো হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন এবং চিকিত্সা নিন। দেখবেন আপনার ধারণা পরিবর্তন হয়ে গেছে।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Saturday, July 19, 2014

জন্ডিস (Jaundice) এর কার্যকরী চিকিৎসা

রক্তে বিলিরুবিন নামক এক ধরনের পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। এ রোগে চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। জন্ডিস আসলে কোনো রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণমাত্র। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে হাত-পা, এমনকি শরীরেও হলদেটে ভাব চলে আসতে পারে। এর পাশাপাশি প্রস্রাবের রং হালকা থেকে গাঢ় হলদেটে হয়ে যায়। জন্ডিসে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লিভারের মতো গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গটি আক্রান্ত হয়। আর ক্ষেত্রবিশেষে এটি জীবন নাশকারী অবস্থায় চলে যেতে পারে। তাই এ রোগটি হেলাফেলা করা উচিত নয় মোটেই।
জন্ডিস যেভাবে হয় :-
আগেই যেমনটি বলেছি, রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। রক্তের লোহিত কণিকাগুলো একটা সময় স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে, যা পরে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সঙ্গে পিত্তনালির মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যেকোনো অসংগতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায় আর দেখা দেয় জন্ডিস।

জন্ডিস ও লিভার :-
লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ। আমরা যা কিছুই খাই না কেন, তা লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়। লিভার নানা কারণে রোগাক্রান্ত হতে পারে। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বেই জন্ডিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। তবে উন্নত দেশগুলোতে অতিরিক্ত মদ্যপান জন্ডিসের অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া অটোইমিউন লিভার ডিজিজ এবং বংশগত কারণসহ আরো কিছু বিরল ধরনের লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও অনেক সময় জন্ডিস হয়। তা ছাড়া থ্যালাসেমিয়া ও হিমোগ্লোবিন ই-ডিজিজের মতো যেসব রোগে রক্ত ভেঙে যায় কিংবা পিত্তনালির পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে। তাই জন্ডিস শুধুই লিভারের রোগ_এমনটি ভাবা ঠিক নয়।

লক্ষণ :-
জন্ডিস হলে চোখ হলুদ হয়। তবে হেপাটাইটিস রোগে জন্ডিসের পাশাপাশি ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, বমিভাব, জ্বর জ্বর অনুভূতি কিংবা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, মৃদু বা তীব্র পেটব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে তাই অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞের পরমর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক শারীরিক লক্ষণ এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জন্ডিসের তীব্রতা ও কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা :-
ভাইরাল হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করারও প্রয়োজন হতে পারে। ভাইরাল হেপাটাইটিস সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সেরে যায়। এ সময় ব্যথার ওষুধ, যেমন_প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, ঘুমের ওষুধসহ কোনো অপ্রয়োজনীয় ও কবিরাজি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, জন্ডিস হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই বাস্তবে সেবন করা ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকিটাই বেশি থাকে।

হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস সেরে যাওয়ার পরও লিভারের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে, যা লিভার পরবর্তী সময়ে লিভারসিরোসিস আর, এমনকি লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও তৈরি করতে পারে। তাই এ দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি লিভার বিশেষজ্ঞের ফলোআপে থাকত হয় এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নিতে হয়।

হোমিওপ্যাথিতে জন্ডিসসহ সকল লিভার রোগের অনেক উন্নত এবং সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা রয়েছে যার ফলাফল মাজিকের মত মনে হয়। কারণ যেখানে এ সকল রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ কাল অ্যালোপ্যাথি ঔষধ সেবন করতে হয় সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ততটা সময় লাগে না। সবচেয়ে সাফল্যের বিষয় হলো এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ  কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। তবে আপনাকে অবশ্যই ভালো কোন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের দারস্থ হতে হবে।

হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় :-
হেপাটাইটিস এ ও ই খাদ্য-পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আর বি সি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও প্রচুর পানি খেতে হবে। শরীরে রক্ত নেওয়ার দরকার হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিন। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটাও খুবই জরুরি।

হেপাটাইটিস বি ও এ-এর টিকা দেশে পাওয়া যায়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি'র টিকা প্রত্যেকেরই নেওয়া উচিত। যাঁরা সেলুনে শেভ করেন, খেয়াল রাখবেন যেন আগে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর আবারও ব্যবহার করা না হয়। জন্ডিস অনেক ক্ষেত্রেই এমনকি মৃত্যুরও কারণ হতে পারে।
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি    *********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত