Showing posts with label শিশু স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label শিশু স্বাস্থ্য. Show all posts

Tuesday, February 6, 2018

শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির লক্ষণসমূহ - জেনে নিন।

শুধু বড়রাই না ছোটরাও ভিটামিন ডি এর ঘাটতিতে ভুগতে পারে। ১২ মাসের কম বয়সি শিশুর প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন। যখন শিশুর ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ না হয় তখন তার হাড়ের গঠন ভালোভাবে হয়না। ভিটামিন ডি এর অভাবে শিশুদের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ ঠিকমত হয়না বলে রিকেটস রোগ হয়। সাধারণত ৬-৩৬ মাস বয়সের শিশুদের রিকেটস রোগটি হয়ে থাকে। শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির লক্ষণগুলো জেনে নিই চলুন।

১. মাথার খুলিতে খাজ পড়াঃ- শিশু ভুমিস্ট হওয়ার ১৯ মাস পরে তার মাথার খুলি শক্ত ও উন্নত হতে শুরু করে। এর মধ্যে যদি সে পর্যাপ্ত ভিটামিন না পায় তাহলে খুলির বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি ধীর গতির হয়। তখন শিশুর মাথায় স্পর্শ করলে বুঝতে পারবেন যে খুলি বেশ নরম আছে এবং এতে টোল বা খাজ পরে।
শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির লক্ষণসমূহ
২. ব্যথা এবং পেশীর দুর্বলতাঃ- যদি শিশুর হামাগুড়ি দিতে বা অল্প সময় বসে থাকতে সমস্যা হয় তাহলে এটি হতে পারে রিকেটসের কারণে তার পেশীর দুর্বলতা বা ব্যথার জন্য। ব্যথার কারণে শিশুর মেজাজ খিট খিটে হয়ে যায়।

৩. ইনফেকশনের পুনরাবৃত্তি হওয়াঃ- অনেক গবেষণাতেই ভিটামিন ডি এর ঘাটতির সাথে ইনফেকশনের পুনরাবৃত্তির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যদি আপনার শিশু সন্তান ঘন ঘন ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত হয় তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে ও এক্সরে টেস্ট করিয়ে জেনে নিন তার ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আছে কিনা।

৪. রেসিটিক রোজারিঃ- শিশুর ভিটামিন ডি এর ঘাটতির প্রধান লক্ষণ হচ্ছে তার হাড়ের বিকৃতি। যদি শিশুর বুকের খাঁচার মাঝখানের হাড়টিকে দেখা যায় তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে রেসিটিক রোজারি বলে। এটি হয়ে থাকে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে।

৫. বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়াঃ- মারাত্মক পর্যায়ের ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলে বা রিকেটস এর জন্য শিশুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। এছাড়াও সে তার নিজের ওজন বহন করতেও সমর্থ হয়না। তার হাত-পা ফোলা দেখায়। এছাড়াও ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলে শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয়, শ্বাসকষ্ট হয়। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণের জন্য সাপ্লিমেন্ট সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়।
বিস্তারিত

Monday, September 22, 2014

শিশুর কিডনির সমস্যা - লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং প্রতিকার

আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য কিডনির ভূমিকা অনস্বীকার্য। শরীরের নানা আবর্জনা এবং ক্ষতিকর তরল পদার্থ শরীর থেকে বের করে থাকে এই কিডনি। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে বিষাক্ত জিনিস শরীরে জমে জমে অসুস্থ হয় হূদযন্ত্র ও ফুসফুস। শরীরে পানি জমে, হয় শ্বাসকষ্ট। আমাদের শরীরে রয়েছে দুটো কিডনি। প্রতিটি কিডনি অনেকগুলো খুবই ছোট, অথচ জটিল একক নিয়ে গঠিত, এই এককের নাম হলো "নেফ্রোন"। প্রতিটি নেফ্রোনের কাজ হলো প্রস্রাব তৈরি করা আর এভাবে রক্ত থাকে বিষমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন। 

পরিণত বয়সের কিডনি রোগীদের মতো, শিশু-কিশোরদের কিডনি রোগের উপসর্গ বা লক্ষনগুলো সাধারণত দৃশ্যমান হয় না বিধায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের কিডনি জনিত রোগগুলো অনেক দেরিতে সনাক্ত হয়।শিশুদের সাধারণত দুই ধরনের কিডনির রোগ বেশি হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে নেফ্রোটিক সিনড্রোম ও অ্যাকিউট নেফ্রাইটিস।
শিশুর কিডনির সমস্যা - লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং প্রতিকার

নেফ্রোটিক সিনড্রোম

নেফ্রোটিক সিনড্রোম লক্ষণ :- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর হয়ে থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। প্রথম দিকে দুই চোখের পাতা ফুলে যায় ও মুখে ফোলা ভাব দেখা যায়। পরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পেটে, হাতে ও পায়ে পানি জমে এবং সারা শরীর ফুলে যায়। শিশুর অণ্ডকোষে পানি জমতে পারে। এর সঙ্গে কখনো বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, রং সাধারণত স্বাভাবিক থাকে। শিশুর রক্তচাপ সচরাচর স্বাভাবিক থাকে। প্রস্রাব জ্বাল দিলে প্রোটিনের পুরু স্তর পাওয়া যায়।

রোগ নির্ণয় :-
  • প্রস্রাবে খুব বেশি পরিমাণে প্রোটিন বেরিয়ে যায় (৪০ মিলিগ্রাম)। প্রতি স্কয়ার মিটার সারফেস এরিয়া বা প্রতি ঘণ্টায় প্রস্রাবের বেশি।
  • সিরাম লিপিডে উচ্চ মাত্রা, ২২০ গ্রামের বেশি।
  • রক্তে অ্যালবুমিনের সর্বনিম্ন, ২ গ্রামের কম।
  • শিশুর সারা শরীর ফুলে যায়।

অ্যাকিউট নেফ্রাইটিস

অ্যাকিউট নেফ্রাইটিসের লক্ষণ :- প্রধানত স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগ হয়ে থাকে। শিশুর শরীরে খোসপাঁচড়া বা গলা ব্যথা অসুখের ১০ থেকে ২১ দিন পরে সাধারণভাবে এ রোগ প্রকাশ পায়। স্টেপটোকক্কাই নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এ জন্য দায়ী।

অ্যাকিউট নেফ্রাইটিসের উপসর্গ :-
  • হঠাৎ করে চোখ-মুখ, সারা শরীর ফুলে যেতে পারে।
  • প্রস্রাব হয় বন্ধ কিংবা পরিমাণে খুব অল্প হতে পারে। বেশির ভাগ সময় প্রস্রাবের রং লাল থাকে।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২১ দিন আগে গলা ব্যথা হয়ে থাকে। কখনো ত্বকে খোসপাঁচড়াজাতীয় চিহ্ন থাকে।
  • শিশুর রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি কি :-
  • প্রস্রাব পরীক্ষায় কিছুটা প্রোটিনের সঙ্গে আরবিসি কাস্ট পাওয়া যায়।
  • কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝার জন্য ব্লাড ইউরিয়া, সিরাম ক্রিয়েটিনিন মাত্রা দেখা যায়। সিরাম পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রা ইসিজির সাহায্যেও বোঝা যেতে পারে।
বাচ্চার খোসপাঁচড়া বা গলাব্যথা অসুখে সময়মতো চিকিৎসা করাতে হবে। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ অ্যাকিউট নেফ্রাইটিসের শিশু সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তবে সময় নষ্ট না করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিন। শিশুদের কিডনি বা মূত্রতন্ত্রের সমস্যা প্রথম পর্যায়েই সনাক্ত করা গেলে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমেই সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। তাই মা-বাবাকে শিশুর এই ধরনের সমস্যার ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।

তবে  কিডনি সংক্রান্ত এ সকল সমস্যায় শিশু এবং বয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা দ্রুত ফলদায়ক এবং অধিকতর কার্যকর। তাই নির্দিধায় আপনার শিশুর কিডনি সংক্রান্ত যে কোনো রোগে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন। এতে নেই কোন প্রকার জটিলতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিন্তা।
বিস্তারিত

Saturday, September 6, 2014

শিশুদের কৃমির সমস্যায় করণীয় কি কি ?

আমাদের শিশুদের জটিল সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হলো কৃমির সমস্যা। শিশুদের পুষ্টিহীনতার জন্য কৃমি অনেকাংশে দায়ী। বিভিন্ন কারনে শিশুর কৃমির সমস্যা হতে পারে যেমন- নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, অপরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার আগে হাত না পরিষ্কার করা ও খালি পায়ে হাঁটা ইত্যাদি। এর জন্য প্রতি বছর সরকারীভাবে আমাদের দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। শিশুর কৃমি সমস্যার কারনে রক্তশূন্যতা, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে, শুধু তাই নয়, তাদের বেড়ে ওঠা এবং সুস্বাস্থ্য ব্যাহত হয়।
কীভাবে বুঝবেন কৃমির সংক্রমণ :-
বিভিন্ন প্রকারের কৃমি শিশুদের শরীরে নানান বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে থাকে। শিশুদের কৃমির প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে :- আয়রনের ঘাটতি, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, খাওয়ার অরুচি, রক্তশূন্যতার জন্য দুর্বলতা, পেট ফাঁপা, অপুষ্টিতে ভোগা এবং ডায়রিয়া। কৃমির কারণে চুলকানি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট এমন কি কাশিও হতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কৃমি বিশেষ করে গোল কৃমি পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয় ও অ্যাপেনডিক্সে অবস্থান নিয়ে সংক্রমণ ঘটায় ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে। শরীরের নানা অঙ্গে কৃমি মরে গিয়ে স্টোন জমার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। কিছু কৃমি লিভারেরও ক্ষতি করে। চোখের ক্ষতি করে লোয়া লোয়া। কৃমির কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কম শোষিত হয়, ফলে ভিটামিন ‘এ’র অভাবজনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন :- ত্বক, অন্ত্রের অ্যাপিথেলিয়াম ও চোখের ক্ষতি হয়। প্রচুরসংখ্যক কৃমি একসঙ্গে জমাট বেঁধে অন্ত্রের নালি বন্ধ করে দিতে পারে।

কৃমি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা :-
অনেকের ধারণা পেটে ২-১ টা কৃমি থাকা ভাল। এ ধারণাটি মোটেই ঠিক নয়। কৃমি শরীরের কোন উপকার করে না বরং ক্ষতিই করে। কৃমি হজমে সাহায্য করে বলে মনে করেন অনেকে। এটিও একটি ভ্রান্ত ধারণা। কৃমি হজমে সাহায্য না করে উল্টো বদ-হজম, অজীর্ণ, ক্ষুধামান্দ্য ও পেটের পীড়ার সৃষ্টি করে।

মিষ্টি খেলে কৃমি হয় এমন কথাও বলেন কেউ কেউ। মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে কৃমি হওয়ার ব্যাপারটি কোনভাবেই যুক্ত নয়। নোংরা, ময়লা পরিবেশ, সেতসেঁতে মাটি হচ্ছে কৃমির জন্য আরামপ্রদ আবাসস্থল, যেখানে কৃমির ডিম ও বাচ্চা থাকে। সেসব নোংরা স্থানে চলাফেরা করলে কৃমি পায়ের তালু ভেদ করে শরীরে ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া নোংরা স্থানের মাটি ও ময়লা হাত দিয়ে স্পর্শ করলে অসবাধানতা ও অপরিচ্ছন্নতার সুযোগে তা নখ দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। এছাড়া নোংরা পানিতেও কৃমির ডিম বা বাচ্চা থাকতে পারে। দূষিত পানি পান করার কারণেও কৃমি শরীরে ঢুকে পড়ে।

শিশুকে কৃমি থেকে রক্ষার্থে যা যা করবেন :-
  • সব সময় পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকতে হবে।
  • জন্মের পর প্রথম পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো । এ সময়ে অন্য কোন খাবার বা পানীয়ের প্রয়োজন নেই।
  • পাঁচ মাস বয়স হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিবারের অন্য খাবারাদি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করে শিশুদের খেতে দেয়া। 
  • খাবার তৈরির পূর্বে এবং খাবার দেয়ার পরে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। 
  • খাবার ভাল করে সিদ্ধ করে পরিষ্কার পাত্রে রাখতে হবে।
  • সব সময় কাচা ফলমূল খাওয়ার আগে তা পরিষ্কার করে খাওয়া শিক্ষাতে হবে।
  • পরিষ্কার ও নিরাপদ পানির ব্যবহার খাবার ধোয়া, মোছা, রান্না ইত্যাদি কাজে ব্যবহার ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কখনওই দূষিত পানি ব্যবহার করা যাবে না।
  • পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে মল ত্যাগের পর, খাবার তৈরি ও পরিবেশনের আগে ও খাবার গ্রহণের আগে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
  • সেনিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পয়ঃনিষ্কাশন পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে।
  • নিয়মিত পায়খানা ব্যাবহারের পর হাত পা পরিষ্কার করেনিতে হবে।
  • খালিপায়ে হাঁটার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
  • ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
চিকিৎসা :-
দু’বছর পর থেকে সবার জন্য কৃমির ওষুধের ডোজ একই অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ ওষুধ খাবেন, আপনার আড়াই বছরের শিশুও একই পরিমাণ ওষুধ খাবে। তাই এ নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। বাড়ির সবার একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত, এতে কৃমি থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়। সুস্থ মানুষ বা শিশুরা যদি চার থেকে পাঁচ মাস পর পর কৃমির ওষুধ খান, তবে কোনো ক্ষতি হয় না। আজকাল দুই বছরের কম বয়সের শিশুদেরও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যায়, তবে তার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
বিস্তারিত

Wednesday, August 27, 2014

শীতকালে শিশুদের রোগ-ব্যাধি এবং করণীয়

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম থাকার কারণে শীতের সময় বদলে যাওয়া আবহাওয়ায়, শিশুরা খুব সহজেই বিভিন্ন অসুখবিসুখে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিশুরা সাধারণত ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি, ঠান্ডা জ্বর প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আপনি আপনার শিশুকে এই সকল শীত জনিত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে পারবেন। এজন্য রোগের কারণ, প্রকৃতি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার জানা জরুরি।
হাপাঁনি :-
হাপাঁনি শ্বাসনালির এক ধরনের অ্যালার্জি। ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুদের বারবার কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে বা বুকে শব্দ হলে আমরা মনে করি তার হাঁপানি হয়েছে। শিশুর শ্বাসনালি কোনো জিনিসের প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হলে কাশি বা শ্বাসকষ্ট হয়। শিশুর সামনে ধূমপান করলে, ভাইরাসে শ্বাসনালি সংক্রমিত হলে, শীতের অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাস লাগলে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়, যখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে তখন শিশুর হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে যায়। হাপাঁনির লক্ষণ গুলো হলো; খুব বেশি কাশি হলে, বিশেষ করে রাতের বেলায় কাশি বাড়লে এবং এক মাসের বেশি সময় ধরে কাশি থাকলে, বুকের দুধ টেনে খেতে কষ্ট হলে বা অন্যান্য খাবার খেতে অসুবিধা হলে, বুকের পাঁজরের নীচের দিক ভেতরের দিকে দেবে গেলে, অস্থিরতা থাকলে, কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে হাত বা পায়ের আঙুল নীল হয়ে গেলে। শিশুর হাঁপানির লক্ষণ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া ঘরে অতিরিক্ত আসবাবপত্র, কার্পেট রাখবেন না। পালকযুক্ত পোশাক বা খেলনা শিশুকে দেবেন না। ধোঁয়া, ধুলা, ফুল বা ঘাসের রেণু আছে, এমন স্থানে শিশুকে নিয়ে যাবেন না। শিশুর সামনে বা পাশে বসে ধূমপান করবেন না। হাঁপানি অ্যান্টিবায়োটিকে ভালো হয় না। তাই শ্বাসকষ্ট হলেই এ-জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

নিউমোনিয়া :-
নিউমোনিয়া হচ্ছে ফুসফুসের এক প্রকার ইনফেকশন। ভাইরাল ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পরিবেশগত ও অন্যান্য কারণে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। শিশুদের ফুসফুসের রোগ থাকলে – সিস্টিক ফাইব্রোসিস, অ্যাজমা, ফুসফুসে ইনফেকশন হয়ে থাকে। এসময় শিশুদের সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর হতে পারে। কয়েকটি বিশেষ লক্ষণ থেকে বোঝা যায় শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কি-না। যেমনঃ সর্দিকাশি, জ্বরের সঙ্গে শিশু যদি খুব দ্রুত নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে, তাহলে বুঝতে হবে এটা সাধারণ সর্দিজ্বর নয়। এছাড়া শান্ত থাকা অবস্থায় শিশুর যদি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, নিঃশ্বাস নিতে গেলে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, তাহলে তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ। নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় পেট ভেতরে ঢুকে যাবে। নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নাক ফুলে উঠবে। মুখ ও ঠোঁটের চারপাশ নীল হয়, সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বরও হতে পারে। এমন অবস্থায় শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট নিতে হবে।

ডায়রিয়া :-
শীতকালে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার প্রকোপ অন্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল ভাইরাসজনিত, ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুঘটিত, ছত্রাক বা ফাংগাস জাতীয় প্রদাহ এবং আক্রমণ। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্বক হল টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডজনিত ব্যাকটেরিয়াজনিত ডায়রিয়া, পেটের পীড়া। আক্রান্ত শিশুদের পেটের পীড়া, ডায়রিয়ার সাথে জ্বরও হতে পারে।। সঠিক রোগ নির্ণয় করে এর যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া এমনিতেই সঠিক পরিমাণে খাবার স্যালাইন গ্রহণ করলে ভালো হয়ে যায়। আবার কলেরার কারণে বেশি পাতলা পায়খানা হলে এবং শরীর থেকে বেশি ফ্লুয়িড নির্গত হলে তা শিশুর শরীরের জন্য মারাত্বক পরিণতি বয়ে আনতে পারে; কোনও কোনও ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

ব্রংকিওলাইটিস :-
ইহা শিশুদের ফুসফুসের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যাতে আক্রান্ত শিশুরা ভয়ানক কাশি এবং শ্বাসকষ্টে ভোগে থাকে। সাধারণত ২ বছরের কম বয়সী শিশুরা, প্রধানত যাদের বয়স ছয় মাসের কম তারাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেসব শিশুর মায়ের বুকের দুধ পান করানো হয়নি, যারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকে, যাদের জন্মের সময় ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল—তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর নাক দিয়ে পানি ঝরে, হাঁচি থাকে, সঙ্গে হালকা জ্বরও থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে কাশি, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকের খাঁচা দেবে যাওয়া, এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাঁশির আওয়াজের মতো এক ধরনের শব্দও হতে পারে। আক্রান্ত শিশুরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, অস্থির থাকে। শ্বাসকষ্টের জন্য তাদের খেতে ও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। কারও কারও দ্রুত শ্বাসের সঙ্গে হূৎস্পন্দনও বেড়ে যায়। উপসর্গ দেখেই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে। তীব্র ‘ব্রংকিওলাইটিস’-এ আক্রান্ত শিশুর কোনো মারাত্মক জটিলতা না থাকলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। প্রয়োজনে অক্সিজেন, নেবুলাইজেশন, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ দিতে হবে।

সর্দি-কাশি :-
শীতে সবচেয়ে বেশি যে রোগটি শিশুদের হয়ে থাকে তা হল সর্দি-কাশি, কমন কোল্ড বা ঠাণ্ডা জ্বর। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস বিশেষত ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগের সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, লালা, কাশি বা হাঁচি থেকে নিঃসরিত ভাইরাসের মাধ্যমে এই রোগের সংক্রমণ হয়। এর ফলে শিশুর জ্বর, গলাব্যথা, চুষে্ খাবার খেতে অনিহা বা সমস্যা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে অনবরত সর্দি নিঃসৃত হওয়া, খুসখুসে কাশি অনুভূত হয়। কোনও কোনও সময় খাবারে অরুচি, পাতলা পায়খানা হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুকে বিশ্রাম দিতে হবে। হালকা খাবার, পানীয়, দুই বছরের কম বয়সীদের মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সিরাপ দিতে পারেন খেতে পারেন। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা, কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ঔষধ, কাশির সিরাপ দিতে পারেন।

পুরো শীতকাল জুড়েই শিশুকে সুস্থ রাখতে কি কি করবেন ?
  • শীতে শিশুরা অতিরিক্ত ভিটামিন সি পাবে এমন খাবার দিতে হবে।
  • নবজাতককে শীতের সময় গোসল না করানোই ভালো। তবে নরম কাপড় হালকা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।
  • নবজাতক শিশুকে নরম সুতি কাপড়ে জড়াতে হবে। তার হাত-পায়ে গরম মোজা দিয়ে রাখতে হবে।
  • এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও উলের বা মোটা সুতির গরম কাপড়ে রাখতে হবে। তবে বাচ্চার শরীর ঘেমে যায়, এমন কাপড় যেন না হয়।
  • একটু বড় শিশুকে অবশ্য গোসল করাতে হবে, নইলে চর্মরোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে প্রতিদিন না করিয়ে দুই দিনে একবার গোসল করালে ভালো হয়। গোসল করালে শরীর ঝরঝরে হবে, শিশুর আরাম লাগবে।
  • গোসলের পর ভালো লোশন বা ক্রিম লাগিয়ে দিতে হবে। গোসলের সময় চুল টেনে চুলের গোড়ার ময়লা পরিষ্কার করে দিতে হবে। এতে মাথার ত্বক সুস্থ থাকবে।
তথ্যসূত্র :- সাজগোজ
বিস্তারিত

Monday, August 25, 2014

সন্তানের ওপর তার পিতা মাতার রক্তের প্রভাব রয়েছে - জানেন কি ?

মায়ের রক্তের গ্রুপ এবং তাঁর সন্তানের রক্তের গ্রুপ দুটোর সমীকরণের ফলাফল গর্ভস্থ ভ্রূণ বা নবজাতকের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ধরা যাক, গর্ভধারিণী মায়ের রক্তের গ্রুপ আরএইচ নেগেটিভ এবং তাঁর স্বামীর রক্তের গ্রুপ আরএইচ পজেটিভ। এই যোগসূত্রে আরএইচ পজেটিভ শিশুর জন্ম হতে পারে। এই মা যদি আগে থেকে আরএইচ রক্তকোষ দ্বারা সংবেদনশীল থাকেন, তাহলে গর্ভস্থ আরএইচ পজেটিভ বাচ্চা আরএইচ হিমোলাইটিক অসুখে কোনো না কোনো মাত্রায় আক্রান্ত হবে। আর মা যদি ডেলিভারির পরে প্রতিক্রিয়ার আওতায় আসেন, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সব আরএইচ পজেটিভ গর্ভস্থ শিশু ঝুঁকিতে থাকবে।
সন্তানের ওপর তার পিতা মাতার রক্তের প্রভাব রয়েছে - জানেন কি ?
বর্তমানে প্রচুর পরিমানে থ্যালাসেমিয়া ( রক্তের গ্রুপের উপর নির্ভর করে না। রক্ত এ রোগের পজেটিভ এবং নেগেটিভ বাহক হিসাবে কাজ করে। তাই রক্ত পরিক্ষা করে নিন আপনি এর বাহক কিনা ),আরএইচ হিমোলাইটিক, হাইড্রপস ফিটালিস ইত্যাদি রোগ ধরা পড়ছে। যার প্রভাব শিশুদের উপর সবচেয়ে বেশি। আর এ রোগ গুলি আসে পিতা মাতার রক্তের গ্রুপ ভিত্তিক গরমিল থেকে। স্বামী এবং স্ত্রীর রক্ত (রক্তের গ্রুপের) উপর নির্ভর করে শিশুর সুস্থতা। আর এই গ্রুপের গরমিল হলেই আপনার শিশু ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই বিয়ের আগেই আপনারা সবাই নিজে এবং যাকে বিয়ে করে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনারা উপযুক্ত কিনা ? আরও সুবিধার জন্য নিচে একটা চার্ট দিয়ে দেয়া হল। যা দেখলে আপনারাই বুঝে যাবেন যে আপনার কোন রক্তের গ্রুপ আর আপনি কোন রক্তের গ্রুপের সঙ্গীকে বিয়ে করবেন। আর ও বিস্তারিত জানার জন্য একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ঝুঁকির সম্ভাবনা

মায়ের পজেটিভ(+) ও নেগেটিভ (-) রক্তের গ্রুপের সঙ্গে বাবার পজেটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) রক্তের গ্রুপের সম্পর্ক-ঝুঁকি।
মায়ের রক্তের গ্রুপ
বাবার রক্তের গ্রুপ
ঝুঁকি
এ+, বি+, ও+ বা এবি+
এ+, বি+, ও+ বা এবি+,এ-, বি-, ও- বা এবি-
ঝুঁকি নেই।
এ-, বি-, ও- বা এবি-
এ-, বি-, ও- বা এবি-
ঝুঁকি নেই।
এ-
এ+
১৬%
বি+
বাচ্চার রক্তে গ্রুপের ওপর নির্ভর করে ২-১৬% ঝুঁকি।
ও+
১৬%
এবি+
বাচ্চার রক্তে গ্রুপের ওপর নির্ভর করে ২-১৬% ঝুঁকি।
বি-
এ+
বাচ্চার রক্তে গ্রুপের ওপর নির্ভর করে ২-১৬% ঝুঁকি।
বি+
১৬%
ও+
১৬%
এবি+
বাচ্চার রক্তে গ্রুপের ওপর নির্ভর করে ২-১৬% ঝুঁকি।
ও-
এ+
বাচ্চার রক্তে গ্রুপের ওপর নির্ভর করে ২-১৬% ঝুঁকি।
বি+
বাচ্চার রক্তে গ্রুপের ওপর নির্ভর করে ২-১৬% ঝুঁকি।
ও+
১৬%
এবি+
২%
এবি-
এ+, বি+, ও+ বা এবি+
১৬%

আরএইচ ‘ডি’ রক্তের শ্রেণীর গরমিল :-
ভাগ্য ভালো, সব রক্তশ্রেণী দুর্যোগ তৈরি করে না। কিন্তু ‘ডি’ অ্যান্টিজেনের গরমিলের চিত্র খুব ভয়াবহ হতে পারে। 
  • তবে মাতা-পিতা দুজনই যদি ‘ডি’ নেগেটিভ হন, বাচ্চা কখনো ‘ডি’ পজেটিভ হবে না। সুতরাং বিপদমুক্ত। 
  • কিন্তু ‘ডি’ নেগেটিভ মায়ের সঙ্গে ‘ডি’ পজেটিভ স্বামীর যোগসূত্রে বাচ্চা ‘ডি’ পজেটিভ, ‘ডি’ নেগেটিভ দুটোর যেকোনো একটা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘ডি’ পজেটিভ বেবি হলেই কেবল বিপদ।
  • গর্ভস্থ ভ্রূণ ‘ডি’ পজেটিভ হলেও প্রথম বাচ্চা এতে আক্রান্ত হয় না। প্রথম বাচ্চা জন্মদানের সময় আরএইচ পজেটিভ রক্তকোষজাত অ্যান্টিডি-অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে, যা পরবর্তী সময়ে গর্ভস্থ শিশু থেকে বা রক্ত সরবরাহতন্ত্রে প্রাপ্ত যেকোনো ‘ডি’ পজেটিভ রক্তকোষ পেলে সমূহ সংহারে উদ্যোগী হয়। এভাবে আরএইচ নেগেটিভ মা তাঁর ডি-অ্যান্টিজেন নিয়ে কতটা সংবেদনশীল হয়েছেন, তার মাত্রা মায়ের গর্ভকালীন সিরাম ইনভাইরেক্ট কুম্বসটেস্ট দ্বারা নির্ণয় করা যায়। প্রতিক্রিয়ার মাত্রা যত বেশি হবে, গর্ভস্থ ভ্রূণ তত বেশি ক্ষতির শিকার হবে; যার সর্বাধিক নমুনা হচ্ছে ‘হাইড্রপস ফিটালিস’। 

সাবধানতা

  • বিয়ের আগে সবার (বর/কনে) রক্তের গ্রুপ টেস্ট করে নেওয়া দরকার যাতে পরবর্তীতের বড় ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • আপনি যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক হন তাহলে এ বাহক যেন আপনার বউ এর না হয় সেই ভাবে বিয়ের প্রস্তুতি গ্রহন করুন।( এখানে আপনাকে রক্ত পরিক্ষা করতে হবে যে আপনি বাহক কিনা বা আপনার যে বউ হবে সে বাহক কিনা। এখানে রক্তের গ্রুপ পরিক্ষা করার প্রয়োজন নেই)
  • পরিকল্পিত পরিবার গড়ার জন্য সবসময় সচেতন থাকুন এবং বিশিষ্ট ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন।
  • রক্ত গ্রহনের সময় বহনকারী রক্ত ভাল করে পরীক্ষা করে নিন।
  • একি সিরিঞ্জ বার বার ব্যবহার করবেন না। অন্যের সিরিঞ্জ নিজে ব্যবহার করবেন না।
  • আপনার জন্য যেন আপনার সন্তান পরবর্তীতে বিপদে না পড়ে সেই জন্য আগের প্রস্তুতি গ্রহন করুন।
  • আরও বিস্তারিত জানার জন্য একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রতিরোধ

  • সবাই অবগত আছেন থ্যালাসেমিয়া সন্তান জন্মদান প্রতিরোধে বিবাহপূর্ব রক্ত পরীক্ষা করিয়ে বর বা কনে উভয়ে এ রোগের বাহক কি না জেনে নিয়ে চিকিৎসার আশ্রয় নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রেও গর্ভপূর্ব হতে মা ও বাবার রক্তশ্রেণী জানা গেলে মা, বাবা ও অনাগত সন্তানের রক্তশ্রেণীর গরমিলজনিত সংকট মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ।
  • সব আরএইচ নেগেটিভ মাকে গর্ভকালীন ২৮ ও ৩৪ সপ্তাহে, প্রসব-পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, গর্ভপূর্ব সময়ে গর্ভপাত, জরায়ু থেকে রক্তপাত হয়ে থাকলে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ‘অ্যান্টিডি ইমিউনোগ্লোবুলিন’ দেওয়ার মাধ্যমে ভয়ানক এ অসুখ থেকে অনাগত সন্তানকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
বিস্তারিত

জন্মের পর শিশুরা যে রোগগুলিতে বেশি বেশি আক্রান্ত হয়

প্রায়ই দেখে থাকবেন জন্মের পরপরই নবজাতকের বেশ কিছু অসুখ বেশি বেশি হয়ে থাকে। ছোট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে কিছু অসুখে তারা বেশি আক্রান্ত হয়। এ ধরনের অনেক অসুখ অল্প যত্নে ভালো হয়ে যায়। নবজাতকের এরকম কয়েকটি রোগ নিয়ে আলোকপাত করেছেন অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন।

চোখ দিয়ে পানি পড়া :- কোনো কোনো নবজাতকের চোখ দিয়ে পরিষ্কার পানি বা অশ্রু ঝরে পড়তে পারে। তার জন্য কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন নেই। তবে শিশুর নাকের গোড়ায় চোখের কোনা বরাবর আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ বা মালিশ করলে চোখ দিয়ে পানি পড়া সেরে যায়। চোখের পানি যদি পুঁজ মেশানো হয় বা পুঁজের মতো হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
জন্মের পর শিশুরা যে রোগগুলিতে বেশি বেশি আক্রান্ত হয়
জন্ডিস :- জন্মের পর অনেক শিশুর জন্ডিস দেখা দিতে পারে। এটা খুব সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত নবজাতকের জন্মের দুই দিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে এই জন্ডিস দেখা দিতে পারে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সেরে যায়। এই সময় মায়ের দুধ শিশুকে বেশি করে খাওয়াতে হয় এবং সেই সঙ্গে সকালের হালকা রোদে শিশুকে খালি গায়ে কিছুক্ষণ রাখতে হয়। তাহলে শিশু দ্রুত জন্ডিসমুক্ত হয়। তবে মনে রাখতে হবে - শিশুর মাথায় যেন সূর্যের আলো সরাসরি না পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর জন্ডিসে আলাদা কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন নেই। তবে শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই যদি জন্ডিস দেখা দেয় অথবা সাত দিন বয়সের পর জন্ডিস দেখা দেয় বা জন্ডিসের কারণে গায়ের হলদেটে ভাব যদি দিন দিন গাঢ় হতে থাকে, তবে ডাক্তার দেখাতে হবে।

স্তন ফুলে যাওয়া :- জন্মের পর অনেক শিশুর (ছেলে বা মেয়ে) স্তন ফুলে যায় এবং মেয়েসন্তানের যোনিপথ দিয়ে রক্ত মিশ্রিত স্রাব বের হতে পারে। এটা স্বাভাবিক এবং এর জন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

ফুসকুড়ি :- অনেকেই শিশুকে জন্মের পর গরম কাপড়, ভারী তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে পেঁচিয়ে রাখে। অতিরিক্ত কাপড় পরানোর ফলে গরমে শিশুর গায়ে লাল দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এ রকম হলে শিশুকে ঘন ঘন কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। গায়ে বেবি পাউডারও মাখা যেতে পারে। শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় বাদ দিয়ে হালকা পাতলা আরামদায়ক কাপড় পরাতে হবে।

যোনিপথে রক্তক্ষরণ :- অনেক সময় নবজাতক মেয়েদের যোনিপথে রক্তক্ষরণ হতে পারে। সাধারণত চার দিন থেকে ১০ দিনের মাথায় রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং তা মায়েদের হরমোনের প্রভাবে হয়। রক্তক্ষরণের অন্যান্য কারণ যদি না থাকে, এই রক্তক্ষরণ নিজেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। এ ধরনের রক্তপাতে সাধারণত ভয়ের কিছু নেই। তবুও এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

কনজাংটিভাইটিস :- শিশুদের চোখের সাদা অংশ বা কনজাংটিভায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এ রোগে শিশুর চোখে পিঁচুটি বা পুঁজ দেখা যায় এবং চোখ লাল হয়ে যেতে পারে। কনজাংটিভাইটিস হলে চোখ বারবার পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হয় অথবা নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। অনেক সময় এই প্রদাহ শিশুর অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

নাভি স্ফীতি :- কোনো কোনো শিশুর নাভি শুকিয়ে যাওয়ার পর নাভিমুখের নিচের মাংসপেশিতে ফাঁকের সৃষ্টি হয় এবং শিশু কাঁদলে বা কোঁত দিলে নাভি বেলুনের মতো ফুলে ওঠে। প্রথম কয়েক মাসে ফোলা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে পরে ফোলা সংকুচিত হতে হতে স্বাভাবিক হয়ে যায়। নাভি স্ফীতি কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। তবে নাভি স্ফীতি খুব অস্বাভাবিক মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিস্তারিত

Saturday, August 23, 2014

প্রাকৃতিক উপায়ে প্রসুতি মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধি করবেন কিভাবে ?

আমাদের দেশে প্রায় ৮৫% মায়েরা মনের সন্দেহের কারণেই অভিযোগ করে বসেন যে বুকের দুধ তার সন্তান ঠিক মত পাচ্ছে না, এ ধরনের কোনো সমস্যা থাকলে এমনিতেই তা ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা যদি প্রসুতি মাকে উত্সাহ দিয়ে তার মানসিক চাপটা কমিয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা যায় অর্থাৎ স্ট্রেস হরমোনের পরিমান যে কোন উপায়ে কমানোটাই হচ্ছে এর উত্তম মাধ্যম। তারপরও নিচের ব্যাবস্থা সমূহ ৫/৭ দিন করে নিতে পারলে দেখবেন মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সর্ব প্রথম প্রসুতি মাকে স্ট্রেস কমাতে হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক কোন কারণে হলেও তা বুঝিয়ে দূর করার চেস্টা করতে হবে অন্তত তার শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। কারণ অনেক সময়ই দেখা যায় মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু অবেহালা জনিত ব্যাবহার, স্বামীর সন্তান বা মায়ের প্রতি ভালবাসার কিছুটা অনিহা ...........ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়। এধরনের সংকীর্ণতা পরিহার করে প্রসুতি মাকে উত্সাহ দিয়ে তার যাবতীয় মানুষিক চাপ দূর করতে হবে।
প্রাকৃতিক উপায়ে প্রসুতি মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধি করবেন কিভাবে ?
সেই সাথে মাকে প্রতিদিন কম পক্ষে ১৮০০ ক্যালরি ক্ষমতা সম্পন্ন খাবার খাওয়াতে হবে । অবশ্যই আর ও ভাল হবে যদি যে সব খাবারে উচ্চ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, দুধ ও ডিম জাতীয় খাবার, প্রচুর ভিটামিন যোক্ত ফল, এবং উন্নত মানের কিছু লতা পাতা জাতীয় শাঁক ও তরকারী, লবণাক্ত মাছ বা সারটিন জাতীয় মাছ, বাদামী চাল, চর্বিহীন মাংস, এবং কচি মুরগের বাচ্চা ইত্যাদি নিজ সাধ্যমত খাওানোর চেস্টা করা উচিত।

এরপরও যদি দেখা যায় মায়ের বুকে বেশী দুধ ভালো আসছেনা যা কোন অসুখের কারণেও হতে পারে, তা হলে আপনার হোমিওপ্যাথের পরামর্শ নিন। তাছাড়া নবজাতক যদি মায়েদের বুকের দুধ না পায় সেক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সায় মায়েদের বুকের দুধ বাড়ানোর সুন্দর সমাধান রয়েছে। তাই সে ক্ষেত্রে আপনি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন হোমিও চিকিত্সা নিতে পারেন যা আপনার এবং আপনার সন্তান দু' জনের জন্যই মঙ্গলজনক। কারণ হোমিওপ্যাথি হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক।
বিস্তারিত