Showing posts with label স্বাস্থ সচেতনতা. Show all posts
Showing posts with label স্বাস্থ সচেতনতা. Show all posts

Saturday, April 7, 2018

হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ইউনানী কখন কোন চিকিৎসা নিবেন

সমগ্র বিশ্বে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কদর দিন দিন বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো এলোপ্যাথিক চিকিৎসা যে ক্রনিক ডিজিস এবং দুরারোগ্য ব্যাধিগুলি পুরুপুরি সারাতে পারে না তার অধিকাংশগুলিই হোমিও চিকিৎসায় দূর করা সম্ভব হচ্ছে। যদিও অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতিতে আয়ুর্বেদ, ইউনানীসহ আরো কয়েকটি চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।  আপনার এও জানা দরকার পৃথিবীতে শুধু এলোপ্যাথিক ঔষধই একমাত্র চিকিৎসার জন্য ঔধষ নয়। রয়েছে আরো বহু অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অল্টারনেটিভ মেডিসিন। কিন্তু পুঁজিবাদী কোম্পানিগুলি একমাত্র এলোপ্যাথিক ঔষধ বিক্রি করেই মোটা অংকের টাকা তাদের পকেটে ঢুকাতে পারে বলে অন্য সবগুলি থেকে মানুষকে তারা প্রচার প্রচারণা করে ফিরিয়ে রাখে। পৃথিবীতে আরো কি কি অল্টারনেটিভ মেডিসিন আছে তা একবার দেখে নিন এখান থেকে >>>। জানি এটা দেখার পর আপনার চিন্তা চেতনায় একটা নাড়া দিবে! তাহলে এতো মানুষ মরছে কেন দুরারোগ্য রোগে ? জি স্যার, এতে যারা আপনাকে শোষণ করে চলেছে তাদের যেমন দোষ আছে সাথে সাথে আপনারও দোষ রয়েছে। কারণ এক্ষেত্রে যারা বেঁচে যাচ্ছেন তারা নিজের প্রজ্ঞা এবং জ্ঞানের কারণে যেকোনো সমস্যার জন্য এর সঠিক সমাধানের উপায়টি খুঁজে বের করতে পারেন।

পৃথিবীতে আল্লাহ রোগ দিয়েছেন এবং সাথে তার আরোগ্যের উপায়ও দিয়েছেন। আপনি জ্ঞান অর্জন করেননি, আপনার সমস্যার সমাধান নিয়ে পড়াশোনা করেননি, রোগে আক্রান্ত হলে বা সমস্যায় পড়লে সমস্যাটি সমাধান করার সঠিক উপায় কি সেটা খুঁজে বের করেন নি - এটা আপনার ব্যর্থতা। তাই শেষ বিচারে দিন কেউ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে দোষ দিতে পারবে না। কেউ বলতে পারবে না যে - তুমি শধু আমায় সমস্যাই দিয়েছ কিন্তু এর সমাধানের উপায় দাও নি। আপনার রোগ হল আর আপনি শুধু এলোপ্যাথির পেছনে দৌড়াচ্ছেন। অথচ এই এলোপ্যাথি ৩০-৪০% এর বেশি ক্রনিক রোগের স্থায়ী এবং পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন কোন কার্যকর ট্রিটমেন্ট দিতে পারে না। আপনাকে অনেক ক্রনিক রোগের জন্যই সারা জীবন ঔষধ খাওয়াবে এলোপ্যাথি ডাক্তাররা আর ঔষধ কোম্পানি থেকে ডাক্তাররা কমিশন খেয়ে যাবে, মাঝে থেকে আপনার পটেকের টাকা মাসের পর মাস ধরে তাদের পকেটে যাবে - এটাই পুঁজিবাদীদের চালাকি। আর এই কারণেই টি সর্বাধিক সীকৃত।

অথচ একটু খুঁজে দেখলেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার রোগের স্থায়ী সমাধান রয়েছে অন্য একটি অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতিতে। তবে এটাও সত্য যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এলোপ্যাথি বেশ কার্যকর। এই যেমন সার্জারি বা অপারেশনের সময় এলোপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ এবং মরণাপন্ন যেকোন রোগীকে ইনস্ট্যান্ট সাপোর্ট দিতে এলোপ্যাথিক ঔষধ বেশি কার্যকর, যদিও এটি সব ক্ষেত্রে নয়। কিন্তু ক্রনিক ডিজিস সারানোর ক্ষেত্রে এলোপ্যাথি ৩০% এর বেশি সাপোর্ট দিতে পারে না, এক্ষেত্রে সারা জীবন এলোপ্যাথিক ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেই একই ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি ৯০% সাপোর্ট দিবে আপনাকে, আর কয়েক মাসের চিকিৎসায় ভালো হয়ে যাবেন অর্থাৎ সারা জীবন ঔষধ খেয়ে যেতে হচ্ছে না আপনাকে। এর থেকে আর কি ভালো সুফল হতে পারে।

একটা বিষয় সকলেরই জানা উচিত সব চিকিৎসা শাস্ত্রেরই কদর রয়েছে কারণ একটি মাত্র চিকিৎসা শাস্ত্র দিয়ে সব রোগের নির্মূলকারী চিকিৎসা সম্ভব নয়। যদিও এলোপ্যাথিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলি তাদের এক চেটিয়া ব্যাবসা ধরে রাখার জন্য অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির ক্রমাগত দুর্নাম করেই চলেছে। অথচ স্বয়ং এলোপ্যাথিই ৩০-৪০% এর বেশি রোগের কার্যকর এবং পুরুপুরি নির্মূলকারী ট্রিটমেন্ট দিতে পারে না। বাকি রোগগুলির জন্য এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি থেকে কমিশন খাবে সাথে সাথে আপনাকে সেই কোম্পানির ঔষধ সারা জীবনই খাওয়াবে আর আপনার পকেটের টাকা সারা জীবন ধরেই তাদের পকেটে ঢুকাবে, হ্যা এটাই এখন আইন, এটাই এখনকার বাস্তবতা। আর সাথে এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো ফ্রিতেই পাচ্ছেন। ভুলে যাবেন না সাধারণ প্যারাসিটাল ট্যাবলেটেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশ্বাস না হলে প্যারাসিটালের প্যাকেটের সাথে যে কাগজ দেয় সেটি একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখবেন। মাথা আপনার নষ্ট হয়ে যাবে। আপনার এটিও জানা উচিত প্রতিটি এলোপ্যাথিক ঔষধই পরীক্ষা করা হয় প্রথমে ইতর শ্রেণীর প্রাণীর উপর এই যেমন - ইঁদুর, শূকর ইত্যাদি। এর মাধ্যমেই এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লিপিবদ্ধ করা হয়। আর অন্যদিকে প্রতিটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পরীক্ষা করা হয়েছে সরাসরি একজন একেবারে স্বাস্থবান সুস্থ মানুষের উপর প্রয়োগ করে। তাই তো হোমিওপ্যাথি এতো কার্যকর আর হোমিও ডাক্তারগণ ও পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা দিতে পারেন।
হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ইউনানী কখন কোন চিকিৎসা নিবেন
এবার আসুন অল্টারনেটিভ চিকিৎসা শাস্ত্রের দিকটা নিয়ে আরেকটু ভিতরে ঢুকি। অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতির একটি হোমিওপ্যাথি দিয়েই ৯০% রোগের স্থায়ী চিকিৎসা সম্ভব। তাও আপনাকে ক্রনিক রোগের ক্ষত্রে হয়তো ৬-৮ মাসের মতো ঔষধ খাওয়া লাগতে পারে বা বড়জোর এর চেয়ে কয়েক মাস বেশি সময় লাগতে পারে। যেখানে এলোপ্যাথিতে সেই একই রোগের কোন চিকিৎসা পর্যন্ত নেই। এলোপ্যাথিক ডাক্তার যখন ঔষধ প্রযোগ করে কাজ করাতে পারেন না তখন সেটা সার্জারিতে ট্রান্সফার করেন এবং অপারেশন করে আপনার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বলে দিবে তিন মাসের বেশি বাঁচবেন না (যেমন মহিলাদের জরায়ুর ক্যান্সার)। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা সেই জটিল রোগকেই সারিয়ে তুলছে স্থায়ীভাবে। এর প্রমান আপনার আশেপাশেই পাবেন ভুরি ভুরি। তাই এটি নিয়ে আর বিস্তারিত বললাম না।

আমার কথাগুলি শুনে অবাক হলেন অনেকেই - তাই না। আসুন একটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি। ধরুন, একজনের একটা কিডনি ড্যামেজ বা নষ্ট হয়ে গেছে। এলোপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে গেলেন তারা আপনাকে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাবে অর্থাৎ আপনারটা ফেলে দিয়ে আরেকটি লাগবে। এই অপারেশনের জন্য টাকার পরিমানটা কত হতে পারে আর কি পরিমান দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে একবার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন। তো কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলেন - স্যার, এখানেই শেষ হয়। সমস্যার মাত্র শুরু। আপনার বাড়িতে একজন অপরিচিত লোক আসলে আপনি যেমন তাকে সাথে সাথেই আপন করেন নিবেন না সেই রকম, যখন আরেকজনের কিডনি আপনার শরীরে বসানো হবে আপনার শরীরও তাকে আপন করে নিবে না। আপনার শরীরের সাথে তাকে খাপ খাওয়ানোর জন্য এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে ক্রমাগত ঔষধ খাওয়াতে থাকবে। এবার টাকার অংকটা আরেকবার যোগবিয়োগ করে দেখুন।

এবার আসুন পৃথিবার সর্বশ্রেষ্ঠ অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতি হোমিপ্যাথিতে এর চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করি। এলোপ্যাথি ডাক্তাররা আপনার নিজের কিডনিটিই ফেলে দিলো। আর হোমিও ডাক্তাররা আপনার সেই ড্যামেজ বা নষ্ট কিডনিটিই ঠিক করে দিবে। এর জন্য হয়তো অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসক আপনাকে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি হলে ৮/১০ মাস ঔষধ খাওয়াবে। আর এই চিকিৎসাতেই আপনার সেই ড্যামেজ বা নষ্ট কিডনিটি নতুন করে আপনার সচল হয়ে উঠবে। এর জন্য  আপনাকে বাড়িঘর, জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে অপারেশন করতে হচ্ছে না, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হচ্ছে না আর আপনাকে সারা জীবন ঔষধও খেয়ে যেতে হচ্ছে।

আজকাল শিক্ষিত অনেক লোককেই দেখা যায় তাদের শিক্ষা দীক্ষা ফলাও করার জন্য কোন রোগের জন্য কোথায় যাবে হরহামেশাই পরামর্শ দিচ্ছেন মানুষকে। এই যেমন
  • আপনার স্কিন ডিজিস (কিছু সেক্সের রোগের ক্ষেত্রেও) - আরে ভাই ভাল একজন ডার্মাটোলজিস্ট দেখান। 
  • আপনার কিডনির সমস্যা - আরে ভাই ভাল একজন নেফ্রোলজিস্ট দেখান। 
  • আপনার হেপাটাইটিসের সমস্যা - আরে ভাই ভাল একজন হেপাটোলজিস্ট দেখান। 
  • আপনার পেটে সমস্যা - আরে ভাই ভাল একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট দেখান। 
  • ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
এবার আসুন আমার শিক্ষিত ভাই, নতুন করে আজকে কিছু বিষয় শিখে নিন। আরেকজনের উপকার না করতে পারলেও অন্তত নিজের জীবনটা ভালো রাখতে পারবেন। আপনি হয়তো জানেন না
  • এলোপ্যাথিক নেফ্রোলজিস্ট এর হাতে কিডনি সমস্যা নির্মূলের জন্য পর্যাপ্ত মেডিসিন নেই। কিছু ক্ষেত্রে ফলাফল ভাল দিতে পারলেও ক্রনিক ক্ষেত্রে ভালো চিকিৎসা নেই। আর চিকিৎসাও অনেক ব্যয়বহুল। 
  • এলোপ্যাথিক ডার্মাটোলজিস্ট এর হাতে অনেক চর্ম রোগ সারানোর মতো পর্যাপ্ত মেডিসিন নেই। কিছু ক্ষেত্রে ফলাফল ভাল দিতে পারলেও ক্রনিক ক্ষেত্রে ভালো চিকিৎসা নেই। জেনে রাখা ভালো ৩০% এলার্জির কারণ কি এটাই এখন পর্যন্ত এলোপ্যাথি আবিষ্কার করতে পারেনি - ট্রিটমেন্ট দিবে তো দূরের কথা। এ জন্য দেখবেন এলার্জির ক্ষেত্রে এলোপ্যাথি ঔষধ খেলে আপনি কিছু দিন ভালো থাকবেন আর বাদ দিলে কিছু দিন পর আবার রোগের শুরু। অর্থাৎ কার্যকর চিকিৎসা নেই। আর আপনিও হয়তো বসে আছেন এর আর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই!! অথচ হোমিওপ্যাথি এক্ষেত্রে দারুন রেজাল্ট দেয়। 
  • এলোপ্যাথিক হেপাটোলজিস্ট এর হাতে হেপাটাইটিসের সমস্যা নির্মূলের জন্য খুব বেশি কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। 
  • এলোপ্যাথিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এর হাতে পেটের সমস্যা নির্মূলের জন্য কার্যকর মেডিসিন নেই। সাধারণ একজন গ্যাসের রোগীকেই তারা সারা জীবন ভর ঔষধ খাওয়ায়। বাকিগুলির কথা নাইবা বললাম। 
  • মহিলাদের সমস্যাগুলিতে এলোপ্যাথিক ভালো কোন চিকিৎসা নেই বললেই চলে। 
  • পুরুষের যৌন সংক্রান্ত sexually transmitted diseases (STD) ছাড়া দ্রুত বীর্যপাত (Premature ejaculation (PE)), Erectile dysfunction (ED), লিঙ্গ উত্থান সমস্যা, যৌন অক্ষমতায় বলতে গেলে এলোপ্যাথিতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন, ভালো এবং স্থায়ী কোন চিকিৎসাই নেই। তাই তারা এটাকে মানুষিক সমস্যা বলে চালিয়ে দেয়। কিন্তু নিজের সমস্যা হলে গোপনে গোপনে ঠিকই হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে যায়। এটাই বাস্তবতা।
এই সব সেকশনের এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ শরীরবিদ্যায় জ্ঞানের দিক থেকে বেশ পারদর্শী কিন্তু রোগ আরোগ্যের ক্ষেত্রে তাদের হাতে পর্যাপ্ত ঔষধ বা মেডিসিন নেই, অনেক ক্ষেত্রেই তারা আপনাকে সারা জীবন ধরে ঔষধ খাওয়াবে আর ঔষধ কোম্পানি থেকে কমিশনও খাবে, সাথে সাথে একের পর এক টেস্ট দিবে আর সেখান থেকেও ৫০% কমিশন খেয়ে যাবে, কিন্তু মধ্য থেকে আপনি নিজেই বোকা হয়ে রইলেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ যেখানে রোগের কারণ খুঁজে খুঁজে হয়রান সেইখানে যেকোন অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তার আপনার চারিত্রিক, মানুষিক আর রোগের লক্ষণ দেখেই তার নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে শধুমাত্র ঔষধ প্রয়োগ করেই আপনাকে সুস্থ করে তুলছে। কারণ হোমিওপ্যাথিতে প্রতিটি রোগের জন্য রয়েছে অজস্র মেডিসিন। তবে এর জন্য দরকার হোমিও ডাক্তারের ব্যাপক পড়াশোনা আর বাস্তব অভিজ্ঞতা।

কিন্তু আমাদের দেশে কিছু হোমিও ডাক্তারের বোকামির জন্য অনেক সময় পুরু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসারই বদনাম হচ্ছে। আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে কিছু দিন হলো এক মহিলা চিকিৎসক সাজানো গুছানো চেম্বার খুলে বসেছেন। তার ডিগ্রিগুলি দেখুন - (বলে রাখা ভালো- বাস্তব উদাহরণ দেয়ার কারণ হলো শুধুমাত্র প্রকৃত অবস্থাটা বুঝানোর জন্য)

০১. ডিএইচএমএস (অর্থাৎ ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স)। এটি আপনি টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন না। ডাক্তার হতে চাইলে এই খানে আপনাকে ৪ বছর সময় দিতেই হবে। একজন প্রফেশনাল হোমিও চিকিৎসকের ডিপ্লোমা বা স্নাতক যেকোন ডিগ্রি থাকলেই ডাক্তারি করতে পারবেন তাতে সমস্যা নেই। তাছাড়া একথা সত্য যে - এ দেশের বড় বড় হোমিও ডাক্তারের ৯৮% ই ডিএইচএমএস অর্থাৎ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী, যদিও পরে অনেকেই স্নাতক এবং অনেকে এমডিও করে নিয়েছেন।

০২. পিডিটি (১ বছর মেয়াদি হোমিও মেডিসিনের উপর একটা কোর্স), এটা বেশ ভালো একটি বিষয় যদিও এটি মেডিকেল কলেজে করানো হচ্ছে কিন্তু হোমিও বোর্ড স্বীকৃত নয়। তবে প্রোফেসনাল হোমিও চিকিৎসকদের মেডিসিনের উপর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো পদক্ষেপ।

০৩. এমডি (ইন্ডিয়া থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত - ঐ মহিলা ডাক্তারের সাইন বোর্ডে লেখা আছে)

আসুন এই ডিগ্রিটি নিয়ে আগে আলোচনা করি। এটি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও করানো হয় এবং এটিও কিছুটা দীর্ঘ মেয়াদি উচ্চতর একটি কোর্স। যেখানে নিয়মিত পড়াশোনা ও গবেষণা করতে হবে আপনাকে। আর এটি করার নম্বর ওয়ান শর্ত হলো এর পূর্বে স্নাতক ডিগ্রি অর্থাৎ বিএইচএমএস ডিগ্রি লাগবে। লিংকটিতে ক্লিক করুন >>>
কিন্তু আমাদের এলাকার ঐ মহিলা ডাক্তারের ইন্ডিয়া থেকে এই ডিগ্রি করতে খরচ পড়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা তাও আবার তাকে সম্ভবতো ১ বারের বেশি সেখানে যেতে হয়নি। তিনি ভেতরে প্রিন্ট করে বিশাল এক সনদপত্র ঝুলিয়ে রেখেছেন। অথচ তিনি স্নাতক অর্থাৎ বিএইচএমএস করেননি। তিনি পাবলিককে এতটাই বোকা ভেবেছেন যে - নিজেই ধরা খেয়ে গেলেন। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী লোক, নামের সাথে এমডি ডিগ্রি ঝুলিয়ে রেখেছেন। আর সত্যতা প্রমান করার জন্য ইন্ডিয়ার শিয়ালদহের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্ট করা কাগজপত্র বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রেখেছেন। তিনি হয়তো নিজেও জানেন না হোমিওতে এমডি করতে হলে বিএইচএমএস ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। কারণ এক্ষেত্রে ডিপ্লোমার পর পিডিটি কোর্স করে স্বীকৃত কোন মেডিকেল কলেজে অথবা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমডি করার কোন সুযোগই নেই। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নাকি রয়েছে যারা টাকার বিনিময়ে এই প্রকারের উচ্চতর ডিগ্রি বিক্রি করে থাকে। 
বলে রাখা ভালো। এটি হল সামান্য হোমিওর বিষয়। বলতে শোনা যায় এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখান থেকে মাত্র ৩ লক্ষ টাকায় ৩ ঘন্টায় পিএইচডি ডিগ্রিও নাকি কেনা যায়।

আগের বিষয়ে আবার আসি। ঐ মহিলা ডাক্তার নামের আগে প্রভাষকও ব্যাবহার করছেন। তিনি নরসিংদী হোমিও কলেজের প্রভাষক। তো সারা মাস পড়ে থাকেন ঢাকায় ওনার চেম্বারে। বুঝেন ঠেলা। কোথাকার প্রভাষক আর কিসের প্রভাষক !!!??

এই রকম কিছু ডাক্তার রয়েছে যারা ভালো ট্রিটমেন্ট দিতে পারে না। ডিগ্রির বাহার দেখে লোকজন তাদের কাছে যায় আর রোগ ভালো না হলে দোষ দেয় হোমিওপ্যাথিকে। হোমিওপ্যাথির বেলায় ডাক্তারের কোন দোষ নাই। কারণ ঐ যে ডিএইচএমএস, পিডিটি, এমডি, উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইন্ডিয়া থেকে, প্রভাষক.... ইত্যাদি.... ইত্যাদি.... ইত্যাদি। তাই ডাক্তারের দোষ নাই, হোমিওপ্যাথিরই দোষ। অথচ আমার জানা মতে এ দেশের শুধু মাত্র ডিএইচএমএস ডিগ্রিধারী (অর্থাৎ ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স) বহু চিকিৎসক আছেন যারা ঐ বিষেয় স্নাতক আর এমডি করা ডাক্তারের থেকেও অনেক ভালো এবং উন্নত চিকিৎসা দিতে পারেন এবং দিয়ে থাকেন। কারণ যারা এই ডিএইচএমএস  কোর্সটি করেন তারা অনেকেই নিজের বাপ্ দাদা থেকেও ব্যাপক ডাক্তারি জ্ঞান লাভ করেন। কারণ হোমিওতে ডাক্তারি পাস্ করা সহজ কিন্তু ডাক্তারি করা ভীষণ কঠিন। আবার দেখা যায় - যারা এই শাস্ত্রে টানা ১০/১২ বছর নিষ্ঠার সাথে শ্রম এবং সময় দেন তারা অনেকেই ভালো ডাক্তার হয়ে উঠেন। জগতে কোন অর্জনই সহজে আসে না। সব কিছুতেই সময় এবং শ্রম দিতে হয়। এই যেমন চার পাঁচ বছর ডাক্তারি পড়ার পর এক বছর ইন্টার্নি করতে হয়। তবে এই একবছরের প্রাকটিস আর ৮/১০ বছরের প্রাকটিস কি কখনো সমান হতে পারে ?

তাই ডিগ্রির বাহার আর প্রভাষক টাইটেল দেখেই হোমিও বা এলোপ্যাথ কোন ডাক্তারদের চেম্বারেই  দৌড়াবেন না। আগে খুঁজখবর নিয়ে দেখবেন তার চিকিৎসার সাকসেস রেট কেমন, ডিগ্রি তার যেমনই হোক না কেন ? কারণ হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে অধিকাংশ প্রভাষকই কলেজে একপ্রকারে পড়াতে পারেন কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে ততটা ভালো নয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়। এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছুটা খুঁজখবর নিলেই আপনি বুঝে যাবেন কখন কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কারণ যিনি সুচিকিৎসা দেন তার অবশ্যই একটা সুনাম থাকে।
বিস্তারিত

Wednesday, December 20, 2017

যেভাবে ফল ও শাক সবজি ফরমালিন বা বিষমুক্ত করবেন ?

সুস্থ্য থাকতে ফল শাক সবজির জুরি নেই এ তো আমরা সবাই জানি । প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাক-সবজি খাবেন কারণ এসব খাবার ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এবং এগুলোতে খাদ্যআঁশ থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সম্ভাবনা কমায়। লক্ষ্য রাখবেন প্রতিদিনের খাবারে যেন অন্তত ফল ও শাক-সবজির ৫ টি পরিবেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

মিষ্টি আলু, গাজর, মিষ্টি কুমড়ায় বিটা ক্যারোটিন নামের ফাইটোকেমিক্যাল থাকে। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া ঠান্ডার সমস্যা দূর এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে হলুদ রঙের ফল ও সবজি। ফলের মধ্যে কমলা ও আঙুরে বায়োফ্লেভোনয়েড থাকে, যা ভিটামিন সি-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো ছাড়াও হাড় ও দাঁত শক্ত করে, দ্রুত জখম সারায় ও ত্বক সুন্দর করে।
আম, পেঁপে, আনারসেও এ উপকার পাওয়া যায়।
শুধু অল্প কথায় শেষ করা যাবে না এর গুনাগুণ লিখে । আললে আজকের ফিচার গুনাগুণ জানাবার জন্য নয় । জানুন যে কারনে আজকের ফিচার টি দেয়া ।

আপনি যদি শুধুমাত্র অরগ্যানিক ফল ও শাক সব্জি খান তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই ফল আর শাক সবজি করে পরিষ্কার করে নিতে হবে খাওয়ার আগে।

সম্প্রতি কয়েকজন সুইডিশ বিজ্ঞনী প্রমাণ করে দিয়েছেন ফল ও শাক সব্জিতে যে কীটনাশক‚ ছত্রাকনাশক আর প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর থাকে তা বাচ্চা এবং বড় দুজনের শরীরেরই ক্ষতি করে। কিন্তু মাত্র যদি দু‘ সপ্তাহ এই কীটনাশক বোঝাই করা ফল ও সব্জি না খান তাহলেই দেখা গেছে শরীর থেকে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বেরিয়ে গেছে।

কেন ফল ও শাক সবজি খাওয়ার আগে ভালো করে পরিষ্কার করা উচিত?

সুস্থ ব্রেনের জন্য: -পরীক্ষা নীরিক্ষার পর জানা গেছে যে কীটনাশক যুক্ত ফল ও শাক সব্জি খেলে পার্কিনসনস ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।

ক্যান্সারের রিস্ক কমাতে:- সারা পৃথিবী জুড়ে গ্লাইফোসেট নামের কীটনাশকের ব্যবহার সব থেকে বেশি মাত্রায় হয়। পরে এই কেমিক্যাল মানুষের রক্তে এবং ব্রেস্ট মিল্ক-এ পাওয়া গেছে। আর এই কেমিক্যালকে সরাসরি যুক্ত করা হয় ক্যান্সারের সঙ্গে। এছাড়াও বিভিন্ন কীটনাশক আছে যা শরীরে টিউমারের জন্ম দেয় এবং একই সঙ্গে টিউমারের বাড়বাড়ন্তে সাহায্য করে।

বাচ্চার শরীর সুস্থ রাখতে:- যেহেতু বাচ্চাদের শরীরের এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঠিক ডেভলপমেন্ট তখনো সম্পূর্ণ হয় না তাই টক্সিন আর কেমিক্যাল থেকে ওদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে কীটনাশক যুক্ত ফল ও সব্জি খাওয়ার ফলে বাচ্চার শরীর খারাপ হয়েছে।

১) ঠান্ডা পানিতে ভালো করে ঘষে ঘষে ধুতে হবে:- দ্য সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের মতে ৭৫% থেকে ৮৫% অবধি কীটনাশক ঠান্ডা জলে ধুলে চলে যায়।

কিন্তু কয়েকটা ফল যেমন আপেল‚ পেয়ারা‚ আঙুর‚ প্লাম‚ আম‚ পিচ‚ ন্যাসপাতি এবং সব্জির মধ্যে টমেটো ‚ভিন্ডি আর শাকপাতাকে অন্তত তিন বার ঠান্ডা পানিতে ধুতে হবে।

ভালো করে ফল আর সবজির গা ঘষে ঘষে ধুতে হবে। অনেক সময় ফলের মুখের কাছে কীটনাশক জমে থাকতে পারে সেই অংশ কেটে বাদ দিয়ে দিন বা ভালো করে ধুয়ে নিন। অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঠান্ডা পানির তলায় ঘষে ঘষে ধুতে হবে।

২) লবন পানির মিশ্রণ:- লবন পানি দিয়ে যদি ফল ও শাক সবজি ধোয়া হয় তাহলে তা আরো পরিষ্কার হবে। ২ টেবিল চামচ নুন ৪ কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। জল ঠান্ডা করে তাতে ৩০-৬০ মিনিট ফল ও শাক সব্জি ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানির তলায় ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে।

স্ট্রাবেরি বা চেরি ফলের মতন নরম ফল লবন পানিতে না ডুবিয়ে রাখাই ভালো কারণ তা ফলের মধ্যে সোক করে ঢুকে যেতে পারে। এইসব ফলের জন্য এমনি ঠান্ডা জলের মধ্যে তা ভিজিয়ে রাখুন।

৩) ভিনিগার-এ ভিজিয়ে রাখুন:- লবন পানির বদলে ভিনিগারের মধ্যেও ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়াও ভিনিগারের বদলে লেবুর রস ও ব্যবহার করতে পারেন।

একটা বড় পাত্রে চার ভাগ পানি আর এক ভাগ ভিনিগার দিন। এতে এবার ফল ও শাক সব্জি ভিজিয়ে রাখুন। ৩০-৬০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর ভালো করে ঘষে ঠান্ডা জলের তলায় ধুয়ে নিন। ভিনিগার ব্যবহার করলে ফল ও শাক সব্জি বেশি দিন তাজাও থাকবে।

৪) ঘরে তৈরি ফল ও শাক সব্জির স্প্রে:- যদি তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকেন তাহলে লবন পানি বা ভিনিগারের মধ্যে না ভিজিয়ে রেখে‚ এই স্প্রে ব্যবহার করুন।

একটা স্প্রে বোতলে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস‚ এক টেবিল চামচ ভিনিগার আর এক কাপ জল ভালো করে মিশিয়ে নিন। বোতল ভালো করে ঝাঁকিয়ে ফল ও শাক সব্জির গায়ে স্পে করুন।

২ মিনিট রেখে‚ অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঘষে ঠান্ডা জলের তলায় ধুয়ে নিন।

৫) খোসা ছাড়িয়ে ট্রিম করে নিন:- এই পদ্ধতিই হয়তো সব থেকে কার্যকর যার সাহায্যে কীটনাশক এবং অন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যাল পেটে যাওয়ার থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু সব ফল ও শাক সব্জির ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয় কারণ অনেক ফল ও সবজির খোসা থাকে না।

বাসন ধোয়ার ডিশ ওয়াশ বা সাবান বা ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। ফল ও শাক সব্জির গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। সাবান দিয়ে ধুলে বা ব্লিচ করলে তা কিন্তু সবজি ও ফলের মধ্যে চলে যেতে পারে। এর ফলে কিন্তু উপকারের বদলে অপকারই বেশি হবে।
বিস্তারিত

Wednesday, September 27, 2017

ফেলবেন না, দারুণ উপকারী কাঁঠালের বীজ! জেনে নিন

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। প্রোটিন, ভিটামিন ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ এই ফল গরমে শরীর সুস্থ রাখার পক্ষে একেবারে আদর্শ। তবে শুধু ফলেই নয়, গুণ রয়েছে ফলের বীজেও। কাঁঠালের বীজের উপকারিতা জানলে আর কোনওদিন সেটিকে ফেলে দেওয়ার কথা মাথাতেও আনবেন না।

কাঁঠালের বীজের গুণগুলির দিকে একবার নজর রাখা যাক। আর দেখে নেওয়া যাক কী তার ব্যবহার...

১.হজমশক্তি বাড়ায়:- বদহজম রোধে খুবই কার্যকরী কাঁঠালের বীজ। এটি রোদে শুকিয়ে গ্রাইন্ড করে পাউডারের মতো করে ফেলুন। বদহজমে সহজ হোমমেড রেমেডি হতে পারে এই পাউডার। এতকিছু না করে শুধু কাঁঠালের বীজ খেলে কমবে কনস্টিপেশনের সমস্যা। কারণ প্রচুর ফাইবার থাকে কাঁঠালের বীজে।

১.বলিরেখা দূর করে:- ত্বকে বলিরেখা থেকে নিষ্কৃতি দিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে কাঁঠালের বীজ। একটি বীজ কোল্ড ক্রিমের সঙ্গে গ্রাইন্ড করে একটা পেস্ট তৈরি করুন। তারপর সেটি নিয়মিত ত্বরে অ্যাপ্লাই করুন। বলিরেখা বাপ বাপ বলে পালাবে। কাঁঠালের বীজ আপনার ত্বককে করে তুলবে সজীব ও তরতাজা। দু-একটি বীজ সামান্য দুধ ও মধুতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে, সেটা দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। সেই পেস্ট সারা মুখে লাগিয়ে শুকোতে দিন। তারপর উষ্ণ গরম জলে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ত্বকের ঔজ্জ্ল্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

৩.অ্যানিমিয়ার শত্রু:- রোজ মেনুতে কাঁঠালের বীজ রাখলে আপনার শরীরের আয়রনের মাত্রা বাড়বে। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। কাঁঠালের বীজ হিমোগ্লোবিনের একটি উপাদান। ফলে এটি খেলে অ্যানিমিয়া দূরে হঠবে। আয়রন সুস্থ রাখবে আপনার মস্তিষ্ক ও হার্টকেও।
৪.স্বাস্থ্যকর চুল ও ভালো দৃষ্টিশক্তি:- কাঁঠালের বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। চোখের স্বাস্থ্যের জন্য এই ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি নাইট ব্লাইন্ডনেস কাটাতেও সাহায্য করে। শুখু চোখ নয়, চুলের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে ভিটামিন এ। চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করে এই ভিটামিন।


৫.মানসিক চাপ কমায়, ত্বকের রোগ সারায়:- কাঁঠালের বীজ প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসে ঠাসা। সেজন্যই এটি মেন্টার স্ট্রেস কমাতে বিশেষ কার্যকরী। এটি ত্বকের নানা রোগও সারায়। ত্বকে ময়েশ্চারের মাত্রা বেশি রাখতে ও স্বাস্থ্যকর চুল পেতে নিয়মিত কাঁঠালের বীজ খাওয়া ভালো।
বিস্তারিত

Thursday, September 10, 2015

কালোজিরা সাম ব্যতীত সকল রোগের উপশম – দেখুন ব্যবহার পদ্ধতি

প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রায় ১৪শ’ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন, "নবী সা: বলেছেন, কালোজিরা সাম ব্যতীত সকল রোগের উপশম (healing)। সাম মানে হলো মৃত্যু। (বুখারী: ৫৬৮৮, তিরমিযী ২০৪১, ইবনু মাজাহ ৩৪৪৭)"। সে জন্য যুগ যুগ ধরে পয়গম্বরীয় ওষুধ হিসেবে সুনাম অর্জন করে আসছে।

তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ক্যানন অব মেডিসিন’-এ বলেছেন, ‘কালোজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে।’ কালোজিরা তে প্রায় শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে প্রোটিন ২১ শতাংশ, শর্করা ৩৮ শতাংশ, স্নেহ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।
 কালোজিরা সাম ব্যতীত সকল রোগের উপশম  – দেখুন ব্যবহার পদ্ধতি
প্রতি গ্রাম কালজিরায় যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা নিন্মরূপ­-
  • প্রোটিন ২০৮ মাইক্রোগ্রাম,
  • ভিটামিন-বি ১.১৫ মাইক্রোগ্রাম
  • নিয়াসিন ৫৭ মাইক্রোগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম
  • আয়রণ ১০৫ মাইক্রোগ্রাম
  • ফসফরাস ৫.২৬ মিলিগ্রাম
  • কপার ১৮ মাইক্রোগ্রাম
  • জিংক ৬০ মাইক্রোগ্রাম
  • ফোলাসিন ৬১০ আইউ
কালো জিরার বোটানিক্যাল নাম হচ্ছে ‘নাইজিলা সাটিভা’ (Nigella sativa), এটি পার্সলে পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এটা রাজা টুট এর সমাধি হতে আবিষ্কৃত হয় এবং সে সময় এটা পরকালে ব্যবহার করা হয় বলে বিশ্বাস করা হত। মানুষ ২০০০ বছর ধরে ঔষধ হিসেবে কালো জিরার বীজ ব্যবহার করেছে। এটা লতাপাতা জতীয় একটি উদ্ভিদ। এর সূক্ষ্ম বেগুনি ও সাদা ফুল হয়ে থাকে।

কালোজিরার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ: – নবী করিম (সাঃ) মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগ আরোগ্যকারী ওষুধ সম্পর্কে জ্ঞান দান করেছেন-“তোমাদের জন্য ‘সাম’ ব্যতীত সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে কালো জিরায়। আর সাম হলো মৃত্যু।” সুতরাং কালো জিরা হোক আমাদের নিত্য সঙ্গী। সু-স্বাস্থ্য অর্জনে ও সংরক্ষনে কালোজিরা জাত ওষুধ গ্রহনে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা সৃষ্টি করে না। সর্ব রোগের মহৌষধ হোমিওপ্যাথিক ও দেশীয় চিকিৎসায় সহযোগী ওষুধ রূপে এর ব্যবহার।

ক্রিয়াক্ষেত্র :- মস্তিষ্ক, চুল, টাক ও দাঁদ, কান, দাঁত, টনসিল, গলাব্যথা,পোড়া নারাঙ্গা বা বিসর্গ, গ্রন্থি পীড়া, ব্রণ, যাবতীয় চর্মরোগ, আঁচিল, কুষ্ঠ, হাড়ভাঙ্গা,ডায়াবেটিস, রক্তের চাড় ও কোলেষ্টরেল, কিডনী, মুত্র ওপিত্তপাথরী, লিভার ও প্লীহা, ঠান্ডা জনিত বক্ষব্যাধি,হৃদপিন্ড ও রক্তপ্রবাহ, অম্লশূল বেদনা, উদরাময়, পাকস্থলী ও মলাশয়, প্রষ্টেট, আলসার ও ক্যান্সার। চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা,মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ওসৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা,আহারে অরুচি,মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী।কালোজিরার যথাযথ ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি শক্তি অজির্ত হয়। এর তেল ব্যবহারে রাতভর আপনি প্রশান্তিপর্ন নিদ্রা যেতে পারেন। রোগ প্রতিরোধক কালো জিরা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ওষুধ প্রস্তুত :- আগেই বলেছি-আমরা কালো জিরার টীংচার,বড়ি ও তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করছি।কখনো এককভাবে কখনো অন্য ওষুধের সাথে সংমিশ্রিত করে রোগীক্ষেত্র প্রয়োগ করে থাকি।কালোজিরা তেলের সাথে জলপাই তেল, নিম তেল, রসুনের তেল, তিল তেল মিশিয়ে নেয়া যায়।

কালোজিরা আরক+কমলার রস ব্যবহার :– কালোজিরা + পুদিনা চায়ের সাথে কালোজিরা কালোজিরা + রসুন + পেঁয়াজ কালোজিরা + গাজর

মাথাব্যথা :- মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানেরপার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪বার কালোজিরা তেল মালিশ করূন। ৩ দিন খালি পেটে চা চামচে এক চামচ করে তেল পান করুন। পাশাপাশি লক্ষণসাদৃশ্যে হোমিওপ্যাথি ওষুধ নির্বাচন করূর। এ ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের পরমর্শ নিন। সচরাচর মাথাব্যথায় মালিশের জন্য রসুনের তেল, তিল তেল ও কালোজিরা তেলের সংমিশ্রণ মাথায় ব্যবহার করুন।

চুলপড়া :- লেবু দিয়ে সমস্ত মাথার খুলি ভালোভাবে ঘষুণ। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ও ভালোভাবে মাথা মুছে ফেলুন। তারপর মাথার চুল ভালোভাবে শুকানোর পর সম্পুর্ন মাথার খুলিতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন। ১ সপ্তাতেইচুলপড়া বন্ধ হবে। মাথার যন্ত্রনায় কালোজিরার তেলের সাথে পুদিনার আরক দেয়া যায়। এক্ষেত্র পুদিনার টীংচার রসুনের তেল, তিলতেল, জলপাই তেল ও কালোজিরা তেল একসাথে মিশিয়েও নেয়া যেতে পারে।

কফ ও হাঁপানী :- বুকে ও পিঠে কালোজিরা তেল মালিশ। এক্ষেত্রে হাঁপানীতে উপকারী অন্যান্য মালিশের সাথে এটা মিশিয়েও নেয়া যেতে পারে।রীতিমতো হোমোওপ্যাথিক ওষুধ আভ্যন্তরীন প্রয়োগ।

স্মরণশক্তি ও ত্বরিত অনুভুতি :- চা চামচে ১ চামচ কালোজিরা তেল ও ১০০ গ্রাম পুদিনা সিদ্ধ ১০দিন সেব্য। পাশাপাশি ক্যালকেরিয়া ফস ১২এক্স, ৩০এক্স দিনে ৩ বার ৪ বড়ি করে। সামান্য ঈষদোষ্ণ পানি সহ সেবন।কালোজিরার টীংচার ও পুদিনার টীংচারের মিশ্রণ দিনে ৩ বার ১৫-২০ ফোটা করে আহারের ১ঘন্টা আগে এবং ১ ঘন্টা পরে ক্যালকেরিয়া ফস ১২এক্স ও ৪বড়ি করে। প্রয়োজন বোধে ক্যালি ফস ১২এক্স ও একসঙ্গে দেয়া যেতে পারে।

ডায়াবেটিস :- কালোজিরা চূর্ণ ও ডালিমের খোসাচূর্ণ মিশ্রন, কালোজিরা তেল ডায়াবেটিসে উপকারী। রোগীর অবস্থানুযায়ী অন্যান্য হোমিওপ্যাথিক মাদার ও ভেষজ সহ ব্যবস্থেয়।

কিডনির পাথর ও ব্লাডার :- ২৫০ গ্রাম কালো জিরা ও সমপরিমান বিশুদ্ধ মধু। কালোজিরা উত্তমরূপে গুড়ে করে মধুর সাথে মিশ্রিত করে দুই চামচ মিশ্রন আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন আধা চা কাপ পরিমাণ তেলসহ পান করতে হবে। কালিজিরার টীংচার মধুসহ দিনে ৩/৪ বার ১৫ ফোটা করে সেবন। পযায়ক্রমে বার্বারিস মুল আরক বা নির্দেশিত হলে অন্য কোন হোমিও অথবা বায়োকেমিক ওষুধ পাশাপাশি।

মেদ ও হৃদরোগ/ধমনী সংকোচন :- চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হবে, তেমনি মেদ ও বিগলিত হবে।

অ্যাসিডিটি ও গ্যাসষ্ট্রিক:- এককাপ দুধ ও এক বড় চামচ কালোজিরা তেল দৈনিক ৩বার ৫-৭ দিন সেবনে আরোগ্য হয়।

চোখেরপীড়া :- রাতে ঘুমোবার আগে চোখের উভয়পাশে ও ভুরূতে কালোজিরা তেল মালিশ করূন এবং এককাপ গাজরের রসের সাথে একমাস কালোজিরা তেল সেবন করুন। নিয়মিত গাজর খেয়ে ও কালোজিরা টীংচার সেবনে আর তেল মালিশে উপকার হবে। প্রয়োজনে নির্দেশিত হোমিও ও বায়োকেমিক ওষুধ সেবন।

উচ্চরক্তচাপ:- যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোন না কোন ভাবে সাথ খাবেন। গরম খাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খান। এ উভয় পদ্ধতির সাথে রসুনের তেল সাথে নেন। সারা দেহে রসুন ও কালোজিরা তেল মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। ভালোমনে করলে পুরাতন রোগীদের ক্ষেত্রে একাজটি ২/৩ দিন অন্তরও করা যায়।

ডায়রিয়া :- সেলাইন ও হোমিও ওষুধের পাশাপাশি ১ কাপ দই ও বড় এক চামচ কালোজিরা তেল দিনে ২ বার ব্যবস্থেয়। এর মুল আরকও পরী্ক্ষনীয়।

জ্বর :- সকাল-সন্ধায় লেবুর রসের সাথে ১ বড় চামচ কালোজিরা তেল পান করুন আর কালোজিরার নস্যি গ্রহন করুন। কালোজিরা ও লেবুর টীংচার (অ্যাসেটিক অ্যাসিড) সংমিশ্রন করেও দেয়া যেতে পারে।

যৌন-দুর্বলতা :- কালোজিরা চুর্ণ ও যয়তুনের তেল (অলিভ অয়েল), ৫০ গ্রাম হেলেঞ্চার রস ও ২০০ গ্রাম খাটি মধু = একত্রে মিশিয়ে সকাল খাবারের পর ১চামচ করে সেব্য। কালোজিরার মূল আরক, হেলেঞ্চা মুল আরক, প্রয়োজনীয আরো কোন মুল আরক অলিভ অয়েল ও মধুসহ পরীক্ষনীয়।

স্ত্রীরোগ, পসব ও ভ্রুন সংরক্ষণ :- কালোজিরা মৌরী ও মধু দৈনিক ৪ বার সেব্য।

স্নায়ুবিক উত্তেজনা :- কফির সাথে কালোজিরা সেবনে দুরীভুত হয়।

চেহারার কমনীয়তা ও সৌন্দর্যবৃদ্ধি :- অলিভ অয়েল ও কালোজিরা তেল মিশিয়ে অঙ্গে মেখে ১ ঘন্টা পর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলন।

উরুসন্ধিপ্রদাহ :- স্থানটি ভালভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ৩দিন সন্ধায় আক্রান্ত স্থানে কালোজিরা তেল লাগান সন্ধ্যায়, সকালে ধুয়ে নিন।

ছুলি/শ্বেতী :- আক্রান্ত স্থানে আপেল দিয়ে ঘষে কালোজিরা তেল লাগান। ১৫দিন হতে ১মাস।

আঁচিল :- হেলেঞ্চা দিয়ে ঘষে কালোজিরা তেল লাগান। হেলেঞ্চা মুল আরক মিশিয়ে নিলেও হবে। সাথে খেতে দিন হোমিও ওষুধ।

পিঠ ও বাত :- আক্রান্ত পিঠে ও অন্যান্য বাতের বেদনায় কালোজিরা তেল মালিশ করুন। খেতে দিন কোন নির্বাচিত হোমিওপ্যাথি ওষুধ।

সকল রোগের প্রতিষেধক :- মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
বিস্তারিত

Thursday, April 2, 2015

গ্যাসট্রিক থেকে দূরে থাকতে যা যা করতে পারেন।

একেবারে ‘চিরতরে গ্যাসট্রিকের যন্ত্রনা এর ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, শুধু খাদ্যাভাস নয়, দৈনন্দিন জীবনেও আপনাকে আনতে হবে ছোট-খাটো কিছু পরিবর্তন । কেউ নিয়মিত আবার কেউ বা মাঝে মধ্যে গ্যাসট্রিক বা গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় ভোগেন৷ কেন এই সমস্যা হয় এবং খাওয়ার পর গ্যাস বা অম্বলকে কীভাবে এড়ানো যায় তার জন্য কার্যকরী কিছু পরামর্শ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টেবিল থেকে সরাসরি সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য ।

তিন বেলার খাবার ছয় বেলায় খান :- আপনি তিন বেলার খাবারকে ভাগ করে ছয়বার খান৷ তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত ঝাল, চর্বি, মসলা, মিষ্টি, অর্থাৎ যেসব খাবার হজম করতে সমস্যা হয়, সেগুলো খাবার তালিকা থেকে আস্তে আস্তে কমিয়ে দিয়ে হালকা খাবার খান৷ যেমন আপনার খাবারের তালিকায় থাকতে পারে মাছ, অল্প মাংস, সবজি, আলু ইত্যাদি৷ এছাড়া খালি পেটে ফলের রস বা টক জাতীয় খাবার একেবারেই নয়৷
গ্যাসট্রিক থেকে দূরে থাকতে যা যা করতে পারেন।
খাবার উপভোগ করুন :- পরিমাণে অল্প খাবার একটু ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খান৷ দুপুরে খাওয়ার পর পরই ঘুমানো উচিত নয়, কারণ এতে খাবার আবার পাকস্থলীতে ফিরে আসতে পারে৷ বরং হাতে সময় থাকলে খাবার পর একটু হাঁটা যেতে পারে, যা খাবার হজম এবং মলত্যাগে সহায়তা করে থাকে৷

বুঝে পান করুন :- পিপাসা মেটাতে পানি এবং হালকা চা পান করতে পারেন৷ তবে দিনে কম পক্ষে দুই লিটার পানি পান করা উচিত, যাতে খাবার পাকস্থলীতে ভালো করে মিশে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে৷ কফি বা অ্যালকোহল যতটা সম্ভব কম পান করলেই ভালো৷ তবে শুধু খাবার নয়, জল পান করার দিকেও কিছুটা গুরুত্ব দিতে হবে৷

ঢিলেঢালা পোশাক :- খুব টাইট জিন্স বা কোমরের বেল্ট বেশি টাইট করে বাঁধবেন না৷ কারণ টাইট বেল্ট পেটে চাপ দেয়, যার ফলে টক ঢেকুর উঠতে পারে৷ কাজেই একটু আরামদায়ক বা একটু ঢিলে কাপড়-চোপড় পরাই স্রেয়৷

নিয়মিত হাঁটাচলা করুন :- ‘হাঁটা-চলার কোনো বিকল্প নেই’ – এ কথা কম-বেশি আমরা সকলেই জানি৷ অতিরিক্ত ওজনের কারণে পেটে চাপ পড়ে এবং হাঁটাচলা না করায় মলত্যাগ করার পথে বাঁধা সৃষ্টি হয়৷ তাছাড়া পেটে খাবার জমে থাকা মানেই অস্বস্তি বোধ এবং সে কারণে ওজন কমানো বা ওজন ঠিক রাখাও সম্ভব হয় না৷ ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা করলে শরীর থাকে হালকা থাকে, অন্ত্রও থাকে সক্রিয় আর গ্যাসও হয় কম৷

বালিশটা একটু উঁচু করে ঘুমাবেন :- গ্যাসট্রিক বা অম্বলের সমস্যা সাধারণত রাতে বেলায় হয়৷ তাই বালিশটা একটু উঁচু করে এবং শরীরের ওপরের দিকটাও একটু উঁচুতে তুলে ঘুমাবেন৷ এতে গ্যাসট্রিক অ্যাসিড ওপরে উঠতে পারে না৷ বাঁদিকে কাত হয়ে ঘুমালেও পেটে চাপ কম পড়ে৷ তাছাড়া রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে খেলে খাবার হজম করতে আর কোনো সমস্যা হয় না৷

আঁশযুক্ত খাবার :- ডাক্তারি ভাষায় টক খাবার বলতে বোঝায় মুরগির মাংস, মাছ, ভাত, মসুরের ডাল ইত্যাদি৷ এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর অ্যাসিড হতে পারে৷ তাই আলু, রুটি, সিম, মটরশুটি, মুগের ডাল, কলাইয়ের ডাল ইত্যাদি খাবার ‘টক’ খাবারের সাথে মিশিয়ে খেলে অম্বলের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়৷ এছাড়া প্রতিদিন খাবারের তালিকায় সামান্য আলু সেদ্ধ বা আলুর তরকারি থাকতে পারে৷ আঁশযুক্ত খাবারের কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে৷

স্ট্রেসকে দূরে রাখুন :-  ‘‘স্ট্রেস বা মানসিক চাপের সাথে রয়েছে পেটের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক৷ তাই যে কোনো সংঘাত এড়িয়ে যতটা সম্ভব ‘স্ট্রেস’ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন৷ হালকা খাবার, যথেষ্ট হাঁটাচলা, কিছুটা বিশ্রাম – এভাবেই পেট বা অন্ত্রকে রক্ষা করতে, গ্যাসট্রিককে প্রতিরোধ করতে পারেন৷’’ এ পরামর্শ কোলনের ইন্টারনাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়োর্গেন স্ল্যুইটারের৷

ধূমপান পরিহার করুন :- স্ট্রেস বা মানসিক চাপের ফলে পেটে অ্যাসিড প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় – সেকথা আমরা অনেকেই জানি৷ স্ট্রেসের কারণে অনেকে ধূমপান করেন৷ কিন্তু নিকোটিন অন্ত্রের খাবার মলদ্বারের রাস্তায় যে পথ দিয়ে যায়, সেটিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে৷ এছাড়া স্ট্রেস হরমোন হজম শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধার কারণে পেটে অ্যাসিড উৎপাদন হয়, কাজেই আর ধূমপান নয়!

গ্যাসট্রিককে জয় করুন :- হাঁপানি, হৃদরোগ, জন্ম নিরোধ ট্যাবলেট বা ব্যথার ওষুধ সেবন থেকেও অম্বল বা গ্যাসট্রিক হতে পারে৷ তাই যাঁরা এরকম ওষুধ সেবন করেন তাদের গ্যাসট্রিকের সমস্যা দেখা দিলে সেকথা সরাসরি ডাক্তারকে বলুন৷ কখনো অম্বল হয়নি এমন মানষ খুঁজে পাওয়া কঠিন৷ কারুর হঠাৎ করে এ সমস্যা দেখা গেলে, বুঝতে হবে যে হয় অতিরিক্ত খাওয়া বা দেরিতে খাওয়া বা ভুল খাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে৷
বিস্তারিত

নিজের অজান্তেই তোয়ালের কারণে নানান রকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন

ভাবছেন তোয়ালের আবার যত্ন কী? হ্যাঁ, তোয়ালেরও যত্নের প্রয়োজন আছে। দৈনন্দিন জীবনে যে পণ্যগুলো আমরা ব্যবহার করি, সেগুলোর মাঝে সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছে তোয়ালে। একই তোয়ালে দিনের পর দিন ব্যবহার করে যাই, পরিবর্তন করার প্রয়োজন বোধ করি না। অনেকেই নিয়মিত তোয়ালে ধুই না বা জানিও না যে তোয়ালে কতদিন পর পর ধোয়া উচিত।

নিজের অজান্তেই তোয়ালের কারণে নানান রকম অসুখে আক্রান্ত হই। যেমন, আপনি কি জানেন আপনার ব্রণের সমস্যার পেছনে একটা বড় ভূমিকা রাখে তোয়ালে?
নিজের অজান্তেই তোয়ালের কারণে নানান রকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন
  • একই তোয়ালে সব কাজে ব্যবহার করবেন না, প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখুন। গোসল করা, মুখ মোছা ও হাত মোছার জন্য তিনটে আলাদা তোয়ালে রাখতে হবে। বিশেষ করে মুখ মোছার তোয়ালেটি অবশ্যই যত্ন করে রাখুন।
  • গোসল করার তোয়ালটা সপ্তাহে একদিন ধুয়ে ফেলুন।
  • হাত মোছার তোয়ালে একদিন পর পর ধুয়ে ফেলুন। যে তোয়ালে দিয়ে খাবার পর হাত ধুয়ে মোছা হয়, সেটি প্রতিদিন ধুয়ে ফেলাই ভালো। অন্যান্য হাত মোছার তোয়ালে একদিন অন্তর অন্তর ধুয়ে ফেলুন৷
  • ভারী কাপড়ের তোয়ালে অবশ্যই হালকা গরম পানি দিয়ে ধোবেন।
  • ধুয়ে ফেলার পর তোয়ালে জীবাণুনাশক লিকুইড দিয়েও পরিষ্কার করে নিন।
  • তোয়ালে অবশ্যই পরিষ্কার স্থানে শুকাতে দিন এবং বেশিরভাগ সময় খোলা বাতাসেও ফেলে রাখার দরকার নেই।
  • তোয়ালে ধোয়ার পর ইস্ত্রি করে নিলে অনেকদিন নরম ও মোলায়েম থাকবে।
  • হাত ও মুখ মোছার তোয়ালে প্রতি তিন মাস পর পর কিংবা নষ্ট হলেই বদলে ফেলুন। গোসল করার তোয়ালে এক বছর পর পর বদলে ফেলুন। পুরনো তোয়ালে অন্য কাজে ব্যবহার করুন।
  • মনে রাখবেন, আপনার মুখে ব্রন হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন তোয়ালে।
ময়লা তোয়ালের কারণে ত্বকের অসুখ থেকে শুরু করে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। একটু সচেতন হলেই আপনি সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারেন।
বিস্তারিত

Saturday, February 21, 2015

মহিলা ও শিশুদের বাঁচাতে বন্ধ করুন প্লাস্টিকের বোতলে ওষুধ !

আপনি কি জানেন, এক বোতল ওষুধ কিনে আনা মানে মৃত্যুর দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া ? বিশেষ করে মহিলাদের কাছে ওই ওষুধ এতটাই মারাত্মক যে, ধীরে ধীরে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে । এমনই আশঙ্কা করছেন ভারতীয় ডাক্তাররা। দীর্ঘ গবেষণার পর সম্প্রতি এইমস-এর একটি রিপোর্টে রীতিমতো চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে বিষয়টি।
মহিলা ও শিশুদের বাঁচাতে বন্ধ করুন প্লাস্টিকের বোতলে ওষুধ !
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অনেক তরল ওষুধই বিক্রি হয় প্লাস্টিকের বোতলে । এইমস-এর চিকিত্‍সকরা জানাচ্ছেন, এই প্লাস্টিক বোতলগুলি খুবই ক্ষতিকারক। বোতলগুলিতে তরল ওষুধ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে মহিলা ও শিশুদের । এইমস-এর অধ্যাপক সীমস সিংহলের কথায়,
 'প্লাস্টিকের বোতলের একটি দীর্ঘধমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই বোতলগুলির জেরে মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বন্ধ্যাত্ব, মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুর জন্ম ইত্যাদি।'
শুধু প্রজনন ক্ষমতাই নয়, প্লাস্টিকের বোতলে ওষুধে স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে বলেও জানাচ্ছেন ভারতীয় চিকিত্‍সা গবেষক দল। তাই অবিলম্বে ওষুধ বিক্রিতে প্লাস্টিকের বোতল বন্ধ করা উচিত ।
বিস্তারিত

Saturday, February 7, 2015

ব্লাড প্রেসার লো হলে ঘরোয়াভাবে যা যা করতে পারেন !

আমাদের শরীরের জন্য উচ্চরক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপ অর্থাৎ লো ব্লাড প্রেসার ক্ষতিকারক। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে। প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয়।

একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশেপাশে থাকে তাহলে তা লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিন্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না, ফলে ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একবার চোখ বুলিয়ে নিন।
ব্লাড প্রেসার লো হলে ঘরোয়াভাবে যা যা করতে পারেন !
কফি :- স্ট্রং কফি, হট চকলেট, কোলাসহ যেকোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। যারা অনেকদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ স্ট্রং কফি খেতে পারেন। তবে সবসময় লো প্রেসার হলে কোলা না খাওয়াই ভালো। কারণ এর অন্যান্য ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে।

লবণ পানি :- লবণে রয়েছে সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায়। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা চামচ চিনি ও এক-দুই চা চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে চিনি বর্জন করতে হবে।

কিসমিস :- হাইপোটেনশনের ওষুধ হিসেবে অতি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে কিছমিস। এক-দুই কাপ কিছমিছ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালিপেটে সেগুলো খান। সঙ্গে কিছমিছ ভেজানো পানিও খেয়ে নিন। এছাড়াও পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চীনাবাদাম খেতে পারেন।

পুদিনা :- ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে। পুদিনা পাতা বেঁটে তাতে মধু মিশিয়ে পান করুন।

যষ্টিমধু :- যষ্টিমধু আদিকাল থেকেই নানা রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে পান করুন। এছাড়াও দুধে মধু দিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

বিটের রস :- বিটের রস হাই প্রসার ও লো প্রেসার উভয়ের জন্যই সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। হাইপোটেনশনের রোগীরা দিনে দুই কাপ বিটের রস খেতে পারেন। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।
বিস্তারিত

Friday, February 6, 2015

পায়ের নখের ভেতরের দিকে বেড়ে ওঠার কারণ ও সমাধান

অনেক সময় দেখা যায় কিছু কিছু মানুষের আঙ্গুলের দুপাশে ফুলে কিংবা লাল হয়ে নখ থেকে কোন পূজ জাতীয় পদার্থ নির্গত হয়। যদি আঙ্গুলের দুপাশে ফুলে ওঠা কিংবা লাল হয়ে ওঠার সাথে সাথে তীব্র ব্যথা থাকে এবং আক্রান্ত নখ থেকে কোন পূজ জাতীয় পদার্থ নির্গত হয় তাহলে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলুন। কিছু দিনের প্রপার হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলেই এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তবে এ সমস্যায় আরো কি কি করতে পারেন সে সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হয়। এর লক্ষণের মধ্যে দেখা যায় - পায়ের নখের দুপাশেই ব্যথা, ফুলে ওঠা, এবং লাল হয়ে ওঠা, বিশেষত বুড়ো আঙুলের দুপাশে।
পায়ের নখের ভেতরের দিকে বেড়ে ওঠার কারণ ও সমাধান
কি করতে পারেন :
  • নখের অতিরিক্ত অংশগুলো কেটে ফেলুন, এবং পরিস্কার ও জীবাণুমুক্ত তুলো নখের দুই কোনার নিচে গুজে দিন, যাতে করে সেটা ত্বক থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে পারে। যতোদিন নখ ত্বকের উপর উঠে না আসছে ততদিন প্রতিদিন তুলোগুলো পরিবর্তন করুন।
  • যদি নখের দুপাশ লাল হয়ে ওঠে সেক্ষেত্রে আক্রান্ত স্খানটুকু হাইড্রোজেন পারওক্সাইড দিয়ে মুছে পরিস্কার করে নিন, তারপর কোন ব্যাকটেরিয়া-নিরোধোক ক্রিম মেখে দিন। এবং আক্রান্ত নখটি একটা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন। যদি আপনার আঙ্গুলে ব্যথা থাকে সেক্ষেত্রে হালকা গরম পানিতে আপনার আঙ্গুলটি ডুবিয়ে রাখতে পারেন, কিংবা কোন উষ্ণ কাপড় দিয়ে আঙ্গুলটিতে চাপ দিয়ে রাখতে পারেন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন :-
  • যদি আঙ্গুলের দুপাশে ফুলে ওঠা কিংবা লাল হয়ে ওঠার সাথে সাথে তীব্র ব্যথা থাকে এবং আক্রান্ত নখ থেকে কোন পূজ জাতীয় পদার্থ নির্গত হয়।
  • যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে এবং আপনার আক্রান্ত নখের ক্ষতটি সংক্রামক হয়।
  • তবে কিছু দিন হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে এই সমস্যা অচিরেই দূর হয়ে যায়। 
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন :-
  • নেইল কাটার দিয়ে সব সময় আপনার নখগুলো আঙ্গুলের উভয় পাশ থেকেই কেটে ছেটে দিন, তবে নখের সাদা অংশটুকু পুরোপুরি ছেটে দেবেন না। যদি আপনার নখ খুবই শক্ত হয়, সেক্ষেত্রে নখ কাটার আগে পা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ।
  • আরামদায়ক জুতো পড়ুন (জুতোর ভেতরে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করার মতো যথেষ্ট জায়গা থাকা চাই)।
  • নতুন জুতো কিনলে, দিনের শেষভাগে কিনুন, কেননা দিনের পুরোটা সময় জুড়েই পায়ের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে।
  • সমুখভাগ সূচালো এমন জুতো পরিহার করুন।
  • যেসব জুতো পড়ে পড়ে ঢিলে বানাতে হয় সেগুলো কেনার বাসনা ত্যাগ করুন। বরং কেনার সময়ই যে জুতো আরামদায়ক মনে হবে সেই জুতোই কিনুন।
বিস্তারিত

Thursday, January 22, 2015

গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে কি করবেন ?

গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে তা নামানোর জন্য আমরা নানা পন্থা অবলম্বন করি। তার কোনোটি কাজ হয় আবার কোনটি বা হয় না। আপনি জানেন কি মাত্র একদিনের হোমিও ট্রিটমেন্টেই গলায় বিধা মাছের কাটা দূর হয়ে যায়। যাই হোক, আগে আপনাদের কিছু ঘরোয়া সমাধানের কথা বলি।

গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে প্রথমেই খাওয়া হয় পানি, তারপর ভাতকে মুঠো করে খেয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এতেও যদি কাঁটা না নামে, তাহলে কী করবেন? জেনে নিন ৭টি ভিন্নরকম কৌশল।
গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে কি করবেন
  • গলায় কাঁটা বিধলে পানি পান করেন? কেবল পানি পান করলে হবে না। হালকা গরম পানির সাথে অল্প লবণ গুলিয়ে পান করুন। কাঁটা নরম হয়ে নেমে যাবে। 
  • গলায় কাঁটা বিঁধলে ভাত খেয়ে নামাতে চান? তাহলে এক কাজ করুন, ভাতকে ছোট ছোট বল বানিয়ে নিন। তারপর পানি দিয়ে গিলে ফেলুন। ভাতের গোলা চিবিয়ে খেলে কিন্তু কাঁটা নামবে না। পানি দিয়ে গিলে ফেলাই সেরা উপায়। 
  • ভাত খাবার চাইতেও সহজ একটি উপায় আছে। গলায় কাঁটা বিঁধলে খেয়ে ফেলুন একটি কলা। কলা খেতে খেতে দেখবেন কাঁটা নেমে গেছে আর আপনি টেরও পাননি। 
  • এক টুকরো লেবু নিন, তাতে একটু লবণ মাখিয়ে চুষে চুষে লেবুর রস খেয়ে ফেলুন। কাঁটা নরম হয়ে নেমে যাবে। 
  • পানির সাথে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে পান করলেও ঠিক লেবুর মতই কাজ হবে। 
  • গলায় বিঁধেছে কাঁটা? একটু অলিভ অয়েলও পান করতে পারেন। কাঁটা পিছলে নেমে যাবে। 
উপরোক্ত কোনো প্রক্রিয়ায় যদি কাজ না করে তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। মাত্র একদিনের হোমিও ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমেই গলায় বিধা মাছের কাটা বেড়িয়ে আসে। তাই সমস্যায় পড়লে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে কথা বলতে ভুলবেন না যেন।
বিস্তারিত

Sunday, December 7, 2014

কোল্ডড্রিঙ্ক বাড়িয়ে দেয় কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা

আপনি যদি অতিরিক্ত কোল্ডড্রিঙ্ক প্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে আজই সাবধান হোন।  গরমের হাত থেকে বাঁচতে অথবা নেহাতই শখে কোল্ডড্রিংক আপনার রোজকার ডায়েটের অবিচ্ছেদ্দ্য অঙ্গ কোল্ডড্রিংক? তাহলে এবার একটু সাবধান হন। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ্যে এসেছে কোল্ডড্রিংক (যে কোনও সফট ড্রিঙ্ক) আপনার কিডনির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনিও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন দিনে দু`বোতল কোল্ডড্রিঙ্ক প্রোটিনিউরিয়ার (মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রোটিনের নির্গমন) কারণ হয়। প্রোটিনিউরিয়া কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার নির্দেশক।
কোল্ডড্রিঙ্ক বাড়িয়ে দেয় কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা
ওহেই ইয়ামোতোর নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল তিন ধাপে স্বাভাবিক কিডনি ক্ষমতাযুক্ত ৩৫৭৯জনকে, ৩০৫৫ জনকে ও ১৩৪২ জনকে পর্যায়ক্রমে দিনে শূন্য, এক, একাধিকবার কোল্ডড্রিঙ্ক খাইয়ে দেখেছেন প্রথম ক্ষেত্রে ৮.৪%, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৮.৯% ও তৃতীয় ক্ষেত্রে ১০.৭% প্রোটিনিউরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় তিন বছর ব্যাপী এই পরীক্ষাটি চলেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কোল্ডড্রিংকে মিষ্টি স্বাদ তৈরি করার জন্য যে পরিমাণ ফ্রুকটোস সিরাপ ব্যবহার করা হয় তা কিডনি বিকল করতে যথেষ্ট। কিডনির কোষ গুলি অতিরিক্ত নুন পুনঃশোষণ করে। এছাড়া এর ফলে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, হাইপার টেনশনও ব্যপক হারে বৃদ্ধি পায়।
বিস্তারিত

স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সময় সকাল সাড়ে ৬টা, বলছেন চিকিত্সকরা

স্ট্রোক অর্থ কিন্তু হার্ট অ্যাটাক নয়। আমরা প্রায়ই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক গুলিয়ে ফেলি। স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের রোগ। যদি কোনো কারণে (আঘাতজনিত কারণ ছাড়া) মস্তিষ্কের কোনো অংশের রক্ত চলাচল বিঘিœত হয় এবং তা ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী মৃত্যুবরণ করে, তা হলে এ অবস্থার নাম স্ট্রোক। ৮০ শতাংশ ইসকেমিক স্ট্রোক (সেরিব্রাল থ্রোমবোসিস অথবা অ্যামবোলিজম)। ইসকেমিক স্ট্রোক মস্তিষ্কে ও রক্তনালির রক্তে জমাট বেঁধে অথবা শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে বিশেষ করে হার্ট থেকেজমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে নিয়ে রক্তনালির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। বাকি ২০ শতাংশ স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত।

স্ট্রোকের কারণ : বার্ধক্য, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ডায়াবেটিস মেলিটাস (বহুমূত্র), রক্তে বেশি কোলেস্টেরল এবং হার্টের ভাল্বের রোগ, অনিয়মিত হার্টবিট, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি।
উপসর্গ ও লক্ষণ : স্ট্রোকের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বমি। কোনো ক্ষেত্রে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, শরীরের এক বা একাধিক অংশ অবশ হয়ে যাওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কথা বলা বন্ধসহ প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সময় সকাল সাড়ে ৬টা, বলছেন চিকিত্সকরা
স্ট্রোকের প্রধান উপসর্গ : প্যারালাইসিস এ রোগের প্রধান উপসর্গ। সাধারণত একদিকের হাত-পা, কখনো কখনো মুখম-লের একাংশ প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। স্ট্রোকের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী প্যারালাইসিসের ধরন ও পরিমাণ নির্ভর করে। কারো আংশিক প্যারালাইসিস হয় আবার কেউ হাত বা পা একেবারেই নাড়াতে পারেন না। কারো হাত-পায়ের অনুভূতি ঠিক থাকে, কারো থাকে না। যাদের ডানদিকের প্যারালাইসিস হয়, তাদের কথা বলতে কষ্ট হয় অথবা তারা কথা বলতেই পারেন না কিংবা বুঝতে পারেন না। এ ধরনের রোগীর ভালো হতে সময় লাগে বেশি। যাদের ইনফ্রাকশন ধরনের স্ট্রোক হয়, তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা কম থাকলেও ভালো হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অনেক রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকেন। হিমোরেজ বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের রোগীদের অবস্থা, লক্ষণ ও উপসর্গ নির্ভর করে ব্রেইনের কোন অংশ কীভাবে কতটুকু ড্যামেজ হয়েছে তার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। রক্তচাপ বেশি থাকে। রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। যারা প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেন, দ্বিতীয়বার রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কম থাকে, তাদের প্যারালাইসিস অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ভালো হয়। স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশঙ্কাও কম থাকে।

স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সময় 

সকাল সাড়ে ৬টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সবথেকে বেশি। বস্টনের ব্রিগহ্যাম অ্যান্ড উইমেন্স হসপিটাল অ্যান্ড ওরগ্যান হেল্থ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনির্ভাসিটির একটি সমীক্ষা দাবি করেছে এমনটাই। 

গবেষকরা বলছেন প্রোটিন, প্লাসমিনোজেন অ্যাকটিভিটের ইনহিবিটর-1 (PAI-1), কারণে সকালবেলা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। গবেষক ফ্রাঙ্ক শিয়র জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ শরীরে PAI-1 সবথেকে বেশি মাত্রায় থাকে।

অন্য গবেষক স্টিভেন শি-র মতে সকালবেলা মানুষের সার্কাডিয়ান সিস্টেমে PAI-1 সবথেকে বেশি মাত্রায় সঞ্চালিত হয়। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হলে সেই সঞ্চালনের মাত্রা কম হয়। স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনকারী ধমনী বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রয়োজনীয় রক্ত মস্তিষ্কে পৌছতে পারে না। যে কোনও ধরণের স্ট্রোক পুরুষদের থেকে মহিলাদের জন্য বেশি ক্ষতিকারক বলেও মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।
বিস্তারিত

মুরগীর মাংস থেকে আপনার শরীরে ঢুকছে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকস !

মুরগীর মাংসের প্রতি বাংলাদেশীদের প্রীতি সর্বজনবিদিত। কিন্তু এবার সেই মুরগীর মাংসই মারাত্মক প্রভাব ফেলা শুরু করেছে মানুষের শরীরে। মুরগীদের তারাতারি বৃদ্ধির জন্য অনেক অসাধু পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা যথেচ্ছহারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকে । আর মাংসের মাধ্যমে সেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে মানুষের শরীরে।

'The study by the Centre for Science and Environment’s (CSE)-এর দূষণ পর্যবেক্ষণ ল্যাবরেটরির করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে পোল্ট্রিগুলিতে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে ছয় ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক।
মুরগীর মাংস থেকে আপনার শরীরে ঢুকছে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকস
Oxytetracycline, chlortetracycline, doxycycline, enrofloxacin, ciprofloxacin and neomycin এই অ্যান্টিবায়োটিক গুলি বিভিন্ন জীবাণুঘটিত অসুখের জন্য মানুষের জন্য অতন্ত্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু অকারণে মুরগীর মাংসের মাধ্যমে অত্যাধিক পরিমাণে এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলি মানুষের শরীরে প্রবেশ করায় বিভিন্ন মাইক্রোবসের মধ্যে এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলির প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর ফলে সেপসিস, নিউমোনিয়া, টিউবারকিউলিসের মত মারণ রোগের চিকিৎসা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাছাড়া অনেক রোগীরাই ঠিক সময়ে এই রোগগুলি নিয়ে যথা সময়ে হোমিও ডাক্তারের কাছে আসেন না। দেখা যায় এই সব রোগের মাইক্রোবসরা আগেই থেকে রোগপ্রতরোধকারী অ্যান্টিবায়োটিকসের সংস্পর্শে এসে বাড়িয়ে নিচ্ছে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর প্রয়োজনের সময় অ্যালোপ্যাথদের দেয়া রোগপ্রতিরোধকারী অ্যান্টিবায়োটিকস এদের উপর কোনও প্রভাবই বিস্তার করতে পারছে না।
বিস্তারিত

অতিরিক্ত লবন খেয়ে প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রাণ হারান ১৬ লক্ষ মানুষ

অতিরিক্ত পরিমাণ লবন খেয়ে সারা পৃথিবীতে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। নতুন এক গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রত্যেক বছর ১৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যান অতিরিক্ত শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হওয়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী দিনে ২ গ্রামের বেশি লবন খাওয়া উচিৎ নয়। গবেষকরা ১৮৭টি দেশের সাধারণ মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন বহু ক্ষেত্রেই দিনে এর থেকে বেশি পরিমাণ লবন খেয়ে থাকেন তারা।

অতিরিক্ত পরিমাণ লবন উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। গবেষক সারা পৃথিবী জুড়ে ২০৫টি সমীক্ষা করে দেখেছেন একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩.৯৫ গ্রাম লবন খেয়ে থাকেন। অর্থাৎ যা নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় দ্বিগুণ।
মধ্য এশিয়ায় লবন খাওয়ার প্রবণতা সব থেকে বেশি। এই অঞ্চলের কোনও ব্যক্তি দিনে গড়ে প্রায় ৫.৫১ গ্রাম লবন খেয়ে থাকেন যা আদৌ শুভকর নয় । সুসাস্থ্য রক্ষায় অতিরিক্ত লবন খাওয়া পরিহার করে অকাল মৃত্যুর ঝুকি এড়িয়ে চলুন। 
বিস্তারিত

Saturday, November 8, 2014

লিঙ্গ প্রদাহ (Balanitis) - কারণ, লক্ষণ এবং হোমিও চিকিৎসা

লিঙ্গ প্রদাহ (Balanitis) :- লিঙ্গমনি এবং লিঙ্গের অগ্রভাগের চর্মের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির প্রদাহকে লিঙ্গ প্রদাহ বা Balanitis বলে। বাংলায় এই প্রদাহকে মনোষ বলা হয়ে থাকে। সাধারনত যাদের লিঙ্গের অগ্রভাগের চর্ম অধিক লম্বা তাদেরই এই পীড়া হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় প্রমেহ রোগের উপসর্গ রূপে ইহা প্রকাশ পায়। এছাড়া সহবাস করলে ঘর্ষণ জনিত চর্মময় বা শ্বেতপ্রদরে আক্রান্ত স্ত্রীলোকের সঙ্গে সহবাস করলে এই প্রদাহ হতে পারে।
লিঙ্গ প্রদাহের (Balanitis) লক্ষণ :- ইহাতে প্রথমে আক্রান্ত স্থান লালবর্ণ ধারণ করে, চুলকানি হয়, গরম বোধ ও বেদনাযুক্ত হয়। তারপর পুজ পড়তে থাকে এবং কখনো কখনো ক্ষত হয়ে যায়। লিঙ্গের সম্মুখ অংশ ও ইহার আবরণ প্রদাহিত হয়। ফুলে উঠে, ঘোর লাল বর্ণ হয়, টন টন করে, কাপড়ের ঘষা লাগলে বেদনা অনুভব হয়। প্রদাহিক স্থানের মধ্য হতে প্রচুর পরিমানে তরল হরিদ্রা বর্ণের বা সবুজাভ দূর্গন্ধযুক্ত চটচটে পুঁজ নির্গত হতে থাকে। কখনো কখনো লিঙ্গমুন্ডের উপর লাল বর্ণের ভাসা চওড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়। ১০/১৫ দিন পর্যন্ত এই ক্ষতের কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা যায় না কিন্তু তারপরে আপনা আপনি আরোগ্য হয়। কিন্তু অনেক সময় আবার ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে থাকে। তখন ইহা উপদংশ পীড়ার সেন্গ্কারের মক্ত রূপ লাভ করে। 

রোগীর মধ্যে যদি কোন সিফিলিস বা গনোরিয়া জাত জীবানু না থাকে তবে ইহা শীগ্রই আরোগ্য লাভ হয় নতুবা সহজে আরোগ্য লাভ করতে চায় না এবং রোগী বেশ যন্ত্রণা ভোগ করে। অনেক সময় শিশুদের এই রোগ দেখা দেয়। যে সকল শিশুর নিতান্ত রুগ্ন এবং যাদের লিঙ্গাগ্রে চর্ম লম্বা তারা অনেক সময় এই পীড়ায় আক্রান্ত হয়। তবে এই সমস্যার যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট রয়েছে। অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে চিকিৎসা নিলে খুব অল্প সময়েই লিঙ্গ প্রদাহ দূর হয়ে যায়। 
বিস্তারিত

Tuesday, October 21, 2014

সকালে স্ত্রী সহবাস বা যৌন মিলনের কিছু সুফল

বিবাহিত নারী পুরুষ তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন সময় মিলিত হতে পারেন । কিন্তু আপনি জানেন কি ভোরবেলার যৌন মিলনে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যকর সুফল । সকালবেলার যৌন মিলন শরীরের সঙ্গে মনও ভাল রাখে ৷ একটি সমীক্ষাতে এই তথ্য উঠে এসেছে ৷ লন্ডনের বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটি এই সমীক্ষা করেছে ৷
সমীক্ষায় জানা গেছে সপ্তাহে তিনদিন যদি ভোরবেলা যৌন মিলন করা যায়, তাহলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক করে দেয় ৷ আর যদি এটি ঠিকমত করা যায় তাহলে ব্লাড প্রেশারের মত মারাত্মক রোগ সারাতে সাহায্য করে ৷ একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় জানা গেছে সপ্তাহে দুইদিন যদি ভোরবেলা যৌন মিলন করা যায়, তাহলে শরীরে অ্যান্টীবডি গঠন করতে সাহায্য করে ৷ সকালের যৌন মিলন আর্থারাইটিস ও মাইগ্রেনের মত রোগ সারিয়ে তোলে বলে সমীক্ষাতে জানা গেছে ৷

আরও জানা গেছে যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের পক্ষে সকালের যৌন মিলন অত্যন্ত ফলপ্রদ ৷ সকালের আধঘন্টার যৌন মিলনে ৩০০ ক্যালোরির মত শক্তির খরচ হয় যেটা ডায়বেটিস কমাতে সাহায্য করে ৷
এই পরীক্ষাটি করা হয়েছিল ৩০০ জন মহিলার উপর যাদের সঙ্গীরা কখনই কনডমের ব্যবহার করে না ৷ তারা জানিয়েছে এর ফলে তাদের মনে কোন মানসিক অবসাদ নেই ৷ এছাড়া দেহের হাড়ের গঠনেও সকালের যৌন মিলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলে জানা গেছে৷ সকালের এই মানসিক তৃপ্তিটার কারণে চুল ও চামড়ায় উজ্জ্বলতা আনে কারণ এইসময় ওসট্রোজেন ও অন্যান্য হর্মোনের ক্ষরণের কারণে ৷
বিস্তারিত

Wednesday, September 17, 2014

অতিরিক্ত লবন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর !

আমাদের অনেকেরই পাতে লবন খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। অনেকে আবার এটা ছাড়া ভাতই খেতে চান না। কিন্তু জানেন কি ? অতিরিক্ত পরিমাণ লবন খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি, হার্ট ফেইলর, কিডনি পাথুরী ও কিডনির অন্যান্য রোগ, স্ট্রোক, গ্যাসট্রিক, ক্যান্সার, শোথ বা ইডিমা, অস্থিক্ষয় এসব উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে প্রতি বছর বিশ্বের বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

নতুন এক গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি বছর ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যান শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হওয়ার কারণে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী, দিনে ২ গ্রামের বেশি লবন খাওয়া উচিৎ নয়।
অতিরিক্ত লবন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
গবেষকরা ১৮৭টি দেশের সাধারণ মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। পরীক্ষা শেষে তারা দেখেছেন, বহু ক্ষেত্রেই দিনে নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে বেশি লবন খাওয়া হচ্ছে। গবেষকদল সারা পৃথিবী জুড়ে ২০৫টি সমীক্ষা করে দেখেছেন, একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩.৯৫ গ্রাম লবন খেয়ে থাকেন। অর্থাৎ যা নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় দ্বিগুণ।

অন্য দিকে, মার্কিন চিকিত্সা বিশেষজ্ঞ ডাঃ কেন ফ্লিজেল ও ডাঃ পিটার ম্যাগনারের মতে শতকরা ত্রিশ ভাগ উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য দায়ী এই অতিরিক্ত লবণ। অতিরিক্ত লবণ খেলে মূত্রের সাথে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায় এবং হাড়ের অস্টিওপোরোসিস রোগের ঝুঁকি বাড়ে। 

দৈনিক এক গ্রাম লবণ কম খেলে মৃত্যুর হার কমে বলে ইউনির্ভাসিটি অব ক্যালির্ফোনিয়া সানফ্রান্সসিকো-এর গবেষকরা মন্তব্য করেন। বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড, স্ন্যাকস, চিপস, সংরক্ষিত মাছ-মাংস, সস, টিনজাত সবজি স্যুপ, সয়াসস, টমেটো কেচাপ প্রভৃতিতে অতিরিক্ত হারে লবণ থাকে। এছাড়া পাউরুটি, ক্রেকার বিস্কুট, লবণযুক্ত বাদাম, লবণযুক্ত কর্নফ্লেক্স ইত্যাদিও অতিরিক্ত লবণের উত্স। 

ডাঃ থম্পসন-এর মতে স্যুপ হচ্ছে লবণের জন্য চিহ্নিত শত্রু। নিয়মিত ও অতিরিক্ত স্যুপ খেলে গ্যাসট্রিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। আমাদের লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। সংরক্ষিত খাবার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সোডিয়াম, সোডা, বেকিংসোডা, মনোসোডিয়াম গ্লোটামেট (MSG) এর মাত্রা জানার জন্য সতর্কতার সাথে ফুড লেবেল পড়া উচিত। লবণের বিকল্প হিসাবে লেবুর রস বিভিন্ন মসলা, রসুন ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।

মধ্য এশিয়ায় লবন খাওয়ার প্রবণতা সব থেকে বেশি। এই অঞ্চলের কোনো ব্যক্তি দিনে গড়ে প্রায় ৫.৫১ গ্রাম লবন খেয়ে থাকেন। কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকগুলি বিবেচনা করে আমাদের তা পরিত্যাগ করা উচিত।
বিস্তারিত

দৈনন্দিন যে সব কারণে আপনারও স্তন ক্যান্সার হতে পারে !

"স্তন ক্যান্সারের" নাম শুনেননি এমন নারী হয়তো আপনি খুঁজে পাবেন না। কারণ বর্তমান বিশ্বে নারীদের কাছে স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে, কিছুদিন আগে স্তন ক্যান্সারের কারণে হলিউডের অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার স্তন অপসারন করেছেন। তাই নারীদের স্তন ক্যান্সার মোটেই হালকাভাবে নেয়ার মতন কোন বিষয় নয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে আপনিও রয়েছেন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে? আসুন এ বিষয়ে জেনে নিই কিছু দরকারী তথ্য। 
বক্ষবন্ধনী সারাক্ষণ পরে থাকা :-
সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গত হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী ব্যবহার :-
স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। কেননা নয়তো এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকখানি। স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে।

লেবেল না দেখে ডিওডোরেন্ট কেনা :-
আজকাল কর্মজীবী নারী হোক বা শিক্ষার্থী সারাদিনের বাইরে থাকা আর সেই সাথে ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাই! এতে নিজের ফ্রেশ ভাবটা যেমন বজায় থাকে তেমনি ঘামের গন্ধের কারণে অন্য কারো সামনেও বিব্রত হতে হয় না। কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই কোন কোম্পানির পণ্যটি ব্যবহার করবেন তা আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন।

প্লাস্টিকের বক্সে সব সময় খাবার রাখা :-
প্লাস্টিকের বক্সে খাবার রাখা এবং বিশেষত সেটিতেই ওভেনে গরম করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। এর চেয়ে কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে তা ফুড গ্রেড কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

কেমিকেলযুক্ত চুলের রঙ ব্যবহার :-
চুল পেকে যাওয়া বা হাল ফ্যাশনের সাথে মানিয়ে নিতে চুলে নানা রঙের ব্যবহার, যেটিই হোক না কেন, দোকান থেকে সস্তার চুলের রঙ কিনে আনবেন না। এতে চুল তো পড়ে যেতে পারেই, সেই সাথে এতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিকেলের কারণে হতে পারে স্তন ক্যান্সার। তাই ভালো কোম্পানির ভেষজ চুলের রঙ ব্যবহার করুন। আর মেহেদী ব্যবহার করলে তা একদিকে যেমন চুলের জন্যে ভালো আর সেই সাথে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার :-
ঘরের দূর্গন্ধ দূর করতে বা সুগন্ধিযুক্ত ঘর পেতে এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকা প্যাথালেট নামক প্লাস্টিসাইজিং কেমিকেল, যা সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। এটির সাথে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক আছে। এর চেয়ে ফুটন্ত পানিতে এক টুকরো দারুচিনি ফেলে দিন। এবার দেখুন, ঘরময় কি সুগন্ধই না ছড়াচ্ছে!

ন্যাপথলিনের ব্যবহার :-
আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন কয়েকটি। কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে ১০০ মাইল দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়ায় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

কেমিকেলযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার :-
অদ্ভুত হলেও সত্যি যে, আপনার রান্নাঘরের সিঙ্ক বা কেবিনেট যে রঙিন তরল ক্লিনার দিয়ে আপনি পরিস্কার করছেন, তাতে থাকা কেমিকেল কেবল আপনার স্তন ক্যান্সারই নয় বরং অন্য ধরনের ক্যান্সার ও বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক রোগ, যেমন মাইগ্রেন ও এলার্জিরও জন্ম দিতে পারে। তাই কেমিকেলযুক্ত এই ক্লিনার ব্যবহার না করে ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করতে পারেন। (সূত্র: প্রিয় লাইফ)
বিস্তারিত

জিহ্বা বা জিভের রং দেখে কিভাবে স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয় করবেন ?

হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন যে, কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে চিকিত্সকের নিকট গেলে তারা প্রায়ই রোগীদেরকে জিহ্বা বের করে দেখাতে বলেন। এতে দেখা যায় অনেকই আবার বেশ বিব্রতবোধ করেন। কিন্তু আপনি জানেন কি ? জিহ্বাও দিয়ে থাকে আমাদের নানান শারীরিক সমস্যার পূর্বাবাস। অর্থাৎ জিহ্বা রং কিংবা অবস্থা দেখেই দেহের নানান রকম শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। আসুন এ সম্পর্কে আজ বিস্তারিত জেনে নেই।

জিহ্বার জড়তা:- আপনি যদি জিহ্বায় জড়তা অনুভব করেন কিংবা আপনার কাছে জিহ্বা অবশ মনে হয় তাহলে বুঝবেন সেটা মস্তিষ্কের কোনো সমস্যার কারণে হতে পারে। স্ট্রোক অথবা নার্ভের কোনো সমস্যার কারণে এধরণের অনুভুতি হতে পারে আপনার।
জিহ্বা বা জিভের রং দেখে কিভাবে স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয় করবেন ?
লালচে দানাদার জিহ্বা:- আপনার জিহ্বা যদি লালচে অথবা গাঢ় গোলাপি বর্ণ ধারণ করে এবং জিহ্বায় স্ট্রবেরির দানার মতো ছোট ছোট দানা অনুভব করেন তাহলে দু'ধরনের শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে আপনার।
  • জ্বরের কারণে জিহ্বা লাল এবং দানাদার হয়ে যায় অনেক সময়। 
  • ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি ১২ এর অভাবেই জিহ্বা এমন লালচে দানাদার হতে পারে। 
সাদাটে রঙের জিহ্বা:- আপনার জিহ্বা যদি সাদাটে বর্ণ ধারণ করে থাকে এবং জিহ্বার উপরে সাদা রুক্ষ আবরণ থাকে যা পরিষ্কার করলেও যেতে চায় না তাহলে বুঝবেন আপনার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে সাধারণত মানুষের জিহ্বা সাদাটে বর্ণ ধারণ করে থাকে। এক্ষেত্রে বেশি করে পানি পান করলেই এই সাদাটে ভাব ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়।

ফ্যাকাসে গোলাপি জিহ্বা:- যদি জিহ্বা ফ্যাকাসে বর্ণের হয় তাহলে ধরে নিবেন আপনার রক্তশূন্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শরীরে রক্ত কম থাকলে সাধারণত জিহ্বার রং ফ্যাকাশে দেখায়। তাই জিহ্বা যদি ফ্যাকাশে গোলাপি মনে হয় তাহলে রক্তশূন্যতা আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করিয়ে নিন।

জিহ্বায় খয়েরী রঙের দাগ:- কখনো যদি আপনার জিহ্বার একটি স্থানে বেশ গাঢ় খয়েরী দাগ দেখা দেয় তখন কাল বিলম্ব না করে জরুরী ভিত্তিতে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হবেন । কারণ এধরনের দাগ হতে পারে ক্যান্সারের লক্ষণ। তাই এ বিষয়ে কোনো প্রকার অবহেলা করা আদৌ উচিত নয়।
বিস্তারিত

Thursday, August 28, 2014

কিভাবে বুঝবেন আপনি সুস্থ নন - রোগের রয়েছে কিছু পূর্বলক্ষণ !

আপনি অসুস্থ, সে বিষয়ে কখন আপনার টনক নড়ে? চিকিত্সক যতক্ষণ না কোন বড়োসড়ো রোগের নাম বলেন তার আগে নয়। সুস্থতার জন্য তখন যে যা বলছে আপনি তাই করছেন কিন্তু ততক্ষণে রোগটা হয়ত অনেকটাই গেড়ে বসেছে। আপনি কতটা সুস্থ, আদৌ শরীরে কোনও রোগ বাসা বাঁধছে কিনা সেসবও কিন্তু আগাম জানা যায়। কারণ, শরীর খারাপ হওয়ার আগে আমাদের শরীরে কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে। যেগুলো আমাদের সতর্ক করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

কী সেই লক্ষণগুলি :- যেমন, রাতে ঘুম না আসা। রাতে ঘুমানোর আগে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল দিনের মতো ততটা অ্যাক্টিভ থাকে না কেন জানেন? যাতে আমরা ভালো করে ঘুমিয়ে পরেরদিন আবার কাজের এনার্জি পা। যাঁরা অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভোগেন তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উলটো। স্ট্রেস সেলের অ্যাক্টিভিটি বেড়ে যাওয়ার ফলে তখন রাতের ঘুম পুরোটাই বরবাদের খাতায়। এবং এভাবেই আপনিও ধাপে ধাপে অসুস্থার পথে এগিয়ে চললেন। 
কিভাবে বুঝবেন আপনি সুস্থ নন - রোগের রয়েছে কিছু পূর্বলক্ষণ
অনেকদিন পর হাইট মাপতে গিয়ে দেখলেন উচ্চতা প্রায় এক ইঞ্চি কমে গিয়েছে! অবাক হওয়ার কিচ্ছু নেই। ঠিকমতো যত্ন-আত্তি না নেওয়ার ফলে হাড় ক্ষইতে শুরু করেছে। তারই ফলে হাইট কমে যাচ্ছে। এই তো সবে শুরু। বেশি রকমের অস্টিওপোরেসিস থেকে হাড় ভেঙে যাওয়া বা কোমরে টনটনে ব্যথার মতো ঘটনা ঘটা অসম্ভব নয়। 

এখন বেশির ভাগ কাজই বসে। এর জন্য শারীরিক পরিশ্রম কম হয়। আর কোমর, পেট, থাই জুড়ে চর্বির পাহাড়। এখনও সাবাধান হচ্ছেন না! বাড়তি মেদ কিন্তু চট করে শরীরে নানা বিপত্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। 

শরীর জুড়ে একরাশ ক্লান্তি। ভাবছেন ভালো করে ঘুমিয়ে নিলেই আবার চাঙা হবেন। তাতেও ক্লান্তি না কাটলে বিষয়টা সত্যিই চিন্তার কারণ। অনেক সময় থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ ঠিকমতো না হলে এমন ক্লান্তি আসে। আবার অতিরিক্ত স্ট্রেস বা নার্ভাস সিস্টেম কাজ না করলেও সব সময় ক্লান্ত লাগতেই পারে। সুতরাং অত্যধিক ক্লান্তি মোটেই হেলাফেলা করার মতো বিষয় নয়। 

অত্যধিক হলুদ ইউরিনও কিন্তু বিপদের ইঙ্গিত। তার মানে শরীরে জলের অভাব ঘটেছে। সোডা ওয়াটার, অ্যালকোহলিক বেভারেজ বা চা-কফি এ রেমিডি নয়। প্রচুর জল, ডাবের জল বা গ্রিনটি একমাত্র ডিহাইড্রেশন কমাতে পারে। 

নাক ডাকাটাও কিন্তু একধরনের রোগ। এর নাম স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘুমের মধ্যে ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস না চললে এই সমস্যা দেখা দেয়। এবং এর থেকে হার্ট অ্যাটাক হওয়াটাও বিচিত্র নয়। 

অতিরিক্ত অ্যাংজাইটি থেকে হার্টের নানা অসুখ ছাড়াও হাইপার থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল টিউমার, সেক্স হরমোনে ভারসান্যের অভাব ইত্যাদি হতে পারে। তাই এমনটা হলে। চিকিতসকের মতামত নিন। 

নিয়মিত বাওয়েল ক্লিয়ার না হওয়াটাও অসুখের কারণ। রোজ পেট পরিষ্কার থাকলে সহজেই খাবার হজম হয়। না হলেই গ্যাস, অম্বলের মতো ঘটনা ঘটবে। 

অ্যালার্জি থেকে অল্প-স্বল্প গা-হাত-পা চুলকায়। আবার লিভারের সমস্যা থাকলেও কিন্তু গা-হাত-পা চুলকাতে পারে। 

ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি জ্বর হতেই পারে। কিন্তু সর্দি-জ্বরে অতিরিক্ত ভোগা মানে শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেম কমে যাওয়া। 

সারাবছর ঠোঁট ফাটা মানে শরীরে ভিটামিন বি-এর অভাব। অ্যানিমিয়া থেকেও এমনটা হতে পারে। অতিরিক্ত ব্রণ, ফুসকুড়ি অ্যালার্জি থেকে হতে পারে তেমন অতিরিক্ত অ্যাংজাইটিও এর আরেকটি কারণ।
বিস্তারিত