Showing posts with label হৃদরোগ. Show all posts
Showing posts with label হৃদরোগ. Show all posts

Friday, February 2, 2018

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে আপনার কি কি করা উচিত তা জেনে রাখা দরকার

গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন বহুগুনে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ওই গবেষণার পর মানুষকে কম বসা এবং বেশি হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপনের ফলে ডায়াবেটিসের মতো প্রাণঘাতি রোগও হতে পারে। আর তাছাড়া এর ফলে যে কোনো কারণে মৃত্যু ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন-যাপনের প্রধান অভ্যাসগুলো হলো, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা, শুয়ে থাকা বা গা এলিয়ে দেওয়া; যখন কেউ জেগে আছেন, পড়ছেন, টেলিভিশন দেখছেন বা কম্পিউটারে কাজ করছেন।
হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে আপনার কি কি করা উচিত তা জেনে রাখা দরকার
এসব 'নিষ্ক্রিয় তৎপরতায়' শক্তি ব্যায় হয় মাত্র ১.৫ এমইটি’র চেয়েও কম। হালকা গৃহস্থালী কাজ বা ধীরগতির অথবা অবসরকালীন হাঁটাহাঁটিতে সাধারণত ২.৫ এমইটি শক্তি ব্যয় হয়। আর মাঝারি থেকে তীব্রমাত্রার শারীরিক তৎপরতায় সাধারণত ৩.০ বা আরো বেশি এমইটি শক্তি ব্যয় হয়।

তবে মাঝারি বা তীব্র শারীরিক তৎপরতার কারণে নিষ্ক্রিয়তার ফলে যে ক্ষতি হয় তা দূর হয় না। এমনকি শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় ব্যক্তিরাও যদি অধিক পরিমাণে নিষ্ক্রিয় সময় ব্যয় করেন তারাও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকদের মতে, কেউ শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় থাকলেন তাতে একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার কুফল দূর হয় না। বরং একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে হৃদপিণ্ড ও রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো অনিবার্যভাবেই ক্ষতির শিকার হয়।

তবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে স্বাস্থ্যের ঠিক কতটা ক্ষতি হয় তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, 'কম বসুন বেশি হাঁটুন'।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়শনের এর মতে, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রায় বা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রায় ব্যায়াম করতে হবে।

তবে এক বা দুইদিনেই সব শরীর চর্চা না করে বরং প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে তৎপর থাকতে হবে।
বিস্তারিত

Monday, January 29, 2018

মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য ভিটামিন সি ব্যায়ামের সমান কার্যকরী

মেদবহুল ও স্থূলকায় মানুষের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি হলেও অধিকাংশের মধ্যে তা এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের ব্যায়ামবিমুখ ব্যক্তির জন্য বিকল্প ব্যবস্থার নিদান দিয়েছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নিয়মিত ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ হয়ে উঠতে পারে মেদবহুল ও স্থূলকায় মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য ব্যায়ামের সমান কার্যকরী। খবর লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস।

মেদবহুল ও স্থূলকায় মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ও প্রবণতা দুই-ই থাকে বেশি। ঝুঁকিটি এড়ানোর জন্য চিকিত্সকরা এ ধরনের ব্যক্তিদের নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু মেদবহুল ও স্থূলকায়দের ভেতর ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যায়ামে চরম অনীহা।
মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য ভিটামিন সি ব্যায়ামের সমান কার্যকরী
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর গবেষকরা জানিয়েছেন, মেদবহুল ও স্থূলকায় প্রাপ্তবয়স্কদের হূদযন্ত্রের ওপর ব্যায়ামের সমান ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ভিটামিন ‘সি’। এ ধরনের মানুষের রক্তনালিতে সাধারণত এন্ডোথেলিন-১ (ইটি-১) নামে এক ধরনের প্রোটিনের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা লক্ষ করা যায়। রক্তে এর মাত্রা বেড়ে গেলে একসময় ধমনিতে সংকুচিত হয়ে পড়ে রক্ত চলাচলের পথ। ফলে নালিতে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে একসময় বেড়ে যায় হূদরোগের শঙ্কা।

সাধারণত ব্যায়ামের প্রভাবে কমে যায় ইটি-১-এর কার্যকারিতা। কিন্তু প্রতিদিনের নিয়মিত রুটিনে ব্যায়াম যোগ করা একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং ও দুঃসাধ্য।

রক্তনালির কার্যকারিতা বাড়ানোয় ভিটামিন ‘সি’র ইতিবাচক ভূমিকার সুনাম ছিল আগে থেকেই। আলোচ্য গবেষণাটির মূল বিষয়বস্তু ছিল, ইটি-১-এর প্রভাব কমানোয় কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা।

বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ রক্তনালিতে ইটি-১-এর প্রভাব ততটাই কমাতে পারে, যতটা কমে আসে নিয়মিত হাঁটলে। সেক্ষেত্রে, মেদবহুল ও স্থূলকায় মানুষের হূদরোগ প্রতিরোধ কার্যকর নিদান হয়ে উঠতে পারে নিয়মিত ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ।

৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর গবেষণার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান গবেষকরা। তবে তারা জানিয়েছেন, রক্তনালির ‘এন্ডোলিথিয়াল ফাংশন’ বজায় রাখার জন্য ব্যায়াম ও ভিটামিন ‘সি’ দুটোই একসঙ্গে গ্রহণ আরো অনেক বেশি কার্যকর। রক্তনালির এন্ডোলিথিয়াল ফাংশন বলতে বোঝায়, এতে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী এর প্রসারণ— দুটোই একসঙ্গে বজায় রাখার ক্ষমতাকে।

গবেষণার ফলাফল প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সভায়। তবে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত কোনো জার্নালে প্রকাশ না হওয়ায় গবেষণার ফলাফলকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বলেই ধরে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিস্তারিত

Saturday, January 13, 2018

কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সর্বাধিক

বিভিন্ন কারণে মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি দেখা যায়। তবে এ ঝুঁকি বেড়ে যায় স্থূল মানুষের ক্ষেত্রে। তবে কেউ যদি অসুস্থ এবং বাড়তি মোটা হয় তাহলে তা সর্বাধিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন অসুস্থ স্থূল ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক ছাড়া অন্য ধরনের হৃদরোগের সম্ভাবনা খুব একটা আলাদা নয়। তবে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তাদের অন্যদের তুলনায় বেশি।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় স্থূল ব্যক্তিদের হৃদরোগের এ সম্ভাবনা জানা গেছে। এ গবেষণায় ১৩ হাজার ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে গবেষকরা বডিম্যাস ইনডেস্ক অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের তুলনা করেন এরপর তাদের হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের হার পর্যবেক্ষণ করেন।
কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সর্বাধিক
গবেষকরা জানান, যারা স্থূল মানুষ তাদের ক্ষেত্রে যতটা না হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি তার চেয়ে বেশি যারা স্থূল এবং অসুস্থ তাদের। এতে গবেষকরা তাদের উচ্চ রক্তচাপ, কোলস্টেরল ও রক্তের শর্করার মাত্রাও অনুসন্ধান করেন।

গবেষণায় উঠে এসেছে, কারো যদি রক্তের শর্করার পরিমাণ সাধারণ মাত্রায় থাকে, কোলস্টেরল ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে তার পরেও হৃদরোগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে যদি তাদের দেহের ওজন অত্যধিক হয়।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর শিয়াডি এনডুমিলি বলেন, "আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে স্থূলতা স্বাস্থ্যগত বিষয়ের মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় এবং প্রায় সবচেয়ে বিপজ্জনক ঝুঁকি। আর এর অন্যতম কারণ হলো বিষয়টি চিকিৎসা করা সহজ নয়।"

দেহের ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের মাত্রাতিরিক্ত কোলস্টেরল ও ডায়াবেটিসের যোগসূত্র রয়েছে। আর এসব একত্রে প্রায়ই স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি ঝুঁকি সৃষ্টি করে, যার মধ্যে অন্যতম হলো হার্ট অ্যাটাক।
বিস্তারিত

Wednesday, December 27, 2017

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে কম বসুন বেশি হাঁটুন

গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন বহুগুনে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ওই গবেষণার পর মানুষকে কম বসা এবং বেশি হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপনের ফলে ডায়াবেটিসের মতো প্রাণঘাতি রোগও হতে পারে। আর তাছাড়া এর ফলে যে কোনো কারণে মৃত্যু ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবন-যাপনের প্রধান অভ্যাসগুলো হলো, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা, শুয়ে থাকা বা গা এলিয়ে দেওয়া; যখন কেউ জেগে আছেন, পড়ছেন, টেলিভিশন দেখছেন বা কম্পিউটারে কাজ করছেন।
হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে কম বসুন বেশি হাঁটুন
এসব ‘নিষ্ক্রিয় তৎপরতায়’ শক্তি ব্যায় হয় মাত্র ১.৫ এমইটি’র চেয়েও কম। হালকা গৃহস্থালী কাজ বা ধীরগতির অথবা অবসরকালীন হাঁটাহাঁটিতে সাধারণত ২.৫ এমইটি শক্তি ব্যয় হয়। আর মাঝারি থেকে তীব্রমাত্রার শারীরিক তৎপরতায় সাধারণত ৩.০ বা আরো বেশি এমইটি শক্তি ব্যয় হয়।

তবে মাঝারি বা তীব্র শারীরিক তৎপরতার কারণে নিষ্ক্রিয়তার ফলে যে ক্ষতি হয় তা দূর হয় না। এমনকি শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় ব্যক্তিরাও যদি অধিক পরিমাণে নিষ্ক্রিয় সময় ব্যয় করেন তারাও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকদের মতে, কেউ শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় থাকলেন তাতে একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার কুফল দূর হয় না। বরং একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে হৃদপিণ্ড ও রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো অনিবার্যভাবেই ক্ষতির শিকার হয়।

তবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে স্বাস্থ্যের ঠিক কতটা ক্ষতি হয় তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ‘কম বসুন বেশি হাঁটুন’।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়শনের এর মতে, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রায় বা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রায় ব্যায়াম করতে হবে।

তবে এক বা দুইদিনেই সব শরীর চর্চা না করে বরং প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে তৎপর থাকতে হবে।
বিস্তারিত

Saturday, December 16, 2017

হার্ট অ্যাটাক হৃদরোগ কি? কারন, লক্ষন, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

মূল কথা হার্ট অ্যাটাক হল হার্ট  ঠিক মত কাজ না করা । করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনী।এরাই হৃৎপিন্ডে পুষ্টির যোগান দেয়। কোন কারনে এই করোনারি আর্টারিতে যদি ব্লক সৃষ্টি হয় তাহলে যে এলাকা ঐ আর্টারি বা ধমনীর রক্তের পুষ্টি নিয়ে চলে সে জায়গার হৃৎপেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এর কেতাবি নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

হার্ট অ্যাটাক  বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। এই ব্যাথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী হাসপাতালে পৌছার আগেই মৃত্যুবরন করে। তাই এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। আপনার আত্মীয়ের হার্ট এট্যাক হয়েছে - তখন কি চিকিৎসা নিবেন। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে।  ভিডিও নিচে যুক্ত করা হয়েছে।
হার্ট অ্যাটাক হৃদরোগ কি? কারন, লক্ষন, প্রতিরোধ ও প্রতিকার

হার্ট অ্যাটাক এর কারন কি?

হৃদরোগের অনেক কারন আছে। প্রাথমিক জ্ঞানের জন্য আমরা এখানে প্রধান কারনগুলো উল্লেখ করবো-
  • তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
  • মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
  • রক্তে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্ট্রলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমে যাওয়া।
  • খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব।
  • উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস এবং মদ খাওয়া।
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্দি।
  • তামাক (বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা) খাওয়া।
  • এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপের ফলে অনেক সময়ইঃ
  • রক্তের চাপ বেড়ে যায়।
  • হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেরে যায়।
  • রক্তের তেল(ফ্যাট) জমা হওয়ার কাজ দ্রুততর হয়।
  • রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • করোনারী এবং অন্যান্য ধমনীগুলো অধিক ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
  • রক্তে “ক্লট” তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ধমনীগিলোর ভিতরের দিকে(গায়ে) কোলেস্ট্রল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমা হতে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক কাদের হতে পারে

কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ন্ত্রন করা যায় না আবার কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ন্ত্রন করা যায় না। সাধারনত যেসকল কারনে হার্ট অ্যাটাক হতে পারেঃ

হার্ট এটাক সব বয়সে একরকমভাবে হয় না। সাধারনত মধ্যবয়সে কিংবা বৃদ্ধ বয়সে এ রোগটি বেশি হতে পারে।
  • সাধারনত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অনেক বেশি হয়।
  • বংশে কারও হার্ট এটাক হয়ে থাকলে হার্ট এটাকের ঝুকি অনেক বেশি থাকে।
  • ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদি কারনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি অনেক বেড়ে যায়।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপার লিপিডেমিয়া ইত্যাদি রোগের কারনে হার্ট এটাক হতে পারে।
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে মুটিয়ে যাওয়া বা স্থূলতা হার্ট এটাকের একটি কারন।
  • অধিক হারে চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহন করলে এবং শাক সবজি ও আঁশ জাতীয় খাবার কম খেলে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অশান্তির ফলে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রক পিল বা অন্য কোন হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ সেবনের ফলে।

বুক ব্যথা, হৃদরোগ ও কিছু ভ্রান্ত ধারণা

আমাদের সকলেরই ধারণা যে হার্টের ব্যথা বুকের বাঁ দিকে হয়। কিন্তু আসলে হার্টের ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে হয়। আর সবাই বুকের বাঁ দিকে ব্যথা হলেই ভয় পেয়ে যান হার্টের ব্যথা ভেবে। আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, বুকে হার্ট ছাড়াও আরো অনেক প্রত্যঙ্গ (অর্গান) থাকে, যেমন – ফুসফুস; খাদ্যনালী; প্রধান ধমনী (এওর্টা); হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ঝিল্লি; বুকের দেওয়ালের মাংস, হাড় ও উপরের চামড়া; ইত্যাদি সব কিছু থেকে ব্যথা হতে পারে যা কিনা বুকেই অনুভূত হয়। তা’ ছাড়াও পিত্তথলী(গল ব্লাডার), যকৃৎ (লিভার) ও পাকস্থলীর ব্যথাও বুকের নিম্নাংশে অনুভূত হতে পারে।

একজন রুগী সেদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “হার্ট এ্যাটাক নাকি গ্যাস থেকে হয়?” আমি বললাম, “সেটা কি রকম? আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন।” তিনি তখন বললেন, “পেটে অধিক গ্যাস তৈরী হয়ে তা উপরে বুকে অত্যধিক চাপের সৃষ্টি করে হার্ট এ্যাটাক ঘটায়।” আমি তখন উনাকে বুঝিয়ে বললাম, “না, এটা ঠিক নয়। হার্ট এ্যাটাকের সাথে গ্যাসের কোনো সম্পর্ক নেই। হার্ট এ্যাটাক হয় হার্টের মাংসপেশীতে রক্ত বয়ে নিয়ে যাওয়া ধমনীতে হঠাৎ রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হবার কারণে। এখানে গ্যাসের কোনো ভূমিকা নেই।”

এরকম গ্যাসের কথা ভেবে অনেকেই হার্ট এটাকের পরে বুকের ব্যাথাকে উপেক্ষা করে তথাকথিত গ্যাসের বড়ি (রেনিটিডিন বা ওমেপ্রাজল) বা এ্যান্টাসিড খান। ওদিকে হার্টের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয়ে যায়। আমার কাছে নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন যুবক বয়সের রুগী আসেন শ্বাস কষ্ট নিয়ে। উনি দু’বার বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা হিসেবে উপেক্ষা করেন। এরপর উনি যখন শ্বাস কষ্ট নিয়ে ওখানকার একটি ক্লিনিকে যান, তখন উনাকে হাপানী রুগি হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করে। ওখানে দু’দিন রাখার পরেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় উনার আত্মীয়স্বজন আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা তখন তাঁকে সিসিইউতে ভর্তি করে উনার ডায়াগনোসিস করি ‘হার্ট ফেইলিউর’ এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা করার পরে উন্নতি হয়। এই কাহিনীটি বলার উদ্দেশ্য হলো, গ্যাসের ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করাতে উনার ব্যপারটা বেশ জটিল হয়ে যায়। এতে প্রথমিক চিকিৎসক রোগটি ধরতে না পেরে এজমা রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন। এধরনের রুগী আমরা প্রায়ই পেয়ে থাকি।

হৃদরোগ বা হার্ট এ্যাটাকের কারন কি এবং কারা এতে বেশি ভোগেন?

এখন স্বভাবতই সবার মনে প্রশ্ন আসবে, হার্ট এ্যাটাক হয় কি ভাবে। সত্যি কথা বলতে কি বিজ্ঞান এখনো এর সঠিক কারণ আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে রুগিদের পর্যবেক্ষণ করে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় যে, কতগুলো বিষয় হৃদরোগিদের মাঝ বেশি থাকে। এই বিষয়গুলোকে হৃদরোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যা কিনা এখনো একদম সঠিক ভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই এদেরকে বলাহয় Causative or Risk Factors. সেগুলো হলো – বয়স, লিঙ্গ, পারিবারে আক্রান্ত সদস্য (জেনেটিক প্রিডিসপজিশন), ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চরক্তচাপ, রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি, স্থুলকায় বা মোটা শারীরিক গড়ন, কম শারীরিক পরিশ্রম, ইত্যাদি। এর তিনটি ব্যাপার আমরা পরিবর্তন করতে পারি না। এগুলো হলো – বয়স, লিঙ্গ ও জেনেটিক প্রিডিসপজিশন। এদেরকে বলা হয় অপরিবর্তনীয় (Unmodifiable) Risk factors. আর বাঁকি সবগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই এদেরকে বলা হয় পরিবর্তনীয় (Modifiable) Risk Factors.
হৃদরোগ বা হার্ট এ্যাটাকের কারন কি এবং কারা এতে বেশি ভোগেন?
পরিবর্তনীয় Risk Factors গুলো এক একটা আলাদা আলাদাভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি একই ব্যক্তির মাঝে এদের আধিক্য বেশি থাকে, তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারো কারো মাঝে দুই বা ততোধিক Risk Factors থাকে। একে বিজ্ঞানীরা Clustering of Risk Factor বলেন। এই Clustering কে একটি বিশেষ গ্রুপে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর নাম হলো Metabolic Syndrome. এতে অন্তর্ভুক্ত Risk Factors গুলো হলো – ডিয়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি, স্থুলকায় শরীর বিশেষ করে উদর মোটা হওয়া ও উচ্চরক্তচাপ। এগুলোর মধ্যে দুইয়ের অধিক Factors কোনো ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান থাকলে তাঁকে Metabolic Syndrome এর রোগি হিসেবে ধরা হয়। আর এধরনের রোগি দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাসকারীদের মাঝে বেশি পাওয়া যায়।এই ধরণের ব্যক্তির হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।

আর যেসব রোগি অল্প বয়সে অর্থাৎ ৪০ বৎসরের পূর্বে হার্ট এ্যাটাক নিয়ে আসেন তাঁদের বেশিরভাগেরই ধূমপায়ী হয়ে থাকেন। এঁদের মাঝে কদাচিৎ ব্যক্তি থাকেন যাঁদের পারিবারিকভাবে রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের মাঝেও অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ইতিহাস থাকে।

হার্ট এ্যাটাকের সময় ধমনীতে কি ঘটে?

হার্টের নিজস্ব মাংসপিণ্ডের জন্য বয়ে নিয়ে যাওয়া ধমনী প্রধানত দু’টি। বাম ও ডান করনারী আর্টারী বা ধমনী। বাম করনারী আর্টারী এওর্টা থেকে উৎপত্তি হবার একটু পরেই দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তাই বাম দিকে দু’টি করনারী আর্টারী ধরা হয়। এই তিনটি ধমনীর যে কোনো একটিতে যদি হঠাৎ করে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন ঐ ধমনী হৃদপিণ্ডের যে অংশে রক্ত বয়ে নিয়ে যায় সেই অংশের মাংসপেশী মরে যায়। আর মরে যাবার সময় বুকে ব্যথা অনুভূত হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, “হঠাৎ করে রক্ত চলাচল বন্ধ হয় কেনো?” প্যাথলজিস্টরা অটোপসির দ্বারা এই প্রশ্নের উত্তর বের করেছেন। হার্ট এ্যাটাকে মৃত ব্যক্তিদের করনারী আর্টারী পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, আর্টারী বা ধমনীর দেয়ালে যে চর্বি জমে তাতে হঠাৎ চির ধরে অথবা তা ফেটে যেয়ে প্রবাহিত রক্তের সংস্পর্শে এলে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লক্ষনীয় বিষয় হলো, যাদের ধমনীতে চর্বি জমেছে (Cholesterol Plaque) কিন্তু রক্ত চলাচলের পথ তেমন সরু হয়নি যা কিনা রক্ত সঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত করবে, এই ধরনের প্লাক থেকেই হার্ট এ্যাটাক বেশি হয়ে থাকে। তাই যাঁদের হার্ট এ্যাটাক হয় তাঁদের সিংভাগেরই হৃদরোগের কোনো পূর্বলক্ষণ থাকে না এবং তা আচমকাই ঘটে।

যাঁদের পরিশ্রমজনিত কারণে বুকে ব্যথা হয় তাঁদের করনারী আর্টারীতে আস্তে আস্তে চর্বি জমে এবং এই প্লাক খুব ধীরে ধীরে রক্ত নালীকে সরু করে। যখন রক্ত চলাচলের রাস্তা ৭৫% বা তার বেশি সরু হয়ে যায় তখন চলতেফিরতে, সিঁড়ি বা পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে গেলে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়। এঁদের হার্ট এ্যাটাক খুব কম হয়।

হৃদরোগ কি করে নির্ণয় করা যায়?

এতক্ষণ হৃদরোগের নানা দিক নিয়ে কথ হলো। এবার নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে হবে এই রোগ কি করে নির্ণয় বা ডায়াগনোসিস করা যায়? হৃদরোগ নির্ণয়ের মূল চাবিকাঠি হলো এর উপসর্গ যা আমরা উপরে বিশদভাবে আলোচনা করেছি। এর তেমন লক্ষণ নেই বললেই চলে। অর্থাৎ শরীর পরীক্ষা করে ক্লিনিক্যালী তেমন কিছু পাওয়া যায় না। রোগের ক্লাসিক্যাল উপসর্গ ও কয়েকটি ল্যাব টেস্ট করে হৃদরোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

হার্ট এ্যাটাকের ক্ষেত্রে ক্লাসিক্যাল উপসর্গ, ইসিজি ও রক্তের মার্কার, এই তিনটি বিষয় দিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী এর যে কোনো দুটি কোনো রুগিতে পাওয়া গেলে হার্ট এ্যাটাক ডায়াগনোসিস করা হয়। এছাড়া ইকোকার্ডিওগ্রাফী রোগ ও রোগের মাত্রা নির্ণয়ে সহায়তা করে। কোনো কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক সিটি অথবা এমআরআই স্ক্যান করা হয়ে থাকে। আর যখন রোগ নির্ণয় হয়ে যায় তখন সরাসরি করোনারী এঞ্জিওগ্রাম ও করা হয়ে থাকে এই উদ্দেশ্যে যে সম্ভব হলে হার্ট এ্যাটাকের জন্য দায়ি বন্ধ রক্তনালীটি ঐ সময়েই এঞ্জিওপ্লাস্টির মাধ্যমে খুলে দিয়ে যতদ্রুত সম্ভব রক্তসঞ্চালন সচল করা। এ ব্যাপারে পরে বিশদ আলোচনা হবে।

আর যাদের হার্ট এ্যাটাক হয়নি কিন্তু এঞ্জায়না পেক্টরিসে (প্ররিশ্রমজনিত বুকে ব্যথা) ভুগছেন তাঁদের সাধারণত ধাপে ধাপে বুকের এক্সরে, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী ও স্ট্রেস টেস্ট – যেমন ইটিটি, স্ট্রেস ইকো, এক্সারসাইজ ইকো, মাইয়োকার্ডিয়াল পারফিউশন স্ক্যান, ইত্যাদি করা হয়। এগুলোতে যাদের সমস্যা ধরা পড়ে বা কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না তাঁদের কার্ডিয়াক সিটি এঞ্জিওগ্রাম এবং করোনারী এঞ্জিওগ্রাম করে দৃঢ়ভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। প্রসঙ্গতই বলা প্রয়োজন যে সাধারণ মানুষ মনে করেন কার্ডিয়াক সিটি এঞ্জিওগ্রাম করোনারী এঞ্জিওগ্রামের বিকল্প। প্রকৃতপক্ষে এটা একটি ননইনভেসিভ টেস্ট যা দিয়ে স্ক্রিনিং করা হয় কারো করোনারী আর্টারীতে ব্লক আছে কি না। এতে যদি কারো সমস্যা ধরা পড়ে তাইলে করোনারী এঞ্জিওগ্রাম করতে হবে।

উপরোল্লিখিত পরীক্ষাগুলো ছাড়াও কিছু আনুসাঙ্গিক পরীক্ষা করা খুব জরুরী। সেগুলো করা হয় হৃদরোগের পাশাপাশা অন্য কোনো রোগেও একজন ভুগছেন কি না। কেননা কিছু রোগ আছে যেগুলিতে ভোগা লোকেদের মধ্যে হৃদরোগের প্রকোপ বেশি এবং ঐ রোগগুলোর মাত্রা একটা পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো উপসর্গের সৃষ্টি করে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষতি করতে থাকে। সেই রোগগুলো ধরার জন্য সাধারণত রক্তের শর্করা, ক্রিয়াটিনিন (কিডনীর কার্যক্ষমতা নির্ণায়ক), রক্তের চর্বির বিভিন্ন ধরন (লিপিড প্রফাইল), ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে আরো জানতে ভিডিওটি একবার দেখুন 

একা থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক থেকে কিভাবে বাঁচবেন ?

হার্ট এটাক হবার ফলে অধিকাংশ সময় মানুষ মারা যান, কারণ তারা একা থাকেন। অন্য কারো সাহায্য ছাড়া তাদের বুকের ওপর পাম্প করে হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন সম্ভব হয় না, এবং ব্যথা শুরু হবার পরে অজ্ঞান হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত সাধারণত তাদের হাতে ১০ সেকেণ্ড সময় থাকে ।

এমতাবস্থায় বুকে ব্যথার শিকার ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারেন বারংবার জোরে জোরে উচ্চস্বরে কাশি দিয়ে।
  • লম্বা করে শ্বাস নিন। এবার কাশুন। লম্বা সময় নিয়ে দীর্ঘ কাশি দিন। এর ফলে আপনার ফুসফুসে স্পাটাম/মিউকাস উৎপন্ন হবে।
  • ‘শ্বাস – কাশি, শ্বাস – কাশি...’ এই প্রক্রিয়া প্রতি দুই সেকেণ্ডে একবার করে করতে থাকুন, যতক্ষণ না কেউ আপনার সাহায্যে এগিয়ে না আসে
  • অথবা যতক্ষণ আপনার হৃদযন্ত্র একা একাই স্বাভাবিকভাবে স্পন্দিত হতে থাকে।
  • লম্বা করে শ্বাস নেবার ফলে আপনি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবেন। আর কাশির ফলে আপনার হৃদযন্ত্র সংকোচন-প্রসারণ
  • হবে যার ফলে আপনার হৃদপিণ্ডের ভিতর দিয়ে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
  • এবং কয়েকবার কাশির ফলে উৎপন্ন সংকোচন-প্রসারণে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক, স্বয়ংক্রিয় স্পন্দনে ফিরে আসার কথা।
 এরপরে অপর কোনো ব্যক্তির সাহায্যে আপনি হাসপাতালে পৌঁছতে পারবেন।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করনীয়

  • মানসিক অবসাদ বা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
  • নিয়মিত ব্লাড প্রেসার পরিমাপের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • নিয়মিতভাবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
  • ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • মোটা হওয়া বা স্থূলতা নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
  • চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে এবং রক্তে কোলেস্টোরলের মাত্রা কমাতে হবে।
  • শাকসবজি, ফল বেশি করে খেতে হবে।
  • প্রতিদিন নিয়মিতভাবে হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা কোন শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে, নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রন, প্রতিদিন ব্যায়াম, ধূমপান কিংবা মদ্যপানের মত বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ, বাড়তি লবণ না খাওয়া, তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া, মিষ্টি কম খাওয়া, শাক সবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া এবং মানসিক দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হার্ট এটাকের ঝুঁকি থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকা যাবে। আধুনিক বিশ্বে অপরিণত বয়সে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান একটি কারণ হার্ট এটাক। হার্ট এটাকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না, তাই জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে প্রতিরোধের মাধ্যমে সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে হবে। সতর্ক জীবনযাপনের পরেও হার্ট এটাক হলে, তার মাত্রা ও তীব্রতা অনেক কম হয়।
বিস্তারিত

Sunday, December 7, 2014

রক্তপরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা পড়বে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা

একটা সাধারণ রক্তপরীক্ষা। আর তাতেই ধরা পড়তে পারে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। এমনই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথে হাঁটলেন আমেরিকান কলেন অফ কার্ডিওলজির গবেষকরা।

সারা বিশ্বজুড়ে সব থেকে বেশি মানুষ প্রাণ হারান হার্ট অ্যাটাকে। বর্তমানে পৃথিবীতে এক মহামারির নাম হার্ট অ্যাটাক। এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা চিহ্নিত হলে আগে থেকেই প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব। ফলে সামগ্রিক ভাবেই সারা পৃথিবীতেই কমবে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা। কমবে মৃত্যুর সম্ভাবনাও।
রক্তপরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা পড়বে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা
এই রক্ত পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা এখন পাইলট ফেজে রয়েছে। এটির ব্যবহারে শীল মোহর দেওয়ার আগে গবেষকরা এখনও কিছু ট্রায়াল করে দেখে নিতে চান।

হার্ট অ্যাটাক একটি ভীতিকর বিষয়। যার একবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় তাকে প্রায় সারাজীবনই বেশ সতর্কভাবে জীবনযাপন করতে হয়। আজ ১৬ জানুয়ারি এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২২৬৮তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

হার্ট অ্যাটাক বলতে কী বোঝায়?

হার্ট অ্যাটাক সত্যিই একটি বিশেষ রোগ। এই রোগটি আসলে সবার মধ্যে খুব ভীতি সঞ্চার করে থাকে। এর কারণ হলো হার্ট অ্যাটাক রোগে যারা মৃত্যুবরণ করে তাঁদের বেশির ভাগ লোকই কিন্তু প্রথম ঘণ্টার মধ্যে মারা যান।

তাই হার্ট অ্যাটাক সম্বন্ধে আমাদের একটি ব্যক্তিগত ধারণা থাকা দরকার। এর কারণ হলো, হার্ট অ্যাটাক যেই রোগীর হয় তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে রোগীর পাশে যাঁরা থাকেন তাঁদের কিছু বিষয় জেনে রাখা দরকার। তাঁদের কিছু দায়িত্ব থাকে।

আমরা সবাই জানি হার্ট আমাদের সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালন করে পাম্পের মাধ্যমে। যেহেতু হার্ট নিজে একটি পাম্প, তাকে কাজ করতে হয়, তাই তার নিজস্ব একটি রক্ত চলাচলের পদ্ধতি রয়েছে, রক্তনালি আছে। এই রক্তনালিগুলো মধ্যে কোনো একটি বা একের অধিক নালি যদি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে হার্টের বেশ কিছু অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে গেলে হার্টের কাজ করার ক্ষমতাও বন্ধ হয়ে যায়। এটিই হলো হার্ট অ্যাটাক। মূলত, রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হার্টের কার্যক্ষমতা যে বন্ধ হয়ে গেল, সেটিই হলো হার্ট অ্যাটাক।

রোগীর কোন কোন লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে?

সাধারণত দুইভাবে বিষয়টি হতে পারে। কোনো কোনো লোকের হয়তো আগে থেকে কিছু কিছু লক্ষণ থাকে। যেমন : অনেকের হয়তো পরিশ্রম করতে গিয়ে বুকে ব্যথা হতো, বিশ্রাম করলে তিনি ভালো থাকতেন। এভাবে কয়েক মাস বা কয়েক বছরও চলে যেতে পারে। আবার কোনো কোনো লোকের ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই হার্টের রগটি বন্ধ হয়ে যায়।

আসলে আগে থেকে রোগ থাকুক বা না থাকুক যদি কোনো কারণে হঠাৎ করে হার্টের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, হার্টের রোগ হয়, একে সাধারণত হার্ট অ্যাটাক বলা হয়ে থাকে।

তবে যদি সামগ্রিকভাবে চিন্তা করি, হার্টের রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, এই সম্পূর্ণ রোগটিকে সাধারণত বলা হয়ে থাকে, ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ। যেহেতু এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি এবং রোগটি ভয়াভহ, সেক্ষেত্রে সাধারণভাবে হৃদরোগ বলতে এই জিনিসকে বোঝানো হয়ে থাকে। যদিও  এই জিনিসটির অন্য কারণও রয়েছে।

সাধারণত বুকে ব্যথা হওয়াটা সবচেয়ে প্রচলিত লক্ষণ। হঠাৎ করে বুকটা ভীষণ চেপে ধরে। মনে হয় বুকটি ভেঙ্গে পড়ল। অনেক ওজন চেপে গেছে। এটা হয় শুরুতে এবং এর সাথে সাথে অনেকের শরীরে ঘাম হতে থাকে। পাশাপাশি অনেক সময় মাথা ঘুরতে থাকে, বমি হতে থাকে। আবার বমি নাও হতে পারে। তবে বুকে ব্যথা হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তার হয়তো আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো রোগ ছিল, সেখান থেকে হার্ট অ্যাটাক হলো। এগুলোই তার প্রধান উপসর্গ।

এই সময়ে আমাদের করণীয় কী? এ রকম  হলে তাৎক্ষণিকভাবে কী করব? তাহলে এই ধরনের লক্ষণ যদি দেখা যায়, আপনি ৯০ ভাগ নিশ্চিত হতে পারেন এখানে হার্ট অ্যাটাকের প্রক্রিয়া চলছে। সেই সময় সঙ্গে সঙ্গে এসপিরিন ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। এটি ৩০০ মিলিগ্রামের পাওয়া যায়- এটি খেয়ে নিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।

এর কারণ প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যে প্রথম চিকিৎসা হলো, ব্যথাটাকে কমানো এবং সম্ভব হলে দ্রুত ইসিজি করে রোগ নির্ণয় করা। এর আরো একটি কারণ হলো, যত তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছাবে তত তাড়াতাড়ি তার চিকিৎসা শুরু হবে। আর যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হবে, তত তাড়াতাড়ি হার্টের একটি বড় অংশ বাঁচানো সম্ভব হবে। বেশি অংশ ক্ষতি হওয়া থেকে বেঁচে গেলে হার্টটি মোটামুটিভাবে কাজ করতে পারবে- এটা হলো প্রধান উদ্দেশ্য দ্রুত রোগ নির্ণয় করার। এসপিরিন সম্ভব হলে খাওয়াতে হবে, খাওয়ানো যাক বা বা না যাক তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের পদক্ষেপগুলো কী থাকে?

হাসপাতালের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে নির্ভর করছে কোন হাসপাতালে পৌঁছাতে পেরেছে এই বিষয়টি। এখানে সাধাণত আমরা দুটো বিষয় বলে থাকি, আমাদের দেশে যদিও এখনো অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসটা অতটা প্রচলিত নয়, তবে অন্যান্য দেশে কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসাটা শুরু হয়ে যায়। এমন এমন দেশ রয়েছে যেখানে অ্যাম্বুলেন্সেই এসপিরিন খাওয়ানোর পর ইসিজি করা হয়। ইসিজি করার পর যে হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেখানে আগে খবর দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও আমাদের দেশে সবজায়গায় এটি করা সম্ভব নয়, তবে কিছু কিছু জায়গায় করা সম্ভব। রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাথল্যাবে নিয়ে তার এনজিওগ্রাম করে দেখা, কোন জায়গায় ব্লক  হয়েছে, না হয়নি। যদি সেই ব্লকটাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঠিক করে দেওয়া যায়, তাহলে ওই হার্টের ওই অংশটুকু নিরাপদ হয়ে গেল। তাহলে এদের ফলাফল খুব ভালো হয়। যদিও আমাদের দেশে এখনো এই সুযোগ নেই।

এখানে সাধারণত এক ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যেটি দিলে কিছু কিছু অংশ গলে যায় এবং সেখানে কিছু কিছু হৃদপিণ্ডের অংশ রক্ষা পায়। এটি হলো তার প্রাথমিক চিকিৎসা।

তবে এর সাথে সাথে তাকে যদি সাহায্যকারী চিকিৎসা করা হয়ে থাকে তাহলে ভালো হয়। অক্সিজেন দেওয়া, তার ব্যথা কমানো, তাকে বোঝানো এটা ঠিক হয়ে যাবে ইত্যাদি। পাশাপাশি তাকে সবসময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দেখতে হবে তার কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কি না।

আসলে হওয়ার শুরুতেই কী করে চিকিৎসা করা যায় সেটি খেয়াল করতে হবে। এর কারণ হলো, হার্ট অ্যাটাকের রোগীর একটি নির্দিষ্ট অংশ এরিদমিয়া বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের জন্য মারা যায়। সেটা যদি আমরা প্রথমেই পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পাই এবং প্রাথমিকভাবেই চিকিৎসা দেওয়া যায়, তাহলে সেখান থেকে বের করে আনা সম্ভব। এটা হলো প্রাথমিক চিকিৎসা।

পরবর্তীকালে হাসপাতালে রেখে আনুষঙ্গিক চিকিৎসা করতে হবে। কেন হার্ট অ্যাটাক হলো সেই কারণগুলো বের করে নিয়ে আসা দরকার। এরপর তাকে পরামর্শ দিয়ে তারপর তাকে মুক্ত করতে হয় এবং তাকে ফলোআপ করার জন্য চেষ্টা করতে হয়।

পরবর্তীকালে তার জীবনযাপনের ধরন কী হবে, সেটি বলে দেওয়া হয়। যেহেতু তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কাজেই তার শরীরে ওই সব উপাদান রয়েছে। হয়তো আগে তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, হয়তো আগে সে সিগারেট খেত। শরীরে চর্বি বেশি ছিল, খাওয়া দাওয়া বেশি করত, বেশি ওজন ছিল- এসব জিনিস কমিয়ে পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাক না হয় তার জন্য তাকে পরামর্শ দিতে হয়। নয়তো পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাক হলে তার ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং হার্টের কার্যক্ষমতা আরো কমে যাবে। সেসব চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের ব্যাপারে কী করতে পারি?

এটি খুব জরুরি ব্যাপার। এর কারণ হলো, এটি কোনো জীবাণুঘটিত রোগ নয়। যেমন : কলেরা, টাইফয়েড- যেই জীবাণুঘটিত রোগ। আপনি জীবাণু শনাক্ত করলেন, জীবাণু ভালো হয়ে গেল-এখন আর ওষুধ দরকার নেই।

তবে এসব রোগে ওই ধরনের কোনো চিকিৎসা নেই। যেহেতু এই রোগের নিরাময় নেই, তাই একে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এটা দেখা গেছে যে বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেটি হার্ট অ্যাটাককে তৈরি করতে সাহায্য করে। যেমন : কারো উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। যার অনেক বেশি ওজন, বেশি চলাফেরা করে না। অফিসে বসে বসে কাজ করে। কোলেস্টেরল বেশি। অথবা পারিবারিক ইতিহাস খুবই খারাপ। আগে মা-বাবা বা কারো হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। সুতরাং এই দলকে আমরা বলি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দল। তাদের শুরু থেকেই এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাকে ওষুধ খেয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর যদি কারো ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে থাকে সেটি আরো বেশি ক্ষতিকর।

যাদের বেশি ওজন, তাদের কমিয়ে ফেলতে হবে। আর খাওয়ার বিষয়ে খুব খেয়াল রাখতে হবে। প্রাণীজ চর্বি থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। তাহলে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা যায়।

আমি সবসময় বলি যার পরিবারে হার্ট অ্যাটাক ছিল সে ভাগ্যবান। কারণ, সে জেনে ফেলেছে তারও এক সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে পারব। কারণ হার্ট অ্যাটাক মানে হলো হার্টের পেশির অংশ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া।

যদি হার্টের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, চিকিৎসা হওয়ার পর সে সুস্থ হয়ে উঠলেও ওই অংশটুকু কিন্তু নিরাময় হবে না। সুতরাং প্রতিরোধ করাটা সর্বোত্তম পদ্ধতি এবং আমাদের মতো গরিব দেশে তো এটা অবশ্যই দরকার। কারণ, হার্ট অ্যাটাক যার হয়ে গেল তার প্রতি মাসের চিকিৎসা তিন হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। একে সারাজীবনই এটি চালিয়ে যেতে হবে।
বিস্তারিত

Thursday, August 28, 2014

মহিলারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন হৃদরোগে - জেনে নিন কি করবেন ?

মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সব থেকে বেশি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে সারা পৃথিবীতে প্রতি ৩৪ সেকেন্ডে একজন করে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। তবে জানেন কী পুরুষদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ দেখা যায়, মহিলাদের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই আলাদা। জেনে নিন মহিলাদের মধ্যে কোন কোন লক্ষণ দেখলে তত্‍‌ক্ষণাত্‍‌ সচেতন হওয়া প্রয়োজন --- 
চূড়ান্ত ক্লান্তি :-
হয়তো তেমন কোনও কাজই করেননি, তবুও হঠত্‍‌ করেই খুব বেশি ঘামতে থাকলেন। তার সঙ্গে বেড়ে গেল হার্টবিট। অবহেলা না করে তত্‍‌ক্ষণাত্‍‌ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

নিঃশ্বাসে কষ্ট :-
স্বাভাবিক ভাবে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ধরুন দশ তলা বাড়ি। আর আপনি একতলা থেকে এক নিঃশ্বাসে দৌড়ে দশ তলায় ওঠার চেষ্টা করছেন। তখন যেমন দম বন্ধ করা অনুভূতি হবে, এ ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়।

পেটে ব্যথা :-
কোনও কারণ ছাড়াই অসহ্য পেটে যন্ত্রণাও কিন্তু মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। ক্রমশ বাড়তে থাকে পেটের উপর চাপভাব। ধরুন একটি আস্ত হাতিকে যদি আপনার পেটের উপর বসিয়ে দেওয়া হয়, তখন যেমন ব্যথা হবে, এক্ষেত্রে ঠিক তেমনই অনুভূতি হয়।

বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি :-
এক্ষেত্রেও পুরুষদের থেকে কিছুটা ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয় মহিলাদের মধ্যে। শুধু যে বুকের বাঁ দিকেই ব্যথা হবে তা নয়, বুকের যে কোনও অংশেই ব্যথা শুরু হতে পারে। তার সঙ্গে বুকে ভার ভাব দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

শরীরের উপরের ভাগে যন্ত্রণা :-
হাতের উপরের অংশে, কোমরে, ঘাড়ে বা চোয়ালে অসহ্য ব্যথাকে নজর আন্দাজ করবেন না। এই ব্যথা ক্রমশ বাড়তে পারে অথবা হঠাত্‍‌ করেই শুরু হতে পারে। এমন কিছু হলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

কি করবেন?
হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাত্ক্ষণিক ভাবে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। কারণ এই অবস্থায় তার তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাটা অতি প্রয়োজন যা তার জীবন বাচাবে। তারপর রোগের কারণটাকে তার মূল থেকে দূর করতে অ্যালোপ্যাথি ঔষধের পাশাপাশি ভালো একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করে একই সাথে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সাও চালিয়ে যান। হয়ত শোনলে অবাক হবে, এক্ষেত্রে এই কম্বাইন চিকিত্সাটাই তার অতি দরকার যেটা তাকে পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে নিয়ে যাবে। একটা তাকে তাত্ক্ষণিক সাপোর্ট দিবে আরেকটা ভিতর থেকে রোগের মূল কারণটাকে নির্মূল করে ফেলবে। আমরা নিজেরাই হার্ট ব্লকের রোগীদের রিপোর্ট নরমাল করেছি এইরূপ কম্বাইন চিকিত্সার মাধ্যমে। জেনে রাখবেন, অ্যালোপ্যাথি ঔষধ হার্ট ব্লকের রোগীদের রিপোর্ট নরমাল করতে পারে না এটা জাস্ট সাপোর্ট দিয়ে রাখে। শুনতে অবাক লাগছে তাই না ! এটাই সত্য আর এটাই বাস্তব। 
********   আধুনিক হোমিওপ্যাথি     ********
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
 ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫
বিস্তারিত

Friday, July 25, 2014

হৃৎপিণ্ডের রোগ, এনজিওগ্রাম এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা

হৃৎপিণ্ডের একটা রোগ আছে সেই রোগটির নাম করনারি আর্টারি ডিজিস বা ইসকেমিক হার্টডিজিস। এই রোগের লক্ষণ হিসেবে রোগীর বুকে ব্যথা এবং এই ব্যথাটা হাঁটলে বাড়ে। অথবা সিঁড়ি বেয়ে দোতলা বা তিন তলায় উঠলে ব্যথা হয়। এই রোগীদের করনারি আর্টারি ডিজিস থাকার সম্ভাবনা বেশি। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি করনারি আর্টারির মাধ্যমে অক্সিজেন ও নিউট্রিশন পেয়ে থাকে। কোনো কারণে যদি করনারি আর্টারির ভিতর চর্বি জমে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির অক্সিজেন ও নিউট্রিশন সরবরাহে ব্যাহত করে, তখন বুকে ব্যথা হতে পারে।

এই রোগীদের অবশ্যই করনারি এনজিওগ্রাম করা উচিত যদি করনারি আর্টারিতে চর্বি জমে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় তবে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হবে। সঙ্গে সঙ্গে বমি হতে পারে। ঘাম হতে পারে ও বুক ধড়ফড় করতে পায়ে, এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এই রোগকে তখন Acute Myocardial Infarctionবলে থাকে পাঠকদের বুঝার সুবিধার জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি। ধানী জমিতে যদি পালি ও সার না দেয়া হয় তখন ধানী জমি শুকিয়ে যায় এবং ফসল হয় না। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি যদি করনারি আর্টারিতে চর্বি জমার জন্য অক্সিজেন ও নিউট্রিশন না পায় তখন হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি শুকিয়ে যায় এবং হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি তখন Pump করতে পারে না। ফলে তখন শ্বাসকষ্ট হয়।
হৃৎপিণ্ডের রোগ, এনজিওগ্রাম এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা
রোগের কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। সুতরাং Acute Myocardial infarction হওয়ার আগে এনজিওগ্রাম করাটা বাঞ্ছনীয়। হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক অনেক পরীক্ষা আছে। এর মধ্যে ECG, Echo Cardiogram, ETT, 24 Hours Holter Monitor, Stress Echo-Cardiography, Thallium Scan তবে আধুনিকতম পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতি হলো Coronary Angiogram (CAG) AGbK mgq ECG, Echo-Cardiography, ETT, Stress Echo-Cardiogram করে করনারি আর্টারি ডিজিস নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।

সেই ক্ষেত্রে করনারি এনজিওগ্রাম বা CAG করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। Echo Cardiogram করে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির রোগ এবং হৃৎপিণ্ডের কপাটিকা এর রোগ নির্ণয় করা যায়। হৃৎপিণ্ডের সব রোগের জন্যই এনজিওগ্রাম করা দরকার নেই। শুধু করনারি আর্টারি ডিজিস বা Ischaemic Heart Disease এর জন্য এই পরীক্ষা করা যেতে পারে ও চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা: এনজিওগ্রামটা এক ধরনের মাইনর অপারেশন বিধায় অনেকই করাতে চান না। আমরা নিজেরাই এধরনের বেশ কয়েকজন রোগীকে চিকিত্সা দিয়েছি। আল্লাহর শুকর যে হোমিওপ্যাথি একটি প্রকৃত চিকিৎসা বিজ্ঞান যেখানে রোগীর যাবতীয় লক্ষণ দেখেই ট্রিটমেন্ট করা যায়, যার কারণে হয়ত যারা এ সকল ক্ষেত্রে এনজিওগ্রাম করাতে চান না তারাও হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিতে পারছেন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।
বিস্তারিত