Showing posts with label হোমিওপ্যাথিক ঔষধ. Show all posts
Showing posts with label হোমিওপ্যাথিক ঔষধ. Show all posts

Wednesday, May 9, 2018

আর্জেন্ট নাইট (Argentum Nitricum) চারিত্রিক, ধাতুগত লক্ষণ ও প্রয়োগ বিধি

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আর্জেন্ট নাইট (Argentum Nitricum) চারিত্রিক, ধাতুগত লক্ষণ ও প্রয়োগ বিধি সম্পর্কে জানব আমরা। জেনে রাখা ভালো - যারা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেন তাদের ক্ষেত্রে আমাদের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ>>> সংক্রান্ত আর্টিকেলগুলি অবশ্যই ভালো বেনিফিট দিবে। আগেই বলে রাখি আমাদের এই বিভাগের আর্টিকেলগুলি হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে। তাই আপনি হোমিও ডাক্তার না হলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

এবার আসুন আমরা আর্জেন্ট নাইট (Argentum Nitricum) চারিত্রিক, ধাতুগত লক্ষণ ও প্রয়োগ বিধি সম্পর্কে জেনে নিই। এই ঔষধটি সম্পর্কে একটি পদ্য রয়েছে যা দেখে এর সিম্পটম সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করা যায় -
আর্জেন্ট নাইট ত্রস্ত-ব্যস্ত, উত্তেজনায় মল,
অসহ্যেও মিষ্টি লিপ্সা, মলের রং বদল।
স্বরভঙ্গে কাটার ব্যাথা, মলের সাথে বায়ু,
গরম কাতর মাথা বাঁধে চুলকায় নাক পায়ু।।
ক্রিয়াস্থলঃ- অকাল বার্ধক্য, অতিরজঃস্রাব (বিধবা ও বন্ধ্যার), আসাড়ে প্রস্রাব, আক্ষেপ, আমাশয়, উদরাময়, উদরশূল, উদ্গার, কষ্টকর সহবাস, কোষ্ঠবদ্ধতা, গর্ভস্রাব প্রবনতা, গর্ভাবস্থা, চোখ ওঠা, চক্ষু পদ্রাহ, জরায়ুর অর্বুদ, তামাক খাওয়ার কুফল, ধ্বজভঙ্গ, পক্ষাঘাত, পাকাশয়ে ক্ষত, পিত্তবমি, পুঁয়ে পাওয়া, পেটফাঁপা, প্রদর স্রাব, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা, মানসিক লক্ষণ, মৃগী, যোনীদেশের রক্তস্রাব, স্বরভঙ্গ, হরিৎপীড়া।
আর্জেন্ট নাইট (Argentum Nitricum)
কাতরতাঃ- গরম কাতর।
ক্রিয়ানশকঃ- কফি, দুধ, নেট্রাম মিউর।
ক্রিয়াকালঃ- ৩০ দিন।
হ্রাসঃ- মুক্ত বাতাসে, স্নানে, শক্ত বন্ধনে ও সঞ্চালনে।
বৃদ্ধিঃ- অন্ধকার ঘরে, ঠান্ডা খাদ্যে, মিষ্টান্ন, কুলপি বরফে, ব্যায়ামে, ডানপাশে শয়নে, লোক সমাগমে, মানসিক পরিশ্রমে ও আহারের পরে।
উৎসঃ আর্জেন্টাম গ্রুপের একটি খনিজ ঔষধ। আর্জেন্টাম গ্রুপের অন্যান্য ঔষধগুলো হল :
  • আর্জেন্টাম সায়ানেটাম
  • আর্জেন্টাম আয়োডেটাম
  • আর্জেন্টাম মেটালিকাম 
  • আর্জেন্টাম ব্রোমেটাম
  • আর্জেন্টাম কার্বোনিকাম
  • আর্জেন্টাম ফ্লোরেটাম
  • আর্জেন্টাম মিউরিটিকাম
  • আর্জেন্টাম অক্সিডেটাম
  • আর্জেন্টাম ফসফরিকাম
  • আর্জেন্টাম সালফুরিকাম

Argentum nitricum আর্জেন্ট নাইট

ভয় পেয়ে বা মাসিকের সময় মৃগীর আক্রমণ হলে তাতে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম প্রযোজ্য। মৃগীর আক্রমণের কয়েক দিন অথবা কয়েক ঘণ্টা পূর্ব থেকেই চোখের তারা প্রসারিত হয়ে থাকে, আক্রমণের পরে রোগী খুবই অস্থির থাকে এবং তার হাত কাঁপতে থাকে, কঙ্কালসার, শিশুকে মনে হয় বৃদ্ধের মতো, জোরে হাঁটার ইচ্ছা, মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি ভীষণ লোভ ইত্যাদি।

বড় কোন ঘটনার আগে টেনশান হতে থাকলে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম প্রয়োগ করা যেতে পারে। যেমন পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, অনেক মানুষের সামনে বক্তৃতা দেওয়া, সামাজিক অনুষ্টানে যোগ দেওয়া, দাঁত উঠানোর জন্য ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। টেনশানের কারণে ডায়েরিয়া হওয়া এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশী খাওয়ার অভ্যাস্ত এই ঔষধের দুটি বড় লক্ষণ।

মেন্টাল শেড:- রাস্তা দিয়ে হাটার সময় মনে হল রাস্তার পাশের একটা বিল্ডিং আমার উপর ভেঙে পড়বে।এ লক্ষণটি আর্জেন্ট নাইটের একটি চমৎকার মানসিক লক্ষণ।

চারিত্রিক লক্ষণ (Characteristic Symptoms)

  • পেট বায়তে পরিপূর্ণ হওয়া ও অথ্যন্ত ফুলিয়া উঠা,  মনে হয় যেন পেট ফাটিয়া যাইবে।
  • ঢেকুর তুলিতে চেষ্টা করিলে কষ্টের সহিত উঠে।
  • অত্যন্ত কষ্টদায় খেঁচুনি তাহার পূর্বেই রোগী মনে করে, মুখ ও মাথা যেন ফুলিয়াছে।
  • একটি spasm চলিয়া গেলে সঙ্গে স্েগ আর একটি হওয়া পর্যন্ত রোগীর অনবরত নড়া চড়া ও ছটফটানি।
  • দিবারত্রি আসাড়ে প্রস্রাব নিঃস্বরন।
  • পদদ্বয়ে অত্যন্ত দূর্বলতা।
  • গলার ভিতর যেন কাঠি দ্বরা খুঁচিতেছে এইরূপ বোধ।
  • অত্যান্ত বিষাদ ও স্মৃতিশক্তির লোপ কোন বিষয়ে মনঃসংযোগ করিতে পারা যায় না সমান্য কারনেই যেন ক্লান্ত হইয়া পড়িতে হয়।
  • মাথাঘোরা, চক্ষু বুঝিয়া কিম্বা অন্ধকারে বেড়াইতে চেষ্টা করিলেও মাথা ঘোরা।
  • আধ কপালে মাথাধরা, মাথায় কিছু জোরে বাঁধিলে কথাঞ্চিত উপশম বোধ।
  • মস্তিষ্কের বাম ভাগে কাটা কিম্বা খোঁচামারার মত ব্যাথ, বিশেষতঃ অক্সিপট অস্থি হইতে ফ্রন্টাল অস্থি পর্যন্ত যেন ঔ ব্যাথা বিস্তৃত হয়।
  • কর্ণশূল-পুরাতন কান পাকা, সেই সঙ্গেকর্ণবিবরে একজিমা, কাণ ভোঁ ভোঁ করা সাতিশয় দূব্র্বলতাও সব্র্বশরীরের কম্পন, ফাইফস জ্বরের পর সম্পূর্ণ বধিরতা।
  • অত্যন্ত পুঁজযুক্ত কনজিংটিভাইটিস নূতন বা পুরাতন কনজিংটিভাইটসের অথ্যধিক বৃদ্ধি ও সেই হেতু পুঁজ ও পিঁচুটিতে চক্ষু জুড়িয়া যাওয়া, চক্ষু রক্তবর্ণ হয় ও যন্থণা বৃদ্ধি হয়।
  • শিশুদের চক্ষু রোগ।
  • নাসিকর সেপ্টমে ক্ষত ও সেই হেতু পুঁজ ও রক্থনিঃসরণ এবং নাসিকায় কোন গন্ধ পাওযা য়ায় না।
  • দন্তশূল ঠান্ডা জল, লাগিলে বৃদ্ধি টাইফয়েড় জ্বরে দাঁত কৃঞ্ষবর্ণ ধারণ করে, মাড়ী হইতে সহজে রক্থ পড়ে।
  • মুখ ও জিহ্বায় ক্ষত।
  • ঢেকুর উঠিলে পেট ফুলার কদাঞ্চিত উপশম।
  • পাকস্থলীর নিম্নাংশে স্ফিত।
  • আহারের অব্যবহিত পরেই পেটে বেদনা এবং যতক্ষণ পেটে ভুক্তদ্রব্য থাকে, ততক্ষণ বেদনা থাকে।
  • আহারের পর এক ঘন্টার মধ্যেই বমন, অজীর্ণ রোগ ও গ্যাসটিক ক্ষত, প্রত্যক বার আহারের পর পেটে দবেদনা ও সই সঙ্ড়ে ঘন ঘন ঢেঁকুর উঠা বেদনা অনেক সমেয় পেট হইতে বক্ষদেশ পর্যন্ত বিস্তুত হয় এবং তাহাতে সময়ে সময়ে হৃৎস্পন্দনও উৎপাদিত হয়।
  • অর্জর্ণ রোগ, পেট ফোলা, পেট ডাকা সেই সঙ্গে হৃৎস্পন্দন।
  • লিভার প্রদেশে ছুরি দিয়অ কাটার মত বেদনা।
  • উদরাময় ও আমায়ে তরল পদার্থ পানের পর বাহ্যের বৃদ্ধি ও রোগী মনে হয় যেন বাহ্য পানাহর করিতেছে তাহােই নামিয়া যাইতেছে।
  • শিশু কলেরা, আমায় ও রক্তামাশয়।
  • প্রস্রাবের সয় জ্বালা মনেয় যেন ইউরিথ্রা ফুলিয়াছে ও প্রস্রাবের শেষ বিন্দু যেন ইউরিথায় রহিয়া গেল।
  • ডায়েবেটিস, সেই সঙ্গে পেটে বায়ুসঞ্চয় ও অজীর্ণ রোগ।
  • ধ্বজভঙ্গ লিঙ্গ যেন শুকাইয়া ছোট হইয়া যায়।
  • গণোরিয়া রোগ- প্রস্রাবের সময় জ্বালা, রক্ত প্রস্রাব ও পুঁজের মত স্রাব।
  • রক্ত প্রদরের সহিত ডান ওভেরিতে কাটিয়া ফেরা মত ব্যাথা, নিয়ামিত সময়ে পূর্বে রজঃস্রাব হয়, উহা পরিমানে অধিক ও বহুদিন স্থায়ী হইয়া থাকে।
  • ইউট্রাস হইতে রক্তস্রাব, সেই সঙ্গে মাথাব্যাথা, নড়িলে চড়িলে উহার বৃদ্ধি। স্বামী সহবাসে বেদনানুভব, ইউযট্রাসে ক্ষত, সামান্য স্পর্শনেতথা হইতে রক্তস্রাব, ইউট্রাসের প্রোল্যাপ্স সেই সঙেৃ্গ অস ও সার্ভিক্সের ক্ষত।
  • প্রসুতির কলভলসন, অজীর্ণরোগগ্রস্ত স্ত্রীলোগদিগের ঘন ঘন গর্ভস্রাব।
  • ঘন ঘন কাশি উহা প্রথমে শুষ্ক পরে সরল।

আর্জেন্ট নাইটের ধাতুগত লক্ষণ

  • শরীর শুকিয়ে যায়
  • রোগা
  • বুড়োদের মত দেখতে এরূপ রোগী
  • প্রতিবছরই রোগাটে ভাব বাড়তে থাকে-নিমাঙ্গে বেশী দেখা যায়
  • বুক ধড়ফড়ানি তাড়াতাড়ি হাটলে বাড়ার কথা অথচ তাড়াতাড়ি হাটলে বুক ধড়ফড়ানির উপশম আর্জেন্ট নাইটের অদ্ভুত লক্ষণ।
মনে রাখবেন:-
  • খোলা বাতাসের আকাঙ্ক্ষা করে। 
  • মিষ্টির প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা। 
  • লবণের প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা।
 ---- এই তিনটি লক্ষণ পেলে আর্জেন্ট নাইট্রিকাম সুনির্দিষ্ট হয়। আবার যদি মিষ্টির প্রতি আকাংখা এবং লবণের প্রতি আকাংখা লক্ষণদুটো একত্রে থাকে তাহলেও আর্জেন্ট নাইট্রিকাম সামনে চলে আসে।সঙ্গে গরমকাতরতা থাকলে নিশ্চিতভাবে ঔষধটাকে প্রয়োগ করা বিধেয়।
আপনি হোমিও ডাক্তার না হলে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। 
বিস্তারিত