Showing posts with label হোমিওপ্যাথি. Show all posts
Showing posts with label হোমিওপ্যাথি. Show all posts

Tuesday, September 4, 2018

হোমিওপ্যাথি প্রতি বৈরীতার ইতিবৃত্ত - জানতে হবে সকলকে !

স্যামুয়েল কৃশ্চিয়ান ফ্রেডারিক হ্যানিম্যান ছিলেন জার্মানের অধিবাসী। তিনি ছিলেল একাধারে দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, বহু ভাষাবিদ, রসায়নবিদ সুলেখক আরো অনেক বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিত । তিনি ছাত্রজীবন হইতেই নিজের পান্ডিত্য দর্শাইয়া পড়াশুনা সমাপ্ত করিয়াছিলেন। ইহার পর এলোপ্যাথি ডাক্তারি বিদ্যায় M D পদ লাভ করিয়া চিকিৎসাকার্যে মনোনিবেশ করিয়া বিরাট খ্যাতি অর্জন করিয়াছিলেন । এই সময় তাহার পান্ডিত্য জার্মান দেশের বাহিরেও ছড়াইয়া পড়িয়াছিল । তাহার অতি দারিদ্র অবস্থা মুহূর্তে ঘুচিয়া গিয়াছিল । বিখ্যাত এক ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিক তাহার কন্যার সহিত হ্যানিম্যানের বিবাহ দিতে পারিয়া পরম সুখ অনুভব করিয়াছিলেন অন্তরে।

বিপত্তি ঘটিয়াছিল ইহার পরেই, যখন তিনি এলোপ্যাথি চিকিৎসার কুফল প্রত্যক্ষ করিয়া এই প্রকার চিকিৎসা আর করিবেন না বলিয়া ঘোষনা করিলেন। তিনি এলোপ্যাথি চিকিৎসার কুফল ফলাও করিয়া প্রচার করিতে প্রবৃত্ত হইলে এলোপ্যাথি ডাক্তারগণ এবং ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির রোষানলে পড়িলেন । তাহার শ্বশুরমশাইও তাহার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদন করিলেন । আবার অবর্ননীয় অভাব নামিয়া আসিল জীবনে । তথাপি তিনি সিদ্ধান্তে অটল রহিলেন। ইহার পর বেশ কয়েকবছর গবেষনা করিয়া তিনি এক নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্ভাবন করিলেন যাহার নাম হোমিওপ্যাথি।
হোমিওপ্যাথি প্রতি বৈরীতার ইতিবৃত্ত - জানতে হবে সকলকে !
এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ঔষধ সাদৃশ্য মতে ব্যবহার করিতে হয়, অর্থাৎ যে রোগী যে সকল কষ্টে ভুগিতেছেন তাহাকে তেমনি ঔষধ বিশেষ উপায়ে প্রয়োগ করিতে হয় যে ঔষধের ঐ একই রোগ সুস্থ দেহে সৃষ্টি করিবার ক্ষমতা আছে!

হোমিওপ্যাথি ঔষধ আবিষ্কার করিতে কোন পদার্থকে সূক্ষ এবং শক্তিকৃত করিয়া একইসঙ্গে বহু সুস্থ মানুষের দেহে অভারডোজে প্রয়োগ করিবার পর তাহারা ঔষধ সৃষ্ট যেইসকল কষ্টে ভুগে সেইগুলোই হইল সেই শক্তিকৃত পদার্থের ঔষধি লক্ষন এবং কর্মক্ষেত্র । ইহার পর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা হইতে আরো কিছু লক্ষন সেই ঔষধের নামের পাশে লিপিবদ্ধ হইয়া থাকে। 

তাহাহইলে দেখা যাইতেছে যে হোমিওপ্যাথি ঔষধ হিসাবে প্রস্তুত করা শক্তিকৃত কোন পদার্থ সুস্থ দেহে লক্ষন সৃষ্টি করিতে না পারিলে, তাহা ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠিতে পারে না ।
মহাত্মা হ্যানিম্যান দেখিয়াছিলেন, রোগশক্তি ভীষন রকমের শক্তিশালী এবং সূক্ষ। যাহা দেহের এতটাই গভীরে অবস্থান করিয়া থাকে যে, তথায় স্থূল চেহারার ঔষধ প্রেবেশ করিতে না পারিয়া তাহার ছায়ার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ করিয়া বিশেষ লাভবান হইতে পারিতেছে না । তাই তিনি সূক্ষ রোগশক্তির শিবিরে পৌঁছাইবার জন্য ঔষধের চেহারাও তদোপযোগী অবিশ্বাস্য রকমের সূক্ষ করিয়া ফেলিলেন।

একইসঙ্গে লোহাকে ঘষিলে যেমন শক্তিশালী চুম্বক হয় কিংবা খৈনিখোর-রা যেইরূপ চুনের সঙ্গে তামাক ঘষিয়া শক্তিশালী করিয়া লয় তদনুরুপ এক বিশেষ প্রকৃয়ায় ঘর্ষণ আর আলোড়ন প্রথায় তাহাকে মহা-শক্তিশালীও করিয়া লইলেন । তিনি ঔষধি পদার্থকে এতটা-ই সূক্ষ এবং শক্তিশালী করিয়াছিলেন, যাহাতে পদার্থের কোন অণুই পদার্থ বিজ্ঞানীরা খুঁজিয়া পায় নাই । অথচ এই সূক্ষাতিসূক্ষ শক্তিকৃত পদার্থই আবার সুস্থ মানব দেহে প্রয়োগ করিয়া বহুবিধ কষ্টকর লক্ষন সৃষ্টি করিয়া ঔষধ হিসেবে আবিস্কার হইতেছে । যাহা আজ সম লক্ষণে বিধিমতো প্রয়োগ হইয়া সমগ্র পৃথিবী জুড়িয়া বহু কঠিন কঠিন রোগী প্রতিনিয়ত ভালো করিয়া চলিয়াছে । 

ইহা দেখিয়া একদল যথার্থ জ্ঞানী, পাগল বিজ্ঞানী আশ্চর্য হইয়া আজ পর্যন্ত পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কতখানি ক্ষুদ্র হইতে পারে - তাহা আবিষ্কার করিবার নেশায় রাতদিন এক করিয়া ফেলিতেছেন । অনেকেই আহার নিদ্রা ভুলিয়া গবেষনা করিয়া মরিতেছেন । আবার স্বার্থ হানি ঘটিবার কারনে কিছু দামী-দামী ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থা, যাহারা রোগীর গোষ্ঠীর পিন্ডি চটকাইয়া অর্থ উপার্জন করিবার চেষ্টার কসুর করেন না - তাহাদিগের উস্কানিতে আরেকদল আধা-পাগল আবার আপনার কার্য ভুলিয়া হোমিওপ্যাথির পিছনে লাগিয়া রহিয়াছেন । তাহারা হোমিওপ্যাথিকে ভাউতাবাজী প্রমান করিতে ঔষধের মধ্যে মূল পদার্থের অস্তিত্ব থাকিতে পারেনা - বলিয়া চিৎকার করিতে করিতে গলা ও বিভিন্ন দ্বার ফাটাইয়া ফেলিতেছেন । তাহাদের এই চিৎকার উপেক্ষা করিয়া যতই রোগীরা হোমিওপ্যাথি ক্লিনিকে ভিড় জমাইতেছেন ততই তাহারা চিৎকারের তীব্রতা বাড়াইয়া হেমারেজ ঘটাইয়া ফেলিতেছেন । ইহার পর তাহারা মরিয়া হইয়া নাম-গোত্রহীন চারি আঙুলের একটা বাংলা পেপার কাট শো করিয়া বাংলায় বসিয়া জার্মানে হোমিওপ্যাথি নিষিদ্ধ হইয়াছে বলিয়া উল্লাসে ফাটাইয়া পড়িতেছেন । অথচ গুগল সার্চ করিলে দেখা যাইতেছে যে হোমিওপ্যাথি নিষিদ্ধ তো দূর অস্ত পরন্তু হ্যানিম্যানের সম্মানার্থে তাহার নামে মুদ্রা বাহির করিয়াছেন জার্মান সরকার। 

আরো বেশি সম্মান দিতে তাহার নামে একটা ট্রেন চালাইয়তেছেন । এখানেও ব্যার্থ হইয়া বিরোধীরা হোমিওপ্যাথির বটিকা ( দানা ) -কে হোমো পাখির ডিম বলিয়া বিদ্রুপ করিতেছেন । কেহ বলিতেছেন, "হোমিওপ্যাথি ঔষধ না খাইয়া যে জ্বর সাত দিনে ভালো হইয়া যায়, তাহাতে হোমিওপ্যাথি ঔষধ খাইলে একসপ্তাহে জ্বর ভালো হইয়া যায় ! ইহা শুনিয়া যথার্থ হোমিওপ্যাথরা নীরবে হাসিতেছেন - তাহাদের করুণা হইতেছে ইহা জানিইয়া যে, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু সহ যেকোন জ্বর এবং তরুন রোগের রোগী উপযুক্ত হোমিওপ্যাথি হইলে উৎপত্তিতেই নিষ্পত্তি হইয়া যায় । কোন আধপাগলী হয়তো বলিয়া থাকিবেন, --ডায়রিয়া হইলে হোমিওপ্যাথি করিও দেখিব রোগী কি করিয়া বাঁচে ? 

"carbo vegetabilis" "camfora" "podophyllum peltatum" "alo.s" ইত্যাদি ঔষধ সম্পর্কে উত্তমরূপে না জানিলে ইহারা কি করিয়া বুঝিবেন যে, কেবলমাত্র ডায়রিয়াই নহে, এলোপ্যাথির আশা ছাড়িয়া দেওয়া ডায়রিয়া রোগীদেরও মুহূর্তে হোমিওপ্যাথি মুত্যুর রাস্তা হইতে ফিরাইয়া আনিতে পারে ? কেহ আবার হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের খোঁচা মারিয়া বলিতেছেন, --যাহার নাহি কোন গতি, সেই করিয়া থাকে হোমিওপ্যাথি !

তাহাদের এই প্রকার কথা একদিক হইতে নিতান্তই ফেলিয়া দিবার নহে । অনেক হোমিওপ্যাথি ডাক্তার এলোপ্যাথিতে সুযোগ না পাইয়া হোমিওপ্যাথিতে আসিয়া সখের হোমিওপ্যাথি করিয়া থাকেন এদেশে । তাহারা হোমিওপ্যাথি না বুঝিয়া ডিগ্রিলাভ করিয়া হোমিওপ্যাথি ঔষধ দিয়া এলোপ্যাথি করিয়া থাকেন - বলিয়া একদল যথার্থ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার অভিমত পোষন করিয়া থাকেন । তবে একজন যথার্থ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হইতে হইলে তাহাকে যে আজীবন প্রাণপাত পরিশ্রম করিতে হয় এবং বহু বিচক্ষন হইতে হয় - তাহা মহাত্মা হ্যানিম্যান, মহামতি কেন্ট প্রভৃতি দিকপাল ডাক্তারদিগের গ্রন্থ পাঠ করিলে সহজেই বুঝিতে পারা যায় । সুতরাং বিষয়টি একটু ঘুরাইয়া বলিলেই উত্তম যে, যেই রোগীর নাহি কোন গতি, তাহার জন্য রহিয়াছে হোমিওপ্যাথি । 

বিজ্ঞান মানুষকে যুক্তিবাদী হইতে শিখাইয়াছে । তাহা হইলে হোমিওপ্যাথির শক্তিকৃত ঔষধের মধ্যে যদি মূল পদার্থের অস্তিত্বই না থাকে, তবে তাহা প্রয়োগ করিলে মানবদেহে বিভিন্ন কষ্টকর রোগলক্ষন ফুটিয়া উঠিবে কেন ? ইহার যুক্তি কি ? হাজার হাজার রোগীরা হোমিওপ্যাথি খাইয়া ভালো হইতেছে বলিয়া দাবি করিতেছেন - তাহার যুক্তি কি ? এখানেও বিরোধীরা বলিয়া থাকেন এটা প্লাসিবো এফেক্ট ! অর্থাৎ রোগীরা ঔষধ মনে করিয়া জল বা গ্লোবিউলস খাইয়া মনস্তাত্বিক ভাবে উদ্বুদ্ধ হইয়া ভালো হইতেছেন ! তাহা হইলে বিরোধীরা এমন উপায়ে রোগ ভালো না করিয়া মারাত্নক পার্শপ্রতিক্রিয়া যুক্ত ঔষধ দিয়া রোগ চাপিয়া ধরিতেছেন কেন ? কেন কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠিত এলোপ্যাথি ডাক্তার এলোপ্যাথি ছাড়িয়া হোমিওপ্যাথিতে আসিতেছেন ? 

বিজ্ঞান যেমন বহুকিছু আবিষ্কার করিয়াছে তেমন বিজ্ঞানের অনেক সীমাবদ্ধতাও রহিয়াছে । একটা ফুলের সৌরভ দূর থেকে হাজার মানুষ অনুভব করিতে পারেন, এতে কি ফুলের কোন ভরের পরিবর্তন হয় ? না হইলে সেই ফুল হইতে আমাদিগের ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এমন কি আসিতেছে - এটা বিজ্ঞান প্রমাণ করিতে পারিবে ? 

একজন সুস্থ মানুষের দেহ হইতে কি বাহির হইয়া গেলে তাহাকে মৃত বলিয়া ধরা হইয়া থাকে ? আত্মার সন্ধান বিজ্ঞান দিতে পারিবে ? একজন মানুষের মুখ দেখিয়া আমরা বলিয়া দিতে পারি সে দুশ্চিন্তায় রহিয়াছে না মহানন্দে । বিজ্ঞান পারিবে ইহা পরীক্ষা করিয়া বলিতে ? একজন স্ত্রীর সঙ্গে তাহার স্বামীর সম্পর্ক নির্নয় করিতে পারিবে ? বিজ্ঞান অনেককিছু আবিস্কার করিয়াছে কিন্তু বিজ্ঞান কতটুকু আবিস্কার করিয়াছে? বিজ্ঞানের কি সব আবিস্কার শেষ হইয়া গিয়াছে ? বিজ্ঞান কি পরিবর্তনশীল নহে? 

পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা লইয়াইতো কত বিজ্ঞানীরা কত মতপার্থক্য হইয়াছেন বিভিন্ন সময় । ভারতীয় দার্শনিক কনাদ প্রথম বলিলেন পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা অনু । ইহার পর অ্যারিস্টটল তাহা খন্ডন করিলেন । পুনরায় আবার বিখ্যাত বৃটিশ পরমাণু বিজ্ঞানী ডাল্টন আসিয়া অণুকে ভাঙ্গিয়া পরমাণু বাহির করিলেন । ইহাতেও সন্তুষ্ট না থাকিয়া ক্রমে অ্যাভোগাড্র, রাদার্ফোর্ড, চ্যাডইউক, আইনস্টাইন এবং লেগম্যান আরো কিছু প্রশ্ন তুলিয়া নতুন কিছু তথ্য যোগ করিলেন । আধুনিক বিজ্ঞানীরা আবার পদার্থের আরো অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্রতম কণা যথা "ঈশ্বরকণা" বা "হিগস-বোসন" আবিষ্কার করিয়াছেন । তাহাদের অনেকে আবার স্ট্রিংতত্বে পদার্থের পরম কণা বলিয়া কিছুই হয়না বলিয়া অভিমত পোষন করিতেছেন ।

তাহা হইলে হোমিওপ্যাথি বিরোধীদের এতো আস্ফালন আসে কোথা হইতে ! তাহাদের এত গাত্র জ্বালা কেন? ইহাদের এলোপ্যাথি বলিলে নাকি আবার অপমান অনুভব করিয়া থাকেন ! নিজেদের তাহারা মডার্ন মেডিসিন প্রাকটিশনার বলিয়া দাবি করিতেছেন । তা মডার্ন মেডিসিন প্রাকটিশনার বাবুরা কি এটাও জানেন না যে, মডার্ন মেডিশিনের যিনি জনক তিনি হ্যানিম্যান সম্পর্কে কি মন্তব্য করিয়াছেন ? তিনি কেন বলিয়াছেন, চিকিৎসা শাস্ত্রেকে এককভাবে হ্যানিম্যান তুল্য সমৃদ্ধ কেহ করিতে পারে নাই ? কেন জ্ঞানীগুণী বহু এলোপ্যাথি ডাক্তারগন কখনো সখনো তাহাদের কিছুসংখ্যক অসাধ্য রোগীকে হোমিওপ্যাথি সেবন করিবার পরামর্শ দিয়া থাকেন? গুগল সার্চ করিলে কেন গোটা বিশ্বজুড়িয়া বড়-বড় হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল দেখা যাইতেছে ?

সুতরাং একথা বলা যাইতে পারে একজন যথার্থ জ্ঞানী মানুষ কদাপি কোন বিষয় উত্তমরূপে অবগত না হইয়া আধা-পাগলের মতো চিৎকার করিয়া নিজেকে উলঙ্গ করিতে চাহে না। বহু এলোপ্যাথি ডাক্তার হোমিওপ্যাথিকে ভীষন শ্রদ্ধা করিয়া থাকেন; একে অপরের সঙ্গে হাত মিলাইয়া চলিতেছেন। যাহারা ইহার বিরোধিতা করিয়া থাকেন তাহারা সংকীর্ন এবং পরশ্রীকাতর ঈর্ষা পরায়ন মানুষ। এই শ্রেনীর মানুষরা যেকোন প্রাকার উন্নয়নের অন্তরায় হইয়া থাকেন। ইহারাই গ্যালিলিও কোপার্নিকাস কিংবা হ্যানিম্যানের পিছনে লাগিয়াছিলেন। 

আজ লজ্জাবোধ হয় না আপন সন্তানকে শিক্ষা দিতে যে, সূর্যকে কেন্দ্র করিয়া পৃথিবী ঘুরে। লজ্জাবোধ করেনা নিজের ওয়ালে দূরবীন ঝুলাইয়া রাখিতে। আজ বিপদে পড়িয়া কোন শিশুকে তাহার পিতা হোমিওপ্যাথি না করায়? বলিতেছ হোমিওপ্যাথি ঔষধের মধ্যে মূল পদার্থের অস্তিত্ব নাহি, ইহা ভাউতাবাজী!  তাহা হইলে হোমিওপ্যাথি ঔষধ আবিস্কার হইতেছে কি উপায়ে? কি উপায়ে শক্তিকৃত হোমিওপ্যাথি ঔষধ সুস্থ মানবদেহে কষ্টকর লক্ষন তৈরি করিয়া থাকে? কিভাবে হাজার হাজার মানুষ হোমিওপ্যাথি সেবন করিয়া সুস্থ হইতেছে? কেন কিছু কিছু প্রতিষ্ঠিত এলোপ্যাথি ডাক্তার এলোপ্যাথি ছাড়িয়া দিয়া হোমিওপ্যাথিতে চলিয়া আসিতেছেন? একজনও হোমিওপ্যাথি ডাক্তার তো কোনদিন হোমিওপ্যাথি ছাড়িয়া এলোপ্যাথিতে চলিয়া গিয়াছে বলিয়া শুনিতে পাওয়া যায় না। 

মাটি কেন জলে ভাসিল - এই প্রশ্নের উত্তর ঐ নৌ-বিজ্ঞানী দিতে বাধ্য নহে। সে মাটি জলে ভাসাই দেখাইয়াছে -ইহাই সত্য । মানুষ তাহাতে চড়িয়া নদী পারাপার হইতে পারিতেছে -ইহাই সত্য। তদনুরুপ হোমিওপ্যাথি ঔষধের মধ্যে মূল পদার্থের অস্তিত্ব কোথায় - এই প্রশ্নর উত্তর দেওয়া হোমিওপ্যাথি ডাক্তার কিংবা হোমিওপ্যাথি আবিস্কারকের কোন মাথাব্যথা, ইচ্ছে, সময় কিংবা দায়বদ্ধতা নাহি। হোমিওপ্যাথি ঔষধ মানব শরীরে রোগ-লক্ষন উৎপন্ন করিয়া আবিষ্কৃত হইতেছে -ইহাই সত্য । কুকুরে কামড়ানো, সাপে কাটা এবং বিষ খাওয়া সহ কিছু বড় রকমের সার্জিক্যাল ক্ষেত্র ব্যাতিরেক ইন্টারনাল ভাবে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কোন বিকল্প নাহি - ইহাই সত্য। 

বিজ্ঞান তো যুক্তিবাদী হইতে শিখায় মানুষকে, তাহা হইলে বিজ্ঞান পড়িয়া আপন কর্ম জলাঞ্জলি দিয়া হোমিওপ্যাথির পশ্চাতে লাগিয়া রহিয়াছে - বে-যৌক্তিক ভাবে উপরিউক্ত মন্তব্যগুলি করিতেছে, উহারা কাহারা ? পাগল, আধ-পাগল নাকি আধা-মানুষ ? চিৎকার করিতেছ যে, মাটি কেন জলে ভাসিল ? আরে মূর্খ ,মাটি কেন জলে ভাসিল - না বলিয়া চাহিয়া দেখ মাটি-ই জলে ভাসিল ।
বিস্তারিত

Wednesday, June 27, 2018

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি (Potency) সম্পর্কে যা মনে রাখতে হবে

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় শুধুমাত্র ওষুধ নির্বাচন সঠিক হলেই হবে না, ওষুধের শক্তি নির্বাচনও সঠিক হওয়া চাই নয়তো আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। চিকিৎসক বিভ্রান্ত হয়ে ঔষধ পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু হয়তো ঔষুধ নির্বাচন সঠিক ছিল।

অভিজ্ঞ চিকিৎসক মাত্রেই জানেন যে ঔষধের শক্তি সমন্ধে কোনো নিদির্ষ্ট নিয়ম নাই। কোন চিকিৎসক গর্বের সঙ্গে প্রথম থেকেই উচ্চ শক্তি ব্যবহার করেন, কোনো চিকিৎসক নিম্নশক্তি থেকে শুরু করেন, কোনো চিকিৎসক আবার বাঁধাগতে ২০০ শক্তি ব্যবহার করেন। এই সকল পদ্ধতিই ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাত দুষ্ট। পক্ষপাতিত্ব হোমিও চিকিৎসার অন্তরায় একথা ওষুধের ক্ষেত্রে যেমন সত্য,ওষুধের শক্তি সমন্ধেও সমানভাবে সত্য।  তাহলে ওষুধের শক্তি নির্বাচন করবেন কিভাবে আসুন দেখে নেওয়া যাক-
হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি সম্পর্কে যা মনে রাখতে হবে

রোগভোগকাল

এই বিষয়টিকে গভীর ভাবে বিবেচনা করতে হবে। রোগ যত পুরাতন হবে ওষুধের শক্তিও ততই উচ্চ হবে। যেমন ধরুন আপনি একটি রুগী পেলেন যে বাতের ব্যাথায় তিনমাস ভুগছে,আবার আরেকটি রুগী পেলেন যে দুবৎসর যাবৎ বাতের ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে, আপনি যখন লক্ষনসমষ্টি সংগ্রহ করলেন দেখা গেলো উভয়ের ওষুধ ব্রায়োনিয়া। এখন কি আপনি উভয়কেই একই শক্তির ওষুধ দেবেন? তাতে কি আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে? বিবেচনা করে দেখুন।

আবার রোগের ভোগকাল সম্বন্ধেও যথেষ্ট বিবেচনা থাকা দরকার। কারন এসমন্ধে ধারণা করা নিতান্ত কঠিন কাজ এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ধরুন আপনি কোনো শিশুর চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখলেন শিশুর বয়স মাত্র ৬ মাস, এবং সে জন্মের কিছুদিন পর থেকেই ভুগছে, এখন আপনি কি বিবেচনা করবেন? রোগ ভোগকাল ৬ মাস? খোঁজ নিলে দেখা যাবে ওই রোগটি তার শরীরে বাবা অথবা দাদার কাছ থেকে বংশানুক্রমে প্রবহমান। এক্ষেত্রে উচ্চশক্তি ছাড়া ফল পাওয়া দুস্কর।

রোগের প্রকোপ

এটা হলো শক্তি নির্বাচনের দ্বিতীয় কথা, রোগ শুধু কতদিনের পুরানো এটা দেখলেই চলবে না, রোগের প্রকোপ রোগীর শরীরে কেমন সেটাও বিবেচনা করতে হবে। যেমন ধরেন কোনো রোগী আপনার কাছে চিকিৎসার জন্য আসলো আপনি জানতে পারলেন রোগী ৫ বৎসর বাতের ব্যাথায় ভুগছে চিকিৎসাও চলছে হঠাৎ রোগ খুব বেড়ে যাওয়ায় আপনার কাছে এসেছে। আপনি এখন কি করবেন রোগ পুরাতন এই জন্য উচ্চশক্তি দেবেন? না লক্ষণ সংগ্রহ করে যে ওষুধ নির্বাচিত হবে তার নিম্নশক্তি অথবা মধ্যম শক্তি প্রয়োগ করে রোগীর যন্ত্রনা কমাতে হবে, তারপর উচ্চশক্তি দিয়ে রোগ নির্মূল করে ফেলতে হবে। 

এইরকম ক্ষেত্রে অনেকসময় তরুণ ওষুধ (Aconite, Belledona) নির্বাচিত হয়ে থাকে, এরকম ক্ষেত্রে যে ওষুধ নির্বাচিত হবে তাই প্রয়োগ করতে হবে তাতেই রোগযন্ত্রণা কমবে। তারপর পুনরায় রোগলক্ষন সংগ্রহ করে পুরাতন দোষের ওষুধ নির্বাচন করতে হবে। 

রোগীর স্বাস্থ্য

হোমিও চিকিৎসায় ওষুধের শক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রোগীর জীবনীশক্তির অবস্থ্যা কেমন সেটা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার কারণ যেখানে রোগীর রোগের সাথে যুঝবার শক্তি নেই, সেখানে ভুল শক্তির একটি মাত্রাই বিপদজনক হয়ে ওঠে।  রোগ ভীষণাকার ধারণ করে রোগীকে ভীষণ কষ্ট দিতে পারে। যদি দেখেন কোনো রোগির জীবনীশক্তি এতো অল্প যে রোগের সাথে যুদ্ধ করবার শক্তি তার নেই। তখন লক্ষণ সংগ্রহ করে রোগীর কষ্ট যাতে কম হয় সেইমতো নিম্নশক্তির ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত। হোমিওপ্যাথির ভাষায় একে বলে উপশমভিত্তিক চিকিৎসা।

মনে রাখবেন রোগীর স্বাস্থ্য যেখানে দুর্বল সেখানে ৩০শ শক্তিও যথেষ্ট উচ্চশক্তি এবং আবার রোগী যখন জীবনীশক্তিতে ভরপুর তখন 1M শক্তিও নিতান্ত নিম্নশক্তি বলে প্রতিপন্ন হয়। সুতরাং এ বিষয়ে বিশেষ সাবধান!

এবিষয়ে আরেকটি কথা বলা দরকার সেটি হল অপারেশন রোগি। এলোপ্যাথি চিকিৎসকগণ ছুরি চালানোয় সিদ্ধহস্ত। তারা ওষুধ দ্বারা কোনো রোগ কমাতে না পারলেই রোগীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে অপারেশন করে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গটিকে নির্দ্বিধায় বাদ দিয়ে দেন। তাতে লাভ কি হয় ? রোগীর আরোগ্যের আশা চিরকালের মতো বিলুপ্ত হয়ে যায়। আপনি যদি এমন কোনো রোগিপান যার কোন অঙ্গ প্রতঙ্গ অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং তার দেহে নির্বাচিত ওষুধের কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দেখা যায় তাহলে সময় নষ্ট না করে তাকে উপশম ভিত্তিক চিকিৎসা দেন এবং রোগীকে জানিয়ে দেন তার স্থায়ী আরোগ্য সম্ভব নয় উপশম ভিত্তিক চিকিৎসাতেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। 

এ বিষয় কয়েকটি মাথায় রাখলেই ওযুধের শক্তি নির্বাচন করা সহজ হবে, এছাড়া আপনি যত অভিজ্ঞ হবেন ততই এ বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করবেন, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে - ওষুধের শক্তি সমন্ধে আরেকটি শেষ কথা প্রফেসর জর্জ ভিথুলকাসের মতে -

কোন রোগীর সাথে কোন ওষুধের চিত্র যদি সম্পূর্ণ মিলে যায় তাহলে ওই রোগীর ক্ষেত্রে ঐ ওষুধের নিম্নক্রম ব্যবহার রোগীর পক্ষে বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সুতরাং সাবধান।
তবে আপনি যদি ষষ্ঠ সংস্করণের ঔষধ ব্যবহার করেন তাহলে এগ্রাভেশন এড়ানোর জন্য নিম্নক্রম থেকে শুরু করে একসময় পাওয়ার জাম্প করতে পারেন।
বিস্তারিত

Thursday, April 5, 2018

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা, চিকিৎসা বই PDF Free Download

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা pdf free download, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই pdf. ইন্টারনেট থেকে অনেকেই হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকাসহ অন্যান্য হোমিও চিকিৎসা বই pdf আকারে ডাউনলোড করতে চান। যারা এমনটি করতে চান তাদের ৮০% ই ঘরে বসে ডাক্তারি বিদ্যা অর্জন করতে চান। কিছু মানুষ আছে যারা বই দেখে বা ঔষধ কোম্পানির তৈরী করা ঔষধের বিবরণ দেখে দেখে ঔষধ খেয়ে খেয়ে নিজের বারোটা বাজাবে অথচ ডাক্তারের কাছে যাবে না। এই প্রকারের লোকজন খুব বেশি স্বাস্থ ঝুঁকিতে পড়ে।

তাদের হয়তো জানা দরকার হোমিওপ্যাথি আর এলোপ্যাথি এক জিনিস নয়। আর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পারসন টু পারসন ভেরি করে। তাই কখন, কোন অবস্থায়, কার জন্য কোন ঔষধটি এবং ঔষধের কোন শক্তিটি দরকার এবং প্রপারলি চিকিৎসাটি কিভাবে দিতে হবে সেটা ভালোভাবে বুঝতে পারেন একজন রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক।
কিন্তু আমাদের দেশে এমন অনেক পাবলিক আছে যারা বই দেখে হোমিও চিকিৎসা দেয়। কিছু কিছু লক্ষণ সাদৃশ্যের কারণে দু'একটি ক্ষেত্রে কিছু তরুণ রোগ ভালো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের প্রয়োগকৃত ঔষধ কাজই করছে না আর ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রেতো কথাই নেই। আর তখন সব দোষ হোমিওপ্যাথির। তখন তারা হোমিওপ্যাথির চৌদ্দগুষ্ঠিকে উদ্দার করতে দ্বিধাবোধ করেন না। অথচ নিজে একবারও চিন্তা করেন না যে তিনি যা করছেন সেটা একজন রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের কাজ, যিনি বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে এবং সাধনা করে জ্ঞান লাভ করেছেন।

এই কথাগুলি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা প্রয়োজন ছিল বলেই বললাম। এবার আসুন মূল বিষিয়ে।  এই আধুনিক যুগে অনেক হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের স্টুডেন্টরাও ইন্টারনেট থেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই pdf আকারে সংগ্রহ করে থাকেন পড়াশোনা করার জন্য। এটা তাদের ক্ষেত্রে কাজে লাগে পুরুপুরিই। কিন্তু অধিকাংশ বই আপনি বিনা মূল্যে পাবেন না। কিছু কিছু বই হয়তো ফ্রি পেতে পারেন যা সময়ে সময়ে আপনার কাজে লাগতে পারে। তাই যারা স্টুডেন্ট তারা এই লিংক >>> থেকে কিছু ফ্রি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই  পিডিএফ (PDF) আকারে ডাউনলোড করে নিয়ে পারেন। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

Tuesday, March 20, 2018

বাংলদেশের প্রেক্ষাপটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এবং বাস্তবতা

আমাদের দেশের অনেক শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও একটা ধারণা রয়েছে যে, হোমিও ডাক্তাররা ২০ টাকা ৩০ টাকার ট্রিটমেন্ট দিবেন আর Impotence, kidney failure, liver cirrhosis বা liver cancer, Ovarian cancer, Ovarian cyst ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষরা তাতেই ভালো হয়ে যাবেন। অথচ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই গুলির চূড়ান্ত কোনো কার্যকর ট্রিটমেন্টই নেই ।

দেখা যায় অনেকে জটিল রোগসমূহের ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথি ট্রিটমেন্ট নিতে নিতে নিজের জায়গা সম্পত্তি, ঘর বাড়ি বিক্রি করে নিঃস হয়ে শেষে হোমিও ডাক্তারদের কাছে আসেন। অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ওই ট্রিটমেন্টগুলি নিতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাখ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায় অথচ রোগীরা তখন কিছুই বলেননা কারণ অ্যালোপ্যাথরা ডাক্তার কিন্তু যখন এতো টাকা খরচ করার পরেও কোন ফল না পেয়ে অবশেষে কোন হোমিও ডাক্তারের কাছে আসেন তখন হোমিও ডাক্তার যদি রোগীর ক্রিটিকাল অবস্থার আলোকে বিশুদ্ধ বিদেশী ঔষধ দিয়ে ট্রিটমেন্ট দেন এবং তার জন্য কয়েক মাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে মাত্র ২'০০০ থেকে ৩'৫০০ (দুই থেকে তিন হাজার) টাকা খরচ পড়ে তখন মনে হয় হোমিও ডাক্তাররা প্রতারক, তারা খারাপ, তারা ঠক, তারা কেন ২'০০০ টাকা নিবেন ? তাদের ২'০০০ টাকা নেয়ার অধিকার কি ???? অথচ এখানে ঔষধের বাজার মুল্য রয়েছে, সাথে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের ক্রেডিটও রয়েছে যেটা অর্জন করতে তার বছরের পর বছর সময়ে লেগেছে - এই বিষয়টি কেউ চিন্তাও করেন না।
আসলে হোমিও ডাক্তার না ডাক্তার না !!!! এই আধুনিক যুগেও এটাই ধারণা এক শ্রেনীর মানুষের মধ্যে।

যারা এইরূপ ধারণা করেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি 

আমরা দেখেছি অনেকেই বিষয়টি না জেনে এই রকম ধারনা করেন। তার বেশ কিছু কারণও আছে। আজ একটা কমেন্ট দেখলাম যিনি এই আধুনিক যুগেও হোমিও ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই রাখেন না (হোমিও ঔষধ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখেন) কিন্তু বিস্তৃত বিষয়টা না বুঝেই একটা মন্তব্য করে বসলেন । আমরা বলব না যে, এটা তার দোষ। বিরোধী পক্ষের অপপ্রচার আর কতিপয় অসাধু হোমিও ডাক্তার ও কিছু অসাধু হোমিও ঔষধ ব্যবসায়ীদের ফলেই মানুষের মনে এমন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আজ এই নোটটি লিখলাম।
বিখ্যাত ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক এবং বিশেষজ্ঞ ডঃ মাইকেল ব্রুক্সের মতে, ফ্রান্সের ৪০ শতাংশ চিকিৎসক হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করেন৷ ব্রিটেনে ৩৭ শতাংশ এবং জার্মানির ২০ শতাংশ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক নিজেদের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির ব্যবহার করেন ৷ ১৯৯৯ সালে চালানো এক সমীক্ষা অনুযায়ী, হোমিপ্যাথির জন্য কোনও বিমা পরিষেবা না থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার ৬০ মিলিয়ন মানুষ তখন হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করত৷ তাদের সংখ্যা এখন আরও অনেক বেড়ে গেছে৷
আগে লিংকটাতে ভিসিট >>> করে আর্টিকেলটা যদি একবার পড়ে নেন আশা করি বিষয়টা বুঝতে আপনাদের আরো সুবিধা হবে।

মনে রাখা উচিত অ্যালোপ্যাথি আর হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার মধ্যে পার্থক্য হলো শুধু মেডিসিনের প্রয়োগ। হোমিওপ্যাথির DHMS ডিগ্রী নিতে হলেও আপনাকে ৪ বছর পড়াশোনা করতে হবে তারপর আবার ইন্টার্নি রয়েছে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের তথ্যানুসারে দেশে DHMS করার জন্য প্রায় ৭০টিরও বেশি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। ৪/৫ বছর পড়াশোনা করে ডিগ্রী নিলেই আপনি হোমিও ডাক্তার হয়ে যাবেন কাগজে কলমে কিন্তু আপনাকে একজন যথার্থ হোমিও ডাক্তার হতে আরো ৮-১০ বছর চেষ্টা চরিত্র করতে হবে। আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন সেটাই বাস্তবতা।
বাংলদেশের প্রেক্ষাপটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এবং বাস্তবতা
এমন অনেক হোমিও ডাক্তারদের আমরা দেখেছি যারা অনেক সময় রোগীদের চেহারা দেখেই ট্রিটমেন্ট দিয়ে দেন এবং রোগীরাও সুস্থ হয়ে উঠেন। আবার এমন ডাক্তারও রয়েছেন তারা রোগীদের ২/১ প্রশ্ন করেই বুঝে ফেলেন সমস্যাটি কোথায় তখন বিস্তর কোন প্রশ্ন করেন না। আল্লাহ পাকএকেক জন ডাক্তারকে একেক রকম ভাবে হাতযস দিয়েছেন।

হোমিও ঔষধ প্রসঙ্গে

লিকুইড হওয়ার কারণে বাংলাদেশী ঔষধ ব্যবসায়ীদের কাছে বিশুদ্ধ ঔষধটা পেতে বেশ কষ্ট হয়ে যায়। এই কারণে আমরা সরাসরি জার্মানি থেকে আমদানিকৃত পেটেন্ট মেডিসিন ফাইল ক্রয় করে থাকি যাতে বিশুদ্ধতা নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ না থাকে। তাই সরাসরি আমরা প্রেসক্রিপসন না করে রোগীদের ক্ষেত্রে আমাদের ক্রয়কৃত বিদেশী এবং বিশুদ্ধ ঔষধগুলি দিয়ে ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকি।জেনে রাখা ভালো, এখন হোমিও ঔষধের মুল্যও অনেক বেশি।

আপনারা অনেক হোমিও ডাক্তারই পাবেন, তারা আপনাকে বলে দিবে কি কি ঔষধ খেতে হবে। তাদের কাছ থেকে ট্রিটমেন্ট নিয়ে একবার দেখতে পারেন আপনার জটিল রোগ আদৌ সারে কি না। যাদের ঔষধের নাম দরকার তারা ঔসব হোমিও ডাক্তারদের কাছে যাবেন। কিন্তু আমাদের কাছে (আধুনিক হোমিওপ্যাথি) তে কেউ চিকিত্সা নিতে আসলে আমরা প্রেসক্রিপসন না করে সরাসরি আমাদের ক্রয়কৃত বিদেশী ঔষধ দিয়ে ট্রিটমেন্ট দেই। কারণ জটিল রোগীদের পর্যবেক্ষণে রেখে হোমিও ট্রিটমেন্ট দিতে হয়।

তাছাড়া আমরা এমন এক দেশে বাস করি ভাই, যেখানে রোগীরা যে, ঔষধটা একটা দোকান থেকে কিনবেন সেটা বিশুদ্ধ কি না তার কোনো নিশ্চিয়তা নেই। দেখা যায় একজন অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার খুব ভালো মানের ট্রিটমেন্ট দেয়া সত্তেও শুধু মাত্র তার করা প্রেসক্রিপসন অনুসারে ভেজাল মেডিসিন কিনে খাওয়ার কারণে রোগীরা ভালো হচ্ছেন না, আর সাথে সাথে ঐ ডাক্তারের গুষ্ঠিশুদ্ধ উদ্ধার করতেও রোগীরা তখন কার্পন্য করেন না। তাই আমরা সেই রিস্ক নিতে মোটেও রাজি নই।

আমাদের সম্মানিত হিতাকাঙ্ক্ষী বৃন্দ

আমরা হোমিও ডাক্তার, অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তার এবং জটিল রোগীদের ট্রিটমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্থানি হোমিও গবেষকদের উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক হোমিও কম্বাইন রুলস ফলো করতেও মাঝে মাঝে দ্বিধা করি না। তাই অনলাইনে প্রেসক্রিপসন না করে আমরা সরাসরি ট্রিটমেন্ট দেই। আর বিগত ২০০৭ সাল থেকে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের হাজার হাজার রোগীদের প্রপার ট্রিটমেন্ট দিয়ে সুস্থ করেছি। আমাদেরকে অভিজ্ঞতাও আল্লাহ পাক কম দেন নি। তাই আপনাদের জটিল রোগসমূহ নিয়ে আমাদের কাছে আসলে এই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি যে আপনারা অন্তত সুচিকিৎসাটা পাবেন। কিন্তু আমরা আপনাকে ১০০% Guarantee দিতে পারব না এ জন্য যে, আমাদের কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতা নেই। তবে কারো রোগ সারিয়ে তাকে পুরিপূর্ণ সুস্থ করতে আমরা আমাদের সর্ব জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে আপ্প্রান চেষ্টা করে থাকি । 

আমরা ডাক্তার। আমরা খুব ভালো করি জানি, একজন ব্যক্তি তার জীবনের শেষ আশাটুকু নিয়ে বাচার জন্য অত্যন্ত বিপদে পড়ে সুস্থতা লাভের জন্য একজন ডাক্তারের নিকট আসেন। আর একজন ব্যক্তি তার একটা সমস্যা নিয়ে বার বার আমাদের কাছে আসুক এটা আমাদের নীতি বিরুদ্ধ, এবং ডাক্তার হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জাকরও বটে।

দেশে হোমিও চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের বিষয়

আগেই বলেছি হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা সম্পর্কে ফেসবুকে কয়েকজন ভাইয়ের কমেন্টস দেখেই আজকের নোটটি লিখতে বসেছি। এও বলছি আমাদের দেশের অনেকেই হোমিও ডাক্তারদের ডাক্তার মনে করেন না। যদিও এটা তাদের দোষ নয়। এটা পুঁজিবাদী অ্যালোপ্যাথি লবীর অপপ্রচারের ফসল। যাই হোক আমাদের দেশে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা সংক্রান্ত খরচ সম্পর্কে মাত্র একটা উদাহরণ দিয়ে কিছুটা ধারণা দিব এখন।

আমাদের দেশে এমন হোমিও ডাক্তারও রয়েছেন তারা জটিল ব্যাধিসমূহের যেমন- পুরুষত্বহীনতা, লিভার ক্যান্সার, জরায়ুর ক্যান্সার ইত্যাদির ট্রিটমেন্ট করতে গিয়ে ১ মাসের চিকিৎসা ব্যয় বিশ হাজার (২০'০০০) টাকা করে নিয়ে থাকেন । কিন্তু আধুনিক হোমিওপ্যাথিতে  ট্রিটমেন্ট নিতে আসলে এই সকল জটিল রোগের ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে ২-৪ মাস সময় কালের চিকিত্সায় প্রতি মাসে ১৮০০ থেকে ৪০০০ টাকা (রোগের তীব্রতা এবং ঔষধের মুল্য অনুসারে) খরচ হয়ে থাকে । আবার সাধারণ রোগ ব্যাধির ক্ষেত্রে ৫০-৩০০ টাকার ট্রিটমেন্টও আমরা দিয়ে থাকি সেটা আমাদের শুভাকাঙ্খীরা বেশ ভালো করেই জানেন।

কিন্তু আমাদের সেবা যদি আপনাদের ভাল না লাগে, ভাই তাহলে আপনাদের পছন্দনীয় ডাক্তারদের কাছে যাবেন, আর সেই স্বাধীনতাও রয়েছে আপনাদের। কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা সম্পর্কে না জেনে না বুঝে অনর্থক আজে বাজে মন্তব্য করাটা আদৌ কি উচিত? আজ অন্য একটি স্টেটাসে কয়েকজন ভাইয়ের কমেন্টস দেখে এই NOTE টি লিখতে বাধ্য হয়েছি। তারা হয়তো হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা রাখেন না অথবা হোমিওপ্যাথি চিকিত্সার ঘোর বিরোধী। কিন্তু বিষয় যাই হোক - যারা হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে জানেন তারা সর্বদাই হোমিও ট্রিটমেন্টই নিবেন এবং অন্য কোথাও যাবেন না, সেটাও আমরা ভালো করে জানি।

দেশে একটা সমন্মিত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন

আর আমরা এটাও বলছি না হোমিওপ্যাথিই একমাত্র চিকিত্সা। হোমিওপ্যাথি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অল্টারনেটিভ ট্রিটমেন্ট প্রসেস। আমরা খুব ভালো করেই জানি প্রতিটা চিকিত্সা পদ্ধতিরই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটা অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনি হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু জটিল রোগসমূহ রুট লেভেল থেকে নির্মূল করে রোগীকে পরিপূর্ণ আরোগ্য করার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিতে ভালো এবং সর্বাধিক কার্যকর ট্রিটমেন্ট রয়েছে যা অ্যালোপ্যাথিতে ততটা কার্যকর হয় না অন্যদিকে একজন মৃত্যু পথযাত্রী রোগীকে তাত্ক্ষণিক ট্রিটমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথির কোনো বিকল্প দেখি না। আবার দুর্ঘটনায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির অঙ্গবিকৃতি ঘটলে সে ক্ষেত্রে সার্জারীর দরকার হয়ে পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক চিকিত্সাও ভালো ফল দেয়।

আমাদের সম্পর্কে যে যাই বলুক একটা কথা আমরা সরাসরি বলি - আমরা গোড়া ডাক্তার নই, আমরা নিউ জেনেরেশন হোমিও ডাক্তার। আমরা প্রতিটি চিকিত্সা পদ্ধতির গুরুত্বই বুঝি। যদি সবগুলি চিকিত্সা পদ্ধতির সমন্ময়ে একটা কম্বাইন ট্রিটমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা যেত আমাদের বিশ্বাস, তাহলে মানুষ অন্তত যথাযথ চিকিত্সা সেবাটুকু পেত আর অযথাই জটিলরোগ সমূহ চিকিৎসায় দরিদ্র লোকদের ঘর বাড়ি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করার প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাদী লবী কখনই এ দেশে সেটা হতে দিবে না।
বিস্তারিত

Sunday, February 18, 2018

বাংলাদেশে পেশা বা ক্যারিয়ার হিসেবে হোমিওপ্যাথি

প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বিশ্ব। তারই ধারাবাহিকতায় নব নব পেশার সম্মিলন ঘটে চলেছে আমাদের চারপাশে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আধুনিতাকে স্বাগত জানিয়ে থাকে। ফলে আধুনিকতা সমৃদ্ধ পেশার চাহিদা সবসময়ই বৃদ্ধির পথে। সারাবিশ্বে আধুনিকতার উন্নয়নের সাথে সাথে এমন অনেক পেশা রয়েছে যাদের চাহিদা বিন্দুমাত্র হরাস পায়নি। হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার তার মধ্যে অন্যতম। হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা অর্জন করেই হতে হয় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার।

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেই হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সার যথেষ্ট কদর রয়েছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। ফলে এ সংক্রান্ত চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করতে আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ রয়েছে। চিকিত্সাশাস্ত্রের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হোমিও চিকিত্সা। এই চিকিত্সা যারা প্রদান করেন তাদেরকেই মূলত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

বাংলাদেশে হোমিও চিকিত্সার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প খরচে চিকিত্সা সেবা প্রদানের কারণে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াবিহীন চিকিত্সার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ হোমিও চিকিত্সার উপর নির্ভরশীল। ফলে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলে আজীবন উপার্জন করা সম্ভব। বরং এই পেশার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এই পেশাতে নিয়োজিত ডাক্তারদের যত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে ততই আয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি হোমিও চিকিত্সকরা আজীবন চিকিত্সা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে যেতে সক্ষম।

সুবিধা:- হোমিও চিকিত্সক হিসেবে ডিএইচএমএস কোর্স (ডিপ্লোমা) এবং বিএইচএমএস কোর্স (ডিগ্রি) সম্পন্নকারীরা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে সরকার কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে সারাদেশে হোমিও চিকিত্সা প্রদান করতে পারেন। এ ছাড়াও শিক্ষাসম্পন্নকারীরা সরকার কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ পেতে সক্ষম। বাংলাদেশের ১৫ কোটি জনগোষ্ঠীকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিত্সা কার্যক্রমের আওতায় আনা এখনও সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। ফলে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে সারা দেশব্যাপী।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা সংক্রান্ত পড়ালেখা সম্পন্ন করার পর হোমিও ডাক্তার হিসেবে প্রত্যেকেই একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর অর্জন করে। যার ফলে সরকারি চাকরির উপর নির্ভরশীল না হয়ে বেশিরভাগই স্ব উদ্যোগে চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিত হয়ে থাকেন। এই পেশাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হচ্ছে, একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে নিজ সুবিধাজনক স্থানে চিকিত্সা সেবা শুরু করতে সক্ষম। এই পেশাতে সদ্য পাশ করা একজন ডাক্তার প্রাথমিকভাবে প্রতিমাসে ৮-১৫ হাজার টাকা উপার্জন করেত সক্ষম হয়ে থাকে।
তবে এই পেশাতে যোগ্যতার দাম অনেক বেশি। একজন রোগীকে ডাক্তার হিসেবে কত দ্রুত সুস্থ করতে পারেন অর্থাত্ হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় একজন চিকিত্সকের হাতের যশের উপর নির্ভর করে উপার্জনের পরিমাণ। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে পারে একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকের প্রতিমাসের উপার্জনের পরিমাণও। অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণের মাধ্যমে চিকিত্সায় সফল একজন চিকিত্সকের প্রতিমাসের বেতন ১৫-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ক্যারিয়ার হিসেবে যে কেউ এই পেশাকে গ্রহণ করতে পারেন। সেই সাথে দেশের চিকিত্সা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন।

কোর্স ও পড়ালেখা:- বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২টি শিক্ষা কোর্স ও একটি ট্রেনিং কোর্স চালু আছে। শিক্ষা কোর্স হলো- ১. ডিপ্লোমা কোর্স ও ২. ডিগ্রি কোর্স এবং ডিএইচএমএস প্রাপ্ত উচ্চতর প্রশিক্ষণদানের জন্য আছে ১ বছর মেয়াদি পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথি কোর্স। এখানে দিবা ও নৈশ বিভাগ নামে দুটি বিভাগ রয়েছে। দিবা বিভাগের অধীনে ডিপ্লোমা কোর্স (ডিএইচএমএস) ও ডিগ্রি কোর্স (বিএইএমএস) এবং ট্রেনিং কোর্স রয়েছে। আর নৈশ বিভাগে রয়েছে ডিপ্লোমা কোর্স (ডিএইচএমএস)।

ডি.এইচ.এম.এস. কোর্স:- ডি.এইচ.এম.এস (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্স ৪ বছর মেয়াদি এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। কোর্স শেষে ৬ মাস ইন্টার্নি করতে হয়। এই কোর্সে দিবা ও নৈশ বিভাগের যেকোনো বিভাগে ভর্তি হওয়া যায়।

ভর্তির যোগ্যতা:- স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যেকোনো শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় (যেকোনো গ্রুপে) উত্তীর্ণ হতে হবে। উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

বি.এইচ.এম.এস. কোর্স:- বি.এইচ.এম.এস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্স ৫ বছর মেয়াদি এবং ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে কার্যকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএইচএমএস কোর্সের নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোর্স শেষে ১ বছর ইন্টার্নি করতে হয়।

ভর্তির যোগ্যতা:- স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেক এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান গ্রুপে (প্রি-মেডিকেল) চলতি বছরে উত্তীর্ণ হতে হবে।

পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথি (পিডিটি হোম):- ডিএইচএমএস প্রাপ্ত ডাক্তারদের উন্নত শিক্ষা ও ট্রেনিং দেয়ার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিতে দক্ষ প্র্যাকটিস উত্সাহিত করা, হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা বিজ্ঞানে সকল বিষয়ে পোস্ট ডিপ্লোমা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা, হোমিও প্র্যাকটিশনারদের জন্য অব্যাহত মেডিকেল শিক্ষা এর সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই প্রধানত পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথিক কোর্স চালু করা হয়েছে। 

ভর্তি যোগ্যতা:-
  • হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ৪ বছর অধ্যয়ন শেষে ডিএইচএমএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ৬ মাসের ইন্টার্নি সমাপ্ত করতে হবে। 
  • ডিএইচএমএস পাস করার পর ২ বছর অতিবাহিত হতে হবে এবং হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে প্র্যাকটিশনার রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হতে হবে। পল্লী এলাকায় কাজ করেছেন বা কর্মরত আছে এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। 
  • ডিএইচএমএস কোর্স অধ্যয়নকালে কোনো ব্রেক অব স্টাডি থাকা চলবে না।
আমাদের দেশে চাকরির পদের তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা দিন দিনই বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ফলে প্রতিবছরই ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। বাস্তবতার নিরীক্ষে বাংলাদেশে প্রয়োজন বিশেষায়িত শিক্ষার। যার মাধ্যমে শিক্ষা সম্পন্ন করার পরপর কেউ যেন চাকরির পিছনে না ছুটে স্বনির্ভরতার সাথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় ডিপ্লোমা/ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ হোমিও চিকিত্সক রূপে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। হোমিও চিকিত্সায় নিয়োজিত হলে এবং সফলভাবে চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হলে আপনার ক্যারিয়ার আজীবন সচল থাকবে কোন বিরতি ছাড়াই। 

বাংলাদেশে অগনিত মানুষ রয়েছে যারা কেবলমাত্র হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করে থাকে। অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে৷ আগে তো অ্যালোপ্যাথিকের বিখ্যাত ডাক্তারও হোমিওপ্যাথিকে সম্বল করে নানা সময় চিকিৎসার কাজ করেছেন৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷

আবু-ধাবি, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, বেলজিয়াম, চিলি, সাইপ্রাস, কানাডা, কোস্টারিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মিশর, ফিজি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, জার্নি, গায়না, হল্যান্ড, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইজরায়েল, ইতালি, ভারত, বাংলাদেশ, জাপান, কেনিয়া, লিথুয়ানিয়া, মেক্সিকো, মরিশাস, মালেশিয়া, নাইজিরিয়া, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পর্তুগাল, পানামা, ফিলিপিন্স, কাতার, রাশিয়া, রোমানিয়া, সু্যইজারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, স্পেন, তাইওয়ান, ব্রিটেন এবং ইউক্রেনের মতো দেশে হোমিওপ্যাথি যথেষ্ট জনপ্রিয় ৷ বিখ্যাত ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক এবং বিশেষজ্ঞ ডঃ মাইকেল ব্রুক্সের মতে, ফ্রান্সের ৪০ শতাংশ চিকিৎসক হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করেন৷ ব্রিটেনে ৩৭ শতাংশ এবং জার্মানির ২০ শতাংশ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক নিজেদের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির ব্যবহার করেন৷ ১৯৯৯ সালে চালানো এক সমীক্ষা অনুযায়ী, হোমিপ্যাথির জন্য কোনও বিমা পরিষেবা না থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার ৬০ মিলিয়ন মানুষ তখন হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করত৷ তাদের সংখ্যা এখন আরও অনেক বেড়ে গেছে৷

লাভাঙ্কের দিক থেকে চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবসার এখন সুবর্ণ যুগ চলছে৷ স্বাস্হ্য পরিষেবা ইন্ডাস্ট্রি এখন বছরে ১৩ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং এটা এখন এক অত্যন্ত লাভজনক ইন্ডাস্ট্রি৷ কিন্তু ব্যবসার নেশায় মত্ত এই ইন্ডাস্ট্রি রোগিদের চিকিৎসার থেকে বেশি গুরুত্ব দিচেছ আর্থিক লাভাঙ্ককে৷ আমেরিকার মতো দেশে চিকিৎসা এবং ওষুধ মারাত্মকভাবে ব্যয়বহুল বলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ তো উপযুক্ত চিকিৎসাই পান না৷ সম্প্রতি মার্কিন হাউস নতুন একটা স্বাস্হ্য বিল পাস করেছে৷ এতদিন ধরে স্বাস্হ্য বিমার বাইরে থাকা নাগরিকদের বিমার আওতায় আনার জন্যই তাদের এই উদ্যোগ৷ কিন্তু মার্কিন যুত্তুরাষ্ট্রের অভিজাত লবি সেই বিলের তুমুল সমালোচনা করেছে৷ এরকম এক অবস্হায় যখন নিজেকে সম্বল করে হোমিওপ্যাথি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করছে, তখন অ্যালোপ্যাথি লবি তাকে ধবংস করার চেষ্টা করছে! ১৮৫৪ সালে লন্ডনে কলেরার মহামারী দেখা দিয়েছিল৷ তখন অ্যালোপ্যাথি ব্যবহারকারী রোগিদের মৃত্যুর হার ছিল ৫৩.২ শতাংশ, অথচ হোমিওপ্যাথি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ওই হার ছিল মাত্র ২৪.৪ শতাংশ! ১৮৯২ সালে জার্নির হামবুর্গে যে মহামারি দেখা দিয়েছিল, সেক্ষেত্রেও সমান পারদর্শিতার প্রমাণ রাখে হোমিওপ্যাথি৷ ১৯৬২-৬৪ সালে নিউ ইয়র্কে মহামারী রোধের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি কার্যকর ভূমিকা নিয়েছিল৷ আর ১৯১৮ সালে গোটা বিশ্বে ইনফ্লুয়েঞ্জার মহামারী প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির ভূমিকা কে ভুলতে পারে?

জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি৷ এর কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে৷ চর্মরোগ, যৌনরোগ, বাত, ক্যানসার, টিউমার, পেটের রোগ এবং শিশু ও মায়েদের বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি খুবই কার্যকর৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগিরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷

বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা সেবার উপর নির্ভরশীল। যার ফলশ্রুতিতে এই পেশাতে নিয়োজিত চিকিত্সকদের ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পেতে বেশিদিন প্রয়োজন হয় না। হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে স্বল্প ব্যায়ে এবং স্বল্পসময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক হিসেবে চিকিত্সা প্রদান করা সম্ভব। সেই সাথে দেশের স্বাস্থ্যখাতে সরাসরি অবদান রাখার পাশাপাশি নিজের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনয়ন সম্ভব। হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে সফল হতে আপনি যদি এই পেশাতে ভব্যিষতে কাজ করতে চান তবে অবশ্যই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
বিস্তারিত

Saturday, August 16, 2014

সমগ্র বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই হলো আদর্শ বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হা

"হোমিওপ্যাথিই আদর্শ বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হা" শিরোনামে বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করেছিলেন প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ ড. এ কে অরুণ, এম ডি (হোমিও) আর লেখাটি প্রকাশ করেছিল ভারতের বিখ্যাত দ্যা সানডে ইন্ডিয়ান পত্রিকা । সরাসরি লিংকটা আর্টিকেলটির নিচে পাবেন । তার আগে বিস্তারিত..................

গত কয়েক বছর ধরে গোটা বিশ্বের অ্যালোপ্যাথিক লবির বৈজ্ঞানিক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথির সমালোচনা করে চলেছেন ৷ গত সপ্তাহেই তো ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাশোসিয়েশন একে ‘ডাইনিবিদ্যা’ নাম দিয়েছে ! একে অবৈজ্ঞানিক বলে তারা ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্হ্য পরিষেবাকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাধীন ব্যত্তিদের চিকিৎসার খরচ বহন না করতে অনুরোধ জানিয়েছে ৷
সমগ্র বিশ্বে একমাত্র হোমিওপ্যাথিই হলো আদর্শ বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হা
অ্যালোপ্যাথিক লবি এর আগেও বহুবার হোমিওপ্যাথির বৈজ্ঞানিক গুরুত্বকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তার সমালোচনা করেছে ৷ ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট 'দ্য ল্যান্সেট' নামক ব্রিটেনের এক পত্রিকায় ‘দ্য এন্ড অফ হোমিওপ্যাথি’ শীর্ষক একটা বিতর্কিত নিবন্ধ ছাপা হয়েছিল ৷ তাতে দাবি করা হয়েছিল, হোমিওপ্যাথির নাকি শুশ্রূষাগত কোনও ক্ষমতা নেই৷ বিশ্বের বিভিন্ন চিকিৎসক এবং গবেষকরা ওই নিবন্ধের সমালোচনা করেছিলেন ৷ লোকে বলে, বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা হোমিওপ্যাথিকে বৈজ্ঞানিক এবং যুক্তিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্হা বলে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ কিন্তু অ্যালোপ্যাথিক লবির চাপে তারা সেটা এখনও ঘোষণা করেনি ৷
অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে ৷ আগে তো অ্যালোপ্যাথিকের বিখ্যাত ডাক্তারও হোমিওপ্যাথিকে সম্বল করে নানা সময় চিকিৎসার কাজ করেছেন ৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে ৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷
আবু-ধাবি, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, বেলজিয়াম, চিলি, সাইপ্রাস, কানাডা, কোস্টারিকা,ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মিশর, ফিজি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, জার্নি, গায়না, হল্যান্ড, হাঙ্গেরি,আয়ারল্যান্ড, ইজরায়েল, ইতালি, ভারত, জাপান, কেনিয়া, লিথুয়ানিয়া, মেক্সিকো, মরিশাস,মালেশিয়া, নাইজিরিয়া, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পর্তুগাল, পানামা, ফিলিপিন্স, কাতার,রাশিয়া, রোমানিয়া, সু্যইজারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, স্পেন, তাইওয়ান, ব্রিটেন এবং ইউক্রেনের মতো দেশে হোমিওপ্যাথি যথেষ্ট জনপ্রিয় ৷ বিখ্যাত ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক এবং বিশেষজ্ঞ ডঃ মাইকেল ব্রুক্সের মতে, ফ্রান্সের ৪০ শতাংশ চিকিৎসক হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করেন৷ ব্রিটেনে ৩৭ শতাংশ এবং জার্মানির ২০ শতাংশ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক নিজেদের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির ব্যবহার করেন ৷ ১৯৯৯ সালে চালানো এক সমীক্ষা অনুযায়ী, হোমিপ্যাথির জন্য কোনও বিমা পরিষেবা না থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার ৬০ মিলিয়ন মানুষ তখন হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করত৷ তাদের সংখ্যা এখন আরও অনেক বেড়ে গেছে৷

লাভাঙ্কের দিক থেকে চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবসার এখন সুবর্ণ যুগ চলছে ৷ স্বাস্হ্য পরিষেবা ইন্ডাস্ট্রি এখন বছরে ১৩ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং এটা এখন এক অত্যন্ত লাভজনক ইন্ডাস্ট্রি ৷ কিন্তু ব্যবসার নেশায় মত্ত এই ইন্ডাস্ট্রি রোগিদের চিকিৎসার থেকে বেশি গুরুত্ব দিচেছ আর্থিক লাভাঙ্ককে৷ আমেরিকার মতো দেশে চিকিৎসা এবং ওষুধ মারাত্মকভাবে ব্যয়বহুল বলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ তো উপযুক্ত চিকিৎসাই পান না ৷ সম্প্রতি মার্কিন হাউস নতুন একটা স্বাস্হ্য বিল পাস করেছে ৷ এতদিন ধরে স্বাস্হ্য বিমার বাইরে থাকা নাগরিকদের বিমার আওতায় আনার জন্যই তাদের এই উদ্যোগ ৷ কিন্তু মার্কিন যুত্তুরাষ্ট্রের অভিজাত লবি সেই বিলের তুমুল সমালোচনা করেছে৷ এরকম এক অবস্হায় যখন নিজেকে সম্বল করে হোমিওপ্যাথি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করছে, তখন অ্যালোপ্যাথি লবি তাকে ধবংস করার চেষ্টা করছে! ১৮৫৪ সালে লন্ডনে কলেরার মহামারী দেখা দিয়েছিল ৷ তখন অ্যালোপ্যাথি ব্যবহারকারী রোগিদের মৃত্যুর হার ছিল ৫৩.২ শতাংশ, অথচ হোমিওপ্যাথি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ওই হার ছিল মাত্র ২৪.৪ শতাংশ ! ১৮৯২ সালে জার্নির হামবুর্গে যে মহামারি দেখা দিয়েছিল, সেক্ষেত্রেও সমান পারদর্শিতার প্রমাণ রাখে হোমিওপ্যাথি ৷ ১৯৬২-৬৪ সালে নিউ ইয়র্কে মহামারী রোধের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি কার্যকর ভূমিকা নিয়েছিল ৷ আর ১৯১৮ সালে গোটা বিশ্বে ইনফ্লুয়েঞ্জার মহামারী প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির ভূমিকা কে ভুলতে পারে ?
জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি ৷ এর কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে ৷ চর্মরোগ, যৌনরোগ, বাত, ক্যানসার, টিউমার, পেটের রোগ এবং শিশু ও মায়েদের বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি খুবই কার্যকর ৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগিরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷
সবাই জানে যে, সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্হার সামনে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো ক্রমশ বাড়ছে ৷ পাশাপাশি প্লেগ, সার্স, ম্যালেরিয়া, টিবি, ডায়োরিয়া ও ফ্লুর মতো রোগগুলোর ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথি ব্যর্থ হচেছ ৷ ম্যালেরিয়া এখন যথেষ্ট মারাত্মক, টিবির ওষুধ তো কাজই করে না, আর ফ্লু-র ভাইরাসকে মারার ক্ষমতা হারিয়েছে তার ওষুধগুলো ৷ মানুষের পক্ষে আর অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া সম্ভব হচেছ না ৷ এমতাবস্হায় খুবই উপযোগী বিকল্প চিকিৎসার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি ৷ তা সত্ত্বেও সরকারি স্বাস্হ্য ব্যবস্হার পরিচালনা এবং পরিকল্পনার সময় এখনও হোমিওপ্যাথিকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচেছ না ৷ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ ও মহামারী প্রতিরোধের জন্য হোমিওপ্যাথিতে অনেক ধরনের ওষুধ আছে৷ তাই এই চিকিৎসা ব্যবস্হাকে স্বাগত জানানোর সময় এসে গেছে ৷ সম্প্রতি কলকাতার সুকল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সাহায্যকে সম্বল করে জাপানিজ এনসেফেলাইটিসের নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেছে সেন্টাল সুকল অফ হোমিওপ্যাথিক রিসার্চ কাউন্সিল ৷ আমেরিকার জার্ল অফ ইনফেক্সাস ডিজিজেস-এ তা প্রকাশিতও হয়েছিল ৷

এখন প্রশ্ন হল–অ্যালোপ্যাথিক লবি কি আদৌ তাদের স্বার্থপর প্রচার বন্ধ করবে ? তাদের বোঝা উচিত, হোমিওপ্যাথি মোটেও অ্যালোপ্যাথি বা কোনও ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়ছে না, এর লড়াই বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের বিরুদ্ধে ৷ আজকের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার জগতে দু-ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্হাই পাশাপাশি থাকতে পারে৷ তাতে শুধু চিকিৎসা শিল্পের নয়, গোটা দেশেরই উপকার ৷ মানবকল্যাণের কথা মাথায় রেখে হোমিওপ্যাথিকে স্বাগত জানানো উচিত ৷
বিস্তারিত